আল আনফাল

সূরা নং: ৮, আয়াত নং: ৪৩

তাফসীর
اِذۡ یُرِیۡکَہُمُ اللّٰہُ فِیۡ مَنَامِکَ قَلِیۡلًا ؕ وَلَوۡ اَرٰىکَہُمۡ کَثِیۡرًا لَّفَشِلۡتُمۡ وَلَتَنَازَعۡتُمۡ فِی الۡاَمۡرِ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ سَلَّمَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ

উচ্চারণ

ইয ইউরীকাহুমুল্লা -হু ফী মানা-মিকা কালীলাওঁ ওয়া লাও আরা-কাহুম কাছীরাল লাফাশিলতুম ওয়ালা তানা-ঝা‘তুম ফিল আমরি ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ছাল্লামা ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী! স্মরণ কর), যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে তাদের (অর্থাৎ শত্রুদের) সংখ্যা কম দেখাচ্ছিলেন। ৩১ তোমাকে যদি তাদের সংখ্যা বেশি দেখাতেন, তবে (হে মুসলিমগণ!) তোমরা সাহস হারাতে এবং এ বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হত, কিন্তু আল্লাহ (তোমাদেরকে তা থেকে) রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের গুপ্ত কথাসমূহও ভালোভাবে জানেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৩১. যুদ্ধ শুরুর আগে হানাদার কাফেরদের সংখ্যা কত তা যখন মুসলিমদের জানা ছিল না, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখানো হয় যে, তাদের সংখ্যা অল্প। তিনি সে স্বপ্ন সাহাবায়ে কিরামের সামনে বর্ণনা করলেন। এতে তাদের সাহস বৃদ্ধি পায়। ইমাম রাযী (রহ.) বলেন, নবীর স্বপ্ন যেহেতু বাস্তববিরোধী হতে পারে না, তাই দৃশ্যত বোঝা যাচ্ছে তাকে সৈন্যদের একটা অংশ দেখানো হয়েছিল, তিনি সেই অংশ সম্পর্কেই জানিয়েছিলেন যে, তারা অল্পসংখ্যক। কেউ বলেন, স্বপ্নে যে জিনিস দেখানো হয়, তার সম্পর্ক থাকে উপমা জগত (আলম-ই-মিছাল)-এর সাথে। যা দেখা যায়, উদ্দেশ্য হুবহু সেটাই হয় না। এ কারণে স্বপ্নের তাবীর করার প্রয়োজন থাকে। সুতরাং স্বপ্নে যদিও গোটা বাহিনীর সংখ্যা অল্প দেখানো হয়েছিল, কিন্তু সে অল্পতার আসল ব্যাখ্যা ছিল এই যে, সৈন্য সংখ্যা বেশি হলেও তার গুরুত্ব বড় কম। এ ব্যাখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জানা ছিল। সুতরাং সে দৃষ্টিতেই তিনি সাহাবায়ে কিরামের সামনে এ স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যাতে তাদের সাহস ও উদ্যম বৃদ্ধি পায়।