আল বাকারা

সূরা নং: ২, আয়াত নং: ২২

তাফসীর
الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ فِرَاشًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً ۪ وَّاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَخۡرَجَ بِہٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزۡقًا لَّکُمۡ ۚ فَلَا تَجۡعَلُوۡا لِلّٰہِ اَنۡدَادًا وَّاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

উচ্চারণ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা ফিরা-শাওঁ ওয়াছছামাআ বিনাআওঁ ওয়া আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজা বিহী মিনাছছামারা-তি রিঝকাল্লাকুম ফালা-তাজ‘আলূলিল্লা-হি আনদা-দাওঁ ওয়া আনতুম তা‘লামূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(সেই প্রতিপালকের), যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা বানিয়েছেন এবং আকাশকে ছাদ। আর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। তারপর তার মাধ্যমে তোমাদের জীবিকারূপে ফল-ফলাদি উদগত করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোনও শরীক স্থির করো না- যখন তোমরা (এসব বিষয়) জান। ২০

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২০. ইসলামের সর্বাপেক্ষা বুনিয়াদী আকীদা হল তাওহীদ। এ আয়াতে তারই দাওয়াত দেয়া হয়েছে এবং সংক্ষিপ্তরূপে তার প্রমাণও উপস্থিত করা হয়েছে। আরবগণ স্বীকার করত, নিখিল বিশ্বের অস্তিত্ব দান করা, আকাশমণ্ডল সৃষ্টি করা, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং তা দ্বারা ফল ও ফসল উৎপন্ন করা- এসব আল্লাহ তাআলারই কাজ। এতদসত্ত্বেও তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তাআলা বহু কাজের দায়-দায়িত্ব দেব-দেবীর উপর ন্যস্ত করেছেন। সেমতে দেব-দেবীগণ নিজ-নিজ কাজে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখে। কাজেই দেব-দেবীগণ তাদের সাহায্য করবে এই আশায় তারা তাদের পূজা-অর্চনা করত। আল্লাহ তাআলা বলছেন, যখন সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা আমিই এবং বিশ্ব জগতের পরিচালনায় যখন আমার কারও থেকে কোনও রকমের সাহায্য গ্রহণের প্রয়োজন নেই, তখন ইবাদত-উপাসনা তো কেবল আমারই করা উচিত। এটাই তো বিবেক-বুদ্ধির দাবি। এ দাবি উপেক্ষা করে অন্য কারও উপাসনা করা কত বড়ই না অবিচার!