আছ ছাফ্‌ফাত

সূরা নং: ৩৭, আয়াত নং: ১৪০

তাফসীর
اِذۡ اَبَقَ اِلَی الۡفُلۡکِ الۡمَشۡحُوۡنِ ۙ

উচ্চারণ

ইয আবাকা ইলাল ফুলকিল মাশহূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

যখন পালিয়ে একটি বোঝাই নৌকায় পৌঁছল। ২৮

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৮. হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা সূরা ইউনুসেও (১০ : ৯৮) সংক্ষেপে চলে গেছে এবং কিছুটা সূরা আম্বিয়ায়ও (২১ : ৮৭)। তিনি ইরাকের ‘নিনেভা’ অঞ্চলে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিজ কওমকে দাওয়াত দিতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই যখন তারা তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না, তখন তিনি তাদেরকে সাবধান করে দিলেন, তিন দিনের ভেতরেই তোমাদের উপর আযাব আসবে। কওমের লোক বলাবলি করল, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তো কখনও মিথ্যা কথা বলেন না, কাজেই তিনি যদি এলাকা ছেড়ে চলে যান, বুঝবে তিনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুমে বসতি ছেড়ে চলে গেলেন। এদিকে বসতির লোকে যখন দেখল তিনি সেখানে নেই এবং শাস্তির কিছু পূর্বাভাসও নজরে পড়ল, তখন তারা অনুতপ্ত হল ও তাওবা করল। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের আযাব সরিয়ে নিলেন। তাদের তাওবার কথা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের জানা ছিল না। তিনি যখন দেখলেন তিন দিন গত হওয়ার পরও আযাব আসল না, তখন ভয় পেয়ে গেলেন এবং আশঙ্কা বোধ করলেন এলাকায় ফিরে গেলে কওমের লোক তাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে, এমনকি তারা তাকে হত্যাও করে ফেলতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি আল্লাহ তাআলার হুকুম আসার আগেই সাগরের দিকে অগ্রসর হলেন। এলাকায় আর ফিরে আসলেন না। সাগর পার হওয়ার জন্য তিনি একটি নৌকায় চড়লেন। নৌকাটি ছিল যাত্রীতে বোঝাই। তিনি যেহেতু আল্লাহ তাআলার এক মহা মর্যাদাবান নবী, তাই আদেশ পাওয়ার আগেই তাঁর এলাকা ত্যাগ আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। জানা কথা, বড় মানুষের তুচ্ছ ভুলও ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং তাঁকেও ধরা হল। যাত্রী বেশী হওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কাজেই বোঝা হালকা করার জন্য দরকার পড়েছিল একজনকে নৌকা থেকে ফেলে দেওয়ার। কিন্তু কাকে ফেলা হবে এটা নিষ্পত্তির জন্য লটারী ধরা হল। কয়েক বারই তা ধরা হল, কিন্তু প্রতিবারই নাম উঠছিল হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের। অগত্যা তাকেই পানিতে ফেলে দেওয়া হল। যেখানে ফেলা হয়েছিল আল্লাহ তাআলার হুকুমে সেখানে একটি মাছ তাঁর অপেক্ষায় ছিল। মাছটি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গিলে ফেলল। তিনি কিছুকাল তার পেটে থাকলেন। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় তার মেয়াদ ছিল তিন দিন। কোন কোন বর্ণনায় কয়েক ঘণ্টার কথাও বলা হয়েছে, যেমন সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে। তিনি মাছের পেটে তাসবীহ পড়ছিলেন لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ ۝ ‘তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তুমি মহান, পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি একজন অপরাধী’।