আল ফাত্‌হ

সূরা নং: ৪৮, আয়াত নং: ২৬

তাফসীর
اِذۡ جَعَلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الۡحَمِیَّۃَ حَمِیَّۃَ الۡجَاہِلِیَّۃِ فَاَنۡزَلَ اللّٰہُ سَکِیۡنَتَہٗ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَعَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَاَلۡزَمَہُمۡ کَلِمَۃَ التَّقۡوٰی وَکَانُوۡۤا اَحَقَّ بِہَا وَاَہۡلَہَا ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ٪

উচ্চারণ

ইযজা‘আলাল্লাযীনা কাফারূফী কুলূবিহিমুল হামিইইয়াতা হামিইয়াতালজা-হিলিইইয়াতি ফাআনঝালাল্লা-হু ছাকীনাতাহূ‘আলা-রাছূলিহী ওয়া আলাল মু’মিনীনা ওয়া আলঝামাহুম কালিমাতাততাকওয়া-ওয়া কা-নূআহাক্কা বিহা-ওয়া আহ লাহা- ওয়া কা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীমা-।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

কাফেরগণ যখন তাদের অন্তরে অহমিকাকে স্থান দিল যা ছিল জাহেলী যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মুসলিমদের উপর নিজ প্রশান্তি বর্ষণ করলেন ২৭ এবং তাদেরকে তাকওয়ার বিষয়ে স্থিত করে রাখলেন ২৮ আর তারা তো এরই বেশি হকদার ও এর উপযুক্ত ছিল। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৭. কুরাইশ পক্ষ যদিও শেষ পর্যন্ত সন্ধি স্থাপনে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু যখন সন্ধিপত্র লেখার সময় আসল, তখন তারা কেবল জাহেলী অহমিকা ও আত্মম্ভরিতার কারণে এমন কিছু বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছিল, যা সাহাবায়ে কেরামের পক্ষে চরম অপ্রীতিকর ছিল। যেমন সন্ধিপত্রের শুরুতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামبِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ লিখিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তাতে আপত্তি করল এবং গোঁ ধরে বসল যে, بِاسْمِكَ اللّٰهُمَّ লিখতে হবে। এমনিভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে رسول الله লেখা হয়েছিল। তারা তা মোছানোর জন্য জোরাজুরি করল। এসব কারণে সাহাবায়ে কেরাম খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন, কিন্তু সন্ধি স্থাপিত করাই যেহেতু ছিল আল্লাহ তাআলার অভিপ্রেত, তাই আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে বাড়তি সহিষ্ণুতা সঞ্চার করলেন। সেই সহিষ্ণুতাকেই এখানে ‘সাকীনা’ (প্রশান্তি) শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।