یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِمَ تَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২. ইমাম আহমাদ (রহ.) ও বাগাবী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, কোন কোন সাহাবী নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছিলেন, কোন কাজ আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি পছন্দ তা যদি জানতে পারতাম, তবে তার জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিয়ে দিতাম। একথা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন এবং তাদের সামনে এ সূরাটি পাঠ করলেন (তাফসীরে মাযহারী ও ইবনে কাছীর)। এতে প্রথমে তাদেরকে কথা বলার এই আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, এরূপ কোন কথা বলা উচিত নয়, যা দ্বারা দাবি মত কিছু বোঝা যায়। অর্থাৎ শুনলে মনে হয় দাবি করছে, অমুক কাজটি সে অবশ্যই করবে, অথচ সে কাজটি তো তার পক্ষে করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে তার দাবি মিথ্যা হয়ে যাবে এবং সকলের কাছে প্রমাণ হবে, লোকটি যা বলেছিল তা করতে পারেনি। হাঁ যদি নিজের উপর ভরসা না করে বিনয়ের সঙ্গে কোন কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়, তাতে কোন দোষ নেই। অতঃপর তাদের কামনা অনুযায়ী জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জিহাদের কাজটি আল্লাহ তাআলার বড় পছন্দ এবং এর জন্য আল্লাহ তাআলা যে পুরস্কার স্থির করে রেখেছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশ থাকে যে, কুরআন ও হাদীসে বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি প্রিয়। আপাতদৃষ্টিতে তা পরস্পর বিরোধী মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কেননা অবস্থা, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও ব্যক্তিভেদে একেকবার একেকটি কাজকে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন যখন জিহাদ চলতে থাকে, তখনকার জন্য সেটাই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও পছন্দনীয় কাজ। আবার কখনও পিতা-মাতার খেদমত বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, তখন সেটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ সাব্যস্ত হবে।