সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ইন্‌ফিতার (الانفطار) | বিদীর্ণ করা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِذَا السَّمَآءُ انۡفَطَرَتۡ ۙ ١

ইযাছ ছামাউন ফাতারাত।

যখন আকাশ ফেটে যাবে

তাফসীরঃ

১. ‘সে কি সামনে পাঠিয়েছে’ বলে সেই সব সৎকর্ম বোঝানো হয়েছে, যা দুনিয়ার জীবনে সম্পাদন করে আখেরাতের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ তাকে আখেরাতের পুঁজি বানিয়েছে। আর ‘সে কি পেছনে রেখে গেছে’ বলে এমন সব সৎকর্ম বোঝানো হয়েছে, যা তার করে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা না করেই মারা গেছে ও সেগুলো দুনিয়ায় রেখে গেছে।

وَاِذَا الۡکَوَاکِبُ انۡتَثَرَتۡ ۙ ٢

ওয়া ইযাল কাওয়া-কিবুন তাছারাত।

এবং যখন নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে।

وَاِذَا الۡبِحَارُ فُجِّرَتۡ ۙ ٣

ওয়া ইযাল বিহা-রু ফুজ্জিরাত।

এবং যখন সাগরসমূহকে উদ্বেলিত করা হবে,

وَاِذَا الۡقُبُوۡرُ بُعۡثِرَتۡ ۙ ٤

ওয়া ইযাল কুবূরু বু‘ছিরাত।

এবং যখন কবরসমূহ উৎপাটিত করা হবে।

عَلِمَتۡ نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ وَاَخَّرَتۡ ؕ ٥

‘আলিমাত নাফছুম মা-কাদ্দামাত ওয়া আখখারাত।

তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে সে কি সামনে পাঠিয়েছে এবং কি পেছনে রেখে গিয়েছে।

یٰۤاَیُّہَا الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ ۙ ٦

ইয়াআইয়ূহাল ইনছা-নুমা-গাররাকা বিরাব্বিকাল কারীম।

হে মানুষ! কোন জিনিস তোমাকে তোমার সেই মহান প্রতিপালক সম্বন্ধে ধোঁকায় ফেলেছে

الَّذِیۡ خَلَقَکَ فَسَوّٰىکَ فَعَدَلَکَ ۙ ٧

আল্লাযী খালাকাকা ফাছাওওয়া-কা ফা‘আদালাক।

যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাকে সুগঠিত করেছেন ও তোমাকে সুসমঞ্জস করেছেন।

فِیۡۤ اَیِّ صُوۡرَۃٍ مَّا شَآءَ رَکَّبَکَ ؕ ٨

ফীআইয়ি সূরাতিম মা- শাআ রাক্কাবাক।

যেই আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন।

کَلَّا بَلۡ تُکَذِّبُوۡنَ بِالدِّیۡنِ ۙ ٩

কাল্লা-বাল তুকাযযিবূনা বিদ্দীন।

কখনও এমন হওয়া উচিত নয়, কিন্তু তোমরা কর্মফলকে অস্বীকার করছ।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার শক্তি সম্পর্কে এই ধোঁকায় থাকা উচিত নয় যে, তিনি মৃতদেরকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না (নাউযুবিল্লাহ)।
১০

وَاِنَّ عَلَیۡکُمۡ لَحٰفِظِیۡنَ ۙ ١۰

ওয়া ইন্না ‘আলাইকুম লাহা-ফিজীন।

অথচ তোমাদের জন্য কিছু তত্ত্বাবধায়ক (ফেরেশতা) নিযুক্ত আছে
১১

کِرَامًا کَاتِبِیۡنَ ۙ ١١

কিরা-মান কা-তিবীন।

সম্মানিত লিপিকরবৃন্দ
১২

یَعۡلَمُوۡنَ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ١٢

ইয়া‘লামূনা মা-তাফ‘আলূন।

যারা জানে তোমরা যা কর।

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা সেই সকল ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে, যারা মানুষের কর্মসমূহ লিপিবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত। এর দ্বারাই মানুষের আমলনামা প্রস্তুত হয়।
১৩

اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ ۚ ١٣

ইন্নাল আবরা-রা লাফী না‘ঈম।

নিশ্চয়ই নেককারগণ প্রভূত নি‘আমতের মধ্যে থাকবে
১৪

وَاِنَّ الۡفُجَّارَ لَفِیۡ جَحِیۡمٍ ۚۖ ١٤

ওয়া ইন্নাল ফুজ্জা-রা লাফী জাহীম।

এবং পাপীষ্ঠগণ অবশ্যই জাহান্নামে থাকবে।
১৫

یَّصۡلَوۡنَہَا یَوۡمَ الدِّیۡنِ ١٥

ইয়াসলাওনাহা-ইয়াওমাদ্দীন।

তারা তাতে প্রবেশ করবে কর্মফল দিবসে।
১৬

وَمَا ہُمۡ عَنۡہَا بِغَآئِبِیۡنَ ؕ ١٦

ওয়ামা-হুম ‘আনহা-বিগাইবীন।

এবং তারা তা থেকে অন্তর্ধান করতে পারবে না।
১৭

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ ۙ ١٧

ওয়ামাআদরা-কা মা-ইয়াওমুদ্দীন।

তুমি কি জান কর্মফল দিবস কী?
১৮

ثُمَّ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ ؕ ١٨

ছু ম্মা মাআদরা-কা মা-ইয়াওমুদ্দীন।

আবারও, তুমি কি জান কর্মফল দিবস কী?
১৯

یَوۡمَ لَا تَمۡلِکُ نَفۡسٌ لِّنَفۡسٍ شَیۡئًا ؕ  وَالۡاَمۡرُ یَوۡمَئِذٍ لِّلّٰہِ ٪ ١٩

ইয়াওমা লা-তামলিকুনাফছুল লিনাফছিন শাইআওঁ ওয়াল আমরু ইয়াওমাইযিল লিল্লা-হি।

তা সেই দিন, যে দিন কেউ কারও জন্য কিছু করার সামর্থ্য রাখবে না এবং সে দিন কেবল আল্লাহরই কর্তৃত্ব চলবে।