Blog Writer Image

আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ.

লেখক

জীবনবৃত্তান্ত

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ.


১৩০৫ হিঃ, ১৩৬৯ হিঃ, ১৮৮৮ ইং, ১৯৪৯ খ্রী:


পবিত্র জন্ম

১৩০৫ হিজরীর ১০ মুহাররামুল হারাম পবিত্র আশুরার দিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তখন হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. এর সম্মানিত পিতা মাওলানা ফযলুর রহমান উসমানী রহ. বেরেলী এলাকায় ডেপুটি ইনসপেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানেই হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. এর জন্ম।


সম্মানিত পিতা ও বংশ

হযরতের সম্মানিত পিতা মাওলানা ফযলুর রহমান উসমানী ছাহেব রহ. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম ছাহেব নানূতভী রহ. এর সাথে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠায় শরীক ছিলেন। তাঁর পুরো জীবন ইলমী জীবন ছিল।


চাকুরীতে পেনশন লাভের পর তিনি দেওবন্দের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান এবং ১২৮৩ হিঃ হতে ১৩২৫ হিঃ পর্যন্ত টানা ৪২ বৎসর দারুল উলূমের খেদমত আঞ্জাম দেন।


হযরতের বংশধারা হযরত উসমান যুন নূরাঈনের রাযি. সাথে গিয়ে মিলিত হয়। এ জন্যই তাঁর নামের সাথে “উসমানী" লেখা হয়।


প্রাথমিক শিক্ষা

১৩১১ হিজরীতে হযরতের বিসমিল্লাহ অনুষ্ঠান হয়। দারুল উলুম দেওবন্দের হিফয বিভাগের শিক্ষক হাফেয মুহাম্মাদ আযীম ছাহেব রহ. হযরতের বিসমিল্লাহ করান এবং তাঁর মাথায় পাগড়ী বেঁধে দেন।


উর্দু ভাষার প্রাথমিক কিতাবাদি পাঠ করার পর হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াসীন ছাহেব রহ. (হযরত মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. এর পিতা) এর নিকট ফার্সী ভাষার কিতাবসমূহ পাঠ করেন।


১৩১৮ হিঃ মুতাবিক ১৯০০ খ্রীস্টাব্দে আরবী ভাষা শেখা আরম্ভকরেন এবং ১৩২৫ হিঃ মুতাবিক ১৯০৮ খ্রীস্টাব্দে সমস্ত ছাত্রদের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করে পুঁথিগত বিদ্যা সমাপ্ত করেন।


বিস্ময়কর মেধা

ছাত্র যমানা হতেই হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. এর বিস্ময়কর মেধা ও ঈর্ষণীয় পাণ্ডিত্যের সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তিনি ছাত্র থাকা অবস্থাতেই ছাত্রদেরকে ইলমুল মানতিক তথা যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থসমূহ পড়াতেন। কেমন যেন তালেবে ইলমীর যমানায় তিনি ছাত্রও ছিলেন আবার শিক্ষকও ছিলেন!!


সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ

হযরতের অনেক শিক্ষক ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে সব থেকে বড় শিক্ষক হলেন শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ.। যেমন বৃক্ষ তেমন ফল।


এছাড়া যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনে মাওলানা গোলাম রাসূল ছাহেব রহ., হাকীম মুহাম্মাদ হাসান ছাহেব রহ., জনাব মুন্সী মানযূর আহমাদ ছাহেব রহ., ইয়াসীন ছাহেব শেরকোটী রহ., প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। সকল শিক্ষকই তাঁকে খুব স্নেহ করতেন।


শিক্ষকতার সূচনা

১৩২৫ হিজরীতে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পর কয়েক মাস দারুল উলুম দেওবন্দে দরস দেন। অতঃপর ভারতের রাজধানী দিল্লীর ফতেহপুরী মাদরাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দান করেন।


হযরতের দুই পুরানো বন্ধু ইমামুল মাকূলাত মাওলানা ইবরাহীম বলয়াভী রহ. ও মাওলানা আব্দুস সামী ছাহেবও রহ. ঘটনাক্রমে ঐ মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে পৌঁছে যান। এভাবে তিন পুরানো বন্ধু এক সাথে হয়ে যান।


এ বছরই হযরতের সম্মানিত পিতা মাওলানা ফযলুর রহমান ছাহেবের ইন্তিকাল হয়ে যায়। তখন হযরতের বয়স ২০ বছর।


দারুল উলূম দেওবন্দের দস্তারবন্দী জলসা এবং এতে মাওলানার ঐতিহাসিক ভাষণ

১৩২৮ হিঃ মুতাবিক ১৯১০ খ্রীস্টাব্দে দারুল উলূম দেওবন্দের ঐতিহাসিক দস্তারবন্দী জলসা হয়েছিল। এই জলসার মাধ্যমে দারুল উলূমের অসাধারণ প্রসিদ্ধি ও সুখ্যাতির সূর্য চরম শিখরে পৌঁছে। হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. এর ১ম ভাষণ ঐ জলসাতেই হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এক জন বুযুর্গ বলেছিলেন: "শাব্বীরের তো মাশাআল্লাহ ভালো ভাষণের ঢং এসে গেছে"।


তখন কে জানত যে, এই শাব্বীরই কদিন পর দেশসেরা খতীব ও তুলনাহীন বক্তা হবে।


দারুল উলুম দেওবন্দে নিয়মতান্ত্রিক উসতায হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তি

ঐ ১৩২৮ হিজরীতেই তাঁর উসতায হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. এবং দারুল উলূমের অন্যান্য দায়িত্বশীল শিক্ষকবৃন্দ দারুল উলূমের এক জন সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে তাঁকে নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ দান করেন।


শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ দরসসমূহ হযরতের দায়িত্বে ছিল। পাঁচ বছর পর যখন হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. ১৩৩৩ হিজরীতে হিজাযে মুকাদ্দাসের সফর করেন। তখন এরপর থেকে বিশেষ করে মুসলিম শরীফের দরস তাঁরই দায়িত্বে ছিল। সারা দেশের দরসী পরিমণ্ডলে যে দরসের দারুণ খ্যাতি ছিল।


মুরাদাবাদে মু'তামারুল আনসারের জলসা এবং শাইখুল ইসলামের অসাধারণ প্রবন্ধ পাঠ

শাওয়াল ১৩২৮ হিঃ মুতাবিক এপ্রিল ১৯১১ ইং মু'তামারুল আনসার মুরাদাবাদের আযীমুশ শান জলসায় মরহুম বিপ্লবী আলেম মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধীর নির্দেশে হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. নিজ প্রসিদ্ধ প্রবন্ধ "আল ইসলাম" পাঠ করেন। এ প্রবন্ধে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব, তাউহীদ ও রিসালাত, হাশর-নাশর, ফেরেশতাদের অস্তিত্বের প্রমাণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে নতুন মুহাক্কিকানা রংয়ে আলোচনা করা হয়। ঐ সময় ও পরিবেশের বিচারে প্রবন্ধটি ছিল চমৎকার সময়োপযোগী। ইলমী দুনিয়ায় তাই প্রবন্ধটির খুব প্রশংসা করা হয়। হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. এর বক্তৃতা ও লিখনীর শক্তির ব্যাপারে সারা দেশে হৈ চৈ পড়ে যায়।


العقل والنقل এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ

১৩৩৩ হি: মুতাবিক ১৯১৬ ইং العقل والنقل (আল আকল ওয়ান নকল) নামে হযরত অনবদ্য একটি নিবন্ধ লিখেন। এতে দারুণ চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে এটা প্রমাণ করা হয়েছে যে, সুস্থ আকল ও সহীহ নকলের মধ্যে কখনো মতপার্থক্য হতে পারে না। আর কখনো আকল বা বিবেকের দুর্বলতা বা নকলের শুদ্ধতায় কমতির কারণে মতপার্থক্য সামনে এসে গেলে এটার ফয়সালা কিভাবে করতে হবে? ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে এটা খুব সুন্দর যুগোপযোগী একটি রচনা ছিল।


হযরতের রচনাসমূহ 

১. তাফসীরে উসমানী

অত্যন্ত جامع একটি তাফসীর। অধ্যয়নের পর যেটার বৈশিষ্ট্যসমূহ বুঝে আসে। প্রায় সাড়ে তিন বৎসর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ডাভেলে থাকাকালীন সময়ে হযরতওয়ালা এ তাফসীরটি সম্পন্ন করেন। হিজরী সন ছিল ১৩৫০। ১৩৫৫ হিজরীতে বিজনৌর এর মদীনা প্রেস হতে এর প্রথম এডিশন প্রকাশিত হয়।


যুগের বিস্ময় মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীও রহ. এর থেকে উপকৃত হতেন। বিশেষত "মুশকিলাতুল কুরআন" এর ব্যাপারে।


শুধু তাই নয়, হযরত কাশ্মীরী রহ. এ মন্তব্যও করেছেন যে, মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী এ তাফসীর লিখে দুনিয়ায়ে ইসলামের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন।


হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন শাইখুল ইসলাম মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন। ঐ সময় হযরত হাকীমুল উম্মাত রহ. বলেন: আমি আমার পুরো কুতুবখানা ওয়াকফ করে দিয়েছি। শুধুমাত্র দুটি কিতাব যাকে আমি সব থেকে বেশি মহব্বত করি নিজের কাছে রেখে দিয়েছি। একটি হল আপনার তাফসীর ওয়ালা কুরআনে মাজীদ। আর অপরটি  جمع الفوائد 

এছাড়াও মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধী রহ. মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. মাওলানা সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. প্রমুখ এর উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন।


২. ফাতহুল মুলহিম শরহু সহীহ মুসলিম

সহীহ মুসলিম যাকে সহীহ বুখারীর পর সব থেকে মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব হিসেবে গণ্য করা হয়। এটা তারই আরবী ভাষ্য। হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. বছরের পর বছর দারুল উলুম দেওবন্দে সহীহ মুসলিমের শানদার দরস দিয়েছেন। সম্ভবত তখন তিনি এ শরাহ লেখা শুরু করে দিয়েছিলেন। হযরতের জীবদ্দশায় হায়দারাবাদের নিযামের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশাল ৩টি খন্ড মুদ্রিত হয়। তৃতীয় খণ্ড أبواب النكاح এর উপর শেষ হয়। চতুর্থ খণ্ডের সূচনা کتاب الرضاع থেকে হয়।


কিন্তু পরবর্তীতে হযরতের নানামুখী দ্বীনী ব্যস্ততার দরূন এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অসমাপ্ত থেকে যায়।


ফাতহুল মুলহিমের ব্যাপারে হাযরাতুল উসতায আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. হযরত মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান উসমানী রহ., (মুহতামিম দারুল উলুম দেওবন্দ) এবং প্রসিদ্ধ গবেষক আলেম আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ যাহেদ কাউছারী রহ., ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।


আল্লাহ তা'আলা উত্তম বদলা দান করুন শাইখুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরসূরী, এ যুগের শাইখুল ইসলাম, আমার দাদা উসতাদ, আল্লামা তাকী উসমানী ছাহেব হাফিযাহুল্লাহ কে, যিনি অবশিষ্ট খণ্ডগুলোর কাজ সুন্দরভাবে শেষ করে উম্মাতে মুসলিমার উপর বিশাল অনুগ্রহ করেছেন। فَجَزَاهُ اللَّهُ عَنِ الْمُسْلِمِينَ خَيْرَ الْجَزَاءِ 


হযরতের প্রসিদ্ধ রচনাসমূহ


৩. سجود الشمس ৪. الشهاب ৫. إعجاز القرآن ৬. الدار الآخرة ৭. الروح في القرآن ৮ .خوارق عادات ৯. حجاب شرعی ১০. العقل والنقل .


সন্তানহীনতা

ব্যক্তিগত জীবনে হযরত শাইখুল ইসলাম রহ. নিঃসন্তান ছিলেন। এজন্য মাঝে মধ্যে হৃদয় মাঝে ব্যথা অনুভব করতেন। অবশেষে আপন ছোট ভাই ফযলে হক ছাহেবের বাচ্চাকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু অল্প বয়সেই তার ইন্তিকাল হয়ে যায়। এরপর উল্লিখিত ভাইয়ের মেয়ে মুনীবা খাতুনের লালন পালনের দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। বরং এ মেয়েটির পিতা মাতাই তাকে হযরতের খেদমতে লালন পালনের জন্য পেশ করে দেন।


ফলশ্রুতিতে হযরত তার লালন পালন এবং বিবাহের সমস্ত খরচ বহন করেন। প্রতি মাসে আদরের এ ভাতিজীকে মোটা অংকের হাত খরচ দিতেন। এমনকি দেওবন্দে তাঁর জন্য একটি সুন্দর বাড়ীও তৈরী করে দেন।


মুদাররিস হিসেবে আল্লামা উসমানী

আল্লামা উসমানী রহ. ছিলেন অদ্বিতীয় মুদাররিস। ছাত্র মহলে তাঁর দরসের ব্যাপক সুনাম ছিল। তিনি জটিল থেকে জটিল বিষয়গুলো পানির মত সহজ করে বুঝিয়ে দিতেন। যেটা সব শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব হয় না।


১৯০৮ খ্রী: হতে নিয়ে ১৯৪৫ খ্রী: পর্যন্ত টানা ৩৭ বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে পাঠ দান করেন। তিনি মাদারে ইলমী দারুল উলূম দেওবন্দ, মাদরাসায়ে আরাবিয়া ফতেহপুরী দিল্লী, জামি'আ ইসলামিয়া ডাভেল, গুজরাট ইত্যাদি বড় বড় মাদরাসায় হাদীস, তাফসীর, ফিক্‌হ, মানতিক, দর্শন, এবং ইলমে কালামের দরস প্রদান করেন।


দারুল উলূম দেওবন্দ হতে চলে যাওয়া

১৯৪২ খ্রীস্টাব্দে বৃটিশ শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে উঠে। দারুল উলূমের ছাত্ররাও এতে অংশগ্রহণ করে। আল্লামা কয়েকজন ছাত্রকে মাদরাসা হতে বের করে দেন। এতে ফেতনাবাজ কিছু মানুষ বিশৃঙ্খলা আরম্ভ করে।

দারুল উলূমের ইন্তিযামিয়া কমিটির চাপে আল্লামা বাধ্য হয়ে ঐ ছাত্রদের জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু হযরতের দিল দারুল উলূম থেকে উঠে যায়। ফলে তিনি ইস্তফা দিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি ডাভেল চলে যান এবং সহীহ বুখারী ও জামে তিরমিযী এর দারস দান করেন।


হযরত উসমানী রহ. ও মুসলিম লীগ

হিন্দুস্তানের উলামায়ে কেরাম দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। ১. জমিয়তে উলামা, ২. মুসলিম লীগ। জমিয়তের বড় বড় আলেম কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। অপরদিকে হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ কংগ্রেস বিরোধী ছিলেন।


শাইখুল ইসলাম রহ. হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভীর রহ. রাজনৈতিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হয়ে প্রকাশ্যে মুসলিম লীগে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে দেন। এর দ্বারা মুসলিম লীগ ভীষণ উজ্জীবিত হয়ে উঠে।


বাস্তব সত্য কথা হচ্ছে এই যে, যদি শাইখুল ইসলাম ছাহেব রহ. মুসলিম লীগে যোগদান না করতেন, তাহলে মুসলমানদেরকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আবাদ করা মুশকিল হয়ে যেত।


করাচীতে স্বাধীন পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন

১৯৪৭ খ্রীস্টাব্দের ১৪ আগষ্ট যেদিন পাকিস্তান একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে, সেদিন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচীতে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. আর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) ঢাকায় স্বাধীন পাকিস্তানের পতাকা উঠিয়েছিলেন হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর ভাগিনা ও খলীফা হযরত মাওলানা যফর আহমাদ উসমানী রহ.।


ইন্তিকাল

শেষ জীবনে একের পর এক রোগ ব্যাধি হযরতকে দুর্বল করে ফেলেছিল। হাঁটুর ব্যাথায় তিনি অনেক কাহিল হয়ে পড়েন। কুদরতে ইলাহী তাঁর দ্বারা যতটুকু কাজ নেয়ার সেটা নিয়ে নেয়। অবশেষে ১৩৬৯ হিজরীর ২১ সফর মুতাবিক ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ খ্রীস্টাব্দ মঙ্গলবার ১১:৪০ মিনিটে ইলম ও জ্ঞানের এ সূর্য চিরকালের জন্য ডুবে যায়। ইন্তিকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর ১ মাস ১২ দিন।


رَحِمَهُ اللهُ رَحْمَةً وَاسِعَةً



شبير أحمد العثماني (ت. 1369 هـ / 1949 م) هو عالم مسلم، من أهل الهند. تولّى منصب عضو بارز في حركة الخلافة عام 1333هـ / 1914 م. انتقل عام 1366 هـ / 1947 م إلى باكستان. توفي في 21 صفر 1369 هـ الموافق 13 كانون الأول 1949 م بمديرية بهاول بور بباكستان ودفن بكراتشي. من آثاره: «التفسير العثماني» وهي عبارة عن حواش وتعليقات على ترجمة محمود حسن الديوبندي الأردية للقرآن، وقد قام بطبعها وتوزيعها مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف.

আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ.-এর প্রবন্ধসমূহ

মোট প্রবন্ধ টি