اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۙ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
১৮. এ আয়াতে যেমন আখেরাতের অবশ্যম্ভাবিতা বর্ণনা করা হয়েছে, তেমনি এ সম্বন্ধে কাফেরদের মনে যে সংশয়-সন্দেহ দানা বাঁধে তারও জবাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছে, এ বিশ্বজগত যথাযথ এক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তাআলার অনুগত বান্দাদেরকে পুরস্কার দান করা এবং তাঁর অবাধ্যদেরকে শাস্তি দেওয়া। আখেরাত না থাকলে ভালো-মন্দ এবং অনুগত ও অবাধ্য সব সমান হয়ে যায়। সুতরাং এটা ইনসাফের দাবী যে, ইহজগতের পর আরেকটি জগত থাকবে, যেখানে প্রত্যেককে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হবে। বাকি থাকল কাফেরদের এই খট্কা যে, মৃত্যুর পর মানুষ তো মাটিতে মিশে যায়। এ অবস্থায় সে পুনরায় জীবিত হবে কিভাবে? পরবর্তী বাক্যে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার শক্তি অসীম। তিনি ইচ্ছা করলে তো এটাও করতে পারেন যে, তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে এক নতুন মাখলুক সৃষ্টি করবেন। বলাবাহুল্য, সম্পূর্ণ নতুনরূপে কোন মাখলুককে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই তুলনায় যে মাখলুক একবার অস্তিত্ব লাভ করেছে তার মৃত্যু ঘটিয়ে তাকে পুনরায় জীবন দান করা অনেক সহজ। তো আল্লাহ তাআলা যখন অধিকতর কঠিন কাজটিই অনায়াসে করার ক্ষমতা রাখেন, তখন তুলনামূলক যেটি সহজ, সেটি কেন তার পক্ষে কঠিন হবে? নিঃসন্দেহে সেটি করতেও তিনি সমানভাবে সক্ষম।