وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتُ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ۘ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَیُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَیُطِیۡعُوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ؕ اُولٰٓئِکَ سَیَرۡحَمُہُمُ اللّٰہُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ
অনুবাদ
মুমিন নর ও মুমিন নারী পরস্পরে একে অন্যের সহযোগী। তারা সৎকাজের আদেশ করে, অসৎ কাজে বাধা দেয়, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। তারা এমন লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ নিজ রহমত বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
সূরা আত তাওবাহ্, আয়াত নং: ৭১
তাফসীর
আর মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারীরা হলো পরস্পরের দ্বীনী সহচর। তারা সৎ ও কল্যাণের শিক্ষা দেয় এবং অসৎ ও অকল্যাণ থেকে বারণ করে। নিয়মিত নামায পড়ে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ মান্য করে। অবশ্যই তাদের উপর আল্লাহ্ তা’আলা রহমত করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা’আলা (একক) ক্ষমতাশীল। (তিনি পরিপূর্ণ প্রতিদান দিতে সক্ষম।) সুকৌশলী (তিনি যথাযথ প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন।
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ، اتَّخَذَتْ يَوْمَ حُنَيْنٍ خِنْجَرًا فَكَانَ مَعَهَا فَرَآهَا أَبُو طَلْحَةَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ أُمُّ سُلَيْمٍ مَعَهَا خَنْجَرٌ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا هَذَا الْخَنْجَرُ " . قَالَتِ اتَّخَذْتُهُ إِنْ دَنَا مِنِّي أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ بَقَرْتُ بِهِ بَطْنَهُ . فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْحَكُ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْتُلْ مَنْ بَعْدَنَا مِنَ الطُّلَقَاءِ انْهَزَمُوا بِكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُمَّ سُلَيْمٍ إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَفَى وَأَحْسَنَ " . وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فِي قِصَّةِ أُمِّ سُلَيْمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ ثَابِتٍ .
অনুবাদ
হযরত আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, (তার মা) উম্মে সুলাইম হুনাইনের যুদ্ধের দিন একটি খঞ্জর ধারণ করেছিলেন, আর সেটি তার সঙ্গে ছিল। আবু তালহা তাঁকে দেখতে পেয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইনি উম্মে সুলাইম। আর তার সাথে একটি খঞ্জর রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ এ খঞ্জর কিসের জন্য? তিনি বললেন, এটা এজন্য নিয়েছি যদি কোন বিধর্মী মুশরিক আমার কাছাকাছি আসে, তবে এটা দিয়ে আমি তার পেট চিরে ফেলবো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসতে লাগলেন।
তখন তিনি (উম্মে সুলাইম) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (মক্কা বিজয়ের দিন) আমাদের ছাড়া যারা ছাড় পেয়ে গেছে এবং পরাজয়ের মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের হত্যা করে ফেলুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে উম্মে সুলাইম! প্রবল প্রতাপান্বিত ও মহামহিম আল্লাহই (মুশরিকদের বিরুদ্ধে) যথেষ্ট ও সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি (আমাদের প্রতি) সদয় রয়েছেন।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৮০৯
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি
۞ اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الكِتَابِ، سَرِيعَ الحِسَابِ، اهْزِمِ الأَحْزَابَ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ
উচ্চারণ
আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাবি, সারী‘আল হিসাবি, ইহযিমিল আহযাবা, ইহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম।
অনুবাদ
ইয়া আল্লাহ! হে কিতাব অবতীর্ণকারী! হে তড়িৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করুন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৯২
ফজিলত / আমল
null
প্রশ্ন
আমার বাবার চাচাতো ভাই ছোটবেলা থেকেই আমাকে আপন ভাতিজির মতো স্নেহ করেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর সামনে পর্দা করতাম না। সম্প্রতি জানতে পেরেছি, তিনি আমার মাহরাম নন। তাই এখন পর্দা করি। কিন্তু এতে তিনি কষ্ট পান। প্রয়োজনে তাঁর সামনে শুধু মুখ, হাতের তালু ও পায়ের তালু খোলা রেখে গেলে কি আমি গুনাহগার হব?
উত্তর
আপনার বাবার চাচাতো ভাই ছোটবেলা থেকে আপনাদেরকে স্নেহ-মমতা দিয়ে বড় করেছেন। তার অনেক অবদান আছে। এখন পর্দা রক্ষা করে তাঁর সম্মুখে গেলে তিনি অসন্তুষ্ট হন। আপনি মনেপ্রাণে চাচ্ছেন না যে তাকে অসন্তুষ্ট করবেন।
বাবার চাচাতো ভাই আপনার মাহরাম নন।
একটু ভেবে দেখুন তো, আপনি দুনিয়াতে আসার আগে আপনাকে স্নেহ-মমতা দিয়ে কে লালন-পালন করেছেন? মায়ের গর্ভে আপনার এই সুন্দর গঠন কে দিয়েছেন? আপনার এই সুস্থ মস্তিষ্ক, চোখে দেখার শক্তি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিচালনার ক্ষমতা, মুখে কথা বলার শক্তি কে দিয়েছেন? যে আল্লাহ এত সব দিয়েছেন সেই আল্লাহ আপনাকে পর্দা রক্ষা করার জন্যে বলছেন। পর্দা রক্ষা না করলে সে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন। যার দয়া অনুগ্রহ সার্বক্ষণিক আমাদের প্রতি অবিরত রয়েছে। যার দয়া ছাড়া আমরা কেউ জান্নাতে যেতে পারব না। আমরা তাকে অসন্তুষ্ট করে দুনিয়ার ক্ষণিকের দয়া-অনুগ্রহ যার কাছে পেয়েছি তাকে সন্তুষ্ট করতে চাই।
পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আহযাবে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ করছেন (পরপুরুষের সম্মুখে) চেহারা ঢেকে দেয়ার জন্য।
হে নবী! তুমি তােমার স্ত্রীদের, তােমার কন্যাদের ও মুমিন নারীদেরকে বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদর নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়। এ পন্থায় তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
উত্তর দিয়েছেনঃ মুফতী ইসহাক মাহমুদ হাফি.
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর।
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর।
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর । ঢাকা।
বিবরণ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সূলাইম ও আনসার কতিপয় মহিলাকে তার সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা (আহতদের) পানি পান করাতেন এবং তাদের শুশ্রূষা করতেন।
সহীহ মুসলিম হাদীস নং: ১৮১০
মুফতী শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
বিস্তারিত
ইসলামের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর ত্যাগ ও কুরবানির কথা আলোচনা করলে সাধারণত পুরুষ সাহাবীদের বীরত্বের ঘটনাগুলোই বেশি সামনে আসে। অথচ দ্বীনের এই মহান সংগ্রামে নারী সাহাবিয়াগণের অবদানও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা কখনো আহতদের সেবা করেছেন, কখনো তৃষ্ণার্ত মুজাহিদদের পানি পান করিয়েছেন, কখনো খাবার প্রস্তুত করেছেন, কখনো অসুস্থদের পরিচর্যা করেছেন; আবার প্রয়োজনের বিশেষ মুহূর্তে কেউ কেউ অস্ত্র হাতে নিয়ে মুসলিমদের ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিরক্ষায়ও দাঁড়িয়েছেন।
তবে এখানে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন—নারী সাহাবীদের জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণ বলতে প্রত্যেকের সরাসরি যুদ্ধ করা বোঝায় না। বরং তাঁদের অধিকাংশের ভূমিকা ছিল যুদ্ধের সহযোগী ও সেবামূলক দায়িত্ব পালন করা। আর যাঁরা সরাসরি অস্ত্র ধারণ করেছেন, তাঁদের ঘটনাগুলো ছিল বিশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই আম্মাজান আয়িশা (রাযি.)-কে জিহাদ সম্পর্কে বলেছেন,
جِهَادُكُنَّ الْحَجُّ
“তোমাদের জিহাদ হলো হজ।”—সহিহ বুখারি, ২৮৭৫।
অতএব নারী সাহাবীদের জিহাদের ঘটনাগুলোকে তাঁদের অসাধারণ ঈমান, ত্যাগ, সাহস ও দ্বীনের প্রতি আনুগত্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হবে; একই সঙ্গে শরিয়তের সাধারণ বিধান ও বিশেষ পরিস্থিতির ঘটনাকে পৃথক করে বুঝতে হবে
যুদ্ধের ময়দানে নারীদের উপস্থিতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে কোনো কোনো গযওয়ায় সাহাবিয়ারা মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন, এটি সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আনাস (রাযি.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন গযওয়ায় যেতেন, তখন উম্মে সুলাইম (রাযি.) এবং আনসারদের কিছু নারী তাঁর সঙ্গে যেতেন। তাঁরা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন।”—সহিহ মুসলিম, ১৮১০।
এই সংক্ষিপ্ত হাদীসের মধ্যে নারী সাহাবীদের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে কেবল অবস্থান করতেন না; বরং মুসলিম মুজাহিদদের জন্য এমন কাজ করতেন, যা যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
একজন আহত মুজাহিদের জীবন বাঁচানো, তৃষ্ণার্ত সৈনিককে পানি দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা কিংবা যুদ্ধরত বাহিনীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা—এসবও ছিল সেই কঠিন সময়ে দ্বীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেদমত।
উম্মে আতিয়্যাহ (রাযি.)—এর সাতটি গযওয়ার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা
নারী সাহাবীদের এ ভূমিকার সবচেয়ে স্পষ্ট দলিলগুলোর একটি হলো উম্মে আতিয়্যাহ আনসারিয়্যাহ (রাযি.)-এর বর্ণনা। তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে সাতটি গযওয়ায় অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁদের অবস্থানস্থল ও মালপত্রের দেখাশোনা করতাম, তাঁদের জন্য খাবার প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম।”—সহিহ মুসলিম, ১৮১২।
উহুদের ময়দানে উম্মে ‘আমারা (রাযি.)
নারী সাহাবীদের সাহসিকতার কথা উঠলে যে নামটি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়, তিনি হলেন নুসাইবাহ বিনতে কা‘ব (রাযি.), যিনি উম্মে ‘আমারা নামে পরিচিত।
তিনি ছিলেন আনসারদের সম্মানিত সাহাবিয়া। তিনি বাইআতে আকাবায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে উহুদ, হুদাইবিয়া, হুনাইন ও ইয়ামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁর জীবনী প্রাচীন জীবনীগ্রন্থগুলোতে বিস্তারিতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
উহুদের দিন তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ।
প্রথমদিকে তিনি অন্য নারীদের মতো পানি সরবরাহ ও আহতদের সেবার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতি যখন হঠাৎ পরিবর্তিত হলো এবং বহু সাহাবি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন, তখন উম্মে ‘আমারা (রাযি.) পিছিয়ে যাননি। বরং তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে যান।
তাঁর নিজের বর্ণনা সম্পর্কে ঐতিহাসিক সূত্রে এসেছে,
অর্থাৎ, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিরক্ষায় সরাসরি যুদ্ধ করেন এবং তীর-ধনুকও ব্যবহার করেন। উহুদের দিনে তিনি একাধিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
তাঁর জীবনের এই ঘটনা নিঃসন্দেহে সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।—সিয়ারু আলামীন নুবাল
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখে উম্মে ‘আমারা (রাযি.)-এর মর্যাদা
উম্মে ‘আমারা (রাযি.)-এর উহুদের দিনের অবস্থান তাঁর জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। জীবনীগ্রন্থে তাঁর উহুদের দিনের সাহসিকতার প্রশংসাসূচক বর্ণনা পাওয়া যায়। ইমাম যাহাবি তাঁর জীবনীতে তাঁকে উল্লেখ করেছেন,
أُمُّ عَمَارَةَ نُسَيْبَةُ بِنْتُ كَعْبٍ ... الْفَاضِلَةُ الْمُجَاهِدَةُ
অর্থাৎ, তিনি ছিলেন মর্যাদাশীল ও আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী সাহাবিয়া।
তাঁর জীবনের আরেকটি দিকও অত্যন্ত বিস্ময়কর। পরবর্তী সময়ে তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানেও মারাত্মকভাবে আহত হন; তাঁর একটি হাত কেটে যায়। তাঁর ছেলে হাবীব (রাযি.)-কে মুসাইলিমা হত্যা করেছিল। এসব ঘটনা তাঁর পরিবারের দ্বীনের জন্য ত্যাগের গভীরতাও প্রকাশ করে।
অর্থাৎ উম্মে ‘আমারা (রাযি.)-এর জীবন কেবল একটি যুদ্ধের সাহসিকতার গল্প নয়; বরং তাঁর জীবনের দীর্ঘ পথজুড়ে ঈমান, আনুগত্য ও ত্যাগের ছাপ রয়েছে।—সিয়ারু আলামিন নুবালা
হুনাইনের ময়দানে উম্মে সুলাইম (রাযি.) উম্মে সুলাইম (রাযি.) ছিলেন আরেক সাহসী আনসারি সাহাবিয়া। হুনাইনের যুদ্ধের দিনও তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে ছিলেন।
আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, “উম্মে সুলাইম (রাযি.) হুনাইনের দিন একটি খঞ্জর সঙ্গে রেখেছিলেন। আবু তালহা (রাযি.) তাঁকে দেখে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই যে উম্মে সুলাইম, তাঁর সঙ্গে একটি খঞ্জর রয়েছে।’ রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটি কী?’ তিনি বললেন, ‘আমি এটি সঙ্গে রেখেছি। কোনো মুশরিক আমার কাছে এলে এর মাধ্যমে তার পেট বিদীর্ণ করব।’”
এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
“হে উম্মে সুলাইম! আল্লাহ যথেষ্ট হয়েছেন এবং উত্তম করেছেন।”—সহিহ মুসলিম, ১৮০৯।
এই ঘটনা উম্মে সুলাইম (রাযি.)-এর অসাধারণ সাহস ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে হুনাইনের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাননি।