সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল জ্বিন (الجن) | জ্বিন সম্প্রদায়

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ২৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

قُلۡ اُوۡحِیَ اِلَیَّ اَنَّہُ اسۡتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الۡجِنِّ فَقَالُوۡۤا اِنَّا سَمِعۡنَا قُرۡاٰنًا عَجَبًا ۙ ١

কুলঊহিয়া ইলাইইয়া আন্নাহুছতামা‘আ নাফারুম মিনাল জিন্নি ফাকা-লূইন্না-ছামি‘নাকুরআ-নান ‘আজাবা- ।

(হে রাসূল!) বলে দাও, আমার কাছে ওহী এসেছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর (নিজ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে) বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি।

یَّہۡدِیۡۤ اِلَی الرُّشۡدِ فَاٰمَنَّا بِہٖ ؕ  وَلَنۡ نُّشۡرِکَ بِرَبِّنَاۤ اَحَدًا ۙ ٢

ইয়াহদীইলাররুশদি ফাআ-মান্না- বিহী ওয়া লান নুশরিকা বিরাব্বিনাআহাদা- ।

যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। সুতরাং আমরা তার প্রতি ঈমান এনেছি। এখন আর আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে (ইবাদতে) কখনও কাউকে শরীক করব না।

তাফসীরঃ

১. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেমন মানব জাতির কাছে নবী করে পাঠানো হয়েছিল, তেমনি তিনি জিন জাতিরও নবী ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের মধ্যেও দীনের প্রচার করেছিলেন। জিনদের মধ্যে তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এভাবে যে, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে জিনেরা আসমান পর্যন্ত যেতে পারত, তাতে তাদেরকে কোন বাধা দেওয়া হত না, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর তাদের আসমানের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল। কোন জিন বা শয়তান সেখানে যেতে চাইলে উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেওয়া শুরু হল, যেমন সূরা হিজর (১৫ : ১৭) ও সূরা সাফফাত (৩৭ : ১০)-এ গত হয়েছে। সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, জিনরা যখন পরিস্থিতির এই পরিবর্তন লক্ষ করল, তখন তাদেরকে আসমানে যেতে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে, কী এর রহস্য, তা জানার জন্য তাদের অন্তরে কৌতূহল দেখা দিল। এ উদ্দেশ্যে তাদের একটি দল সারা পৃথিবী পরিভ্রমণে বের হল। এটা সেই সময়কার কথা, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ থেকে মক্কা মুকাররমায় ফিরে আসছিলেন। পথে তিনি নাখলা নামক স্থানে যখন ফজরের নামায পড়ছিলেন ও তাতে কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত করছিলেন, ঠিক সেই সময় জিনদের উল্লেখিত দলটি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ তাদের কানে পৌঁছলে তাদের আগ্রহ জন্মাল এবং বিষয়টা কী তা জানার লক্ষে তারা সেখানে থেমে গেল। তারা গভীর মনোযোগের সাথে তাঁর তেলাওয়াত শুনতে লাগল। ভোরের শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশে খোদ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে পবিত্র কালামের তিলাওয়াত! স্বাভাবিকভাবেই তারা তাতে চমৎকৃত হল এবং তাদের অন্তরে তা এমনই প্রভাব বিস্তার করল যে, তারা তখনই ইসলাম গ্রহণ করে ফেলল। তারপর তারা নিজ কওমের কাছেও ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গেল। তারা তাদের কাছে গিয়ে যা-যা বলেছিল, আল্লাহ তাআলা এখানে তার সার সংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন, সূরা আহকাফেও (৪৬ : ৩০) এ ঘটনার দিকে সংক্ষেপে ইশারা করা হয়েছে। এরপর জিনদের কয়েকটি প্রতিনিধি দল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করে এবং তিনি তাদেরকে দীনের দাওয়াত দেন ও ইসলামের বিধি-বিধান শিক্ষা দান করেন।

وَّاَنَّہٗ تَعٰلٰی جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَۃً وَّلَا وَلَدًا ۙ ٣

ওয়া আন্নাহূতা‘আ- জাদ্দুরাব্বিনা- মাত্তাখাযা সা-হিবাতাওঁ ওয়ালা- ওয়ালাদা- ।

এবং এই (বিশ্বাস করেছি) যে, আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা সমুচ্চ। তিনি কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি এবং কোন সন্তানও নয়।

وَّاَنَّہٗ کَانَ یَقُوۡلُ سَفِیۡہُنَا عَلَی اللّٰہِ شَطَطًا ۙ ٤

ওয়া আন্নাহূকা-না ইয়াকূলুছাফীহুনা- ‘আলাল্লা-হি শাতাতা- ।

এবং এই যে, আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবাস্তব কথা বলত।

তাফসীরঃ

২. এর দ্বারা কুফর, শিরক ও ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস সংক্রান্ত কথাবার্তা বোঝানো হয়েছে।

وَّاَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنۡ لَّنۡ تَقُوۡلَ الۡاِنۡسُ وَالۡجِنُّ عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا ۙ ٥

ওয়া আন্না- জানান্নাআল্লান তাকূলাল ইনছুওয়াল জিন্নু‘আলাল্লা-হি কাযিবা- ।

এবং আমরা মনে করেছিলাম মানুষ ও জিন আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলবে না।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ এ পর্যন্ত আমরা যেসব ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করতাম তার কারণ ছিল এই যে, সমস্ত মানুষ ও জিন জাতির বিশ্বাসও এ রকমই ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল এতসব লোক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস পোষণ করতে পারে না। কাজেই তাদের অনুসরণে আমরাও একই বিশ্বাস গ্রহণ করে নিয়েছিলাম।

وَّاَنَّہٗ کَانَ رِجَالٌ مِّنَ الۡاِنۡسِ یَعُوۡذُوۡنَ بِرِجَالٍ مِّنَ الۡجِنِّ فَزَادُوۡہُمۡ رَہَقًا ۙ ٦

ওয়া আন্নাহূকা-না রিজা-লুম মিনাল ইনছি ইয়া‘ঊযূনা বিরিজা-লিম মিনাল জিন্নি ফাঝা-দূহুম রাহাকা- ।

এবং মানুষের মধ্যে কিছু লোক জিনদের কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত। এভাবে তারা জিনদেরকে আরও বেশি আত্মম্ভরী করে তুলেছিল।

তাফসীরঃ

৪. জাহেলী যুগে মানুষ তাদের সফরকালে যখন বন-জঙ্গলে পৌঁছাত, তখন সেখানকার জিনদের আশ্রয় নিত। অর্থাৎ বনের জিনদের কাছে আবেদন করত, তারা যেন তাদেরকে নিজেদের আশ্রয়ে রেখে কষ্টদায়ক জীবজন্তু থেকে তাদেরকে রক্ষা করে। এ কারণে জিনরা মনে করত, তারা মানুষ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যেহেতু মানুষ তাদের আশ্রয়ের মুখাপেক্ষী। এর ফলে তাদের গোমরাহী ও অহমিকা আরও বৃদ্ধি পায়।

وَّاَنَّہُمۡ ظَنُّوۡا کَمَا ظَنَنۡتُمۡ اَنۡ لَّنۡ یَّبۡعَثَ اللّٰہُ اَحَدًا ۙ ٧

ওয়া আন্নাহুম জান্নুকামা-জানানতুম আল্লাইঁ ইয়াব‘আছাল্লা- হু আহাদা- ।

এবং তোমরা যেমন ধারণা করতে, তেমনি মানুষও ধারণা করেছিল, আল্লাহ কাউকেই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন না।

তাফসীরঃ

৫. একথা জিনেরা তাদের অপর জিন ভাইদের লক্ষ্য করে বলেছিল। বোঝাচ্ছিল যে, তোমরা যেমন আখেরাত বিশ্বাস করতে না, তেমনি মানুষেরও তাতে বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু সেটা যে মহা ভুল তা এখন প্রমাণ হয়ে গেছে।

وَّاَنَّا لَمَسۡنَا السَّمَآءَ فَوَجَدۡنٰہَا مُلِئَتۡ حَرَسًا شَدِیۡدًا وَّشُہُبًا ۙ ٨

ওয়া আন্না-লামাছনাছছামাআ ফাওয়াজাদনা-হা- মুলিইয়াত হারাছান শাদীদাওঁ ওয়া শুহুবা-।

এবং আমরা আকাশে অনুসন্ধান করতে চাইলাম, তখন দেখলাম তা কঠোর পাহারাদার ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

তাফসীরঃ

৬. পূর্বে ১নং টীকায় যে কথা বলা হয়েছে, এখানে সেটাই বলা হচ্ছে যে, জিনদের আকাশের কাছে যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারা যাতে সেখানে যেতে না পারে, তাই ফেরেশতাদেরকে পাহারায় বসানো হয়েছিল। এমনকি কেউ চুরি করে ফেরেশতাদের কথা শুনতে চাইলে সে সুযোগও তাদেরকে দেওয়া হত না। উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করে তাড়িয়ে দেওয়া হত।

وَّاَنَّا کُنَّا نَقۡعُدُ مِنۡہَا مَقَاعِدَ لِلسَّمۡعِ ؕ  فَمَنۡ یَّسۡتَمِعِ الۡاٰنَ یَجِدۡ لَہٗ شِہَابًا رَّصَدًا ۙ ٩

ওয়া আন্না- কুন্না- নাক‘উদুমিনহা- মাকা-‘ইদা লিছছামা‘ই ফামাইঁ ইয়াছতামি‘ইল আনা ইয়াজিদ লাহূশিহা-বাররাসাদা-।

এবং আমরা আগে সংবাদ শোনার জন্য আকাশের কোন কোন স্থানে গিয়ে বসে থাকতাম। কিন্তু এখন কেউ শুনতে চাইলে সে দেখতে পায় এক উল্কাপিণ্ড তার (উপর নিক্ষেপের) জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
১০

وَّاَنَّا لَا نَدۡرِیۡۤ اَشَرٌّ اُرِیۡدَ بِمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اَمۡ اَرَادَ بِہِمۡ رَبُّہُمۡ رَشَدًا ۙ ١۰

ওয়া আন্না-লা-নাদরীআশাররুন উরীদা বিমান ফিল আরদিআম আরা-দা বিহিম রাব্বুহুম রাশাদা- ।

এবং আমাদের জানা ছিল না জগদ্বাসীর কোন অমঙ্গল করার ইচ্ছা করা হয়েছে, না তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শনের ইচ্ছা করেছেন।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আকাশকে সংরক্ষিত রাখার যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কী তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানতাম না। তার উদ্দেশ্য কি জগদ্বাসীকে শাস্তি দেওয়া, যাতে তারা আগে থেকে তা আঁচ করতে না পারে, না কি এর পেছনে কোন মহৎ উদ্দেশ্য আছে অর্থাৎ তিনি চান জগদ্বাসীর কোন কল্যাণ সাধন করতে, তাই জিনদেরকে বাধা দিচ্ছেন, যাতে তারা সে কল্যাণে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে না পারে। তো আগে যেহেতু নিশ্চিতভাবে আমাদের জানা ছিল না আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায় এ দু’টির মধ্যে কোনটি, তাই আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে কুরআন তেলাওয়াত শোনার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে জগদ্বাসীকে কুরআনী হেদায়েতের দ্বারা ধন্য করতে চান এবং সেজন্যই এ ব্যবস্থা।
১১

وَّاَنَّا مِنَّا الصّٰلِحُوۡنَ وَمِنَّا دُوۡنَ ذٰلِکَ ؕ  کُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدًا ۙ ١١

ওয়া আন্না-মিন্নাসসা-লিহূনা ওয়া মিন্না-দূ না যা-লিকা কুন্না-তারাইকা কিদাদা- ।

এবং আমাদের মধ্যে কতক নেককার এবং কতক সে রকম নয়। আর আমরা বিভিন্ন পথের অনুসারী ছিলাম।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ জিনদের মধ্যে কতক তো স্বভাবগতভাবেই ভালো ছিল। সত্য কথা মেনে নেওয়ার যোগ্যতা ও প্রবণতা তাদের মধ্যে ছিল। আবার কতক ছিল দুষ্ট প্রকৃতির। তাছাড়া জিনদের সকলের ধর্মও এক ছিল না। তাদের মধ্যেও বিভিন্ন আকীদার লোক ছিল। কাজেই আমাদের সকলের আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে পথ-নির্দেশের প্রয়োজন ছিল। সে প্রয়োজনই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভাগমন দ্বারা পূর্ণ হয়েছে।
১২

وَّاَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنۡ لَّنۡ نُّعۡجِزَ اللّٰہَ فِی الۡاَرۡضِ وَلَنۡ نُّعۡجِزَہٗ ہَرَبًا ۙ ١٢

ওয়া আন্না-জানান্না আল্লান নু‘জিঝাল্লা-হা ফিল আরদিওয়া লান নু‘জিঝাহূহারাবা- ।

এবং আমরা এখন বুঝেছি, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারব না এবং (অন্য কোথাও) পালিয়ে গিয়ে তাকে ব্যর্থও করতে সক্ষম হব না।
১৩

وَّاَنَّا لَمَّا سَمِعۡنَا الۡہُدٰۤی اٰمَنَّا بِہٖ ؕ  فَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِرَبِّہٖ فَلَا یَخَافُ بَخۡسًا وَّلَا رَہَقًا ۙ ١٣

ওয়া আন্না- লাম্মা- ছামি‘নাল হুদাআ-মান্না- বিহী ফামাইঁ ইউ’মিম বিরাব্বিহী ফালাইয়াখা-ফুবাখছাওঁ ওয়ালা- রাহাকা- ।

এবং আমরা যখন হেদায়েতের বাণী শুনলাম, তাতে ঈমান আনলাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনে, তার কোনও ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না এবং কোনও অন্যায়েরও না।
১৪

وَّاَنَّا مِنَّا الۡمُسۡلِمُوۡنَ وَمِنَّا الۡقٰسِطُوۡنَ ؕ فَمَنۡ اَسۡلَمَ فَاُولٰٓئِکَ تَحَرَّوۡا رَشَدًا ١٤

ওয়া আন্না- মিন্নাল মুছলিমূনা ওয়া মিন্নাল কা-ছিতূনা ফামান আছলামা ফাউলাইকা তাহররাওঁ ওাশাদা-।

এবং আমাদের মধ্যে কতক তো মুসলিম হয়ে গেছে এবং আমাদের মধ্যে কতক (এখনও) জালেম। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তারা হেদায়েতের পথ খুঁজে নিয়েছে।
১৫

وَاَمَّا الۡقٰسِطُوۡنَ فَکَانُوۡا لِجَہَنَّمَ حَطَبًا ۙ ١٥

ওয়া আম্মাল কা-ছিতু না ফাকা-নূলিজাহান্নামা হাতাবা- ।

বাকি থাকল জালেমগণ, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।
১৬

وَّاَنۡ لَّوِ اسۡتَقَامُوۡا عَلَی الطَّرِیۡقَۃِ لَاَسۡقَیۡنٰہُمۡ مَّآءً غَدَقًا ۙ ١٦

ওয়া আল্লাবিছতাকা-মূ‘আলাত্তারীকাতি লাআছকাইনা-হুম মাআন গাদাকা-।

এবং (হে রাসূল! মক্কাবাসীদেরকে বল, আমার প্রতি) এই (ওহীও এসেছে) যে, তারা যদি সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে আমি প্রচুর পরিমাণ পানি দ্বারা তাদেরকে সিঞ্চিত করব
১৭

لِّنَفۡتِنَہُمۡ فِیۡہِ ؕ  وَمَنۡ یُّعۡرِضۡ عَنۡ ذِکۡرِ رَبِّہٖ یَسۡلُکۡہُ عَذَابًا صَعَدًا ۙ ١٧

লিনাফতিনাহুম ফীহি ওয়া মাইঁ ইউ‘রিদ‘আন যিকরি রাব্বিহী ইয়াছলুকহু ‘আযা-বান সা‘আদা- ।

এর মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আর কেউ তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তিতে গেঁথে দেবেন।

তাফসীরঃ

৯. জিনদের ঘটনা শুনিয়ে মক্কাবাসীদের বলা হচ্ছে, জিনদের উল্লেখিত দলটি যেভাবে সত্য সন্ধানের প্রমাণ দিয়ে ঈমান এনেছে, তেমনি তোমাদেরও উচিত কুরআন মাজীদের প্রতি ঈমান নিয়ে আসা। তোমরা তা করলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি দান করবেন। বৃষ্টির কথা বিশেষভাবে বলার কারণ, সে সময় মক্কাবাসী প্রচণ্ড খরার শিকার ছিল (বয়ানুল কুরআন)।
১৮

وَّاَنَّ الۡمَسٰجِدَ لِلّٰہِ فَلَا تَدۡعُوۡا مَعَ اللّٰہِ اَحَدًا ۙ ١٨

ওয়া আন্নাল মাছা-জিদা লিল্লা-হি ফালা- তাদ‘ঊ মা‘আল্লা-হি আহাদা-।

এবং আমার কাছে ওহী এসেছে যে, সিজদাসমূহ আল্লাহরই প্রাপ্য। ১০ সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না।

তাফসীরঃ

১০. এ বাক্যটির আরেক তরজমা হতে পারে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই।
১৯

وَّاَنَّہٗ لَمَّا قَامَ عَبۡدُ اللّٰہِ یَدۡعُوۡہُ کَادُوۡا یَکُوۡنُوۡنَ عَلَیۡہِ لِبَدًا ؕ٪ ١٩

ওয়া আন্নাহূলাম্মা-কা- মা ‘আবদুল্লা-হি ইয়াদ‘ঊহু কা-দূইয়াকূনূনা ‘আলাইহি লিবাদা-।

এবং এই যে, যখন আল্লাহর বান্দা তাঁর ইবাদত করার জন্য দাঁড়াল, তারা তার উপর যেন ভেঙ্গে পড়ছিল। ১১

তাফসীরঃ

১১. এস্থলে ‘আল্লাহর বান্দা’ বলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। ‘তাঁর উপর ভেঙ্গে পড়া’-এর এক ব্যাখ্যা এই হতে পারে যে, তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন কাফেরগণ তাঁর কাছে এমনভাবে এসে জড়ো হত, মনে হত তারা বুঝি তাঁর উপর হামলা করবে। কোন কোন মুফাসসির ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি ইবাদতকালে যখন কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করতেন, তখন তা শোনার জন্য জিনরা দলে-দলে এসে তাঁর কাছে ভীড় জমাত।
২০

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَدۡعُوۡا رَبِّیۡ وَلَاۤ اُشۡرِکُ بِہٖۤ اَحَدًا ٢۰

কুল ইন্নামাআদ‘ঊ রাববী ওয়ালাউশরিকুবিহীআহাদা-।

বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক স্থির করি না।
২১

قُلۡ اِنِّیۡ لَاۤ اَمۡلِکُ لَکُمۡ ضَرًّا وَّلَا رَشَدًا ٢١

কুল ইন্নী লাআমলিকুলাকুম দাররাওঁ ওয়ালা-রাশাদা- ।

বলে দাও, আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোন উপকার করারও না।
২২

قُلۡ اِنِّیۡ لَنۡ یُّجِیۡرَنِیۡ مِنَ اللّٰہِ اَحَدٌ ۬ۙ  وَّلَنۡ اَجِدَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مُلۡتَحَدًا ۙ ٢٢

কুল ইন্নী লাইঁ ইউজীরানী মিনাল্লা-হি আহাদুওঁ ওয়া লান আজিদা মিন দূ নিহী মুলতাহাদা-।

বলে দাও, আমাকে আল্লাহ হতে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং আমিও তাঁকে ছেড়ে অন্য কোন আশ্রয়স্থল পাব না।
২৩

اِلَّا بَلٰغًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِسٰلٰتِہٖ ؕ  وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَاِنَّ لَہٗ نَارَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ ٢٣

ইল্লা-বালা-গাম মিনাল্লা-হি ওয়া রিছা-লা-তিহী ওয়া মাইঁ ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ফাইন্না লাহূনা-রা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহাআবাদা- ।

অবশ্য (আমাকে যে জিনিসের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তা হল) আল্লাহর পক্ষ হতে বার্তা পৌঁছানো ও তাঁর বাণী প্রচার। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করলে তার জন্য আছে জাহান্নামের আগুন, যার ভেতর তারা স্থায়ীভাবে থাকবে।
২৪

حَتّٰۤی اِذَا رَاَوۡا مَا یُوۡعَدُوۡنَ فَسَیَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَضۡعَفُ نَاصِرًا وَّاَقَلُّ عَدَدًا ٢٤

হাত্তা ইয়া- রাআও মা- ইঊ‘আদূনা ফাছাইয়া‘লামূনা মান আদ‘আফুনা-সিরাওঁ ওয়া আকাল্লু‘আদাদা- ।

(তারা অবাধ্যতা করতে থাকবে) যাবৎ না তারা দেখতে পায় সেই জিনিস যে ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। তখন তারা বুঝতে পারবে কার সাহায্যকারী দুর্বল এবং কে সংখ্যায় অল্প। ১২

তাফসীরঃ

১২. সূরা মারয়াম (১৯ : ৭৩)-এ আছে, কাফেরগণ মুসলিমদেরকে বলত, “আমাদের উভয় দলের মধ্যে কার অবস্থান শ্রেষ্ঠতর এবং কার মজলিস উৎকৃষ্টতর?” অর্থাৎ শক্তি ও সংখ্যায় কার সাহায্যকারীগণ উপরে। এ আয়াতে তাদের এ জাতীয় কথারই উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, যে দিন আল্লাহ তাআলার শাস্তি তাদের সামনে হাজির হয়ে যাবে, সে দিনই তারা বুঝতে পারবে কার সাহায্যকারীগণ দুর্বল ও সংখ্যায় অল্প এবং কার সাহায্যকারী শক্তিতে প্রবল ও সংখ্যায় অধিক।
২৫

قُلۡ اِنۡ اَدۡرِیۡۤ اَقَرِیۡبٌ مَّا تُوۡعَدُوۡنَ اَمۡ یَجۡعَلُ لَہٗ رَبِّیۡۤ اَمَدًا ٢٥

কুল ইন আদরীআকারীবুম মা-তূ‘আদূনা আম ইয়াজ‘আলুলাহূরাববীআমাদা-।

বলে দাও, আমি জানি না, তোমাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে, তা আসন্ন, না আমার প্রতিপালক তার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করবেন। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. এর দ্বারা কিয়ামত বোঝানো উদ্দেশ্য। অর্থাৎ কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে তা আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।
২৬

عٰلِمُ الۡغَیۡبِ فَلَا یُظۡہِرُ عَلٰی غَیۡبِہٖۤ اَحَدًا ۙ ٢٦

‘আ-লিমুলগাইবি ফালা-ইউজহিরু ‘আলা- গাইবিহীআহাদা-।

তিনিই সকল গুপ্ত বিষয় জানেন। তিনি তাঁর গুপ্ত জ্ঞান সম্পর্কে কাউকে অবহিত করেন না
২৭

اِلَّا مَنِ ارۡتَضٰی مِنۡ رَّسُوۡلٍ فَاِنَّہٗ یَسۡلُکُ مِنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَمِنۡ خَلۡفِہٖ رَصَدًا ۙ ٢٧

ইল্লা-মানিরতাদা-মিররাছূলিন ফাইন্নাহূইয়াছলুকুমিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়া মিন খালফিহী রাসাদা- ।

তিনি যাকে (এ কাজের জন্য) মনোনীত করেছেন সেই রাসূল ছাড়া। ১৪ এরূপ ক্ষেত্রে তিনি সেই রাসূলের সামনে ও পেছনে কিছু প্রহরী নিযুক্ত করেন।

তাফসীরঃ

১৪. আল্লাহ তাআলা ছাড়া আলিমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞাতা আর কেউ নেই। তবে তিনি তাঁর নবী-রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করেন ওহীর মাধ্যমে গায়েবের সংবাদ দান করেন। এরূপ ক্ষেত্রে ফেরেশতাগণকে সেই ওহীর পাহারাদার করে পাঠানো হয়, যাতে শয়তান তাতে কোন রকমের হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
২৮

لِّیَعۡلَمَ اَنۡ قَدۡ اَبۡلَغُوۡا رِسٰلٰتِ رَبِّہِمۡ وَاَحَاطَ بِمَا لَدَیۡہِمۡ وَاَحۡصٰی کُلَّ شَیۡءٍ عَدَدًا ٪ ٢٨

লিইয়া‘লামা আন কাদ আবলাগূরিছা-লা-তি রাব্বিহিম ওয়া আহা-তাবিমা-লাদাইহিম ওয়াআহসা- কুল্লা শাইয়িন ‘আদাদা- ।

তারা (অর্থাৎ রাসূলগণ) তাদের প্রতিপালকের বাণী যে ঠিক পৌঁছিয়ে দিয়েছে তা জানার জন্য। আর তিনি তাদের যাবতীয় অবস্থা পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তিনি সমস্ত কিছু পুরোপুরি হিসাব করে রেখেছেন।