আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

الجامع الصحيح للبخاري

১৩- বিতর নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৪ টি

হাদীস নং: ৯৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯০ - ৯৯১
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৮. বিতর নামাযের অধ্যায়ঃ বিতরের বিবরণ।
৯৩৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রাতের নামায দু’ দু’(রাকআত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশঙ্কা করে, সে যেন এক রাকআত মিলিয়ে নামায আদায় করে নেয়। আর সে যে নামায আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে।
নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বিতর নামাযের এক ও দু’রাকআতের মাঝে সালাম ফিরাতেন। এরপর কাউকে কোন প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন।*

*বিতর নামায এর রাক'আত সংখ্যা, দু' রাক'আত-এর পর সালাম ফিরানো তার সঙ্গে পরে এক রাক'আত যোগ করা এবং এক রাক'আত বিতর, ৩ রাক'আত বিতর, ৫ রাক'আত, ৯ রাক'আত, ১১ রাক'আত ও ১৩ রাক'আত বিতর সংক্রান্ত সহীহ হাদীসগুলোতেই প্রচুর বিরোধ রয়েছে। এতদসংক্রান্ত সর্বাধিক সংখ্যক সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে সুনানে নাসাঈ শরীফে। তাতে ১৭০০ নং থেকে ১৭০৮ পর্যন্ত ৯টি সহীহ হাদীস এ মর্মে বিদ্যমান যে, মহানবী (ﷺ) তিন রাক'আত বিতর পড়তেন এবং কোন রাক'আতে কোন সূরা পড়তেন তা-ও বিদ্যমান। এ ছাড়া অপরাপর গ্রন্থেও তিন রাক'আত বিতর-এর বর্ণনা রয়েছে। এমতাস্থায় একজন মুসলমান বা সাধারণ পাঠকের সামনে এসবের সমন্বয় তথা ফিকহ্ জ্ঞান-এর বিকল্প নেই। এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে, হাদীসের এসব গ্রন্থ যারা রচনা করেছেন তাঁদের জন্ম থেকে ১০০-১৫০ বছর পূর্বে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এর জন্ম। যে কারণে তিনি সাহাবা ও তাবেয়ীগণের বাস্তব কর্মপন্থা ও পরস্পর চলে আসা আচরিত রীতি অনুসরণে বলেছেন "এক রাক'আত বিতর কোনো অবস্থাতেই সঠিক নয়। কেননা এক রাক'আত বলতে কোন নামাযই নেই" "আল্লামা ইবনুল হুমাম (রাহঃ) ইমাম তাহাবী সূত্রে মদীনা শরীফের তৎকালীন প্রসিদ্ধ ৭ জন ফকীহ- সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব, 'উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ, আবু বকর ইবনে 'আব্দুর রহমান, খারেজা ইবনে যায়দ, 'উবাইদুল্লাহ ইবনে 'আব্দুল্লাহ ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) এর বাস্তব আমলও তিন রাকআত বিতর বলে বর্ণনা করেছেন। যে বাস্তব আমল সম্পর্কে খোদ ইমাম বুখারী বর্ণিত এ অধ্যায়ের ৯৩৯ নং হাদীসও সাক্ষী। (মূল আরবী সংস্করণ বুখারী শরীফ -এর টীকা নং- ৭ ও ৮, খ-১, পৃ-১৩৫ দ্রষ্টব্য; নাসাঈ শরীফ খ-২, পৃ- ৩৭৯-৩৮২, ইফা ঢাকা)
أبواب الوتر
أبواب الوتر باب مَا جَاءَ فِي الْوِتْرِ
990 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ عَلَيْهِ السَّلاَمُ: «صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى»
991 - وَعَنْ نَافِعٍ: أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ: «كَانَ يُسَلِّمُ بَيْنَ الرَّكْعَةِ وَالرَّكْعَتَيْنِ فِي الوِتْرِ حَتَّى يَأْمُرَ بِبَعْضِ حَاجَتِهِ»
হাদীস নং: ৯৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯২
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৮. বিতর নামাযের অধ্যায়ঃ বিতরের বিবরণ।
৯৩৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার খালা উম্মুল মু’মিনীন মাইমুনা (রাযিঃ) এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী (ﷺ) রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ দূর করেন। পরে তিনি সূরা আলে ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর নবী (ﷺ) একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গেলেন এবং উযু করলেন। এরপর তিনি নামাযে দাঁড়ালেন। আমিও তার মতই করলাম এবং তার পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। এরপর তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। এরপর দু’রাকআত, এরপর দু’রাকআত, এরপর দু’রাকআত, এরপর দু’রাকআত, এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন তার কাছে এলো। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।
أبواب الوتر
أبواب الوتر باب مَا جَاءَ فِي الْوِتْرِ
992 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ وَهِيَ خَالَتُهُ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ وِسَادَةٍ «وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَرِيبًا مِنْهُ - فَاسْتَيْقَظَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ قَرَأَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ، فَتَوَضَّأَ، فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي» ، فَصَنَعْتُ مِثْلَهُ، فَقُمْتُ إِلَى جَنْبهِ، «فَوَضَعَ يَدَهُ اليُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ المُؤَذِّنُ، فَقَامَ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ، فَصَلَّى الصُّبْحَ»
হাদীস নং: ৯৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৩
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৮. বিতর নামাযের অধ্যায়ঃ বিতরের বিবরণ।
৯৩৯। ইয়াহয়া ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রাতের নামায দু’ দু’ রাক'আত করে। তারপর যখন তুমি নামায শেষ করতে চাবে, তখন এক রাকআত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববতী নামাযকে বিতর করে দিবে।
কাসিম (রাহঃ) বলেন, আমরা সাবালক হয়ে লোকদের তিন রাকআত বিতর আদায় করতে দেখেছি। উভয় নিয়মেই অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি এর কোনটিই দোষনীয় নয়।
أبواب الوتر
أبواب الوتر باب مَا جَاءَ فِي الْوِتْرِ
993 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الحَارِثِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ القَاسِمِ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى [ص:25] مَثْنَى، فَإِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَنْصَرِفَ، فَارْكَعْ رَكْعَةً تُوتِرُ لَكَ مَا صَلَّيْتَ» قَالَ القَاسِمُ: «وَرَأَيْنَا أُنَاسًا مُنْذُ أَدْرَكْنَا يُوتِرُونَ بِثَلاَثٍ، وَإِنَّ كُلًّا لَوَاسِعٌ أَرْجُو أَنْ لاَ يَكُونَ بِشَيْءٍ مِنْهُ بَأْسٌ»
হাদীস নং: ৯৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৪
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৮. বিতর নামাযের অধ্যায়ঃ বিতরের বিবরণ।
৯৪০। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এগার রাকআত নামায আদায় করতেন। এ ছিল তার রাত্রিকালীন নামায। এতে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তার মাথা উঠাবার আগে তোমাদের কেউ ৫০ আয়াত পড়তে পারে এবং ফজরের নামাযের আগে তিনি আরো দু’রাকআত পড়তেন। তারপর ডান কাত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম করতেন, নামাযের জন্য মুয়াযযিনের আসা পর্যন্ত।
أبواب الوتر
أبواب الوتر باب مَا جَاءَ فِي الْوِتْرِ
994 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، كَانَتْ تِلْكَ صَلاَتَهُ - تَعْنِي بِاللَّيْلِ - فَيَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ، وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ، ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأْتِيَهُ المُؤَذِّنُ لِلصَّلاَةِ»
হাদীস নং: ৯৪১
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৫
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৯. বিতরের সময়।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) আমাকে ঘুমানোর আগে বিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
৯৪১। আবু নুমান (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বললাম, ফজরের পূর্বের দু’রাক'আতে আমি কিরাআত দীর্ঘ করব কি না, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) দু’ দু’ রাক'আত করে নামায আদায় করতেন এবং এক রাক'আত মিলিয়ে বিতর পড়তেন। এরপর ফজরের নামাযের পূর্বে তিনি দু’রাক'আত এমন সময় আদায় করতেন যেন একামতের শব্দ তার কানে আসছে।
রাবী হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, অর্থাৎ দ্রুততার সাথে। (সংক্ষিপ্ত কিরাআতে)
أبواب الوتر
باب سَاعَاتِ الْوِتْرِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَوْصَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْوِتْرِ قَبْلَ النَّوْمِ
995 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ: أَرَأَيْتَ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الغَدَاةِ أُطِيلُ فِيهِمَا القِرَاءَةَ، فَقَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ، وَيُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الغَدَاةِ، وَكَأَنَّ الأَذَانَ بِأُذُنَيْهِ» قَالَ حَمَّادٌ: أَيْ سُرْعَةً
হাদীস নং: ৯৪২
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৬
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬২৯. বিতরের সময়।
৯৪২। উমর ইবনে হাফস (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন।
أبواب الوتر
باب سَاعَاتِ الْوِتْرِ
996 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُسْلِمٌ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كُلَّ اللَّيْلِ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ»
হাদীস নং: ৯৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৭
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩০. বিতরের জন্য নবী করীম (ﷺ) কর্তৃক তার পরিবারবর্গকে জাগানো।
৯৪৩। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (রাতে) নামায আদায় করতেন, তখন আমি তার বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। এরপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম।
أبواب الوتر
باب إِيقَاظِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَهْلَهُ بِالْوِتْرِ
997 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةً عَلَى فِرَاشِهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي، فَأَوْتَرْتُ»
হাদীস নং: ৯৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৮
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩১. রাতের সর্বশেষ নামায যেন বিতর হয়।
৯৪৪। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ নামায করবে।
أبواب الوتر
باب لِيَجْعَلْ آخِرَ صَلاَتِهِ وِتْرًا
998 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا»
হাদীস নং: ৯৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯৯৯
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩২. সওয়ারী জন্তুর উপর বিতরের নামায।
৯৪৫। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে মক্কার পথে সফর করছিলাম। সাঈদ (রাহঃ) বলেন, আমি যখন ফজর হওয়ার আশঙ্কা করলাম, তখন সওয়ারী থেকে নেমে পড়লাম এবং বিতরের নামায আদায় করলাম। এরপর তার সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, ভোর হওয়ার আশঙ্কা করে লাফ দিয়ে নেমে বিতর আদায় করেছি। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে কি তোমার জন্য উত্তম আদর্শ নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটের পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতরের নামায আদায় করতেন।
أبواب الوتر
باب الْوِتْرِ عَلَى الدَّابَّةِ
999 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ: كُنْتُ أَسِيرُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ، فَقَالَ سَعِيدٌ: فَلَمَّا خَشِيتُ الصُّبْحَ نَزَلْتُ، فَأَوْتَرْتُ، ثُمَّ لَحِقْتُهُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: أَيْنَ كُنْتَ؟ فَقُلْتُ: خَشِيتُ الصُّبْحَ، فَنَزَلْتُ، فَأَوْتَرْتُ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: أَلَيْسَ لَكَ فِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِسْوَةٌ حَسَنَةٌ؟ فَقُلْتُ: بَلَى وَاللَّهِ، قَالَ: «فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُوتِرُ عَلَى البَعِيرِ»
হাদীস নং: ৯৪৬
আন্তর্জাতিক নং: ১০০০
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৩. সফর অবস্থায় বিতর।
৯৪৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সফরে ফরজ নামায ব্যতীত তার সওয়ারীতে থেকেই ইশারায় রাতের নামায আদায় করতেন। সওয়ারী যেদিকেই ফিরুক না কেন, আর তিনি বাহনের উপরেই বিতর আদায় করতেন।
أبواب الوتر
باب الْوِتْرِ فِي السَّفَرِ
1000 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:26] يُصَلِّي فِي السَّفَرِ عَلَى رَاحِلَتِهِ، حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ يُومِئُ إِيمَاءً صَلاَةَ اللَّيْلِ، إِلَّا الفَرَائِضَ وَيُوتِرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ»
হাদীস নং: ৯৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ১০০১
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৪. রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা।
৯৪৭। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ফজরের নামাযে নবী (ﷺ) কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল তিনি কি রুকূর আগে কুনূত পড়েছেন? তিনি বললেন, কিছুদিন রুকূর পরে পড়েছেন।
أبواب الوتر
باب الْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ
1001 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: أَقَنَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصُّبْحِ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَقِيلَ لَهُ: أَوَقَنَتَ قَبْلَ الرُّكُوعِ؟ قَالَ: «بَعْدَ الرُّكُوعِ يَسِيرًا»
হাদীস নং: ৯৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ১০০২
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৪. রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা।
৯৪৮। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কুনূত অবশ্যই পড়া হত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, রুকূ’র আগে, না পরে? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আসিম (রাহঃ) বললেন, অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার বরাত দিয়ে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন, রুকুর পরে। তখন আনাস (রাযিঃ) বলেন, সে ভুল বলেছে। রাসূল (ﷺ) রুকূর পরে একমাস ব্যাপি কুনূত পাঠ করেছেন। আমার জানামতে, তিনি সত্তর জন সাহাবীর একটি দল, যাদের কুররা (অভিজ্ঞ ক্বারীগণ) বলা হতো, মুশরিকদের কোন এক কওমের উদ্দেশ্যে পাঠান। এরা সেই কওম নয়, যাদের বিরুদ্ধে রাসূল (ﷺ) বদদু'আ করেছিলেন। বরং তিনি একমাসব্যাপি কুনূতে সেসব কাফিরদের জন্য বদদু'আ করেছিলেন যাদের সাথে তার চুক্তি ছিল এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ করে ক্বারীগণকে হত্যা করেছিল।
أبواب الوتر
باب الْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ
1002 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنِ القُنُوتِ، فَقَالَ: قَدْ كَانَ القُنُوتُ قُلْتُ: قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: قَبْلَهُ، قَالَ: فَإِنَّ فُلاَنًا أَخْبَرَنِي عَنْكَ أَنَّكَ قُلْتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ، فَقَالَ: «كَذَبَ إِنَّمَا قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ الرُّكُوعِ شَهْرًا، أُرَاهُ كَانَ بَعَثَ قَوْمًا يُقَالُ لَهُمْ القُرَّاءُ، زُهَاءَ سَبْعِينَ رَجُلًا، إِلَى قَوْمٍ مِنَ المُشْرِكِينَ دُونَ أُولَئِكَ، وَكَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ، فَقَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَيْهِمْ»
হাদীস নং: ৯৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ১০০৩
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৪. রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা।
৯৪৯। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একমাস ব্যাপী রি’ল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) কুনূতে দুআ পাঠ করেছিলেন।
أبواب الوتر
باب الْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ
1003 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «قَنَتَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا يَدْعُو عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ»
হাদীস নং: ৯৫০
আন্তর্জাতিক নং: ১০০৪
- বিতর নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৬৩৪. রুকুর আগে ও পরে কুনূত পাঠ করা।
৯৫০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাগরিব ও ফজরের নামাযে কুনূত পাঠ করা হত।
أبواب الوتر
باب الْقُنُوتِ قَبْلَ الرُّكُوعِ وَبَعْدَهُ
1004 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ القُنُوتُ فِي المَغْرِبِ وَالفَجْرِ»