ইউনুস

সূরা নং: ১০, আয়াত নং: ৯৮

তাফসীর
فَلَوۡلَا کَانَتۡ قَرۡیَۃٌ اٰمَنَتۡ فَنَفَعَہَاۤ اِیۡمَانُہَاۤ اِلَّا قَوۡمَ یُوۡنُسَ ؕ لَمَّاۤ اٰمَنُوۡا کَشَفۡنَا عَنۡہُمۡ عَذَابَ الۡخِزۡیِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَمَتَّعۡنٰہُمۡ اِلٰی حِیۡنٍ

উচ্চারণ

ফালাওলা-কা-নাত কারইয়াতুন আ-মানাত ফানাফ‘আহাঈমা-নুহা ইল্লা-কাওমা ইঊনুছা লাম্মা আ-মানূকাশাফনা-‘আনহুম ‘আযা-বাল খিঝয়ি ফিল হায়া-তিদদুনইয়াওয়ামাত্তা‘না-হুম ইলা-হীন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তবে কোন জনপদ এমন কেন হল না যে, তারা এমন এক সময় ঈমান আনত, যখন ঈমান তাদের উপকার করতে পারত? অবশ্য ইউনুসের কওম এ রকম ছিল। ৫০ তারা যখন ঈমান আনল তখন পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাকর শাস্তি তাদের থেকে তুলে নিলাম এবং তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত জীবন ভোগ করতে দিলাম।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৫০. পূর্বের আয়াতসমূহে বলা হয়েছিল যে, কারও ঈমান কেবল তখনই উপকারে আসে, যখন সে মৃত্যুর আগে আল্লাহর আযাব প্রত্যক্ষ করার পূর্বেই ঈমান আনে। আযাব এসে যাওয়ার পর ঈমান আনলে তা কাজে আসে না। এ মূলনীতি অনুসারে আল্লাহ তাআলা বলছেন, পূর্বে যত জাতির উপর আযাব এসেছে, তারা কেউ আযাব আসার আগে ঈমান আনেনি, যে কারণে তারা আযাবের শিকার হয়েছে। অবশ্য ইউনুস আলাইহিস সালামের কওম ছিল এর ব্যতিক্রম। তারা আযাব নাযিল হওয়ার পূর্বক্ষণে ঈমান এনেছিল। তাই তাদের ঈমান কবুল হয় এবং সে কারণে আসন্ন শাস্তি তাদের থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা ছিল এ রকম যে, তিনি নিজ সম্প্রদায়কে শাস্তির ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়ে জনপদ থেকে চলে গিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর সম্প্রদায়ের লোক এমন কিছু আলামত দেখতে পেল যদ্দরুণ তাদের বিশ্বাস হয়ে যায় যে, হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম যে ব্যাপারে সাবধান করেছিলেন তা সত্য। সুতরাং আযাব আসার আগেই তারা সকলেই ঈমান এনে ফেলে। ইনশাআল্লাহ তাআলা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা বিস্তারিতভাবে সূরা সাফফাতে আসবে (৩৭ : ১৩৯)। তাছাড়া সূরা আম্বিয়া (২১ : ৮৭) ও সূরা কলামে (৬৮ : ৪৮) তাঁর ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হবে।