یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِذَا طَلَّقۡتُمُ النِّسَآءَ فَطَلِّقُوۡہُنَّ لِعِدَّتِہِنَّ وَاَحۡصُوا الۡعِدَّۃَ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ رَبَّکُمۡ ۚ لَا تُخۡرِجُوۡہُنَّ مِنۡۢ بُیُوۡتِہِنَّ وَلَا یَخۡرُجۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّاۡتِیۡنَ بِفَاحِشَۃٍ مُّبَیِّنَۃٍ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَمَنۡ یَّتَعَدَّ حُدُوۡدَ اللّٰہِ فَقَدۡ ظَلَمَ نَفۡسَہٗ ؕ لَا تَدۡرِیۡ لَعَلَّ اللّٰہَ یُحۡدِثُ بَعۡدَ ذٰلِکَ اَمۡرًا
উচ্চারণ
ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুইযা-তাল্লাকতুমুন্নিছাআ ফাতালিলকূহুন্না লি‘ইদ্দাতিহিন্না ওয়া আহসুল ‘ইদ্দাতা ওয়াত্তাকুল্লা-হা রাব্বাকুম লা-তুখরিজুহুন্না মিম বুয়ূতিহিন্না ওয়ালাইয়াখরুজনা ইল্লাআইঁ ইয়া’তীনা বিফা-হিশাতিম মুবাইয়িনাতিওঁ ওয়া তিলকা হুদূদুল্লাহি ওয়া মাইঁ ইয়াতা‘আদ্দা হুদূদাল্লা-হি ফাকাদ জালামা নাফছাহূ লা-তাদরী লা‘আল্লাল্লা-হা ইউহদিছু বা‘দা যা-লিকা আমরা-।
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটার পর স্ত্রী যদি নতুন স্বামী গ্রহণ করতে চায়, তবে সেজন্য তাকে কিছুকাল অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষার সেই মেয়াদকেই ‘ইদ্দত’ বলে। সূরা বাকারায় (২ : ২২৮) বলা হয়েছে, তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত হল, তালাকের পর তিনটি ঋতু অতিবাহিত হওয়া। এ আয়াতে তালাকদাতা স্বামীকে আদেশ করা হয়েছে, স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে এমন সময় দেবে, যার পরপর সে ইদ্দত শুরু করতে পারে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাখ্যা করেছেন এই যে, স্ত্রীকে তার ঋতু চলাকালে তালাক দেবে না; বরং এমন পবিত্রতার মেয়াদে দেবে, যেই মেয়াদের ভেতর সে তার সাথে সহবাস করেনি। এ নির্দেশের বহু তাৎপর্য আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি এই যে, (এক) ইসলাম চায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা অটুট থাকুক। যদি কখনও তালাকের মাধ্যমে তা ছিন্ন করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে তা যেন ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে ভদ্রোচিত পন্থায় হয় এবং তাতে কোন পক্ষই অন্যের জন্য অহেতুক কষ্টের কারণ না হয়। ঋতুকালে তালাক দিলে এই সম্ভাবনা থাকে যে, স্বামী স্ত্রীর অশুচি অবস্থার কারণে সাময়িক ঘৃণার বশে তালাক দিয়ে দিয়েছে। কিংবা যেই পবিত্রতার মেয়াদে সহবাস হয়েছে, সেই মেয়াদের ভিতর তালাক দিলেও হতে পারে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে তালাক দিয়েছে। পক্ষান্তরে যে পবিত্রতার মেয়াদে একবারও সহবাস হয়নি, সেই মেয়াদের ভেতর তালাক দিলে বোঝা যায় এ তালাক কোন সাময়িক অনাগ্রহের ফল নয়। কেননা এরূপ সময়ে সাধারণত স্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আগ্রহ ও আকর্ষণ থাকে, তা সত্ত্বেও যখন তালাক দিচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই এর যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ আছে।
(দুই) ঋতুকালে তালাক দিলে স্ত্রীর ইদ্দত অহেতুক দীর্ঘ করা হয়। কেননা যেই ঋতুতে তালাক দেওয়া হয়েছে, সেটি তো ইদ্দতের মধ্যে হিসাবে ধরা হবে না। তার ইদ্দত হিসাব করা হবে সেই ঋতু থেকে পাক হওয়ার পর যখন পরবর্তী ঋতু শুরু হবে তখন থেকে। এর ফলে স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেওয়া হবে। তাই হুকুম দেওয়া হয়েছে, তালাক দিতে হবে পবিত্রতার মেয়াদে এবং তাও সেই মেয়াদে, যার ভেতর সহবাস হয়নি। অধিকাংশ মুফাসসির আয়াতের তাফসীর এভাবেই করেছেন। কয়েকটি সহীহ হাদীস দ্বারাও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কোন কোন মুফাসসির এর অন্য রকম তাফসীরও করেছেন। তারা আয়াতের তরজমা করেছেন এ রকম, ‘তাদেরকে তালাক দাও ইদ্দতের জন্য।’ তারা এর ব্যাখ্যা করেন যে, আয়াতে আল্লাহ তাআলা পুরুষদেরকে উৎসাহিত করেছেন, তাদের যদি স্ত্রীদেরকে তালাক দেওয়ার দরকার পড়ে, তবে যেন রজঈ তালাক দেয়। অর্থাৎ এমন তালাক দেয়, যার পর ইদ্দতকালে স্ত্রীকে ফেরত গ্রহণ করা সম্ভব হয়। যেন তালাক দেওয়া হবে ইদ্দতকালের সময় পর্যন্ত। এ সময়কালে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হবে এবং অবস্থা অনুকূল মনে হলে তালাক প্রত্যাহার করে নেওয়া যাবে, যেমন পরের আয়াতে বলা হয়েছে।