আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৯- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৫৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৭৪-৩
- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
৩. তালাকের নিয়ত না করে স্ত্রীকে ’হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে
৩৫৪৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) (আবু উসামা সূত্রে) ......... হিশামের পিতা (উরওয়া) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণানা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিষ্ট দ্রব (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তার নিয়ম হচ্ছিল আসরের নামায আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর ঘুরে আসতেন এবং তাদের সান্নিধ্য গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফসা (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন এবং তার কাছে স্বাভাবিকভাবে আব্দ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আব্দ্ধ রইলেন। আমি (আয়িশা) এ বিষয় জিজ্ঞাসা করলে আমাকে বলা হল তাকে (হাফসাকে) তার গোত্রের কোন মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পান করিয়ে ছিল।

(আয়িশা বলেন,) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশল অবলম্বন করব। আমি বিষয়টি সাওদা এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, নবী (ﷺ) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- না, তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের? আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাকে বলবে, ’ঐ মধুর মৌমাছি-উরফূত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়্যা! তাই বলবে।

পরে যখন নবী (ﷺ) সাওদা (রাযিঃ) এর কাছে গেলেন আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সাওদা (রাযিঃ) এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (নবী (ﷺ)) তখন দরজায়- তোমার ভয় তা আর করা হল না। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটবর্তীহলে সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন কি? তিনি বললেন, না। সে (সাওদা) বলল, তবে এ ঘ্রাণ কিসের? নবী (ﷺ) বললেন, হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদা বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফূত চুষেছে।

পরে নবী (ﷺ) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরূপ বললাম। অতঃপর সাফইয়্যা (রাযিঃ) এর কাছে গেলে সেও অনুরূপ বলল। পরে (আবার) নবী (ﷺ) হাফসা এর নিকট গেলে সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (ﷺ) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” আয়িশা বলেন, সাওদা (রাযিঃ) বলতে লাগল, আল্লাহর কসম! আমরা তো তাকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, চুপ থাক।

(ইমাম মুসলিম এর শাগরিদ) আবু ইসহাক ইবরাহীম (গ্রন্থকার হতে এ গ্রন্থের রিওয়ায়াতকারী) বলেন, হাসান ইবনে বিশর (রাহঃ) আবু উসামা (রাহঃ) সূত্রে আমাকে অবিকল এ হাদীস শুনিয়েছেন। সূওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) সূত্রে ঐ সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।*




* অর্থাৎ ইমাম মুসলিম (রাহঃ) একজন রাবীর মাধ্যমে আবু উসামা (রাহঃ) হতে এ হাদীস আহরণ করেছেন। আর আবু ইসহাক ইবরাহীম যিনি ইমাম মুসলিমের বিশিষ্ট শাগরিদ- তিনিও অন্য একটি সনদে একজন রাবী- হাসান ইবন বিশ্বরের মাধ্যমে হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। ফলে এ হাদীসে তার সনদ উন্নীত হয়ে তার শায়খ ইমাম মুসলিমের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে- অনুবাদ
كتاب الطلاق
باب وُجُوبِ الْكَفَّارَةِ عَلَى مَنْ حَرَّمَ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يَنْوِ الطَّلاَقَ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ فَكَانَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ دَارَ عَلَى نِسَائِهِ فَيَدْنُو مِنْهُنَّ فَدَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ فَاحْتَبَسَ عِنْدَهَا أَكْثَرَ مِمَّا كَانَ يَحْتَبِسُ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ فَقِيلَ لِي أَهْدَتْ لَهَا امْرَأَةٌ مِنْ قَوْمِهَا عُكَّةً مِنْ عَسَلٍ فَسَقَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ شَرْبَةً فَقُلْتُ أَمَا وَاللَّهِ لَنَحْتَالَنَّ لَهُ . فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِسَوْدَةَ وَقُلْتُ إِذَا دَخَلَ عَلَيْكِ فَإِنَّهُ سَيَدْنُو مِنْكِ فَقُولِي لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ لاَ . فَقُولِي لَهُ مَا هَذِهِ الرِّيحُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْتَدُّ عَلَيْهِ أَنْ يُوجَدَ مِنْهُ الرِّيحُ - فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ . فَقُولِي لَهُ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ وَسَأَقُولُ ذَلِكَ لَهُ وَقُولِيهِ أَنْتِ يَا صَفِيَّةُ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى سَوْدَةَ قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ وَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَقَدْ كِدْتُ أَنْ أُبَادِئَهُ بِالَّذِي قُلْتِ لِي وَإِنَّهُ لَعَلَى الْبَابِ فَرَقًا مِنْكِ فَلَمَّا دَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ قَالَ " لاَ " . قَالَتْ فَمَا هَذِهِ الرِّيحُ قَالَ " سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ " . قَالَتْ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ . فَلَمَّا دَخَلَ عَلَىَّ قُلْتُ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ دَخَلَ عَلَى صَفِيَّةَ فَقَالَتْ بِمِثْلِ ذَلِكَ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أَسْقِيكَ مِنْهُ قَالَ " لاَ حَاجَةَ لِي بِهِ " . قَالَتْ تَقُولُ سَوْدَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ حَرَمْنَاهُ . قَالَتْ قُلْتُ لَهَا اسْكُتِي .
قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا سَوَاءً وَحَدَّثَنِيهِ سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)