আর রুম

সূরা নং: ৩০, আয়াত নং: ৪৬

তাফসীর
وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنۡ یُّرۡسِلَ الرِّیَاحَ مُبَشِّرٰتٍ وَّلِیُذِیۡقَکُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَلِتَجۡرِیَ الۡفُلۡکُ بِاَمۡرِہٖ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ

উচ্চারণ

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআইঁ ইউরছিলার রিয়া-হামুবাশশিরা-তিওঁ ওয়া লিইউযীকাকুম মিররাহমাতিহী ওয়া লিতাজরিয়াল ফুলকুবিআমরিহী ওয়া লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাঁর (কুদরতের) একটি নিদর্শন এই যে, তিনি বায়ু প্রেরণ করেন (বৃষ্টির) সুসংবাদবাহীরূপে, তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করানোর জন্য এবং যাতে নৌযান তাঁর নির্দেশে (পানিতে) চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান কর ২৪ এবং তার শোকর আদায় কর।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৪. আল্লাহ তাআলা মানুষের বহুবিধ উপকারার্থে বাতাস প্রবাহিত করে থাকেন, যেমন এক উপকার হল, বাতাস বৃষ্টির সুসংবাদ নিয়ে আসে এবং যেখানে বৃষ্টির দরকার সেখানে মেঘমালা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এভাবে বাতাস বৃষ্টি বর্ষণের বাহ্যিক কারণ হয়ে থাকে। আরেকটি ফায়দা হল, তা সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচলে সাহায্য করে। পালের জাহাজ তো বায়ু প্রবাহের উপরই সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। যান্ত্রিক নৌযানও কোনও না কোনওভাবে বাতাসের কাছে ঠেকা। আর সাগর-নদীতে নৌযান চালানোর উপকার বলা হয়েছে এই যে, মানুষ তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারে। পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধান’ হল কুরআন মাজীদের একটি পরিভাষা। এর দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়- উপার্জনের অন্যান্য উপায় অবলম্বন বোঝানো হয়ে থাকে। কুরআন মাজীদ ইশারা করছে যে, যদি এই বায়ু প্রবাহ না থাকত, যার সাহায্যে সাগর ও নদীতে নৌযান চলাচল করে, তবে তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ হয়ে যেত। কেননা আন্তর্জাতিক সকল ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধানত নৌপথেই পরিচালিত হয়ে থাকে। আমদানি-রফতানীর সিংহভাগই জাহাজযোগে সম্পন্ন হয়। সুতরাং এ বায়ু প্রবাহ তোমাদের প্রতি আল্লাহ তাআলার এক মহা করুণা।