সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল বাইয়্যিনাহ (الـبينة) | সুস্পষ্ট প্রমাণ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

لَمۡ یَکُنِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ مُنۡفَکِّیۡنَ حَتّٰی تَاۡتِیَہُمُ الۡبَیِّنَۃُ ۙ ١

লাম ইয়াকুনিল্লাযীনা কাফারূমিন আহলিল কিতা-বি ওয়াল মুশরিকীনা মুনফাক্কীনা হাত্তাতা’তিয়াহুমুল বাইয়িনাহ।

যারা কুফরী করেছে সেই কিতাবী ও মুশরিকগণ ততক্ষণ পর্যন্ত নিবৃত্ত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে।

তাফসীরঃ

১. এ আয়াতসমূহে নবী হিসেবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তা এই যে, জাহেলী যুগে যারা কাফের ছিল, তাতে তারা মুশরিক ও পৌত্তলিক হোক বা কিতাবী, তারা তাদের কাছে এক সুস্পষ্ট প্রমাণ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব না হওয়া পর্যন্ত কুফর পরিত্যাগ করার ছিল না। সুতরাং যারা মুক্তমন নিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাবার্তা সম্পর্কে চিন্তা করেছে তারা বাস্তবিকই কুফর থেকে তাওবা করে ঈমান এনেছে। অবশ্য যারা স্বভাবগতভাবেই জেদী মানসিকতার ছিল তারা এ নি‘আমত থেকে বঞ্চিত থেকেছে।

رَسُوۡلٌ مِّنَ اللّٰہِ یَتۡلُوۡا صُحُفًا مُّطَہَّرَۃً ۙ ٢

রাছূলুম মিনাল্লা-হি ইয়াতলূসুহুফাম মুতাহহারাহ।

অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ হতে একজন রাসূল, যে পবিত্র গ্রন্থ পড়ে শোনাবে।

فِیۡہَا کُتُبٌ قَیِّمَۃٌ ؕ ٣

ফীহা-কুতুবুন কাইয়িমাহ।

যাতে সরল-সঠিক বিষয় লেখা থাকবে।

وَمَا تَفَرَّقَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡہُمُ الۡبَیِّنَۃُ ؕ ٤

ওয়ামা- তাফাররাকাল্লাযীনা ঊতুলকিতা-বা ইল্লা- মিম বা‘দি মা- জাআতহুমুল বাইয়িনাহ।

যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা পৃথক হয়ে গিয়েছিল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরই।

তাফসীরঃ

২. কিতাবীদের মধ্যে যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের উজ্জ্বল প্রমাণাদি দেখার পরও ঈমান আনেনি, এ আয়াতে তাদের কথা বলা হচ্ছে। অর্থাৎ উচিত তো ছিল তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমনকে একটি মহা নি‘আমত মনে করবে। কিন্তু উল্টো জিদ ও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল এবং পৃথক পথ অবলম্বন করল, অথচ তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসে গিয়েছিল। [تفرق-এর আরেক অর্থ হতে পারে‘বিভক্ত হয়ে গেল’, অর্থাৎ তাদের কিছু সৎখ্যক কুরআন ও শেষনবীর প্রতি ঈমান আনল, কিন্তু অধিকাংশেই প্রত্যাখ্যান করল। -অনুবাদক]

وَمَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ۬ۙ  حُنَفَآءَ وَیُقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوا الزَّکٰوۃَ وَذٰلِکَ دِیۡنُ الۡقَیِّمَۃِ ؕ ٥

ওয়ামাউমিরূইল্লা-লিয়া‘বুদুল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা হুনাফাআ ওয়া ইউকীমুসসালা-তা ওয়া ইউ’তুঝঝাকা-তা ওয়া যা-লিকা দীনুল কাইয়িমাহ।

তাদেরকে কেবল এই আদেশই করা হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে, আনুগত্যকে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই জন্য খালেস রেখে এবং নামায কায়েম করবে ও যাকাত দেবে আর এটাই সরল সঠিক উম্মতের দীন।

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ فِیۡ نَارِ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  اُولٰٓئِکَ ہُمۡ شَرُّ الۡبَرِیَّۃِ ؕ ٦

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূমিন আহলিল কিতা-বি ওয়াল মুশরিকীনা ফী না-রি জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- উলাইকা হুম শাররুল বারিইইয়াহ।

নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে সেই কিতাবী ও মুশরিকগণ জাহান্নামের আগুনে যাবে, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ  اُولٰٓئِکَ ہُمۡ خَیۡرُ الۡبَرِیَّۃِ ؕ ٧

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা হুম খাইরুল বারিইইয়াহ।

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা।

جَزَآؤُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ  رَضِیَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ وَرَضُوۡا عَنۡہُ ؕ  ذٰلِکَ لِمَنۡ خَشِیَ رَبَّہٗ ٪ ٨

জাঝাউহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম জান্না-তু‘আদনিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহাআবাদার রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়া রাদূ ‘আনহু যা-লিকা লিমান খাশিয়া রাব্বাহ।

তাদের প্রতিপালকের কাছে তাদের পুরস্কার হল স্থায়ীবাসের জান্নাত, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে। সেখানে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি খুশী থাকবেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি খুশী থাকবে। এসব তার জন্য, যে তার প্রতিপালককে ভয় করে।