হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬১
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২১। (ইসতিনজার জন্য) বেজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা
১৬১। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উযু করে তখন সে যেন নাকে পানি দেয়, এরপর যেন নাক ঝেড়ে নেয়। আর যে ইসতিনজা করে সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করে। আর তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে তখন সে যেন উযুর পানিতে হাত ঢুকানোর আগে তা ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার হাত কোথায় থাকে।
كتاب الوضوء
باب الاِسْتِجْمَارِ وِتْرًا
162 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ، ثُمَّ لِيَنْثُرْ، وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬২
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২২। দুই পা ধোয়া এবং মাসাহ না করা
১৬২। মুসা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এক সফরে আমাদের পিছনে রয়ে গিয়েছিলেন, এরপর তিনি আমাদের কাছে পৌঁছে গেলেন। তখন আমরা আসরের নামায শুরু করতে দেরী করে ফেলেছিলাম। তাই আমরা উযু করছিলাম এবং (তাড়াতাড়ির কারণে) আমাদের পা মাসাহ করার মত হালকা ভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেনঃ ’পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আযাব রয়েছে’। দুবার অথবা তিনবার তিনি একথা বললেন।
كتاب الوضوء
باب غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ وَلاَ يَمْسَحُ عَلَى الْقَدَمَيْنِ
163 - حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: تَخَلَّفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنَّا فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا، فَأَدْرَكَنَا وَقَدْ أَرْهَقْنَا العَصْرَ، فَجَعَلْنَا نَتَوَضَّأُ وَنَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا، فَنَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৩। উযুতে কুলি করা।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে তা বর্ণনা করেছেন।
১৬৩। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ..... উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি উসমান (রাযিঃ)-কে উযুর পানি আনাতে দেখলেন। তারপর তিনি সে পাত্র থেকে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তা তিনবার ধুয়ে ফেললেন। এরপর তাঁর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন। এরপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেড়ে ফেললেন। এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত
কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন, এরপর মাথা মাসাহ করলেন। এরপর প্রত্যেক পা তিনবার ধোয়ার পর বললেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) কে আমার এ উযুর ন্যায় উযু করতে দেখেছি এবং রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার এ উযুর ন্যায় উযু করে দুরাকআত নামায আদায় করবে এবং তার মধ্যে কোন বাজে খেয়াল মনে আনবে না, আল্লাহ তাআলা তাঁর অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন।
كتاب الوضوء
باب الْمَضْمَضَةِ فِي الْوُضُوءِ قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
164 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ دَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إِنَائِهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الوَضُوءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ ثَلاَثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كُلَّ رِجْلٍ ثَلاَثًا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، وَقَالَ: «مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৪। পায়ের গোড়ালী ধোয়া। ইবনে সীরীন (রাহঃ) উযু করার সময় তাঁর আংটির জায়গা ধুতেন।
১৬৪। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমাদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে উযু করছিল। তখন তাঁকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে উযু কর। কারণ আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ পায়ের গোড়ালীগুলোর জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।
كتاب الوضوء
باب غَسْلِ الأَعْقَابِ - وَكَانَ ابْنُ سِيرِينَ يَغْسِلُ مَوْضِعَ الْخَاتَمِ إِذَا تَوَضَّأَ.
165 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا وَالنَّاسُ يَتَوَضَّئُونَ مِنَ المِطْهَرَةِ، قَالَ: أَسْبِغُوا الوُضُوءَ، فَإِنَّ أَبَا القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৬
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৫। চপ্পল পরা অবস্থায় উভয় পা ধোয়া, কিন্তু চপ্পলের উপর মাসাহ না করা
১৬৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... উবাইদ ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখি, যা আপনার অন্য কোন সঙ্গীকে করতে দেখিনা। তিনি বললেন, ইবনে জুরায়জ, সেগুলো কি? তিনি বললেন, আমি দেখি, (১) আপনি তাওয়াফ করার সময় রুকনে ইয়ামানী দুটি ব্যতীত অন্য রুকন স্পর্শ করেন না। (২) আপনি ‘সিবতী’ (পশমবিহীন) চপ্পল পরিধান করেন; (৩) আপনি (কাপড়ে) হলুদ রং ব্যবহার করেন এবং (৪) আপনি যখন মক্কায় থাকেন লোকে চাঁদ দেখে ইহরাম বাঁধে; কিন্তু আপনি তারবিয়ার দিন (৮-ই যিলহজ্জ) না এলে ইহরাম বাঁধেন না।

আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেনঃ রুকনের কথা যা বলেছ, তা এজন্য করি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইয়ামানী রুকনদ্বয় ছাড়া আর কোনটি স্পর্শ করতে দেখিনি। আর ‘সিবতী’ চপ্পল, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পশমবিহীন চপ্পল পরতে এবং তা পরিহিত অবস্থায় উযু করতে দেখেছি, তাই আমি তা করতে ভালবাসি। আর হলুদ রং, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তা দিয়ে কাপড় রংিন করতে দেখেছি, তাই আমিও তা দিয়ে রংিন করতে ভালবাসি। আর ইহরাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে তাঁর সওয়ারি রওয়ানা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁকে ইহরাম বাঁধতে দেখিনি।
كتاب الوضوء
باب غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ فِي النَّعْلَيْنِ وَلاَ يَمْسَحُ عَلَى النَّعْلَيْنِ
166 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ قَالَ: لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا، قَالَ: وَمَا هِيَ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ: رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلَّا اليَمَانِيَّيْنِ، وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ، وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ، وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: أَمَّا الأَرْكَانُ: فَإِنِّي لَمْ «أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمَسُّ إِلَّا اليَمَانِيَّيْنِ» ، وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ: فَإِنِّي «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ النَّعْلَ الَّتِي [ص:45] لَيْسَ فِيهَا شَعَرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا» ، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا، وَأَمَّا الصُّفْرَةُ: فَإِنِّي «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْبُغُ بِهَا، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا» ، وَأَمَّا الإِهْلاَلُ: فَإِنِّي «لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৭
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৬। উযু এবং গোসলে ডান দিক থেকে শুরু করা
১৬৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) তাঁর কন্যা [যয়নাব (রাযিঃ)]-কে গোসল করানোর সময় তাঁদের বলেছিলেনঃ তোমরা তার ডানদিক এবং উযুর স্থান থেকে শুরু কর।
كتاب الوضوء
باب التَّيَمُّنِ فِي الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ
167 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُنَّ فِي غَسْلِ ابْنَتِهِ: «ابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৮
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৬। উযু এবং গোসলে ডান দিক থেকে শুরু করা
১৬৭। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন।
كتاب الوضوء
باب التَّيَمُّنِ فِي الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ
168 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ، فِي تَنَعُّلِهِ، وَتَرَجُّلِهِ، وَطُهُورِهِ، وَفِي شَأْنِهِ كُلِّهِ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৯
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ একবার ফজরের সময় হল, তখন পানি তালাশ করা হল; কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না। তখন তায়াম্মুম (এর আয়াত) নাযিল হল।
১৬৮। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে দেখলাম, তখন আসরের নামাযের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন উযুর পানি তালাশ করতে লাগল কিন্তু পেল না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু পানি আনা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে সে পাত্র থেকে উযু করতে বললেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উথলে উঠছে। এমনকি তাঁদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তা দিয়ে উযু করল।
كتاب الوضوء
وَقَالَتْ عَائِشَةُ حَضَرَتِ الصُّبْحُ فَالْتُمِسَ الْمَاءُ، فَلَمْ يُوجَدْ، فَنَزَلَ التَّيَمُّمُ
169 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَانَتْ صَلاَةُ العَصْرِ، فَالْتَمَسَ النَّاسُ الوَضُوءَ فَلَمْ يَجِدُوهُ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِوَضُوءٍ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ، وَأَمَرَ النَّاسَ أَنْ يَتَوَضَّئُوا مِنْهُ قَالَ: «فَرَأَيْتُ المَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৭০
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৮। যে পানি দিয়ে মানুষের চুল ধোয়া হয়। এবং কুকুরের ঝুটা ও মসজিদের ভিতর দিয়ে কুকুরের যাতায়াত।
আতা (রাহঃ) চুল দিয়ে সুতা এবং রশি প্রস্তুত করায় কোন দোষ মনে করতেন না।
যুহরী (রাহঃ) বলেন, কুকুর যখন কোন পানির পাত্রে মুখ দেয় এবং সে পানি ছাড়া উযু করার মত অন্য কোন পানি না থাকে, তবে তা দিয়েই উযু করবে।
সুফয়ান (রাহঃ) বলেন, হুবহু এ মাসআলাটি বিবৃত হয়েছে আল্লহ তাআলার এ বাণীতেঃ (فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا) “তারপর তোমরা যদি পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর।” আর এ তো পানিই। কিন্তু অন্তরে যেহেতু কিছু সন্দেহ রয়েছে তাই তা দিয়ে উযু করবে, পরে তায়াম্মুমও করবে।
১৬৯। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আবীদা (রাহঃ)-কে বললাম, আমাদের কাছে নবী (ﷺ) এর কেশ রয়েছে যা আমরা আনাস (রাযিঃ)-এর কাছ থেকে কিংবা আনাস (রাযিঃ)-এর পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন, তাঁর একটি কেশ আমার কাছে থাকাটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে, তা পাওয়ার চাইতে বেশী পছন্দনীয়।
كتاب الوضوء
باب الْمَاءِ الَّذِي يُغْسَلُ بِهِ شَعَرُ الإِنْسَانِ وَكَانَ عَطَاءٌ لاَ يَرَى بِهِ بَأْسًا أَنْ يُتَّخَذَ مِنْهَا الْخُيُوطُ وَالْحِبَالُ وَسُؤْرِ الْكِلاَبِ وَمَمَرِّهَا فِي الْمَسْجِدِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا وَلَغَ فِي إِنَاءٍ لَيْسَ لَهُ وَضُوءٌ غَيْرُهُ يَتَوَضَّأُ بِهِ وَقَالَ سُفْيَانُ: " هَذَا الفِقْهُ بِعَيْنِهِ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} [النساء: 43] وَهَذَا مَاءٌ، وَفِي النَّفْسِ مِنْهُ شَيْءٌ، يَتَوَضَّأُ بِهِ وَيَتَيَمَّمُ "
170 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبِيدَةَ «عِنْدَنَا مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْنَاهُ مِنْ قِبَلِ أَنَسٍ أَوْ مِنْ قِبَلِ أَهْلِ أَنَسٍ» فَقَالَ: لَأَنْ تَكُونَ عِنْدِي شَعَرَةٌ مِنْهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
tahqiq

তাহকীক:

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭০
আন্তর্জাতিক নং: ১৭১
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৮। যে পানি দেয়ে মানুষের চুল ধোয়া হয়।
১৭০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মাথা মুড়িয়ে ফেললে আবু তালহা (রাযিঃ)-ই প্রথম তাঁর কেশ সংগ্রহ করেন।
كتاب الوضوء
باب الْمَاءِ الَّذِي يُغْسَلُ بِهِ شَعَرُ الإِنْسَانِ
171 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَمَّا حَلَقَ رَأْسَهُ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَوَّلَ مَنْ أَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭১
আন্তর্জাতিক নং: ১৭২
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৯। কুকুর যদি পাত্র থেকে পানি পান করে
১৭১। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তবে তা সাতবার ধুবে।
كتاب الوضوء
باب إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ
172 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا شَرِبَ الكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৩
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৯। কুকুর যদি পাত্র থেকে পানি পান করে
১৭২। ইসহাক (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসার তাড়নায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পেল। তখন সে ব্যক্তি তাঁর মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া থেকে পানি এনে দিতে লাগল। এভাবে সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করলেন।
كتاب الوضوء
باب إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ
173 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّ رَجُلًا رَأَى كَلْبًا يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ العَطَشِ، فَأَخَذَ الرَّجُلُ خُفَّهُ، فَجَعَلَ يَغْرِفُ لَهُ بِهِ حَتَّى أَرْوَاهُ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ، فَأَدْخَلَهُ الجَنَّةَ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৪
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৯। কুকুর যদি পাত্র থেকে পানি পান করে
১৭৩। আহমদ ইবনে শাবীব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এর যামানায় কুকুর মসজিদের ভিতর দিয়ে আসা-যাওয়া করত, অথচ এজন্য তাঁরা কোথাও পানি ছিটিয়ে দিতেন না।
كتاب الوضوء
باب إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ
174 - وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ يُونُسَ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي [ص:46] حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: «كَانَتِ الكِلاَبُ تَبُولُ، وَتُقْبِلُ وَتُدْبِرُ فِي المَسْجِدِ، فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يَكُونُوا يَرُشُّونَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ»

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৫
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১২৯। কুকুর যদি পাত্র থেকে পানি পান করে
১৭৪। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার ধরতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই ধরেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, এরপর তার সাথে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রাণীর কি হুকুম)? তিনি বললেন, তাহলে খেও না। কারণ তুমি বিসমিল্লাহ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বেলায় বিসমিল্লাহ বলনি।
كتاب الوضوء
باب إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ
175 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ المُعَلَّمَ فَقَتَلَ فَكُلْ، وَإِذَا أَكَلَ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا أَمْسَكَهُ عَلَى نَفْسِهِ» قُلْتُ: أُرْسِلُ كَلْبِي فَأَجِدُ مَعَهُ كَلْبًا آخَرَ؟ قَالَ: «فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تُسَمِّ عَلَى كَلْبٍ آخَرَ»
tahqiq

তাহকীক:

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৬
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩০। সম্মুখ এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ছাড়া অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না।
আল্লাহ তাআলার এ বাণীর কারণেঃ “অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে (৮ঃ ৪৩)।
আতা (রাহঃ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় উযু করতে হবে।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, কেউ নামাযের মধ্যে হেসে ফেললে কেবল নামাযই দোহরাবে, পুনরায় উযু করবে না।
হাসান (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় উযু করতে হবে না।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, ‘হাদাস’ ছাড়া আর কিছুতে উযুর প্রয়োজন নেই।
জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) ‘যাতুর রিকা’ এর যুদ্ধে ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকু করলেন, সিজদা করলেন এবং নামায আদায় করতে থাকলেন।
হাসান (রাহঃ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়েই তাঁদের যখম অবস্থায় নামায আদায় করতেন এবং তাউস (রাহঃ), মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাহঃ), আতা (রাহঃ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে উযু করতে হয় না।
ইবনে উমর (রাযিঃ) একবার একটি ছোট ফোঁড়া টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি উযু করলেন না।
ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) রক্ত মিশ্রিত থুথু ফেললেন কিন্তু তিনি নামায আদায় করতে থাকলেন।
ইবনে উমর (রাযিঃ) ও হাসান (রাহঃ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধোয়া প্রয়োজন।
১৭৫। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বান্দা যে সময়টা মসজিদে থেকে নামাযের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই নামাযের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। এক অনারব ব্যক্তি বলল, ‘হাদাস কি, আবু হুরায়রা’? তিনি বললেন, শব্দ করে বায়ূ বের হওয়া।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَرَ الْوُضُوءَ إِلاَّ مِنَ الْمَخْرَجَيْنِ، مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الغَائِطِ} [النساء: 43] وَقَالَ عَطَاءٌ: - فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ، أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ القَمْلَةِ - «يُعِيدُ الوُضُوءَ» وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلاَةِ أَعَادَ الصَّلاَةَ وَلَمْ يُعِدِ الوُضُوءَ» وَقَالَ الحَسَنُ: «إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعَرِهِ وَأَظْفَارِهِ، أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلاَ وُضُوءَ عَلَيْهِ» وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «لاَ وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ» وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ، فَنَزَفَهُ الدَّمُ، فَرَكَعَ، وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلاَتِهِ» وَقَالَ الحَسَنُ: «مَا زَالَ المُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ» وَقَالَ طَاوُسٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعَطَاءٌ، وَأَهْلُ الحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلاَتِهِ " وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ، وَالحَسَنُ: " فِيمَنْ يَحْتَجِمُ: لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ "
176 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ المَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَزَالُ العَبْدُ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ فِي المَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ مَا لَمْ يُحْدِثْ» فَقَالَ رَجُلٌ أَعْجَمِيٌّ: مَا الحَدَثُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ؟ قَالَ: الصَّوْتُ يَعْنِي الضَّرْطَةَ

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৭
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩০। সম্মুখ এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ছাড়া অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না
১৭৬। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ..... আব্বাস ইবনে তামীম (রাহঃ), তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (কোন মুসল্লী) নামায থেকে ফিরবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَرَ الْوُضُوءَ إِلاَّ مِنَ الْمَخْرَجَيْنِ، مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ
177 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا»
tahqiq

তাহকীক:

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৮
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩০। সম্মুখ এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ছাড়া অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না
১৭৭। কুতায়বা (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, আমার বেশী বেশী মযী বের হতো। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তাই আমি মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ)-কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেনঃ এতে শুধু উযু করতে হয়।
হাদীসটি শু‘বা (রাহঃ) আ‘মাশ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَرَ الْوُضُوءَ إِلاَّ مِنَ الْمَخْرَجَيْنِ، مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ
178 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُنْذِرٍ أَبِي يَعْلَى الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الحَنَفِيَّةِ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً فَاسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَمَرْتُ المِقْدَادَ بْنَ الأَسْوَدِ فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «فِيهِ الوُضُوءُ» وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৯
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩০। সম্মুখ এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ছাড়া অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না
১৭৮। সা‘দ ইবনে হাফস (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন ,কেউ যদি স্ত্রী সহবাস করে, কিন্তু মনী (বীর্য) বের না হয় (তবে তার হুকুম কি?) উসমান (রাযিঃ) বললেনঃ সে উযু করে নেবে যেমন উযু করে থাকে নামাযের জন্য এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রাযিঃ) বলেন, আমি একথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। (যায়দ বলেন) তারপর আমি এ সম্পর্কে আলী (রাযিঃ), যুবাইর (রাযিঃ), তালহা (রাযিঃ) ও উবাই ইবনে কা‘ব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা আমাকে এ নির্দেশই দিয়েছেন।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَرَ الْوُضُوءَ إِلاَّ مِنَ الْمَخْرَجَيْنِ، مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ
179 - حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ فَلَمْ يُمْنِ، قَالَ عُثْمَانُ «يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ وَيَغْسِلُ [ص:47] ذَكَرَهُ» قَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيًّا، وَالزُّبَيْرَ، وَطَلْحَةَ، وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৭৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৮০
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩০। সম্মুখ এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ছাড়া অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না
১৭৯। ইসহাক ইবনে মনসূর (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসারীর কাছে লোক পাঠালেন। তিনি চলে এলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াতাড়ি করতে বাধ্য করেছি। তিনি বললেন, জ্বী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন ত্বরার কারণে মনী বের না হয় (অথবা বললেন), মনীর অভাবজনিত কারণে তা বের না হয় তবে তোমার উপর কেবল উযু করা জরুরী।

ওয়াহব (রাহঃ) শু‘বা (রাহঃ) সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেন। তিনি [শুবা (রাহঃ)] বলেন, আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেছেন, গুনদর (রাহঃ) ও ইয়াহয়া (রাহঃ) শু‘বা (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণনায় উযুর কথা উল্লেখ করেন নি।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَرَ الْوُضُوءَ إِلاَّ مِنَ الْمَخْرَجَيْنِ، مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ
180 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَلَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَجَاءَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّنَا أَعْجَلْنَاكَ» ، فَقَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ قُحِطْتَ فَعَلَيْكَ الوُضُوءُ» تَابَعَهُ وَهْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَلَمْ يَقُلْ غُنْدَرٌ، وَيَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ الوُضُوءُ

সহীহ বুখারী

হাদীস নং: ১৮০
আন্তর্জাতিক নং: ১৮১
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩১। শ্রদ্ধেয় জনকে কোন ব্যক্তির উযু করিয়ে দেওয়া
১৮০। ইবনে সালাম (রাহঃ) .... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আরাফা থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে গিয়ে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এলেন। উসামা (রাযিঃ) বলেন, পরে আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম আর তিনি উযু করছিলেন। এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি নামায আদায় করবেন? তিনি বললেন, নামাযের স্থান তোমার সামনে।
كتاب الوضوء
باب الرَّجُلِ يُوَضِّئُ صَاحِبَهُ
181 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَفَاضَ مِنْ عَرَفةَ عَدَلَ إِلَى الشِّعْبِ فَقَضَى حَاجَتَهُ، قَالَ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَجَعَلْتُ أَصُبُّ عَلَيْهِ وَيَتَوَضَّأُ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي؟ فَقَالَ: «المُصَلَّى أَمَامَكَ»