আল আনফাল

সূরা নং: ৮, আয়াত নং: ৪১

তাফসীর
وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا غَنِمۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَاَنَّ لِلّٰہِ خُمُسَہٗ وَلِلرَّسُوۡلِ وَلِذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ اِنۡ کُنۡتُمۡ اٰمَنۡتُمۡ بِاللّٰہِ وَمَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا یَوۡمَ الۡفُرۡقَانِ یَوۡمَ الۡتَقَی الۡجَمۡعٰنِ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

উচ্চারণ

ওয়া‘লামূআন্নামা-গানিমতুম মিন শাইয়িন ফাআন্না লিল্লা-হি খুমুছাহূওয়া লিররাছূলি ওয়া লিযিল কুরবা-ওয়াল ইয়াতা-মা-ওয়াল মাছা-কীনি ওয়াবনিছ ছাবীলি ইন কুনতুম আমানতুম বিল্লা-হি ওয়া মাআনঝালনা-‘আলা-‘আবদিনা-ইয়াওমাল ফুরকা-নি ইয়াওমাল তাকাল জাম‘আ-নি ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে মুসলিমগণ!) জেনে রাখ, তোমরা যা-কিছু গনীমত অর্জন কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, রাসূল, (তাঁর) আত্মীয়বর্গ, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের প্রাপ্য ২৭ (যা আদায় করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য)যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও সেই বিষয়ের প্রতি ঈমান রাখ, যা আমি নিজ বান্দার উপর মীমাংসার দিন অবতীর্ণ করেছি ২৮ যে দিন দু’ দল পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিল। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৭. গনীমত বলে সেই সম্পদকে, যা জিহাদকালে শত্রুপক্ষের থেকে মুজাহিদদের হস্তগত হয়। এ আয়াতে তা বণ্টনের মূলনীতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মূলনীতির সারমর্ম এই যে, জিহাদে যে সম্পদ অর্জিত হয়, তাকে পাঁচ ভাগ করা হবে। তার চার ভাগ মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং পঞ্চম ভাগ বায়তুল মালে (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) জমা করা হবে। এই পঞ্চম ভাগকে ‘খুমুস’ বলা হয়। খুমুস বণ্টনের নিয়ম সম্পর্কে আয়াতে প্রথমে বলা হয়েছে যে, এ মালের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলা। সুতরাং তার নির্দেশ মতই এটা বণ্টন করতে হবে। অতঃপর এটা বণ্টনের পাঁচটি খাত উল্লেখ করা হয়েছে। এক ভাগ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। এক ভাগ তাঁর আত্মীয়-স্বজনের। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়বর্গ তাঁর ও ইসলামের সাহায্যার্থে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, আবার তাদের জন্য যাকাতের অর্থও হারাম করা হয়েছিল। অবশিষ্ট তিন ভাগ ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ফুকাহায়ে কিরামের মতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অংশ তাঁর ওফাতের পর আর কার্যকর নেই। তাঁর আত্মীয়দের অংশ সম্পর্কে ফকীহগণের মধ্যে কিছুটা মতভেদ আছে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে এ অংশের কার্যকারিতা এখনও বহাল আছে। কাজেই তা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মধ্যে তাদের অধিকার হিসেবে বণ্টন করা জরুরী, তাতে তারা ধনী হোক বা গরীব। কিন্তু আহলুস সুন্নাহর অন্যান্য ফকীহগণ বলেন, তারা গরীব হলে তো অন্যান্য গরীবদের উপর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদেরকে খুমুসের অর্থ দেওয়া হবে। আর তারা যদি অভাবগ্রস্ত না হয়, তবে খুমুসে আলাদাভাবে তাদের কোন অধিকার থাকবে না। হযরত উমর (রাযি.) একবার হযরত আলী (রাযি.)কে খুমুস থেকে অংশ দিলে হযরত আলী (রাযি.) এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করলেন যে, এ বছর আমাদের খান্দানের কোন প্রয়োজন নেই (আবু দাঊদ, হাদীস নং ২৯৮৪)। সুতরাং হযরত আলী (রাযি.)-সহ চারও খুলাফায়ে রাশেদীনের নীতি এটাই ছিল যে, বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের লোকজন অভাবগ্রস্ত হলে খুমুস থেকে অংশ দানের ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতেন; আর তারা যদি অভাবগ্রস্ত না হতেন, তবে তাদেরকে দিতেন না। তার একটি কারণ এই-ও যে, অধিকাংশ ফুকাহা ও মুফাসসিরগণের মতে এ আয়াতে যে পাঁচটি খাত বর্ণিত হয়েছে, খুমুসের অর্থ তাদের সকল শ্রেণীকে দেওয়া এবং সমহারে দেওয়া অপরিহার্য নয় এবং আয়াতের উদ্দেশ্যও সেটা নয়; বরং খুমুস ব্যয়ের এ পঞ্চ খাত যাকাতের খাতসমূহেরই মত (যাদের উল্লেখ সূরা তাওবায় [৯ : ৬০] আসছে)। অর্থাৎ ইমাম তথা রাষ্ট্রপ্রধানের এখতিয়ার রয়েছে যে, এ খাতসমূহের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী যে খাতে যে পরিমাণ দেওয়া সমীচীন মনে করেন তাই দেবেন। এ মাসআলা সম্পর্কে বান্দা সহীহ মুসলিমের ভাষ্যগ্রন্থ তাকমিলা ফাতহুল মুলহিমে (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫৪-২৫৮) বিস্তারিত আলোচনা করেছে।