আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১১৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৩৩-৭
৬৬. কাবা ঘর ভেঙ্গে পুননির্মাণ
৩১১৬। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু রবিআ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ বলেন, হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের রাজত্বকালে তার নিকট গিয়েছিলেন। আব্দুল মালিক বললেন, আমি মনে করি না যে, আবু যুবাইর অর্থাৎ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট এমন কথা শুনেছেন যার দাবি তিনি করে থাকেন। [অর্থাৎ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর ভিত এর উপর কাবা ঘরের পুননির্মাণের ব্যাপারে রাসুলুলাহ (ﷺ) এর অভিপ্রায় সম্পর্কিত কোন হাদীস তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট শুনেন নি।]

হারিস বলেন, হ্যাঁ, আমি নিজেই তার নিকট এই হাদীস শুনেছি। আব্দুল মালিক বললেন, আপনি তাকে কি বলতে শুনেছেন? হারিস বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমার কওমের লোকেরা কাবা ঘরের ভীত (আয়তনে) ছোট করে ফেলেছে । নিকট অতীতে তারা শিরক পরিত্যাগ না করলে আমি তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু কাবার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি আমার পরে তা পুননির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এস, আমি তোমাকে তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু দেখিয়ে দেই” অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা কে (হাতীম সংলগ্ন) প্রায় সাত গজ স্থান দেখিয়ে দিলেন।

এই হাদীস আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ কর্তুক বর্ণিত। ওয়ালীদ ইবনে আতা এ বর্ণনার উপর আরো বৃদ্ধি করেছেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যমীনের সমতলে দুটি দরজাও নির্মাণ করতাম, একটি পূর্বদিকে এবং অপরটি পশ্চিমদিকে। তুমি কি জান তোমার গোত্রের লোকেরা কাবার দরজা (ভূমি থেকে) উঁচুতে স্থাপন করেছে কেন?” আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, না। নবী (ﷺ) বললেনঃ গর্ব ও অহংকারের বশবতী হয়ে (তারা এটা করেছে) যাতে কেবল সেই ব্যক্তি কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে- যাকে তারা অনুমতি দেবে।

যখন কোন ব্যক্তি কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের ইচ্ছা করত, তারা তাকে বেয়ে উপরে উঠতে দিত। এমনকি সে যখন তাতে প্রবেশ করত, তখন তারা তাকে টেনে নীচে ফেলে দিত। আব্দুল মালিক হারিসকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি আয়িশা (রাযিঃ) কে একথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, কিছুক্ষণ তিনি হাতের ছড়ি দিয়ে মাটি খুড়তে লাগলেন, এরপর বললেনঃ আমার মনে হয় যে দায়ভার তিনি নিজে বহন করেছিলেন তার উপর যদি তাকে ছেড়ে দিতাম সেটাই ভাল হত।
باب نَقْضِ الْكَعْبَةِ وَبِنَائِهَا
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ وَالْوَلِيدَ بْنَ عَطَاءٍ يُحَدِّثَانِ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدٍ وَفَدَ الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ فِي خِلاَفَتِهِ فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ مَا أَظُنُّ أَبَا خُبَيْبٍ - يَعْنِي ابْنَ الزُّبَيْرِ - سَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ مَا كَانَ يَزْعُمُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهَا . قَالَ الْحَارِثُ بَلَى أَنَا سَمِعْتُهُ مِنْهَا . قَالَ سَمِعْتَهَا تَقُولُ مَاذَا قَالَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوا مِنْ بُنْيَانِ الْبَيْتِ وَلَوْلاَ حَدَاثَةُ عَهْدِهِمْ بِالشِّرْكِ أَعَدْتُ مَا تَرَكُوا مِنْهُ فَإِنْ بَدَا لِقَوْمِكِ مِنْ بَعْدِي أَنْ يَبْنُوهُ فَهَلُمِّي لأُرِيَكِ مَا تَرَكُوا مِنْهُ " . فَأَرَاهَا قَرِيبًا مِنْ سَبْعَةِ أَذْرُعٍ . هَذَا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ وَزَادَ عَلَيْهِ الْوَلِيدُ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَلَجَعَلْتُ لَهَا بَابَيْنِ مَوْضُوعَيْنِ فِي الأَرْضِ شَرْقِيًّا وَغَرْبِيًّا وَهَلْ تَدْرِينَ لِمَ كَانَ قَوْمُكِ رَفَعُوا بَابَهَا " . قَالَتْ قُلْتُ لاَ . قَالَ " تَعَزُّزًا أَنْ لاَ يَدْخُلَهَا إِلاَّ مَنْ أَرَادُوا فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا هُوَ أَرَادَ أَنْ يَدْخُلَهَا يَدْعُونَهُ يَرْتَقِي حَتَّى إِذَا كَادَ أَنْ يَدْخُلَ دَفَعُوهُ فَسَقَطَ " . قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ لِلْحَارِثِ أَنْتَ سَمِعْتَهَا تَقُولُ هَذَا قَالَ نَعَمْ. قَالَ فَنَكَتَ سَاعَةً بِعَصَاهُ ثُمَّ قَالَ وَدِدْتُ أَنِّي تَرَكْتُهُ وَمَا تَحَمَّلَ.
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
সহীহ মুসলিম - হাদীস নং ৩১১৬ | মুসলিম বাংলা