আল আনফাল

সূরা নং: ৮, আয়াত নং: ৩০

তাফসীর
وَاِذۡ یَمۡکُرُ بِکَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لِیُثۡبِتُوۡکَ اَوۡ یَقۡتُلُوۡکَ اَوۡ یُخۡرِجُوۡکَ ؕ وَیَمۡکُرُوۡنَ وَیَمۡکُرُ اللّٰہُ ؕ وَاللّٰہُ خَیۡرُ الۡمٰکِرِیۡنَ

উচ্চারণ

ওয়া ইযইয়ামকুরু বিকাল্লাযীনা কাফারূলিইউছবিতূকা আও ইয়াকতুলূকা আও ইউখরিজুকা ওয়া ইয়ামকুরূনা ওয়া ইয়ামকুরুল্লা-হু ওয়াল্লা-হু খাইরুল মা-কিরীন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী! সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন কাফেরগণ তোমাকে বন্দী করা অথবা তোমাকে হত্যা করা কিংবা তোমাকে (দেশ থেকে) বহিষ্কার করার জন্য তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল। তারা তো নিজেদের ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল আর আল্লাহও নিজ কৌশল প্রয়োগ করছিলেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৌশলকারী। ১৯

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১৯. এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মক্কার কাফেরগণ যখন দেখল, ইসলাম অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং মদীনা মুনাওয়ারায় প্রচুর সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছে, তখন তারা এক পরামর্শ সভা ডাকল। তাতে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করা হল। এ আয়াতে সেসব প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়েছে আর তা হচ্ছে, গ্রেফতার করা, হত্যা করা ও নির্বাসন দেওয়া। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, তাকে হত্যাই করা হবে এবং তা এভাবে যে, বিভিন্ন গোত্র থেকে একজন করে যুবক বেছে নেওয়া হবে এবং তারা সকলে একযোগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর আক্রমণ চালাবে। আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে তাদের এ সমস্ত কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে হিজরত করার হুকুম দিলেন। শত্রুরা তাঁর ঘর অবরোধ করে রেখেছিল আর এ অবস্থায় তিনি আল্লাহ তাআলার কুদরতে তাদের সম্মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলেন, কিন্তু তারা তাঁকে দেখতে পেল না। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সীরাত গ্রন্থসমূহে দেখা যেতে পারে। মাআরিফুল কুরআনেও এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তা বর্ণিত হয়েছে।