یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡاَنۡفَالِ ؕ قُلِ الۡاَنۡفَالُ لِلّٰہِ وَالرَّسُوۡلِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَصۡلِحُوۡا ذَاتَ بَیۡنِکُمۡ ۪ وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
১. বদর যুদ্ধে যখন শত্রুদের পরাজয় ঘটল, তখন সাহাবায়ে কিরাম তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। একদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিফাজতের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেন। একদল শত্রুর পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং একদল শত্রুর ফেলে যাওয়া মালামাল কুড়াতে শুরু করলেন। যেহেতু এটাই ছিল প্রথম যুদ্ধ এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান তখনও পর্যন্ত নাযিল হয়নি, তাই তৃতীয় দল মনে করেছিল, তারা যে মালামাল কুড়িয়েছে, তা তাদেরই। (সম্ভবত জাহিলী যুগে এমনই রেওয়াজ ছিল)। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রথমোক্ত দুই দলের খেয়াল হল, তারাও তো যুদ্ধে পুরোপুরি শরীক ছিল, বরং গনীমত কুড়ানোর সময় তারাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দিয়েছে। সুতরাং গনীমতের ভেতর তাদেরও অংশ থাকা চাই। বস্তুত এটা ছিল এক স্বভাবগত চাহিদা, যে কারণে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা বাদানুবাদও শুরু হয়ে গিয়েছিল। যখন বিষয়টা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছল, তখন এই আয়াত নাযিল হল। এতে জানানো হয়েছে, গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে ফায়সালা নেওয়ার এখতিয়ার কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। সুতরাং সামনে এ সূরারই ৪১নং আয়াতে গনীমত বণ্টনের বিস্তারিত নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। আর এ আয়াতে আদেশ করা হয়েছে যে, মুসলিমদের মধ্যে যদি কোনও বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দেয়, তবে তা দূর করে পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক করে নেওয়া চাই।