আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
৮. অধ্যায়ঃ সদকা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৫ টি
হাদীস নং: ১৪১৮
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪১৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সা' অথবা দু' সা' পরিমাণ' (এক সা' প্রায় সাড়ে তিন কেজি ওজনের সমান।) খাদ্য দিয়ে কয়েকজন বন্ধুকে আপ্যায়ন করা আমার নিকট এই বিষয়টির চেয়ে বেশি প্রিয় যে, আমি তোমাদের বাজারে গিয়ে একটি দাস ক্রয় করে আযাদ করে দেই।
(হাদীসটি আবুশ শায়খ তাঁর 'কিতাবুস সওয়াবে' মওকূফ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে লায়স ইবন আবু সুলায়ম নামক একজন সমালোচিত রাবী রয়েছেন।)
(হাদীসটি আবুশ শায়খ তাঁর 'কিতাবুস সওয়াবে' মওকূফ পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে লায়স ইবন আবু সুলায়ম নামক একজন সমালোচিত রাবী রয়েছেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1418- وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ لِأَن أجمع نَفرا من إخْوَانِي على صَاع أَو صَاعَيْنِ من طَعَام أحب إِلَيّ من أَن أَدخل سوقكم فأشتري رَقَبَة فَأعْتقهَا
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب مَوْقُوفا عَلَيْهِ وَفِي إِسْنَاده لَيْث بن أبي سليم
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب مَوْقُوفا عَلَيْهِ وَفِي إِسْنَاده لَيْث بن أبي سليم
হাদীস নং: ১৪১৯
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪১৯. হযরত হাসান ইবন আলী (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: আমার কোন দীনী ভাইকে এক লোকমা পরিমাণ আহার্য দান আমার নিকট কোন মিসকীনকে এক দিরহাম সাদকা করার চাইতে অধিকতর প্রিয়। আর আমার কোন দীনী ভাইকে এক দিরহাম দান করা কোন মিসকীনকে একশ দিরহাম সাদকা করা হতে আমার নিকট অধিকতর প্রিয়।
(হাদীসটি আবুশ শায়খ 'কিতাবুস সওয়াবেই' বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত এটি উপরে বর্ণিত হাদীসটির ন্যায় মওকুফ রিওয়ায়াত।)
(হাদীসটি আবুশ শায়খ 'কিতাবুস সওয়াবেই' বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত এটি উপরে বর্ণিত হাদীসটির ন্যায় মওকুফ রিওয়ায়াত।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1419- وَرُوِيَ عَن الْحسن بن عَليّ رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لِأَن أطْعم أَخا لي فِي الله لقْمَة أحب إِلَيّ من أَن أَتصدق على مِسْكين بدرهم وَلِأَن أعطي أَخا لي فِي الله درهما أحب إِلَيّ من أَن أَتصدق على مِسْكين بِمِائَة دِرْهَم
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ أَيْضا فِيهِ وَلَعَلَّه مَوْقُوف كَالَّذي قبله
رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ أَيْضا فِيهِ وَلَعَلَّه مَوْقُوف كَالَّذي قبله
হাদীস নং: ১৪২০
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে নবী সা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: দু'ব্যক্তি একটি প্রান্তরে সফর শুরু করল। একজন ছিল দরবেশ, অপরজন কিছুটা মন্দ চরিত্রের অধিকারী। দরবেশ লোকটি একবার পিপাসায় কাতর হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। সঙ্গী লোকটি তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বার বার দেখতে লাগল। সে বলল: আল্লাহর কসম, এই দরবেশ লোকটি যদি আমার কাছে পানি থাকা অবস্থায় পিপাসায় মারা যায়, তাহলে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে কস্মিনকালেও কোন কল্যাণ লাভ করতে পারব না। আর যদি আমার পানিটুকু তাকে পান করিয়ে দেই, তবে আমি নিশ্চিত মারা যাব। তারপর সে আল্লাহর উপর ভরসা করে তাকে পানি পান করানোর দৃঢ় ইচ্ছা করে ফেলল এবং তার গায়ে পানি ছিটিয়ে দিল ও বাড়তি পানিটুকু পান করিয়ে দিল। দরবেশ লোকটি তখন সুস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এবং প্রান্তর পাড়ি দিল। হাশরের দিন এই পাপী লোকটিকে হিসাবের জন্য হাযির করা হবে এবং বিচারে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে বলা হবে। ফিরিশতাগণ যখন তাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকবে, তখন সে ঐ দরবেশ লোকটিকে দেখতে পাবে। সে বলবে: ওহে অমুক। আমাকে কি চিনতে পারছেন না? দরবেশ বলবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি ঐ ব্যক্তি, যে ময়দান পাড়ির দিন নিজের জীবনের উপর আপনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। দরবেশ তখন বলবে, হ্যাঁ, তোমাকে চিনতে পারছি। সে ফিরিশতাদেরকে ডেকে বলবে, তোমরা দাঁড়াও। তারা তখন দাঁড়িয়ে যাবে। দরবেশও এসে তাদের নিকট দাঁড়াবে এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ডাকতে শুরু করবে। সে বলবে: হে আমার রব। তুমি অবশ্যই আমার প্রতি এ লোকটির অনুগ্রহের ব্যাপারটি এবং তার জীবনের উপর আমাকে কিভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, সে বিষয়টি ভালরূপেই জান। হে আমার রব। তাকে আমার হাতে দিয়ে দাও। আল্লাহ বলবেন, আমি তাঁকে দিয়ে দিলাম। এখন সে তোমারই। দরবেশ তখন তার এ ভাইয়ের হাত ধরে জান্নাতে দাখিল করে দেবে। আমি আবু যিলালকে প্রশ্ন করলাম, তোমাকে কি আনাস (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন? সে বলল, হ্যাঁ।
(হাদীসটি তাবারানী 'আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু যিলালের নাম হিলাল ইব্ন সুয়ায়দ অথবা হিলাল ইব্ন আবূ সুয়ায়দ। ইমাম বুখারী ও ইবন হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মন্তব্য করেছেন। বায়হাকীও শুআবুল ঈমানে এটি আবু যিলাল সূত্রে আনাস (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন: এই সনদটি যদিও দুর্বল, কিন্তু এর সমর্থনে আনাস (রা) বর্ণিত অন্য একটি হাদীস রয়েছে। এরপর তিনি আপন সনদে আলী ইব্ন আবূ সারাহ থেকে তা বর্ণনা করেছেন। অবশ্য আলী ইবন আবু সারাহ হাদীস বর্ণনায় পরিত্যাজ্য ব্যক্তি।)
(হাদীসটি তাবারানী 'আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু যিলালের নাম হিলাল ইব্ন সুয়ায়দ অথবা হিলাল ইব্ন আবূ সুয়ায়দ। ইমাম বুখারী ও ইবন হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মন্তব্য করেছেন। বায়হাকীও শুআবুল ঈমানে এটি আবু যিলাল সূত্রে আনাস (রা) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তারপর তিনি বলেছেন: এই সনদটি যদিও দুর্বল, কিন্তু এর সমর্থনে আনাস (রা) বর্ণিত অন্য একটি হাদীস রয়েছে। এরপর তিনি আপন সনদে আলী ইব্ন আবূ সারাহ থেকে তা বর্ণনা করেছেন। অবশ্য আলী ইবন আবু সারাহ হাদীস বর্ণনায় পরিত্যাজ্য ব্যক্তি।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1420- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ عَن نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ رجلَانِ سلكا مفازة عَابِد وَالْآخر بِهِ رهق فعطش العابد حَتَّى سقط فَجعل صَاحبه ينظر إِلَيْهِ وَهُوَ صريع فَقَالَ وَالله إِن مَاتَ هَذَا العَبْد الصَّالح عطشا وَمَعِي مَاء لَا أُصِيب من الله خيرا أبدا وَلَئِن سقيته مائي لأموتن فتوكل على الله وعزم فرش عَلَيْهِ من مَائه وسقاه فَضله فَقَامَ فَقطع الْمَفَازَة فَيُوقف الَّذِي بِهِ رهق لِلْحسابِ فَيُؤْمَر بِهِ إِلَى النَّار فتسوقه الْمَلَائِكَة فَيرى العابد فَيَقُول يَا فلَان أما تعرفنِي فَيَقُول وَمن أَنْت فَيَقُول أَنا فلَان الَّذِي آثرتك على نَفسِي يَوْم الْمَفَازَة فَيَقُول بلَى أعرفك فَيَقُول للْمَلَائكَة قفوا فيقفون فَيَجِيء حَتَّى يقف فيدعو ربه عز وَجل
فَيَقُول يَا رب قد عرفت يَده عِنْدِي وَكَيف آثرني على نَفسه
يَا رب هبه لي فَيَقُول هُوَ لَك فَيَجِيء فَيَأْخُذ بيد أَخِيه فيدخله الْجنَّة فَقلت لأبي ظلال أحَدثك أنس عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نعم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَأَبُو ظلال اسْمه هِلَال بن سُوَيْد أَو ابْن أبي سُوَيْد وَثَّقَهُ البُخَارِيّ وَابْن حبَان لَا غَيره وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن أبي ظلال أَيْضا عَن أنس بِنَحْوِهِ ثمَّ قَالَ وَهَذَا الْإِسْنَاد إِن كَانَ غير قوي فَلهُ شَاهد من حَدِيث أنس ثمَّ رُوِيَ بِإِسْنَادِهِ من طَرِيق عَليّ بن أبي سارة وَهُوَ مَتْرُوك
فَيَقُول يَا رب قد عرفت يَده عِنْدِي وَكَيف آثرني على نَفسه
يَا رب هبه لي فَيَقُول هُوَ لَك فَيَجِيء فَيَأْخُذ بيد أَخِيه فيدخله الْجنَّة فَقلت لأبي ظلال أحَدثك أنس عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نعم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَأَبُو ظلال اسْمه هِلَال بن سُوَيْد أَو ابْن أبي سُوَيْد وَثَّقَهُ البُخَارِيّ وَابْن حبَان لَا غَيره وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن أبي ظلال أَيْضا عَن أنس بِنَحْوِهِ ثمَّ قَالَ وَهَذَا الْإِسْنَاد إِن كَانَ غير قوي فَلهُ شَاهد من حَدِيث أنس ثمَّ رُوِيَ بِإِسْنَادِهِ من طَرِيق عَليّ بن أبي سارة وَهُوَ مَتْرُوك
হাদীস নং: ১৪২১
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২১. সাবিত বুনানী হযরত আনাস (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, একজন বেহেশতী লোক কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদেরকে উকি দিয়ে দেখবে। তখন জাহান্নামবাসীদের জনৈক ব্যক্তি তাকে ডেকে বলবে, হে অমুক! আমাকে চিনতে পারছ? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম। আমি তোমাকে চিনতে পারছি না, তুমি কে হে? সে বলবে, আমি ঐ ব্যক্তি, যার পাশ দিয়ে তুমি পৃথিবীতে একদিন পথ অতিক্রম করেছিলে এবং সামান্য পানীয় চেয়েছিলে, আর সে তোমাকে পানীয় দ্বারা আপ্যায়িত করেছিল। সে বলবে, হ্যাঁ, তোমাকে চিনতে পেরেছি। জাহান্নামী লোকটি তখন বলবে, এর বিনিময়ে আজ তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট আমার জন্য সুপারিশ কর। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন: লোকটি তখন আল্লাহ্ তা'আলার কাছে প্রার্থনা করে বলবে: আমি জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখলে একজন জাহান্নামী ব্যক্তি আমাকে ডেকে বলল, আমাকে চিনতে পারছ? আমি বললাম, না, আল্লাহর কসম, তুমি কে হে? আমি তো চিনতে পারছি না। সে তখন বলল, আমি তো ঐ ব্যক্তি যে, আমার পাশ দিয়ে দুনিয়ায় একদিন তুমি পথ অতিক্রম করছিলে এবং পানীয় চেয়েছিলে, তখন আমি তোমাকে পানীয় দ্বারা আপ্যায়িত করেছিলাম। তাই আমার জন্য তোমার প্রতিপালকের নিকট আজ সুপারিশ কর। অতএব হে আল্লাহ! তুমি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল কর। আল্লাহ্ সে সুপারিশ কবুল করবেন এবং জাহান্নাম থেকে তাকে মুক্তির নির্দেশ দিবেন। অতএব তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে।
হাদীসটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর অপর বর্ণনার শব্দসমূহ নিম্নরূপঃ কিয়ামতের দিন মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে। তারপর জান্নাতবাসীগণ পথ চলতে শুরু করবে। জান্নাতী এক ব্যক্তি জনৈক জাহান্নামীর পাশ দিয়ে যখন অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, হে অমুক। তোমার কি মনে নেই যে, একদিন তুমি পানীয় চেয়েছিলে আর আমি তোমাকে পানীয়দানে তৃপ্ত করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ মায়ের বলেন, তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে। অনুরূপভাবে এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, তোমার কি মনে নেই যে, আমি একদিন তোমাকে উযুর পানি দিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে। এরূপভাবে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, তোমার কি মনে নেই যে, তুমি একদিন আমাকে তোমার অমুক অমুক প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলে আর আমি তা পূরণ করতে গিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে।
ইস্পাহানীও ইবন মাজাহ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর অপর বর্ণনার শব্দসমূহ নিম্নরূপঃ কিয়ামতের দিন মানুষকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে। তারপর জান্নাতবাসীগণ পথ চলতে শুরু করবে। জান্নাতী এক ব্যক্তি জনৈক জাহান্নামীর পাশ দিয়ে যখন অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, হে অমুক। তোমার কি মনে নেই যে, একদিন তুমি পানীয় চেয়েছিলে আর আমি তোমাকে পানীয়দানে তৃপ্ত করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ মায়ের বলেন, তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে। অনুরূপভাবে এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, তোমার কি মনে নেই যে, আমি একদিন তোমাকে উযুর পানি দিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে। এরূপভাবে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সে বলবে, তোমার কি মনে নেই যে, তুমি একদিন আমাকে তোমার অমুক অমুক প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলে আর আমি তা পূরণ করতে গিয়েছিলাম? তখন সে তার জন্য সুপারিশ করবে।
ইস্পাহানীও ইবন মাজাহ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1421- وَعَن ثَابت الْبنانِيّ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن رجلا من أهل الْجنَّة يشرف يَوْم الْقِيَامَة على أهل النَّار فيناديه رجل من أهل النَّار فَيَقُول يَا فلَان هَل تعرفنِي فَيَقُول لَا وَالله مَا أعرفك من أَنْت فَيَقُول أَنا الَّذِي مَرَرْت بِي فِي الدُّنْيَا فاستسقيتني شربة من مَاء فسقيتك قَالَ قد عرفت قَالَ فاشفع لي بهَا عِنْد رَبك
قَالَ فَيسْأَل الله تَعَالَى جلّ ذكره فَيَقُول إِنِّي أشرفت على النَّار فناداني رجل من أَهلهَا فَقَالَ لي هَل تعرفنِي قلت لَا وَالله مَا أعرفك من أَنْت قَالَ أَنا الَّذِي مَرَرْت بِي فِي الدُّنْيَا فاستسقيتني شربة من مَاء فسقيتك فاشفع لي عِنْد رَبك فشفعني فِيهِ فيشفعه الله فيأمر بِهِ فَيخرج من النَّار
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَلَفظه قَالَ يصف النَّاس يَوْم الْقِيَامَة صُفُوفا ثمَّ يمر أهل الْجنَّة فيمر الرجل على الرجل من أهل النَّار فَيَقُول يَا فلَان أما تذكر يَوْم اسْتَسْقَيْت فسقيتك شربة
قَالَ فَيشفع لَهُ ويمر الرجل على الرجل فَيَقُول أما تذكر يَوْم ناولتك طهُورا فَيشفع لَهُ ويمر الرجل على الرجل فَيَقُول يَا فلَان أما تذكر يَوْم بعثتني لحَاجَة كَذَا وَكَذَا فَذَهَبت لَك فَيشفع لَهُ
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ بِنَحْوِ ابْن مَاجَه
قَالَ فَيسْأَل الله تَعَالَى جلّ ذكره فَيَقُول إِنِّي أشرفت على النَّار فناداني رجل من أَهلهَا فَقَالَ لي هَل تعرفنِي قلت لَا وَالله مَا أعرفك من أَنْت قَالَ أَنا الَّذِي مَرَرْت بِي فِي الدُّنْيَا فاستسقيتني شربة من مَاء فسقيتك فاشفع لي عِنْد رَبك فشفعني فِيهِ فيشفعه الله فيأمر بِهِ فَيخرج من النَّار
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَلَفظه قَالَ يصف النَّاس يَوْم الْقِيَامَة صُفُوفا ثمَّ يمر أهل الْجنَّة فيمر الرجل على الرجل من أهل النَّار فَيَقُول يَا فلَان أما تذكر يَوْم اسْتَسْقَيْت فسقيتك شربة
قَالَ فَيشفع لَهُ ويمر الرجل على الرجل فَيَقُول أما تذكر يَوْم ناولتك طهُورا فَيشفع لَهُ ويمر الرجل على الرجل فَيَقُول يَا فلَان أما تذكر يَوْم بعثتني لحَاجَة كَذَا وَكَذَا فَذَهَبت لَك فَيشفع لَهُ
رَوَاهُ الْأَصْبَهَانِيّ بِنَحْوِ ابْن مَاجَه
হাদীস নং: ১৪২২
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২২. হযরত কুদায়র আদ-দব্বী (র) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন নবী সা.-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে ও জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রাসূলুল্লাহ বললেন, এ দু'টির চিন্তাই কি তোমাকে আমলে আগ্রহী করে তুলেছে? সে বলল, জ্বী হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, সর্বদা হক কথা বলবে ও অতিরিক্ত সম্পদ দান করে যাবে। লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি সর্বদা হক কথা বলতে ও অতিরিক্ত সম্পদ বিলিয়ে দিতে পারব না। রাসূলুল্লাহ্ সা. তখন বললেন, তাহলে আহার্য দানে লোকজনকে আপ্যায়িত করবে এবং সালামের বহুল প্রসার ঘটাবে। সে বলল, এটিও তো সুকঠিন। তিনি বললেন, তোমার কি কোন উট রয়েছে? সে বলল জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার উটের পাল থেকে একটি উট ও একটি মশক নিয়ে এমন একটি পরিবারের কাছে যাও, যারা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পানি পান করে এবং তাদেরকে পানি পান করাও। হয়তো তোমার উটের মৃত্যু আসার পূর্বে এবং মশকটি ছিদ্র হয়ে যাবার আগেই তোমার জন্য জান্নাতের ফয়সালা হয়ে যাবে। বর্ণনাকারী বলেন, বেদুঈন লোকটি আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিতে দিতে চলে গেল। তারপর উটটির মৃত্যু আসার পূর্বেই এবং মশকটি ছিদ্র হয়ে যাবার আগেই সে শহীদী মৃত্যু লাভ করল।
হাদীসটি তাবারানী ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। কুদায়র পর্যন্ত সকল বর্ণনাকারী 'সহীহ'-এর বর্ণনাকারীদের মতই। ইব্ন খুযায়মাও এটি সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেরেছন এবং তিনি বলেছেন, আবু ইসহাক এ হাদীসটি কুদায়র থেকে শুনেছেন বলে আমার জানা নেই।
[ হাফিয (যাকীউদ্দীন)। বলেন: হাদীসটি আবু ইসহাক কুদায়র থেকে শুনেছেন, কিন্তু এটি মুরসাল। ইব্ন খুযায়মা কুদায়রকে সাহাবী মনে করে তাঁর হাদীসটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; কিন্তু কুদায়র আসলে শীআ সম্প্রদায়ভুক্ত একজন তাবিঈ। ইমাম বুখারী ও নাসাঈ তাঁর সমালোচনা করেছেন। অবশ্য আবু হাতিম প্রমুখ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই তাঁকে ভুলবশত সাহাবী মনে করে বসে আছেন; কিন্তু তাঁদের এ ধারণা যথার্থ নয়। আল্লাহ্ ভাল জানেন।
হাদীসটি তাবারানী ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। কুদায়র পর্যন্ত সকল বর্ণনাকারী 'সহীহ'-এর বর্ণনাকারীদের মতই। ইব্ন খুযায়মাও এটি সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেরেছন এবং তিনি বলেছেন, আবু ইসহাক এ হাদীসটি কুদায়র থেকে শুনেছেন বলে আমার জানা নেই।
[ হাফিয (যাকীউদ্দীন)। বলেন: হাদীসটি আবু ইসহাক কুদায়র থেকে শুনেছেন, কিন্তু এটি মুরসাল। ইব্ন খুযায়মা কুদায়রকে সাহাবী মনে করে তাঁর হাদীসটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; কিন্তু কুদায়র আসলে শীআ সম্প্রদায়ভুক্ত একজন তাবিঈ। ইমাম বুখারী ও নাসাঈ তাঁর সমালোচনা করেছেন। অবশ্য আবু হাতিম প্রমুখ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই তাঁকে ভুলবশত সাহাবী মনে করে বসে আছেন; কিন্তু তাঁদের এ ধারণা যথার্থ নয়। আল্লাহ্ ভাল জানেন।
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1422- وَعَن كدير الضَّبِّيّ أَن رجلا أَعْرَابِيًا أَتَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ أَخْبرنِي بِعَمَل يقربنِي من الْجنَّة وَيُبَاعِدنِي من النَّار فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَو هما أعملتاك قَالَ نعم قَالَ تَقول
الْعدْل وَتُعْطِي الْفضل
قَالَ وَالله لَا أَسْتَطِيع أَن أَقُول الْعدْل كل سَاعَة وَمَا أَسْتَطِيع أَن أعطي الْفضل
قَالَ فتطعم الطَّعَام وتفشي السَّلَام قَالَ هَذِه أَيْضا شَدِيدَة
قَالَ فَهَل لَك إبل قَالَ نعم
قَالَ فَانْظُر إِلَى بعير من إبلك وسقاء ثمَّ اعمد إِلَى أهل بَيت لَا يشربون المَاء إِلَّا غبا فاسقهم فلعلك لَا يهْلك بعيرك وَلَا ينخرق سقاؤك حَتَّى تجب لَك الْجنَّة
قَالَ فَانْطَلق الْأَعرَابِي يكبر فَمَا انخرق سقاؤه وَلَا هلك بعيره حَتَّى قتل شَهِيدا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ إِلَى كدير رُوَاة الصَّحِيح وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه بِاخْتِصَار وَقَالَ لست أَقف على سَماع أبي إِسْحَاق هَذَا الْخَبَر من كدير
قَالَ الْحَافِظ قد سَمعه أَبُو إِسْحَاق من كدير وَلَكِن الحَدِيث مُرْسل
وَقد توهم ابْن خُزَيْمَة أَن لكدير صُحْبَة فَأخْرج حَدِيثه فِي صَحِيحه وَإِنَّمَا هُوَ تَابِعِيّ شيعي تكلم فِيهِ البُخَارِيّ وَالنَّسَائِيّ وَقواهُ أَبُو حَاتِم وَغَيره وَقد عده جمَاعَة من الصَّحَابَة وهما مِنْهُم وَلَا يَصح وَالله أعلم
الْعدْل وَتُعْطِي الْفضل
قَالَ وَالله لَا أَسْتَطِيع أَن أَقُول الْعدْل كل سَاعَة وَمَا أَسْتَطِيع أَن أعطي الْفضل
قَالَ فتطعم الطَّعَام وتفشي السَّلَام قَالَ هَذِه أَيْضا شَدِيدَة
قَالَ فَهَل لَك إبل قَالَ نعم
قَالَ فَانْظُر إِلَى بعير من إبلك وسقاء ثمَّ اعمد إِلَى أهل بَيت لَا يشربون المَاء إِلَّا غبا فاسقهم فلعلك لَا يهْلك بعيرك وَلَا ينخرق سقاؤك حَتَّى تجب لَك الْجنَّة
قَالَ فَانْطَلق الْأَعرَابِي يكبر فَمَا انخرق سقاؤه وَلَا هلك بعيره حَتَّى قتل شَهِيدا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ إِلَى كدير رُوَاة الصَّحِيح وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه بِاخْتِصَار وَقَالَ لست أَقف على سَماع أبي إِسْحَاق هَذَا الْخَبَر من كدير
قَالَ الْحَافِظ قد سَمعه أَبُو إِسْحَاق من كدير وَلَكِن الحَدِيث مُرْسل
وَقد توهم ابْن خُزَيْمَة أَن لكدير صُحْبَة فَأخْرج حَدِيثه فِي صَحِيحه وَإِنَّمَا هُوَ تَابِعِيّ شيعي تكلم فِيهِ البُخَارِيّ وَالنَّسَائِيّ وَقواهُ أَبُو حَاتِم وَغَيره وَقد عده جمَاعَة من الصَّحَابَة وهما مِنْهُم وَلَا يَصح وَالله أعلم
হাদীস নং: ১৪২৩
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৩. হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ্ সা.-এর নিকট এসে বলল, এমন কোন আমল রয়েছে যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব? তিনি বললেন, তুমি কি এমন অঞ্চলে থাক, যেখানে বাইরে থেকে পানি আনতে হয় ? সে বলল, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, একটি নতুন মশক কিনে নাও এবং এরদ্বারা লোকজনকে পানি পান করাতে থাক-যে পর্যন্ত না এটি ছিঁড়ে ফেটে বিনষ্ট হয়ে যায়। কেননা এটি ছিঁড়ে শেষ করার পূর্বেই তুমি এরদ্বারা জান্নাতের আমলে পৌঁছে যাবে।
(হাদীসটি তাবারানী 'কবীরে' বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া হিম্মানী ব্যতীত সনদের অপর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য।)
(হাদীসটি তাবারানী 'কবীরে' বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া হিম্মানী ব্যতীত সনদের অপর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1423- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ أَتَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجل فَقَالَ مَا عمل إِن عملت بِهِ دخلت الْجنَّة قَالَ أَنْت بِبَلَد يجلب بِهِ المَاء قَالَ نعم
قَالَ فاشتر بهَا سقاء جَدِيدا ثمَّ اسْقِ فِيهَا حَتَّى تخرقها فَإنَّك لن تخرقها حَتَّى تبلغ بهَا عمل الْجنَّة
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير ورواة إِسْنَاده ثِقَات إِلَّا يحيى الْحمانِي
قَالَ فاشتر بهَا سقاء جَدِيدا ثمَّ اسْقِ فِيهَا حَتَّى تخرقها فَإنَّك لن تخرقها حَتَّى تبلغ بهَا عمل الْجنَّة
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير ورواة إِسْنَاده ثِقَات إِلَّا يحيى الْحمانِي
হাদীস নং: ১৪২৪
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সা.-এর নিকট এসে বলল, আমি খুব কষ্ট করে হাউয থেকে পানি উত্তোলন করে যখন আমার উটের জন্য মশকটি ভরে শেষ করি, তখনই অন্য কোন ব্যক্তির উট আমার কাছে এসে যায়। তখন আমি যদি তাকেও পানি পান করিয়ে দেই, তবে কি এতে আমার পুণ্য হবে? তিনি বললেন, তাকে পানি পান করিয়ে দাও। কেননা প্রতিটি কলিজাবিশিষ্ট প্রাণীর বেলায়ই পুণ্য রয়েছে।
(হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ।)
(হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন। এর সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1424- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رجلا جَاءَ إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ إِنِّي أنزع فِي حَوْضِي حَتَّى إِذا ملأته لإبلي ورد عَليّ الْبَعِير لغيري فسقيته فَهَل فِي ذَلِك من أجر فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن فِي كل ذَات كبد
أجرا
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات مَشْهُورُونَ
أجرا
رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات مَشْهُورُونَ
হাদীস নং: ১৪২৫
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৫. হযরত মাহমুদ ইবনুর রাবী (রা) থেকে বর্ণিত যে, সুরাকা ইবন্ জু'শাম (রা) একদিন এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পথহারা কোন প্রাণী আমার হাউযের কাছে এসে হাযির হয়ে যায়। আমি যদি তাকে পানি পান করিয়ে দেই, তবে কি এতে আমার কোন পুণ্য হবে ? তিনি বললেন, তাকে পানি পান করিয়ে দাও। কেননা প্রতিটি কলিজাবিশিষ্ট পিপাসার্ত প্রাণের বেলায়ই পুণ্য রয়েছে।
(হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাহ ও বায়হাকীও এটি আবদুর রহমান ইবন মালিক ইবুন জু'শাম তাঁর পিতা থেকে ও তিনি তাঁর চাচা সুরাকা ইবন জু'শাম (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবন মাজাহ ও বায়হাকীও এটি আবদুর রহমান ইবন মালিক ইবুন জু'শাম তাঁর পিতা থেকে ও তিনি তাঁর চাচা সুরাকা ইবন জু'শাম (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1425- وَعَن مَحْمُود بن الرّبيع أَن سراقَة بن جعْشم
قَالَ يَا رَسُول الله الضَّالة ترد على حَوْضِي فَهَل لي فِيهَا من أجر إِن سقيتها
قَالَ اسقها فَإِن فِي كل ذَات كبد حراء أجرا
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا عَن عبد الرَّحْمَن بن مَالك بن جعْشم عَن أَبِيه عَن عَمه سراقَة بن جعْشم رَضِي الله عَنهُ
قَالَ يَا رَسُول الله الضَّالة ترد على حَوْضِي فَهَل لي فِيهَا من أجر إِن سقيتها
قَالَ اسقها فَإِن فِي كل ذَات كبد حراء أجرا
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا عَن عبد الرَّحْمَن بن مَالك بن جعْشم عَن أَبِيه عَن عَمه سراقَة بن جعْشم رَضِي الله عَنهُ
হাদীস নং: ১৪২৬
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ বলেছেন: একদা জনৈক ব্যক্তি পথ চলছিল, হঠাৎ তার ভীষণ পিপাসা পেল। এমন সময় সে একটি কুয়ো পেল। সে তাতে অবতরণ করল ও পানি পান করে উপরে উঠে আসল। হঠাৎ সে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় জিহ্বা বের করে কাদা খাচ্ছে। লোকটি মনে মনে বলল, এ কুকুরটির তো পিপাসায় ঠিক তেমনি অবস্থা হয়েছে যা ইতিপূর্বে আমার নিজের হয়েছিল। এই বলে সে কুয়োতে নেমে গেল এবং এবং কুকুতার মোজাটি পানি দিয়ে ভরে ফেলল। তারপর সে এটি মুখে কামড় দিয়ে ধরে উপরে উঠে আসলরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ্ তার এই কাজটি খুব পসন্দ করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! প্রাণীদের প্রতি দয়া করাতেও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি বললেন, প্রতিটি জীবিত প্রাণের ক্ষেত্রেই পুণ্য রয়েছে।
(হাদীসটি মালিক, বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন। ইব্ন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছিন, তবে তাঁর বর্ণনার শেষদিকে এরূপ রয়েছে: আল্লাহ্ তার কাজটির খুবই কদর করলেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করে দিলেন।)
(হাদীসটি মালিক, বুখারী, মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন। ইব্ন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছিন, তবে তাঁর বর্ণনার শেষদিকে এরূপ রয়েছে: আল্লাহ্ তার কাজটির খুবই কদর করলেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করে দিলেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1426- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ بَيْنَمَا رجل يمشي بطرِيق اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحر فَوجدَ بِئْرا فَنزل فِيهَا فَشرب ثمَّ خرج فَإِذا كلب يَلْهَث يَأْكُل الثرى من الْعَطش فَقَالَ الرجل لقد بلغ هَذَا الْكَلْب من الْعَطش مثل الَّذِي كَانَ مني فَنزل الْبِئْر فَمَلَأ خفه مَاء ثمَّ أمْسكهُ بِفِيهِ حَتَّى رقي فسقى الْكَلْب فَشكر الله لَهُ فغفر لَهُ
قَالُوا يَا رَسُول الله إِن لنا فِي الْبَهَائِم أجرا فَقَالَ فِي كل كبد رطبَة أجر
رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ فَشكر الله لَهُ فَأدْخلهُ الْجنَّة
قَالُوا يَا رَسُول الله إِن لنا فِي الْبَهَائِم أجرا فَقَالَ فِي كل كبد رطبَة أجر
رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ فَشكر الله لَهُ فَأدْخلهُ الْجنَّة
হাদীস নং: ১৪২৭
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৭. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সা. বলেছেন : সাতটি কাজের সওয়াব বান্দার মৃত্যুর পর কবরে অবস্থানকালেও তার নামে অব্যাহত থাকে : কেউ যদি ইলম শিক্ষা দেয় অথবা খাল খনন করে অথবা কূপ খনন করে অথবা বৃক্ষ রোপণ করে অথবা মসজিদ নির্মাণ করে অথবা কুরআন শরীফ দান করে যায় অথবা এমন সন্তান রেখে যায় যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
(হাদীসটি বায্যার ও আবু নুয়ায়ম হিলয়া নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়ায়ম বলেন, আবু কাতাদা সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গরীব। আযরামী থেকে এটি কেবল আবু নুয়ায়মই একা রিওয়ায়াত করেন।
[ হাফিয বলেন ] পূর্বেও দেখা গিয়েছে যে, এ হাদীসটি ইবন মাজাহ হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইবন মাজাহর বর্ণনায় বৃক্ষ রোপণ ও কূপ খননের উল্লেখ নেই বরং তার স্থলে
সাদকা ও মুসাফিরখানার কথা বলা হয়েছে। ইবন খুযায়মাও এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তিনি কুরআন শরীফ দানের উল্লেখ করেন নি, বরং তাঁর বর্ণনায় আছে, অথবা কোন খাল সে খনন করলো।)
(হাদীসটি বায্যার ও আবু নুয়ায়ম হিলয়া নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়ায়ম বলেন, আবু কাতাদা সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গরীব। আযরামী থেকে এটি কেবল আবু নুয়ায়মই একা রিওয়ায়াত করেন।
[ হাফিয বলেন ] পূর্বেও দেখা গিয়েছে যে, এ হাদীসটি ইবন মাজাহ হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইবন মাজাহর বর্ণনায় বৃক্ষ রোপণ ও কূপ খননের উল্লেখ নেই বরং তার স্থলে
সাদকা ও মুসাফিরখানার কথা বলা হয়েছে। ইবন খুযায়মাও এটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তিনি কুরআন শরীফ দানের উল্লেখ করেন নি, বরং তাঁর বর্ণনায় আছে, অথবা কোন খাল সে খনন করলো।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1427- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سبع تجْرِي للْعَبد بعد مَوته وَهُوَ فِي قَبره من علم علما أَو كرى نَهرا أَو حفر بِئْرا أَو غرس نخلا أَو بنى مَسْجِدا أَو ورث مُصحفا أَو ترك ولدا يسْتَغْفر لَهُ بعد مَوته
رَوَاهُ الْبَزَّار وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَقَالَ هَذَا حَدِيث غَرِيب من حَدِيث قَتَادَة تفرد بِهِ أَبُو نعيم عَن الْعَزْرَمِي
قَالَ الْحَافِظ تقدم أَن ابْن مَاجَه رَوَاهُ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِإِسْنَاد حسن لَكِن لم يذكر ابْن مَاجَه غرس النّخل وَلَا حفر الْبِئْر وَذكر موضعهما الصَّدَقَة وَبَيت ابْن السَّبِيل
وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه لم يذكر فِيهِ الْمُصحف وَقَالَ أَو نَهرا أكراه
يَعْنِي حفره
رَوَاهُ الْبَزَّار وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية وَقَالَ هَذَا حَدِيث غَرِيب من حَدِيث قَتَادَة تفرد بِهِ أَبُو نعيم عَن الْعَزْرَمِي
قَالَ الْحَافِظ تقدم أَن ابْن مَاجَه رَوَاهُ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِإِسْنَاد حسن لَكِن لم يذكر ابْن مَاجَه غرس النّخل وَلَا حفر الْبِئْر وَذكر موضعهما الصَّدَقَة وَبَيت ابْن السَّبِيل
وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه لم يذكر فِيهِ الْمُصحف وَقَالَ أَو نَهرا أكراه
يَعْنِي حفره
হাদীস নং: ১৪২৮
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে রাসুলুল্লাহ্ সা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: পানি পান করানোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান লাভের মত কোন সাদকা নেই। -বায়হাকী
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1428- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَيْسَ صَدَقَة أعظم أجرا من مَاء
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ
হাদীস নং: ১৪২৯
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪২৯. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা সা'দ (রা) রাসূলুল্লাহ সা.-এর এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার মা ইন্তিকাল করেছেন। কিন্তু তিনি কোন ওসীয়ত করে যেতে পারেন নি। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কোন সাদকা করি তবে কি এটা তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আর তুমি এক্ষেত্রে পানির সুব্যবস্থা করে দাও।
(হাদীসটি তাবারানী 'আওসাতে' বর্ণনা করেছেন। হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের হাদীস বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য।)
(হাদীসটি তাবারানী 'আওসাতে' বর্ণনা করেছেন। হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সহীহ গ্রন্থের হাদীস বর্ণনায় গ্রহণযোগ্য।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1429- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن سَعْدا أَتَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله إِن أُمِّي توفيت وَلم توص أفينفعها أَن أَتصدق عَنْهَا قَالَ نعم وَعَلَيْك بِالْمَاءِ
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح
হাদীস নং: ১৪৩০
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪৩০. হযরত সা'দ ইবন উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার মা ইন্তিকাল করেছেন। তাঁর জন্য কোন সদকাটি উত্তম হবে? তিনি বললেন, পানি। সা'দ তখন একটি কূপ খনন করে দিলেন এবং বললেন, এটি সা'দের মায়ের জন্যে।
(হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। উপরের বর্ণনাটির পাঠ তাঁরই। ইবন মাজাহ ও ইব্ন খুযায়মাও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; তবে ইবন খুযায়মা বলেছেন, হাদীসটি যদি সহীহ হয়। ইব্ন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনাটি নিম্নরূপঃ
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। কোন্ সাদ্কাটি উত্তম? তিনি বললেন, পানি পান করানো। হাকিম ও ইবন হিব্বান অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের মাপকাঠিতে সহীহ্।
[ হাফিয (র) বলেন ] হাদীসটি সবার নিকট মুনকাতি পর্যায়ের। কেননা সবাই এটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব সুত্রে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব সা'দ-এর সাক্ষাত লাভ করেননি। কেননা সা'দ ১৫ অথবা ১৪ হিজরীতে সিরিয়ায় ইন্তিকাল করেছেন। আর সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাবের জন্মই হয়েছে ১৫ হিজরীতে। এ হাদীসটি আবূ দাউদ, নাসাঈ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাসান বসরী সূত্রে সা'দ থেকে বর্ণনা করেন। কিন্তু হাসান বসরীও সা'দকে পাননি। কেননা হাসান বসরীর জন্মই হয়েছে ২১ হিজরীতে। আবু দাউদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এ হাদীসটি আবু ইসহাক সুবায়ীর সূত্রে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভাল জানেন।)
(হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। উপরের বর্ণনাটির পাঠ তাঁরই। ইবন মাজাহ ও ইব্ন খুযায়মাও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; তবে ইবন খুযায়মা বলেছেন, হাদীসটি যদি সহীহ হয়। ইব্ন হিব্বানও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনাটি নিম্নরূপঃ
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। কোন্ সাদ্কাটি উত্তম? তিনি বললেন, পানি পান করানো। হাকিম ও ইবন হিব্বান অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের মাপকাঠিতে সহীহ্।
[ হাফিয (র) বলেন ] হাদীসটি সবার নিকট মুনকাতি পর্যায়ের। কেননা সবাই এটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব সুত্রে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অথচ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব সা'দ-এর সাক্ষাত লাভ করেননি। কেননা সা'দ ১৫ অথবা ১৪ হিজরীতে সিরিয়ায় ইন্তিকাল করেছেন। আর সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাবের জন্মই হয়েছে ১৫ হিজরীতে। এ হাদীসটি আবূ দাউদ, নাসাঈ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাসান বসরী সূত্রে সা'দ থেকে বর্ণনা করেন। কিন্তু হাসান বসরীও সা'দকে পাননি। কেননা হাসান বসরীর জন্মই হয়েছে ২১ হিজরীতে। আবু দাউদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ এ হাদীসটি আবু ইসহাক সুবায়ীর সূত্রে জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভাল জানেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1430- وَعَن سعد بن عبَادَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا رَسُول الله إِن أُمِّي مَاتَت فَأَي
الصَّدَقَة أفضل قَالَ المَاء فحفر بِئْرا وَقَالَ هَذِه لأم سعد
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ إِن صَحَّ الْخَبَر وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قلت يَا رَسُول الله أَي الصَّدَقَة أفضل قَالَ سقِِي المَاء
وَالْحَاكِم بِنَحْوِ ابْن حبَان وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ المملي الْحَافِظ رَحمَه الله بل هُوَ مُنْقَطع الْإِسْنَاد عِنْد الْكل فَإِنَّهُم كلهم رَوَوْهُ عَن سعيد بن الْمسيب عَن سعد وَلم يُدْرِكهُ فَإِن سَعْدا توفّي بِالشَّام سنة خمس عشرَة وَقيل سنة أَربع عشرَة ومولد سعيد بن الْمسيب سنة خمس عشرَة وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا وَالنَّسَائِيّ وَغَيرهمَا عَن الْحسن الْبَصْرِيّ عَن سعد وَلم يُدْرِكهُ أَيْضا فَإِن مولد الْحسن سنة إِحْدَى وَعشْرين وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا وَغَيره عَن أبي إِسْحَاق السبيعِي عَن رجل عَن سعد وَالله أعلم
الصَّدَقَة أفضل قَالَ المَاء فحفر بِئْرا وَقَالَ هَذِه لأم سعد
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن مَاجَه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه إِلَّا أَنه قَالَ إِن صَحَّ الْخَبَر وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قلت يَا رَسُول الله أَي الصَّدَقَة أفضل قَالَ سقِِي المَاء
وَالْحَاكِم بِنَحْوِ ابْن حبَان وَقَالَ صَحِيح على شَرطهمَا
قَالَ المملي الْحَافِظ رَحمَه الله بل هُوَ مُنْقَطع الْإِسْنَاد عِنْد الْكل فَإِنَّهُم كلهم رَوَوْهُ عَن سعيد بن الْمسيب عَن سعد وَلم يُدْرِكهُ فَإِن سَعْدا توفّي بِالشَّام سنة خمس عشرَة وَقيل سنة أَربع عشرَة ومولد سعيد بن الْمسيب سنة خمس عشرَة وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا وَالنَّسَائِيّ وَغَيرهمَا عَن الْحسن الْبَصْرِيّ عَن سعد وَلم يُدْرِكهُ أَيْضا فَإِن مولد الْحسن سنة إِحْدَى وَعشْرين وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد أَيْضا وَغَيره عَن أبي إِسْحَاق السبيعِي عَن رجل عَن سعد وَالله أعلم
হাদীস নং: ১৪৩১
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪৩১. হযরত জাবির (রা) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুয়া খনন করে পানির ব্যবস্থা করল, তা থেকে কোন পিপাসার্ত প্রাণ- চাই সে মানুষ হোক বা জিন্ন অথবা পাখিই হোক, পানি পান করালে আল্লাহ্ তাকে কিয়ামতের দিন পুরষ্কৃত করবেন।
(হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর 'তারীখে' ও ইবন খুযায়মা তাঁর 'সহীহে' বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর 'তারীখে' ও ইবন খুযায়মা তাঁর 'সহীহে' বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1431- وَعَن جَابر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من حفر مَاء لم تشرب مِنْهُ كبد حرى من جن وَلَا إنس وَلَا طَائِر إِلَّا آجره الله يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه
رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي تَارِيخه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه
হাদীস নং: ১৪৩২
অধ্যায়ঃ সদকা
পরিচ্ছেদঃ খাদ্যদান ও পানিপান করানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এগুলো থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে
ভীতি প্রদর্শন
ভীতি প্রদর্শন
১৪৩২. আলী ইবনুল হাসান ইবন শকীক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনুল মুবারক (র)-কে জনৈক ব্যক্তি বলেছিলেনঃ হে আবু আবদুর রহমান। সাত বছর হয় আমার হাঁটুতে একটি বিষ ফোঁড়া বেরিয়েছে। আমি বিভিন্ন পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণ করেছি এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছি; কিন্তু কোন ফল পাইনি। আবদুল্লাহ্ ইবনুল মুবারক তখন বললেন, তুমি এমন একটি স্থানের সন্ধান কর সেখানে মানুষের পানির খুব অভাব এবং সেখানে একটি কূপ খনন করে দাও। আমার আশা যে, সেখানে পানির ঝর্ণার ব্যবস্থা হয়ে যাবে আর এদিকে তোমার রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়ে যাবে। লোকটি তাই করল এবং তার রোগ নিরাময় হয়ে গেল।
(ঘটনাটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে এ ধরনের একটি ঘটনা আমাদের উস্তাদ হাকিম আবূ আবদুল্লাহ (র)-এর জীবনেও ঘটেছিল। কেননা তাঁর মুখে একবার ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করলেন। কিন্তু এ ক্ষতটি কোনক্রমেই দূর হলো না, বরং এভাবে প্রায় একটি বছর গড়িয়ে চলল। একদিন তিনি ইমাম আবু উসমান সাবুনীকে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত তাঁর বিশেষ মজলিসে দু'আ করতে অনুরোধ জানালেন। ইমাম তাঁর জন্য দু'আ করলেন এবং লোকেরা ঘন ঘন আমীন আমীন বলল। পরবর্তী শুক্রবারে জনৈক মহিলা ঐ মজলিসে একটি চিরকুট নিক্ষেপ করল, যাতে লিখা ছিল যে, মহিলাটি বাড়িতে ফিরে গিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে হাকিম আবু আবদুল্লাহর জন্য বিশেষভাবে দু'আ করেছিল। তারপর ঐ রাতে সে রাসূলুল্লাহ্ সা.-কে স্বপ্নে দেখল, তিনি যেন বলছেন: আবু আবদুল্লাহকে বল, সে যেন মুসলমানদের জন্য পানির সুব্যবস্থা করে দেয়। আমি চিরকূটটি নিয়ে আবু আবদুল্লাহর নিকট আসলাম। তিনি বাড়ির সম্মুখে একটি পানির হাউয তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনি এতে পানি ও বরফ ফেলতে নির্দেশ দিলেন। আর লোকেরা এখান থেকে পানি পান করতে লাগল। তারপর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিরাময় হওয়ার লক্ষণ দেখা দিল এবং ক্ষতটি শুকিয়ে গেল। তাঁর চেহারা পূর্বের তুলানায় অধিকতর সুন্দর হয়ে উঠল। এরপরও তিনি অনেক বছর বেঁচে ছিলেন।)
(ঘটনাটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, যে এ ধরনের একটি ঘটনা আমাদের উস্তাদ হাকিম আবূ আবদুল্লাহ (র)-এর জীবনেও ঘটেছিল। কেননা তাঁর মুখে একবার ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা করলেন। কিন্তু এ ক্ষতটি কোনক্রমেই দূর হলো না, বরং এভাবে প্রায় একটি বছর গড়িয়ে চলল। একদিন তিনি ইমাম আবু উসমান সাবুনীকে শুক্রবারে অনুষ্ঠিত তাঁর বিশেষ মজলিসে দু'আ করতে অনুরোধ জানালেন। ইমাম তাঁর জন্য দু'আ করলেন এবং লোকেরা ঘন ঘন আমীন আমীন বলল। পরবর্তী শুক্রবারে জনৈক মহিলা ঐ মজলিসে একটি চিরকুট নিক্ষেপ করল, যাতে লিখা ছিল যে, মহিলাটি বাড়িতে ফিরে গিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে হাকিম আবু আবদুল্লাহর জন্য বিশেষভাবে দু'আ করেছিল। তারপর ঐ রাতে সে রাসূলুল্লাহ্ সা.-কে স্বপ্নে দেখল, তিনি যেন বলছেন: আবু আবদুল্লাহকে বল, সে যেন মুসলমানদের জন্য পানির সুব্যবস্থা করে দেয়। আমি চিরকূটটি নিয়ে আবু আবদুল্লাহর নিকট আসলাম। তিনি বাড়ির সম্মুখে একটি পানির হাউয তৈরি করার নির্দেশ দিলেন। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনি এতে পানি ও বরফ ফেলতে নির্দেশ দিলেন। আর লোকেরা এখান থেকে পানি পান করতে লাগল। তারপর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই তাঁর নিরাময় হওয়ার লক্ষণ দেখা দিল এবং ক্ষতটি শুকিয়ে গেল। তাঁর চেহারা পূর্বের তুলানায় অধিকতর সুন্দর হয়ে উঠল। এরপরও তিনি অনেক বছর বেঁচে ছিলেন।)
كتاب الصَّدقَات
التَّرْغِيب فِي إطْعَام الطَّعَام وَسقي المَاء والترهيب من مَنعه
1432- وَعَن عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق قَالَ سَمِعت ابْن الْمُبَارك وَسَأَلَهُ رجل يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن قرحَة خرجت فِي ركبتي مُنْذُ سبع سِنِين وَقد عَالَجت بأنواع العلاج وَسَأَلت الْأَطِبَّاء فَلم أنتفع بِهِ
قَالَ اذْهَبْ فَانْظُر موضعا يحْتَاج النَّاس المَاء فاحفر هُنَاكَ بِئْرا فَإِنِّي أَرْجُو أَن تنبع هُنَاكَ عين ويمسك عَنْك الدَّم فَفعل الرجل فبرأ
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَقَالَ وَفِي هَذَا الْمَعْنى حِكَايَة شَيخنَا الْحَاكِم أبي عبد الله رَحمَه الله فَإِنَّهُ قرح وَجهه وعالجه بأنواع المعالجة فَلم يذهب وَبَقِي فِيهِ قَرِيبا من سنة فَسَأَلَ الْأُسْتَاذ الإِمَام أَبَا عُثْمَان الصَّابُونِي أَن يَدْعُو لَهُ فِي مَجْلِسه يَوْم الْجُمُعَة فَدَعَا لَهُ وَأكْثر النَّاس التَّأْمِين فَلَمَّا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة الْأُخْرَى أَلْقَت امْرَأَة فِي الْمجْلس رقْعَة بِأَنَّهَا عَادَتْ إِلَى بَيتهَا وَاجْتَهَدت فِي الدُّعَاء للْحَاكِم أبي عبد الله تِلْكَ اللَّيْلَة فرأت فِي منامها رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَأَنَّهُ يَقُول لَهَا قولي لأبي عبد الله يُوسع المَاء على الْمُسلمين فَجئْت بالرقعة إِلَى الْحَاكِم فَأمر
بسقاية بنيت على بَاب دَاره وَحين فرغوا من بنائها أَمر بصب المَاء فِيهَا وَطرح الجمد فِي المَاء وَأخذ النَّاس فِي الشّرْب فَمَا مر عَلَيْهِ أُسْبُوع حَتَّى ظهر الشِّفَاء وزالت تِلْكَ القروح وَعَاد وَجهه إِلَى أحسن مَا كَانَ وعاش بعد ذَلِك سِنِين
قَالَ اذْهَبْ فَانْظُر موضعا يحْتَاج النَّاس المَاء فاحفر هُنَاكَ بِئْرا فَإِنِّي أَرْجُو أَن تنبع هُنَاكَ عين ويمسك عَنْك الدَّم فَفعل الرجل فبرأ
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَقَالَ وَفِي هَذَا الْمَعْنى حِكَايَة شَيخنَا الْحَاكِم أبي عبد الله رَحمَه الله فَإِنَّهُ قرح وَجهه وعالجه بأنواع المعالجة فَلم يذهب وَبَقِي فِيهِ قَرِيبا من سنة فَسَأَلَ الْأُسْتَاذ الإِمَام أَبَا عُثْمَان الصَّابُونِي أَن يَدْعُو لَهُ فِي مَجْلِسه يَوْم الْجُمُعَة فَدَعَا لَهُ وَأكْثر النَّاس التَّأْمِين فَلَمَّا كَانَ يَوْم الْجُمُعَة الْأُخْرَى أَلْقَت امْرَأَة فِي الْمجْلس رقْعَة بِأَنَّهَا عَادَتْ إِلَى بَيتهَا وَاجْتَهَدت فِي الدُّعَاء للْحَاكِم أبي عبد الله تِلْكَ اللَّيْلَة فرأت فِي منامها رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كَأَنَّهُ يَقُول لَهَا قولي لأبي عبد الله يُوسع المَاء على الْمُسلمين فَجئْت بالرقعة إِلَى الْحَاكِم فَأمر
بسقاية بنيت على بَاب دَاره وَحين فرغوا من بنائها أَمر بصب المَاء فِيهَا وَطرح الجمد فِي المَاء وَأخذ النَّاس فِي الشّرْب فَمَا مر عَلَيْهِ أُسْبُوع حَتَّى ظهر الشِّفَاء وزالت تِلْكَ القروح وَعَاد وَجهه إِلَى أحسن مَا كَانَ وعاش بعد ذَلِك سِنِين