সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মাআরিজ (الـمعارج) | উন্নয়নের সোপান

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سَاَلَ سَآئِلٌۢ بِعَذَابٍ وَّاقِعٍ ۙ ١

ছাআলা ছাইলুম বি‘আযা-বিওঁ ওয়াকি‘।

এক যাচক যাচনা করল সেই শাস্তি,

তাফসীরঃ

১. জনৈক কাফের ইসলামকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে বলেছিল, যদি এ কুরআন ও ইসলাম সত্য হয়, তবে তুমি আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ কর অথবা অন্য কোন কঠিন শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস করে দাও, যেমন সূরা আনফালে (৮ : ৩২) বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এই ব্যক্তির নাম ছিল নাযর ইবনে হারিছ। এখানে তার কথাই বলা হয়েছে যে, সে শাস্তি প্রার্থনা করছে, যদিও তার আসল উদ্দেশ্য শাস্তি চাওয়া নয়, বরং শাস্তিকে বিদ্রূপ করা ও তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা। অথচ সে শাস্তি নিশ্চিত সত্য এবং যখন তা আসবে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

لِّلۡکٰفِرِیۡنَ لَیۡسَ لَہٗ دَافِعٌ ۙ ٢

লিলকা-ফিরীনা লাইছা লাহূদা-ফি‘।

যা কাফেরদের জন্য অবধারিত, যা রোধ করতে পারে এমন কেউ নেই।

مِّنَ اللّٰہِ ذِی الۡمَعَارِجِ ؕ ٣

মিনাল্লা-হি যিল মা‘আ-রিজ।

তা আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি আরোহণের পথসমূহের মালিক।

তাফসীরঃ

২. ‘আরোহণের পথসমূহ’ দ্বারা এমন সব পথ বোঝানো হয়েছে, যা দিয়ে ফেরেশতাগণ ঊর্ধ্বজগতে আরোহণ করে। এখানে বিশেষভাবে তার উল্লেখ করা হয়েছে এ কারণে যে, পরের আয়াতে ঊর্ধ্বলোকে ফেরেশতাদের আরোহণ করার কথা আসছে।

تَعۡرُجُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗ خَمۡسِیۡنَ اَلۡفَ سَنَۃٍ ۚ ٤

তা‘রুজুলমালাইকাতুওয়াররূহুইলাইহি ফী ইয়াওমিন কা-না মিকদা-রুহূখামছীনা আলফা ছানাহ।

ফেরেশতাগণ ও রূহুল কুদস তাঁর কাছে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।

তাফসীরঃ

৩. এ আয়াতের দুটি ব্যাখ্যা আছে। (এক) এতে যে দিনের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে কিয়ামত দিবস। হিসাব-নিকাশের কঠোরতার কারণে কাফেরদের কাছে সে দিনটি পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান মনে হবে। এ ব্যাখ্যার প্রবক্তাগণ বলেন, এ দিনকেই সূরা তানযীল-আস-সাজদায় (৩২ : ৫) এক হাজার বছরের সমান বলা হয়েছে। পরিমাণ দু’ রকম বলা হয়েছে ব্যক্তিভেদে। অর্থাৎ হিসাব-নিকাশের কঠোরতা অনুযায়ী কারও কাছে সে দিনকে এক হাজার বছরের সমান মনে হবে এবং যাদের কষ্ট আরও বেশি হবে, তাদের কাছে মনে হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। (দুই) আয়াতটির দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হল, কাফেরদের সামনে যখন বলা হত, তাদের কুফরের পরিণামে দুনিয়া বা আখেরাতে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে, তখন তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুরু করে দিত এবং বলত, কই, এত দিন চলে গেল কোন শাস্তি তো আসল না। বাস্ত বিকই শাস্তি আসার হলে তা এসে যাচ্ছে না কেন? তাদের এসব কথার উত্তরে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, বাকি তা কখন হবে তা তিনিই জানেন। তিনি নিজ হেকমত অনুযায়ী এর দিনক্ষণ ঠিক করে রেখেছেন। তোমরা যে মনে করছ তা আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে, তা করছ তোমাদের হিসাব অনুযায়ী। প্রকৃতপক্ষে তোমরা যেই কালকে এক হাজার বা পঞ্চাশ হাজার বছর গণ্য কর আল্লাহ তাআলার কাছে তা এক দিনের সমান। সুতরাং সূরা হজ্জেও একই কথা এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, তারা খুব তাড়াতাড়ি শাস্তি চাচ্ছে। আর এখানে সূরা মাআরিজেও যে ব্যক্তি শাস্তি চাচ্ছিল তার জবাবেই একথা বলা হয়েছে।

فَاصۡبِرۡ صَبۡرًا جَمِیۡلًا ٥

ফাসবির সাবরান জামীলা-।

সুতরাং সবর অবলম্বন কর উত্তমরূপে।

اِنَّہُمۡ یَرَوۡنَہٗ بَعِیۡدًا ۙ ٦

ইন্নাহুম ইয়ারাওনাহূবা‘ঈদা।

তারা তাকে দূরবর্তী মনে করছে।

وَّنَرٰىہُ قَرِیۡبًا ؕ ٧

ওয়া নারা-হু কারীবা- ।

অথচ আমি তাকে দেখছি নিকটবর্তী।

یَوۡمَ تَکُوۡنُ السَّمَآءُ کَالۡمُہۡلِ ۙ ٨

ইয়াওমা তাকূনুছ ছামা-উ কালমুহল, ।

(সে শাস্তি হবে সেই দিন) যে দিন আকাশ তেলের গাদের মত হয়ে যাবে

وَتَکُوۡنُ الۡجِبَالُ کَالۡعِہۡنِ ۙ ٩

ওয়া তাকূনুল জিবা-লুকাল‘ইহন।

এবং পাহাড় হয়ে যাবে রঙ্গিন পশমের মত।
১০

وَلَا یَسۡـَٔلُ حَمِیۡمٌ حَمِیۡمًا ۚۖ ١۰

ওয়ালা-ইয়াছআলুহামীমুন হামীমা- ।

এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু অন্তরঙ্গ বন্ধুকে জিজ্ঞেসও করবে না।
১১

یُّبَصَّرُوۡنَہُمۡ ؕ  یَوَدُّ الۡمُجۡرِمُ لَوۡ یَفۡتَدِیۡ مِنۡ عَذَابِ یَوۡمِئِذٍۭ بِبَنِیۡہِ ۙ ١١

ইউবাসসারূনাহুম ইয়াওয়াদ্দুল মুজরিমুলাও ইয়াফতাদী মিন ‘আযা- বি ইয়াওমিইযিম ব্বিানীহ।

অথচ তাদের পরস্পরকে দৃষ্টিগোচর করে দেওয়া হবে। অপরাধী সে দিন শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য তার পুত্রকে মুক্তিপণ হিসেবে দিতে চাবে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ বন্ধু-বান্ধব, পিতামাতা, ভাইবোন, প্রিয়জন সকলেই একে অন্যকে চোখের সামনে দেখতে পাবে, চিনতেও পারবে। কিন্তু কিয়ামতের বিভীষিকার কারণে প্রত্যেকেই এমন ভীত-সন্ত্রস্ত ও আপনাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে যে, অন্যকে কিছু জিজ্ঞেস করা ও তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার অবকাশ হবে না। -অনুবাদক
১২

وَصَاحِبَتِہٖ وَاَخِیۡہِ ۙ ١٢

ওয়া সা-হিবাতিহী ওয়া আখীহ।

এবং তার স্ত্রী ও ভাইকে
১৩

وَفَصِیۡلَتِہِ الَّتِیۡ تُــٔۡوِیۡہِ ۙ ١٣

ওয়া ফাসীলাতিহিল্লাতী তু’বীহ।

এবং তার সেই খান্দানকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত।
১৪

وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ۙ  ثُمَّ یُنۡجِیۡہِ ۙ ١٤

ওয়া মান ফিল আরদিজামী‘আন ছু ম্মা ইউনজীহ।

এবং পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীকে, যাতে (এসব মুক্তিপণ দিয়ে) সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।
১৫

کَلَّا ؕ  اِنَّہَا لَظٰی ۙ ١٥

কাল্লা- ইন্নাহা-লাজা- ।

(কিন্তু) কখনই এটা সম্ভব হবে না। তা তো এক লেলিহান আগুন।
১৬

نَزَّاعَۃً لِّلشَّوٰی ۚۖ ١٦

নাঝঝা‘আতাল লিশশাওয়া-।

যা চামড়া খসিয়ে দেবে।
১৭

تَدۡعُوۡا مَنۡ اَدۡبَرَ وَتَوَلّٰی ۙ ١٧

তাদ‘উ মান আদবারা ওয়া তাওয়াল্লা- ।

তা প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে ডাকবে, যে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ দুনিয়ায় যে ব্যক্তি সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, জাহান্নাম তাকে নিজের দিকে ডেকে নেবে।
১৮

وَجَمَعَ فَاَوۡعٰی ١٨

ওয়া জামা‘আ ফাআও‘আ- ।

এবং (অর্থ-সম্পদ) সঞ্চয় করেছে অতঃপর তা সযত্নে সংরক্ষণ করেছে।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদে অন্যদের যে হক ধার্য করেছেন তা আদায় না করে কেবল সঞ্চয়েরই ধান্ধায় থাকত।
১৯

اِنَّ الۡاِنۡسَانَ خُلِقَ ہَلُوۡعًا ۙ ١٩

ইন্নাল ইনছা-না খুলিকা হালূ‘আ- ।

বস্তুত মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে লঘুচিত্ত রূপে
২০

اِذَا مَسَّہُ الشَّرُّ جَزُوۡعًا ۙ ٢۰

ইযা- মাছছাহুশশাররু জাঝূ‘আ- ।

যখন কোন কষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তখন সে অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়ে।
২১

وَّاِذَا مَسَّہُ الۡخَیۡرُ مَنُوۡعًا ۙ ٢١

ওয়া ইযা-মাছছাহুল খাইরু মানূ‘আ- ।

আর যখন তার স্বাচ্ছন্দ্য আসে, তখন হয় অতি কৃপণ।
২২

اِلَّا الۡمُصَلِّیۡنَ ۙ ٢٢

ইল্লাল মুসাল্লীন।

তবে নামাযীগণ নয়
২৩

الَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ دَآئِمُوۡنَ ۪ۙ ٢٣

আল্লাযীনা হুম ‘আলা-সালা-তিহিম দাইমূন।

যারা তাদের নামায আদায় করে নিয়মিত।
২৪

وَالَّذِیۡنَ فِیۡۤ اَمۡوَالِہِمۡ حَقٌّ مَّعۡلُوۡمٌ ۪ۙ ٢٤

ওয়াল্লাযীনা ফীআমওয়া-লিহিম হাক্কুম মা‘লূম।

এবং যাদের অর্থ-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে

তাফসীরঃ

৭. এর দ্বারা যাকাত ও এমন সব খাত বোঝানো হয়েছে, যাতে অর্থ ব্যয় অবশ্য কর্তব্য। আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাকাত দেওয়াটা গরীবদের প্রতি ধনীদের অনুকম্পা নয়; বরং এটা গরীবদের হক।
২৫

لِّلسَّآئِلِ وَالۡمَحۡرُوۡمِ ۪ۙ ٢٥

লিছছাইলি ওয়াল মাহরূম।

যাচক ও বঞ্চিতের।

তাফসীরঃ

৮. যে গরীব নিজ প্রয়োজন প্রকাশ করে তাকে ‘যাচক’ এবং যে অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজ প্রয়োজন প্রকাশ করে না তাকে ‘বঞ্চিত’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
২৬

وَالَّذِیۡنَ یُصَدِّقُوۡنَ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ۪ۙ ٢٦

ওয়াল্লায়ীনা ইউসাদ্দিকূনা বিইয়াওমিদ্দীন।

এবং যারা কর্মফল দিবসকে সত্য বলে জানে
২৭

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ مِّنۡ عَذَابِ رَبِّہِمۡ مُّشۡفِقُوۡنَ ۚ ٢٧

ওয়াল্লাযীনা হুম মিন ‘আযা-বি রাব্বিহিম মুশফিকূন।

এবং যারা তাদের প্রতিপালকের শাস্তির ভয়ে ভীত।
২৮

اِنَّ عَذَابَ رَبِّہِمۡ غَیۡرُ مَاۡمُوۡنٍ ٢٨

ইন্না ‘আযা-বা রাব্বিহিম গাইরু মা’মূন।

নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালকের শাস্তি এমন নয়, যা হতে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
২৯

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ ٢٩

ওয়াল্লাযীনাহুম লিফুরূজিহিম হা-ফিজূ ন।

এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে (সকলের থেকে) হেফাজত করে,
৩০

اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ ٣۰

ইল্লা-‘আলাআযওয়া-জিহিম আও মা-মালাকাত আইমা-নুহুম ফাইন্নাহুম গাইরু মালূমীন।

তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাভুক্ত দাসীদের ছাড়া। কেননা এসব লোক নিন্দনীয় নয়।
৩১

فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ ٣١

ফামানিবতাগা-ওয়ারা-আ যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ‘আ-দূন।

তবে কেউ তার বাইরে অন্য কিছু কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কোনভাবে যৌন চাহিদা মেটানো জায়েয নয়। কাজেই যারা সে রকম কিছু করে তারা বৈধতার সীমা লংঘনকারী।
৩২

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۪ۙ ٣٢

ওয়াল্লাযীনা হুম লিআমা-না-তিহিম ওয়া ‘আহদিহিম রা-‘ঊন।

এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
৩৩

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ بِشَہٰدٰتِہِمۡ قَآئِمُوۡنَ ۪ۙ ٣٣

ওয়াল্লাযীনা হুম বিশাহা-দা-তিহিম কাইমূন।

এবং যারা তাদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে দান করে।
৩৪

وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ؕ ٣٤

ওয়াল্লাযীনা হুম ‘আলা-সালা-তিহিম ইউহা-ফিজূ ন।

এবং যারা তাদের নামাযের ব্যাপারে পুরোপুরি যত্নবান থাকে। ১০

তাফসীরঃ

১০. ২৩নং আয়াতে নিয়মিত নামায আদায় করার কথা বলা হয়েছে আর এ আয়াতে বলা হয়েছে, তারা নামাযের ব্যাপারে পুরোপুরি যত্নবান থাকে, অর্থাৎ সমস্ত নিয়ম-কানুন ও আদব-কায়দার প্রতি লক্ষ্য রেখে নামায পড়ে। মুমিনদের এই একই গুণাবলীর কথা সূরা মুমিনূনের শুরুতেও বর্ণিত হয়েছে।
৩৫

اُولٰٓئِکَ فِیۡ جَنّٰتٍ مُّکۡرَمُوۡنَ ؕ٪ ٣٥

উলাইকা ফী জান্না-তিম মুকরামূন।

তারাই জান্নাতে থাকবে সম্মানজনকভাবে।
৩৬

فَمَالِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا قِبَلَکَ مُہۡطِعِیۡنَ ۙ ٣٦

ফামা-লিল্লাযীনা কাফারূ কিবালাকা মুহতি‘ঈন।

(হে রাসূল!) কাফেরদের হল কি যে, তারা তোমার দিকে ছুটে আসছে?
৩৭

عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِیۡنَ ٣٧

‘আনিল ইয়ামীনি ওয়া‘আনিশশিমা-লি ‘ইঝীন।

ডান দিক থেকেও এবং বাম দিক থেকেও, দলে দলে। ১১

তাফসীরঃ

১১. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করতেন, তখন কাফেরগণ দলে-দলে তাঁর কাছে জড়ো হত এবং তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত। বলত, এই ব্যক্তি যদি জান্নাতে যায়, তবে আমরা বসে থাকব নাকি? আমরা তার আগেই সেখানে পৌঁছে যাব (রূহুল মাআনী)। এ আয়াতের ইশারা সে দিকেই।
৩৮

اَیَطۡمَعُ کُلُّ امۡرِیًٴ مِّنۡہُمۡ اَنۡ یُّدۡخَلَ جَنَّۃَ نَعِیۡمٍ ۙ ٣٨

আইয়াতমা‘উ কুল্লুম রিইম মিনহুম আইঁ ইউদখালা জান্নাতা না‘ঈম।

তাদের প্রত্যেকেই কি প্রত্যাশা করে যে, তাকে দাখিল করা হবে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাতে?
৩৯

کَلَّا ؕ اِنَّا خَلَقۡنٰہُمۡ مِّمَّا یَعۡلَمُوۡنَ ٣٩

কাল্লা ইন্না- খালাকনা-হুম মিম্মা-ইয়া‘লামূন।

কখনও এরূপ হবে না। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এমন জিনিস দ্বারা যা তারা জানে। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ তারা জানে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি শুত্রুবিন্দু হতে, অথচ শুক্রবিন্দু হতে মানবরূপ পর্যন্ত পৌঁছতে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তো আল্লাহ তাআলা যখন এতগুলো ধাপ অতিক্রম করিয়ে এক বিন্দু শুক্রকে জ্যান্ত-জাগ্রত মানুষ বানাতে সক্ষম, তিনি সেই মানুষের লাশকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না?
৪০

فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِرَبِّ الۡمَشٰرِقِ وَالۡمَغٰرِبِ اِنَّا لَقٰدِرُوۡنَ ۙ ٤۰

ফালাউকছিমুবিরাব্বিল মাশা-রিকিওয়াল মাগা-রিবি ইন্না- লাকা-দিরূন।

আমি শপথ করছি (নক্ষত্ররাজির) উদয়স্থল ও অস্তাচলসমূহের অধিপতির, নিশ্চয়ই আমি এ বিষয়ে সক্ষম
৪১

عَلٰۤی اَنۡ نُّبَدِّلَ خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ ۙ وَمَا نَحۡنُ بِمَسۡبُوۡقِیۡنَ ٤١

‘আলাআন নুবাদ্দিলা খাইরাম মিনহুম ওয়ামা-নাহনুবিমাছবূকীন।

যে, তাদের স্থলবর্তী করব তাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্ট মানবগোষ্ঠীকে ১৩ এবং কেউ আমাকে ব্যর্থ করতে পারবে না।

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ তাদের সকলকে ধ্বংস করে তাদের স্থানে এমন মানবগোষ্ঠীকে সৃষ্টি করবেন, যারা তাদের চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে।
৪২

فَذَرۡہُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَیَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ ۙ ٤٢

ফাযারহুম ইয়াখূদূওয়া ইয়াল‘আবূহাত্তা-ইউলা-কূইয়াওমাহুমুল্লাযী ইঊ‘আদূন।

সুতরাং তুমি তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের অহেতুক বাক-বিতণ্ডা ও খেলাধুলায় মত্ত থাকুক, যাবৎ না সেই দিনের সাক্ষাত লাভ করে, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।
৪৩

یَوۡمَ یَخۡرُجُوۡنَ مِنَ الۡاَجۡدَاثِ سِرَاعًا کَاَنَّہُمۡ اِلٰی نُصُبٍ یُّوۡفِضُوۡنَ ۙ ٤٣

ইয়াওমা ইয়াখরুজূনা মিনাল আজদা-ছিছিরা-‘আন কাআন্নাহুম ইলা-নুসুবিইঁ ইঊফিদূন।

সে দিন তারা দ্রুতবেগে কবর থেকে এমনভাবে বের হবে, যেন তারা তাদের প্রতিমাদের দিকে দৌড়ে যাচ্ছে।
৪৪

خَاشِعَۃً اَبۡصَارُہُمۡ تَرۡہَقُہُمۡ ذِلَّۃٌ ؕ  ذٰلِکَ الۡیَوۡمُ الَّذِیۡ کَانُوۡا یُوۡعَدُوۡنَ ٪ ٤٤

খা-শি‘আতান আবসা-রুহুম তারহাকুহুম যিল্লাতুন যা-লিকাল ইয়াওমুল্লাযী কা-নূ ইঊ‘আদূ ন।

তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। এটাই সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।
সূরা আল মাআরিজ | মুসলিম বাংলা