فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا وَلَنۡ تَفۡعَلُوۡا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیۡ وَقُوۡدُہَا النَّاسُ وَالۡحِجَارَۃُ ۚۖ اُعِدَّتۡ لِلۡکٰفِرِیۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
২১. পূর্বের ২১ ও ২২ নং আয়াতে তাওহীদের বর্ণনা ছিল। ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আকীদা হল রিসালাত। এবার ২৩ নং আয়াত হতে তার বর্ণনা। এ প্রসঙ্গে আরবের সেই সকল লোকের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, যারা কুরআনের প্রতি ঈমান না এনে বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অপবাদ দিত যে, তিনি একজন কবি এবং তিনি নিজেই এ কুরআন রচনা করেছেন। তাদেরকে বলা হচ্ছে, এ কুরআনের মত কোনও বাণী যদি মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব হয়, তবে তোমরা যারা অনেক বড় কবি-সাহিত্যিক, সকলে মিলে কুরআনের যে-কোনও একটা সূরার মত একটা সূরা তৈরি করে আন। সাথে সাথে কুরআন এই দাবীও করেছে যে, তোমরা সকলে মিলেও এরূপ সূরা তৈরি করতে পারবে না। আর বাস্তবতা এটাই যে, নিজেদের ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে যে আরবদের অনেক গর্ব ছিল, এই চ্যালেঞ্জের পর তারা সকলেই পরাজয় মানতে বাধ্য হয়। তাদের একজনও এ চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পারেনি। বড় বড় কবি-সাহিত্যিক এই ঐশী বাণীর সম্মুখে নতজানু হয়ে বসে পড়ে। এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত ও কুরআন মাজীদের সত্যতা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।