হাদীসে কুদসী

من صحاح الأحاديث القدسية

কিতাবের হাদীস সমূহ - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১০০ টি

হাদীস নং: ৪১
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪১। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলা বলেছেন, রোযা ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু রোযা আমার জন্য, তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। রোযা ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন রোযা পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া–বিবাদ না করে। কেউ যদি তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন রোযাদার। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কিয়ামতের দিন মিসকের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধ। রোযাদারের জন্য রয়েছে দু’টি খুশীর বিষয়, যা তাঁকে খুশী করে। (এক) যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং (দুই) যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাত করবে, তখন রোযার বিনিময়ে আনন্দিত হবে।
أحاديث الكتاب
41- عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " قَالَ اللَّهُ عز وجل: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ، إِلَّا الصِّيَامَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ، فاذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ يومئذ وَلاَ يَسخَبْ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ، فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ "
«وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ يوم القيامة مِنْ رِيحِ المِسْكِ»
" ولِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا: إِذَا أَفْطَرَ فَرِحَ بفطره، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِهِ "
হাদীস নং: ৪২
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪২। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেনঃ আমার কাছে প্রিয়তম বান্দা সে যে অবিলম্বে ইফতার করে।
أحاديث الكتاب
42- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ عِبَادِي إِلَىَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا "
হাদীস নং: ৪৩
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৩। হযরত আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আরাফার দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নাই– যে দিন আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক সংখ্যক লোককে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী হন অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে ফিরিশতাদের সামনে গৌরব প্রকাশ করেন এবং বলেনঃ তারা কি উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে (বা তারা কি চায়)?
أحاديث الكتاب
43- عَنِ عَائِشَةُ رضي الله عنها قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللَّهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ فَيَقُولُ مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ "
হাদীস নং: ৪৪
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৪। হযরত 'আব্বাস ইবন্ মিরদাস সুলামী (রাযি.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'আরাফাতে সন্ধ্যাকালে তাঁর উম্মতের জন্য দীর্ঘক্ষণ মাগফিরাত ও রহমতের দু'আ করেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার উত্তরে বলেন, আপনার উম্মতের যারা একে অন্যের উপর যুলুম করে তারা ব্যতিত আমি অন্য সকলকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে আমার রব, আপনি তো যালিমকে ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখেন এবং মযলুমকে তার যুলুমের বদলায় উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন। সে সন্ধ্যায় তিনি এই দুআই করতে থাকেন।
পরের দিন ভোর বেলা পুনরায় মুজদালেফায় তিনি তাঁর উম্মতের জন্য দু'আ করে মুচকি হাসি হাসলেন। তখন কোন কোন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি তো আজ এমন সময় হাসলেন সাধারণত যখন হাসেন না। আজ কোন জিনিস আপনাকে হাসালো? আল্লাহ আপনাকে হাসি মুখে রাখুন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর দুশমন ইবলিশকে দেখে হাসলাম। সে যখন জানতে পারলো যে, মহান আল্লাহ্ আমার উম্মতের জন্য আমি যে দু'আ করেছি তা কবুল করেছেন এবং যালিমকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখন সে মাটি নিয়ে নিজের মাথায় ঢালতে ঢালতে বলতে লাগলো, হায় সর্বনাশ! হায় ধ্বংস! তার অস্থিরতা দেখে আমি হেসেছি।
أحاديث الكتاب
44- عن العباس بن مرادس السلمي رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دعا عشية عرفة بالمغفرة والرحمة فأكثر الدعاء فأجابه الله عز وجل أن قد فعلت وغفرت لأمتك إلا من ظلم بعضهم بعضا فقال يا رب انك قادر ان تغفر للظالم وتثيب المظلوم خيرا من مظلمته فلم يكن في تلك العشية إلا ذا فلما كان من الغد دعا غداة المزدلفة فعاد يدعو لأمته فلم يلبث النبي صلى الله عليه وسلم أن تبسم فقال بعض أصحابه يا رسول الله بأبي أنت وأمي ضحكت في ساعة لم تكن تضحك فيها فما أضحكك؟ أضحك الله سنك قال تبسمت من عدو الله ابليس حين علم أن الله عز وجل قد استجاب لي في أمتي وغفر للظالم أهوى يدعوى بالثبور والويل ويحثوا التراب على رأسه فتبسمت مما يصنع من جزعه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৫। হযরত আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু মারসাদ, যুবাইর ও আমাকে এক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন এবং আমরা সকলেই অশ্বারোহী। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা যাও। যেতে যেতে তোমরা ‘রাওযা খাখ’ নামক স্থানে পৌঁছে তথায় একজন স্ত্রীলোক দেখতে পাবে। তার নিকট (মক্কায়) মুরশিকদের কাছে লিখিত হাতিব ইবনে আবু বালতার একখানা পত্র আছে। (সে পত্রখানা ছিনিয়ে আনবে।) আলী (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)– এর নির্দেশিত স্থানে গিয়ে তাকে ধরে ফেললাম। সে তখন স্বীয় একটি উটের উপর আরোহণ করে পথ অতিক্রম করছিল। আমরা তাকে বললাম, পত্রখানা আমাদের নিকট অর্পণ কর। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই।
আমরা তখন তার উটটিকে বসিয়ে তার তল্লাশী নিলাম। কিন্তু পত্রখানা উদ্ধার করতে পারলাম না। আমরা বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিথ্যা বলেন নি। তোমাকে পত্রখানা বের করতেই হবে। নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে ছাড়ব। যখন (আমাদের) কঠোর মনোভাব লক্ষ্য করল তখন স্ত্রীলোকটি তার কোমরের পরিধেয় বস্ত্রের গিঁটে কাপড়ের পুঁটুলির মধ্য থেকে পত্রখানা বের করে দিল। আমরা তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)– এর নিকটে উপস্থিত হলাম (সব দেখে শুনে) উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং মু’মিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকথা করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই।
তখন নবী কারীম (ﷺ) (হাতিব ইবনে আবু বালতা (রাযিঃ)– কে ডেকে) বললেন, তোমাকে একাজ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? হাতিব (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ ও তার রাসূল (ﷺ)– এর বিশ্বাসী নই, আমি এরূপ নই। বরং (এ কাজ করার পেছনে) আমার মূল উদ্দেশ্য হল (মক্কার শত্রু) কওমের প্রতি কিছু অনুগ্রহ করা যাতে আল্লাহ এ উসীলায় (তাদের অনিষ্ট থেকে) আমার মাল এবং পরিবার ও পরিজনকে রক্ষা করেন। আর আপনার সাহাবীদের সকলেরই কোন না কোন আত্মীয় সেখানে রয়েছে, যার দ্বারা আল্লাহ তার ধন–সম্পদ ও পরিবারবর্গকে রক্ষা করেছেন (এ কথা শুনে) নবী কারীম (ﷺ) বললেন, সে সত্যই বলেছে।
সুতরাং তোমরা তার ব্যাপারে ভাল ব্যতীত আর কিছু বলো না। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, সে তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকথা করেছে। সুতরাং আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে কি বদরী সাহাবী নয়? নিশ্চয়ই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে দেখে শুনেই আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের যা ইচ্ছা কর” তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। (এ কথা শুনে) উমর (রাযিঃ)– এর দু’চোখ তখন অশ্রু সজল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত।
أحاديث الكتاب
45- عَنْ عَلِيٍّ بن أبي طالب رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبَا مَرْثَدٍ الغَنَوِيَّ، وَالزُّبَيْرَ، وَكُلُّنَا فَارِسٌ، قَالَ: «انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ، فَإِنَّ بِهَا امْرَأَةً مِنَ المُشْرِكِينَ، مَعَهَا كِتَابٌ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى المُشْرِكِينَ» فَأَدْرَكْنَاهَا تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، حَيْثُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْنَا: الكِتَابُ، فَقَالَتْ: مَا مَعَنَا كِتَابٌ، فَأَنَخْنَاهَا فَالْتَمَسْنَا فَلَمْ نَرَ كِتَابًا، فَقُلْنَا: مَا كَذَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَتُخْرِجِنَّ الكِتَابَ أَوْ لَنُجَرِّدَنَّكِ، فَلَمَّا رَأَتِ الجِدَّ أَهْوَتِ الى حُجْزَتِهَا، وَهِيَ مُحْتَجِزَةٌ بِكِسَاءٍ، فَأَخْرَجَتْهُ، فَانْطَلَقْنَا بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالمُؤْمِنِينَ، فَدَعْنِي فَلِأَضْرِبَ عُنُقَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ» قَالَ حَاطِبٌ: وَاللَّهِ مَا بِي أَنْ لاَ أَكُونَ مُؤْمِنًا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ لِي عِنْدَ القَوْمِ يَدٌ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهَا عَنْ أَهْلِي وَمَالِي، وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِكَ إِلَّا لَهُ هُنَاكَ مِنْ عَشِيرَتِهِ مَنْ يَدْفَعُ اللَّهُ بِهِ عَنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَدَقَ وَلاَ تَقُولُوا لَهُ إِلَّا خَيْرًا» فَقَالَ عُمَرُ: إِنَّهُ قَدْ خَانَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالمُؤْمِنِينَ، فَدَعْنِي فَلِأَضْرِبَ عُنُقَهُ، فَقَالَ: «أَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ؟» فَقَالَ: " لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ إِلَى أَهْلِ بَدْرٍ؟ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ وَجَبَتْ لَكُمُ الجَنَّةُ، أَوْ: فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ " فَدَمَعَتْ عَيْنَا عُمَرَ، وَقَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ
হাদীস নং: ৪৬
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৬। হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার যে বান্দা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে; আমার জিম্মায় রইলো– আমি তাকে ফিরিয়ে আনবাে। যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি, তা হলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনব তার পুণ্য ও গনিমতের সম্পদসহ, আর যদি আমি তাকে ওফাত দেই, তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।
أحاديث الكتاب
46- عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَحْكِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ أَيُّمَا عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي خَرَجَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي ضَمِنْتُ لَهُ أَنْ أَرْجِعَهُ إِنْ أَرْجَعْتُهُ بِمَا أَصَابَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَإِنْ قَبَضْتُهُ غَفَرْتُ لَهُ وَرَحِمْتُهُ
হাদীস নং: ৪৭
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৭। হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীদের মধ্যে শহীদকে আনা হলে আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার বাসস্থান কেমন পেলে? সে বলবে, ইয়া আল্লাহ! সর্বোত্তম স্থান। তিনি বললেনঃ আরও কিছু চাও এবং আকাঙ্ক্ষা কর। তখন সে ব্যক্তি বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি চাই, আপনি আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমি আপনার রাস্তায় দশবার শহীদ হই। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।
أحاديث الكتاب
47- عَنْ أَنَسٍ بن مالك رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِالرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ كَيْفَ وَجَدْتَ مَنْزِلَكَ فَيَقُولُ أَيْ رَبِّ خَيْرَ مَنْزِلٍ فَيَقُولُ سَلْ وَتَمَنَّ فَيَقُولُ أَسْأَلُكَ أَنْ تَرُدَّنِي إِلَى الدُّنْيَا فَأُقْتَلَ فِي سَبِيلِكِ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ
হাদীস নং: ৪৮
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৮। তাবেঈ মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) (রাযিঃ) কে এ আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাতে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে কখনো তোমরা মৃত মনে করোনা বরং তাঁরা জীবিত তাঁদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তারা জীবিকা প্রাপ্ত। (৩–১৬৯।)

আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি এ আয়াত সম্পর্কে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে) জিজ্ঞাসা করেছিলাম তখন তিনি বললেনঃ তাদের রুহসমুহ সবুজ পাখির পেটে (রক্ষিত থাকে) যা আরশের সাথে ঝুলন্ত দীপাধারে বাস করে। জান্নাতের সর্বত্র তারা যেখানে চায় সেখানে বিচরণ করে। অবশেষে সেই দীপাধারগুলোতে ফিরে আসে।

একবার তাদের পালনকর্তা তাদের দিকে তাকালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের কি কোন আকাঙ্ক্ষা আছে? জবাবে তারা বললোঃ আমাদের আর কি আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে আমরা তো যথেচ্ছভাবে জান্নাতে বিচরণ করছি। আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে এরূপ তিন তিনবার করলেন।

যখন তারা দেখলো, কিছু প্রার্থনা না করে থেকে রেহাই পাচ্ছে না তখন তারা বললোঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আকাঙ্ক্ষা হয় যদি আমাদের রুহগুলোকে আমাদের দেহসমূহে ফিরিয়ে দিতেন আর পুনরায় আমরা তোমারই পথে নিহত (শহীদ) হতে পারতাম। যখন (আল্লাহ) দেখলেন, তাদের আর কোন প্রয়োজনই অবশিষ্ট নাই, তখন তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলো (আর প্রশ্ন করা হলো না।)
أحاديث الكتاب
48- عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْنَا عَبْدَ اللَّهِ مسعود عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ( وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ) قَالَ أَمَا إِنَّا قَدْ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " أَرْوَاحُهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ ثُمَّ تَأْوِي إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ فَاطَّلَعَ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمُ اطِّلاَعَةً فَقَالَ هَلْ تَشْتَهُونَ شَيْئًا قَالُوا أَىَّ شَىْءٍ نَشْتَهِي وَنَحْنُ نَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شِئْنَا فَفَعَلَ بِهِمْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّهُمْ لَنْ يُتْرَكُوا مِنْ أَنْ يُسْأَلُوا قَالُوا يَا رَبِّ نُرِيدُ أَنْ تَرُدَّ أَرْوَاحَنَا فِي أَجْسَادِنَا حَتَّى نُقْتَلَ فِي سَبِيلِكَ مَرَّةً أُخْرَى . فَلَمَّا رَأَى أَنْ لَيْسَ لَهُمْ حَاجَةٌ تُرِكُوا "
হাদীস নং: ৪৯
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৪৯। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাথে একবার আমার সাক্ষাত হলে তিনি আমাকে বললেনঃ হে জাবির! কি ব্যপার, আমি তোমাকে মন–ভাঙ্গা দেখছি? আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতা শহীদ হয়ে গেছেন। তিনি এক পরিবার ও ঋণ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তোমার পিতার সঙ্গে কী ব্যবহার করেছেন সে সুসংবাদ তোমাকে দিব কি? আমি বললামঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা হিজাবের অন্তরাল ছাড়া কারো সঙ্গে কখনও কথা বলেন নি। কিন্তু তিনি তোমার পিতাকে যিন্দা করেন এবং সামনা–সামনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাকে বললেনঃ হে আমার বান্দা! তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ কর আমি তোমাকে দান করব। তিনি বললেনঃ হে আমার রব! আপনি আমাকে যিন্দা করে দেন, যাতে আমি দ্বিতীয়বারে আপনার নামে শহীদ হই। রাব্বুল আলামীন বলেছেনঃ আমার পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে, এদের কেউ আর ফিরে যারে না। তিনি বলেন আর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
وَلَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا
যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদের কখনও মৃত ভেবো না ...... শেষ পর্যন্ত (৩ঃ ১৬৯)।
أحاديث الكتاب
49- عن جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الانصاري رضي الله عنهما، قال: لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " يَا جَابِرُ مَا لِي أَرَاكَ مُنْكَسِرًا " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتُشْهِدَ أَبِي قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ عِيَالاً وَدَيْنًا . قَالَ: قَالَ" أَفَلاَ أُبَشِّرُكَ بِمَا لَقِيَ اللَّهُ بِهِ أَبَاكَ " . قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا قَطُّ إِلاَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَأَحْيَا أَبَاكَ فَكَلَّمَهُ كِفَاحًا فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَىَّ أُعْطِكَ . قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلَ فِيكَ ثَانِيةً . قَالَ الرَّبُّ تبارك وتعالي إِنَّهُ قَدْ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لاَ يُرْجَعُونَ " . قَالَ وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : (وَلَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ) الآيَةَ
হাদীস নং: ৫০
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫০। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির বিষয়ে বিস্ময়বোধ করেন, যে আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে গিয়ে সঙ্গী–সাথীসহ পরাজিত হয়ে আল্লাহর হক সম্পর্কে নিজ কর্তব্য উপলব্ধি করে। তারপর কাফিরদের সঙ্গে মনে প্রাণে যুদ্ধ করার জন্য ফিরে আসে ও নিজের রক্ত বইয়ে দিয়ে শহীদ হয়। তখন আল্লাহ্ ফিরিশতাদেরকে সম্বোধন করে বলতে থাকেন, তোমরা আমার এ বান্দার প্রতি দেখ, সে আমার নিকট হতে সাওয়াব পাওয়ার আশায় এবং আমার আযাবের ভয়ে ফিরে এসে নিজের রক্ত দিয়েছে।
أحاديث الكتاب
50- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَانْهَزَمَ " . يَعْنِي أَصْحَابَهُ : " فَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ فَرَجَعَ حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِمَلاَئِكَتِهِ : انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي رَجَعَ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي حَتَّى أُهَرِيقَ دَمُهُ "
হাদীস নং: ৫১
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫১। হযরত ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ শহীদগণ এবং যারা বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমাদের রবের নিকট বাদানুবাদ করবে–মহামারিতে মারা গেছে তার সম্বন্ধে। শহীদগণ বলবেন, আমাদের এ ভাইয়েরা নিহত হয়েছেন, যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবেন আমাদের এ ভাইয়েরা তাদের মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন আমাদের রব বলবেনঃ তাদের যখমের প্রতি লক্ষ্য কর, যদি তাদের যখম শহীদদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তাহলে তারা তাদের মধ্যে হবে এবং তাদের সাথে থাকবে, তখন দেখা যাবে তাদের ক্ষত শহীদের ক্ষতের সদৃশ।
أحاديث الكتاب
51- عَنْ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِلَى رَبِّنَا فِي الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ إِخْوَانُنَا قُتِلُوا كَمَا قُتِلْنَا وَيَقُولُ الْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ كَمَا مُتْنَا فَيَقُولُ رَبُّنَا انْظُرُوا إِلَى جِرَاحِهِمْ فَإِنْ أَشْبَهَ جِرَاحُهُمْ جِرَاحَ الْمَقْتُولِينَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قَدْ أَشْبَهَتْ جِرَاحَهُمْ
হাদীস নং: ৫২
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫২। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, কোন আদম সন্তানের জন্য আমি যা ধার্য করি নাই, মান্নাত তার কিছুই নিয়ে আসতে পারে না। (অর্থাৎ তার তাকদীরে যা পূর্ব থেকে নির্ধারিত তাই ঘটবে) তবে মান্নাতের মাধ্যমে আমি কৃপণ লোকের হাত থেকে কিছু বের করে নেই। সে তা আমাকে দেয়। যা সে মান্নাত না করলে কৃপণতার দরুন আমাকে দিত না।
أحاديث الكتاب
52- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَأْتِي النَّذْرُ عَلَى ابْنِ آدَمَ بِشَيْءٍ لَمْ أُقَدِّرْهُ عَلَيْهِ وَلَكِنَّهُ شَيْءٌ أَسْتَخْرِجُ بِهِ مِنْ الْبَخِيلِ يُؤْتِينِي عَلَيْهِ مَا لَا يُؤْتِينِي عَلَى الْبُخْلِ
হাদীস নং: ৫৩
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৩। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। আরেক ব্যক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার থেকে পুরা কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয় না।
أحاديث الكتاب
53- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " قَالَ اللَّهُ تعالي: ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ: رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ، وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِه أَجْرَهُ "
হাদীস নং: ৫৪
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৪। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি তাকাবেনও না। (এক) যে ব্যক্তি কোন মাল সামানের ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে বলে যে, এর দাম এর চেয়ে বেশী বলে ছিলো কিন্তা তা সত্ত্বেও সে তা বিক্রি করেনি। (দুই) যে ব্যক্তি আসরের নামাযের পর একজন মুসলমানের মাল–সম্পত্তি আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কসম করে। (তিন) যে ব্যক্তি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি মানুষকে দেয় না। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন (কিয়ামতের দিন) আজ আমি আমার অনুগ্রহ থেকে তোমাকে বঞ্চিত রাখব। যেরূপ তুমি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে বঞ্চিত রেখে ছিলে অথচ তা তোমার হাতের তৈরী নয়।
أحاديث الكتاب
54- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ: رَجُلٌ حَلَفَ عَلَى سِلْعَةٍ لَقَدْ أَعْطَى بِهَا أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَى وَهُوَ كَاذِبٌ، وَرَجُلٌ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ كَاذِبَةٍ بَعْدَ العَصْرِ، لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ، وَرَجُلٌ مَنَعَ فَضْلَ مَائه فَيَقُولُ اللَّهُ: اليَوْمَ أَمْنَعُكَ فَضْلِي كَمَا مَنَعْتَ فَضْلَ مَا لَمْ تَعْمَلْ يَدَاكَ "
হাদীস নং: ৫৫
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৫। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, তাদের অপেক্ষা বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির সদৃশ সৃষ্টি করার জন্য প্রস্তুত হয়েছে? তাহলে তারা একটা শস্যদানা কিংবা যব তৈরী করুক।
أحاديث الكتاب
55- عن أَبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ شَعِيرَةً
হাদীস নং: ৫৬
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৬। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি নিজেকে ফারেগ করে নাও আমি তোমার হৃদয়কে অভাব মুক্ততা দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিব এবং তোমার অভাব বন্ধ করে দিব। আর তা যদি না কর তবে তোমার দু’ হাত আমি ব্যস্ততা দিয়ে ভরে দিব আর তোমার অভাব দূর করব না।
أحاديث الكتاب
56- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِلاَّ تَفْعَلْ مَلأْتُ يَدَيْكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَأَبُو خَالِدٍ الْوَالِبِيُّ اسْمُهُ هُرْمُزُ .
হাদীস নং: ৫৭
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৭। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি আমার বান্দার সাথে থাকি, যখন সে আমার যিকির করে এবং আমার যিকিরে তার দু'ঠোঁট নড়ে।
أحاديث الكتاب
57- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ أَنَا مَعَ عَبْدِي إِذَا هُوَ ذَكَرَنِي وَتَحَرَّكَتْ بِي شَفَتَاهُ "
হাদীস নং: ৫৮
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৮। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর একদল ফিরিশতা আছেন, যারা আল্লাহর যিকিরে রত লোকদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তারা কোথাও আল্লাহর যিকিরে রত লোকদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ (অথচ এ সম্পর্কে ফিরিশতাদের চাইতে তিনিই বেশী জানেন) আমার বান্দারা কি বলছে? তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলবেনঃ হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও বেশী আপনার ইবাদত করত, আরো অধিক আপনার প্রশংসা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আর বেশী বেশী আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।
বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কি চায়? তারা বলবেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফিরিশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম হে রব! তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা কি করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা জান্নাতের আরো বেশী আকাঙ্ক্ষা করত, আরো অধিক পরিমাণে চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত। আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কিসের থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইছে? ফিরিশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দিবেন, আল্লাহর কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, যদি তারা তা দেখত, তখন তাদের কি হত? তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফিরিশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তারা এমন উপবিষ্টকারী, যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারীও বিফল হয় না।
أحاديث الكتاب
58- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ لِلَّهِ مَلاَئِكَةً يَطُوفُونَ فِي الطُّرُقِ يَلْتَمِسُونَ أَهْلَ الذِّكْرِ، فَإِذَا وَجَدُوا قَوْمًا يَذْكُرُونَ اللَّهَ تَنَادَوْا: هَلُمُّوا إِلَى حَاجَتِكُمْ " قَالَ: «فَيَحُفُّونَهُمْ بِأَجْنِحَتِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا» قَالَ: رَبُّهُمْ عز وجل، وَهُوَ أَعْلَمُ مِنْهُمْ، مَا يَقُولُ عِبَادِي؟ قَالُوا: يَقُولُونَ: يُسَبِّحُونَكَ وَيُكَبِّرُونَكَ وَيَحْمَدُونَكَ وَيُمَجِّدُونَكَ " قَالَ: " فَيَقُولُ: هَلْ رَأَوْنِي؟ " قَالَ: " فَيَقُولُونَ: لاَ وَاللَّهِ مَا رَأَوْكَ؟ " قَالَ: " فَيَقُولُ: وَكَيْفَ لَوْ رَأَوْنِي؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْكَ كَانُوا أَشَدَّ لَكَ عِبَادَةً، وَأَشَدَّ لَكَ تَمْجِيدًا وَتَحْمِيدًا، وَأَكْثَرَ لَكَ تَسْبِيحًا " قَالَ: " يَقُولُ: فَمَا يَسْأَلُونِي؟ " قَالَ: «يَسْأَلُونَكَ الجَنَّةَ» قَالَ: " يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا " قَالَ: " يَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: لَوْ أَنَّهُمْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ عَلَيْهَا حِرْصًا، وَأَشَدَّ لَهَا طَلَبًا، وَأَعْظَمَ فِيهَا رَغْبَةً، قَالَ: فَمِمَّ يَتَعَوَّذُونَ؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: مِنَ النَّارِ " قَالَ: " يَقُولُ: وَهَلْ رَأَوْهَا؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: لاَ وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا رَأَوْهَا " قَالَ: " يَقُولُ: فَكَيْفَ لَوْ رَأَوْهَا؟ " قَالَ: " يَقُولُونَ: لَوْ رَأَوْهَا كَانُوا أَشَدَّ مِنْهَا فِرَارًا، وَأَشَدَّ لَهَا مَخَافَةً " قَالَ: " فَيَقُولُ: فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ " قَالَ: " يَقُولُ مَلَكٌ مِنَ المَلاَئِكَةِ: فِيهِمْ فُلاَنٌ لَيْسَ مِنْهُمْ، إِنَّمَا جَاءَ لِحَاجَةٍ. قَالَ: هُمُ الجُلَسَاءُ لاَ يَشْقَى بِهِمْ جَلِيسُهُمْ "
হাদীস নং: ৫৯
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৫৯। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ঘোষনা করেন, আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক–সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু হাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।
أحاديث الكتاب
59- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَإٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ شِبْرا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً "
হাদীস নং: ৬০
কিতাবের হাদীস সমূহ
পরিচ্ছেদঃ
৬০। হযরত আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান ও বরকতময় রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, কুরআন নিয়ে ব্যস্ততা যাকে আমার যিক্‌র এবং আমার কাছে প্রার্থনা করা থেকে বিরত রাখে আমি তাকে (প্রার্থনাকারীদেরকে) যা দিয়ে থাকি তদপেক্ষা উত্তম প্রতিদান দিব। সব কালামের উপর আল্লাহর কালামের মর্যাদা সেরূপ যেরূপ সকল সৃষ্টি উপর আল্লাহর মর্যাদা বিদ্যামান।
أحاديث الكتاب
60- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخدري رضي الله عنه، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ مَنْ شَغَلَهُ الْقُرْآنُ وَذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ وَفَضْلُ كَلاَمِ اللَّهِ عَلَى سَائِرِ الْكَلاَمِ كَفَضْلِ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ "