সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুদ্দাছ্‌ছির (الـمّـدّثّـر) | পোশাক পরিহিত

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا الۡمُدَّثِّرُ ۙ ١

ইয়াআইয়ুহাল মুদ্দাছছির।

হে বস্ত্রাবৃত!

তাফসীরঃ

১. আগের সূরার শুরুতে যেমন গেছে এটাও সে রকমই এক প্রিয়-সম্ভাষণ। পার্থক্য কেবল এই যে, সেখানে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছিল ‘মুযযাম্মিল’ আর এখানে ‘মুদ্দাচ্ছির’। উভয়ের অর্থ কাছাকাছি। এর ব্যাখ্যার জন্য পূর্বের সূরার ১নং টীকা দেখুন। সহীহ হাদীসে আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সর্বপ্রথম ওহী হিসেবে সূরা ‘আলাক’-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত নাযিল হওয়ার পর কিছুকাল যাবৎ ওহী নাযিলের ধারা বন্ধ ছিল। তারপর সর্বপ্রথম সূরা মুদ্দাচ্ছিরের এ আয়াতগুলিই নাযিল হয়।

قُمۡ فَاَنۡذِرۡ ۪ۙ ٢

কুম ফাআনযির।

ওঠ এবং মানুষকে সতর্ক কর।

وَرَبَّکَ فَکَبِّرۡ ۪ۙ ٣

ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির।

এবং নিজ প্রতিপালকের তাকবীর বল (মহিমা ঘোষণা কর)।

وَثِیَابَکَ فَطَہِّرۡ ۪ۙ ٤

ওয়া ছিইয়া-বাকা ফাতাহহির।

এবং নিজ কাপড় পবিত্র রাখ

وَالرُّجۡزَ فَاہۡجُرۡ ۪ۙ ٥

ওয়াররুজঝা ফাহজুর।

এবং অপবিত্রতা হতে দূরে থাক।

তাফসীরঃ

২. বহু মুফাসসিরের মতে এস্থলে ‘অপবিত্রতা’ দ্বারা মূর্তি বোঝানো হয়েছে। তবে শব্দটি যেহেতু সাধারণ, তাই সব রকমের অপবিত্রতাই এর অন্তর্ভুক্ত।

وَلَا تَمۡنُنۡ تَسۡتَکۡثِرُ ۪ۙ ٦

ওয়ালা-তামনুন তাছতাকছির।

এবং অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় অনুগ্রহ করো না,

তাফসীরঃ

৩. কাউকে এই নিয়তে হাদিয়া-তোহফা দেওয়া যে, সে এর বদলায় আরও বেশি দেবে, এ আয়াতের আলোকে নাজায়েয। এক ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই একই হুকুম সূরা রূম (৩০ : ৩৯)-এও গত হয়েছে।

وَلِرَبِّکَ فَاصۡبِرۡ ؕ ٧

ওয়া লিরাব্বিকা ফাসবির।

এবং প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন কর

তাফসীরঃ

৪. সর্বপ্রথম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন তাবলীগের হুকুম দেওয়া হয়, তখন এ আশঙ্কা পুরোপুরিই ছিল যে, কাফেরগণ তাঁকে কষ্ট দেবে। তাই আদেশ করা হয়েছে এখন কোন সশস্ত্র সংগ্রাম করা যাবে না; বরং চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তারা অত্যাচার-উৎপীড়ন করলে তার শাস্তি তাদেরকে সেই দিন দেওয়া হবে, যে দিন কিয়ামতের জন্য শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, যার উল্লেখ পরবর্তী আয়াতে করা হয়েছে।

فَاِذَا نُقِرَ فِی النَّاقُوۡرِ ۙ ٨

ফাইযা-নুকিরা ফিন্না-কূর।

অতঃপর যে দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে,

فَذٰلِکَ یَوۡمَئِذٍ یَّوۡمٌ عَسِیۡرٌ ۙ ٩

ফাযা-লিকা ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াওমুন ‘আছীর।

সে দিন হবে অত্যন্ত কঠিন দিন
১০

عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ غَیۡرُ یَسِیۡرٍ ١۰

‘আলাল কা-ফিরীনা গাইরু ইয়াছীর।

কাফেরদের জন্য তা সহজ হবে না।
১১

ذَرۡنِیۡ وَمَنۡ خَلَقۡتُ وَحِیۡدًا ۙ ١١

যারনী ওয়া মান খালাকতুওয়া হীদা- ।

সেই ব্যক্তির ব্যাপার আমার উপর ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একক করে।

তাফসীরঃ

৫. বিভিন্ন তাফসীরী বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এর দ্বারা ইশারা ওয়ালীদ ইবনে মুগীরার প্রতি। সে ছিল মক্কা মুকাররমায় এক ধনাঢ্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তার সম্পত্তি মক্কা মুকাররমা থেকে তায়েফ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল [এ কারণেই আয়াতে বলা হয়েছে ‘যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একক করে। অর্থাৎ ধন-সম্পদে সে একক ও অসাধারণ ছিল। আবার সে পিতা-মাতারও একমাত্র পুত্র ছিল -অনুবাদক]। সে মাঝে-মাঝে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর কাছে যেত ও তাঁর কাছ থেকে কুরআন মাজীদ শুনত। একবার তো সে স্বীকারই করেছিল যে, এটা এক অসাধারণ বাণী, যা কোন মানুষের হতে পারে না। একথা শুনে আবু জাহলের ভয় হল, পাছে সে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলে। কালবিলম্ব না করে সে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরার সঙ্গে সাক্ষাত করল এবং তার আত্মসম্মানবোধে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করল। তাকে লক্ষ্য করে বলল, লোকে তোমার সম্পর্কে বলাবলি করছে, তুমি নাকি অর্থের লোভে মুসলিমদের সাথে মেলামেশা করছ। ঠিকই এ কথায় তার আত্মসম্মানবোধে ঘা লাগল। বলে উঠল আগামীতে আমি আর কখনও আবু বকর বা অন্য কোন মুসলিমের কাছে যাব না। আবু জাহল বলল, তুমি যতক্ষণ কুরআনের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকে তোমার ব্যাপারে আশ্বস্ত হবে না। ওয়ালীদ বলল, আমি তাকে কবিতা বলতে পারব না, অতীন্দ্রিয়বাদীদের কথাও না আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও বিকারগ্রস্ত বলতে পারব না। কারণ এসব কথা ঠিক চালানো যাবে না। তারপর কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, অবশ্য একে যাদু বলা যেতে পারে। কেননা যাদু দ্বারা যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়, তেমনি এ বাণী যে শোনে সে ইসলাম গ্রহণ করতঃ তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন থেকে পৃথক হয়ে যায়। কোন কোন বর্ণনায় আছে, ওয়ালীদ একথা বলেছিল সেই সময়, যখন হজ্জের আগে কুরাইশ নেতৃবর্গ পরামর্শে বসেছিল। তারা বলেছিল, হজ্জে আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন গোত্রের মানুষ আসবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবে। তখন আমরা কী বলব তা এখনই স্থির করে নেওয়া উচিত। তখন ওয়ালিদ বলেছিল, আমরা তাকে না পাগল বলতে পারি, না কবি, অতীন্দ্রিবাদী বা মিথ্যুক। অন্যরা জিজ্ঞেস করল, তবে কী বলব? সে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, তাকে যাদুকর বললে সেটা চালানো যেতে পারে (ইবনে কাছীর)।
১২

وَّجَعَلۡتُ لَہٗ مَالًا مَّمۡدُوۡدًا ۙ ١٢

ওয়া জা‘আলতুলাহূমা-লাম মামদূদা- ।

আমি তাকে দিয়েছি দূর-দূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ধন-সম্পদ
১৩

وَّبَنِیۡنَ شُہُوۡدًا ۙ ١٣

ওয়া বানীনা শুহূদা- ।

এবং সদা হাজির বহু পুত্র।
১৪

وَّمَہَّدۡتُّ لَہٗ تَمۡہِیۡدًا ۙ ١٤

ওয়া মাহহাত্তুলাহূতামহীদা-।

এবং তার জন্য সকল কিছুর সু-বন্দোবস্ত করে দিয়েছি।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ দুনিয়ায় অনেক ইজ্জত-সম্মান দিয়েছি। নেতৃত্ব ও ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করে দিয়েছি। ফলে যে-কোনও সংকটে কুরাইশের লোকজন তার কাছেই ছুটে আসে এবং তারা তাকে নিজেদের অধিনায়ক মনে করে (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে গৃহীত)।
১৫

ثُمَّ یَطۡمَعُ اَنۡ اَزِیۡدَ ٭ۙ ١٥

ছু ম্মা ইয়াতমা‘উ আন আঝীদা।

তারপরও সে লোভ করে যেন তাকে আরও বেশি দেই।
১৬

کَلَّا ؕ  اِنَّہٗ کَانَ لِاٰیٰتِنَا عَنِیۡدًا ؕ ١٦

কাল্লা- ইন্নাহূকা-না লিআ-য়া-তিনা- ‘আনীদা- ।

কখনও নয়। সে আমার আয়াতসমূহের শত্রু।
১৭

سَاُرۡہِقُہٗ صَعُوۡدًا ؕ ١٧

ছাউরহিকু হূসা‘ঊদা- ।

অচিরেই আমি তাকে এক কঠিন চড়াইতে চড়াব।

তাফসীরঃ

৭. কুরআন মাজীদে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে صعود যার আভিধানিক অর্থ দুর্গম চড়াই। কোন কোন বর্ণনায় আছে, এটা জাহান্নামের একটি পাহাড়ের নাম।
১৮

اِنَّہٗ فَکَّرَ وَقَدَّرَ ۙ ١٨

ইন্নাহূফাক্কারা ওয়া কাদ্দার।

(তার অবস্থা তো এই যে), সে চিন্তা-ভাবনা করল এবং (একটি কথা) ঠিক করল।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ চিন্তা-ভাবনা করে সে এ কথাই ঠিক করল যে, কুরআনকে তো কবিতা বা অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা বলা যায় না, তবে যাদু বলা যেতে পারে। সুতরাং তোমরা তাই বল।
১৯

فَقُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ۙ ١٩

ফাকুতিলা কাইফা কাদ্দার,।

আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কিভাবে (এমন কথা) ঠিক করল!
২০

ثُمَّ قُتِلَ کَیۡفَ قَدَّرَ ۙ ٢۰

ছু ম্মা কুতিলা কাইফা কাদ্দার।

আবারও আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, সে কিভাবে (এমন কথা) ঠিক করল।
২১

ثُمَّ نَظَرَ ۙ ٢١

ছু ম্মা নাজার।

তারপর সে নজর বুলাল।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ আশপাশের লোকদের দিকে চেয়ে দেখল তারা তার সম্পর্কে কী চিন্তা করছে ও কী সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছে।
২২

ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ۙ ٢٢

ছু ম্মা ‘আবাছা ওয়া বাছার।

তারপর সে ভ্র-কুঞ্চিত করল ও মুখ বিকৃত করল।
২৩

ثُمَّ اَدۡبَرَ وَاسۡتَکۡبَرَ ۙ ٢٣

ছু ম্মা আদবারা ওয়াছতাকবার।

তারপর সে পিছনে ঘুরল ও অহমিকা দেখাল।
২৪

فَقَالَ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ یُّؤۡثَرُ ۙ ٢٤

ফাকা- লা ইন হা- যাইল্লা-ছিহরুইঁ ইউ’ছার।

তারপর বলতে লাগল, এটা কিছুই নয়, কেবল (যুগ-যুগ ধরে) বর্ণিত হয়ে আসা যাদু।
২৫

اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا قَوۡلُ الۡبَشَرِ ؕ ٢٥

ইন হা-যাইল্লা-কাওলুল বাশার।

এটা কিছুই নয়, কেবল মানুষেরই কথা!
২৬

سَاُصۡلِیۡہِ سَقَرَ ٢٦

ছাউসলীহি ছাকার।

অচিরেই আমি তাকে নিক্ষেপ করব জাহান্নামে।
২৭

وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا سَقَرُ ؕ ٢٧

ওয়ামাআদরা-কা মা- ছাকার।

তুমি কি জান জাহান্নাম কী জিনিস?
২৮

لَا تُبۡقِیۡ وَلَا تَذَرُ ۚ ٢٨

লা-তুবকী ওয়ালা-তাযার।

তা কাউকে বাকি রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না। ১০

তাফসীরঃ

১০. জাহান্নামে প্রবেশের পর সকলকেই তার আগুনে দগ্ধ হতে হবে, কেউ বাকি থাকবে না। আর কোন অপরাধীকে জাহান্নাম তার বাইরেও ছেড়ে রাখবে না। সকলকেই ভিতরে নিয়ে দগ্ধ করবে।
২৯

لَوَّاحَۃٌ لِّلۡبَشَرِ ۚۖ ٢٩

লাওওয়া-হাতুল লিলবাশার।

তা (এমন জিনিস যা) শরীরের চামড়া ঝলসে দেবে।
৩০

عَلَیۡہَا تِسۡعَۃَ عَشَرَ ؕ ٣۰

‘আলাইহা-তিছ‘আতা ‘আশার।

তাতে ঊনিশ জন (কর্মী) নিযুক্ত থাকবে
৩১

وَمَا جَعَلۡنَاۤ اَصۡحٰبَ النَّارِ اِلَّا مَلٰٓئِکَۃً ۪  وَّمَا جَعَلۡنَا عِدَّتَہُمۡ اِلَّا فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۙ  لِیَسۡتَیۡقِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَیَزۡدَادَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِیۡمَانًا وَّلَا یَرۡتَابَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ  وَلِیَقُوۡلَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ وَّالۡکٰفِرُوۡنَ مَاذَاۤ اَرَادَ اللّٰہُ بِہٰذَا مَثَلًا ؕ  کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَمَا یَعۡلَمُ جُنُوۡدَ رَبِّکَ اِلَّا ہُوَ ؕ  وَمَا ہِیَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡبَشَرِ ٪ ٣١

ওয়ামা- জা‘আলনাআসহা-বান্না-রি ইল্লা-মালাইকাতাওঁ ওয়ামা-জা‘আলনা‘ইদ্দাতাহুম ইল্লা-ফিতনাতাল লিল্লাযীনা কাফারূ লিইয়াছতাইকিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতাবা ওয়া ইয়াঝদা-দাল্লাযীনা আ-মানূঈমা-নাওঁ ওয়ালা- ইয়ারতা-বাল্লাযীনা ঊতুল কিতাবা ওয়াল মু’মিনূনা ওয়া লিয়াকূলাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুওঁ ওয়াল কা-ফিরূনা মাযাআরা-দাল্লা-হু বিহা-যা- মাছালান কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ামা- ইয়া‘লামুজুনূদা রাব্বিকা ইল্লা- হুওয়া ওয়ামাহিয়া ইল্লা- যিকরা- লিলবাশার।

আমি জাহান্নামের এ কর্মী অন্য কাউকে নয়, কেবল ফেরেশতাদেরকেই বানিয়েছি। ১১ আর তাদের (এ) সংখ্যা নির্দিষ্ট করেছি, কেবল কাফেরদের পরীক্ষা স্বরূপ এবং, ১২ যাতে কিতাবীদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় ১৩ আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবী ও মুমিনগণ কোন সন্দেহে পতিত না হয়। আর যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে ১৪ এবং যারা কাফের তারা বলে, এই অভিনব উক্তি দ্বারা আল্লাহ কী বোঝাতে চাচ্ছেন? এভাবেই আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান হেদায়াত দান করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া কেউ জানে না। ১৫ এটা তো মানব জাতির জন্য কেবল উপদেশবাণী।

তাফসীরঃ

১১. ‘জাহান্নামে ঊনিশ জন কর্মী নিযুক্ত আছে’এ আয়াত যখন নাযিল হল, তখন কাফেরগণ তা নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল। একজন তো এ পর্যন্ত বলে বসল যে, ঊনিশ জনের মধ্যে সতের জনের জন্য তো আমি একাই যথেষ্ট, বাকি দু’জনকে তোমরা সকলে মিলে বুঝে নিও (ইবনে কাছীর)। তারই জবাবে এ আয়াত (নং ৩১) নাযিল হয়েছে। বলা হয়েছে যে, ঊনিশ জনের সকলেই ফেরেশতা। অত সোজা নয় যে, তোমরা তাদের মোকাবিলা করবে।
৩২

کَلَّا وَالۡقَمَرِ ۙ ٣٢

কাল্লা- ওয়াল কামার।

সাবধান! শপথ চাঁদের
৩৩

وَالَّیۡلِ اِذۡ اَدۡبَرَ ۙ ٣٣

ওয়াল্লাইলি ইযআদবার।

এবং রাতের, যখন তা প্রস্থান করে,
৩৪

وَالصُّبۡحِ اِذَاۤ اَسۡفَرَ ۙ ٣٤

ওয়াসসুবহিইযাআছফার।

এবং ভোরের, যখন তা উদ্ভাসিত হয়,
৩৫

اِنَّہَا لَاِحۡدَی الۡکُبَرِ ۙ ٣٥

ইন্নাহা-লাইহদাল কুবার।

এটা বড়-বড় বিষয়াবলীর অন্যতম
৩৬

نَذِیۡرًا لِّلۡبَشَرِ ۙ ٣٦

নাযীরাল লিলবাশার।

যা সমস্ত মানুষকে সতর্ক করছে। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ জাহান্নাম একটি মহা মুসিবত এবং তার আলোচনা সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষকে গাফলতি ছেড়ে সচেতন হয়ে ওঠার আহ্বান জানায়। একথা বলার আগে আল্লাহ তাআলা চাঁদের শপথ করে নিয়েছেন। এর তাৎপর্য এই যে, চাঁদ প্রথমে পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে, তারপর আবার একইভাবে কমতে থাকে। এভাবে মাসের মাঝখানে তা ষোলকলায় পূর্ণ হয় এবং মাসের শেষে সম্পূর্ণরূপে লুপ্ত হয়ে যায়। মানুষের অবস্থাও ঠিক তাই। প্রথম দিকে তার শক্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে। যৌবনে পূর্ণতা লাভ করে, তারপর তার ক্রমক্ষয় ঘটে। পরিশেষে এক সময় তার বিনাশ ও মৃত্যু ঘটে। দুনিয়ার সব জিনিসেরই এই একই হাল। তারপর আল্লাহ তাআলা শপথ করেছেন সেই সময়ের, যখন রাত অপসৃত হতে শুরু করে এবং ক্রমে ভোরের আলো বিকশিত হয়ে এক সময় গোটা প্রকৃতি আলোকিত হয়ে ওঠে। ইশারা করা হয়েছে যে, এখন তো কাফেরদের সামনে গাফলতির অন্ধকার বিরাজ করছে। একদিন এমন আসবে, যখন এ অন্ধকার দূর হয়ে যাবে এবং সত্য তার পূর্ণ দ্যুতিসহ প্রকাশ লাভ করবে। আর সে দ্যুতিতে পরিবেশ- পরিস্থিতি সব আলোকৌজ্জ্বল হয়ে ওঠবে। অথবা ইশারা করা হয়েছে, দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় অনেক কিছুই মানুষের চোখের আড়াল থাকে। কিয়ামতের দিন তা পরিপূর্ণরূপে তার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৩৭

لِمَنۡ شَآءَ مِنۡکُمۡ اَنۡ یَّتَقَدَّمَ اَوۡ یَتَاَخَّرَ ؕ ٣٧

লিমান শাআ মিনকুম আইঁ ইয়াতাকাদ্দামা আও ইয়াতাআখখার।

তোমাদের প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে, যে অগ্রগামী হতে বা পিছিয়ে পড়তে চায়। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. যে ব্যক্তি সৎকর্মে অগ্রগামী হতে চায়, তাকেও সতর্ক করে এবং যে তা থেকে পিছিয়ে থাকতে চায় তাকেও।
৩৮

کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ رَہِیۡنَۃٌ ۙ ٣٨

কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত রাহীনাহ।

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ রয়েছে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা স্বরূপ যেমন কোন জিনিস বন্ধক রাখা হয়, যাতে ঋণ পরিশোধ না করা হলে সেই জিনিস বিক্রি করে ঋণদাতা তার প্রাপ্য উসুল করে নিতে পারে, তেমনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা যে সৎকর্মের যোগ্যতা দান করেছেন, তা তাকে প্রদত্ত আল্লাহ তাআলার ঋণ, যার বিনিময়ে তার সত্তা বন্ধক রাখা আছে। সে যদি হেদায়েতের পথ অবলম্বন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তবে সে বন্ধকী দশা হতে মুক্তি পাবে, অন্যথায় সে আবদ্ধ অবস্থায় থেকে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হবে।
৩৯

اِلَّاۤ اَصۡحٰبَ الۡیَمِیۡنِ ؕۛ ٣٩

ইল্লাআসহা- বাল ইয়ামীন।

ডান হাত বিশিষ্টগণ ছাড়া, ১৯

তাফসীরঃ

১৯. এর দ্বারা সৎকর্মশীলদেরকে বোঝানো হয়েছে, যাদেরকে তাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে।
৪০

فِیۡ جَنّٰتٍ ۟ؕۛ  یَتَسَآءَلُوۡنَ ۙ ٤۰

ফী জান্না-তিইঁ ইয়াতাছাআলূন।

তারা থাকবে জান্নাতে। তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে
৪১

عَنِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ۙ ٤١

‘আনিল মুজরিমীন।

অপরাধীদের সম্পর্কে,
৪২

مَا سَلَکَکُمۡ فِیۡ سَقَرَ ٤٢

মা-ছালাকাকুম ফী ছাকার।

যে, কোন জিনিস তোমাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছে?
৪৩

قَالُوۡا لَمۡ نَکُ مِنَ الۡمُصَلِّیۡنَ ۙ ٤٣

কা-লূলাম নাকুমিনাল মুসাল্লীন।

তারা বলবে, আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না
৪৪

وَلَمۡ نَکُ نُطۡعِمُ الۡمِسۡکِیۡنَ ۙ ٤٤

ওয়া লাম নাকুনুত‘ইমুল মিছকীন।

আমরা মিসকীনদেরকে খাবার দিতাম না।
৪৫

وَکُنَّا نَخُوۡضُ مَعَ الۡخَآئِضِیۡنَ ۙ ٤٥

ওয়া কুন্না- নাখূদুমা‘আল খাইদীন।

আর যারা অহেতুক আলাপ-আলোচনায় মগ্ন হত, আমরাও তাদের সঙ্গে তাতে মগ্ন হতাম। ২০

তাফসীরঃ

২০. এর দ্বারা কাফেরদের সেই সব সর্দারকে বোঝানো হয়েছে, যারা ইসলাম ও কুরআনকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার জন্য আসর জমাত এবং তাতে অবান্তর সব কথা বলে সত্যের বিরোধিতা করত। তবে কুরআন মাজীদ এ স্থলে যে শব্দ ব্যবহার করেছে তা সাধারণ। সব রকম অহেতুক কথাবার্তা ও নিষ্ফল কাজকর্ম এর অন্তর্ভুক্ত। এমন সব কিছুই আখেরাতে মুসিবতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
৪৬

وَکُنَّا نُکَذِّبُ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ۙ ٤٦

ওয়া কুন্না-নুকাযযিবুবিইয়াওমিদ্দীন।

এবং আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতাম।
৪৭

حَتّٰۤی اَتٰىنَا الۡیَقِیۡنُ ؕ ٤٧

হাত্তাআতা-নাল ইয়াকীন।

পরিশেষে সেই নিশ্চিত বিষয় আমাদের সামনে এসেই গেল।
৪৮

فَمَا تَنۡفَعُہُمۡ شَفَاعَۃُ الشّٰفِعِیۡنَ ؕ ٤٨

ফামা- তানফা‘উহুম শাফা- ‘আতুশশা-ফি‘ঈন।

সুতরাং সুপারিশকারীদের সুপারিশ এরূপ লোকদের কোন কাজে আসবে না।
৪৯

فَمَا لَہُمۡ عَنِ التَّذۡکِرَۃِ مُعۡرِضِیۡنَ ۙ ٤٩

ফামা-লাহুম ‘আনিততাযকিরাতি মু‘রিদীন।

তাদের কী হল যে, তারা উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে?
৫০

کَاَنَّہُمۡ حُمُرٌ مُّسۡتَنۡفِرَۃٌ ۙ ٥۰

কাআন্নাহুম হুমুরুম মুছতানফিরাহ।

যেন তারা ভীত-চকিত (বন্য) গাধা,
৫১

فَرَّتۡ مِنۡ قَسۡوَرَۃٍ ؕ ٥١

ফারাত মিন কাছওয়ারাহ।

যা কোন সিংহের ভয়ে পলায়ন করছে।
৫২

بَلۡ یُرِیۡدُ کُلُّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّؤۡتٰی صُحُفًا مُّنَشَّرَۃً ۙ ٥٢

বাল ইউরীদুকুল্লুম রিইম মিনহুম আইঁ ইউ’তা- সুহুফাম মুনাশশারাহ।

বরং তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাকে উন্মুক্ত এক গ্রন্থ দেওয়া হোক ২১

তাফসীরঃ

২১. একদল কাফেরের কথা ছিল, কুরআন মাজীদ কেবল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরই কেন নাযিল হবে? আল্লাহ তাআলা যদি হেদায়েতের জন্য কিতাব পাঠাতেই চান, তবে আমাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা কিতাব দিচ্ছেন না কেন?
৫৩

کَلَّا ؕ  بَلۡ لَّا یَخَافُوۡنَ الۡاٰخِرَۃَ ؕ ٥٣

কাল্লা বাল্লা- ইয়াখা-ফূনাল আ-খিরাহ।

কখনও নয়, ২২ প্রকৃতপক্ষে তারা আখিরাতকে ভয় করে না। ২৩

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ এসব আগা-মাথাহীন প্রশ্ন কোন সত্য সন্ধানের প্রেরণায় করা হচ্ছে না। আসল কথা হচ্ছে, তাদের অন্তর গাফলতির পর্দা দিয়ে ঢাকা। তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার কোন ভয় নেই। তাই মুখ দিয়ে যা আসে তাই বলে দেয়।
৫৪

کَلَّاۤ اِنَّہٗ تَذۡکِرَۃٌ ۚ ٥٤

কাল্লাইন্নাহূতাযকিরাহ।

কখনও নয়, এটা (অর্থাৎ কুরআন) এক উপদেশবাণী।
৫৫

فَمَنۡ شَآءَ ذَکَرَہٗ ؕ ٥٥

ফামান শাআ যাকারাহ।

সুতরাং যার ইচ্ছা সে এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
৫৬

وَمَا یَذۡکُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ؕ  ہُوَ اَہۡلُ التَّقۡوٰی وَاَہۡلُ الۡمَغۡفِرَۃِ ٪ ٥٦

ওয়ামা-ইয়াযকুরূনা ইল্লাআইঁ ইয়াশাআল্লা-হু হুওয়া আহলুত্তাকওয়া- ওয়া আহলুল মাগফিরাহ।

কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে না। তিনিই এর উপযুক্ত যে, তাঁকে ভয় করা হবে এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।