আল কাহ্‌ফ

সূরা নং: ১৮, আয়াত নং: ৩২

তাফসীর
وَاضۡرِبۡ لَہُمۡ مَّثَلًا رَّجُلَیۡنِ جَعَلۡنَا لِاَحَدِہِمَا جَنَّتَیۡنِ مِنۡ اَعۡنَابٍ وَّحَفَفۡنٰہُمَا بِنَخۡلٍ وَّجَعَلۡنَا بَیۡنَہُمَا زَرۡعًا ؕ

উচ্চারণ

ওয়াদরিব লাহুম মাছালার রাজুলাইনি জা‘আলনা-লিআহাদিহিমা-জান্নাতাইনি মিন আ‘নাবিওঁ ওয়া হাফাফনা-হুমা বিনাখলিওঁ ওয়াজা‘আলনা-বাইনাহুমা-ঝার‘আ-।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তাদের সামনে সেই দুই ব্যক্তির উপমা পেশ কর, ২৫ যাদের একজনকে আমি আঙ্গুরের দু’টি বাগান দিয়েছিলাম এবং সে দু’টিকে খেজুর গাছ দ্বারা ঘেরাও দিয়ে রেখেছিলাম আর বাগান দু’টির মাঝখানকে শস্যক্ষেত্র বানিয়েছিলাম।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৫. ২৮ নং আয়াতে কাফের নেতৃবর্গের অহমিকার প্রতি ইশারা করা হয়েছিল, যে অহমিকার কারণে তারা গরীব মুসলিমদের সাথে বসতে পছন্দ করত না। এবার আল্লাহ তাআলা এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা দ্বারা অর্থ-সম্পদের স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে যায় এবং সমঝদার ব্যক্তি মাত্রই বুঝতে সক্ষম হয় সম্পদের প্রাচুর্য এমন কোন জিনিস নয়, যার কারণে অহমিকা প্রকাশ করা যায়। আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্কে মজবুত না থাকলে বড় বড় মালদারকেও পরিণামে আফসোস করতে হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পর্ক যদি ঠিক থাকে, তবে নিতান্ত গরীবও ধনবানদেরকে পিছনে ফেলে বহু দূর এগিয়ে যায়। এখানে যে দুই ব্যক্তির উপমা দেওয়া হয়েছে, নির্ভরযোগ্য কোনও বর্ণনায় তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। কোন কোন মুফাসসির উল্লেখ করেছেন, তারা বনী ইসরাঈলের লোক। উত্তরাধিকার সূত্রে তারা তাদের পিতার থেকে বিপুল সম্পদ পেয়েছিল। তাদের একজন ছিল কাফের। সে অর্থ-সম্পদেই মত্ত থাকল। অপরজন তার সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করতে থাকল। এক পর্যায়ে অন্যজন অপেক্ষা তার সম্পদের পরিমাণ কমে গেল। কিন্তু তার প্রতি আল্লাহর রহমত ছিল। অপরজন কুফরী হেতু তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত হল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর গযবে তার অর্থ-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। তখন আফসোস করা ছাড়া তার আর কিছু করার থাকল না।