হুদ

সূরা নং: ১১, আয়াত নং: ২৯

তাফসীর
وَیٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُکُمۡ عَلَیۡہِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰہِ وَمَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ اِنَّہُمۡ مُّلٰقُوۡا رَبِّہِمۡ وَلٰکِنِّیۡۤ اَرٰىکُمۡ قَوۡمًا تَجۡہَلُوۡنَ

উচ্চারণ

ওয়া ইয়া-কাওমি লাআছআলুকুম ‘আলাইহি মা-লান ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়ামাআনা-বিতা-রিদিল্লাযীনা আ-মানূ ইন্নাহুম মুলা-কূরাব্বিহিম ওয়ালাকিন্নীআরা-কুম কাওমান তাজহালূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং হে আমার সম্প্রদায়! আমি এর (অর্থাৎ এই তাবলীগের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনও সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিকের দায়িত্ব আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপর নয়। যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমি তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয়ই তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাত করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা অজ্ঞতাসুলভ কথা বলছ। ২০

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২০. অবিশ্বাসীরা বলত, তুমি ওই অল্প আয়ের, নিম্ন পেশার অল্পবুদ্ধির ও নীচ স্তরের লোকগুলোকে তাড়িয়ে দিলে আমরা তোমার কাছে বসতে ও তোমার কথা শুনতে পারি। বস্তুত এটা ছিল তাদের অহমিকা। অর্থ ও ক্ষমতা এভাবেই মানুষকে অহংকারী করে তোলে এবং ঈমানের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই সব যুগে এই স্তরের লোক ঈমান থেকে দূরে থেকেছে এবং গরীব ও সাধারণ স্তরের মানুষ সহজে ঈমান কবুল করেছে। হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তাদেরকে উত্তর দিয়েছেন যে, তোমরা আর্থিক দৈন্যদশা দেখে তাদেরকে হীন ভাবছ এবং সে কারণেই তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার মত অবান্তর কথা বলছ। বস্তুত গরীবী হাল কোন দোষ নয় যে, সেজন্য তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে। বরং গরীব হওয়ার ফলেই তো তাদের পক্ষে ঈমান আনা সহজ হয়েছে এবং এর বদৌলতে তারা আল্লাহ তাআলার সাথে সসম্মানে মিলিত হতে পারবে। কিন্তু অহমিকাবশে তোমরা সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছ না, যে কারণে এ রকম মূর্খতাসুলভ কথা বলছ। -অনুবাদক