অতঃপর আমি অল্প-অল্প করে তাকে নিজের দিকে গুটিয়ে আনি। ২৩
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২৩. এখান থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরতের কয়েকটি নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর প্রত্যেকটি নিদর্শনই আল্লাহ তাআলার তাওহীদের প্রমাণ বহন করে। চিন্তাশীল মাত্রই চিন্তা করলে বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবে। সর্বপ্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে রোদ ও ছায়ার পরিবর্তনের দিকে। এ পরিবর্তন মানব জীবনের জন্য অতীব জরুরী। পৃথিবীতে সর্বক্ষণ রোদ থাকলে যেমন মানব জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, তেমনি সর্বদা ছায়া থাকলেও জীবনের সব ক্ষেত্রে দেখা দেবে মহা বিপর্যয়। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণার্থে উভয়টিকে এক চমৎকার নিয়ম-নিগড়ে বেঁধে দিয়েছেন। প্রতিদিন মানুষ ক্রমবৃদ্ধি ও ক্রমহ্রাস প্রক্রিয়ায় উভয়টিই পেয়ে থাকে। ভোরবেলা ছায়া থাকে সম্প্রসারিত। তারপর রোদের ক্রমবৃদ্ধির সাথে সাথে ছায়া ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে থাকে। সূর্যকে ছায়ার পথনির্দেশক বানানোর অর্থ এটাই যে, সূর্য যত উপরে ওঠে ছায়া তত কমতে থাকে। এভাবে কমতে কমতে দুপুর সময়ে তা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়। যে বিষয়টাকে আল্লাহ পাক “নিজের দিকে গুটিয়ে আনি” বলে ব্যক্ত করেছেন। অতঃপর সূর্য যতই পশ্চিম দিগন্তে ঢলে পড়ে ছায়া ততই ধীরে ধীরে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি সূর্যাস্তকালে তা পুরো দিগন্ত ঘিরে ফেলে। এভাবে রোদ ও ছায়ার এ পরিবর্তন মানুষ ধীরে ধীরে লাভ করে। ফলে অকস্মাৎ পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে সে রক্ষা পায়।