হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন বেগানা নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিধান
৩১৭. হযরত বুরায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, হে আলী! (যদি কোন বেগানা নারীর প্রতি তোমার দৃষ্টি পড়ে যায়, তাহলে) দ্বিতীয়বার আর দৃষ্টিপাত করো না। কেননা, তোমার জন্য প্রথম দৃষ্টি তো জায়েয, (যা হঠাৎ পড়ে গিয়েছিল এবং হঠাৎ দৃষ্টির কারণে তোমার কোন গুনাহ হবে না।) কিন্তু দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত করা জায়েয নয়। -আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ بُرَيْدَةَ قَالَ لِعَلِيٍّ يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ. (رواه احمد الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩১৭. হযরত যায়দ ইব্‌ন খারিজা আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার প্রতি দরূদ কিভাবে প্রেরণ করতে হবে?
জবাবে তিনি বললেন: আমার প্রতি সালাত প্রেরণ করবে এবং খুব মনোনিবেশ সহকারে দু'আ করবে এবং বলবে:
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
(মুসনাদে আহমদ ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ زَيْدَ بْنَ خَارِجَةَ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَيْفَ الصَّلَاةُ عَلَيْكَ؟ فَقَالَ: " صَلُّوا عَلَيَّ وَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ، وَقُولُوا: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " (رواه احمد والنسائى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃতের জন্য কান্নাকাটি, উচ্চস্বরে বিলাপ ও মাতম করা
৩১৮. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি (মৃত্যু শোকে) আপন মুখমণ্ডল আঘাত করে, জামা ছিড়ে এবং জাহিলিয়্যা যুগের ন্যায় হা-হুতাশ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ. (رواه البخارى)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩১৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার প্রতি এরূপ দরূদ প্রেরণ করে:
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ
কিয়ামতের দিন আমি তার জন্যে সাক্ষ্য দেবো এবং তার জন্যে শাফা'আত বা সুপারিশ করবো। (তাবারী সঙ্কলিত তাহযীবুল আছার)
کتاب الاذکار والدعوات
عَن أبي هُرَيْرَة، رَفَعَهُ " من قَالَ: اللَّهُمَّ صَلِّ على مُحَمَّد وعَلى آل مُحَمَّد، كَمَا صليت على إِبْرَاهِيم وعَلى آل إِبْرَاهِيم، وَبَارك على مُحَمَّد وعَلى آل مُحَمَّد، كَمَا باركت على إِبْرَاهِيم وعَلى آل إِبْرَاهِيم، وترحم على مُحَمَّد وعَلى آل مُحَمَّد، كَمَا ترحمت على إِبْرَاهِيم وعَلى آل إِبْرَاهِيم، شهِدت لَهُ يَوْم الْقِيَامَة بِشَهَادَة، وشفعت لَهُ بشفاعة ". (رواه الطبرى فى تهذيب الآثار فتح البارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন বেগানা নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিধান
৩১৮. হযরত আবু উমামা রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কোন মুসলমান বান্দার যখন কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি প্রথম দৃষ্টি পড়ে যায়, তারপর সে নিজের দৃষ্টি অবনত করে নেয় (এবং তার দিকে দেখে না) আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এমন ইবাদত নসীব করবেন, যার স্বাদ সে অবশ্যই অনুভব করবে। -আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا» (رواه احمد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চোখের পানি বের হওয়া এবং অন্তরে ব্যথা অনুভব করা
৩১৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আবু সাঈফ কর্মকারের কাছে গেলাম। তিনি নবী নন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা)-এর ধাত্রী (মাওলা বিনত মুনযির)-এর স্বামী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইব্রাহীমকে (কোলে) নিলেন এবং চুম্বন করলেন ও ঘ্রাণ নিলেন। এরপর আরেকবার আমরা তাঁর নিকট গেলাম আর তখন ইব্রাহীম (রা)-এর ইন্তিকাল আসন্ন ছিল। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দু'চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল। তা দেখে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) (না বুঝে আশ্চর্য হয়ে) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও (কাঁদছেন)? তখন তিনি বললেন হে ইবনে আওফ! (এটা তো দোষের কিছু নয়) এটাতো দয়া। এরপর আবার তাঁর চোখ বেয়ে পানি ঝরছিল। এ সময় তিনি বললেন: চোখ পানি ঝরাচ্ছে এবং অন্তর দুঃখিত হচ্ছে। তথাপি আমি তাই প্রকাশ করছি যাতে আমরা প্রতিপালক সন্তুষ্ট থাকেন। তারপর তিনি বললেনঃ হে ইব্রাহীম! তোমার বিয়োগে আমরা শোকাভিভূত। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَنَسِ قَالَ : دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي سَيْفٍ القَيْنِ ، وَكَانَ ظِئْرًا لِإِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِبْرَاهِيمَ ، فَقَبَّلَهُ ، وَشَمَّهُ ، ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَذْرِفَانِ ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ : « يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةٌ » ، ثُمَّ أَتْبَعَهَا بِأُخْرَى ، فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّ العَيْنَ تَدْمَعُ ، وَالقَلْبَ يَحْزَنُ ، وَلاَ نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا ، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ » (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩১৯. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার ও আমার পরিজনের প্রতি সালাত প্রেরণের মাধ্যমে পূর্ণ ছাওয়াব হাসিল করে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এরূপ বলে:
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
"হে আল্লাহ! তোমার সালাত তথা খাস দান ও রহমত নাযিল কর নবী উম্মী মুহম্মদ ﷺ তাঁর সহধর্মিণীগণ ও তাঁর আল-আওলাদের প্রতি, যেমনটি খাস রহমত নাযিল করেছো ইরবাহীমের আল-আওলাদ-পরিজনের প্রতি। নিশ্চয়ই তুমি স্তব-স্তুতি ও মাহাত্ম্যের অধিকারী।"
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَكْتَالَ بِالْمِكْيَالِ الْأَوْفَى، إِذَا صَلَّى عَلَيْنَا أَهْلَ الْبَيْتِ، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَأَزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، وَذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার কারণে অন্তরে কামভাব সৃষ্টি হলে কি করবে?

মানুষের এটা স্বভাব যে, সে যদি কোন লোভনীয় খাদ্য অথবা পানীয় দেখে কিংবা এর ঘ্রাণই পায়, তাহলে এর খাহেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। গরম ও উত্তাপের সময় ঠাণ্ডা ছায়াদার ও মনোরম স্থান দেখে, সেখানে অবস্থান ও বিশ্রাম গ্রহণ করতে মন চায়। তেমনিভাবে এটাও হয় যে, কোন ভিন্ন নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় কামভাব জাগ্রত হয়ে যায়- যা শয়তানের প্ররোচনায় অত্যন্ত মন্দ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর কমপক্ষে এতটুকু তো অবশ্যই হয় যে, মানুষ এক ধরনের অস্থিরতায় পতিত হয়। প্রবৃত্তি ও আত্মার মহান চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চিকিৎসাও বলে দিয়েছেন।
৩১৯. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অনেক সময় কোন নারী শয়তানের আকৃতিতে আসা যাওয়া করে। (অর্থাৎ, তার ঢং ও চাল-চলন মানুষের জন্য শয়তানী ফিতনার উপকরণ হতে পারে।) তাই তোমাদের কারো কাছে যদি কোন নারী ভালো লেগে যায় এবং তার অন্তরে এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়ে যায়, তাহলে সে যেন নিজ স্ত্রীর কাছে চলে যায় এবং তার কামনা পূরণ করে নেয়। এ প্রক্রিয়া তার মন্দ খাহেশকে দূর করে দিবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ وَتُدْبِرُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ إِذَا أَحَدُكُمْ أَعْجَبَتْهُ الْمَرْأَةُ فَوَقَعَتْ فِي قَلْبِهِ فَلْيَعْمِدْ إِلَى امْرَأَتِهِ فَلْيُوَاقِعْهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা

সমাজকে অশ্লীলতা ও মন্দ কর্ম থেকে রক্ষা করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, কোন ব্যক্তি কোন বেগানা নারীর (পরনারী) সাথে নির্জনে সাক্ষাত করবে না। কেননা, এমন করলে শয়তান সুযোগ পেয়ে যায়- যে সর্বদা মানুষের সাথে থাকে।
৩২০. হযরত উমর রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন কোন পুরুষ কোন (বেগানা) নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করে, তখন সেখানে তৃতীয়জন হিসাবে শয়তান অবশ্যই থাকে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩২০. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: জিবরাঈল (আ) আমার হাতের আঙ্গুলে গুণে গুণে দরূদের এ কলিমাগুলো শিক্ষা দেন এবং বলেন যে, রব্বুল ইয্যতের পক্ষ থেকে এরূপ নাযিল হয়েছে:

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَتَحَنَّنْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَحَنَّنْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اَللّٰهُمَّ وَسَلِّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا سَلَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

(মুসনাদে ফেরদৌস-দায়লমী, শুআবুল ঈমান-বায়হাকী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُمَرَ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " عَدَّهُنَّ فِي يَدَيَّ جِبْرِيلُ وَقَالَ جِبْرِيلُ هَكَذَا أُنْزِلَتْ مِنْ عِنْدِ رَبِّ الْعِزَّةِ:
اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَتَحَنَّنْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا تَحَنَّنْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
اللهُمَّ وَسَلِّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا سَلَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (رواه البيهقى فى شعب الايمان والديلمى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চোখের পানি বের হওয়া এবং অন্তরে ব্যথা অনুভব করা
৩২০. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে লোক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশ করবে বিপদগ্রস্তের অনুরূপ সাওয়াব তাকেও দান করা হবে। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ » (رواه الترمذى وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃতের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের লোকদের যেহেতু খানা পাকাবার মত অবস্থা থাকে না, তাই তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের অনিবার্য দাবি হচ্ছে, তাদের নিজেদের ও অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের আহারের সুবন্দোবস্ত করা।
৩২১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জাফর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (আমরা পিতা) জাফর (রা)-এর শাহাদাতের সংবাদ এলো, তখন নবী কারীম ﷺ বললেন: তোমরা জাফরের পরিবারের লোকদের জন্য খানা পাকাও। কারণ তাঁদের কাছে তাঁর (শাহাদাতের) সংবাদ আসায় খানা পাকানোর মত অবস্থা তাদের নেই। (তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ ، قَالَ : لَمَّا جَاءَ نَعْيُ جَعْفَرٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « اصْنَعُوا لِآلِ جَعْفَرٍ طَعَامًا ، فَقَدْ أَتَاهُمْ مَا يَشْغَلُهُمْ ، أَوْ أَمْرٌ يَشْغَلُهُمْ » (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩২১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমরা নবী করীম ﷺ-এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করবে তখন সর্বোত্তম পন্থায় তাঁর প্রতি দরূদ প্রেরণ করবে। কেননা, তোমরা জানো না যে, আল্লাহ চাহে তো তোমাদের এ দরূদ তাঁর কাছে পেশ করা হবে। তখন লোকজন বললো: তা হলে আপনিই আমাদেরকে দরূদ প্রেরণ শিখিয়ে দিন! তিনি বললেন: তোমরা এরূপ বলবে:

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ اَللّٰهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُودًا يَغْبِطُ بِهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ.
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ

“হে আল্লাহ! তোমার খাস সালাত, রহমত ও বরকতসমূহ নাযিল কর নবীকুল শিরোমণি, মুত্তাকীগণের ইমাম, খাতামান নবীয়্যীন হযরত মুহম্মদের প্রতি, যিনি তোমার খাস বান্দা ও রাসূল, পুণ্য ও কল্যাণের পথের অগ্রণী ও পথপ্রদর্শক ও রহমতের নবী। (অর্থাৎ যার অস্তিত্ব গোটা বিশ্ববাসীর জন্যে আশীর্বাদ স্বরূপ।) হে আল্লাহ! তাঁকে বিশেষ প্রশংসিত 'মাকামাম মাহমুদায়' অধিষ্ঠিত কর, যা পূর্ববর্তীদের এবং পরবর্তীদের সকলের জন্যেই ঈর্ষণীয়।

হে আল্লাহ! আপনার খাস রহমত বর্ষণ করুন মুহম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি যেমনটি খাস রহমতে ধন্য করেছেন ইবরাহীম এবং তাঁর পরিবার পরিজনকে। নিঃসন্দেহে আপনি স্বমহিমায় প্রশংসিত ও স্বগুণে মর্যাদাবান।

হে আল্লাহ! আপনার খাস বরকত নাযিল করুন মুহম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, যেমনটি খাস বরকতে ধন্য করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনকে। নিঃসন্দেহে আপনি স্বমহিমায় প্রশংসিত এবং স্বগুণে মর্যাদাবান।”
(ইবনে মাজা)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَحْسِنُوا الصَّلَاةَ عَلَيْهِ، فَإِنَّكُمْ لَا تَدْرُونَ، لَعَلَّ ذَلِكَ يُعْرَضُ عَلَيْهِ، قَالَ: فَقَالُوا لَهُ: فَعَلِّمْنَا، قَالَ، قُولُوا
«اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَاتَكَ، وَرَحْمَتَكَ، وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ، وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ، وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ، مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، إِمَامِ الْخَيْرِ، وَقَائِدِ الْخَيْرِ، وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ، اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا، يَغْبِطَ بِهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ.
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. (رواه ابن ماجه)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা
৩২১. হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা (বেগানা) নারীদের কাছে যাওয়া থেকে বেঁচে থাক (এবং এ ব্যাপারে খুবই সতর্কতা অবলম্বন কর।) এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামীর নিকটাত্মীয় (দেবর ইত্যাদি) সম্পর্কে কি বলেন? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যু (তুল্য)। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ: الْحَمْوُ الْمَوْتُ. (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ এবং তার প্রতিদান
৩২২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন: আমি যখন আমার মু'মিন বান্দার প্রিয় ব্যক্তিকে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই এবং এতে সে সাওয়াবের আশা করে, আমার কাছে তার প্রতিদান জান্নাত। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : مَا لِعَبْدِي المُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءٌ ، إِذَا قَبَضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبَهُ ، إِلَّا الجَنَّةُ " (رواه البخارى)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দরূদ ও সালামের বিশেষ বিশেষ কালিমাসমূহ
৩২২. হযরত আলী মুরতাযা কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি এভাবে দরূদ প্রেরণ করতেন: (সর্বপ্রথম তিনি সূরা আহযাবের ঐ আয়াতখানা তিলাওয়াত করতেন- যাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরূদ প্রেরণের আদেশ করা হয়েছে)
{إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56]
لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ رَبِّي وَسَعْدَيْكَ তারপর বলতেনঃ
"হে আল্লাহ! তোমার এ ফরমান আমার শিরোধার্য, আমি সে হুকুম পালনের জন্যে হাযির প্রভু! হাযির!!
صَلَوَاتُ اللّٰهِ الْبَرِّ الرَّحِيمِ وَالْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّن وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَمَا سَبَّحَ لَكَ مِنْ شَيْءٍ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَسَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَرَسُولِ رَبِّ العَالَمِينَ الشَّاهِدِ البَشِيْرِ وَالدَّاعِى إِلَيْكَ بِإِذْنِكَ السِّرَاجِ الْمُنِيرِ وَعَلَيْهِ السَّلَامَ
ঐ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে, যিনি পরম ইহসানকারী ও পরম দয়ালু নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ এবং সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও পুণ্যবানদের পক্ষ থেকে এবং ঐসমস্ত সৃষ্টির পক্ষ থেকে, যারা হে রাব্বুল আলামীন তোমার তাসবীহ পাঠ করে থাকে, খাতামান-নাবিয়্যীন, সাইয়েদুল মুরসালীন, ইমামুল মুত্তাকীন, রাসূলে রাব্বুল আলামীন মুহম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহর প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক- যিনি আল্লাহ্ পক্ষ থেকে শাহাদত তথা সাক্ষ্য দানকারী, সুসংবাদদাতা, তোমারই নির্দেশে তোমারই পানে আহ্বানকারী, প্রদীপ্ত প্রদীপ। তাঁর প্রতি সালাম বর্ষিত হোক!
(শিফা-কাযী ইয়ায (র))
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيٍّ كَرَّمُ اللهُ وَجْهَهُ فِى الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ...... إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ رَبِّي وَسَعْدَيْكَ.. صَلَوَاتُ اللَّهِ الْبَرِّ الرَّحِيمِ، وَالْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ، وَالنَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ، وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَمَا سَبَّحَ لَكَ مِنْ شَيْءٍ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ، عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، وَسَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ، وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ، وَرَسُولِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، الشَّاهِدِ الْبَشِيرِ، الدَّاعِي إِلَيْكَ بِإِذْنِكَ، السِّرَاجِ الْمُنِيرِ، وَعَلَيْهِ السَّلَامُ . (اورده القاضى عياض فى كتاب الشفا)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা
৩২২. হযরত জাবের রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমরা ঐসব মহিলার ঘরে যেয়ো না, যাদের স্বামী বাড়ীর বাইরে (সফর ইত্যাদি কোন কাজে) গিয়েছে। কেননা, শয়তান (অর্থাৎ, তার প্রভাব ও কুমন্ত্রণা) সবার মধ্যে এরূপ (অদৃশ্যভাবে) চলে, যেভাবে শিরাসমূহে রক্ত প্রবহমান থাকে। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার মধ্যেও? তিনি উত্তর দিলেন, আমার মধ্যেও, তবে আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে এ বিষয়ে বিশেষ সাহায্য করেছেন। এ জন্য আমি নিরাপদ থাকি।-তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ. قُلْنَا وَمِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَمِنِّي وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ এবং তার প্রতিদান
৩২৩. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন কারো সন্তান মারা যায় আল্লাহ্ তা'আলা তখন ফিরিস্তাদের বলেন: তোমরা কি আমার বান্দার সন্তানের আত্মা উঠিয়ে আনলে? তারা বলেন, জ্বী হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি তার অন্তরের ধন কেড়ে আনলে? তারা বলেন, জ্বী-হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তখন আমার বান্দা কি বলল? তারা বলেন, সে তোমার প্রশংসা করেছে এবং 'ইন্নালিল্লাহ্' বলেছে। তখন আল্লাহ্ বলেন (এর প্রতিদানে) আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি কর এবং তার নাম রাখ 'বায়তুল হাম্দ'। (আহমাদ ও তিরমিযী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا مَاتَ وَلَدُ العَبْدِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلاَئِكَتِهِ : قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي ، فَيَقُولُونَ : نَعَمْ ، فَيَقُولُ : قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ ، فَيَقُولُونَ : نَعَمْ ، فَيَقُولُ : مَاذَا قَالَ عَبْدِي؟ فَيَقُولُونَ : حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ ، فَيَقُولُ اللَّهُ : ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الجَنَّةِ ، وَسَمُّوهُ بَيْتَ الحَمْدِ. (رواه احمد والترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে, দাম্পত্য জীবন এবং এতদস্পর্কিত হাদীস

বিয়ে শাদীর রীতি

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।

তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।

যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।

বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।

এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।

বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।

নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
৩২৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) যে, জাহিলী যুগে বিয়ের (অর্থাৎ নারী-পুরুষের মেলা-মেশা এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে) চারটি প্রথা চালু ছিল। তন্যধ্যে একটি প্রথা ছিল যা (নীতিগতভাবে) বর্তমান যুগেও প্রচলিত। পুরুষের পক্ষ থেকে অন্য পুরুষের নিকট তার কন্যা কিংবা তার প্রতিপালনাধীন মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত। এরপর সংগত মহর নির্ধারণপূর্বক সে ঐ মেয়ের বিয়ে সেই পুরুষের সাথে দিত।

আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।

আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।

আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।

[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)

টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النِّكَاحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ، يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوِ ابْنَتَهُ، فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا، وَنِكَاحٌ آخَرُ كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ. وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا، وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا، حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ، فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِذَا أَحَبَّ، وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الْوَلَدِ، فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ نِكَاحَ الاِسْتِبْضَاعِ، وَنِكَاحٌ آخَرُ يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ مَا دُونَ الْعَشَرَةِ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا. فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ، وَمَرَّ عَلَيْهَا لَيَالِيَ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا، أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا تَقُولُ لَهُمْ قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ، وَقَدْ وَلَدْتُ فَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ. تُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ بِاسْمِهِ، فَيَلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا، وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْتَنِعَ مِنْهُ الرَّجُلُ. وَالنِّكَاحُ الرَّابِعِ يَجْتَمِعُ النَّاسُ الْكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا وَهُنَّ الْبَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا فَمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ، فَإِذَا حَمَلَتْ إِحْدَاهُنَّ وَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا وَدَعَوْا لَهُمُ الْقَافَةَ ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ فَالْتَاطَ بِهِ، وَدُعِيَ ابْنَهُ لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ ..... فَلَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ هَدَمَ نِكَاحَ الْجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ، إِلاَّ نِكَاحَ النَّاسِ الْيَوْمَ. (رواه البخارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩২৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নবী কারীম ﷺ এর একটি শোকগাঁথা এবং ধৈর্যের উপদেশ
৩২৪. হযরত মু'আয (রা) থেকে বণির্ত, তাঁর একটি পুত্র সন্তান মারা যাওয়ায় নবী করীম ﷺ তাঁকে লক্ষ্য করে একটি শোকবাণী লিখে পাঠান।

"দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে"

আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ﷺ-এর পক্ষ থেকে মু'আয ইবনে জাবালের প্রতি। তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি প্রথমে তোমার পক্ষ থেকে ঐ আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আমি দু'আ করি আল্লাহ তোমাকে বিপুল পুরস্কারে ভূষিত করুন এবং ধৈর্যধারণের তাওফীক দিন। আমাদেরকে এবং তোমাকে তাঁর নি'আমতের শুকরিয়া আদায়ের সামর্থ্য দিন। মূলকথা হল এই, আমাদের জীবন, আমাদের ধনসম্পদ ও পরিবারের-পরিজন এ সবই আল্লাহর বিশেষ দান এবং তাঁর দেওয়া আমানত। তিনি যখন চাইবেন এ সমুদয় থেকে উপকৃত করবেন এবং অন্তরে শান্তি যোগাবেন। আর যখন চাইবেন তিনি তাঁর আমানত তোমার থেকে ফিরিয়ে নিবেন। তবে এর বিপরীতে তিনি তোমাকে বিপুল পুরস্কারে ধন্য করবেন। আল্লাহর কাছে তোমার জন্য রয়েছে বিশেষ অনুগ্রহ, দয়া এবং হিদায়াতের পথ নির্দেশক। কাজেই তুমি সাওয়াব চাইলে ধৈর্যধারণ কর। হে মু'আয! তুমি ধৈর্য ধর! তোমার বিলাপও শোক প্রকাশ যেন এমন পর্যায়ে না পড়ে যাতে মূল্যবান প্রতিদান প্রাপ্তির আশা ব্যাহত হয়। ফলে তুমি লজ্জিত হয়ে পড়বে। তুমি জেনে রেখ, গভীর শোক প্রকাশ ও বিলাপ করা হলেও মৃত কখনো (জীবিত হয়ে ফিরে) আসে না এবং শোক ও দুঃখও লাঘব হয় না। আল্লাহর পক্ষ থেকে যে নির্দেশ অবধারিত তা কার্যকর হবেই বরং বলা যায় তা কার্যকর হয়ে গিয়েছে। তোমার প্রতি সালাম"। (তাবারানীর কাবীর ও আওসাত গ্রন্থ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، أَنَّهُ مَاتَ ابْنٌ لَهُ فَكَتَبَ إِلَيْهِ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّعْزِيَةَ..... " بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ، مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللهِ إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، سَلَامٌ عَلَيْكَ ، فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ. أَمَّا بَعْدُ ، فَأَعْظَمَ اللهُ لَكَ الْأَجْرَ ، وأَلْهَمَكَ الصَّبْرَ ، وَرَزَقَنَا وَإِيَّاكَ الشُّكْرَ ، فَإِنَّ أَنْفُسَنَا وَأَمْوَالَنَا وَأَهْلِينا مِنْ مَوَاهِبِ اللهِ الْهَنِيئةِ وَعَوَارِيهِ الْمُسْتَوْدَعَةِ ، مَتَّعكَ اللهُ بِهِ فِي غِبْطَةٍ وَسُرُورٍ ، وَقَبَضَهُ مِنْكَ بِأَجْرٍ كَبِيْرٍ ، الصَّلَاةِ وَالرَّحْمَةِ وَالْهُدَى إِنِ احْتَسَبَتْهُ ، فَاصْبِرْ ، وَلَا يُحْبِطْ جَزَعُكَ أَجْرَكَ فَتَنْدمَ ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْجَزَعَ لَا يَرُدُّ مَيِّتًا ، وَلَا يَدْفَعَ حُزْنًا ، وَمَا هُوَ نَازِلٌ فَكَأَنْ قَدْ وَالسَّلَامُ " (رواه الطبرانى فى الكبير والاوسط)