হুদ

সূরা নং: ১১, আয়াত নং: ৮৭

তাফসীর
قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ اَصَلٰوتُکَ تَاۡمُرُکَ اَنۡ نَّتۡرُکَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَاۤ اَوۡ اَنۡ نَّفۡعَلَ فِیۡۤ اَمۡوَالِنَا مَا نَشٰٓؤُا ؕ اِنَّکَ لَاَنۡتَ الۡحَلِیۡمُ الرَّشِیۡدُ

উচ্চারণ

কা-লূইয়া-শু‘আইবুআসালা-তুকা তা’মুরুকা আন নাতরুকা মা-ইয়া‘বুদুআ-বাউনাআও আন্নাফ‘আলা ফীআমওয়া-লিনা-মা-নাশাউ ইন্নাকা লাআনতাল হালীমুর রাশীদ।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলল, হে শুআইব! তোমার নামায কি তোমাকে এই আদেশ করছে যে, আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের ইবাদত করত, আমরা তাদেরকে পরিত্যাগ করব এবং নিজেদের অর্থ-সম্পদে যা ইচ্ছা হয় তা করব না? ৬১ তুমি তো বড় বুদ্ধিমান ও সদাচারী লোক! ৬২

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৬১. এটা হচ্ছে পুঁজিবাদী মানসিকতা যে, আমার হস্তগত সম্পদে আমার একচ্ছত্র অধিকার। কাজেই তাতে আমার যা-ইচ্ছা তাই করার এখতিয়ার রয়েছে। এতে কারও বাধা দেওয়ার কোনও হক নেই। এর বিপরীতে কুরআন মাজীদের ইরশাদ হল, অর্থ-সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তাআলার। অবশ্য তিনি নিজ অনুগ্রহে মানুষকে তাতে সাময়িক মালিকানা দান করেছেন (দেখুন সূরা ইয়াসীন ৩৬ : ৭১)। সুতরাং এ মালিকানায় নিজ ইচ্ছামত বিধি-নিষেধ আরোপ করার (দ্র. সূরা কাসাস ২৮ : ৭৭) এবং যেখানে ভালো মনে করেন ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর রয়েছে (সূরা নূর ২৪ : ৩৩)। আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে এসব বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয় এজন্য, যাতে প্রত্যেকে নিজ অর্থ-সম্পদের আয়-ব্যয় সুষ্ঠু-সঠিক পন্থায় সম্পন্ন করে। ফলে আর্থ-সামাজিক জীবনে প্রত্যেকে সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। কেউ কারও প্রতি জুলুম করতে পারবে না এবং সকলের মধ্যে ইনসাফের সাথে অর্থ-সম্পদ বণ্টিত হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য দ্র. (মূলঃ) হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কৃত ‘ইসলামের অর্থ-বণ্টন ব্যবস্থা’।