বনী-ইসরাঈল

সূরা নং: ১৭, আয়াত নং: ১

তাফসীর
سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ

উচ্চারণ

ছুবহা-নাল্লাযীআছরা-বিআ‘বদিহী লাইলাম মিনাল মাছজিদিল হারা-মি ইলাল মাছজিদিল আকসাল্লাযী বা-রাকনা- হাওলাহূলিনুরিয়াহূমিন আ-য়া-তিনা- ইন্নাহূ হুওয়াছছামী‘উল বাসীর।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর শ্রোতা এবং সব কিছুর জ্ঞাতা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১. মিরাজের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত। সীরাত ও হাদীসের কিতাবসমূহে ঘটনাটি বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। তার সারমর্ম এইরূপ হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাতের বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং তাঁকে একটি জন্তুর পিঠে সওয়ার করালেন। জন্তুটির নাম ছিল বুরাক। সেটি বিদ্যুৎগতিতে তাঁকে মসজিদুল হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিয়ে গেল। এই হল মিরাজ ভ্রমণের প্রথম অংশ। একে ইসরা বলা হয়। তারপর হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সাত আসমানে নিয়ে গেলেন। প্রত্যেক আসমানে অতীতের কোনও না কোনও নবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হল। তারপর জান্নাতের সিদরাতুল মুনতাহা নামক একটি বৃক্ষের কাছে পৌঁছলেন এবং তিনি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সৌভাগ্য লাভ করলেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেন। তারপর রাতের মধ্যেই তিনি মক্কা মুকাররমায় ফিরে আসেন। এ আয়াতে সফরের কেবল প্রথম অংশটুকুই বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা সামনে যে আলোচনা আসছে তার সম্পর্ক এই অংশের সাথেই বেশি। তবে সফরের দ্বিতীয় অংশের বর্ণনাও কুরআন মাজীদে আছে, যা শেষ দিকে সূরা নাজমে আসছে (৫৩ : ১৩-১৮)। সহীহ রিওয়ায়াত অনুযায়ী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ অলৌকিক সফর জাগ্রত অবস্থাতেই হয়েছিল। এভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ কুদরতের এক মহা নিদর্শন দেখিয়ে দেন। এটা সম্পূর্ণ গলত কথা যে, এ ঘটনা স্বপ্নযোগে হয়েছিল, জাগ্রত অবস্থায় নয়। গলত হওয়ার কারণ, একথা বহু সহীহ হাদীসের পরিপন্থী তো বটেই, খোদ কুরআন মাজীদেরও খেলাফ। কুরআন মাজীদের বর্ণনাশৈলী দ্বারা সুস্পষ্টভাবে জানা যায় এটা ছিল এক অস্বাভাবিক ঘটনা, যাকে আল্লাহ তাআলা নিজের নিদর্শন সাব্যস্ত করেছেন। এটা যদি একটা স্বপ্নমাত্র হত, তবে তাতে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। কেননা স্বপ্নে তো মানুষ কত কিছুই দেখে থাকে। কাজেই এ ঘটনা স্বপ্নযোগে ঘটে থাকলে কুরআন মাজীদে একে আল্লাহ তাআলার নিদর্শন সাব্যস্ত করার কোন অর্থ থাকে না।