আল আনফাল

সূরা নং: ৮, আয়াত নং: ২৪

তাফসীর
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَجِیۡبُوۡا لِلّٰہِ وَلِلرَّسُوۡلِ اِذَا دَعَاکُمۡ لِمَا یُحۡیِیۡکُمۡ ۚ وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَحُوۡلُ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَقَلۡبِہٖ وَاَنَّہٗۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ

উচ্চারণ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুছতাজীবূলিল্লা-হি ওয়ালিররাছূলি ইযা-দা‘আ-কুম লিমাইউহয়ীকুম ওয়া‘লামূআন্নাল্লা-হা ইয়াহূলুবাইনাল মারয়ি ওয়া কালবিহী ওয়া আন্নাহূইলাইহি তুহশারূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও রাসূলের দাওয়াত কবুল কর, যখন তিনি (রাসূল) তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে ডাকেন, যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। ১৩ জেনে রেখ, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে যান। ১৪ আর তোমাদের সকলকে তারই কাছে (নিয়ে) জমা করা হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১৩. এ সংক্ষিপ্ত বাক্যে এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা বিবৃত হয়েছে। প্রথমত ইসলামের দাওয়াত ও তার বিধানাবলী এমন যে, সমস্ত মানুষ যদি পূর্ণাঙ্গরূপে তা গ্রহণ ও অনুসরণ করে তবে ইহলোকেই তারা শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা লাভ করতে পারে। ইবাদত-বন্দেগী তো আত্মিক প্রশান্তির সর্বোত্তম মাধ্যম। তাছাড়া ইসলামের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিধানসমূহ বিশ্বকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন সরবরাহ করতে পারে। অন্য দিকে প্রকৃত জীবন তো আখিরাতের জীবন। সে জীবনের সুখণ্ডশান্তি ইসলামী বিধান মেনে চলার উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কারও কাছে যদি ইসলামের কোনও বিধান কঠিনও মনে হয়, তবে তার চিন্তা করা উচিত যে, এর উপর তো তার পরকালীন জীবনের শান্তি নির্ভর করে। এই পার্থিব জীবনের জন্যও তো মানুষ বড়-বড় অপারেশনে রাজি হয়ে যায় এবং অনেক কষ্টসাধ্য কাজ মাথা পেতে নেয়। তাহলে শরীয়তের যে সকল বিধান শ্রম ও কষ্টসাধ্য বলে মনে হয় কিংবা যাতে মনের অনেক চাহিদা ত্যাগ করতে হয়, সেগুলোকে কেন হাসিমুখে মেনে নেওয়া হবে না, যখন আখিরাতের প্রকৃত ও অনন্ত-স্থায়ী জীবনের সুখণ্ডশান্তি তার উপর নির্ভরশীল?