আল আম্বিয়া

সূরা নং: ২১, আয়াত নং: ২২

তাফসীর
لَوۡ کَانَ فِیۡہِمَاۤ اٰلِہَۃٌ اِلَّا اللّٰہُ لَفَسَدَتَا ۚ فَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ

উচ্চারণ

লাও কা-না ফীহিমাআ-লিহাতুন ইল্লাল্লা-হু লাফাছাদাতা- ফাছুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল ‘আরশি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

যদি আসমান ও যমীনে আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। ১১ সুতরাং তারা যা বলছে, আরশের মালিক আল্লাহ তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১১. এটা তাওহীদের একটি সহজ-সরল প্রমাণ। এর ব্যাখ্যা হল, বিশ্বজগতে যদি একের বেশি প্রভু থাকত, তবে প্রত্যেক প্রভু স্বতন্ত্র প্রভুত্বের অধিকারী হত এবং কেউ কারও অধীন হত না। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের সিদ্ধান্ত আলাদা হতে পারত, ফলে বিরোধ অনিবার্য হয়ে যেত। যখন দু’জনের সিদ্ধান্তে বিরোধ দেখা দিত, তখন তাদের একজন কি অন্যজনের কাছে হার মানত? হার মানলে সে কেমন ঈশ্বর হল, যে অন্যের বশ্যতা স্বীকার করে? আর যদি কেউ হার না মানে; বরং প্রত্যেকেই আপন-আপন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সচেষ্ট হয়, তবে পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দ্বারা আসমান-যমীনের শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হয়ে যেত। এ দলীলের অন্য রকম ব্যাখ্যাও করা যায়। যেমন, যারা আসমান ও যমীনের জন্য ভিন্ন-ভিন্ন ঈশ্বরের কথা বলে, তারা কি বিশ্ব জগতের ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? তা করলে তাদের এ আকীদা আপনিই বাতিল সাব্যস্ত হত। কেননা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সমগ্র জগত একই নিয়ম নিগড়ে বাঁধা, একই সূত্রে গাথা। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে নদী-সাগর, পাহাড়-পর্বত, উদ্ভিদ ও জড় পদার্থ পর্যন্ত সব কিছুই সুসমঞ্জস; কোথাও একটু বৈসাদৃশ্য নেই। এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে এগুলো একই ইচ্ছার প্রতিফলন এবং একই পরিকল্পনার অধীনে এরা নিজ-নিজ কাজে নিয়োজিত। আসমান ও যমীনের মালিক আলাদা হলে মহাবিশ্বের এই ঐকতান সম্ভব হত না, সর্বত্র এমন সাজুয্য থাকত না। বরং নানা ক্ষেত্রে নানা রকম অসঙ্গতি দেখা দিত। ফলে বিশ্ব জগতে ঘটত মহা বিপর্যয়।