আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

الجامع الصحيح للبخاري

৪৯- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৩ টি

হাদীস নং: ৩৫৫৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩১
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৪। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলি যুগে আশুরার দিন কুরাইশগণ ও নবী কারীম (ﷺ) রোযা পালন করতেন। যখন হিজরত করে মদীনায় আগমন করলেন, তখন তিনি নিজেও আশুরার রোযা পালন করতেন এবং অন্যকেও তা পালনে আদেশ দিতেন। যখন রমযানের রোযা ফরয করা হল, (তখন আশুরার রোযা ঐচ্ছিক করে দেওয়া হল)। তখন যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন আর যার ইচ্ছা রোযা রাখতেন না।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3831 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: «كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ، فِي الجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُهُ، فَلَمَّا قَدِمَ المَدِينَةَ صَامَهُ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ، فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ، وَمَنْ شَاءَ لاَ يَصُومُهُ»
হাদীস নং: ৩৫৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩২
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৫। মুসলিম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,হজ্জের মাসগুলোতে উমরা পালন করাকে কুরাইশগণ পাপ কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের নামকে পরিবর্তন করে সফর মাস নামে আখ্যায়িত করত এবং বলত, (উটের) যখম যখন শুকিয়ে যাবে এবং পদচিহ্ন মুছে যাবে তখন উমরা পালন করা হালাল হবে যারা তা পালন করতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সঙ্গী সাথীগণ যিলহজ্জ মাসের চতুর্থ তারিখে হজ্জের তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক) পড়তে পড়তে মক্কায় হাযির হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে বললেন, তোমরা (তোমাদের তালবীয়াকে উমরায় পরিণত করে নেও।) সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের জন্য কোন কোন বিষয় হালাল হবে? তিনি বললেন, যাবতীয় বিষয় হালাল হয়ে যাবে।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3832 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ العُمْرَةَ فِي أَشْهُرِ الحَجِّ مِنَ الفُجُورِ فِي الأَرْضِ، وَكَانُوا يُسَمُّونَ المُحَرَّمَ صَفَرًا، وَيَقُولُونَ: إِذَا بَرَا الدَّبَرْ، وَعَفَا الأَثَرْ، حَلَّتِ العُمْرَةُ لِمَنِ اعْتَمَرْ، قَالَ: «فَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ رَابِعَةً مُهِلِّينَ بِالحَجِّ، وَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الحِلِّ قَالَ: «الحِلُّ كُلُّهُ»
হাদীস নং: ৩৫৫৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৩
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৬। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব (রাহঃ) তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, জাহিলিয়্যাতের যুগে একটি মহা প্লাবন হয়েছিল। যদ্বারা মক্কায় দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। ‘সুফিয়ান (রাযিঃ) বলেন, আমর ইবনে দীনার বলতেন, এ হাদীসটির একটি দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3833 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: كَانَ عَمْرٌو يَقُولُ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «جَاءَ سَيْلٌ فِي الجَاهِلِيَّةِ فَكَسَا مَا بَيْنَ الجَبَلَيْنِ» - قَالَ سُفْيَانُ وَيَقُولُ: إِنَّ هَذَا لَحَدِيثٌ لَهُ شَأْنٌ -
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৫৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৪
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৭। আবু নু‘মান (রাহঃ) .... কাইস ইবনে আবু হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আবু বকর (রাযিঃ) আহমাস গোত্রের যায়নাব নামে জনৈক মহিলার নিকট গমন করলেন। তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, মহিলাটি কথাবার্তা বলছে না। তিনি (লোকজনকে) জিজ্ঞাসা করলেন, মহিলাটির এ অবস্থা কেন, কথাবর্তা বলছে না কেন? তারা তাঁকে জানালেন, এ মহিলা নীরব থেকে থেকে হজ্জ পালন করে আসছেন। আবু বকর (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, কথা বল, কেননা ইহা হালাল নয়। ইহা জাহিলিয়্যাত যুগের কাজ। তখন মহিলাটি কথাবর্তা বলল, জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? আবু বকর (রাযিঃ) উত্তরে বললেন, আমি একজন মুহাজির ব্যক্তি। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করল, আপনি কোন গোত্রের মুহাজির?
আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, কুরাইশ গোত্রের। মহিলাটি জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কুরাইশের কোন শাখার আপনি? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, তুমি তো অত্যধিক উত্তম প্রশ্নকারিণী। আমি আবু বকর। তখন মহিলাটি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, জাহিলিয়্যা যুগের পর যে উত্তম দ্বীন ও কল্যাণময় জীবন বিধান আল্লাহ আমাদেরকে দান করেছেন সে দ্বীনের উপর আমরা কতদিন সঠিকভাবে টিকে থাকতে পারব? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, যতদিন তোমাদের ইমামগণ তোমাদেরকে নিয়ে দ্বীনের উপর অবিচল থাকবেন। মহিলা জিজ্ঞাসা করল, ইমামগণ কারা? আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, তোমাদের গোত্রে ও সামাজে এমন সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কি দেখনি। যারা আদেশ করলে সকলেই তা মেনে চলে। মহিলা উত্তর দিল, হ্যাঁ। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, এরাই হলেন জনগণের ইমাম।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3834 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بَيَانٍ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ: دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ عَلَى امْرَأَةٍ مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا زَيْنَبُ، فَرَآهَا [ص:42] لاَ تَكَلَّمُ، فَقَالَ: «مَا لَهَا لاَ تَكَلَّمُ؟» قَالُوا: حَجَّتْ مُصْمِتَةً، قَالَ لَهَا: «تَكَلَّمِي، فَإِنَّ هَذَا لاَ يَحِلُّ، هَذَا مِنْ عَمَلِ الجَاهِلِيَّةِ» ، فَتَكَلَّمَتْ، فَقَالَتْ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: «امْرُؤٌ مِنَ المُهَاجِرِينَ» ، قَالَتْ: أَيُّ المُهَاجِرِينَ؟ قَالَ: «مِنْ قُرَيْشٍ» ، قَالَتْ: مِنْ أَيِّ قُرَيْشٍ أَنْتَ؟ قَالَ: «إِنَّكِ لَسَئُولٌ، أَنَا أَبُو بَكْرٍ» ، قَالَتْ: مَا بَقَاؤُنَا عَلَى هَذَا الأَمْرِ الصَّالِحِ الَّذِي جَاءَ اللَّهُ بِهِ بَعْدَ الجَاهِلِيَّةِ؟ قَالَ: «بَقَاؤُكُمْ عَلَيْهِ مَا اسْتَقَامَتْ بِكُمْ أَئِمَّتُكُمْ» ، قَالَتْ: وَمَا الأَئِمَّةُ؟ قَالَ: «أَمَا كَانَ لِقَوْمِكِ رُءُوسٌ وَأَشْرَافٌ، يَأْمُرُونَهُمْ فَيُطِيعُونَهُمْ؟» قَالَتْ: بَلَى، قَالَ: «فَهُمْ أُولَئِكِ عَلَى النَّاسِ»
হাদীস নং: ৩৫৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৫
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৮। ফারওয়া ইবনে আবুল মাগরা (রাহঃ) .... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের কোন এক গোত্রের জনৈকা (মুক্তিপ্রাপ্ত) কৃষ্ণকায় মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেন। (বসবাসের জন্য) মসজিদের পাশে ছিল তার একটি ছোট ঘর। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, সে আমাদের নিকট আসত এবং আমাদের সাথে (নানা রকমের) কথাবার্তা বলত, যখন তার কথাবার্তা শেষ হত তখন প্রায়ই বলতো, “ইয়াওমুল বিশাহ” (মনিমুক্তা খচিত হারের দিন) আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আশ্চার্যজনক ঘটনাবলীর একটি দিন জেনে রাখুন! আমার প্রতিপালক আমাকে কুফর এর দেশ থেকে নাজাত দিয়েছেন। সে এ কথাটি প্রায়ই বলত। একদিন আয়েশা (রাযিঃ) ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়াওমুল বিশাহ” কী?
তখন সে বলল, যে আমার মুনীবের পরিবারের জনৈক শিশু কন্যা ঘর থেকে বের হল। তার গলায় চামড়ার (উপর মনিমুক্তা খচিত) একটি হার ছিল। হারটি (ছিড়ে) গলা থেকে পড়ে গেল। তখন একটি চিল একে গোশতের টুকরা মনে করে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। তারা আমাকে হার চুরির সন্দেহে শাস্তি ও নির্যাতন করতে লাগল। শেষ পর্যন্ত তারা আমার লজ্জাস্থানে তল্লাশী চালাল। যখন তারা আমার চারপাশে ছিল এবং আমি চরম বিষাদে ছিলাম। এমন সময় একটি চিল কোথা থেকে উড়ে আসল এবং আমাদের মাথার উপর এসে হারটি ফেলে দিল। তারা হারটি তুলে নিল। তখন আমি বললাম, এটাই সেই হার, যে হার চুরির অপরাধে আমার উপর অপবাদ দিয়েছ, অথচ এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3835 - حَدَّثَنِي فَرْوَةُ بْنُ أَبِي المَغْرَاءِ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: " أَسْلَمَتِ امْرَأَةٌ سَوْدَاءُ لِبَعْضِ العَرَبِ وَكَانَ لَهَا حِفْشٌ فِي المَسْجِدِ، قَالَتْ: فَكَانَتْ تَأْتِينَا فَتَحَدَّثُ عِنْدَنَا، فَإِذَا فَرَغَتْ مِنْ حَدِيثِهَا قَالَتْ:
وَيَوْمُ الوِشَاحِ مِنْ تَعَاجِيبِ رَبِّنَا، ... أَلاَ إِنَّهُ مِنْ بَلْدَةِ الكُفْرِ أَنْجَانِي
فَلَمَّا أَكْثَرَتْ، قَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ: وَمَا يَوْمُ الوِشَاحِ؟ قَالَتْ: خَرَجَتْ جُوَيْرِيَةٌ لِبَعْضِ أَهْلِي، وَعَلَيْهَا وِشَاحٌ مِنْ أَدَمٍ، فَسَقَطَ مِنْهَا، فَانْحَطَّتْ عَلَيْهِ الحُدَيَّا، وَهِيَ تَحْسِبُهُ لَحْمًا، فَأَخَذَتْهُ فَاتَّهَمُونِي بِهِ فَعَذَّبُونِي، حَتَّى بَلَغَ مِنْ أَمْرِي أَنَّهُمْ طَلَبُوا فِي قُبُلِي، فَبَيْنَا هُمْ حَوْلِي وَأَنَا فِي كَرْبِي، إِذْ أَقْبَلَتِ الحُدَيَّا حَتَّى وَازَتْ بِرُءُوسِنَا، ثُمَّ أَلْقَتْهُ، فَأَخَذُوهُ، فَقُلْتُ لَهُمْ: هَذَا الَّذِي اتَّهَمْتُمُونِي بِهِ وَأَنَا مِنْهُ بَرِيئَةٌ "
হাদীস নং: ৩৫৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৬
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৫৯। কুতায়বা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী কারীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবধান! যদি তোমাদের শপথ করতে হয় তবে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করো না। লোকজন তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করত। তিনি বললেন, সাবধান! বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3836 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَلاَ مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلاَ يَحْلِفْ إِلَّا بِاللَّهِ» ، فَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَحْلِفُ بِآبَائِهَا، فَقَالَ: «لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ»
হাদীস নং: ৩৫৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৭
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬০। ইয়াহয়া ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (রাযিঃ) তার কাছে বলেছেন যে, কাসিম জানাযা বহনকালে আগে আগে চলতেন। জানাযা দেখলে তিনি দাঁড়াতেন না এবং তিনি বর্ণনা করছেন যে, আয়েশা (রাযিঃ) বলতেন, জাহিলী যুগে মুশরিকগণ জানাযা দেখলে দাঁড়াত এবং মৃত ব্যক্তির রূহকে লক্ষ্য করে বলত, তুমি তোমার আপনজনদের সাথেই রয়েছ যেমন তোমার জীবদ্দশায় ছিলে। এ কথাটি তারা দু’বার বলত।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3837 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ القَاسِمِ، حَدَّثَهُ: أَنَّ القَاسِمَ كَانَ يَمْشِي بَيْنَ يَدَيِ الجَنَازَةِ وَلاَ يَقُومُ لَهَا، وَيُخْبِرُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: " كَانَ أَهْلُ الجَاهِلِيَّةِ يَقُومُونَ لَهَا يَقُولُونَ إِذَا رَأَوْهَا: كُنْتِ فِي أَهْلِكِ مَا أَنْتِ مَرَّتَيْنِ "
হাদীস নং: ৩৫৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৮
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬১। আমর ইবনে আব্বাস (রাহঃ) .... আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, মুশরিকগণ সাবীর পাহাড়ের উপর সূর্যকিরণ পতিত না হওয়া পর্যন্ত মুয্দালাফা থেকে রওয়ানা হত না। নবী কারীম (ﷺ) সূর্যোদয়ের পূর্বে রওয়ানা হয়ে তাদের প্রথার বিরোধিতা করেন।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3838 - حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «إِنَّ المُشْرِكِينَ كَانُوا لاَ يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ، حَتَّى تَشْرُقَ الشَّمْسُ عَلَى ثَبِيرٍ، فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ»
হাদীস নং: ৩৫৬২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৩৯ - ৩৮৪০
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর বাণীঃ وَكَأْسًا دِهَاقًا এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, শরাব পরিপূর্ণ এবং একের পর এক পেয়ালা। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমার পিতা আব্বাস (রাযিঃ)- কে ইসলাম পূর্ব যুগে বলতে শুনেছি, আমাদেরকে পাত্রপূর্ণ শরাব একের পর এক পান করাও।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي أُسَامَةَ حَدَّثَكُمْ يَحْيَى بْنُ الْمُهَلَّبِ، حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، (وَكَأْسًا دِهَاقًا) قَالَ مَلأَى مُتَتَابِعَةً.
قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، فِي الْجَاهِلِيَّةِ اسْقِنَا كَأْسًا دِهَاقًا.
হাদীস নং: ৩৫৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৪১
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬৩। আবু নু‘য়াঈম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) বলেছেন, সর্বাধিক সঠিক বাক্য যা কোন কবি বলেছেন তা হল লাবীদ এর এ পংক্তিটি- সাবধান, আল্লাহ্ ব্যতীত সকল জিনিসই বাতিল ও অসার। এবং কবি উমাইয়্যা ইবনে আবু সালত (তার কথাবার্তার মধ্য দিয়ে) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছিল।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3841 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ المَلِكِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي [ص:43] هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَصْدَقُ كَلِمَةٍ قَالَهَا الشَّاعِرُ، كَلِمَةُ لَبِيدٍ:
[البحر الطويل]
أَلاَ كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلاَ اللَّهَ بَاطِلٌ ... وَكَادَ أُمَيَّةُ بْنُ أَبِي الصَّلْتِ أَنْ يُسْلِمَ "
হাদীস নং: ৩৫৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৪২
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬৪। ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রাযিঃ)- এর একজন ক্রীতদাস ছিল। সে প্রত্যহ তার উপর নির্ধারিত কর আদায় করত। আর আাবূ বকর (রাযিঃ) তার দেওয়া কর থেকে আহার করতেন। একদিন সে কিছু খাবার জিনিস এনে দিল। তা থেকে তিনি আহার করলেন। তারপর গোলাম বলল, আপনি জানেন কি উহা কিভাবে উপার্জন করা হয়েছে যা আপনি খেয়েছেন? তিনি বললেন, বলত ইহা কি? গোলাম উত্তরে বলল, আমি জাহিলী যুগে এক ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গণনা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ভবিষ্যৎ গণনা করা আমার উত্তমরূপে জানাছিল না। তথাপি প্রতারণামূলকভাবে ইহা করেছিলাম। (কিন্তু ভাগ্যচক্রে আমার গণনা সঠিক হল।) আমার সাথে তার সাক্ষাত হলে গণনার বিনিময়ে এ দ্রব্যাদি সে আমাকে হাদীয়া দিল যা থেকে আপনি আহার করলেন। আবু বকর (রাযিঃ) ইহা শোনামাত্র মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বমি করে দিলেন এবং পাকস্থলীর মধ্যে যা কিছু ছিল সবই বের করে দিলেন।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3842 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي أَخِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ القَاسِمِ، عَنِ القَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: " كَانَ لِأَبِي بَكْرٍ غُلاَمٌ يُخْرِجُ لَهُ الخَرَاجَ، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَأْكُلُ مِنْ خَرَاجِهِ، فَجَاءَ يَوْمًا بِشَيْءٍ فَأَكَلَ مِنْهُ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَ لَهُ الغُلاَمُ: أَتَدْرِي مَا هَذَا؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: كُنْتُ تَكَهَّنْتُ لِإِنْسَانٍ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَمَا أُحْسِنُ الكِهَانَةَ، إِلَّا أَنِّي خَدَعْتُهُ، فَلَقِيَنِي فَأَعْطَانِي بِذَلِكَ، فَهَذَا الَّذِي أَكَلْتَ مِنْهُ، فَأَدْخَلَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ، فَقَاءَ كُلَّ شَيْءٍ فِي بَطْنِهِ "
হাদীস নং: ৩৫৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৪৩
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬৫। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসলাম পূর্ব যুগের মানুষ ‘হাবালুল হাবালা’ রূপে উটের গোশত ক্রয়-বিক্রয় করত। রাবী বলেন, হাবালুল হাবালার অর্থ হল- তারা উট ক্রয়-বিক্রয় করত এই শর্তে যে, কোন নির্দিষ্ট গর্ভবতী উটনী বাচ্চা প্রসব করলে পর ঐ প্রসবকৃত বাচ্চা যখন গর্ভবতী হবে তখন উটের মূল্য পরিশোধ করা হবে। নবী কারীম (ﷺ) তাদেরকে এরূপ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করে দিলেন।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3843 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: " كَانَ أَهْلُ الجَاهِلِيَّةِ يَتَبَايَعُونَ لُحُومَ الجَزُورِ إِلَى حَبَلِ الحَبَلَةِ، قَالَ: وَحَبَلُ الحَبَلَةِ أَنْ تُنْتَجَ النَّاقَةُ مَا فِي بَطْنِهَا، ثُمَّ تَحْمِلَ الَّتِي نُتِجَتْ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ "
হাদীস নং: ৩৫৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৪৪
- নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদঃ ২১৩৬. জাহিলিয়্যাতের (ইসলাম পূর্ব) যুগ
৩৫৬৬। আবু নু‘মান (রাহঃ) .... গায়লান ইবনে জারীর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, আমরা আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)- এর নিকট গেলে তিনি আমাদের কাছে আনসারদের ঘটনা বর্ণনা করতেন। রাবী বলেন, আমাকে লক্ষ্য করে তিনি বলতেন, তোমার স্বজাতি অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে, অমুক অমুক দিন অমুক অমুক কাজ করেছে।
كتاب المناقب
باب أَيَّامِ الْجَاهِلِيَّةِ
3844 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، قَالَ غَيْلاَنُ بْنُ جَرِيرٍ: كُنَّا نَأْتِي أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، فَيُحَدِّثُنَا عَنِ الأَنْصَارِ، " وَكَانَ يَقُولُ لِي: فَعَلَ قَوْمُكَ كَذَا وَكَذَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، وَفَعَلَ قَوْمُكَ كَذَا وَكَذَا يَوْمَ كَذَا وَكَذَا "