সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ক্বিয়ামাহ্‌ (الـقـيامـة) | পুনরুত্থান

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

لَاۤ اُقۡسِمُ بِیَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۙ ١

লাউকছিমুবিইয়াওমিল কিয়া-মাহ ।

আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের

وَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالنَّفۡسِ اللَّوَّامَۃِ ؕ ٢

ওয়ালাউকছিমুবিন্নাফছিল লাওওয়া-মাহ।

এবং শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের

তাফসীরঃ

১. ‘তিরস্কারকারী নফস’-এর দ্বারা মানুষের সেই অন্তঃকরণ বোঝানো হয়েছে, যা মন্দ কাজের কারণে তাকে ভর্ৎসনা করে। ‘নফস’ হল মানুষের অভ্যন্তরীণ এক অবস্থার নাম, যেখানে বিভিন্ন রকমের চাহিদা ও ইচ্ছা সৃষ্টি হয়। কুরআন মাজীদে তিন রকমের ‘নফস’-এর উল্লেখ আছে। (ক) ‘নফসে আম্মারা’ অর্থাৎ মন্দ কাজে প্ররোচিতকারী আত্মা (দেখুন ১২ : ৫৩)। (খ) ‘নফসে লাউওয়ামা’ অর্থাৎ তিরস্কারী আত্মা, যার উল্লেখ এ আয়াতে রয়েছে। এ আত্মা ভালো কাজে উৎসাহ যোগায় ও মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার করে। (গ) ‘নফসে মুতমাইন্না’ ‘প্রশান্ত আত্মা’ (দেখুন ৮৯ : ২৭)। এটা এমন আত্মা, যা নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও প্রয়াসের পর ভালো কাজে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ও তাতে প্রশান্তি লাভ করে। এরূপ আত্মায় মন্দ কাজের আগ্রহ হয়ত সৃষ্টিই হয় না, আর হলেও তা অতি দুর্বল থাকে। এখানে আল্লাহ তাআলা ‘নফসে লাউওয়ামা’-এর শপথ করেছেন। এর তাৎপর্য এই যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষের স্বভাবে এমন এক চেতনা নিহিত রেখেছেন, যা তাকে মন্দ কাজের দরুণ ভর্ৎসনা করে। মানুষের চিন্তা করা উচিত এই যে তিরস্কার ও ভর্ৎসনাকারী একটা জিনিস তার অস্তিত্বের মধ্যে গচ্ছিত রাখা হয়েছে, এটাই প্রমাণ করে যেই মহান সত্তা তাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তাকে অহেতুক সৃষ্টি করেননি। নিশ্চয়ই আখেরাত আছে এবং সেখানে মানুষকে তার ভালো-মন্দ কাজের বদলা দেওয়া হবে। তা না হলে তার অস্তিত্বের মধ্যে এই ‘নফসে লাউওয়ামা’ নিহিত রাখার কী প্রয়োজন ছিল?

اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَہٗ ؕ ٣

আ ইয়াহছাবুল ইনছা-নুআল্লান নাজমা‘আ ‘ইজা-মাহ।

মানুষ কি মনে করে আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না?

তাফসীরঃ

২. বলা হচ্ছে, অস্থিরাজি একত্র করা তো খুবই মামুলি ব্যাপার। আল্লাহ তাআলার তো এই শক্তি আছে যে, তিনি মানুষের প্রতিটি আঙ্গুলের অগ্র ভাগকেও আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনই তৈরি করে দেবেন। বিশেষভাবে আঙ্গুলের অগ্র ভাগের কথা বলা হয়েছে এজন্য যে, তাতে যে অজস্র সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম রেখা আছে, তাতে একের সাথে অন্যের মিল নেই। প্রত্যেকেরই রেখাসমূহ অন্যের থেকে আলাদা। এ কারণেই দুনিয়ায় দস্তখতের স্থানে আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। আঙ্গুলের এসব রেখার মধ্যে এমন সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে যদ্দরুন দুনিয়ার অগণ্য মানুষের মধ্যে কারও ছাপের সঙ্গে কখনও কারও ছাপ মেলে না। রেখার কী বিচিত্র বিন্যাস আঙ্গুলের এই সামান্য জায়গার ভেতর! এতদসত্ত্বেও কোটি-কোটি মানুষের রেখার এই প্রভেদ স্মরণ রেখে এগুলোকে ঠিক আগের মত পুনর্বিন্যস্ত করে মানুষকে পুনর্জীবিত করে তোলার মত সুকঠিন কাজও আল্লাহ তাআলা মুহূর্তের মধ্যে করে ফেলবেন। কতই না মহা শক্তির মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা! সম্ভব কি এ কাজ অন্য কারও দ্বারা?

بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَہٗ ٤

বালা-কা-দিরীনা ‘আলাআন নুছাওবিয়া বানা-নাহ।

কেন নয়? আমি তো তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।

بَلۡ یُرِیۡدُ الۡاِنۡسَانُ لِیَفۡجُرَ اَمَامَہٗ ۚ ٥

বাল ইউরীদুল ইনছা-নুলিইয়াফজুরা আমা-মাহ।

বস্তুত মানুষ তার আগামী জীবনেও গুনাহে রত থাকতে চায়।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ তারা যে আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করে, এর পেছনে তাদের কোন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ নেই; বরং তারা তা অস্বীকার করে স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপনের জন্য, যাতে আগামী জীবনেও তারা নিশ্চিন্তে পাপাচারে লিপ্ত থাকতে পারে এবং আখেরাতের চিন্তা তাদের যা খুশী তাই করার পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

یَسۡـَٔلُ اَیَّانَ یَوۡمُ الۡقِیٰمَۃِ ؕ ٦

ইয়াছআলুআইইয়া-না ইয়াওমুল কিয়া-মাহ।

সে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত দিবস কবে আসবে?

فَاِذَا بَرِقَ الۡبَصَرُ ۙ ٧

ফাইযা-বারিকাল বাসার।

যখন চোখ ঝলসে যাবে

وَخَسَفَ الۡقَمَرُ ۙ ٨

ওয়া খাছাফাল কামার।

এবং চাঁদ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে

وَجُمِعَ الشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ ۙ ٩

ওয়া জুমি‘আশশামছুওয়াল কামার।

এবং চাঁদ ও সূর্যকে একত্র করা হবে
১০

یَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍ اَیۡنَ الۡمَفَرُّ ۚ ١۰

ইয়াকূ লুল ইনছা-নুইয়াওমাইযিন আইনাল মাফার।

সেদিন মানুষ বলবে, পালিয়ে যাওয়ার জায়গা কোথায়?
১১

کَلَّا لَا وَزَرَ ؕ ١١

কাল্লা-লা- ওয়াঝার।

না, না। কোন আশ্রয়স্থল নেই।
১২

اِلٰی رَبِّکَ یَوۡمَئِذِۣ الۡمُسۡتَقَرُّ ؕ ١٢

ইলা-রাব্বিকা ইয়াওমাইযিনিল মুছতাকার।

সে দিন তো প্রত্যেককে তোমার প্রতিপালকের কাছে গিয়েই অবস্থান নিতে হবে।
১৩

یُنَبَّؤُا الۡاِنۡسَانُ یَوۡمَئِذٍۭ بِمَا قَدَّمَ وَاَخَّرَ ؕ ١٣

ইউনাব্বাউল ইনছা-নুইয়াওমাইযিম বিমা-কাদ্দামা ওয়া আখখার।

সে দিন সকল মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে সে কী আগে পাঠিয়েছে আর কী পেছনে রেখে গিয়েছে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ তারা দুনিয়ায় কী কাজ করে এসেছে, যা তাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে আর কোন কাজ ছেড়ে এসেছে, যা করা উচিত ছিল, কিন্তু করেনি, তা সে দিন তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
১৪

بَلِ الۡاِنۡسَانُ عَلٰی نَفۡسِہٖ بَصِیۡرَۃٌ ۙ ١٤

বালিল ইনছা-নু‘আলা- নাফছিহী বাসীরাহ।

বরং মানুষ নিজেই নিজের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
১৫

وَّلَوۡ اَلۡقٰی مَعَاذِیۡرَہٗ ؕ ١٥

ওয়া লাও আলকা- মা‘আ-যীরাহ।

যদিও সে নানা অজুহাত পেশ করে!

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ মানুষ নিজেও জানে সে কি কি গুনাহ করেছে, যদিও সে তার বৈধতা প্রমাণের জন্য নানা রকম অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করে।
১৬

لَا تُحَرِّکۡ بِہٖ لِسَانَکَ لِتَعۡجَلَ بِہٖ ؕ ١٦

লা-তুহাররিক বিহী লিছা-নাকা লিতা‘জালা বিহ।

(হে রাসূল!) তুমি এ কুরআনকে তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য এর সাথে তোমার জিহ্বা নাড়িও না।

তাফসীরঃ

৬. এটি একটি অন্তর্বর্তী বাক্য। এর প্রেক্ষাপট এই যে, শুরু দিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন ওহী নাযিল হত, তখন তিনি যাতে তা ভুলে না যান এবং ওহীর শব্দাবলী তাঁর আয়ত্ত হয়ে যায়, তাই তাড়াতাড়ি করে তা পড়তে থাকতেন। এ আয়াতে তাকে বলা হচ্ছে, আপনি ওহীর শব্দাবলী বারবার পড়ার কষ্ট করতে যাবেন না। কেননা এটা আমার দায়িত্ব যে, আমি কুরআনের আয়াতসমূহ আপনার অন্তরে সংরক্ষণ ও আপনাকে মুখস্থ করিয়ে দেব এবং এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও আপনার অন্তরে স্পষ্ট করে দেব।
১৭

اِنَّ عَلَیۡنَا جَمۡعَہٗ وَقُرۡاٰنَہٗ ۚۖ ١٧

ইন্না ‘আলাইনা-জাম‘আহূওয়া কুরআ-নাহ ।

নিশ্চয়ই একে (তোমার অন্তরে) জমানো ও (মুখ দিয়ে) পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।
১৮

فَاِذَا قَرَاۡنٰہُ فَاتَّبِعۡ قُرۡاٰنَہٗ ۚ ١٨

ফাইযা- কারা’না-হু ফাত্তাবি‘ কুরআ-নাহ।

সুতরাং আমি যখন এটা (জিবরাঈলের মাধ্যমে) পাঠ করি, তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর

তাফসীরঃ

৭. এর দুই অর্থ হতে পারে (ক) আপনি আপনার মনোযোগ ওহীর শব্দাবলী মুখস্থ করার মধ্যে নয়; বরং কাজে-কর্মে এর অনুসরণের মধ্যে নিবদ্ধ রাখুন। (খ) যেভাবে হযরত জিবরাঈল আলাইহিসসালাম পড়ছেন পরবর্তীতে আপনিও ঠিক সেভাবে পড়ুন।
১৯

ثُمَّ اِنَّ عَلَیۡنَا بَیَانَہٗ ؕ ١٩

ছু ম্মা ইন্না ‘আলাইনা-বায়া-নাহ।

তারপর তার বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্বও আমারই।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আয়াতসমূহের ব্যাখ্যাও আমি আপনার অন্তরে সংরক্ষণ করে রাখব।
২০

کَلَّا بَلۡ تُحِبُّوۡنَ الۡعَاجِلَۃَ ۙ ٢۰

কাল্লা-বাল তুহিববূনাল ‘আ-জিলাহ।

সাবধান (হে কাফেরগণ!) প্রকৃতপক্ষে তোমরা নগদ প্রাপ্তব্য বস্তু (অর্থাৎ পার্থিব জীবন)-কেই ভালোবাস।
২১

وَتَذَرُوۡنَ الۡاٰخِرَۃَ ؕ ٢١

ওয়া তাযারূনাল আ-খিরাহ।

এবং আখেরাতকে উপেক্ষা করছ।
২২

وُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاضِرَۃٌ ۙ ٢٢

উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিন না- দিরাহ।

সে দিন অনেক চেহারা উজ্জ্বল হবে।
২৩

اِلٰی رَبِّہَا نَاظِرَۃٌ ۚ ٢٣

ইলা-রাব্বিহা-না-জিরাহ।

যারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে

তাফসীরঃ

৯. জান্নাতে মুমিনগণ আল্লাহ তাআলার দীদার (দর্শন)-ও লাভ করবে। এটা জান্নাতের অন্য সব নি‘আমত অপেক্ষা অনেক বড় ও অনেক বেশি সুখকর হবে।
২৪

وَوُجُوۡہٌ یَّوۡمَئِذٍۭ بَاسِرَۃٌ ۙ ٢٤

ওয়া উজূহুইঁ ইয়াওমাইযিম বা-ছিরাহ।

এবং সেদিন অনেক চেহারা হয়ে পড়বে বিবর্ণ
২৫

تَظُنُّ اَنۡ یُّفۡعَلَ بِہَا فَاقِرَۃٌ ؕ ٢٥

তাজুন্নুআইঁ ইউফ‘আলা বিহা-ফা-কিরাহ।

তারা উপলব্ধি করবে যে, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হবে যা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেবে।
২৬

کَلَّاۤ اِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِیَ ۙ ٢٦

কাল্লাইযা-বালাগাতিত্তারা-কী।

সাবধান প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হবে
২৭

وَقِیۡلَ مَنۡ ٜ  رَاقٍ ۙ ٢٧

ওয়া কীলা মান রা-ক।

এবং (শুশ্রষাকারীদেরকে) বলা হবে, আছে কোন ঝাঁড়-ফুঁককারী? ১০

তাফসীরঃ

১০. যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে শয্যাশায়ী হয়ে যায়, তখন তার প্রিয়জনেরা সর্বান্তকরণে তার শুশ্রূষা করে ও তার চিকিৎসার চেষ্টা চালায়। সেই চিকিৎসার একটা পদ্ধতি এও যে, যারা ঝাড়-ফুঁক জানে, তাদের দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করানো হয়।
২৮

وَّظَنَّ اَنَّہُ الۡفِرَاقُ ۙ ٢٨

ওয়া জান্না আন্নাহুল ফিরা-ক।

এবং মানুষ বুঝে ফেলবে যে, এটাই বিদায়ক্ষণ
২৯

وَالۡتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ ۙ ٢٩

ওয়াল তাফফাতিছছা-কুবিছছা-ক।

এবং পায়ের গোছার সাথে গোছা জড়িয়ে যাবে ১১

তাফসীরঃ

১১. জান কবজের সময় যে কষ্ট হয়, তাতে মুমূর্ষু ব্যক্তি অনেক সময় দু’পায়ের গোছা পরস্পর জড়িয়ে ফেলে। আয়াতের ইশারা সেই অবস্থারই দিকে।
৩০

اِلٰی رَبِّکَ یَوۡمَئِذِۣ الۡمَسَاقُ ؕ٪ ٣۰

ইলা-রাব্বিকা ইয়াওমাইযিনিল মাছা-ক।

সে দিন সকলের যাত্রা হবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।
৩১

فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلّٰی ۙ ٣١

ফালা- সাদ্দাকা ওয়ালা- সাল্লা- ।

তা সত্ত্বেও মানুষ বিশ্বাস করেনি ও নামায পড়েনি। ১২

তাফসীরঃ

১২. এর দ্বারা বিশেষ কোন কাফেরের দিকেও ইশারা করা হতে পারে এবং সাধারণভাবে সমস্ত কাফেরের অবস্থার চিত্রায়নও হতে পারে। বলা হচ্ছে যে, এতটা সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ সামনে এসে যাওয়া সত্ত্বেও তারা ঈমান তো আনেই না, উল্টো দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৩২

وَلٰکِنۡ کَذَّبَ وَتَوَلّٰی ۙ ٣٢

ওয়া লা- কিন কাযযাবা ওয়া তাওয়াল্লা- ।

বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে
৩৩

ثُمَّ ذَہَبَ اِلٰۤی اَہۡلِہٖ یَتَمَطّٰی ؕ ٣٣

ছু ম্মা যাহাবা ইলাআহলিহী ইয়াতামাত্তা- ।

অতঃপর সে দম্ভভরে তার পরিবারবর্গের কাছে চলে গেছে।
৩৪

اَوۡلٰی لَکَ فَاَوۡلٰی ۙ ٣٤

আওলা-লাকা ফাআওলা- ।

ধ্বংস তোর জন্য, হ্যাঁ ধ্বংস!
৩৫

ثُمَّ اَوۡلٰی لَکَ فَاَوۡلٰی ؕ ٣٥

ছু ম্মা আওলা- লাকা ফাআওলা- ।

ফের শুনে রাখ, ধ্বংস তোর জন্য, হ্যাঁ, ধ্বংস!
৩৬

اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَنۡ یُّتۡرَکَ سُدًی ؕ ٣٦

আ ইয়াহছাবুল ইনছা-নুআইঁ ইউতরাকা ছুদা- ।

মানুষ কি মনে করে তাকে এমনিই ছেড়ে দেওয়া হবে? ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ মানুষ কি মনে করে তাকে দুনিয়ায় এমন স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে যে, সে শরীয়তের কোন আইন-কানুনের আওতায় থাকবে না এবং যা খুশী তাই করতে থাকবে?
৩৭

اَلَمۡ یَکُ نُطۡفَۃً مِّنۡ مَّنِیٍّ یُّمۡنٰی ۙ ٣٧

আলাম ইয়াকুনুতফাতাম মিম মানিইয়িইঁ ইউমনা- ।

সে কি ছিল না এক বিন্দু বীর্য, যা (মাতৃগর্ভে) স্খলিত করা হয়?
৩৮

ثُمَّ کَانَ عَلَقَۃً فَخَلَقَ فَسَوّٰی ۙ ٣٨

ছু ম্মা কা-না ‘আলাকাতান ফাখালাকা ফাছাওয়া-।

তারপর সে মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছে, তারপর আল্লাহ তাকে মানব রূপ দান করেছেন ও তাকে সুঠাম করেছেন। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. মানব সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক ধাপসমূহ সূরা মুমিনূন (২৩ : ১৪)-এ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৯

فَجَعَلَ مِنۡہُ الزَّوۡجَیۡنِ الذَّکَرَ وَالۡاُنۡثٰی ؕ ٣٩

ফাজা‘আলা মিনহুঝঝাওজাইনিযযাকারা ওয়াল উনছা- ।

তাছাড়া তা দ্বারাই তিনি নর-নারীর যুগল সৃষ্টি করেছেন।
৪০

اَلَیۡسَ ذٰلِکَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنۡ یُّحۡیِۦَ الۡمَوۡتٰی ٪ ٤۰

আলাইছা যা- লিকা বিকা-দিরিন ‘আলাআইঁ ইউ হইয়াল মাওতা- ।

তবুও কি তিনি মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন?
সূরা আল ক্বিয়ামাহ্‌ | মুসলিম বাংলা