وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ یَتَوَفّٰىکُمۡ ۟ۙ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِکَیۡ لَا یَعۡلَمَ بَعۡدَ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ٪
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩৮. চরম বার্ধক্যকে ‘অকর্মণ্য বয়স’ বলা হয়েছে, যে বয়সে মানুষের দৈহিক ও মানসিক শক্তি অকেজো হয়ে যায়। ‘সবকিছু জানা সত্ত্বেও কিছুই না জানা’-এর এক অর্থ হল, মানুষ জীবনের বিগত দিনগুলোতে যেসব জ্ঞান অর্জন করে, বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর তার অধিকাংশই ভুলে যায়। এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, বার্ধক্যকালে মানুষ সদ্য শোনা কথাও মনে রাখতে পারে না। প্রায়ই এমন হয় যে, এইমাত্র তাকে একটা কথা বলা হল, আর পরক্ষণেই সে একই কথা আবার জিজ্ঞেস করে, যেন সে সম্পর্কে তাকে কিছুই বলা হয়নি। এসব বাস্তবতা বর্ণনা করার উদ্দেশ্য গাফেল মানুষকে সজাগ করা এবং তার দৃষ্টি এদিকে আকর্ষণ করা যে, তার যা-কিছু শক্তি তা আল্লাহ তাআলারই দান। তিনি যখন ইচ্ছা করেন তা আবার কেড়েও নেন। কাজেই নিজের কোন যোগ্যতা ও ক্ষমতার কারণে বড়াই করা উচিত নয়; বরং তার অবস্থার এই চড়াই-উৎরাইয়ের দ্বারা তার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। উপলব্ধি করা উচিত যে, এই জগত-কারখানা এক মহাজ্ঞানী, মহাশক্তিমান স্রষ্টার সৃষ্টি। তাঁর কোনও শরীক নেই। শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে।