یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقُوۡلُوۡا رَاعِنَا وَقُوۡلُوا انۡظُرۡنَا وَاسۡمَعُوۡا ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৭৬. মদীনায় বসবাসকারী ইয়াহুদীদের একটি দল ছিল অতিশয় দুষ্ট। তারা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করত, তখন তাকে লক্ষ্য করে বলত ‘রাইনা’ (رَاعِنَا)। আরবীতে এর অর্থ ‘আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন’। এ হিসেবে শব্দটিতে কোনও দোষ নেই এবং এর মধ্যে বেআদবীরও কিছু নেই। কিন্তু ইয়াহুদীদের ধর্মীয় ভাষা হিব্রুতে এরই কাছাকাছি একটি শব্দ অভিশাপ ও গালি অর্থে ব্যবহৃত হত। তাছাড়া এ শব্দটিকেই যদি “ع” এর দীর্ঘ উচ্চারণে পড়া হয়, তবে رَاعِيْنَا হয়ে যায়, যার অর্থ ‘আমাদের রাখাল’।
মোটকথা ইয়াহুদীদের আসল উদ্দেশ্য ছিল শব্দটিকে মন্দ অর্থে ব্যবহার করা। কিন্তু আরবীতে যেহেতু বাহ্যিকভাবে শব্দটিতে কোনও দোষ ছিল না, তাই কতিপয় সরলপ্রাণ মুসলিমও শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে দেয়। এতে ইয়াহুদীরা বড় খুশী হত এবং ভেতরে ভেতরে মুসলিমদের নিয়ে মজা করত। তাই এ আয়াতে মুসলিমদেরকে তাদের এ দুষ্কর্ম সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদেরকে এ শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এ শিক্ষাও দেওয়া হয়েছে যে, যে শব্দের ভেতর কোনও মন্দ অর্থের অবকাশ থাকে বা যা দ্বারা ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকে, সে রকম শব্দ ব্যবহার করা সমীচীন নয়। পরবর্তী আয়াতে এ সকল হঠকারিতাপূর্ণ আচরণের আসল কারণও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তা এই যে, নবুওয়াতের মহা নিয়ামত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন দান করা হল সেজন্য তারা ঈর্ষান্বিত ছিল। সেই ঈর্ষার কারণেই তারা এসব করে থাকে।