সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল ফাজ্র (الفجر) | ভোরবেলা
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৩০
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَالۡفَجۡرِ ۙ ١
ওয়াল ফাজর।
শপথ ফজর-কালের।
তাফসীরঃ
১. ফজরের সময় এক নৈসঃর্গিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসই নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। তাই বিশেষভাবে এ সময়ের শপথ করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে এখানে ফজর বলতে বিশেষভাবে যুলহিজ্জার দশ তারিখের ফজর বোঝানো হয়েছে। আর যে দশ রাতের শপথ করা হয়েছে, তা হল যুলহিজ্জার প্রথম দশ রাত। এ রাতসমূহকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এর প্রত্যেক রাতেই ইবাদত-বন্দেগী করলে অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
وَّالشَّفۡعِ وَالۡوَتۡرِ ۙ ٣
ওয়াশশাফা‘ই ওয়াল ওয়াতর ।
এবং জোড় ও বেজোড়ের ২
তাফসীরঃ
৩. অর্থাৎ যখন রাতের অবসান শুরু হয়ে যায়। এসব দিন ও রাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, আরবের কাফেরগণও এগুলোর মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন ছিল। এটা তো জানা কথা যে, এগুলোর এ মর্যাদা আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়ে যায়নি। বরং আল্লাহ তাআলাই দান করেছেন। সে হিসেবে এসব দিন ও রাত আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হেকমতের প্রমাণ বহন করে আর তাঁর সেই কুদরত ও হেকমতেরই দাবি হল নেককার ও বদকারের সাথে একই রকম ব্যবহার না করা; বরং যারা নেককার তাদেরকে পুরস্কৃত করা এবং যারা বদকার তাদেরকে শাস্তি দেওয়া। সুতরাং এ সূরায় এ দুটি বিষয়ই অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
اِرَمَ ذَاتِ الۡعِمَادِ ۪ۙ ٧
ইরামা যা-তিল ‘ইমা-দ
ইরাম সম্প্রদায়ের প্রতি, যারা উঁচু উঁচু স্তম্ভের অধিকারী ছিল ৪
তাফসীরঃ
৪. ‘ইরাম’ আদ জাতির ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষের নাম। তাই এখানে আদ জাতির যে শাখার কথা বলা হয়েছে তাদেরকে ‘আদে ইরাম’ বলা হয়। তাদেরকে স্তম্ভের অধিকারী বলার একটা কারণ এই হতে পারে যে, তারা অত্যন্ত দীর্ঘাঙ্গী ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিল। এ কারণেই পরে বলা হয়েছে, তাদের মত লোক আর কোথাও সৃষ্টি করা হয়নি। কেউ কেউ এর কারণ বলেছেন যে, তারা উঁচু-উঁচু স্তম্ভ বিশিষ্ট ইমারত তৈরি করত। তাদের কাছে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল। বিস্তারিত ঘটনা সূরা আরাফ (৭ : ৬৫) ও সূরা হুদে (১১ : ৫০) গত হয়েছে।
وَثَمُوۡدَ الَّذِیۡنَ جَابُوا الصَّخۡرَ بِالۡوَادِ ۪ۙ ٩
ওয়া ছামূদাল্লাযীনা জা-বুসসাখরা বিল ওয়া-দ।
এবং (কী আচরণ করেছেন) ছামুদ (জাতি)-এর প্রতি, যারা উপত্যকায় বড়-বড় পাথর কেটে ফেলেছিল? ৫
তাফসীরঃ
৫. ছামুদ জাতির কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছিল হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে। তারা পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর কেটে সুরক্ষিত ঘর-বাড়ি তৈরি করত। বর্তমান সৌদী আরবের ওয়াদিল-কুরায় ছিল তাদের অবস্থান। দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৭৩)।
وَفِرۡعَوۡنَ ذِی الۡاَوۡتَادِ ۪ۙ ١۰
ওয়া ফির‘আউনা যীল আওতা-দ।
এবং (কী আচরণ করেছেন) পেরেকওয়ালা ৬ ফির‘আউনের প্রতি?
তাফসীরঃ
৬. ফির‘আউনকে ‘পেরেকওয়ালা’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, সে মানুষকে শাস্তি দানের জন্য তাদের হাতে-পায়ে পেরেক গেঁথে দিত।
[কারও মতে এর দ্বারা সৈন্যদের শিবির বোঝানো হয়েছে যা বড় বড় পেরেক দ্বারা স্থাপন করা হত। সে হিসেবে এর ভাবার্থ হল বিশাল সেনাবাহিনীওয়ালা। বলদর্পী ফিরআউনের সৈন্য-সামন্ত ছিল প্রচুর। তাদের দ্বারা সে মিশরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল -অনুবাদক]
فَاَمَّا الۡاِنۡسَانُ اِذَا مَا ابۡتَلٰىہُ رَبُّہٗ فَاَکۡرَمَہٗ وَنَعَّمَہٗ ۬ۙ فَیَقُوۡلُ رَبِّیۡۤ اَکۡرَمَنِ ؕ ١٥
ফাআম্মাল ইনছা-নুইযা-মাবতালা-হু রাব্বুহু ফাআকরামাহূওয়া না‘‘আমাহূ ফাইয়াকূলু রাববীআকরামান।
কিন্তু মানুষের অবস্থা তো এই যে, যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করেন এবং তাকে মর্যাদা ও অনুগ্রহ দান করেন তখন সে বলে, আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করেছেন।
کَلَّا بَلۡ لَّا تُکۡرِمُوۡنَ الۡیَتِیۡمَ ۙ ١٧
কাল্লা-বাল্লা-তুকরিমূনাল ইয়াতীম।
কখনও এরূপ সমীচীন নয়। ৭ (কেবল এতটুকুই নয়;) বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান করো না।
তাফসীরঃ
৭. আল্লাহ তাআলা জীবিকা বণ্টন করেছেন নিজ হেকমত অনুযায়ী। কাজেই জীবিকায় সংকীর্ণতা দেখা দিলে তাকে নিজের জন্য লাঞ্ছনাকর মনে করা ঠিক নয় এবং জীবিকায় সমৃদ্ধি ঘটলে তাকে নিজের জন্য সম্মানের বিষয় ভাবাও উচিত নয়। দুনিয়ায় কত বদকার আছে, যারা প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক! বস্তুত উভয় অবস্থা দ্বারাই আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন।
وَجِایۡٓءَ یَوۡمَئِذٍۭ بِجَہَنَّمَ ۬ۙ یَوۡمَئِذٍ یَّتَذَکَّرُ الۡاِنۡسَانُ وَاَنّٰی لَہُ الذِّکۡرٰی ؕ ٢٣
ওয়া জীআ ইয়াওমাইযিম বিজাহান্নামা ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াতাযাক্কারুল ইনছা-নুওয়া আন্না-লাহুযযিকরা-।
সে দিন জাহান্নামকে সামনে আনা হবে। সে দিন মানুষ বুঝতে পারবে, কিন্তু সেই সময় বুঝে আসার দ্বারা তার কী ফায়দা? ৮
তাফসীরঃ
৮. অর্থাৎ তখন যদি কেউ ঈমান আনতে চায়, তবে সে ঈমান তার কোন উপকারে আসবে না। ঈমান সেটাই গ্রহণযোগ্য, যা মৃত্যু ও কিয়ামতের আগে আনা হয়ে থাকে।
وَّلَا یُوۡثِقُ وَثَاقَہٗۤ اَحَدٌ ؕ ٢٦
ওয়ালা-ইঊছিকুওয়াছা-কাহূআহাদ।
এবং তাঁর বাঁধার মত বাঁধতেও কেউ পারবে না। ৯
তাফসীরঃ
৯. এর দ্বারা মূলত সেদিনের শাস্তি বোঝানোই উদ্দেশ্য। শাস্তিতো মূলত সেদিন আল্লাহ তাআলাই দেবেন। অন্য কারও তা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না, কিন্তু যদি সে সুযোগ থাকতও তবু তাদের পক্ষে যতটা কঠিন শাস্তিই দেওয়া সম্ভব হত, আল্লাহ তাআলার দেওয়া শাস্তি হবে তার চেয়েও অনেক অনেক কঠিন আল্লাহ তাআলা তা থেকে আমাদের হেফাজত করুন। -অনুবাদক
یٰۤاَیَّتُہَا النَّفۡسُ الۡمُطۡمَئِنَّۃُ ٭ۖ ٢٧
ইয়াআইয়াতুহান্নাফছুল মুতমাইন্নাহ
(অবশ্য নেককারদেরকে বলা হবে,) হে (আল্লাহর ইবাদতে) প্রশান্তি লাভকারী চিত্ত! ১০
তাফসীরঃ
১০. এটা النفس المطمئنة -এর তরজমা। এর দ্বারা মানুষের সেই আÍাকে বোঝানো হয়, যা আল্লাহ তাআলার ইবাদতে রত থেকে এমন হয়ে গেছে যে, সে কেবল তাতেই শান্তি পায়। আর এভাবে সে গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়েছে।