তাওবার শেষ সুযোগ
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ
অনুবাদ
তাওবা কবুল তাদের প্রাপ্য নয়, যারা অসৎকর্ম করতে থাকে, পরিশেষে তাদের কারও যখন মৃত্যুক্ষণ এসে পড়ে, তখন সে বলে, এখন আমি তাওবা করলাম।
সূরা আন নিসা, আয়াত নং - ১৮
তাফসীর
এতে বলা হয়েছে- তাদের তওবা কবূলযোগ্য নয়, যারা সারা জীবন নির্ভয়ে গোনাহ্ করতে থাকে আর মৃত্যু যখন মাথার উপর ছায়াপাত করে এবং মৃত্যু-যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায় ও ফেরেশতা দৃষ্টিগোচর হয়, তখন বলেঃ আমরা এখন তওবা করছি। তারা জীবনের সুযোগ অযথা ব্যয় করে তওবার সময় হারিয়ে ফেলে। তাই তাদের তওবা কবূল হবে না; যেমন ফেরআউন ও ফেরআউনের সভাসদরা সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার সময় চিৎকার করে বলেছিলঃ আমরা মূসা ও হারুনের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি। তাদেরকে বলা হয়েছিলঃ ঈমানের সময় চলে যাওয়ার পর এখন ঈমান আনায় কোন ফায়দা নেই।
তাফসীরে মাআ’রেফুল কুরআন।
আরবি মূল পাঠ
وعن أبي عبد الرحمان عبد الله بنِ عمَرَ بنِ الخطابِ رضيَ اللهُ عنهما، عن النَّبي – صلى الله عليه وسلم – قَالَ: «إِنَّ الله – عز وجل – يَقْبَلُ تَوبَةَ العَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ».
অনুবাদ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠাগত হয় – তিরমিযী।
জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৩৭
ব্যাখ্যা
এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, তাওবা কবুলের শেষ সীমা হচ্ছে মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হওয়া। মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়ে গেলে তাওবার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। কেননা তাওবার একটি শর্ত হল পুনরায় গুনাহে লিপ্ত না হওয়ার অঙ্গীকার করা। সেই অঙ্গীকার তখনই করা যায়, যখন গুনাহ করার সময় থাকে। কিন্তু মৃত্যু হয়ে গেলে সেই সময় কোথায়? বান্দা তো এ সময় জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে। হতাশাকর এই অবস্থায় ফের গুনাহ না করার অঙ্গীকার অবান্তর। তো যেহেতু এই অবস্থায় তাওবা কবুলের শর্ত পূরণ হয় না, তাই তাওবাও কবুল হয় না।
۞ اَشْهَدُ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَاۤ شَرِيْكَ لَهٗ. وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَوَّابِيْنَ. وَاجْعَلْنِـيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ
উচ্চারণ
আশহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারি-কালাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান্ আ’বদুহু ওয়া রাসূ-লুহ্, আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত্তাওয়া-বি-না ওয়াজা’আলনি মিনাল মুতাত্বাহ্হিরী-ন।
অনুবাদ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৫৫
ফজিলত ও আমল
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযূ করার পর উক্ত দু‘আ পাঠ করে তার জন্যে আটটি জান্নাতের সমস্ত দরজা খোলা হবে বা খুলে যাবে। সে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় যে কোন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
প্রশ্ন
আমি গুনাহ ছাড়তে পারছি না। তওবা করতে না করতেই গুনাহটি আবার সংঘটিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কি করণীয়?
উত্তর
তাওবা করার পর যদি আবার সেই গুনাহ হয়ে যায় তাহলে আবার খাঁটি দিলে তাওবা করে নিতে হবে। আল্লাহ তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, (হে রাসুল! আপনি) বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছো- (তোমরা) আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না; আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।' -(সুরা যুমার : আয়াত, ৩৯)
তাওবার উপর অটল থাকার জন্য আপনার জন্য কয়েকটি পরামর্শ
১. যেসব কারণে গুনাহের প্রতি আগ্রহ জাগে সে সব থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। যেসব পরিবেশে এবং যাদের সংস্রবে গেলে এই গুনাহ বারবার হয়ে যায়, সে পরিবেশ ও সে সাথীদেরকে এড়িয়ে চলুন। এবং নিজেকে কোনো খাঁটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করুন, এটি আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এর দ্বারা ইনশাল্লাহ তওবার উপর অটল থাকতে পারবেন। তওবার উপরে অটল অবিচল থাকার জন্য
২. সর্বদা দুরুদ শরীফ ও ইস্তেগফার পড়তে থাকুন।
৩. অন্যায় থেকে বিরত থাকার জন্য, নেক কাজের শক্তি-সাহস ও হিম্মতের জন্য বেশি বেশি পড়ুন-
لا حول ولا قوة الا بالله العلي العظيم
লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আলিয়্যিল আযীম।
৪. গুনাহের পতি মনের আকর্ষণ থেকে বাঁচার জন্য বেশি বেশি পড়ুন-
اللهم ألهمني رشدي و أعذني من شر نفسي
আল্লাহুম্মা আলহিমনী রুশদী, ওয়া আইযনী মিন শাররি নাফসী।
উত্তর দিয়েছেনঃ শাইখ উমায়ের কোব্বাদী
সিনিয়র মুহাদ্দিস, মাদরাসা দারুর রাশাদ, মিরপুর
খতীব, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ, মিরপুর
শিরোনাম
বিবরণ
নবী (ﷺ) বলেছেন, (নামাযে) ইমাম যখন "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলেন, তখন তোমরা বলবে "রাব্বানা লাকাল হামদ" কেননা যার এ উক্তি ফিরিশতাগণের উক্তির অনুরূপ হবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
হুযাইফা (রাযি.) বর্ণনা করেন, নবী ﷺ রুকু থেকে উঠে "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলতেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি এরপর "রাব্বানা লাকাল হামদ" ও বলতেন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩২২৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৩৩
শিরোনাম
মুফতী আব্দুল কাইয়ুম
বিস্তারিত
তাওবার শেষ সুযোগ সারসংক্ষেপ:
তাওবা কী: অনুতপ্ত হয়ে গুনাহের পথ ছেড়ে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই হলো তাওবা।
তাওবার শর্ত: খাঁটি তাওবার জন্য পাপ বর্জন, অনুশোচনা, পুনরায় পাপ না করার সংকল্প এবং বান্দার হক আদায় করা আবশ্যক।
আল্লাহর রহমত: গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর অসীম রহমত থেকে কখনোই নিরাশ হওয়া যাবে না।
ব্যক্তিগত শেষ সুযোগ: মৃত্যুর গড়গড়া বা রূহ কণ্ঠনালীতে পৌঁছানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাওবা কবুল হয়।
সর্বজনীন শেষ সুযোগ: পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হওয়ার দিন থেকে পৃথিবীর সবার জন্য তাওবার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
জরুরি নসিহত: শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কালক্ষেপণ না করে, গুনাহ হওয়ার সাথে সাথেই দ্রুত তাওবা করা উচিত।