فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰہِ الۡاَمۡثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৪১. আরব মুশরিকগণ অনেক সময় দৃষ্টান্ত পেশ করত যে, দুনিয়ার কোনও বাদশাহ নিজে একা রাজত্ব চালায় না। বরং রাজত্বের বহু কাজই সহযোগীদের হাতে ছাড়তে হয়। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলাও তার প্রভুত্বের বহু কাজ দেব-দেবীদের হাতে ন্যস্ত করে দিয়েছেন। তারা সেসব কাজ স্বাধীনভাবে আঞ্জাম দেয় (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াতে তাদেরকে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার জন্য দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের কিংবা যে-কোনও মাখলুকের দৃষ্টান্ত পেশ করা চরম পর্যায়ের মূর্খতা। অতঃপর ৭৪ থেকে ৭৬ পর্যন্ত আয়াতসমূহ আল্লাহ তাআলা দু’টি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। তা দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য, যদি সৃষ্টির দৃষ্টান্তই দেখতে হয়, তবে এ দৃষ্টান্ত দু’টো লক্ষ্য কর। এর দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সৃষ্টিতে-সৃষ্টিতেও প্রভেদ আছে। কোন সৃষ্টি উচ্চ স্তরের হয়, কোন সৃষ্টি নিম্নস্তরের। যখন দুই সৃষ্টির মধ্যে এমন প্রভেদ, তখন স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কেমন প্রভেদ থাকতে পারে? তা সত্ত্বেও ইবাদত-বন্দেগীতে কোনও সৃষ্টিকে স্রষ্টার অংশীদার কিভাবে বানানো যেতে পারে?