وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَاتَّبَعَتۡہُمۡ ذُرِّیَّتُہُمۡ بِاِیۡمَانٍ اَلۡحَقۡنَا بِہِمۡ ذُرِّیَّتَہُمۡ وَمَاۤ اَلَتۡنٰہُمۡ مِّنۡ عَمَلِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ کُلُّ امۡرِیًٴۢ بِمَا کَسَبَ رَہِیۡنٌ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩. رهين মানে বন্ধকীকৃত, অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা স্বরূপ যে বস্তু বন্ধক রেখে ঋণের লেনদেন হয়। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষকে যে যোগ্যতা দান করেছেন তা তাকে প্রদত্ত আল্লাহ তাআলার ঋণ। এ ঋণের দায় থেকে সে কেবল তখনই মুক্তি পেতে পারে, যখন সে তার যোগ্যতাকে আল্লাহ তাআলার হুকুম মোতাবেক ব্যবহার করবে। দুনিয়ায় তার প্রমাণ হয় ঈমান আনা ও সৎকর্ম করার দ্বারা। এ ঋণের দায়ে প্রত্যেক ব্যক্তির সত্তা এমনভাবে বন্ধক রাখা আছে যে, সে যদি ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজ দেনা পরিশোধ করতে পারে, তবে আখেরাতে তার মুক্তি ও স্বাধীনতা লাভ হবে। সে জান্নাতে সুখণ্ডশান্তিতে বসবাস করবে। পক্ষান্তরে সে যদি এ দেনা শোধ না করে, তবে তাকে জাহান্নামে বন্দী থাকতে হবে।
আয়াতে এ বাক্যটি উল্লেখ করে বোঝানো হচ্ছে যে, যেই ঈমানদারদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা জান্নাতে পুরস্কৃত হবে এবং তাদের মুমিন সন্তানদেরকেও তাদের স্তরে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে, তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদের দেনা শোধ করে ফেলেছে এবং নিজেদেরকে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত করে নিয়েছে। কিন্তু কারও সন্তান যদি মুমিনই না হয়, তবে পিতা-মাতার ঈমান আনার দ্বারা তার কোন উপকার হবে না। কেননা যে জন্য তার সত্তা বন্ধক রাখা ছিল তা সে পরিশোধ করেনি। তাই তাকে জাহান্নামে আটক হয়ে থাকতে হবে। এ স্থলে বাক্যটির আরও এক তাৎপর্য থাকা সম্ভব। তা এই যে, পিতার পুণ্যের কারণে তার সন্তানের মর্যাদা তো বৃদ্ধি করা হবে, কিন্তু সন্তানের দুষ্কর্মের কারণে পিতাকে কোন শাস্তি ভোগ করতে হবে না। কেননা প্রত্যেকের সত্তা তার নিজ কর্মের বিনিময়েই বন্ধক রাখা আছে, অন্যের কর্মের বিনিময়ে নয়।