আল আনফাল

সূরা নং: ৮, আয়াত নং: ৫

তাফসীর
کَمَاۤ اَخۡرَجَکَ رَبُّکَ مِنۡۢ بَیۡتِکَ بِالۡحَقِّ ۪  وَاِنَّ فَرِیۡقًا مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ لَکٰرِہُوۡنَ ۙ

উচ্চারণ

কামাআখরাজাকা রাব্বুকা মিম বাইতিকা বিলহাক্কি ওয়া ইন্না ফারীকাম মিনাল মু’মিনীনা লাকা-রিহূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(গনীমত বণ্টনের এ বিষয়টা সেই রকম), যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে সত্যের জন্য নিজ ঘর থেকে বের করেছিলেন, অথচ মুমিনদের একটি দলের কাছে এ বিষয়টা অপছন্দ ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২. যারা গনীমত কুড়িয়েছিল, তাদের আশা ছিল সে সম্পদ কেবল তাদেরই থাকবে। কিন্তু ফায়সালা যেহেতু সে রকম হয়নি, তাই তাদেরকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, মানুষের সব আশাই পরিণামে মঙ্গলজনক হয় না। পরে তার বুঝে আসে, যে সিদ্ধান্ত তার ইচ্ছার বিপরীত হয়েছে কল্যাণ তাতেই নিহিত। এটাকে আবু জাহলের সাথে যুদ্ধ করার ব্যাপারটার সাথে তুলনা করতে পার। মদীনা থেকে বের হওয়ার সময় তো লক্ষ্য ছিল আবু সুফিয়ানের কাফেলাকে আটকানো, যে কারণে রীতিমত কোনও বাহিনীও তৈরি করা হয়নি। অনাকাঙ্খিতভাবে যখন আবু জাহলের নেতৃত্বে একটি বিশাল বাহিনী এগিয়ে আসছে বলে খবর পাওয়া গেল, তখন কতিপয় সাহাবী চাচ্ছিলেন, যুদ্ধ না করে ওয়াপস চলে যাওয়া হোক। কেননা এভাবে অপ্রস্তুত ও নিরস্ত্র অবস্থায় একটি সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করলে সেটা মৃত্যুমুখে ঝাঁপ দেওয়ার নামান্তর হবে। কিন্তু অন্যান্য সাহাবীগণ অত্যন্ত উদ্দীপনাময় বক্তৃতা দিলেন এবং তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব খুশী হলেন। অবশেষে যখন তাঁর ইচ্ছা অনুধাবন করা গেল তখন সকলেই যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। পরে প্রমাণ হল, যুদ্ধ করার মধ্যেই মুসলিমদের মহা কল্যাণ ছিল। কেননা এর ফলে কুফরের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়।