আর রুম

সূরা নং: ৩০, আয়াত নং: ৩৯

তাফসীর
وَمَاۤ اٰتَیۡتُمۡ مِّنۡ رِّبًا لِّیَرۡبُوَا۠ فِیۡۤ اَمۡوَالِ النَّاسِ فَلَا یَرۡبُوۡا عِنۡدَ اللّٰہِ ۚ وَمَاۤ اٰتَیۡتُمۡ مِّنۡ زَکٰوۃٍ تُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَ اللّٰہِ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُضۡعِفُوۡنَ

উচ্চারণ

ওয়ামাআ-তাইতুম মির রিবাল লিয়ারবুওয়া ফীআমওয়া-লিন্না-ছি ফালা-ইয়ারবূ‘ইনদাল্লা-হি ওয়ামাআ-তাইতুম মিন ঝাকা-তিন তুরীদূ না ওয়াজহাল্লা-হি ফাউলাইকা হুমুল মু দ‘ইফূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা যে সুদ দাও, যাতে তা মানুষের সম্পদে (যুক্ত হয়ে) বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। ২১ পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক, তো যারা তা দেয় তারাই (নিজেদের সম্পদ) কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে নেয়। ২২

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২১. প্রকাশ থাকে যে, সূরা রূমের এ আয়াত নাযিল হয়েছিল মক্কা মুকাররমায় এবং এটাই প্রথম আয়াত, যাতে সুদের নিন্দা করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় সুদ হারাম করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে কখনও যে এটা হারাম হয়ে যেতে পারে এ আয়াত তার একটা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত বহন করে। বলা হয়েছে, সুদের আয় আল্লাহর কাছে বাড়ে না। অর্থাৎ সুদগ্রহীতা তো আশা করে তা দ্বারা তার সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে তা আদৌ বৃদ্ধি পায় না। কেননা প্রথমত দুনিয়ায়ও হারাম উপার্জনে বরকত হয় না, তা অঙ্কে যতই বেশি হোক না কেন। অর্থ-সম্পদের সার্থকতা তো এখানেই যে, মানুষ তা দ্বারা শান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, হারাম পন্থায় উপার্জনকারী যত বড় অঙ্কের সম্পদই অর্জন করুক, সুখণ্ডশান্তি তার নসীব হয় না। অধিকাংশ সময়ই সে নানা রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় জর্জরিত থাকে। দ্বিতীয়ত তার যে বাহ্যিক প্রবৃদ্ধি লাভ হয় তা আখেরাতে কোন কাজে আসবে না। পক্ষান্তরে দান-সদকা আখেরাতে অভাবনীয় উপকার দেবে। এ বিষয়টিই সূরা বাকারায় আল্লাহ তাআলা এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, (আল্লাহ সুদ মিটিয়ে দেন ও সদকা বৃদ্ধি করেন) (২ : ২৭৬)। উল্লেখ্য, এ আয়াতে যে الربا শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এর প্রসিদ্ধ অর্থ তো সুদ, কিন্তু এর আরেক অর্থ হল এমন উপহার যা অধিকতর মূল্যবান উপহার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন বিবাহ-শাদিতে নিমন্ত্রিতদের পক্ষ হতে যে উপহার দেওয়া হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য এটাই হয়ে থাকে। বহু মুফাসসির এখানে الربا-এর অর্থ এটাই গ্রহণ করেছেন এবং এর ভিত্তিতে তারা ‘নেওতা’ (অর্থাৎ অধিক প্রাপ্তির আশায় বিবাহ-শাদিতে উপহাররূপে নগদ অর্থ প্রদানের) রেওয়াজকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। অধিক মূল্যবান উপহার লাভের প্রত্যাশায় যে উপহার দেওয়া হয়, সূরা মুদ্দাচ্ছিরেও তাকে নাজায়েয বলা হয়েছে (আয়াত নং ৭৪ : ৬)।