সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আনআম (الأنعام) | গৃহপালিত পশু

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১৬৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَجَعَلَ الظُّلُمٰتِ وَالنُّوۡرَ ۬ؕ ثُمَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ ١

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়া জা‘আলাজজু লুমাতি ওয়াননূরা ছু ম্মাল্লাযীনা কাফারূ বিরাব্বিহীম ইয়া‘দিলূন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো বানিয়েছেন। তথাপি যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা (অন্যকে) নিজ প্রতিপালকের সমকক্ষ সাব্যস্ত করে।

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ طِیۡنٍ ثُمَّ قَضٰۤی اَجَلًا ؕ وَاَجَلٌ مُّسَمًّی عِنۡدَہٗ ثُمَّ اَنۡتُمۡ تَمۡتَرُوۡنَ ٢

হুওয়াল্লাযী খালাকাকুম মিন তীনিন ছুম্মা কাদাআজালাওঁ ওয়া আজালুম মুছাম্মান ‘ইনদাহূছু ম্মা আনতুম তামতারূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে নরম মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তারপর (তোমাদের জীবনের) একটি মেয়াদ স্থির করেছেন এবং (পুনরায় জীবিত হওয়ার) একটি নির্দিষ্ট কাল রয়েছে তারই নিকট। তারপরও তোমরা সন্দেহে পড়ে রয়েছে।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবনের একটা মেয়াদ রয়েছে, সেই মেয়াদ পর্যন্ত সে জীবিত থাকবে। প্রথমে সেটা কারও জানা থাকে না, কিন্তু কেউ যখন মারা যায়, তখন সকলের জানা হয়ে যায় যে, সে কত কাল জীবিত ছিল। কিন্তু মৃত্যুর পর আরও একটা জীবন রয়েছে, তা কখন আসবে তা কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন।

وَہُوَ اللّٰہُ فِی السَّمٰوٰتِ وَفِی الۡاَرۡضِ ؕ یَعۡلَمُ سِرَّکُمۡ وَجَہۡرَکُمۡ وَیَعۡلَمُ مَا تَکۡسِبُوۡنَ ٣

ওয়া হুওয়াল্লা-হু ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়া ফিল আরদি ইয়া‘লামুছিররাকুম ওয়া জাহরাকুম ওয়া ইয়া‘লামুমা-তাকছিবূন।

আর আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে তিনিই আল্লাহ। তিনি তোমাদের গুপ্ত বিষয়াদিও জানেন এবং প্রকাশ্য অবস্থাসমূহও। আর তোমরা যা-কিছু অর্জন করছ তাও তিনি অবগত।

وَمَا تَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ مِّنۡ اٰیٰتِ رَبِّہِمۡ اِلَّا کَانُوۡا عَنۡہَا مُعۡرِضِیۡنَ ٤

ওয়ামা-তা’তীহিম মিন আ-য়াতিম মিন আ-ইয়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা-কা-নূ‘আনহা-মু‘রিদীন।

(কাফিরদের অবস্থা এই যে,) তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী হতে যখনই কোনও নিদর্শন আসে, তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

فَقَدۡ کَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ ؕ فَسَوۡفَ یَاۡتِیۡہِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٥

ফাকাদ কাযযাবূবিলহাক্কিলাম্মা-জাআহুম ফাছাওফা ইয়া‘তীহিম আমবাউ মা- কা-নূ বিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

সুতরাং যখন তাদের নিকট সত্য আসল তখন তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং তারা যে বিষয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার খবর পৌঁছে যাবে।

তাফসীরঃ

২. কাফেরদেরকে বলে দেওয়া হয়েছিল, তারা যদি তাদের অন্যায় জেদ বলবৎ রাখে, তবে দুনিয়ায়ও তাদের পরিণাম অশুভ হবে এবং আখিরাতেও কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। কিন্তু কাফিরগণ এসব কথা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। এ আয়াত তাদেরকে সাবধান করছে যে, তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে শীঘ্রই তাদের সামনে তা বাস্তব সত্য হয়ে দেখা দেবে।

اَلَمۡ یَرَوۡا کَمۡ اَہۡلَکۡنَا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ مَّکَّنّٰہُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مَا لَمۡ نُمَکِّنۡ لَّکُمۡ وَاَرۡسَلۡنَا السَّمَآءَ عَلَیۡہِمۡ مِّدۡرَارًا ۪ وَّجَعَلۡنَا الۡاَنۡہٰرَ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہِمۡ فَاَہۡلَکۡنٰہُمۡ بِذُنُوۡبِہِمۡ وَاَنۡشَاۡنَا مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ قَرۡنًا اٰخَرِیۡنَ ٦

আলাম ইয়ারাও কাম আহলাকনা-মিন কাবলিহিম মিন কারনিম মাককান্না-হুম ফিল আরদি মা-লাম নুমাককিল লাকুম ওয়া আরছালনাছছামাআ ‘আলাইহিম মিদরা-রাওঁ ওয়া জা‘আলনাল আন হা-রা তাজরী মিন তাহতিহিম ফাআহলাকনা-হুম বিযুনূবিহিম ওয়া আনশা’না-মিম বা‘দিহিম কারনান আ-খারীন।

তারা কি দেখেনি, আমি তাদের পূর্বে কত জাতিকে ধ্বংস করেছি? তাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি তাদের প্রতি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম এবং তাদের তলদেশে নদ-নদীকে প্রবহমান করেছিলাম। অতঃপর তাদের পাপাচারের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দেই এবং তাদের পর অপর মানব গোষ্ঠীকে সৃষ্টি করি।

وَلَوۡ نَزَّلۡنَا عَلَیۡکَ کِتٰبًا فِیۡ قِرۡطَاسٍ فَلَمَسُوۡہُ بِاَیۡدِیۡہِمۡ لَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٧

ওয়ালাও নাঝঝালনা-আলাইকা কিতা-বান ফী কিরতা-ছিন ফালামাছূহু বিআইদীহিম লাকালাল্লাযীনা কাফারূ ইন হা-যা-ইল্লাছিহরুম মুবীন।

এবং (ওই কাফেরদের অবস্থা এই যে,) আমি যদি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত কোনও কিতাব নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা নিজ হাতে স্পর্শ করে দেখত, তবুও (তাদের মধ্যে) যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারা বলত, এটা স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।

وَقَالُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ مَلَکٌ ؕ وَلَوۡ اَنۡزَلۡنَا مَلَکًا لَّقُضِیَ الۡاَمۡرُ ثُمَّ لَا یُنۡظَرُوۡنَ ٨

ওয়া কা-লূলাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি মালাকুওঁ ওয়া লাও আনঝালনা-মালাকাল লাকুদিয়াল আমরু ছুম্মা লা-ইউনজারূন।

এবং তারা বলে, তার (অর্থাৎ নবীর) প্রতি কোনও ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন? অথচ আমি কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করলে তো (তাদের) বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত, তারপর আর তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হত না।

তাফসীরঃ

৩. এ দুনিয়া যেহেতু মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাই মানুষের কাছে কামনা, সে যেন নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রেরিত রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে। সুতরাং আল্লাহ তাআলার নীতি হল কোন গায়বী বিষয় চাক্ষুষ দেখিয়ে দেওয়া হলে তারপর আর ঈমান গ্রহণযোগ্য হয় না। কেননা চাক্ষুষ বিষয়ে বিশ্বাস একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এতে পরীক্ষার কিছু নেই। এ কারণেই তো কোনও ব্যক্তি মৃত্যুর সময় ফিরিশতাদেরকে দেখার পর ঈমান আনলে তার ঈমান কবুল হয় না। কাফিরদের দাবী ছিল, কোনও ফিরিশতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ওহী নিয়ে আসলে সে যেন এমনভাবে আসে যাতে আমরা দেখতে পাই। কুরআন মাজীদ তার দুটি জবাব দিয়েছে। প্রথম জবাব এই যে, ফিরিশতাকে তারা চাক্ষুষ দেখে ফেললে উপরে বর্ণিত মূলনীতি মোতাবেক তাদের ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তারপর আর তারা এতটুকু অবকাশ পাবে না। তখন তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত এবং যথাসময়ে ঈমান না আনার কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কাজেই ফিরিশতাকে না দেখানোও তাদের পক্ষে এক রহমত। দ্বিতীয় জবাব দেওয়া হয়েছে পরবর্তী আয়াতে।

وَلَوۡ جَعَلۡنٰہُ مَلَکًا لَّجَعَلۡنٰہُ رَجُلًا وَّلَلَبَسۡنَا عَلَیۡہِمۡ مَّا یَلۡبِسُوۡنَ ٩

ওয়া লাও জা‘আলনা-হু মালাকাল্লাজা‘আলনা-হুরাজুলাওঁ ওয়া লালাবাছনা-‘আলাইহিম মাইয়ালবিছূন।

আমি যদি কোনও ফিরিশতাকে নবী বানাতাম, তবে তাকেও তো কোনও পুরুষ (-এর আকৃতিতে)-ই বানাতাম, আর তাদেরকে সেরূপ বিভ্রমেই ফেলতাম, যেরূপ বিভ্রমে তারা এখন পতিত রয়েছে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ কোনও ফিরিশতাকে নবী বানিয়ে অথবা নবীর সমর্থনকারী বানিয়ে মানুষের সামনে পাঠালে তাকেও মানবাকৃতিতেই পাঠাতে হত। কেননা কোনও ফিরিশতাকে তার আসল রূপে দেখা কোনও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই এ অবস্থায় কাফিরগণ তো সেই একই আপত্তির পুনরাবৃত্তি করত যে, এ তো আমাদেরই মত মানুষ। একে আমরা নবী মানব কী করে? ফলে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য হয়ে যেত।
১০

وَلَقَدِ اسۡتُہۡزِیٴَ بِرُسُلٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَحَاقَ بِالَّذِیۡنَ سَخِرُوۡا مِنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٪ ١۰

ওয়া লাকাদিছ তুহঝিআ বিরুছুলিম মিন কাবলিকা ফাহা-কাবিল্লাযীনা ছাখিরূ মিনহুম মাকানূবিহী ইয়াছতাহঝিউ-ন।

(হে নবী!) নিশ্চয়ই তোমার পূর্বেও বহু রাসূলকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়েছে, পরিণামে তাদের মধ্যে যারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল তাদেরকে সেই জিনিসই পরিবেষ্টন করে ফেলে, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
১১

قُلۡ سِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ انۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ١١

কুল ছীরূফিল আরদিছুম্মানজু রূ কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকাযযিবীন।

(কাফেরদেরকে) বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, তারপর দেখ (নবীগণকে) অস্বীকারকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল।

তাফসীরঃ

৫. আরব মুশরিকগণ শাম দেশের বাণিজ্যিক সফর কালে ছামুদ জাতি ও হযরত লুত আলাইহিস সালামের কওম যে এলাকায় বসবাস করত, তার উপর দিয়ে যাতায়াত করত, তখন সে জাতিসমূহের ধ্বংসাবশেষ তাদের চোখে পড়ত। কুরআন মাজীদ তাদেরকে দাওয়াত দিচ্ছে, তারা যেন সে সব জাতির পরিণাম দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে।
১২

قُلۡ لِّمَنۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ قُلۡ لِّلّٰہِ ؕ کَتَبَ عَلٰی نَفۡسِہِ الرَّحۡمَۃَ ؕ لَیَجۡمَعَنَّکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١٢

কুল লিমাম মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি কুল লিল্লা-হি কাতাবা ‘আলানাফছিহির রাহমাতা লাইয়াজমা‘আন্নাকুম ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি লা-রাইবা ফীহি আল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ফাহুম লা-ইউ’মিনূন।

(তাদেরকে) জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা আছে, তা কার মালিকানাধীন? (তারপর তারা যদি উত্তর না দেয় তবে নিজেই) বলে দাও, আল্লাহরই মালিকানাধীন। তিনি রহমতকে নিজের প্রতি অবশ্য কর্তব্যরূপে স্থির করে নিয়েছেন (তাই তাওবা করলে অতীতের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন।) কিয়ামতের দিন তিনি অবশ্যই তোমাদের সকলকে একত্র করবেন, যে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। (কিন্তু) যারা (কুফর ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে) নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা (এ সত্যের প্রতি) ঈমান আনবে না।
১৩

وَلَہٗ مَا سَکَنَ فِی الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ ؕ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ١٣

ওয়া লাহূমা-ছাকানা ফিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়া হুওয়াছ ছামী‘ঊল ‘আলীম।

রাত ও দিনে যত সৃষ্টি বিশ্রাম গ্রহণ করে, সব তারই অধিকারভুক্ত। তিনি সব কিছু শোনেন ও সব কিছু জানেন।

তাফসীরঃ

৬. খুব সম্ভব ইশারা করা হচ্ছে যে, রাত ও দিনে যখনই মানুষ নিদ্রা যায়, তখন নিদ্রা শেষে আবার জাগ্রতও হয়। এই নিদ্রাও এক রকমের মৃত্যু। তখন মানুষ দুনিয়া সম্পর্কে অচেতন হয়ে যায় ও ইচ্ছা রহিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সে যেহেতু আল্লাহ তাআলার অধিকারভুক্ত, তাই যখন চান তিনি তাকে চেতনার জগতে ফিরিয়ে আনেন। এভাবেই বড় ও প্রকৃত মৃত্যু আসার পরেও মানুষ আল্লাহ তাআলার কব্জাতেই থাকবে। সুতরাং তিনি যখন ইচ্ছা করবেন তাকে পুনরায় জীবন দিয়ে কিয়ামতের হিসাব-নিকাশের জন্য উপস্থিত করবেন।
১৪

قُلۡ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَتَّخِذُ وَلِیًّا فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَہُوَ یُطۡعِمُ وَلَا یُطۡعَمُ ؕ قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَسۡلَمَ وَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ١٤

কুল আগাইরাল্লা-হি আত্তাখিযুওয়ালিইইয়ান ফা-তিরিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া হুওয়া ইউত‘ইমুওয়ালা-ইউত‘আমু কুল ইন্নীউমিরতুআন আকূনা আওওয়ালা মান আছলামা ওয়ালা-তাকূনান্না মিনাল মুশরিকীন।

বলে দাও, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করব? যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর স্রষ্টা এবং যিনি (সকলকে) খাদ্য দান করেন, কারও থেকে খাদ্য গ্রহণ করেন না? বলে দাও, আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি হই এবং (আমাকে বলা হয়েছে) তুমি কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
১৫

قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ١٥

কুল ইন্নীআখা-ফুইন ‘আসাইতুরাববী ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

বলে দাও, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে আমার এক মহা দিবসের শাস্তির ভয় রয়েছে।
১৬

مَنۡ یُّصۡرَفۡ عَنۡہُ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمَہٗ ؕ وَذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡمُبِیۡنُ ١٦

মাইঁ ইউসরাফ ‘আনহু ইয়াওমাইযিন ফাকাদ রাহিমাহূ ওয়া যা-লিকাল ফাওঝুল মুবীন।

সে দিন যে ব্যক্তি হতেই সে শাস্তি দূরীভূত করা হবে, তার প্রতি আল্লাহ বড়ই দয়া করলেন। আর এটাই স্পষ্ট সফলতা।
১৭

وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ اللّٰہُ بِضُرٍّ فَلَا کَاشِفَ لَہٗۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَاِنۡ یَّمۡسَسۡکَ بِخَیۡرٍ فَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ١٧

ওয়া ইয়ঁইয়ামছাছকাল্লা-হু বিদুররিন ফালা-কা-শিফা লাহূইল্লা-হুওয়া ওয়া ইয়ঁ ইয়ামছাছকা বিখাইরিন ফাহুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দান করেন, তবে স্বয়ং তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ করেন, তবে তিনি তো সব বিষয়ে শক্তিমান।
১৮

وَہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ١٨

ওয়া হুওয়াল কা-হিরু ফাওকা ‘ইবা-দিহী ওয়া হুওয়াল হাকীমুল খাবীর।

তিনি নিজ বান্দাদের উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, পরিপূর্ণভাবে অবগত।
১৯

قُلۡ اَیُّ شَیۡءٍ اَکۡبَرُ شَہَادَۃً ؕ  قُلِ اللّٰہُ ۟ۙ  شَہِیۡدٌۢ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ۟  وَاُوۡحِیَ اِلَیَّ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ لِاُنۡذِرَکُمۡ بِہٖ وَمَنۡۢ بَلَغَ ؕ  اَئِنَّکُمۡ لَتَشۡہَدُوۡنَ اَنَّ مَعَ اللّٰہِ اٰلِہَۃً اُخۡرٰی ؕ  قُلۡ لَّاۤ اَشۡہَدُ ۚ  قُلۡ اِنَّمَا ہُوَ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ وَّاِنَّنِیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ۘ ١٩

কুল আইয়ুশাইয়িন আকবারু শাহা-দাতান কুল্লিলা-হু, শাহীদুম বাইনী ওয়া বাইনাকুম ওয়া ঊহিইয়া ইলাইইয়া হা-যাল কুরআ-নুলিউনযিরাকুম বিহী ওয়া মাম বালাগা আইন্নাকুম লাতাশহাদূ না আন্না মা‘আল্লা-হি আ-লিহাতান উখরা- কুল লাআশহাদু কুল ইন্নামা-হুওয়া ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুওঁ ওয়া ইন্নানী বারীউম মিম্মা-তুশরিকূন।

বল, (কোনও বিষয়ে) সাক্ষ্য দানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিস কী? বল, আল্লাহ! (এবং তিনিই) আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি ওহীরূপে এই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকেও সতর্ক করি এবং যাদের নিকট এ কুরআন পৌঁছবে তাদেরকেও। সত্যিই কি তোমরা এই সাক্ষ্য দিতে পার যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য মাবুদও আছে? বলে দাও, আমি তো (এরূপ) সাক্ষ্য দেব না। বলে দাও, তিনি তো একই মাবুদ। তোমরা যে সকল জিনিসকে তাঁর শরীক সাব্যস্ত কর, আমি তাদের থেকে বিমুখ।

তাফসীরঃ

৭. এটা প্রমাণ করে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত সারা জাহানের সমস্ত মানুষের জন্য ব্যাপক এবং কিয়ামত পর্যন্ত তিনি সকলের নবী, সর্বশেষ নবী। -অনুবাদক
২০

اَلَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَعۡرِفُوۡنَہٗ کَمَا یَعۡرِفُوۡنَ اَبۡنَآءَہُمۡ ۘ  اَلَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٪ ٢۰

আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়া‘রিফূনাহু কামা-ইয়া‘রিফূনা আবনাআহুম । আল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ফাহুম লা-ইউ’মিনূন ।

যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (অর্থাৎ শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) সেইরূপ চেনে, যেরূপ নিজেদের সন্তানদেরকে চেনে। (তথাপি) যারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা ঈমান আনবে না।
২১

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِہٖ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ ٢١

ওয়া মান আজলামুমিম মানিফ তারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আও কাযযাবা বিআ-য়াতিহী ইন্নাহু লা-ইউফলিহুজ্জা-লিমূন।

যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রটনা করে অথবা তার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চিত (জেন), জালিমগণ সফলতা লাভ করতে পারে না।
২২

وَیَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ نَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا اَیۡنَ شُرَکَآؤُکُمُ الَّذِیۡنَ کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ ٢٢

ওয়া ইয়াওমা নাহশুরুহুম জামী‘আন ছু ম্মা নাকূলুলিল্লাযীনা আশরাকূ আইনা শুরাকাউকুমুল্লাযীনা কুনতুম তাঝ‘উমূন।

সেই দিন (-কে স্মরণ কর), যখন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর যারা শিরক করেছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করব, তোমাদের সেই মাবুদগণ কোথায়, যাদের সম্পর্কে তোমরা দাবী করতে (‘তারা আল্লাহর অংশীদার’)?
২৩

ثُمَّ لَمۡ تَکُنۡ فِتۡنَتُہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡا وَاللّٰہِ رَبِّنَا مَا کُنَّا مُشۡرِکِیۡنَ ٢٣

ছু ম্মা লাম তাকুন ফিতনাতুহুম ইল্লাআন কা-লূওয়াল্লা-হি রাব্বিনা-মা-কুন্না-মুশরিকীন।

সে দিন তাদের এ ছাড়া কোনও অজুহাত থাকবে না যে, তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর শপথ, আমরা তো মুশরিক ছিলাম না।

তাফসীরঃ

৮. প্রথম দিকে ভীত-বিহ্বল অবস্থায় এরূপ মিথ্যা বলে দেবে, কিন্তু পরে যখন স্বয়ং তাদের হাত-পা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তখন সকল মিথ্যা উন্মোচিত হয়ে যাবে, যেমন সূরা ইয়াসীন (৩৬ : ৬৫) ও সূরা হা-মীম সাজদায় (৪১ : ২১) বর্ণিত হয়েছে। পূর্বে সূরা নিসায় ( ৪ : ৪২) গত হয়েছে যে, তারা কোনও কথাই লুকাতে পারবে না। সামনে এ সূরারই ১৩০ নং আয়াতে আসছে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।
২৪

اُنۡظُرۡ کَیۡفَ کَذَبُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٢٤

উনজু র কাইফা কাযাবূ‘আলাআনফুছিহিম ওয়া দাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াফতারূন।

দেখ, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলে। আর তারা যে মিথ্যা (মাবুদ) উদ্ভাবন করেছিল, তা তাদের থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ তাদের তো ধারণা ছিল, তাদের দেব-দেবীগণ আল্লাহ তা‘আলার শরীক এবং তারা তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাদের সে ধারণা নিষ্ফল প্রমাণিত হবে। সুপারিশের জন্য তারা দেব-দেবীদের কোন হদিস পাবে না। তাদেরকে ছেড়ে তারা কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে! -অনুবাদক
২৫

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُ اِلَیۡکَ ۚ وَجَعَلۡنَا عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ اَکِنَّۃً اَنۡ یَّفۡقَہُوۡہُ وَفِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرًا ؕ وَاِنۡ یَّرَوۡا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤۡمِنُوۡا بِہَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡکَ یُجَادِلُوۡنَکَ یَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٢٥

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়াছতামি‘উ ইলাইকা ওয়া জা‘আলনা-‘আলা-কুলূবিহিম আকিন্নাতান আইঁ ইয়াফকাহূহুওয়া ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরাওঁ ওয়া ইয়ঁইয়ারাও কুল্লা আয়াতিল লা-ইউ’মিনূবিহা- হাত্তাইযা-জাঊকা ইউজা-দিলূনাকা ইয়াকূলুল্লাযীনা কাফারুইন হা-যাইল্লাআছা-তীরুল আওওয়ালীন।

তাদের মধ্যে কতক লোক এমন, যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে, (কিন্তু সে শোনাটা যেহেতু সত্য-সন্ধানের জন্য নয়; বরং নিজেদের জেদ ধরে রাখার লক্ষ্যে হয়ে থাকে, তাই) আমি তাদের অন্তরে পর্দা ফেলে দিয়েছি। ফলে তারা তা বোঝে না; তাদের কানে বধিরতা সৃষ্টি করে দিয়েছি এবং (এক-এক করে) সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা ঈমান আনবে না। এমনকি তারা যখন বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য তোমার কাছে আসে তখন কাফেরগণ বলে, এটা (কুরআন) পূর্ববর্তী লোকদের উপাখ্যান ছাড়া কিছুই নয়।
২৬

وَہُمۡ یَنۡہَوۡنَ عَنۡہُ وَیَنۡـَٔوۡنَ عَنۡہُ ۚ وَاِنۡ یُّہۡلِکُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ٢٦

ওয়া হুম ইয়ানহাওনা ‘আনহু ওয়া ইয়ানআওনা ‘আনহু ওয়া ইয়ঁইউহলিকূনা ইল্লাআনফুছাহুম ওয়া মা-ইয়াশ‘উরুন।

তারা (অন্যকেও) এর (অর্থাৎ কুরআনের) থেকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এর থেকে দূরে থাকে এবং (এভাবে) তারা নিজেরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করছে না। কিন্তু তারা (তা) উপলব্ধি করে না।
২৭

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلَی النَّارِ فَقَالُوۡا یٰلَیۡتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُکَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَنَکُوۡنَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٢٧

ওয়া লাও তারা ইযউকিফূ‘আলান্না-রি ফাকা-লূইয়া-লাইতানা-নুরাদ্দুওয়ালানুকাযযিবা বিআ-য়া-তি রাব্বিনা-ওয়া নাকূনা মিনাল মু’মিনীন।

এবং (সেটা বড় ভয়ানক দৃশ্য হবে) যদি তুমি সেই সময় দেখতে পাও, যখন তাদেরকে জাহান্নামের পাশে দাঁড় করানো হবে এবং তারা বলবে, হায়! আমাদেরকে যদি (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হত, তবে আমরা এবার আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করতাম না এবং আমরা মুমিনদের মধ্যে গণ্য হতাম।
২৮

بَلۡ بَدَا لَہُمۡ مَّا کَانُوۡا یُخۡفُوۡنَ مِنۡ قَبۡلُ ؕ وَلَوۡ رُدُّوۡا لَعَادُوۡا لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَاِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ٢٨

বাল বাদা-লাহুম মা-কা-নূইউখফূনা মিন কাবলু ওয়া লাও রুদ্দূলা‘আ-দূলিমা-নুহূ ‘আনহু ওয়া ইন্নাহুম লাকা-যিবূন।

(অথচ তাদের এ আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে না), বরং পূর্বে তারা যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে (তাই নিরুপায় হয়ে তারা এ দাবী করবে, নচেৎ) সত্যিই যদি তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়, তবে পুনরায় তারা সে সবই করবে, যা থেকে তাদেরকে বারণ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা ঘোর মিথ্যাবাদী।
২৯

وَقَالُوۡۤا اِنۡ ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا وَمَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ ٢٩

ওয়া কা-লূইন হিয়া ইলা-হায়া-তুনাদদুনইয়া-ওয়া মা-নাহনুবিমাব‘ঊছীন।

তারা বলে, যা-কিছু আছে তা কেবল আমাদের এই পার্থিব জীবনই। (মৃত্যুর পর) আমরা পুনর্জীবিত হওয়ারই নই।
৩০

وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلٰی رَبِّہِمۡ ؕ  قَالَ اَلَیۡسَ ہٰذَا بِالۡحَقِّ ؕ  قَالُوۡا بَلٰی وَرَبِّنَا ؕ  قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ٪ ٣۰

ওয়া লাও তারাইযউকিফূ‘আলা-রাব্বিহিম কালা আলাইছা হা-যা-বিলহাক্কি কালূবালা-ওয়া রাব্বিনা- কা-লা ফাযূকুল আযা-বা বিমা-কুনতুম তাকফুরূন।

তুমি যদি সেই সময় দেখতে পাও, যখন তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেন, এটা (অর্থাৎ এই দ্বিতীয় জীবন) কি সত্য নয়? তারা বলবে, আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই, আল্লাহ বলবেন, তবে তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর। যেহেতু তোমরা কুফর করতে।
৩১

قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِلِقَآءِ اللّٰہِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتۡہُمُ السَّاعَۃُ بَغۡتَۃً قَالُوۡا یٰحَسۡرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطۡنَا فِیۡہَا ۙ وَہُمۡ یَحۡمِلُوۡنَ اَوۡزَارَہُمۡ عَلٰی ظُہُوۡرِہِمۡ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ ٣١

কাদ খাছিরাল্লাযীনা কাযযাবূবিলিকাইল্লা-হি হাত্তা-ইযাজাআতহুমুছছা‘আতুবাগতাতান কা-লূইয়া-হাছরাতানা-‘আলা-মা-ফাররাতনা-ফীহা- ওয়া হুম ইয়াহমিলূনা আওঝা-রাহুম ‘আলা-জু হূরিহিম ‘আলা-ছাআ মা-ইয়াঝিরূন।

যারা আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করেছে, নিশ্চয়ই তারা অতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশেষে কিয়ামত যখন অকস্মাৎ তাদের সামনে এসে পড়বে তখন তারা বলবে, হায় আফসোস! আমরা এ (কিয়ামত) সম্পর্কে বড় অবহেলা করেছি এবং তারা (তখন) তাদের পিঠে নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে। সাবধান! তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট।
৩২

وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّلَہۡوٌ ؕ وَلَلدَّارُ الۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لِّلَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٣٢

ওয়া মাল হায়া-তুদ দুনইয়াইল্লা-লা‘ইবুওঁ ওয়া লাহ উরঁ ওয়া লাদ্দা-রুল আ-খিরাতু খাইরুল লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকূনা আফালা-তা‘কিলূন।

পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছু নয়। ১০ যারা তাকওয়া অবলম্বন করে আখিরাতের নিবাসই তাদের জন্য শ্রেয়। (এতটুকু কথাও কি) তোমরা বুঝতে পার না?

তাফসীরঃ

১০. ‘পূর্বে ২৯ নং আয়াতে কাফেরদের এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, ‘যা-কিছু আছে তা আমাদের এই পার্থিব জীবনই’। তার জবাবে এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আখিরাতের অনন্ত-স্থায়ী জীবনের বিপরীতে দিন কতকের এই পার্থিব জীবন, যাকে তোমরা সবকিছু মনে করে বসে আছ, এটা ক্রীড়া-কৌতুকের বেশি মূল্য রাখে না। যারা আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধানের প্রতি ভ্রক্ষেপ না করে পার্থিব জীবনের রং-তামাশার ভেতর জীবন যাপন করছে, তারা যেই ভোগ-বিলাসিতাকে জীবনের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, আখিরাতে যাওয়ার পর তাদের বুঝে আসবে যে, এর মূল্য ক্রীড়া-কৌতুকের বেশি কিছু ছিল না। তবে যারা দুনিয়াকে আখিরাতের শস্যক্ষেত্র বানিয়ে জীবন অতিবাহিত করে, তাদের পক্ষে দুনিয়ার জীবনও অতি বড় নিয়ামত।
৩৩

قَدۡ نَعۡلَمُ اِنَّہٗ لَیَحۡزُنُکَ الَّذِیۡ یَقُوۡلُوۡنَ فَاِنَّہُمۡ لَا یُکَذِّبُوۡنَکَ وَلٰکِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ ٣٣

কাদ না‘লামুইন্নাহূলাইয়াহঝুনুকাল্লাযীইয়াকূলূনা ফাইন্নাহুম লা- ইউকায যি ওয়ালা-কিন্নাজ্জা-লিমীনাবিআ-য়া-তিল্লা-হিইয়াজহাদূন।

(হে রাসূল!) আমি ভালো করেই জানি, তারা যা বলে তাতে তোমার কষ্ট হয়। কেননা তারা আসলে তোমাকে মিথ্যাবাদী বলছে না; বরং জালিমগণ আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করছে। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ তাঁর সত্তাকে অস্বীকার করত বলেই যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশি কষ্ট হত আসলে বিষয়টা তা নয়, তাঁর কষ্ট বেশি হত এ কারণে যে, তারা আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহকেই মিথ্যা সাব্যস্ত করত। আয়াতের এ অর্থ কুরআনের শব্দাবলীর সাথেও বেশি সঙ্গতিপূর্ণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বভাব ও মেজাযের সাথেও। (হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার দেশবাসী আল-আমীন বলে ডাকত। তারা জানত, তিনি কখনও কোন ব্যাপারে মিথ্যা বলেন না। সুতরাং আবু জাহল বলত, হে মুহাম্মদ! আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলি না। আমরা তোমাকে সত্যবাদী বলেই জানি। মূলত তুমি আমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছ সেটাকেই আমরা মিথ্যা মনে করি। -অনুবাদক
৩৪

وَلَقَدۡ کُذِّبَتۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَصَبَرُوۡا عَلٰی مَا کُذِّبُوۡا وَاُوۡذُوۡا حَتّٰۤی اَتٰہُمۡ نَصۡرُنَا ۚ وَلَا مُبَدِّلَ لِکَلِمٰتِ اللّٰہِ ۚ وَلَقَدۡ جَآءَکَ مِنۡ نَّبَاِی الۡمُرۡسَلِیۡنَ ٣٤

ওয়া লাকাদ কুযযিবাত রুছুলুম মিন কাবলিকা ফাসাবারূ ‘আলা-মা-কুযযিবূওয়াঊযূ হাত্তাআতা-হুম নাসরুনা- ওয়ালা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিল্লা-হি ওয়ালাকাদ জাআকা মিন নাবাইল মুরছালীন।

বস্তুত তোমার পূর্বে বহু রাসূলকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে যে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে ও কষ্ট দান করা হয়েছে, তাতে তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছেছে। এমন কেউ নেই, যে আল্লাহর কথা পরিবর্তন করতে পারে। (পূর্ববর্তী) রাসূলগণের কিছু ঘটনা আপনার কাছে তো পৌঁছেছেই।
৩৫

وَاِنۡ کَانَ کَبُرَ عَلَیۡکَ اِعۡرَاضُہُمۡ فَاِنِ اسۡتَطَعۡتَ اَنۡ تَبۡتَغِیَ نَفَقًا فِی الۡاَرۡضِ اَوۡ سُلَّمًا فِی السَّمَآءِ فَتَاۡتِیَہُمۡ بِاٰیَۃٍ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَمَعَہُمۡ عَلَی الۡہُدٰی فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡجٰہِلِیۡنَ ٣٥

ওয়া ইন কা-না কাবুরা ‘আলাইকা ই‘রা-দুহুম ফাইনিছতাতা‘তা আন তাবতাগিয়া নাফাকান ফিল আরদিআও ছুল্লামান ফিছছামাই ফাতা’তিয়াহুম বিআ-ইয়াতিওঁ ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাজামা‘আহুম ‘আলাল হুদা-ফালা-তাকূনান্না মিনাল জা-হিলীন।

যদি তাদের উপেক্ষা তোমার কাছে বেশি পীড়াদায়ক হয়, তবে পারলে তুমি ভূগর্ভে (যাওয়ার জন্য) কোনও সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে (ওঠার জন্য) কোনও সিঁড়ি সন্ধান কর, অতঃপর তাদের কাছে (তাদের ফরমায়েশী) কোন নিদর্শন নিয়ে এসো। আল্লাহ চাইলে তাদের সকলকে হিদায়াতের উপর একত্র করতেন। সুতরাং তুমি কিছুতেই অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। ১২

তাফসীরঃ

১২. আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বহু মুজিযা (নিদর্শন) দান করেছিলেন। সর্বাপেক্ষা বড় মুজিযা হল কুরআন মাজীদ। কেননা তিনি একজন উম্মী বা নিরক্ষর ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর প্রতি এমন বিশুদ্ধ ও অলংকারময় বাণী নাযিল হয়, যার সামনে বড় বড় কবি-সাহিত্যিক নতি স্বীকারে বাধ্য হয়ে যায় এবং সূরা বাকারা ( ২ : ২৩) ও অন্যান্য সূরায় যে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও তা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি। সূরা আনকাবুতে (২৯ : ৫১) এরই দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে যে, একজন সত্য সন্ধানীর জন্য কেবল এই এক মুজিযাই যথেষ্ট ছিল, কিন্তু নিজেদের জেদ ও হঠকারিতার কারণে মক্কার কাফেরগণ নিত্য-নতুন মুজিযা দাবী করতে থাকে। এভাবে তারা যে সব বেহুদা ফরমায়েশ ও দাবী-দাওয়া করত, সূরা বনী ইসরাঈলে (১৭ : ৮৯-৯৩) তার একটা তালিকাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে কখনও কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরও ধারণা হত তাদের ফরমায়েশী মুজিযাসমূহের থেকে কোনও মুজিযা দেখিয়ে দেওয়া হলে হয়ত তারা ঈমান আনত ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেত। এ আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সদয় সম্বোধন করে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তাদের এ দাবীর উদ্দেশ্য সত্য গ্রহণ নয়; বরং কেবল জেদ প্রকাশ এবং যেমন পূর্বে ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, সব রকমের নিদর্শন দেখানো হলেও তারা ঈমান আনবে না। কাজেই তাদের ফরমায়েশ পূরণ করাটা কেবল নিষ্ফল কাজই নয়; বরং সামনে ৩৭নং আয়াতে আল্লাহ তাআলার যে হিকমতের কথা বর্ণিত হয়েছে, তারও পরিপন্থী। হাঁ আপনি নিজে যদি তাদের দাবী-দাওয়া পূরণ করার জন্য তাদের কথা মত ভূগর্ভে ঢোকার কোনও সুড়ঙ্গ বানাতে বা আকাশে আরোহণের কোনও সিঁড়ি তৈরি করতে পারেন, তবে তাও করে দেখতে পারেন। বলা বাহুল্য, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছাড়া আপনি তা করতে সক্ষম হবেন না। সুতরাং তাদেরকে তাদের ইচ্ছানুরূপ মুজিযা দেখানোর চিন্তা ছেড়ে দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি চাইলে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জোরপূর্বক একই দীনের অনুসারী বানাতে পারতেন। কিন্তু দুনিয়ায় মানব প্রেরণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরীক্ষা করা, আর পরীক্ষার দাবী হল মানুষ জবরদস্তিমূলক নয়, বরং সে তার নিজ বুদ্ধি-বিবেককে কাজে লাগিয়ে, নিখিল বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগণিত নিদর্শনের ভেতর চিন্তা করে স্বেচ্ছায় খুশি মনে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের উপর ঈমান আনবে। বস্তুত নবী-রাসূলগণ মানুষকে তাদের ফরমায়েশ অনুসারে নিত্য-নতুন কারিশমা দেখানোর জন্য নয়; বরং মহা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা নিদর্শনাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই প্রেরিত হয়ে থাকেন। আসমানী কিতাব নাযিলের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের এ পরীক্ষাকে সহজ করে দেওয়া। তবে এসব দ্বারা উপকৃত হয় কেবল তারাই, যাদের অন্তরে সত্য জানার আগ্রহ আছে। যারা নিজেদের জেদ ধরে রাখার জন্য কসম করে নিয়েছে, তাদের জন্য না কোনও দলীল-প্রমাণ কাজে আসতে পারে, না কোনও মুজিযা।
৩৬

اِنَّمَا یَسۡتَجِیۡبُ الَّذِیۡنَ یَسۡمَعُوۡنَ ؕؔ  وَالۡمَوۡتٰی یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ ثُمَّ اِلَیۡہِ یُرۡجَعُوۡنَ ؃ ٣٦

ইন্নামা-ইয়াছতাজীবুল্লাযীনা ইয়াছমা‘ঊনা ওয়াল মাওতা-ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু ছুম্মা ইলাইহি ইউরজা‘ঊন।

কথা তো কেবল তারাই মানতে পারে, যারা (সত্যের আকাক্সক্ষী হয়ে) শোনে। আর মৃতদের বিষয়টা এই যে, আল্লাহই তাদেরকে কবর থেকে উঠাবেন, অতঃপর তাঁরই কাছে তারা প্রত্যানীত হবে। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. আয়াতে কাফেরদেরকে মৃতদের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেহেতু তারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনাবলীতে চিন্তা করে না, তা থেকে সবক নেয় না ও উপদেশ গ্রহণ করে না এবং রাসূলগণের বিরুদ্ধাচরণ থেকে নিবৃত্ত হয় না, যেন তারা মৃতদেরই মত কোন আওয়াজ শোনে না, কোন দৃশ্য দেখে না, কোন কথা বোঝে না ও কোন কিছুতেই মাথা খাটায় না। সুতরাং এ জীবন্মৃত কাফেরগণ ঈমান আনবে বলে আশা করতে পার না। তারা তাদের কুফর অবস্থায়ই প্রকৃত মৃতদের সাথে মিলিত হবে। তারপর তাদেরই সাথে আল্লাহর কাছে প্রত্যানীত হবে এবং সেখানে তাদেরকে তাদের হঠকারী কর্মপন্থার কুফল ভোগ করতে হবে। -অনুবাদক
৩৭

وَقَالُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ عَلَیۡہِ اٰیَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ اللّٰہَ قَادِرٌ عَلٰۤی اَنۡ یُّنَزِّلَ اٰیَۃً وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٣٧

ওয়া কা-লূলাওলা-নুঝঝিলা ‘আলাইহি আ-য়াতুম মির রাব্বিহী কুল ইন্নাল্লা-হা কাদিরুন ‘আলাআইঁ ইউনাঝঝিলা আ-য়াতাওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়া‘লামূন।

তারা বলে, (ইনি যদি নবী হন, তবে) তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করা হল না কেন? তুমি (তাদেরকে) বল, নিশ্চয়ই আল্লাহ যে কোনও নিদর্শন অবতীর্ণ করতে সক্ষম, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এর পরিণাম) জানে না। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. এ আয়াতে ফরমায়েশী মুজিযা না দেখানোর আরেকটি কারণের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার শাশ্বত নীতি হল, যখনই কোনও জাতিকে তাদের ইচ্ছানুরূপ মুজিযা দেখানো হয়েছে, তখন তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এর পরও তারা যদি ঈমান না আনে তবে তাদেরকে এ দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সুতরাং ভূপৃষ্ঠ হতে এভাবে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা জানেন, মক্কার অধিকাংশ কাফের হঠকারী স্বভাবের। ফরমায়েশী মুজিযা দেখার পরও তারা ঈমান আনবে না। ফলে আল্লাহ তাআলার রীতি অনুসারে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপক শাস্তি দ্বারা এখনই তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা নয়। এ কারণেই তিনি তাদেরকে তাদের ফরমায়েশী মুজিযা প্রদর্শন করেন না। যারা এরূপ মুজিযা দাবী করছে তারা এর পরিণাম জানে না। হাঁ যারা ঈমান আনবার, তারা এরূপ মুজিযা ছাড়াই অন্যান্য দলীল-প্রমাণ ও নিদর্শনাবলী দেখে স্বেচ্ছায় ঈমান আনবে।
৩৮

وَمَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا طٰٓئِرٍ یَّطِیۡرُ بِجَنَاحَیۡہِ اِلَّاۤ اُمَمٌ اَمۡثَالُکُمۡ ؕ مَا فَرَّطۡنَا فِی الۡکِتٰبِ مِنۡ شَیۡءٍ ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ یُحۡشَرُوۡنَ ٣٨

ওয়া মা-মিন দাব্বাতিন ফিল আরদিওয়ালা-তাইরিইঁ ইয়াতীরু বিজানা-হাইহি ইল্লাউমামুন আমছা-লুকুম মা-ফাররাতনা-ফিল কিতা-বি মিন শাইয়িন ছু ম্মা ইলারাব্বিহিম ইউহশারূন।

ভূপৃষ্ঠে যত জীব বিচরণ করে, যত পাখি তাদের ডানার সাহায্যে উড়ে, তারা সকলে তোমাদেরই মত সৃষ্টির বিভিন্ন প্রকার। আমি কিতাব (লাওহে মাহফুজ)-এ কিছুমাত্র ত্রুটি রাখিনি। ১৫ অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রতিপালকের কাছে একত্র করা হবে। ১৬

তাফসীরঃ

১৫. এর অন্য অর্থ হয়, ‘আমি কুরআনে কিছুমাত্র ত্রুটি রাখিনি,’ অর্থাৎ পার্থিব জীবনে মানুষের যত রকম দীনী নির্দেশনার দরকার ছিল মৌলিকভাবে সবই কুরআন মাজীদে আছে। হাদীস ও সুন্নাহ তারই তাফসীর। -অনুবাদক
৩৯

وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا صُمٌّ وَّبُکۡمٌ فِی الظُّلُمٰتِ ؕ مَنۡ یَّشَاِ اللّٰہُ یُضۡلِلۡہُ ؕ وَمَنۡ یَّشَاۡ یَجۡعَلۡہُ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٣٩

ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ- ইয়া-তিনা-সুম্মুওঁ ওয়া বুকমন ফিজজু লুমা-তি মাইঁ ইয়াশাইল্লা-হু ইউদলিলহু ওয়া মাইঁ ইয়াশা’ ইয়াজ‘আলহু ‘আলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তারা অন্ধকারে (উদ্ভ্রান্ত থেকে) বধির ও মূক হয়ে গেছে। ১৭ আল্লাহ যাকে চান তাকে (তার হঠকারিতার কারণে) গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেন আর যাকে চান তাকে সরল পথে স্থাপিত করেন।

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ তারা স্বেচ্ছায় গোমরাহী অবলম্বন করে সত্য শোনা ও বলার যোগ্যতাই খতম করে ফেলেছে। প্রকাশ থকে যে, এ তরজমা করা হয়েছে فى الطلمات কে صم وبكم -এর حال (অবস্থা নির্দেশক) ধরে নিয়ে, যাকে আল্লামা আলুসী (রহ.) প্রাধান্য দিয়েছেন। (এর আরেক অর্থ হতে পারে, ‘তারা বধির ও মূক, অন্ধকারে দিশাহারা। -অনুবাদক)
৪০

قُلۡ اَرَءَیۡتَکُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُ اللّٰہِ اَوۡ اَتَتۡکُمُ السَّاعَۃُ اَغَیۡرَ اللّٰہِ تَدۡعُوۡنَ ۚ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٤۰

কুল আরা’আইতাকুম ইন আতা-কুম ‘আযা-বুল্লা-হি আও আতাতকুমুছছা-‘আতু আগাইরাল্লা-হি তাদ‘ঊনা ইন কুনতুম সা-দিকীন।

(কাফেরদেরকে) বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে বল দেখি, তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হলে অথবা তোমাদের নিকট কিয়ামত উপস্থিত হলে তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে?
৪১

بَلۡ اِیَّاہُ تَدۡعُوۡنَ فَیَکۡشِفُ مَا تَدۡعُوۡنَ اِلَیۡہِ اِنۡ شَآءَ وَتَنۡسَوۡنَ مَا تُشۡرِکُوۡنَ ٪ ٤١

বাল ইয়্যা-হু তাদ‘ঊনা ফাইয়াকশিফুমা-তাদ‘ঊনা ইলাইহি ইন শাআ ওয়া তানছাওনা মাতুশরিকূন ।

বরং তাকেই ডাকবে। অতঃপর যে দুর্দশার জন্য তাকে ডাক, তিনি চাইলে তা দূর করবেন; আর যাদেরকে (দেবতাদেরকে) তোমরা (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করছ, (তখন) তাদেরকে ভুলে যাবে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. আরব মুশরিকগণ আল্লাহ তাআলাকেই জগতের স্রষ্টা বলে স্বীকার করত, কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস ছিল, বহু দেব-দেবী তাঁর সঙ্গে এভাবে শরীক যে, তাদের হাতেও অনেক কিছুর এখতিয়ার আছে। এ কারণেই তারা তাদেরকে খুশী রাখার জন্য তাদের পূজা-অর্চনা করত। কিন্তু আকস্মিক কোনও বিপদ এসে পড়লে সে সকল দেব-দেবীকে ছেড়ে আল্লাহ তাআলাকেই ডাকত, যেমন সামুদ্রিক সফরে যখন ঝড়ের কবলে পড়ে পর্বত-প্রমাণ তরঙ্গ রাশির ভেতর পরিবেষ্টিত হয়ে যেত, তখন এ রকমই করত। এখানে তাদের সে কর্মপন্থার উল্লেখপূর্বক প্রশ্ন করা হচ্ছে যে, দুনিয়ার এসব বিপদ-আপদে যখন তোমরা আল্লাহ তাআলাকেই ডাক, তখন বড় কোন আযাব এসে পড়লে কিংবা কিয়ামত ঘটে গেলে যে আল্লাহ তাআলাকেই ডাকবে তাতে সন্দেহ কি?
৪২

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنۡ قَبۡلِکَ فَاَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡبَاۡسَآءِ وَالضَّرَّآءِ لَعَلَّہُمۡ یَتَضَرَّعُوۡنَ ٤٢

ওয়া লাকাদ আরছালনাইলাউমামিম মিন কাবলিকা ফাআখাযনা-হুম বিল বা’ছাই ওয়াদ্দাররাই লা‘আল্লাহুম ইয়াতাদাররা‘ঊন।

(হে নবী!) তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট আমি রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর আমি (তাদের অবাধ্যতার কারণে) তাদেরকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত করেছি, যাতে তারা অনুনয়-বিনয় করে।
৪৩

فَلَوۡلَاۤ اِذۡ جَآءَہُمۡ بَاۡسُنَا تَضَرَّعُوۡا وَلٰکِنۡ قَسَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ وَزَیَّنَ لَہُمُ الشَّیۡطٰنُ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٤٣

ফালাওলাইযজাআহুম বা’ছুনা-তাদাররা‘ঊ ওয়া লা-কিন কাছাত কুলূবুহুম ওয়া ঝাইইয়ানা লাহুমুশশাইতা-নুমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার (পক্ষ হতে) সংকট আসল, তখন তারা কেন অনুনয়-বিনয় করল না? বরং তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে গেল এবং তারা যা করছিল, শয়তান তাকে তাদের কাছে শোভনীয় করে দিল।
৪৪

فَلَمَّا نَسُوۡا مَا ذُکِّرُوۡا بِہٖ فَتَحۡنَا عَلَیۡہِمۡ اَبۡوَابَ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ حَتّٰۤی اِذَا فَرِحُوۡا بِمَاۤ اُوۡتُوۡۤا اَخَذۡنٰہُمۡ بَغۡتَۃً فَاِذَا ہُمۡ مُّبۡلِسُوۡنَ ٤٤

ফালাম্মা-নাছূমা-যুককিরূ বিহী ফাতাহনা- ‘আলাইহিম আবওয়া-বা কুল্লি শাইয়িন হাত্তাইযা-ফারিহূবিমাঊতূআখাযনা-হুম বাগতাতান ফাইযা-হুম মুবলিছূন।

তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দুয়ার খুলে দিলাম। ১৯ অবশেষে তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছিল যখন তাতে তারা উল্লসিত হল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে ধরলাম। ফলে তারা সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে গেল।

তাফসীরঃ

১৯. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সাথে আল্লাহ তাআলার নীতি ছিল এই যে, তাদেরকে সতর্ক করার জন্য কখনও কখনও দুঃখ-কষ্টে ফেলতেন, যাতে বিপদে পড়লে যাদের মন নরম হয়, তারা চিন্তা-ভাবনা করার প্রতি ঝোঁকে। তারপর আবার তাদেরকে সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য দান করতেন, যাতে সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্যের সময় যারা সত্য গ্রহণের যোগ্যতা রাখে তারা কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। যারা উভয় অবস্থায় গোমরাহীকেই আঁকড়ে ধরত, পরিশেষে তাদের উপর আযাব নাযিল করা হত। সূরা আরাফেও (৭ : ৯৪-৯৫) এ বিষয়টা বর্ণিত হয়েছে।
৪৫

فَقُطِعَ دَابِرُ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ؕ وَالۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٤٥

ফাকুতি‘আ দা-বিরুল কাওমিল্লাযীনা জালামূ ওয়াল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আলামীন।

এভাবে যারা জুলুম করেছিল তাদের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
৪৬

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَخَذَ اللّٰہُ سَمۡعَکُمۡ وَاَبۡصَارَکُمۡ وَخَتَمَ عَلٰی قُلُوۡبِکُمۡ مَّنۡ اِلٰہٌ غَیۡرُ اللّٰہِ یَاۡتِیۡکُمۡ بِہٖ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ ثُمَّ ہُمۡ یَصۡدِفُوۡنَ ٤٦

কুল আরাআইতুম ইন আখাযাল্লা-হু ছাম‘আকুম ওয়া আবসা-রাকুম ওয়া খাতামা ‘আলাকুলূবিকুম মান ইলা-হুন গাইরুল্লা-হি ইয়া’তীকুম বিহী উনজু র কাইফা নুসাররিফুল আয়া-তি ছুম্মা হুম ইয়াসদিফূন।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা বল তো, আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি এবং তোমাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর করে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কোন্ মাবুদ আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো ফিরিয়ে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে বিভিন্ন পন্থায় নিদর্শনাবলী বিবৃত করি। তা সত্ত্বেও তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৪৭

قُلۡ اَرَءَیۡتَکُمۡ اِنۡ اَتٰىکُمۡ عَذَابُ اللّٰہِ بَغۡتَۃً اَوۡ جَہۡرَۃً ہَلۡ یُہۡلَکُ اِلَّا الۡقَوۡمُ الظّٰلِمُوۡنَ ٤٧

কুল আরাআইতাকুমইনআতা-কুম‘আযা-বুল্লা-হি বাগতাতান আও জাহরাতান হাল ইউহলাকুইল্লাল কাওমুজ্জা-লিমূন।

বল, তোমরা বল তো, আল্লাহর শাস্তি যদি তোমাদের উপর অকস্মাৎ এসে পড়ে অথবা ঘোষণা দিয়ে, (উভয় অবস্থায়) জালিমদের ছাড়া অন্য কাউকে ধ্বংস করা হবে কি? ২০

তাফসীরঃ

২০. মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলত, আপনি আমাদেরকে আল্লাহর যে শাস্তি সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন, সে শাস্তি এখনও আসছে না কেন? হয়ত তাদের ধারণা ছিল, শাস্তি আসলে তো মুমিন-কাফের নির্বিশেষে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তার উত্তরে এ আয়াতে বলা হচ্ছে যে, ধ্বংস তো কেবল তারাই হবে, যারা শিরক ও জুলুমে লিপ্ত থেকেছে।
৪৮

وَمَا نُرۡسِلُ الۡمُرۡسَلِیۡنَ اِلَّا مُبَشِّرِیۡنَ وَمُنۡذِرِیۡنَ ۚ فَمَنۡ اٰمَنَ وَاَصۡلَحَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ٤٨

ওয়া মা-নুরছিলুল মুরছালীনা ইল্লা-মুবাশশিরীনা ওয়া মুনযিরিনা ফামান আ-মানা ওয়া আসলাহা ফালা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

আমি রাসূলগণকে তো কেবল (সৎ কর্মের ক্ষেত্রে পুরস্কারের) সুসংবাদদাতা এবং (অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে) ভীতি প্রদর্শনকারীরূপেই পাঠিয়ে থাকি। সুতরাং যারা ঈমান আনে ও নিজেকে সংশোধন করে, তাদের কোন ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
৪৯

وَالَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَمَسُّہُمُ الۡعَذَابُ بِمَا کَانُوۡا یَفۡسُقُوۡنَ ٤٩

ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ইয়ামাছছুহুমুল ‘আযাবুবিমা- কা-নূইয়াফছুকূন।

আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, তাদের নিরবচ্ছিন্ন অবাধ্যতার কারণে তাদের উপর অবশ্যই শাস্তি আপতিত হবে।
৫০

قُلۡ لَّاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰہِ وَلَاۤ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَلَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ اِنِّیۡ مَلَکٌ ۚ  اِنۡ اَتَّبِعُ اِلَّا مَا یُوۡحٰۤی اِلَیَّ ؕ  قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ؕ  اَفَلَا تَتَفَکَّرُوۡنَ ٪ ٥۰

কুল লাআকূলুলাকুম ‘ইনদী খাঝাইনুল্লা-হি ওয়ালাআ‘লামুল গাইবা ওয়ালাআকূলু লাকুম ইন্নী মালাকুন ইন আত্তাবি‘উ ইল্লা-মা-ইউহাইলাইইয়া কুল হাল ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু আফালা-তাতাফাক্কারূন।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন ভাণ্ডার আছে। অদৃশ্য সম্পর্কেও আমি (পরিপূর্ণ) জ্ঞান রাখি না এবং আমি তোমাদেরকে একথাও বলি না যে, আমি ফিরিশতা। ২১ আমি তো কেবল সেই ওহীরই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না?

তাফসীরঃ

২১. কাফিরগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দাবী জানাত, আপনি নবী হলে আপনার কাছে বিপুল অর্থ-সম্পদ থাকার কথা। সুতরাং এই-এই মুজিযা দেখান। তার উত্তরে বলা হচ্ছে যে, নবী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর এখতিয়ার আমার হাতে আছে বা আমি পরিপূর্ণ অদৃশ্য-জ্ঞানের মালিক কিংবা আমি ফিরিশতা। কাজেই তোমাদের ফরমায়েশ মত মু‘জিযা দেখাচ্ছি না বলে ‘আমি নবী নই’ একথা প্রমাণ করার কোন সুযোগ তোমাদের নেই। বস্তুত নবী হওয়ার অর্থ কেবল এই যে, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি ওহী নাযিল করেন এবং আমি তারই অনুসরণ করি।
৫১

وَاَنۡذِرۡ بِہِ الَّذِیۡنَ یَخَافُوۡنَ اَنۡ یُّحۡشَرُوۡۤا اِلٰی رَبِّہِمۡ لَیۡسَ لَہُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ وَلِیٌّ وَّلَا شَفِیۡعٌ لَّعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ ٥١

ওয়া আনযিরবিহিল্লাযীনা ইয়াখা-ফূনা আইঁ ইউহশারূইলা-রাব্বিহিম লাইছা লাহুম মিন দূনিহী ওয়ালিইয়ুওঁ ওয়ালা-শাফী‘উল লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন।

এবং (হে নবী!) তুমি এই ওহীর দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করে দাও, যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের নিকট এমন অবস্থায় সমবেত করা হবে যে, তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক থাকবে না এবং না কোনও সুপারিশকারী, ২২ যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।

তাফসীরঃ

২২. মুশরিকদের বিশ্বাস ছিল, তাদের দেবতাগণ তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে। এ আয়াতে সেই বিশ্বাসকে খণ্ডন করা হয়েছে। কাজেই এর দ্বারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই সুপারিশকে রদ করা হচ্ছে না, যা তিনি আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে মুমিনদের অনুকূলে করবেন। অন্যান্য আয়াতে আছে, আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে সুপারিশ সম্ভব (দেখুন বাকারা, আয়াত ২৫৫)।
৫২

وَلَا تَطۡرُدِ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَالۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَہٗ ؕ مَا عَلَیۡکَ مِنۡ حِسَابِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ وَّمَا مِنۡ حِسَابِکَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَتَطۡرُدَہُمۡ فَتَکُوۡنَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ٥٢

ওয়ালা-তাতরুদিল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা রাব্বাহুম বিলগাদা-তি ওয়াল ‘আশিইয়ি ইউরীদূ না ওয়াজহাহূ মা-‘আলাইকা মিন হিছা-বিহিম মিন শাইয়িওঁ ওয়া মা-মিন হিছা-বিকা ‘আলাইহিম মিন শাইয়িন ফাতাতরুদাহুম ফাতাকূনা মিনাজ্জা-লিমীন।

যারা তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সকাল ও সন্ধ্যায় তাকে ডাকে, তাদেরকে তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না। ২৩ তাদের হিসাব(-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) থেকে কোনওটির দায় তোমার উপর নয় এবং তোমার হিসাব (-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) থেকে কোনওটিরও দায় তাদের উপর নয়, যে কারণে তুমি তাদেরকে বের করে দেবে এবং জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। ২৪

তাফসীরঃ

২৩. মক্কার কতক কুরাইশী নেতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলত, আপনার আশেপাশে গরীব ও নিম্নস্তরের বহু লোক থাকে। তাদের সাথে আপনার মজলিসে বসা আমাদের পক্ষে শোভা পায় না। আপনি যদি তাদেরকে আপনার মজলিস থেকে বের করে দেন, তবে আমরা আপনার কথা শোনার জন্য আসতে পারি। তারই উত্তরে এ আয়াত নাযিল হয়েছে।
৫৩

وَکَذٰلِکَ فَتَنَّا بَعۡضَہُمۡ بِبَعۡضٍ لِّیَقُوۡلُوۡۤا اَہٰۤؤُلَآءِ مَنَّ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡۢ بَیۡنِنَا ؕ اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِاَعۡلَمَ بِالشّٰکِرِیۡنَ ٥٣

ওয়া কাযা-লিকা ফাতান্না-বা‘দাহুম ব্বিা‘দিললিইয়াকূলআহাউলাই মান্নাল্লা-হু ‘আলাইহি মিম বাইনিনা- আলাইছাল্লা-হু বিআ‘লামা বিশশা-কিরীন।

এভাবেই আমি তাদের কতক লোক দ্বারা কতককে পরীক্ষায় ফেলেছি, ২৫ যাতে তারা (তাদের সম্পর্কে) বলে, এরাই কি সেই লোক, আমাদের সকলকে রেখে আল্লাহ যাদেরকে অনুগ্রহ করার জন্য বেছে নিয়েছেন? ২৬ (যে সকল কাফের এ কথা বলছে, তাদের ধারণায়) আল্লাহ কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দাদের সম্পর্কে (অন্যদের থেকে) বেশি জানেন না?

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ গরীব মুসলিমগণ এই হিসেবে ধনী কাফেরদের জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে গেছে যে, লক্ষ্য করা হবে তারা কি সত্য কথাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, না সত্য কথাকে এই কারণে প্রত্যাখ্যান করে যে, তাঁর অনুসারীরা সব গরীব লোক।
৫৪

وَاِذَا جَآءَکَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِنَا فَقُلۡ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ کَتَبَ رَبُّکُمۡ عَلٰی نَفۡسِہِ الرَّحۡمَۃَ ۙ اَنَّہٗ مَنۡ عَمِلَ مِنۡکُمۡ سُوۡٓءًۢ ابِجَہَالَۃٍ ثُمَّ تَابَ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ وَاَصۡلَحَ فَاَنَّہٗ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٥٤

ওয়া ইযা-জাআকাল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিনা-ফাকুল ছালা-মুন ‘আলাইকুম কাতাবা রাব্বুকুম আলা-নাফছিহির রাহমাতা আন্নাহূমান ‘আমিলা মিনকুম ছূআম বিজাহা-লাতিন ছুম্মা তা-বা মিম বা‘দিহী ওয়া আসলাহা ফাআন্নাহূগাফূরুর রাহীম।

যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান রাখে, তারা যখন তোমার কাছে আসে, (তখন তাদেরকে) বল, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের প্রতিপালক নিজের উপর রহমতকে অবধারিত করে নিয়েছেন; তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনও মন্দ কাজ করে, তারপর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, তবে আল্লাহ তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৫৫

وَکَذٰلِکَ نُفَصِّلُ الۡاٰیٰتِ وَلِتَسۡتَبِیۡنَ سَبِیۡلُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ٪ ٥٥

ওয়া কাযা-লিকা নুফাসসিলুল আ-য়া-তি ওয়ালিতাছতাবীনা ছাবীলুল মুজরিমীন।

এভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বর্ণনা করি (যাতে সরল পথও স্পষ্ট হয়ে যায়) এবং এতে অপরাধীদের পথও পরিষ্কার হয়ে যায়।
৫৬

قُلۡ اِنِّیۡ نُہِیۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قُلۡ لَّاۤ اَتَّبِعُ اَہۡوَآءَکُمۡ ۙ قَدۡ ضَلَلۡتُ اِذًا وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُہۡتَدِیۡنَ ٥٦

কুল ইন্নী নুহীতুআন আ‘বুদাল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি কুল লাআত্তাবি‘উ আহওয়াআকুম কাদ দালালতুইযাওঁ ওয়ামাআনা-মিনাল মুহতাদীন।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (মিথ্যা উপাস্যদেরকে) ডাক, আমাকে তাদের ইবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে। বল, আমি তোমাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করতে পারি না। করলে আমি বিপথগামী হয়ে যাব এবং আমি সৎপথপ্রাপ্তদের মধ্যে গণ্য হব না।
৫৭

قُلۡ اِنِّیۡ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَکَذَّبۡتُمۡ بِہٖ ؕ مَا عِنۡدِیۡ مَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِہٖ ؕ اِنِ الۡحُکۡمُ اِلَّا لِلّٰہِ ؕ یَقُصُّ الۡحَقَّ وَہُوَ خَیۡرُ الۡفٰصِلِیۡنَ ٥٧

কুল ইন্নী ‘আলা-বাইয়িনাতিম মিররাববী ওয়া কাযযাবতুম বিহী মা-‘ইনদী মাতাছতা‘জিলূনা বিহী ইনিল হুকমুইল্লা- লিল্লা-হি ইয়াকু সসুল হাক্কা-ওয়া হুওয়া খাইরুল ফা-সিলীন।

বল, আমি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, অথচ তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছ। তোমরা যা তাড়াতাড়ি চাচ্ছ, তা আমার কাছে নেই। ২৭ হুকুম আল্লাহ ছাড়া আর কারও চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ফায়সালাকারী।

তাফসীরঃ

২৭. কাফিরগণ বলত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছেন, তা আমাদের উপর সত্বর কেন বর্ষণ হয় না? এ আয়াত তারই জবাবে নাযিল হয়েছে। জবাবের সারমর্ম হল শাস্তি বর্ষণ করা এবং তার যথাযথ সময় ও উপযুক্ত পন্থা নির্ধারণের এখতিয়ার কেবল আল্লাহ তাআলারই হাতে। তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী তার ফায়সালা করেন।
৫৮

قُلۡ لَّوۡ اَنَّ عِنۡدِیۡ مَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِہٖ لَقُضِیَ الۡاَمۡرُ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِالظّٰلِمِیۡنَ ٥٨

কুল্লাও আন্না ‘ইনদী মা-তাছতা‘জিলূনা বিহী লাকুদিয়াল আমরু বাইনী ওয়া বাইনাকুম ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিজ্জা-লিমীন।

বল, তোমরা যে জিনিস সত্বর চাচ্ছ তা যদি আমার কাছে থাকত, তবে আমার ও তোমাদের মধ্যে ফায়সালা হয়ে যেত। আল্লাহ জালিমদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
৫৯

وَعِنۡدَہٗ مَفَاتِحُ الۡغَیۡبِ لَا یَعۡلَمُہَاۤ اِلَّا ہُوَ ؕ وَیَعۡلَمُ مَا فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ وَمَا تَسۡقُطُ مِنۡ وَّرَقَۃٍ اِلَّا یَعۡلَمُہَا وَلَا حَبَّۃٍ فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡاَرۡضِ وَلَا رَطۡبٍ وَّلَا یَابِسٍ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٥٩

ওয়া ‘ইনদাহূমাফা-তিহুল গাইবি লা-ইয়া‘লামুহাইল্লা-হুওয়া ওয়া ইয়া‘লামুমা-ফিল বাররি ওয়াল বাহরি ওয়া মা-তাছকুতুমিওঁ ওয়ারাকাতিন ইল্লা-ইয়া‘লামুহা-ওয়ালাহাব্বাতিন ফী জুলুমা-তিল আরদিওয়ালা-রাতবিওঁ ওয়ালা-ইয়া-বিছিন ইল্লা-ফী কিতাবিম মুবীন।

আর তাঁরই কাছে আছে অদৃশ্যের কুঞ্জি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা-কিছু আছে, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত। (কোনও গাছের) এমন কোনও পাতা ঝরে না, যে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন। মাটির অন্ধকারে কোনও শস্যদানা অথবা আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনও জিনিস নেই যা এক উন্মুক্ত কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।
৬০

وَہُوَ الَّذِیۡ یَتَوَفّٰىکُمۡ بِالَّیۡلِ وَیَعۡلَمُ مَا جَرَحۡتُمۡ بِالنَّہَارِ ثُمَّ یَبۡعَثُکُمۡ فِیۡہِ لِیُقۡضٰۤی اَجَلٌ مُّسَمًّی ۚ  ثُمَّ اِلَیۡہِ مَرۡجِعُکُمۡ ثُمَّ یُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ٦۰

ওয়া হুওয়াল্লাযী ইয়াতাওয়াফফা-কুম বিল্লাইলি ওয়া ইয়া‘লামুমা-জারাহতুম বিন্নাহা-রি ছু ম্মা ইয়াব‘আছুকুম ফীহি লিইউকদাআজালুম মুছাম্মান ছু ম্মা ইলাইহি মারজি‘উকুম ছু ম্মা ইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাতের বেলা (ঘুমের ভেতর) তোমাদের আত্মা (মাত্রা বিশেষে) কব্জা করে নেন এবং দিনের বেলা তোমরা যা-কিছু কর তা তিনি জানেন। তারপর (নতুন) দিনে তোমাদেরকে নতুন জীবন দান করেন, যাতে (তোমাদের জীবনের) নির্ধারিত কাল পূর্ণ হতে পারে। অতঃপর তার দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তোমরা যা করতে তা তোমাদেরকে অবহিত করবেন।
৬১

وَہُوَ الۡقَاہِرُ فَوۡقَ عِبَادِہٖ وَیُرۡسِلُ عَلَیۡکُمۡ حَفَظَۃً ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ تَوَفَّتۡہُ رُسُلُنَا وَہُمۡ لَا یُفَرِّطُوۡنَ ٦١

ওয়া হুওয়াল কা-হিরু ফাওকা ‘ইবা-দিহী ওয়া ইউরছিলুস ‘আলাইকুম হাফাজাতান হাত্তাইযা-জাআ আহাদাকুমুল মাওতুতাওয়াফফাতহু রুছুলুনা-ওয়া হুম লাইউফাররিতূন।

তিনিই নিজ বান্দাদের উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং তোমাদের জন্য রক্ষক (ফিরিশতা) প্রেরণ করেন। ২৮ অবশেষে যখন তোমাদের কারও মৃত্যুকাল এসে পড়ে, তখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ তাকে পরিপূর্ণরূপে উসুল করে নেয় এবং তারা বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না।

তাফসীরঃ

২৮. ‘রক্ষক ফিরিশতা’ বলে যে সকল ফিরিশতা মানুষের আমল লিপিবদ্ধ করেন, তাদেরকেও বোঝানো হতে পারে এবং সেই সকল ফিরিশতাকেও বোঝানো হতে পারে, যারা প্রতিটি লোকের দৈহিক হেফাজতের কাজে নিযুক্ত। সূরা রাদে (১৩ : ১১) তাদের কথা বর্ণিত হয়েছে।
৬২

ثُمَّ رُدُّوۡۤا اِلَی اللّٰہِ مَوۡلٰىہُمُ الۡحَقِّ ؕ اَلَا لَہُ الۡحُکۡمُ ۟ وَہُوَ اَسۡرَعُ الۡحٰسِبِیۡنَ ٦٢

ছু ম্মা রুদ্দূইলাল্লা-হি মাওলা-হুমুল হাক্কি আলা-লাহুল হুকমু ওয়া হুওয়া আছরা‘উল হা-ছিবীন।

অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রকৃত মনিব আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। স্মরণ রেখ, হুকুম কেবল তারই চলে। তিনি সর্বাপেক্ষা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
৬৩

قُلۡ مَنۡ یُّنَجِّیۡکُمۡ مِّنۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ تَدۡعُوۡنَہٗ تَضَرُّعًا وَّخُفۡیَۃً ۚ لَئِنۡ اَنۡجٰىنَا مِنۡ ہٰذِہٖ لَنَکُوۡنَنَّ مِنَ الشّٰکِرِیۡنَ ٦٣

কুল মাইঁ ইউনাজ্জীকুম মিন জুলুমা-তিল বাররি ওয়াল বাহরি তাদ‘ঊনাহূতাদাররু‘আওঁ ওয়া খুফইয়াতাল লাইন আনজা-না-মিন হা-যিহী লানাকূনান্না মিনাশশা-কিরীন।

বল, স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে সেই সময় কে তোমাদেরকে রক্ষা করেন, যখন তোমরা মিনতি সহকারে ও চুপিসারে তাকেই ডাক (এবং বল যে,) তিনি যদি এই মসিবত থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব?
৬৪

قُلِ اللّٰہُ یُنَجِّیۡکُمۡ مِّنۡہَا وَمِنۡ کُلِّ کَرۡبٍ ثُمَّ اَنۡتُمۡ تُشۡرِکُوۡنَ ٦٤

কুল্লিলা-হু ইউনাজ্জীকুম মিনহা-ওয়া মিন কুল্লি কারবিন ছুম্মা আনতুম তুশরিকূন।

বল, আল্লাহই তোমাদেরকে রক্ষা করেন এই মসিবত থেকে এবং সমস্ত দুঃখ-কষ্ট হতে। তা সত্ত্বেও তোমরা শিরক কর।
৬৫

قُلۡ ہُوَ الۡقَادِرُ عَلٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَ عَلَیۡکُمۡ عَذَابًا مِّنۡ فَوۡقِکُمۡ اَوۡ مِنۡ تَحۡتِ اَرۡجُلِکُمۡ اَوۡ یَلۡبِسَکُمۡ شِیَعًا وَّیُذِیۡقَ بَعۡضَکُمۡ بَاۡسَ بَعۡضٍ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّہُمۡ یَفۡقَہُوۡنَ ٦٥

কুল হুওয়াল কা-দিরু ‘আলাআইঁ ইয়াব‘আছা ‘আলাইকুম ‘আযা-বাম মিন ফাওকিকুম আও মিন তাহতি আরজুলিকুম আও ইয়াল বিছাকুম শিয়া‘আওঁ ওয়া ইউযীকা বা‘দাকুম বা’ছা বা‘দিন উনজু র কাইফা নুসাররিফুল আ-য়া-তি লা‘আল্লাহুম ইয়াফকাহূন।

বল, তিনি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সক্ষম যে, তোমাদের প্রতি কোনও শাস্তি পাঠাবেন তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে এক দলকে পরস্পরের মুখোমুখি করে দেবেন এবং এক দলকে অপর দলের শক্তির স্বাদ গ্রহণ করাবেন। দেখ, আমি কিভাবে বিভিন্ন পন্থায় স্বীয় নিদর্শনাবলী বিবৃত করছি, যাতে তারা বুঝতে সক্ষম হয়।
৬৬

وَکَذَّبَ بِہٖ قَوۡمُکَ وَہُوَ الۡحَقُّ ؕ  قُلۡ لَّسۡتُ عَلَیۡکُمۡ بِوَکِیۡلٍ ؕ ٦٦

ওয়া কাযযাবা বিহী কাওমুকা ওয়া হুওয়াল হাক্কু কুল লাছতু‘আলাইকুম বিওয়াকীল।

(হে নবী!) তোমার সম্প্রদায় একে (কুরআনকে) মিথ্যা বলেছে, অথচ এটা সম্পূর্ণ সত্য। তুমি বলে দাও, আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই। ২৯

তাফসীরঃ

২৯. অর্থাৎ তোমাদের প্রত্যেকটি দাবি পূরণ করা আমার দায়িত্ব নয়। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে প্রতিটি কাজের একটা সময় নির্ধারিত আছে। তোমাদেরকে শাস্তি দেওয়াও তার অন্তর্ভুক্ত। সময় আসলে তোমরা তা জানতে পারবে। -অনুবাদক
৬৭

لِکُلِّ نَبَاٍ مُّسۡتَقَرٌّ ۫ وَّسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ٦٧

লিকুল্লি নাবাইম মুছতাকাররুওঁ ওয়া ছাওফা তা‘লামূন।

প্রত্যেক ঘটনার একটা নির্ধারিত সময় আছে এবং শীঘ্রই তোমরা (সব) জানতে পারবে।
৬৮

وَاِذَا رَاَیۡتَ الَّذِیۡنَ یَخُوۡضُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا فَاَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ حَتّٰی یَخُوۡضُوۡا فِیۡ حَدِیۡثٍ غَیۡرِہٖ ؕ وَاِمَّا یُنۡسِیَنَّکَ الشَّیۡطٰنُ فَلَا تَقۡعُدۡ بَعۡدَ الذِّکۡرٰی مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ٦٨

ওয়া ইযা-রাআইতাল্লাযীনা ইয়াখূদূ না ফীআ-য়া-তিনা-ফাআ‘রিদ‘আনহুম হাত্তাইয়াখূদূ ফী হাদীছিন গাইরিহী ওয়া ইম্মা-ইউনছিইয়ান্নাকাশ শাইতা-নুফালা-তাক‘উদ বা‘দাযযি করা-মা‘আল কাওমিজ্জা-লিমীন।

যারা আমার আয়াতের সমালোচনায় রত থাকে, তাদেরকে যখন দেখবে তখন তাদের থেকে দূরে সরে যাবে, যতক্ষণ না তারা অন্য বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়। যদি শয়তান কখনও তোমাকে (এটা) ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিম লোকদের সাথে বসবে না।
৬৯

وَمَا عَلَی الَّذِیۡنَ یَتَّقُوۡنَ مِنۡ حِسَابِہِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ وَّلٰکِنۡ ذِکۡرٰی لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ ٦٩

ওয়া মা-‘আলাল্লাযীনা ইয়াত্তাকূনা মিন হিছা-বিহিম মিন শাইয়িওঁ ওয়ালা-কিন যিকরালা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন।

তাদের হিসাব (-এর অন্তর্ভুক্ত কর্মসমূহ) হতে কোন কিছুর দায় মুত্তাকীদের উপর বর্তায় না। অবশ্য উপদেশ দেওয়া (তাদের কাজ)। হয়ত তারাও (এরূপ বিষয় থেকে) সাবধানতা অবলম্বন করবে। ৩০

তাফসীরঃ

৩০. অর্থাৎ মুত্তাকীদের কাজ হল যথাসম্ভব তাদেরকে উপদেশ দেওয়া, তারা যেসব অন্যায়-অনুচিত কাজ করছে তা থেকে তাদেরকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা এবং সেসব কাজের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা। আশা করা যায়, এর ফলে তারা সাবধান হয়ে যাবে এবং কুরআনের সমালোচনা ছেড়ে তার অনুসরণ করতে প্রস্তুত হয়ে যাবে। -অনুবাদক
৭০

وَذَرِ الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَہُمۡ لَعِبًا وَّلَہۡوًا وَّغَرَّتۡہُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا وَذَکِّرۡ بِہٖۤ اَنۡ تُبۡسَلَ نَفۡسٌۢ بِمَا کَسَبَتۡ ٭ۖ  لَیۡسَ لَہَا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلِیٌّ وَّلَا شَفِیۡعٌ ۚ  وَاِنۡ تَعۡدِلۡ کُلَّ عَدۡلٍ لَّا یُؤۡخَذۡ مِنۡہَا ؕ  اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اُبۡسِلُوۡا بِمَا کَسَبُوۡا ۚ  لَہُمۡ شَرَابٌ مِّنۡ حَمِیۡمٍ وَّعَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ ٪ ٧۰

ওয়া যারিল্লাযীনাততাখাযূদীনাহুম লা‘ইবাওঁ ওয়া লাহওয়াওঁ ওয়া গাররাতহুমুল হায়াতুদ দুনইয়া-ওয়া যাক্কির বিহীআন তুবছালা নাফছুম বিমা-কাছাবাত লাইছা লাহা-মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালিইয়ুওঁ ওয়ালা-শাফী‘উওঁ ওয়া ইন তা‘দিল কুল্লা ‘আদলিল্লা-ইউ’খায মিনহা- উলাইকাল্লাযীনা উবছিলূবিমা-কাছাবূ লাহুম শারা-বুম মিন হামীমিওঁ ওয়া ‘আযা-বুন আলীমুম বিমা-কানূইয়াকফুরূন।

যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে ৩১ এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলেছে, তুমি তাদেরকে পরিত্যাগ কর এবং এর (অর্থাৎ কুরআনের) মাধ্যমে (মানুষকে) উপদেশ দিতে থাক, যাতে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে গ্রেফতার না হয় যখন আল্লাহ (-এর শাস্তি) হতে বাঁচানোর জন্য তার কোনও অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না। আর সে যদি (নিজ মুক্তির জন্য) সব রকমের মুক্তিপণও পেশ করতে চায়, তবে তার পক্ষ হতে তা গৃহীত হবে না। এরাই (অর্থাৎ যারা দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকের বিষয় বানিয়েছে, তারা) নিজেদের কৃতকর্মের কারণে ধরা পড়ে গেছে। কুফরে রত থাকার কারণে তাদের জন্য রয়েছে অতি গরম পানীয় ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

তাফসীরঃ

৩১. এর এক অর্থ এই হতে পারে যে, যে দীন অর্থাৎ ইসলামকে তাদের গ্রহণ করে নেওয়া উচিত ছিল, তারা তাকে নিয়ে উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, তারা যে দীন অবলম্বন করেছে তা ক্রীড়া-কৌতুকের মত বেহুদা রসম-রেওয়াজের সমষ্টি মাত্র। উভয় অবস্থায়ই তাদেরকে পরিত্যাগ করার যে আদেশ করা হয়েছে, তার অর্থ হচ্ছে, তারা যখন আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহকে লক্ষ্য করে ঠাট্টা-বিদ্রূপে রত হয়, তখন তাদের সঙ্গে বসবে না।
৭১

قُلۡ اَنَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَنۡفَعُنَا وَلَا یَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلٰۤی اَعۡقَابِنَا بَعۡدَ اِذۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ کَالَّذِی اسۡتَہۡوَتۡہُ الشَّیٰطِیۡنُ فِی الۡاَرۡضِ حَیۡرَانَ ۪  لَہٗۤ اَصۡحٰبٌ یَّدۡعُوۡنَہٗۤ اِلَی الۡہُدَی ائۡتِنَا ؕ  قُلۡ اِنَّ ہُدَی اللّٰہِ ہُوَ الۡہُدٰی ؕ  وَاُمِرۡنَا لِنُسۡلِمَ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٧١

কুল আনাদ‘ঊ-মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়ানফা‘উনা-ওয়ালা-ইয়াদুররুনা-ওয়ানুরাদ্দু ‘আলাআ‘কা-বিনা-বা‘দা ইযহাদা-নাল্লা-হু কাল্লাযিছ তাহওয়াতহুশশায়া-তীনুফিল আরদিহাইরা-না লাহূআসহা-বুইঁ ইয়াদ‘ঊনাহূইলাল হুদা’তিনা- কুল ইন্না হুদাল্লা-হি হুওয়াল হুদা- ওয়া উমিরনা-লিনুছলিমা লিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে এমন সব জিনিসের ইবাদত করব, যারা আমাদের কোনও উপকারও করতে পারে না এবং কোনও অপকারও করতে পারে না? আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমরা কি সেই ব্যক্তির মত উল্টো দিকে ফিরে যাব, যাকে শয়তান ধোঁকা দিয়ে মরুভূমিতে নিয়ে গেছে, ফলে সে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? তার কিছু সঙ্গী আছে, যারা তাকে হিদায়াতের দিকে ডাক দেয় যে, আমাদের কাছে এসো। বল, আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতই সত্যিকারের হিদায়াত। আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে, যেন আমরা রাব্বুল আলামীনের সামনে নতি স্বীকার করি।
৭২

وَاَنۡ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاتَّقُوۡہُ ؕ وَہُوَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ٧٢

ওয়া আন আকীমুসসালা-তা ওয়াত্তাকূহু ওয়া হুওয়াল্লাযীইলাইহি তুহশারূন।

এবং (এই হুকুমও দেওয়া হয়েছে যে,) সালাত কায়েম কর এবং তাকে ভয় করে চল। তিনিই সেই সত্তা, যার কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।
৭৩

وَہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ وَیَوۡمَ یَقُوۡلُ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ۬ؕ قَوۡلُہُ الۡحَقُّ ؕ وَلَہُ الۡمُلۡکُ یَوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ ؕ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡخَبِیۡرُ ٧٣

ওয়া হুওয়াল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিলহাক্কি ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূলুকুন ফাইয়াকূনু কাওলুহুল হাক্কু ওয়া লাহুল মুলকুইয়াওমা ইউনফাখু ফিসসূরি ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি ওয়া হুওয়াল হাকীমুল খাবীর।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন যথোচিত ৩২ এবং যে দিন তিনি (কিয়ামতকে) বলবেন, ‘হয়ে যাও’, তা হয়ে যাবে। তার কথা সত্যই। যে দিন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সে দিন রাজত্ব হবে তাঁরই। ৩৩ তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্য সব কিছুই জানেন। তিনিই মহা প্রাজ্ঞ ও সর্ব বিষয়ে অবহিত।

তাফসীরঃ

৩২. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি জগতকে এক সঠিক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। সে উদ্দেশ্য এই যে, যারা এখানে ভালো কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করা এবং যারা অনাচারী ও অত্যাচারী হবে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া। এ উদ্দেশ্য তখনই পূরণ হতে পারে, যখন পার্থিব জীবনের পর আরেকটি জীবন আসবে, যে জীবনে পুরস্কার ও শাস্তি দানের এ উদ্দেশ্য পূরণ করা হবে। সামনে বলা হয়েছে যে, এ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কিয়ামতে মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা আল্লাহ তাআলার পক্ষে কিছু কঠিন কাজ নয়। যখন তিনি ইচ্ছা করবেন কিয়ামতকে অস্তিত্বে আসার হুকুম দেবেন। সঙ্গে সঙ্গে তা অস্তিত্বমান হয়ে যাবে। আর তিনি যেহেতু অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব কিছুই জানেন তাই মৃত্যুর পর মানুষকে একত্র করাও তার পক্ষে কঠিন হবে না। অবশ্য হিকমতওয়ালা হওয়ার কারণে তিনি কিয়ামত সংঘটিত করবেন কেবল তখনই, যখন তাঁর হিকমত তা দাবী করবে।
৭৪

وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ لِاَبِیۡہِ اٰزَرَ اَتَتَّخِذُ اَصۡنَامًا اٰلِہَۃً ۚ اِنِّیۡۤ اَرٰىکَ وَقَوۡمَکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٧٤

ওয়া ইযকা-লা ইবরা-হীমুলিআবীহি আ-ঝারা আতাত্তাখিযুআসনা-মান আ-লিহাতান ইন্নীআরা-কা ওয়া কাওমাকা ফী দালা-লিম মুবীন।

এবং (সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোন) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বলেছিল, আপনি কি মূর্তিদেরকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছেন? আমি তো দেখছি, আপনি ও আপনার সম্প্রদায় স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত রয়েছেন।
৭৫

وَکَذٰلِکَ نُرِیۡۤ اِبۡرٰہِیۡمَ مَلَکُوۡتَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلِیَکُوۡنَ مِنَ الۡمُوۡقِنِیۡنَ ٧٥

ওয়া কাযা-লিকা নুরীইবরা-হীমা মালাকূতাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া লিয়াকূনা মিনাল মূকিনীন।

আর এভাবেই আমি ইবরাহীমকে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব প্রদর্শন করাই। আর উদ্দেশ্য ছিল, সে যেন পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
৭৬

فَلَمَّا جَنَّ عَلَیۡہِ الَّیۡلُ رَاٰ کَوۡکَبًا ۚ قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَاۤ اُحِبُّ الۡاٰفِلِیۡنَ ٧٦

ফালাম্মা-জান্না ‘আলাইহিল লাইলুরাআ-কাওকাবান কা-লা হা-যা-রাববী ফালাম্মাআফালা কা-লা লাউহিব্বুল আ-ফিলীন।

সুতরাং যখন তার উপর রাত ছেয়ে গেল, তখন সে একটি নক্ষত্র দেখে বলল, ‘এই আমার প্রতিপালক’। ৩৪ অতঃপর সেটি যখন ডুবে গেল, সে বলল, যা কিছু ডুবে যায় আমি তা পছন্দ করি না।

তাফসীরঃ

৩৪. হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ‘ইরাকের নীনাওয়া’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেখানকার লোকে মূর্তি ও নক্ষত্র পূজা করত। তার পিতা আযরও সেই বিশ্বাসেরই অনুসারী ছিল; বরং সে নিজে মূর্তি তৈরি করত। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম শুরু থেকেই তাওহীদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি শিরককে ঘৃণা করতেন। তবে তিনি নিজ সম্প্রদায়ের চিন্তা-ভাবনাকে জাগ্রত করার লক্ষ্যে এই সূক্ষ্ম পন্থা অবলম্বন করলেন যে, তিনি চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্রকে দেখে প্রথমে নিজ কওমের ভাষায় কথা বললেন। উদ্দেশ্য ছিল একথা বোঝানো যে, তোমাদের ধারণায় তো এসব নক্ষত্র আমার রব্ব। তবে এসো, আমরা খতিয়ে দেখি এ ধারণা মেনে নেওয়ার উপযুক্ত কি না। সুতরাং যখন নক্ষত্র ও চন্দ্র ডুবে গেল এবং শেষ পর্যন্ত সূর্যও, তখন প্রত্যেকবারই তিনি নিজ কওমকে স্মরণ করালেন যে, এসব তো অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল জিনিস। যে জিনিস নিজেই অস্থায়ী, আবার তাতে ক্রমাগত পরিবর্তনও ঘটতে থাকে, সে সম্পর্কে এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, সে নিখিল বিশ্বকে প্রতিপালন করে এটা কতই না অযৌক্তিক ও নির্বুদ্ধিতাপ্রসূত কথা। সুতরাং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্র সম্পর্কে যে বলেছিলেন, এগুলো তাঁর প্রতিপালক, এটা তার বিশ্বাস ছিল না এবং সে হিসেবে তিনি একথা বলেননি; বরং নিজ সম্প্রদায় যে বিশ্বাস পোষণ করত তার অসারতা ও ভ্রান্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই তিনি এরূপ বলেছিলেন।
৭৭

فَلَمَّا رَاَ الۡقَمَرَ بَازِغًا قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَ قَالَ لَئِنۡ لَّمۡ یَہۡدِنِیۡ رَبِّیۡ لَاَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡقَوۡمِ الضَّآلِّیۡنَ ٧٧

ফালাম্মা-রাআল কামারা বা-ঝিগান কা-লা হা-যা-রাববী ফালাম্মাআফালা কা-লা লাইল্লাম ইয়াহদিনী রাববী লাআকূনান্না মিনাল কাওমিদ্দাল্লীন।

অতঃপর যখন সে চাঁদকে উজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখল তখন বলল, ‘এই আমার রব্ব’। কিন্তু যখন সেটিও ডুবে গেল, তখন বলতে লাগল, আমার রব্ব আমাকে হিদায়াত না দিলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট লোকদের দলভুক্ত হয়ে যাব।
৭৮

فَلَمَّا رَاَ الشَّمۡسَ بَازِغَۃً قَالَ ہٰذَا رَبِّیۡ ہٰذَاۤ اَکۡبَرُ ۚ فَلَمَّاۤ اَفَلَتۡ قَالَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِکُوۡنَ ٧٨

ফালাম্মা-রাআশশামছা বা-ঝিগাতান কা-লা হা-যা-রাববী হা-যা-আকবারু ফালাম্মাআফালাত কা-লা ইয়া-কাওমি ইন্নি বারীউম মিম্মা-তুশরিকূন।

তারপর যখন সে সূর্যকে সমুজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখল, তখন বলল, এই আমার রব্ব। এটি বেশি বড়। তারপর যখন সেটিও ডুবে গেল, তখন সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর সঙ্গে) শরীক কর, তাদের সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।
৭৯

اِنِّیۡ وَجَّہۡتُ وَجۡہِیَ لِلَّذِیۡ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ حَنِیۡفًا وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ۚ ٧٩

ইন্নী ওয়াজ্জাহতুওয়াজহিয়া লিল্লাযীফাতারাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদাহানীফাওঁ ওয়া মাআনা মিনাল মুশরিকীন।

আমি সম্পূর্ণ একনিষ্ঠভাবে সেই সত্তার দিকে নিজের মুখ ফেরালাম, যিনি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।
৮০

وَحَآجَّہٗ قَوۡمُہٗ ؕ قَالَ اَتُحَآجُّوۡٓنِّیۡ فِی اللّٰہِ وَقَدۡ ہَدٰىنِ ؕ وَلَاۤ اَخَافُ مَا تُشۡرِکُوۡنَ بِہٖۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ رَبِّیۡ شَیۡئًا ؕ وَسِعَ رَبِّیۡ کُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ؕ اَفَلَا تَتَذَکَّرُوۡنَ ٨۰

ওয়াহাজ্জাহূকাওমুহূ কা-লা আতুহাজ্জুূন্নী ফিল্লা-হি ওয়াকাদ হাদা-নি ওয়া লাআখা-ফুমা-তুশরিকূনা বিহীইল্লাআইঁ ইয়াশাআ রাববী শাইআওঁ ওয়াছি‘আ রাববী কুল্লা-শাইয়িন ‘ইলমান আফালা-তাতাযাক্কারূনা ।

এবং (তারপর এই ঘটল যে,) তার সম্প্রদায় তার সাথে হুজ্জত শুরু করে দিল। ৩৫ ইবরাহীম (তাদেরকে) বলল, তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে আমার সঙ্গে হুজ্জত করছ, অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর) শরীক সাব্যস্ত করছ, (তারা আমার কোন ক্ষতি সাধন করার ক্ষমতা রাখে না। তাই) আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আমার প্রতিপালক যদি (আমার) কোন (ক্ষতি সাধন) করতে চান (তবে সর্বাবস্থায়ই তা সাধিত হবে)। আমার প্রতিপালকের জ্ঞান সবকিছু পরিবেষ্টন করে রেখেছে। এতদসত্ত্বেও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

তাফসীরঃ

৩৫. পূর্বাপর অবস্থা দ্বারা বোঝা যায়, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে দু’টি কথা বলেছিল। (এক) আমরা যুগ-যুগ ধরে আমাদের বাপ-দাদাদেরকে প্রতিমা ও নক্ষত্রের পূজা করতে দেখছি। তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট মনে করার সাধ্য আমাদের নেই। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রথম বাক্যে এর উত্তর দিয়েছেন যে, ওই বাপ-দাদাদের কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোন ওহী আসেনি। অথচ আমার কাছে উপরে বর্ণিত যুক্তি-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহীও এসেছে। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতের পর শিরককে কিভাবে সঠিক বলে স্বীকার করতে পারি? (দুই) তাঁর সম্প্রদায় সম্ভবত বলেছিল, তুমি যদি আমাদের প্রতিমাসমূহ ও নক্ষত্রদের ঈশ্বরত্ব অস্বীকার কর, তবে তারা তোমাকে ধ্বংস করে দেবে। এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি ওসব ভিত্তিহীন দেবতাদের ভয় করি না। কারণ কারও কোন ক্ষতি করার ক্ষমতাই ওদের নেই। বরং ভয় তো তোমাদেরই করা উচিত। কেননা তোমরা ওইসব ভিত্তিহীন দেবতাদেরকে আল্লাহ তাআলার শরীক সাব্যস্ত করে মহা অপরাধ করছ। এজন্য তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। কাউকে শাস্তিদান ও কারও ক্ষতিসাধনের পূর্ণ ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলারই আছে, অন্য কারও নয়। যারা তাঁর তাওহীদে বিশ্বাস করে, তিনি তাদেরকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দান করেন। কাজেই তাঁর পক্ষ হতে তাদের অনিষ্টের কোন ভয় নেই।
৮১

وَکَیۡفَ اَخَافُ مَاۤ اَشۡرَکۡتُمۡ وَلَا تَخَافُوۡنَ اَنَّکُمۡ اَشۡرَکۡتُمۡ بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ عَلَیۡکُمۡ سُلۡطٰنًا ؕ  فَاَیُّ الۡفَرِیۡقَیۡنِ اَحَقُّ بِالۡاَمۡنِ ۚ  اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ۘ ٨١

ওয়া কাইফা আখা-ফুমাআশরাকতুম ওয়ালা-তাখা-ফূনা আন্নাকুম আশরাকতুম বিল্লা-হি মালাম ইউনাঝঝিল বিহী ‘আলাইকুম ছুলতা-নান ফাআইয়ুল ফারীকাইনি আহাক্কু বিলআমনি ইন কুনতুম তা‘লামূন।

তোমরা যে সকল জিনিসকে (আল্লাহর) শরীক বানিয়ে নিয়েছ, আমি কিভাবেই বা তাদেরকে ভয় করতে পারি, যখন তোমরা ওই সকল জিনিসকে আল্লাহর শরীক বানাতে ভয় করছ না, যাদের বিষয়ে তিনি তোমাদের প্রতি কোনও প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি? সুতরাং তোমাদের কাছে যদি কিছু জ্ঞান থাকে, তবে (বল,) দুই দলের মধ্যে কোন দল নির্ভয়ে থাকার বেশি উপযুক্ত?
৮২

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَلَمۡ یَلۡبِسُوۡۤا اِیۡمَانَہُمۡ بِظُلۡمٍ اُولٰٓئِکَ لَہُمُ الۡاَمۡنُ وَہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٪ ٨٢

আল্লাযীনা আ-মানূওয়া লাম ইয়ালবিছূ ঈমা-নাহুম বিজু লমিন উলাইকা লাহুমুল আমনু ওয়া হুম মুহতাদূন।

(প্রকৃতপক্ষে) যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, ৩৬ নিরাপত্তা ও স্বস্তি তো কেবল তাদেরই অধিকার এবং তারাই সঠিক পথে পৌঁছে গেছে।

তাফসীরঃ

৩৬. একটি সহীহ হাদীসে আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আয়াতের ‘জুলুম’ শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন ‘শিরক’ দ্বারা। কেননা অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা শিরককে ‘মহা জুলুম’ সাব্যস্ত করেছেন।
৮৩

وَتِلۡکَ حُجَّتُنَاۤ اٰتَیۡنٰہَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ عَلٰی قَوۡمِہٖ ؕ نَرۡفَعُ دَرَجٰتٍ مَّنۡ نَّشَآءُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ ٨٣

ওয়া তিলকা হুজ্জাতুনাআ-তাইনা-হাইবরা-হীমা ‘আলা-কাওমিহী নারফা‘উ দারাজাতিম মান নাশাউ ইন্না রাব্বাকা হাকীমুন ‘আলীম।

এটা ছিল আমার ফলপ্রসূ দলীল, যা আমি ইবরাহীমকে তার কওমের বিপরীতে দান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা উচ্চ মর্যাদা দান করি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
৮৪

وَوَہَبۡنَا لَہٗۤ اِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ ؕ  کُلًّا ہَدَیۡنَا ۚ  وَنُوۡحًا ہَدَیۡنَا مِنۡ قَبۡلُ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِہٖ دَاوٗدَ وَسُلَیۡمٰنَ وَاَیُّوۡبَ وَیُوۡسُفَ وَمُوۡسٰی وَہٰرُوۡنَ ؕ  وَکَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۙ ٨٤

ওয়া ওয়াহাবনা-লাহূ ইছহাকা ওয়া ইয়া‘কূবা কুল্লান হাদাইনা- ওয়া নূহান হাদাইনা-মিন কাবলুওয়া মিন যুররিইইয়াতিহী দা-ঊদা ওয়া ছুলাইমা-না ওয়া আইয়ূবা ওয়া ইঊছুফা ওয়া মূছা-ওয়া হা-রূনা ওয়া কাযা-লিকা নাজঝিল মুহছিনীন।

আমি ইবরাহীমকে দান করেছিলাম ইসহাক (-এর মত পুত্র) ও ইয়াকুব (-এর মত পৌত্র)। তাদের প্রত্যেককে আমি হিদায়াত দান করেছিলাম। আর নূহকে আমি আগেই হিদায়াত দিয়েছিলাম এবং তার বংশধরদের মধ্যে দাঊদ, সুলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকেও। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
৮৫

وَزَکَرِیَّا وَیَحۡیٰی وَعِیۡسٰی وَاِلۡیَاسَ ؕ  کُلٌّ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ۙ ٨٥

ওয়া যাকারিইইয়া ওয়া ইয়াহইয়া-ওয়া ‘ঈছা-ওয়া ইলইয়া-ছা কুল্লুম মিনাসসা-লিহীন।

এবং যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা ও ইলিয়াসকেও (হিদায়াত দান করেছিলাম)। এরা সকলে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৮৬

وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَالۡیَسَعَ وَیُوۡنُسَ وَلُوۡطًا ؕ  وَکُلًّا فَضَّلۡنَا عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٨٦

ওয়া ইছমা‘ঈলা ওয়ালইয়াছা‘আ ওয়াইঊনুছা ওয়া লূতাওঁ ওয়া কুল্লান ফাদ্দালনা‘আলাল ‘আ-লামীন।

এবং ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনুস ও লুতকেও। তাদের সকলকে আমি বিশ্বের সকল মানুষের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
৮৭

وَمِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ وَاِخۡوَانِہِمۡ ۚ وَاجۡتَبَیۡنٰہُمۡ وَہَدَیۡنٰہُمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٨٧

ওয়া মিন আ-বাইহিম ওয়া যুররিইইয়া-তিহিম ওয়া ইখওয়া-নিহিম ওয়াজতাবাইনা-হুম ওয়া হাদাইনা-হুম ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

তাদের বাপ-দাদা, সন্তানবর্গ ও তাদের ভাইদের মধ্য হতেও বহু লোককে। আমি তাদেরকে মনোনীত করেছিলাম ও তাদেরকে সরল পথ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়েছিলাম।
৮৮

ذٰلِکَ ہُدَی اللّٰہِ یَہۡدِیۡ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ ؕ وَلَوۡ اَشۡرَکُوۡا لَحَبِطَ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٨٨

যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহদী বিহী মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী ওয়া লাও আশরাকূ লাহাবিতা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

এটা আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত, যার মাধ্যমে তিনি বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান সরল পথে পৌঁছিয়ে দেন। তারা যদি শিরক করত, তবে তাদের সমস্ত (সৎ) কর্ম নিষ্ফল হয়ে যেত।
৮৯

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡحُکۡمَ وَالنُّبُوَّۃَ ۚ فَاِنۡ یَّکۡفُرۡ بِہَا ہٰۤؤُلَآءِ فَقَدۡ وَکَّلۡنَا بِہَا قَوۡمًا لَّیۡسُوۡا بِہَا بِکٰفِرِیۡنَ ٨٩

উলাইকাল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ওয়ালা হুকমা ওয়াননুবুওওয়াতা ফাইয় ইয়াকফুর বিহা-হাউলাই ফাকাদওয়াক্কালনা-বিহা-কাওমাল লাইছূবিহা-বিকা-ফিরীন।

তারা ছিল এমন লোক, যাদেরকে আমি কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছিলাম। ৩৭ সুতরাং এসব লোক (মক্কার মুশরিকগণ) যদি এটা (নবুওয়াত) প্রত্যাখ্যান করে, তবে (তার কোনও পরওয়া করো না। কেননা) এর (অনুসরণের) জন্য আমি এমন লোক নির্দিষ্ট করেছি, যারা এর অস্বীকারকারী নয়। ৩৮

তাফসীরঃ

৩৭. আরব মুশরিকগণ নবুয়াত ও রিসালাতকে অস্বীকার করত, তাদের জবাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার আওলাদের মধ্যে যারা নবুওয়াত লাভ করেছিলেন তাদের বরাত দেওয়া হয়েছে। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে তো আরবের পৌত্তলিকগণও স্বীকার করত। তাদেরকে বলা হচ্ছে, তিনি যদি নবী হতে পারেন এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যে যদি নবুওয়াতের ধারা চালু থাকতে পারে, তবে নবুওয়াত কোনও জিনিসই নয়’ এরূপ মন্তব্য করা কিভাবে বৈধ হতে পারে? এবং কি করেই বা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল বানিয়ে পাঠানোটা আপত্তির বিষয় হতে পারে, বিশেষত যখন তার নবুওয়াতের দলীল-প্রমাণ দিবালোকের মত সুস্পষ্ট হয়ে গেছে?
৯০

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدَی اللّٰہُ فَبِہُدٰىہُمُ اقۡتَدِہۡ ؕ  قُلۡ لَّاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡہِ اَجۡرًا ؕ  اِنۡ ہُوَ اِلَّا ذِکۡرٰی لِلۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ٩۰

উলাইকাল্লাযীনা হাদাল্লা-হু ফাবিহুদা হুমুকতাদিহ কুল লাআছআলুকুম ‘আলাইহি আজরান ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরা-লিল ‘আ-লামীন।

(উপরে যাদের কথা উল্লেখ করা হল) তারা ছিল এমন লোক, আল্লাহ যাদেরকে (বিরুদ্ধাচারীদের আচার-আচরণে সবর করার) হিদায়াত করেছিলেন। সুতরাং (হে নবী!) তুমিও তাদের পথে চলো। (বিরুদ্ধবাদীদের) বলে দাও, আমি এর (অর্থাৎ দাওয়াতের) জন্য তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটা তো বিশ্বজগতের জন্য এক উপদেশ মাত্র।
৯১

وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖۤ اِذۡ قَالُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ عَلٰی بَشَرٍ مِّنۡ شَیۡءٍ ؕ قُلۡ مَنۡ اَنۡزَلَ الۡکِتٰبَ الَّذِیۡ جَآءَ بِہٖ مُوۡسٰی نُوۡرًا وَّہُدًی لِّلنَّاسِ تَجۡعَلُوۡنَہٗ قَرَاطِیۡسَ تُبۡدُوۡنَہَا وَتُخۡفُوۡنَ کَثِیۡرًا ۚ وَعُلِّمۡتُمۡ مَّا لَمۡ تَعۡلَمُوۡۤا اَنۡتُمۡ وَلَاۤ اٰبَآؤُکُمۡ ؕ قُلِ اللّٰہُ ۙ ثُمَّ ذَرۡہُمۡ فِیۡ خَوۡضِہِمۡ یَلۡعَبُوۡنَ ٩١

ওয়া মা-কাদারুল্লা-হা হাক্কাকাদরিহীইযকা-লূ মাআনঝালাল্লাহু ‘আলা-বাশারিম মিন শাইয়িন কুল মান আনঝালাল কিতা-বাল্লাযী জাআ বিহী মূছা-নূরাওঁ ওয়া হুদাল লিন্নাছি তাজ‘আলূনাহূকারা-তীছা তুবদূ নাহা-ওয়া তুখফূনা কাছীরাওঁ ওয়া ‘উলিলমতুম মালাম তা‘লামূআনতুম ওয়ালাআ-বাউকুম কুল্লিলা-হু ছু ম্মা যারহুম ফী খাওদিহিম ইয়াল‘আবূন।

তারা (কাফিরগণ) আল্লাহর যথার্থ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি, ৩৯ যখন তারা বলেছে, আল্লাহ কোনও মানুষের প্রতি কিছু নাযিল করেননি। (তাদেরকে) বল, মূসা যে কিতাব নিয়ে এসেছিল তা কে নাযিল করেছিল, যা মানুষের জন্য আলো ও হিদায়াত ছিল এবং যা তোমরা বিভিন্ন পৃষ্ঠা আকারে রেখে দিয়েছিলে, ৪০ যা(-র মধ্য হতে কিছু) তোমরা প্রকাশ কর এবং যার অনেকাংশ তোমরা গোপন কর এবং (যার মাধ্যমে) তোমাদেরকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল, যা তোমরা জানতে না এবং তোমাদের বাপ-দাদাগণও নয়। ৪১ (হে নবী!) তুমি নিজেই (এ প্রশ্নের উত্তরে) বলে দাও, সে কিতাব নাযিল করেছিলেন) আল্লাহ। তারপর তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের বেহুদা কথাবার্তায় লিপ্ত থেকে আনন্দ-ফূর্তি করতে থাকুক।

তাফসীরঃ

৩৯. এর দ্বারা এক শ্রেণীর ইয়াহুদীকে রদ করা উদ্দেশ্য। একবার মালিক ইবনে সায়ফ নামক তাদের এক নেতা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বলে ফেলেছিল যে, আল্লাহ কোনও মানুষের প্রতি কিছু নাযিল করেননি।
৯২

وَہٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ مُبٰرَکٌ مُّصَدِّقُ الَّذِیۡ بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَلِتُنۡذِرَ اُمَّ الۡقُرٰی وَمَنۡ حَوۡلَہَا ؕ وَالَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَہُمۡ عَلٰی صَلَاتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ٩٢

ওহাযা কিতাবুন আনঝালনাহু মুবা-রাকুম মুসাদ্দিকু ল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি ওয়া লিতুনযিরা উম্মাল-কুরা-ওয়া মান হাওলাহা ওয়াল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ইউ‘মিনূনা বিহী ওয়া হুম ‘আলা-সালা-তিহিম ইউহা-ফিজূন।

এবং এটা এক বরকতময় কিতাব, যা আমি নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী আসমানী হিদায়াতসমূহের সমর্থক, আর যাতে তুমি এর মাধ্যমে জনপদসমূহের কেন্দ্র (মক্কা) ও তার আশপাশের লোকদেরকে সতর্ক কর। যারা আখিরাতে বিশ্বাস রাখে, তারা এর প্রতিও বিশ্বাস রাখে এবং তারা তাদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। ৪২

তাফসীরঃ

৪২. অর্থাৎ আখিরাতে বিশ্বাসের অনিবার্য ফল হল কিতাবে বিশ্বাস আনা এবং নামায ও অন্যান্য ইবাদতে যত্নবান থাকা। কেননা যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস রাখবে, সে সেখানকার জবাবদিহিতায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে নাজাত পেয়ে জান্নাত লাভ করার জন্য সরল পথের সন্ধান করবে। আর কুরআনই যেহেতু সরল পথের দিশারী, তাই এতে বিশ্বাস এনে সে এর নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে। সুতরাং সে নামায আদায়ে যত্নবান থাকবে এবং অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগীও ঠিক-ঠিক আদায় করবে। -অনুবাদক
৯৩

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا اَوۡ قَالَ اُوۡحِیَ اِلَیَّ وَلَمۡ یُوۡحَ اِلَیۡہِ شَیۡءٌ وَّمَنۡ قَالَ سَاُنۡزِلُ مِثۡلَ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ ؕ وَلَوۡ تَرٰۤی اِذِ الظّٰلِمُوۡنَ فِیۡ غَمَرٰتِ الۡمَوۡتِ وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ بَاسِطُوۡۤا اَیۡدِیۡہِمۡ ۚ اَخۡرِجُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ الۡہُوۡنِ بِمَا کُنۡتُمۡ تَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ غَیۡرَ الۡحَقِّ وَکُنۡتُمۡ عَنۡ اٰیٰتِہٖ تَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٩٣

ওয়া মান আজলামু মিমমানিফ তারা-‘আলাল্লা-হিল কাযিবান আও কা-লা ঊহিয়া ইলাইইয়া ওয়া লাম ইঊহা ইলাইহি শাইয়ুওঁ ওয়া মান কা-লা ছাউনঝিলুমিছলা মাআনঝালাল্লা-হু ওয়া লাও তারাইযিজ্জা-লিমূনা ফী গামারা-তিল মাওতি ওয়াল মালাইকাতুবা-ছিতূআইদীহিম আখরিজূআনফুছাকুম আলইয়াওমা তুজঝাওনা ‘আযা-বাল হূনি বিমা-কুনতুম তাকূলূনা ‘আলাল্লা-হি গাইরাল হাক্কিওয়া কুনতুম ‘আন আয়া-তিহী তাছতাকবিরূন।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে কিংবা বলে, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে, অথচ তার প্রতি কোনও ওহী নাযিল করা হয়নি এবং যে বলে, আল্লাহ যে কালাম নাযিল করেছেন, আমিও অনুরূপ নাযিল করব? ৪৩ তুমি যদি সেই সময় দেখ (তবে বড় ভয়াল দৃশ্য দেখতে পাবে) যখন জালিমগণ মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হবে এবং ফিরিশতাগণ তাদের হাত বাড়িয়ে (বলতে থাকবে), নিজেদের প্রাণ বের কর, আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেওয়া হবে, যেহেতু তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা কথা আরোপ করতে এবং যেহেতু তোমরা তার নিদর্শনাবলীর বিপরীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে।

তাফসীরঃ

৪৩. এরূপ কথা বলেছিল নযর ইবনুল হারিছ। তার জবাবেই এ আয়াত নাযিল হয়েছে। -অনুবাদক
৯৪

وَلَقَدۡ جِئۡتُمُوۡنَا فُرَادٰی کَمَا خَلَقۡنٰکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّتَرَکۡتُمۡ مَّا خَوَّلۡنٰکُمۡ وَرَآءَ ظُہُوۡرِکُمۡ ۚ  وَمَا نَرٰی مَعَکُمۡ شُفَعَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ زَعَمۡتُمۡ اَنَّہُمۡ فِیۡکُمۡ شُرَکٰٓؤُا ؕ  لَقَدۡ تَّقَطَّعَ بَیۡنَکُمۡ وَضَلَّ عَنۡکُمۡ مَّا کُنۡتُمۡ تَزۡعُمُوۡنَ ٪ ٩٤

ওয়া লাকাদ জি’তুমূনা-ফুরা-দা-কামা-খালাকনা-কুম আওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া তারাকতুম মা-খাওওয়ালনা-কুম ওয়ারাআ জুহূরিকুম ওয়ামা-নারা-মা‘আকুম শুফা‘আআকুমুল্লাযীনা ঝা‘আমতুম আন্নাহুম ফীকুম শুরাকাউ লাকাত তাকাত্তা‘আ বাইনাকুম ওয়া দাল্লা ‘আনকুম মা-কুনতুম তাঝ‘উমূন।

(কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন,) তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ অবস্থায় এসেছ, যেমন আমি প্রথমে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আর আমি তোমাদেরকে যা-কিছু দান করেছিলাম, তা তোমাদের পেছনে ফেলে এসেছ। আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীগণকে দেখছি না, যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল, তারা তোমাদের ব্যাপারে (আমার) শরীক। প্রকৃতপক্ষে তাদের সাথে তোমাদের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যাদের (অর্থাৎ যে দেবতাদের) সম্পর্কে তোমাদের ধারণা ছিল (যে, তারা তোমাদের সাহায্য করবে), তারা সকলে তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে।
৯৫

اِنَّ اللّٰہَ فَالِقُ الۡحَبِّ وَالنَّوٰی ؕ یُخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَمُخۡرِجُ الۡمَیِّتِ مِنَ الۡحَیِّ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ ٩٥

ইন্নাল্লা-হা ফা-লিকুল হাব্বি ওয়ান্নাওয়া- ইয়ুখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়া মুখরিজুল মাইয়িতি মিনাল হাইয়ি যা-লিকুমুল্লা-হু ফাআন্না-তু’ফাকূন।

নিশ্চয় আল্লাহই শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি প্রাণহীন বস্তু হতে প্রাণবান বস্তু নির্গত করেন এবং তিনিই প্রাণবান বস্তু হতে নিষ্প্রাণ বস্তুর নির্গতকারী। ৪৪ হে মানুষ! তিনিই আল্লাহ। সুতরাং তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? ৪৫

তাফসীরঃ

৪৪. প্রাণহীন থেকে প্রাণবান বস্তু বের করার দৃষ্টান্ত হল ডিম হতে ছানা বের করা, আর প্রাণবান হতে নিষ্প্রাণ বস্তু বের করার উদাহরণ মুরগী হতে ডিম বের করা।
৯৬

فَالِقُ الۡاِصۡبَاحِ ۚ وَجَعَلَ الَّیۡلَ سَکَنًا وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ حُسۡبَانًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ٩٦

ফা-লিকুল ইসবা-হি ওয়া জ‘আলাল লাইলা ছাকানাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা হুছবা-নান যা-লিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝুল ‘আলীম।

(তিনিই) ভোরের উদঘাটক। তিনিই রাতকে বানিয়েছেন বিশ্রামের সময় এবং সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন এক হিসাবের অনুবর্তী। এ সমস্ত মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার পরিকল্পনা।
৯৭

وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ النُّجُوۡمَ لِتَہۡتَدُوۡا بِہَا فِیۡ ظُلُمٰتِ الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ٩٧

ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুন নুজূমা লিতাহতাদূবিহা-ফী জুলুমা-তিল বাররি ওয়াল বাহরি কাদ ফাসসালনাল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তার মাধ্যমে তোমরা স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ জানতে পার। আমি নিদর্শনাবলী স্পষ্ট করে দিয়েছি, সেই সকল লোকের জন্য, যারা জ্ঞানকে কাজে লাগায়।
৯৮

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ فَمُسۡتَقَرٌّ وَّمُسۡتَوۡدَعٌ ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّفۡقَہُوۡنَ ٩٨

ওয়া হুওয়াল্লাযীআনশাআকুম মিন নাফছিওঁ ওয়া-হিদাতিন ফামুছতাকাররুওঁ ওয়া মুছতাওদা‘ কাদ ফাসসালনাল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়াফকাহূন।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের সকলকে একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর (প্রত্যেকের রয়েছে) এক অবস্থানস্থল ও এক আমানত স্থল। ৪৬ আমি নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে দিয়েছি, সেই সকল লোকের জন্য, যারা বুঝ-সমঝ রাখে।

তাফসীরঃ

৪৬. مستقر (অবস্থানস্থল) বলে সেই জায়গাকে, যাকে মানুষ যথারীতি ঠিকানা বানিয়ে নেয়। পক্ষান্তরে আমানত রাখার স্থানে সাময়িক অবস্থান হয়ে থাকে। সেখানে বসবাসের যথারীতি ব্যবস্থা করা হয় না। এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করে এ আয়াতের বিভিন্ন তাফসীর করা হয়েছে। হযরত হাসান বসরী (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, مستقر দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য দুনিয়া, যেখানে মানুষ দস্তুরমত তার বসবাসের ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর আমানতস্থল দ্বারা বোঝানো হয়েছে কবর, যেখানে মানুষ মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে অবস্থান করে। অতঃপর তাকে সেখান থেকে জান্নাত বা জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, مستقر হলো মায়ের গর্ভ, যেখানে বাচ্চা কয়েক মাস অবস্থান করে। আর مستودع হল পিতার ঔরস, যেখানে শুক্রবিন্দু সাময়িকভাবে অবস্থান করে, তারপর মাতৃগর্ভে স্থানান্তরিত হয়। কতক মুফাসসির এর বিপরীতে مستقر অর্থ বলেছেন পিতার ঔরস ও مستودع অর্থ করেছেন মাতৃগর্ভ, যেহেতু বাচ্চা সেখানে সাময়িকভাবে থাকে (রুহুল মাআনী)।
৯৯

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ نَبَاتَ کُلِّ شَیۡءٍ فَاَخۡرَجۡنَا مِنۡہُ خَضِرًا نُّخۡرِجُ مِنۡہُ حَبًّا مُّتَرَاکِبًا ۚ وَمِنَ النَّخۡلِ مِنۡ طَلۡعِہَا قِنۡوَانٌ دَانِیَۃٌ وَّجَنّٰتٍ مِّنۡ اَعۡنَابٍ وَّالزَّیۡتُوۡنَ وَالرُّمَّانَ مُشۡتَبِہًا وَّغَیۡرَ مُتَشَابِہٍ ؕ اُنۡظُرُوۡۤا اِلٰی ثَمَرِہٖۤ اِذَاۤ اَثۡمَرَ وَیَنۡعِہٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکُمۡ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٩٩

ওয়া হুওয়াল্লাযীআনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাআখরাজনা-বিহীনাবা-তা কুল্লি শাইয়িন ফাআখরাজনা-মিনহু খাদিরান নুখরিজুমিনহু হাব্বাম মুতারা-কিবাওঁ ওয়া মিনান নাখলি মিন তাল‘ইহা-কিনওয়া-নুন দা-নিয়াতুওঁ ওয়া জান্না-তিম মিন আ‘না-বিওঁ ওয়াঝঝাইতূনা ওয়াররুম্মা-না মুশতাবিহাওঁ ওয়া গাইরা মুতাশা-বিহিন উনজু রূইলাছামারিহীইযাআছমারা ওয়া ইয়ান‘ইহী ইন্না ফী যা-লিকুম লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইঊ’মিনূন।

আর আল্লাহ তিনিই, যিনি (তোমাদের জন্য) আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা উদগত করেছি, তারপর তা থেকে সবুজ গাছপালা জন্মিয়েছি, যা থেকে আমি থরে থরে বিন্যস্ত শস্যদানা উৎপন্ন করি এবং খেজুর গাছের চুমরি থেকে (ফল-ভারে) ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করি এবং আমি আঙ্গুর বাগান উদগত করেছি এবং যায়তুন ও আনারও। তার একটি অন্যটির সদৃশ ও বিসদৃশও। ৪৭ যখন সে বৃক্ষ ফল দেয়, তখন তার ফলের প্রতি ও তার পাকার অবস্থার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য কর। এসবের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা ঈমান আনে।

তাফসীরঃ

৪৭. এর এক অর্থ তো এই যে, কতক ফল দেখতে একটা অন্যটার মত এবং কতক স্বাদ ও আকৃতিতে একটা অন্যটা হতে ভিন্ন। আরেক অর্থ এও হতে পারে যে, যে সব ফল দেখতে একটা অন্যটার মত, তার মধ্যেও আবার বৈশিষ্ট্যের প্রভেদ রয়েছে।
১০০

وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ شُرَکَآءَ الۡجِنَّ وَخَلَقَہُمۡ وَخَرَقُوۡا لَہٗ بَنِیۡنَ وَبَنٰتٍۭ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ  سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یَصِفُوۡنَ ٪ ١۰۰

ওয়া জা‘আলূলিল্লা-হি শুরাকাআল জিন্না ওয়া খালাকাহুম ওয়া খারাকূলাহূবানীনা ওয়াবানা-তিম বিগাইরি ‘ইলমিন ছুবহা-নাহূতা‘আ-লা-‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

লোকে জিনদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছে, ৪৮ অথচ আল্লাহই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা অজ্ঞতাবশত তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা গড়ে নিয়েছে, ৪৯ অথচ তারা (আল্লাহর সম্পর্কে) যা-কিছু বলে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বে।

তাফসীরঃ

৪৮. জিন দ্বারা শয়তান বোঝানো হয়েছে। এর দ্বারা সেই সকল লোকের আকীদার প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যারা বলত, সকল উপকারী জীব-জন্তু তো আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী বরং সমস্ত মন্দ জিনিস শয়তানের সৃষ্টি; সেই তাদের স্রষ্টা। তারা তো বাহ্যত এসব মন্দ জিনিসের সৃষ্টিকার্য হতে আল্লাহ তাআলাকে মুক্ত ঘোষণা করল, কিন্তু এতটুকু বুঝতে পারল না যে, যেই শয়তান সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকর জিনিস তাকেও তো আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। মন্দ জিনিস যদি শয়তানের সৃষ্টি হয়, তবে খোদ যে শয়তান সর্বাপেক্ষা মন্দ, তাকে কে সৃষ্টি করল? তাছাড়া আপাতদৃষ্টিতে যে সকল জিনিসকে আমরা মন্দ মনে করছি, তার সৃজনের মধ্যেও আল্লাহ তাআলার বহু হিকমত ও রহস্য নিহিত আছে। কাজেই তার সৃজনকে মন্দ বলা যেতে পারে না। মহাকবি ইকবাল বলেন, نهيں هے چيز نكمى كوئى زمانے ميں كوئى برا نهيں قدرت كےكا ر خانے ميں ‘কোন বস্তুই কোনও কালে নিরর্থক নয়, স্রষ্টার কারখানায় কোনও জিনিসই মন্দ নয়।’
১০১

بَدِیۡعُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اَنّٰی یَکُوۡنُ لَہٗ وَلَدٌ وَّلَمۡ تَکُنۡ لَّہٗ صَاحِبَۃٌ ؕ وَخَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ١۰١

বাদী‘উছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আন্না-ইয়াকূনুলাহূওয়ালাদুওঁ ওয়া লাম তাকুল্লাহূ সা-হিবাতুওঁ ওয়া খালাকা কুল্লা শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

(তিনি) আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। তার কোনও সন্তান হবে কি করে, যখন তার কোনও স্ত্রী নেই? তিনিই সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সকল বস্তু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
১০২

ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ فَاعۡبُدُوۡہُ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ ١۰٢

যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া খা-লিকুকুল্লি শাইয়িন ফা‘বুদূ হু ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িওঁ ওয়াকীল।

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। তিনি যাবতীয় বস্তুর স্রষ্টা। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর। তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।
১০৩

لَا تُدۡرِکُہُ الۡاَبۡصَارُ ۫ وَہُوَ یُدۡرِکُ الۡاَبۡصَارَ ۚ وَہُوَ اللَّطِیۡفُ الۡخَبِیۡرُ ١۰٣

লা-তুদরিকুহুল আবসা-রু ওয়া হুওয়া ইউদরিকুল আবসা-রা ওয়া হুওয়াল্লাতীফুল খাবীর।

দৃষ্টিসমূহ তাঁকে ধরতে পারে না, কিন্তু দৃষ্টিসমূহ তার আয়ত্তাধীন। তাঁর সত্তা অতি সূক্ষ্ম এবং তিনি সর্ব বিষয়ে অবগত। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. অর্থাৎ তাঁর সত্তা এতই সূক্ষ্ম যে, কোনও দৃষ্টি তাকে ধরতে পারে না এবং তিনি এত বেশি ওয়াকিফহাল যে, সকল দৃষ্টিই তাঁর আয়ত্তাধীন এবং সকলের যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে তিনি সম্যক জ্ঞাত। আল্লামা আলুসী (রহ.) একাধিক তাফসীরবিদের বরাতে এ বাক্যের এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন এবং পূর্বাপর লক্ষ্য করলে এ ব্যাখ্যা খুবই সঙ্গত মনে হয়। প্রকাশ থাকে যে, সাধারণ কথাবার্তায় সূক্ষ্মতা বলতে শারীরিক সূক্ষ্মতা বোঝায়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা শরীর থেকে মুক্ত। সুতরাং এ স্থলে সে সূক্ষ্মতা বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ স্তরের সূক্ষ্মতা সেটাই, যাতে শরীরত্বের আভাস মাত্র থাকে না। আল্লাহ তাআলার সত্তাকে সূক্ষ্ম বলা হয়েছে এ অর্থেই।
১০৪

قَدۡ جَآءَکُمۡ بَصَآئِرُ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ۚ فَمَنۡ اَبۡصَرَ فَلِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ عَمِیَ فَعَلَیۡہَا ؕ وَمَاۤ اَنَا عَلَیۡکُمۡ بِحَفِیۡظٍ ١۰٤

কাদ জাআকুম বাসাইরু মির রাব্বিকুম ফামান আবসারা ফালিনাফছিহী ওয়া মান ‘আমিয়া ফা‘আলাইহা- ওয়া মাআনা ‘আলাইকুম বিহাফীজ।

(হে নবী! তাদেরকে বল,) তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে জ্ঞান-বর্তিকা এসে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি চোখ খুলে দেখবে সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে ব্যক্তি অন্ধ হয়ে থাকবে সে নিজেরই ক্ষতি করবে। আর আমি তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বশীল নই। ৫১

তাফসীরঃ

৫১. অর্থাৎ জোরপূর্বক তোমাদেরকে মুসলিম বানিয়ে কুফরের ক্ষতি হতে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার কাজ কেবল আল্লাহর বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছানো। মানা, না মানা তোমাদের কাজ।
১০৫

وَکَذٰلِکَ نُصَرِّفُ الۡاٰیٰتِ وَلِیَقُوۡلُوۡا دَرَسۡتَ وَلِنُبَیِّنَہٗ لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ١۰٥

ওয়া কাযা-লিকা নুসাররিফুলআ-য়া-তি ওয়ালিইয়াকূ লূ দারাছতা ওয়া লিনুবাইয়িনাহূ লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

এভাবেই আমি নিদর্শনাবলী বিভিন্ন প্রকারে বিবৃত করে থাকি, (যাতে তুমি তা মানুষের কাছে পৌঁছাও) এবং পরিশেষে তারা বলে, তুমি (কারও কাছে) শিক্ষা লাভ করেছ; ৫২ আর যারা জ্ঞানকে কাজে লাগায়, তাদের জন্য আমি সত্যকে সুস্পষ্ট করে দেই।

তাফসীরঃ

৫২. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এ কালাম রচনা করেছেন এরূপ কথা হঠকারী স্বভাবের কাফিররা পর্যন্ত বলতে লজ্জাবোধ করত। কেননা তারা তাঁর রীতি-নীতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানত এবং এটাও জানত যে, তিনি উম্মী ছিলেন, তাঁর পক্ষে নিজে কোনও বই-পুস্তক পড়ে এরূপ কালাম রচনা করা সম্ভব নয়। তাই তারা বলত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা কারও থেকে শিক্ষা করেছেন এবং একে আল্লাহর কালাম নামে অভিহিত করে মানুষের সামনে পেশ করছেন। কিন্তু কার কাছে শিক্ষা করেছেন, তা তারা বলতে পারত না। কখনও তারা এক ‘কর্মকার’-এর নাম বলত। সূরা নাহলে তা রদ করা হয়েছে।
১০৬

اِتَّبِعۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ۚ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ وَاَعۡرِضۡ عَنِ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ١۰٦

ইত্তাবি‘ মাঊহিয়া ইলাইকা মির রাব্বিকা লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ওয়া আ‘রিদ ‘আনিল মুশরিকীন।

(হে নবী!) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমার প্রতি যে ওহী পাঠানো হয়েছে, তুমি তারই অনুসরণ কর। তিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই। যারা (আল্লাহর সঙ্গে) শিরক করে, তাদের অগ্রাহ্য কর।
১০৭

وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکُوۡا ؕ وَمَا جَعَلۡنٰکَ عَلَیۡہِمۡ حَفِیۡظًا ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ١۰٧

ওয়া লাও শাআল্লা-হু মাআশরাকূ ওয়ামা-জা‘আলনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজাওঁ ওয়ামাআনতা ‘আলাইহিম বিওয়াকীল।

আল্লাহ চাইলে তারা শিরক করত না। ৫৩ আমি তোমাকে তাদের রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের (কাজ-কর্মের) যিম্মাদারও নও। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৩. পূর্বে ৩৪ নং আয়াতেও একথা বলা হয়েছে। এর সারমর্ম এই যে, আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জোরপূর্বক একই দীনের অনুসারী বানিয়ে দিতেন, কিন্তু দুনিয়ায় যেহেতু মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা, তাই এরূপ জবরদস্তি করা হয় না। কেননা পরীক্ষার দাবী হল মানুষকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু না করানো। বরং সে স্বেচ্ছায় নিজ বোধ-বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে নিখিল বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা নিদর্শনাবলীর মধ্যে চিন্তা করবে এবং তার ফলশ্রুতিতে খুশী মনে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে। নবীগণকে পাঠানো হয় সে সব নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এবং আসমানী কিতাব নাযিল করা হয় সে পরীক্ষাকে সহজ করার লক্ষ্যে। কিন্তু এর দ্বারা উপৃকত হয় কেবল তারাই, যাদের অন্তরে সত্য সম্বন্ধে অনুসন্ধিৎসা আছে।
১০৮

وَلَا تَسُبُّوا الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَیَسُبُّوا اللّٰہَ عَدۡوًۢا بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ کَذٰلِکَ زَیَّنَّا لِکُلِّ اُمَّۃٍ عَمَلَہُمۡ ۪ ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ مَّرۡجِعُہُمۡ فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١۰٨

ওয়ালা-তাছুব্বুল্লাযিনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি ফাইয়াছুব্বুল্লা-হা ‘আদওয়াম বিগাইরি ‘ইলমিন কাযা-লিকা ঝাইইয়ান্না-লিকুল্লি উম্মাতিন ‘আমালাহুম ছু ম্মা ইলারাব্বিহিম মারজি‘উহুম ফাইউনাব্বিউহুম বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

(হে মুসলিমগণ!) তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে (ভ্রান্ত মাবুদদেরকে) ডাকে, তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না। কেননা পরিণামে তারা অজ্ঞাতবশত সীমালংঘন করে আল্লাহকেও গালমন্দ করবে। ৫৫ (এ দুনিয়ায় তো) আমি এভাবেই প্রত্যেক জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে সুশোভন করে দিয়েছি। ৫৬ অতঃপর তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে তারা যা-কিছু করত সে সম্বন্ধে অবহিত করবেন।

তাফসীরঃ

৫৫. কাফের ও মুশরিকগণ যেই দেবতাদেরকে মাবুদ বলে বিশ্বাস করে, যদিও তাদের কোনও বাস্তবতা নেই, তথাপি এ আয়াতে মুসলিমদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কাফেরদের সামনে তাদের সম্পর্কে অশোভন শব্দ ব্যবহার না করে। এর কারণ বলা হয়েছে এই যে, কাফেরগণ প্রতিউত্তরে আল্লাহ তাআলার সাথে বেয়াদবী করতে পারে। আর তারা যদি তা করে, তবে তোমরাই তার ‘কারণ’ হবে। আল্লাহ তাআলার শানে নিজে যেমন বেয়াদবী করা হারাম, তেমনি বেয়াদবীর ‘কারণ’ হওয়াও হারাম। ফুকাহায়ে কিরাম এ আয়াত থেকে মূলনীতি বের করেছেন যে, এমনিতে কোনও কাজ যদি জায়েয বা মুস্তাহাব হয়, কিন্তু তার ফলে অন্য কারও গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে সে ক্ষেত্রে সেই জায়েয বা মুস্তাহাব কাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত। অবশ্য এরূপ ক্ষেত্রে কোনও ফরয বা ওয়াজিব কাজ ত্যাগ করা জায়েয হবে না। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে হলে ‘মাআরিফুল কুরআন’ গ্রন্থের এই আয়াত সম্পর্কিত তাফসীর দেখা যেতে পারে। প্রকাশ থাকে যে, আরববাসী যদিও আল্লাহ তাআলাকে মানত এবং মৌলিকভাবে তারাও আল্লাহ তাআলার সাথে বেয়াদবী করাকে জায়েয মনে করত না, কিন্তু জেদের বশবর্তীতে তাদের দ্বারা এরূপ কোনও কাজ হয়ে যাওয়া কিছু অসম্ভব ছিল না। সুতরাং কোন কোনও রিওয়ায়াতে আছে, তাদের কিছু লোক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুমকি দিয়েছিল, আপনি যদি আমাদের দেব-দেবীদের মন্দ বলেন, তবে আমরাও আপনার রব্বকে মন্দ বলব।
১০৯

وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ جَآءَتۡہُمۡ اٰیَۃٌ لَّیُؤۡمِنُنَّ بِہَا ؕ قُلۡ اِنَّمَا الۡاٰیٰتُ عِنۡدَ اللّٰہِ وَمَا یُشۡعِرُکُمۡ ۙ اَنَّہَاۤ اِذَا جَآءَتۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١۰٩

ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন জাআতহুম আ-য়াতুল লাইউ’মিনুন্না বিহা- কুল ইন্নামাল আ-য়া-তু‘ইনদাল্লা-হি ওয়া মা-ইউশ‘ইরুকুম আন্নাহাইযাজাআত লা-ইউ’মিনূন।

তারা আল্লাহর নামে অতি জোরালো কসম খেয়ে বলে, তাদের কাছে যদি সত্যই কোন নিদর্শন (অর্থাৎ তাদের কাঙ্খিত মুজিযা) আসে, তবে তারা অবশ্যই তাতে ঈমান আনবে। (তাদেরকে) বলে দাও, সমস্ত নিদর্শন আল্লাহর হাতে ৫৭ এবং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা কিভাবে জানবে, প্রকৃতপক্ষে তা (অর্থাৎ তাদের কাঙ্খিত মুজিযা) আসলেও তারা ঈমান আনবে না।

তাফসীরঃ

৫৭. এর ব্যাখ্যার জন্য এ সূরারই ১০৭নং আয়াতের ৫৩ নং টীকা দেখুন।
১১০

وَنُقَلِّبُ اَفۡـِٕدَتَہُمۡ وَاَبۡصَارَہُمۡ کَمَا لَمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٖۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّنَذَرُہُمۡ فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ٪ ١١۰

ওয়া নুকালিলবুআফইদাতাহুম ওয়া আবসা-রাহুম কামা-লাম ইউ’মিনূবিহী আওওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া নাযারুহুম ফী তুগইয়া-নিহিম ইয়া‘মাহূন।

তারা যেমন প্রথমবার এর (অর্থাৎ কুরআনের মত মুজিযার) প্রতি ঈমান আনেনি, তেমনি আমি, (তার প্রতিফলস্বরূপ) তাদের অন্তর ও দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে দেব এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেব।
১১১

وَلَوۡ اَنَّنَا نَزَّلۡنَاۤ اِلَیۡہِمُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ وَکَلَّمَہُمُ الۡمَوۡتٰی وَحَشَرۡنَا عَلَیۡہِمۡ کُلَّ شَیۡءٍ قُبُلًا مَّا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡۤا اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ یَجۡہَلُوۡنَ ١١١

ওয়ালাও আন্নানা-নাঝঝালনা-ইলাইহিমুল মালাইকাতা ওয়া কাল্লামাহুমুলমাওতা- ওয়া হাশারনা- ‘আলাইহিম কুল্লা শাইয়িন কুবুলাম মা-কা-নূ লিইউ’মিনূ ইল্লা আইঁ ইয়াশাআল্লা-হু ওয়া লা-কিন্না আকছারাহুম ইয়াজহালূন।

আমি যদি তাদের কাছে ফিরিশতা পাঠিয়েও দিতাম এবং মৃত ব্যক্তিরা তাদের সাথে কথাও বলত এবং (তাদের ফরমায়েশী) সকল জিনিস তাদের চোখের সামনে হাজির করে দিতাম, ৫৮ তবুও তারা ঈমান আনবার ছিল না। অবশ্য আল্লাহ যদি চাইতেন (যে, তাদেরকে জোরপূর্বক ঈমান আনতে বাধ্য করবেন, তবে সেটা ছিল ভিন্ন কথা, কিন্তু এরূপ ঈমান কাম্য ও ধর্তব্য নয়)। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোক অজ্ঞতাসুলভ কথা বলে। ৫৯

তাফসীরঃ

৫৮. কাফেরগণ এ সকল জিনিসের ফরমায়েশ করত। সূরা ফুরকানে (আয়াত ২৫ : ২১) তাদের দাবী বর্ণিত হয়েছে যে, তারা বলত, আমাদের কাছে ফিরিশতা পাঠানো হল না কেন? সূরা দুখানে বলা হয়েছে (আয়াত ৪৪ : ৩৬), তারা দাবী করত, আমাদের বাপ-দাদাদেরকে জীবিত করে আমাদের সামনে উপস্থিত কর।
১১২

وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیۡنَ الۡاِنۡسِ وَالۡجِنِّ یُوۡحِیۡ بَعۡضُہُمۡ اِلٰی بَعۡضٍ زُخۡرُفَ الۡقَوۡلِ غُرُوۡرًا ؕ وَلَوۡ شَآءَ رَبُّکَ مَا فَعَلُوۡہُ فَذَرۡہُمۡ وَمَا یَفۡتَرُوۡنَ ١١٢

ওয়া কাযা-লিকা জা‘আলনা-লিকুল্লি নাবিইয়িন ‘আদুওওয়ান শাইয়া-তীনাল ইনছি ওয়াল জিন্নি ইঊহী বা‘দুহুম ইলা-বা‘দিন ঝুখরুফাল কাওলি গুরূরাওঁ ওয়ালাওশাআ রাব্বুকা মা-ফা‘আলূহু ফাযারহুম ওয়া মা-ইয়াফতারূন।

এবং (তারা যেমন আমার নবীর সাথে শত্রুতা করছে) এভাবেই আমি (পূর্ববর্তী) প্রত্যেক নবীর জন্য কোনও না কোনও শত্রুর জন্ম দিয়েছি অর্থাৎ মানব ও জিনদের মধ্য হতে শয়তান কিসিমের লোকদেরকে, যারা ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একে অন্যকে বড় চমৎকার কথা শেখাত। আল্লাহ চাইলে তারা এরূপ করতে পারত না। ৬০ সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যা রচনার কাজে পড়ে থাকতে দাও।

তাফসীরঃ

৬০. এ স্থলে পুনরায় সেই কথাই বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা চাইলে শয়তানদেরকে এ ক্ষমতা নাও দিতে পারতেন এবং মানুষকে জোরপূর্বক ঈমান আনতে বাধ্য করতেন, কিন্তু উদ্দেশ্য যেহেতু পরীক্ষা করা, তাই তিনি এরূপ করছেন না।
১১৩

وَلِتَصۡغٰۤی اِلَیۡہِ اَفۡـِٕدَۃُ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ وَلِیَرۡضَوۡہُ وَلِیَقۡتَرِفُوۡا مَا ہُمۡ مُّقۡتَرِفُوۡنَ ١١٣

ওয়া লিতাসগাইলাইহি আফইদাতুল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ওয়ালিইয়ারদাওহু ওয়ালিইয়াকতারিফূমা-হুম মুকতারিফূন।

এবং (নবীদের শত্রুরা চমৎকার-চমৎকার কথা বলে) এজন্য যাতে আখিরাতে যারা ঈমান রাখে না, তাদের অন্তর সে দিকে আকৃষ্ট হয় এবং তারা তাতে মগ্ন থাকে আর তারা যে সব অপকর্ম করার তা করতে থাকে।
১১৪

اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ اَبۡتَغِیۡ حَکَمًا وَّہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ اِلَیۡکُمُ الۡکِتٰبَ مُفَصَّلًا ؕ وَالَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَعۡلَمُوۡنَ اَنَّہٗ مُنَزَّلٌ مِّنۡ رَّبِّکَ بِالۡحَقِّ فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡمُمۡتَرِیۡنَ ١١٤

আফাগাইরাল্লা-হি আবতাগী হাকামাওঁ ওয়া হুওয়াল্লাযী-আনঝালা ইলাইকুমুল কিতা-বা মুফাসসালাওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়া‘লামূনা আন্নাহু মুনাঝঝালুম মির রাব্বিকা বিলহাক্কিফালা-তাকূনান্না মিনাল মুমতারীন ।

(হে নবী! তাদেরকে বল,) আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সালিস বানাব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন বিস্তারিত বিবরণরূপে? (পূর্বে) যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা নিশ্চিতভাবে জানে, এটা তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে সত্য নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং কিছুতেই তুমি সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
১১৫

وَتَمَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ صِدۡقًا وَّعَدۡلًا ؕ لَا مُبَدِّلَ لِکَلِمٰتِہٖ ۚ وَہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ١١٥

ওয়া তাম্মাত কালিমাতুরাব্বিকা সিদকাওঁ ওয়া ‘আদলাল লা-মুবাদ্দিলা লিকালিমা-তিহী ওয়া হুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পরিপূর্ণ। তাঁর কথার কোনও পরিবর্তনকারী নেই। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
১১৬

وَاِنۡ تُطِعۡ اَکۡثَرَ مَنۡ فِی الۡاَرۡضِ یُضِلُّوۡکَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنۡ یَّتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ ١١٦

ওয়া ইন তুতি‘ আকছারা মান ফিল আরদিইউদিললূকা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ইয়ঁ ইয়াত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়া ইনহুম ইল্লা-ইয়াখরুসূন।

তুমি যদি পৃথিবীর অধিকাংশ বাসিন্দার পেছনে চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। তারা তো ধারণা ও অনুমান ছাড়া অন্য কিছুর অনুগমন করে না। এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাই বলা।
১১৭

اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ مَنۡ یَّضِلُّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ۚ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُہۡتَدِیۡنَ ١١٧

ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুমাইঁ ইয়াদিল্লু‘আন ছাবীলিহী ওয়া হুওয়া আ‘লামু বিলমুহতাদীন।

নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ভালো করে জানেন, কে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনিই ভালো করে জানেন, কারা সৎপথে আছে।
১১৮

فَکُلُوۡا مِمَّا ذُکِرَ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ بِاٰیٰتِہٖ مُؤۡمِنِیۡنَ ١١٨

ফাকুলূমিম্মা-যুকিরাছমুল্লা-হি ‘আলাইহি ইন কুনতুম বিআ-য়া-তিহী মু’মিনীন।

সুতরাং এমন সব (হালাল) পশু থেকে খাও, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে যদি তোমরা সত্যিই তার নিদর্শনাবলীতে ঈমান রাখ। ৬১

তাফসীরঃ

৬১. যারা কেবল অনুমান ভিত্তিক ধর্মের অনুসরণ করে, এতক্ষণ তাদের সম্পর্কে আলোচনা চলছিল। তারা তাদের সে সব পথভ্রষ্টতার কারণেই আল্লাহ তাআলার হালাল কৃত বস্তুকে হারাম বলত এবং আল্লাহ তাআলা যে জিনিসকে হারাম করেছেন তাকে হালাল মনে করত। এমনকি একবার কতিপয় কাফের মুসলিমদের প্রতি প্রশ্ন তুলেছিল যে, যে পশুকে আল্লাহ তাআলা হত্যা করেন, অর্থাৎ যা স্বাভাবিকভাবে মারা যায়, তোমরা তাকে মৃত ও হারাম সাব্যস্ত করে থাক; আর যে পশুকে তোমরা নিজেরা হত্যা কর তাকে হালাল মনে কর। তারই উত্তরে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এর সারমর্ম এই যে, হালাল ও হারাম করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যে পশু আল্লাহর নামে যবাহ করা হয় তা খাওয়া হালাল; আর যে পশু যবাহ ছাড়াই মারা যায় কিংবা যা যবাহ করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না তা হারাম। যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস রাখে, আল্লাহর এ ফায়সালার পর তাদের পক্ষে নিজেদের মনগড়া ধ্যান-ধারণার ভিত্তিতে কোন কিছুকে হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করা সাজে না। চিন্তা করার বিষয় হচ্ছে যে, কাফেরদের উপরে বর্ণিত প্রশ্নের উত্তরে এই যুক্তিও পেশ করা যেত যে, যে পশুকে যথারীতি যবাহ করা হয়, তার রক্ত ভালোভাবে বের হয়ে যায়। পক্ষান্তরে যে পশু এমনিতেই মারা যায়, তার রক্ত তার শরীরেই থেকে যায়, ফলে তার গোশত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এর তাৎপর্য বর্ণনা করেননি; বরং কেবল এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে, যা-কিছু হারাম তা আল্লাহ নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই তাঁর বিধানাবলীর বিপরীতে নিজের কাল্পনিক ঘোড়া হাঁকানো কোন মুমিনের কাজ হতে পারে না। এভাবে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যদিও আল্লাহ তাআলার প্রতিটি হুকুমের মধ্যে কোনও না কোনও তাৎপর্য নিহিত রয়েছে, কিন্তু নিজ আনুগত্যকে সেই তাৎপর্য বোঝার উপর মওকুফ রাখা মুসলিম ব্যক্তির কাজ নয়। তার কর্তব্য আল্লাহ তাআলার কোনও আদেশ এসে গেলে বিনা বাক্যে তা পালন করে যাওয়া, তাতে সে আদেশের তাৎপর্য বুঝে আসুক বা নাই আসুক।
১১৯

وَمَا لَکُمۡ اَلَّا تَاۡکُلُوۡا مِمَّا ذُکِرَ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ وَقَدۡ فَصَّلَ لَکُمۡ مَّا حَرَّمَ عَلَیۡکُمۡ اِلَّا مَا اضۡطُرِرۡتُمۡ اِلَیۡہِ ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا لَّیُضِلُّوۡنَ بِاَہۡوَآئِہِمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اِنَّ رَبَّکَ ہُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُعۡتَدِیۡنَ ١١٩

ওয়ামা-লাকুম আল্লা-তা’কুলূমিম্মা-যুকিরাছমুল্লা-হি ‘আলাইহি ওয়া কাদ ফাসসালা লাকুম মাহাররামা ‘আলাকুম ইল্লা-মাদতুরিরতুম ইলাইহি ওয়া ইন্না কাছীরাল লাইউদিললূনা বিআহওয়াইহিম বিগাইরি ‘ইলমিন ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুবিলমু‘তাদীন।

তোমাদের জন্য এমন কী বাধা আছে, যদ্দরুন তোমরা যে সকল পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা থেকে খাও না? অথচ তিনি তোমাদের জন্য (সাধারণ অবস্থায়) যা-কিছু হারাম করেছেন তা তিনি তোমাদেরকে বিশদভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তবে তোমরা যা খেতে বাধ্য হয়ে যাও (তার কথা ভিন্ন। হারাম হওয়া সত্ত্বেও তখন তা খাওয়ার অনুমতি থাকে)। বহু লোক কোনও রকমের জ্ঞান ছাড়া (কেবল) নিজেদের খেয়াল-খুশীর ভিত্তিতে (অন্যদেরকে) বিপথগামী করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালংঘনকারীদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
১২০

وَذَرُوۡا ظَاہِرَ الۡاِثۡمِ وَبَاطِنَہٗ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَکۡسِبُوۡنَ الۡاِثۡمَ سَیُجۡزَوۡنَ بِمَا کَانُوۡا یَقۡتَرِفُوۡنَ ١٢۰

ওয়া যারূ জা-হিরাল ইছমি ওয়া বা-তিনাহূ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াকছিবূনাল ইছমা ছাইউজঝাওনা বিমা-কা-নূইয়াকতারিফূন।

তোমরা প্রকাশ্য ও গুপ্ত উভয় প্রকার পাপ ছেড়ে দাও। ৬২ নিশ্চয়ই যারা পাপ কামাই করে, তাদেরকে শীঘ্রই সেই সমস্ত অপরাধের শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে তারা লিপ্ত হয়।

তাফসীরঃ

৬২. প্রকাশ্য গুনাহ হল সেইগুলো যা মানুষ তার বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা করে, যেমন মিথ্যা বলা, গীবত করা, ধোঁকা দেওয়া, ঘুষ খাওয়া, মদ পান করা, ব্যভিচার করা ইত্যাদি। আর গোপনগুনাহ হল সেইগুলি যা অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন হিংসা, বিদ্বেষ, রিয়া, অহংকার, অন্যের অনিষ্ট কামনা ইত্যাদি। প্রথম প্রকার গুনাহের আলোচনা করা হয় ফিকহের কিতাবে এবং ফুকাহায়ে কিরাম থেকে তার শিক্ষা লাভ করতে হয়। আর দ্বিতীয় প্রকার গুনাহ সম্পর্কে আলোচনা হয় তাসাওউফ ও ইহসানের কিতাবে এবং তার শিক্ষা-দীক্ষার জন্য মাশায়েখে কিরামের শরণাপন্ন হতে হয়। নিজের অন্তর্জগতকে গুপ্ত গুনাহ হতে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে কোন দিশারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনই হল তাসাওউফের মূল কথা। কিন্তু আফসোস! বহু লোক তাসাওউফের এই হাকীকত ভুলে গিয়ে একরাশ বিদআত ও বেহুদা কাজের নাম রেখে দিয়েছে তাসাওউফ। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) তাঁর বিভিন্ন রচনায় এ বিষয়টা পরিষ্কার করেছেন। তাসাওউফ কী ও কেন, তা সহজে বোঝার জন্য হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহ.) রচিত ‘দিল কী দুনিয়া’ পুস্তিকাখানি পড়ুন। [এর বঙ্গানুবাদ “আত্মশুদ্ধি” নামে মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।]
১২১

وَلَا تَاۡکُلُوۡا مِمَّا لَمۡ یُذۡکَرِ اسۡمُ اللّٰہِ عَلَیۡہِ وَاِنَّہٗ لَفِسۡقٌ ؕ  وَاِنَّ الشَّیٰطِیۡنَ لَیُوۡحُوۡنَ اِلٰۤی اَوۡلِیٰٓئِہِمۡ لِیُجَادِلُوۡکُمۡ ۚ  وَاِنۡ اَطَعۡتُمُوۡہُمۡ اِنَّکُمۡ لَمُشۡرِکُوۡنَ ٪ ١٢١

ওয়ালা-তা’কুলূমিম্মা-লাম ইউযকারিছমুল্লা-হি ‘আলাইহি ওয়া ইন্নাহূলাফিছকুওঁ ওয়া ইন্নাশশায়া-তীনা লাইঊহূনা ইলাআওলিয়াইহিম লিইউজা-দিলূকুম ওয়া ইন আতা‘তুমূহুম ইন্নাকুম লামুশরিকূন।

যে পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তা থেকে খেও না। এরূপ করা কঠিন গুনাহ। (হে মুসলিমগণ!) শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিতর্ক করার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে। তোমরা যদি তাদের কথা মত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে।
১২২

اَوَمَنۡ کَانَ مَیۡتًا فَاَحۡیَیۡنٰہُ وَجَعَلۡنَا لَہٗ نُوۡرًا یَّمۡشِیۡ بِہٖ فِی النَّاسِ کَمَنۡ مَّثَلُہٗ فِی الظُّلُمٰتِ لَیۡسَ بِخَارِجٍ مِّنۡہَا ؕ کَذٰلِکَ زُیِّنَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٢٢

আওয়া মান কা-না মাইতান ফাআহইয়াইনা-হু ওয়া জা‘আলনা-লাহূনূরাইঁ ইয়ামশী বিহী ফিন্না-ছি কামাম মাছালুহূফিজজু লুমা-তি লাইছা বিখা-রিজিম মিনহা- কাযা-লিকা ঝুইয়িনা লিলকা-ফিরীনা মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

একটু বল তো, যে ব্যক্তি ছিল মৃত, অতঃপর আমি তাকে জীবন দিয়েছি এবং তার জন্য এক আলোর ব্যবস্থা করেছি, যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, ৬৩ সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে, যার অবস্থা এই যে, সে অন্ধকার দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা থেকে সে কখনও বের হতে পারবে না? এভাবেই কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কৃতকর্মকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।

তাফসীরঃ

৬৩. এখানে আলো দ্বারা ইসলামের আলো বোঝানো হয়েছে। ‘মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে’ বলে ইশারা করা হয়েছে যে, ‘মানুষ দুনিয়ার কাজ-কর্ম ছেড়ে-ছুঁড়ে দিয়ে এবং লোকের সঙ্গে মেলামেশা বাদ দিয়ে এক কোণায় ইবাদত-বন্দেগীতে বসে থাকবে’ এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের দাবী তো এই যে, সে মানব সাধারণের একজন হয়েই থাকবে, তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম করবে এবং তাদের হক আদায় করবে; কিন্তু সে যেখানেই যাবে ইসলামের আলো সঙ্গে নিয়ে যাবে অর্থাৎ এ সবকিছুই করবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী।
১২৩

وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنَا فِیۡ کُلِّ قَرۡیَۃٍ اَکٰبِرَ مُجۡرِمِیۡہَا لِیَمۡکُرُوۡا فِیۡہَا ؕ وَمَا یَمۡکُرُوۡنَ اِلَّا بِاَنۡفُسِہِمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ١٢٣

ওয়া কাযা-লিকা জা‘আলনা-ফী কুল্লি কারইয়াতিন আকা-বিরা মুজরিমীহা-লিয়ামকুরূফীহা- ওয়া মা-ইয়ামকুরূনা ইল্লা-বিআনফুছিহিম ওয়া মা-ইয়াশ‘উরূন।

এভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের প্রধানদেরকে (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) চক্রান্ত করার অবকাশ দিয়েছি। ৬৪ তারা যে চক্রান্ত করে, (প্রকৃতপক্ষে) তা অন্য কারও নয়; বরং তাদের নিজেদেরই বিরুদ্ধে যায়, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।

তাফসীরঃ

৬৪. এর দ্বারা মুসলিমদেরকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, কাফেরগণ তাদের বিরুদ্ধে যে সব চক্রান্ত করে তারা যেন তাতে উদ্বিগ্ন না হয়। এ জাতীয় চক্রান্ত সব যুগেই নবীগণ ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে হয়ে আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুমিনগণই কৃতকার্য হয়েছে, আর তাদের শত্রুগণ যে চক্রান্ত করেছে তা দ্বারা তারা নিজেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কখনও তো এ দুনিয়াতেই তাদের সে ক্ষতি প্রকাশ পেয়েছে, আবার কখনও তা দুনিয়ায় গুপ্ত রাখা হয়েছে, কিন্তু তারা আখিরাতে টের পাবে যে, আসলে তারা কাঁটা পুতেছিল নিজেদেরই বিরুদ্ধে।
১২৪

وَاِذَا جَآءَتۡہُمۡ اٰیَۃٌ قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡمِنَ حَتّٰی نُؤۡتٰی مِثۡلَ مَاۤ اُوۡتِیَ رُسُلُ اللّٰہِ ؕۘؔ اَللّٰہُ اَعۡلَمُ حَیۡثُ یَجۡعَلُ رِسَالَتَہٗ ؕ سَیُصِیۡبُ الَّذِیۡنَ اَجۡرَمُوۡا صَغَارٌ عِنۡدَ اللّٰہِ وَعَذَابٌ شَدِیۡدٌۢ بِمَا کَانُوۡا یَمۡکُرُوۡنَ ١٢٤

ওয়া ইযা-জাআতহুম আ-য়াতুন কা-লূলান নু’মিনা হাত্তা-নু’তা-মিছলা মা-ঊতিয়া রুছুলুল্লা-হ । আল্লা-হু আ‘লামুহাইছুইয়াজ‘আলুরিছা-লাতাহূ ছাইউসীবুল্লাযীনা আজরামূসাগা-রুন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘আযা-বুন শাদীদুম বিমা-কা-নূইয়ামকুরূন।

যখন তাদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) কাছে (কুরআনের) কোন আয়াত আসে, তখন বলে, আল্লাহর রাসূলগণকে যা দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস আমাদেরকে যতক্ষণ পর্যন্ত না দেওয়া হবে, ৬৫ ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কিছুতেই ঈমান আনব না। অথচ আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি তাঁর রিসালাত কার উপর ন্যস্ত করবেন। যারা (এ জাতীয়) অন্যায় উক্তি করেছে, তাদেরকে তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর কাছে (গিয়ে) লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

তাফসীরঃ

৬৫. অর্থাৎ নবীগণের প্রতি যেমন ওহী নাযিল করা হয়েছিল যতক্ষণ পর্যন্ত তেমনি ওহী আমাদের উপর নাযিল না করা হবে এবং তাদেরকে যেমন মুজিযা দেওয়া হয়েছিল সে রকম মুজিযা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদেরকে না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ঈমান আনব না। সারকথা এই যে, তাদের দাবী ছিল, তাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ নবুওয়াত দান করতে হবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এর উত্তর দিয়েছেন যে, নবুওয়াত কাকে দান করা হবে তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
১২৫

فَمَنۡ یُّرِدِ اللّٰہُ اَنۡ یَّہۡدِیَہٗ یَشۡرَحۡ صَدۡرَہٗ لِلۡاِسۡلَامِ ۚ وَمَنۡ یُّرِدۡ اَنۡ یُّضِلَّہٗ یَجۡعَلۡ صَدۡرَہٗ ضَیِّقًا حَرَجًا کَاَنَّمَا یَصَّعَّدُ فِی السَّمَآءِ ؕ کَذٰلِکَ یَجۡعَلُ اللّٰہُ الرِّجۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ١٢٥

ফামাইঁ ইউরিদিল্লা-হু আইঁ ইয়াহদিয়াহূইয়াশরাহ সাদরাহূলিলইছলা-মি ওয়া মাইঁ ইউরিদ আইঁ ইউদিল্লাহূইয়াজ‘আল সাদরাহূদাইয়িকান হারাজান কাআন্নামা-ইয়াসসা‘‘আদু ফিছছামাই কাযা-লিকা ইয়াজ‘আলুল্লা-হুর রিজছা ‘আলাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূন।

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দানের ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ ইসলামের জন্য খুলে দেন; আর যাকে (তার হঠকারিতার কারণে) পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষ অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন (ফলে ঈমান আনয়ন তার পক্ষে এমন কঠিন হয়ে যায়), যেন তাকে জবরদস্তিমূলকভাবে আকাশে চড়তে হচ্ছে। যারা ঈমান আনে না, আল্লাহ এভাবেই তাদের উপর (কুফরের) কালিমা লেপন করেন।
১২৬

وَہٰذَا صِرَاطُ رَبِّکَ مُسۡتَقِیۡمًا ؕ قَدۡ فَصَّلۡنَا الۡاٰیٰتِ لِقَوۡمٍ یَّذَّکَّرُوۡنَ ١٢٦

ওয়া হা-যা-সিরা-তুরাব্বিকা মুছতাকীমান কাদ ফাসসালনাল আ-য়া-তি লিকাওমিইঁ ইয়াযযাক্কারূন।

এবং এটা (অর্থাৎ ইসলাম) তোমার প্রতিপালকের (দেওয়া) সরল পথ। উপদেশ গ্রহণ করে এমন সম্প্রদায়ের জন্য (এ পথের) নিদর্শনাবলী স্পষ্টরূপে বর্ণনা করে দিয়েছি।
১২৭

لَہُمۡ دَارُ السَّلٰمِ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ وَہُوَ وَلِیُّہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٢٧

লাহুম দা-রুছছালা-মি ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়া হুওয়া ওয়ালিইয়ুহুম বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

তাদের জন্যই তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে সুখণ্ডশান্তির নিবাস। আর তারা যা-কিছু করে তার দরুণ তিনিই তাদের রক্ষাকর্তা।
১২৮

وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ۚ یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ قَدِ اسۡتَکۡثَرۡتُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ ۚ وَقَالَ اَوۡلِیٰٓؤُہُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ رَبَّنَا اسۡتَمۡتَعَ بَعۡضُنَا بِبَعۡضٍ وَّبَلَغۡنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیۡۤ اَجَّلۡتَ لَنَا ؕ قَالَ النَّارُ مَثۡوٰىکُمۡ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ ١٢٨

ওয়া ইয়াওমা ইয়াহশুরুহুম জামী‘আন- ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি কাদিছতাকছারতুম মিনাল ইনছি ওয়া কা-লা আওলিয়াউহুম মিনাল ইনছি রাব্বানাছ তামতা‘আ বা‘দুনাব্বিা‘দিওঁ ওয়া বালাগনাআজালানাল্লাযীআজ্জালতা লানা- কা-লান না-রু মাছওয়াকুম খা-লিদীনা ফীহা-ইল্লা-মা-শাআল্লা-হু ইন্না রাব্বাকা হাকীমুন ‘আলীম।

(সেই দিনের কথা মনে রেখ) যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্র করবেন (এবং দুষ্ট জিনদেরকে বলবেন), হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছ। মানুষের মধ্যে যারা তাদের বন্ধু, তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একে অন্যের দ্বারা আনন্দ উপভোগ করেছি ৬৬ এবং এখন আমরা আমাদের সেই সময়ে উপনীত হয়েছি, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। আল্লাহ বলবেন, (এখন) আগুনই তোমাদের ঠিকানা, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে যদি না আল্লাহ অন্য রকম ইচ্ছা করেন। ৬৭ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হিকমতওয়ালা, সর্বজ্ঞ।

তাফসীরঃ

৬৬. মানুষ তো শয়তানের দ্বারা এভাবে আনন্দ উপভোগ করেছে যে, তাদের প্ররোচনায় পড়ে নিজ খেয়াল-খুশী মত চলেছে ও কুপ্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করেছে। এভাবে মানুষ এমন সব গুনাহে লিপ্ত থেকেছে, যা দ্বারা বাহ্যিকভাবে আনন্দ-ফূর্তি লাভ হয়। অপর দিকে শয়তানেরা মানুষের দ্বারা আনন্দ উপভোগ করেছে এভাবে যে, তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে পেরে তাদের মন ভরেছে এবং বিভ্রান্ত মানুষ তাদের মর্জিমত কাজ করায় তারা হর্ষবোধ করেছে। বস্তুত তারা একথা বলে নিজেদের ত্রুটি স্বীকার করবে এবং খুব সম্ভব এর পর ক্ষমাও প্রার্থনা করত, কিন্তু এর বেশি কিছু বলার হয়ত সাহসই হবে না অথবা ক্ষমার সময় গত হয়ে যাওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের কথা শেষ করতে দেবেন না; বরং তার আগেই বলবেন, এখন ক্ষমা ও প্রতিকারের সময় নয়। এখন তোমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তিই ভোগ করতে হবে।
১২৯

وَکَذٰلِکَ نُوَلِّیۡ بَعۡضَ الظّٰلِمِیۡنَ بَعۡضًۢا بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٪ ١٢٩

ওয়া কাযা-লিকা নুওয়াললী বা‘দাজ্জা-লিমীনা বা‘দাম বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।

এভাবেই আমি জালেমদের কতককে কতকের উপর তাদের কৃতকর্মের কারণে আধিপত্য দান করে থাকি। ৬৮

তাফসীরঃ

৬৮. অর্থাৎ কাফেরদের উপর তাদের জেদ ও হঠকারিতার কারণে যেমন শয়তানদেরকে আধিপত্য দেওয়া হয়েছে, যারা তাদেরকে বিপথে চালাতে তৎপর থাকে, তেমনিভাবে জালেমদের দুষ্কর্মের কারণে আমি তাদের উপর অন্য জালেমদেরকে আধিপত্য দিয়ে থাকি। সুতরাং এক হাদীসে আছে, যখন কোনও দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের উপর জালেম শাসক চাপিয়ে দেওয়া হয়। অপর এক হাদীসে আছে, কোনও ব্যক্তি কোনও জালেমকে তার জুলুমের কাজে সাহায্য করলে আল্লাহ তাআলা ওই জালেমকেই সেই সাহায্যকারীর উপর চাপিয়ে দেন। (ইবনে কাসীর) এ আয়াতের আরও এক তরজমা করা সম্ভব। তা এই যে, ‘এভাবেই আমি জালেমদের কতককে কতকের সঙ্গী বানিয়ে দেব’। এ হিসেবে আয়াতের মতলব হবে এই যে, শয়তানগণও জালেম এবং তাদের অনুসারীগণও। সুতরাং আখিরাতেও আমি তাদের একজনকে অন্যজনের সাথী বানিয়ে দেব। বহু মুফাসসির আয়াতের এ ব্যাখ্যাই করেছেন।
১৩০

یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَقُصُّوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِیۡ وَیُنۡذِرُوۡنَکُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ؕ قَالُوۡا شَہِدۡنَا عَلٰۤی اَنۡفُسِنَا وَغَرَّتۡہُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا وَشَہِدُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ اَنَّہُمۡ کَانُوۡا کٰفِرِیۡنَ ١٣۰

ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনছি আলামইয়া’তিকুমরুছুলুম মিনকুম ইয়াকু সসূনা ‘আলাইকুম আ-য়া-তী ওয়া ইউনযিরূনাকুম লিকাআ ইয়াওমিকুম হা-যা- কা-লূশাহিদনা‘আলাআনফুছিনা-ওয়া গার রাতহুমুল হায়া-তুদ দুনইয়া-ওয়া শাহিদূ‘আলাআনফুছিহিম আন্নাহুম কা-নুকা-ফিরীন।

হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদের কাছে কি তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে এমন রাসূল আসেনি, যারা তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শোনাত ৬৯ এবং তোমাদেরকে এ দিনের সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করত, যে দিনে আজ তোমরা উপনীত হয়েছ? তারা বলবে, (আজ) আমরা নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম (যে, সত্যিই আমাদের কাছে নবী-রাসূল এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিলাম)। ৭০ (প্রকৃতপক্ষে) পার্থিব জীবন তাদেরকে ধোঁকায় নিক্ষেপ করেছিল। আর আজ তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল যে, তারা কাফের ছিল।

তাফসীরঃ

৬৯. মানুষের মধ্যে নবী-রাসূলের আগমনের বিষয়টা তো সুস্পষ্ট। এ আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করে কতক আলেম বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে জিন জাতির মধ্যেও নবী-রাসূলের আগমন হত। অন্যদের মতে জিনদের মধ্যে স্বতন্ত্র কোনও নবীর আগমন হয়নি; বরং মানুষের মধ্যে যে সকল নবী পাঠানো হত, তারা জিনদেরকেও দীনের পথে ডাকতেন তাদের ডাকে যে সকল জিন ইসলাম গ্রহণ করত, তারা নবীদের প্রতিনিধি স্বরূপ অন্যান্য জিনদের মধ্যে প্রচারকার্য চালাত। সূরা জিনে এটা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করলে উভয় মতের অবকাশ আছে। কেননা আয়াতে বোঝানো উদ্দেশ্য যে, জিন ও মানব উভয় জাতির মধ্যে যথাযথভাবে প্রচারকার্য চালানো হয়েছিল, আর এটা উভয়ভাবেই সম্ভব।
১৩১

ذٰلِکَ اَنۡ لَّمۡ یَکُنۡ رَّبُّکَ مُہۡلِکَ الۡقُرٰی بِظُلۡمٍ وَّاَہۡلُہَا غٰفِلُوۡنَ ١٣١

যা-লিকা আল লাম ইয়াকুররাব্বুকা মুহলিকাল কুরা-বিজু লমিওঁ ওয়া আহ লুহা-গা-ফিলূন।

এটা (অর্থাৎ নবী প্রেরণের ধারা) ছিল এজন্য যে, কোনও জনপদকে সীমালংঘনের কারণে এ অবস্থায় ধ্বংস করা তোমার প্রতিপালকের পছন্দ ছিল না যে, তার অধিবাসীগণ অনবহিত থাকবে। ৭১

তাফসীরঃ

৭১. এর দুই অর্থ হতে পারে (এক) জনপদবাসীদেরকে কোনও সীমালংঘনের কারণে ততক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংস করা আল্লাহ তাআলার পছন্দ ছিল না, যতক্ষণ না নবীগণের মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করা হয়। (দুই) আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্ক না করেই ধ্বংস করার মত বাড়াবাড়ি করতে পারেন না।
১৩২

وَلِکُلٍّ دَرَجٰتٌ مِّمَّا عَمِلُوۡا ؕ وَمَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا یَعۡمَلُوۡنَ ١٣٢

ওয়া লিকুল্লিন দারাজা-তুম মিম্মা-‘আমিলূ ওয়ামা-রাব্বুকা বিগা-ফিলিন ‘আম্মা ইয়া‘মালূন।

সব ধরনের লোকের জন্য তাদের কৃতকর্ম অনুসারে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তারা যা-কিছুই করে সে সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালক উদাসীন নন।
১৩৩

وَرَبُّکَ الۡغَنِیُّ ذُو الرَّحۡمَۃِ ؕ  اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَسۡتَخۡلِفۡ مِنۡۢ بَعۡدِکُمۡ مَّا یَشَآءُ کَمَاۤ اَنۡشَاَکُمۡ مِّنۡ ذُرِّیَّۃِ قَوۡمٍ اٰخَرِیۡنَ ؕ ١٣٣

ওয়া রাব্বুকাল গানিইয়ুযুররাহমাতি ইয়ঁইয়াশা’ ইউযহিবকুম ওয়া ইয়াছতাখলিফ মিম বা‘দিকুম মা-ইয়াশাউ কামাআনশাআকুম মিন যুররিইইয়াতি কাওমিন আ-খারীন।

তোমার প্রতিপালক বেনিয়ায, দয়াশীলও বটে। ৭২ তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকে (পৃথিবী থেকে) অপসারণ করতে এবং তোমাদের পরে তোমাদের স্থানে যাকে চান আনয়ন করতে পারেন যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ হতে সৃষ্টি করেছেন। ৭৩

তাফসীরঃ

৭২. অর্থাৎ তিনি যে নবী-রাসূল প্রেরণের ধারা চালু করেছিলেন, সেটা এ কারণে নয় যে, তিনি তোমাদের ইবাদতের মুখাপেক্ষী। তিনি তো মাখলুকের ইবাদত-বন্দেগী থেকে বেনিয়ায। আসলে তিনি যেহেতু বেনিয়ায হওয়ার সাথে সাথে দয়াময়ও, তাই তিনি মানুষকে সঠিক কর্মপন্থার দিশা দেওয়ার জন্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন, যার অনুসরণ দ্বারা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে।
১৩৪

اِنَّ مَا تُوۡعَدُوۡنَ لَاٰتٍ ۙ وَّمَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ١٣٤

ইন্নামা-তূ‘আদূ না লাআ-তিওঁ ওয়া মাআনতুম বিমু‘জিঝীন।

নিশ্চয়ই তোমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা দেওয়া হচ্ছে, তার আগমন অবধারিত ৭৪ এবং তোমরা (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারবে না।

তাফসীরঃ

৭৪. এর দ্বারা আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম বোঝানো হয়েছে।
১৩৫

قُلۡ یٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ۚ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ تَکُوۡنُ لَہٗ عَاقِبَۃُ الدَّارِ ؕ اِنَّہٗ لَا یُفۡلِحُ الظّٰلِمُوۡنَ ١٣٥

কুল ইয়া-কাওমি‘মালূ‘আলা-মাকা-নাতিকুম ইন্নী ‘আ-মিলূন ফাছাওফা তা‘লামূনা মান তাকূনুলাহূ‘আ-কিবাতুদ দা-রি ইন্নাহূলা-ইউফলিহুজ্জা-লিমূন।

(হে নবী! ওই সকল লোককে) বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আপন স্থানে (নিজেদের নিয়ম অনুসারে) কাজ করতে থাক, আমিও (নিজ নিয়ম অনুসারে) কাজ করছি। শীঘ্রই জানতে পারবে, এ দুনিয়ার পরিণাম কার অনুকূলে যায়। (আপন স্থানে) এটা নিশ্চিত সত্য যে, জালেমগণ কৃতকার্য হয় না।
১৩৬

وَجَعَلُوۡا لِلّٰہِ مِمَّا ذَرَاَ مِنَ الۡحَرۡثِ وَالۡاَنۡعَامِ نَصِیۡبًا فَقَالُوۡا ہٰذَا لِلّٰہِ بِزَعۡمِہِمۡ وَہٰذَا لِشُرَکَآئِنَا ۚ فَمَا کَانَ لِشُرَکَآئِہِمۡ فَلَا یَصِلُ اِلَی اللّٰہِ ۚ وَمَا کَانَ لِلّٰہِ فَہُوَ یَصِلُ اِلٰی شُرَکَآئِہِمۡ ؕ سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ ١٣٦

ওয়া জা‘আলূ লিল্লা-হি মিম্মা-যারাআ মিনাল হারছিওয়াল আন‘আ-মি নাসীবান ফাকা-লূ হা-যা-লিল্লা-হি বিঝা‘মিহিম ওয়া হা-যা-লিশুরাকাইনা- ফামা-কা-না লিশুরাকাইহিম ফালা-ইয়াসিলুইলাল্লা-হি ওয়া মা-কা-না লিল্লা-হি ফাহুওয়া ইয়াসিলু ইলা-শুরাকাইহিম ছাআ মা-ইয়াহকুমূন।

আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তারা তার মধ্যে আল্লাহর জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করেছে। ৭৫ সুতরাং তারা নিজ ধারণা অনুযায়ী বলে, এ অংশ আল্লাহর এবং এটা আমাদের শরীকদের (অর্থাৎ দেব-দেবীদের)। অতঃপর যে অংশ তাদের শরীকদের জন্য, তা (কখনও) আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, আর যে অংশ আল্লাহর জন্য, তা তাদের শরীকদের কাছে পৌঁছে। তারা যা স্থির করে নিয়েছে তা কতই না নিকৃষ্ট!

তাফসীরঃ

৭৫. এখান থেকে ১৪৪ নং আয়াত পর্যন্ত আরব মুশরিকদের কতগুলো ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজ বর্ণনা করা হচ্ছে। তারা যৌক্তিক ও জ্ঞানগত কোনও ভিত্তি ছাড়াই বিভিন্ন কাজকে নানা রকম মনগড়া কারণে হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করেছিল, যেমন নিষ্ঠুরভাবে সন্তান হত্যা। তাদের কারও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে তাকে নিজের জন্য লজ্জার বিষয় মনে করত। তাই তাকে মাটির নিচে জ্যান্ত পুঁতে রাখত। অনেকে কন্যা সন্তান জীবিত কবর দিত এ কারণে যে, তাদের বিশ্বাস ছিল, ফিরিশতাগণ আল্লাহর কন্যা। তাই মানুষের জন্য কন্যা সন্তান রাখা সমীচীন নয়। অনেক সময় পুত্র সন্তানকেও খাদ্যাভাবের ভয়ে হত্যা করত। অনেকে মান্নত করত, আমার দশম সন্তান পুত্র হলে তাকে দেবতা বা আল্লাহর নামে বলি দেব। এছাড়া তারা তাদের শস্য ও গবাদি পশুর ক্ষেত্রেও আজব-আজব বিশ্বাস তৈরি করে নিয়েছিল। তার একটি এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তারা তাদের ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশুর দুধ বা গোশতের একটা অংশ আল্লাহর জন্য ধার্য করত (যা মেহমান ও গরীবদের পেছনে খরচ করা হত) এবং একটা অংশ দেব-দেবীর নামে ধার্য করত, যা দেব-মন্দিরে নিবেদন করা হত এবং তা মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোগ করত। প্রথমত আল্লাহর সঙ্গে দেব-দেবীদেরকে শরীক করে তাদের জন্য ফসলাদির অংশ নির্ধারণ করাটাই একটা বেহুদা কাজ ছিল। তার উপর অতিরিক্ত নষ্টামি ছিল এই যে, আল্লাহ নামে যে অংশ রাখত, তা থেকে কিছু দেবতাদের অংশে চলে গেলে সেটাকে দূষণীয় মনে করত না। পক্ষান্তরে দেবতাদের অংশ থেকে কোনও জিনিস আল্লাহর নামের অংশে চলে গেলে সঙ্গে-সঙ্গে তা ওয়াপস নিয়ে নিত। এমনিভাবে যদি দুর্ভিক্ষ দেখা দিত বা অন্য কোন কারণে ফসলহানি হত, তখন আল্লাহর ভাগেরটা নিজেরা খেয়ে ফেলত, কিন্তু দেব-দেবীর ভাগে হাত দিত না। তারা বলত, আল্লাহর তো কোন অভাব নেই, কিন্তু আমাদের দেবতাদের অভাব আছে। তারা এমনই অজ্ঞতার জগতে বাস করত যে, চিন্তা করত না সেই দেবতাগণ মাবুদ হলে তাদের অভাব থাকে কি করে এবং অভাব থাকলে তারা মাবূদ হয় কি করে। বস্তুত অন্ধ বিশ্বাসে যাদের মন-মস্তিষ্ক আচ্ছন্ন থাকে, এ রকম সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতা ও মোটা দাগের বিভ্রান্তিও তাদের চোখে ধরা পড়ে না।
১৩৭

وَکَذٰلِکَ زَیَّنَ لِکَثِیۡرٍ مِّنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ قَتۡلَ اَوۡلَادِہِمۡ شُرَکَآؤُہُمۡ لِیُرۡدُوۡہُمۡ وَلِیَلۡبِسُوۡا عَلَیۡہِمۡ دِیۡنَہُمۡ ؕ وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَا فَعَلُوۡہُ فَذَرۡہُمۡ وَمَا یَفۡتَرُوۡنَ ١٣٧

ওয়া কাযা-লিকা ঝাইইয়ানা লিকাছীরিম মিনাল মুশরিকীনা কাতলা আওলা-দিহিম শুরাকাউহুম লিইউরদূ হুম ওয়া লিইয়ালবিছূ‘আলাইহিম দীনাহুম ওয়া লাও শাআল্লা-হু মা-ফা‘আলূহু ফাযারহুম ওয়ামা-ইয়াফতারূন।

এমনিভাবে বহু মুশরিককে তাদের শরীকগণ বুঝিয়ে রেখেছিল যে, নিজ সন্তানকে হত্যা করা বড় ভালো কাজ, যাতে তারা তাদেরকে (অর্থাৎ মুশরিকদেরকে) সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে এবং তাদের কাছে তাদের দীনকে বিভ্রান্তিপূর্ণ করে দিতে পারে। আল্লাহ চাইলে তারা এরূপ করতে পারত না। ৭৬ সুতরাং তাদেরকে তাদের মিথ্যাচারের মধ্যে পড়ে থাকতে দাও।

তাফসীরঃ

৭৬. এর ব্যাখ্যার জন্য এ সূরারই ১১২ নং আয়াতের টীকা দেখুন।
১৩৮

وَقَالُوۡا ہٰذِہٖۤ اَنۡعَامٌ وَّحَرۡثٌ حِجۡرٌ ٭ۖ لَّا یَطۡعَمُہَاۤ اِلَّا مَنۡ نَّشَآءُ بِزَعۡمِہِمۡ وَاَنۡعَامٌ حُرِّمَتۡ ظُہُوۡرُہَا وَاَنۡعَامٌ لَّا یَذۡکُرُوۡنَ اسۡمَ اللّٰہِ عَلَیۡہَا افۡتِرَآءً عَلَیۡہِ ؕ سَیَجۡزِیۡہِمۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ١٣٨

ওয়া কা-লূহা-যিহীআন‘আ-মুওঁ ওয়া হারছুন হিজরুল লা-ইয়াত‘আমুহা-ইল্লামান নাশাউ বিঝা‘মিহিম ওয়া আন‘আ-মুন হুররিমাত জুহূরুহা-ওয়া আন‘আ-মুল লাইয়াযকুরূনাছমাল্লা-হি ‘আলাইহাফতিরাআন ‘আলাইহি ছাইয়াজঝীহিম বিমা-কা-নূ ইয়াফতারূন।

তারা বলে, এই সব গবাদি পশু ও শস্যতে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত আছে। তাদের ধারণা এই যে, আমরা যাদেরকে ইচ্ছা করব তারা ছাড়া অন্য কেউ এসব খেতে পারবে না ৭৭ এবং কতক গবাদি পশু এমন, যাদের পিঠকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৭৮ এবং কিছু পশু এমন, যার যবাহকালে আল্লাহর নাম নেয় না (এসবই তারা করে) তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহর) প্রতি মিথ্যারোপ করে। ৭৯ তারা যে মিথ্যাচার করছে, আল্লাহ শীঘ্রই তার প্রতিফল তাদেরকে দেবেন।

তাফসীরঃ

৭৭. এটা আরেকটি রসমের বর্ণনা। তারা তাদের মনগড়া দেবতাদের খুশী করার জন্য বিশেষ কোনও ফসল বা পশুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করত যে, তা কেউ ভোগ করতে পারবে না। অবশ্য তারা যাকে ইচ্ছা সেই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখত।
১৩৯

وَقَالُوۡا مَا فِیۡ بُطُوۡنِ ہٰذِہِ الۡاَنۡعَامِ خَالِصَۃٌ لِّذُکُوۡرِنَا وَمُحَرَّمٌ عَلٰۤی اَزۡوَاجِنَا ۚ وَاِنۡ یَّکُنۡ مَّیۡتَۃً فَہُمۡ فِیۡہِ شُرَکَآءُ ؕ سَیَجۡزِیۡہِمۡ وَصۡفَہُمۡ ؕ اِنَّہٗ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ ١٣٩

ওয়া কা-লূমা-ফী বুতূনি হা-যিহিল আন‘আ-মি খা-লিসাতুল লিযুকূরিনা-ওয়া মুহাররামুন ‘আলাআঝওয়াজিনা- ওয়াইয়ঁইয়াকুম মাইতাতান ফাহুম ফীহি শুরাকাউ ছাইয়াজঝীহিম ওয়াসফাহুম ইন্নাহূহাকীমুন ‘আলীম।

তারা আরও বলে, এই বিশেষ গবাদি পশুগুলির গর্ভে যে বাচ্চা আছে, তা আমাদের পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এবং আমাদের নারীদের জন্য হারাম। আর তা যদি মৃত হয়, তবে তাতে (নারী-পুরুষ) সকলে অংশীদার হত। ৮০ তারা যে সব কথা তৈরি করছে শীঘ্রই আল্লাহ তাদেরকে তার প্রতিফল দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।

তাফসীরঃ

৮০. অর্থাৎ বাচ্চা যদি জীবিত জন্ম নেয়, তবে তা কেবল পুরুষদের জন্য হালাল হবে, নারীদের জন্য থাকবে হারাম। আর যদি মরা বাচ্চা জন্ম নেয়, তবে তা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই হালাল হবে।
১৪০

قَدۡ خَسِرَ الَّذِیۡنَ قَتَلُوۡۤا اَوۡلَادَہُمۡ سَفَہًۢا بِغَیۡرِ عِلۡمٍ وَّحَرَّمُوۡا مَا رَزَقَہُمُ اللّٰہُ افۡتِرَآءً عَلَی اللّٰہِ ؕ  قَدۡ ضَلُّوۡا وَمَا کَانُوۡا مُہۡتَدِیۡنَ ٪ ١٤۰

কাদ খাছিরাল্লাযীনা কাতালূআওলা-দাহুম ছাফাহাম বিগাইরি ‘ইলমিওঁ ওয়া হাররামূমারাঝাকাহুমুল্লা -হুফ তিরাআন ‘আলাল্লা-হি; কাদ দাল্লু-ওয়া মা-কা-নূমুহতাদীন।

প্রকৃতপক্ষে যারা কোন জ্ঞানগত ভিত্তি ছাড়া নিছক নির্বুদ্ধিতাবশত নিজেদের সন্তান হত্যা করেছে এবং আল্লাহ প্রদত্ত রিযককে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করতঃ হারাম সাব্যস্ত করেছে, তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা গোমরাহ হয়েছে এবং তারা কখনও হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।
১৪১

وَہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَ جَنّٰتٍ مَّعۡرُوۡشٰتٍ وَّغَیۡرَ مَعۡرُوۡشٰتٍ وَّالنَّخۡلَ وَالزَّرۡعَ مُخۡتَلِفًا اُکُلُہٗ وَالزَّیۡتُوۡنَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِہًا وَّغَیۡرَ مُتَشَابِہٍ ؕ  کُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖۤ اِذَاۤ اَثۡمَرَ وَاٰتُوۡا حَقَّہٗ یَوۡمَ حَصَادِہٖ ۫ۖ  وَلَا تُسۡرِفُوۡا ؕ  اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ۙ ١٤١

ওয়া হুওয়াল্লাযী আনশাআ জান্না-তিম মা‘রূশা-তিওঁ ওয়া গাইরা মা‘রূশা-তিওঁ ওয়ান নাখলা ওয়াঝঝার‘আ মুখতালিফান উকুলুহূওয়াঝঝাইতূনা ওয়াররুম্মা-না মুতাশা-বিহাওঁ ওয়া গাইরা মুতাশা-বিহিন কুলূমিন ছামারিহী ইযাআছমারা ওয়া আ-তূহাক্কাহূইয়াওমা হাসা-দিহী ওয়ালা-তুছরিফূ ইন্নাহূলা-ইউহিব্বুল মুছরিফীন।

আল্লাহ তিনি, যিনি উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন, (যার মধ্যে) কতক (লতাযুক্ত, যা) মাচা আশ্রিত এবং কতক মাচা আশ্রিত নয়। ৮১ এবং খেজুর গাছ, বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য, যায়তুন ও আনার (সৃষ্টি করেছেন) যা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সাদৃশ্যবিহীনও। ৮২ যখন এসব গাছ ফল দেয় তখন তার ফল থেকে খাবে এবং ফল কাটার দিন আল্লাহর হক আদায় করবে ৮৩ এবং অপচয় করবে না। (মনে রেখ,) তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।

তাফসীরঃ

৮১. অর্থাৎ লতাযুক্ত গাছ দু’রকম। কিছু এমন, যাকে মাচার সাহায্যে উপরে বিস্তার লাভের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যেমন আঙ্গুর, লাউ, ঝিঙা ইত্যাদির গাছ এবং কিছু আছে এমন, যা মাটিতেই বিস্তার লাভ করে এবং মাটিতেই ফল দেয়। যেমন তরমুজ, বাংগি, পটল ইত্যাদি। غيرمعروشات দ্বারা হয়ত দ্বিতীয় প্রকার লতা গাছ বোঝানো হয়েছে, অথবা যা নিজ কাণ্ডের উপর দাঁড়াতে পারে, মাচার দরকার হয় না সে রকম গাছ বোঝানো হয়েছে। -অনুবাদক
১৪২

وَمِنَ الۡاَنۡعَامِ حَمُوۡلَۃً وَّفَرۡشًا ؕ  کُلُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ وَلَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ ؕ  اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ۙ ١٤٢

ওয়া মিনাল আন‘আ-মি হামূলাতাওঁ ওয়া ফারশান কূলূমিম্মা-রাঝাকাকুমুল্লা-হু ওয়ালাতাত্তাবি‘ঊ খুতুওয়া-তিশশাইতা-নি ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।

তিনি গবাদি পশুর মধ্যে কতক (সৃষ্টি করেছেন), ভারবাহীরূপে এবং কতককে মাটির সাথে। ৮৪ আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই, সে তোমাদের এক প্রকাশ্য শত্রু।

তাফসীরঃ

৮৪. ‘মাটির সাথে মিশে থাকে’ বলে বোঝানো হয়েছে যে, তা খুব ক্ষুদ্রাকৃতির, যেমন ভেড়া ও ছাগল। এর অপর অর্থ এমনও হতে পারে যে, তার চামড়া মাটিতে বিছানো হয়ে থাকে। (বা তার পশম দ্বারা বিছানা তৈরি করা হয়। এর আরেক অর্থ, যে পশুকে যবাহ করার জন্য মাটিতে বিছানো অর্থাৎ শোওয়ানো হয়। -অনুবাদক)
১৪৩

ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ۚ  مِنَ الضَّاۡنِ اثۡنَیۡنِ وَمِنَ الۡمَعۡزِ اثۡنَیۡنِ ؕ  قُلۡ ءٰٓالذَّکَرَیۡنِ حَرَّمَ اَمِ الۡاُنۡثَیَیۡنِ اَمَّا اشۡتَمَلَتۡ عَلَیۡہِ اَرۡحَامُ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ؕ  نَبِّـُٔوۡنِیۡ بِعِلۡمٍ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ۙ ١٤٣

ছামা-নিয়াতা আঝওয়া-জিম মিনাদ্দা’নিছনাইনি ওয়া মিনাল মা‘ঝিছনাইনি কুল আযযাকারাইনি হাররামা আমিল উনছাইয়াইনি আম্মাশতামালাত ‘আলাইহি আরহা-মুল উনছাইয়াইনি নাব্বিঊনী বি‘ইলমিন ইন কুনতুম সা-দিকীন।

আল্লাহ (গবাদি পশুর) মোট আট প্রকার (সৃষ্টি করেছেন)। ৮৫ দু’ প্রকার (নর ও মাদী) ভেড়ায় ও দু’ প্রকার ছাগলে। (তাদেরকে) জিজ্ঞেস কর তো, তিনি কি নর দু’টোকেই হারাম করেছেন, না মাদী দু’টোকে? না কি এমন প্রত্যেক বাচ্চাকে, যা (উভয় শ্রেণীর) মাদী দু’টির গর্ভে আছে? তোমরা সত্যবাদী হলে কোনও জ্ঞানের ভিত্তিতে আমাকে জানাও। ৮৬

তাফসীরঃ

৮৫. ازواج শব্দটি زوج-এর বহুবচন। অর্থ জোড়া। তবে আরবীতে যুগলের প্রত্যেক একককেও زوج বলে। সুতরাং স্বামীকেও زوج বলা হয় আবার স্ত্রীকে زوج বলা হয়। প্রত্যেক নরকেও زوج বলে এবং মাদীকেও زوج বলে। সে হিসেবে زوج-এর অর্থ করা যায় প্রকার। প্রত্যেক শ্রেণীর পশুতে নর ও মাদী এই দুই প্রকার আছে। সুতরাং ভেড়া, ছাগল, উট ও গরু এই চার শ্রেণীর পশুতে আট প্রকার হল। -অনুবাদক
১৪৪

وَمِنَ الۡاِبِلِ اثۡنَیۡنِ وَمِنَ الۡبَقَرِ اثۡنَیۡنِ ؕ  قُلۡ ءٰٓالذَّکَرَیۡنِ حَرَّمَ اَمِ الۡاُنۡثَیَیۡنِ اَمَّا اشۡتَمَلَتۡ عَلَیۡہِ اَرۡحَامُ الۡاُنۡثَیَیۡنِ ؕ  اَمۡ کُنۡتُمۡ شُہَدَآءَ اِذۡ وَصّٰکُمُ اللّٰہُ بِہٰذَا ۚ  فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ کَذِبًا لِّیُضِلَّ النَّاسَ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٪ ١٤٤

ওয়া মিনাল ইবিলিছনাইনি ওয়া মিনাল বাকারিছনাইনি কুল আযযাকারাইনি হাররামা আমিল উনছাইয়াইনি আম্মাশ তামালাত ‘আলাইহি আরহা-মুল উনছাইয়াইনি আম কুনতুম শুহাদাআ ইযওয়াসসা-কুমুল্লা-হু বিহা-যা- ফামান আজলামুমিম মানিফ তারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবাল লিইউদিল্লান্না-ছা বিগাইরি ‘ইলমিন ইন্নালা-হা লাইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

এমনিভাবে উটেরও দু’টি প্রকার (নর ও মাদী) (সৃষ্টি করেছেন) এবং গরুরও দু’টি। (তাদেরকে) বল, নর দু’টোকেই কি আল্লাহ হারাম করেছেন, না মাদী দু’টিকে? না কি এমন প্রত্যেক বাচ্চাকে, যা (উভয় শ্রেণীর) মাদী দু’টির গর্ভে আছে। আল্লাহ যখন এসব নির্দেশ দান করেন, তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে? (যদি তা না থাক এবং নিশ্চয়ই ছিলে না,) তবে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হবে, যে কোনও জ্ঞানের ভিত্তি ছাড়াই মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ জালেম লোকদেরকে সৎপথে পৌঁছান না।
১৪৫

قُلۡ لَّاۤ اَجِدُ فِیۡ مَاۤ اُوۡحِیَ اِلَیَّ مُحَرَّمًا عَلٰی طَاعِمٍ یَّطۡعَمُہٗۤ اِلَّاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ مَیۡتَۃً اَوۡ دَمًا مَّسۡفُوۡحًا اَوۡ لَحۡمَ خِنۡزِیۡرٍ فَاِنَّہٗ رِجۡسٌ اَوۡ فِسۡقًا اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ ۚ فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَاِنَّ رَبَّکَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٤٥

কুল লাআজিদুফী মাঊহিয়া ইলাইইয়া মুহাররামান ‘আলা- তা-‘ইমিইঁ ইয়াত‘আমুহূ ইল্লা আইঁ ইয়াকূনা মাইতাতান আও দামাম মাছফূহান আও লাহমা খিনঝীরিন ফাইন্নাহূ রিজছুন আও ফিছকান উহিল্লা লিগাইরিল্লা-হি বিহী ফামানিদতুররা গাইরা বা-গিওঁ ওয়ালা-‘আ-দিন ফাইন্না রাব্বাকা গাফূরুর রাহীম।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তাতে আমি এমন কোনও জিনিস পাই না, যা কোনও আহারকারীর জন্য হারাম, ৮৭ তবে যদি তা মৃত জন্তু বা বহমান রক্ত কিংবা শূকরের গোশত হয় (তা হারাম)। কেননা তা নাপাক। অথবা যদি হয় এমন গুনাহের পশু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে যবাহ করা হয়েছে। হাঁ যে ব্যক্তি (এসব বস্তুর মধ্যে কোনওটি খেতে) বাধ্য হয়ে যায়, ৮৮ আর তার উদ্দেশ্য মজা লোটা না হয় এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না করে, তবে নিশ্চয়ই তোমার রব্ব (আল্লাহ) অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৮৭. অর্থাৎ মূর্তিপূজকগণ যেসব পশুকে হারাম সাব্যস্ত করেছিল, তার কোনওটিরই নিষিদ্ধতা সম্পর্কে আমার প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কোন ওহী আসেনি। ব্যতিক্রম এই চারটি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অন্য সব পশুর মধ্যে কোনওটি হারাম নয়। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বপ্রকার হিংস্র পশুকে স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।
১৪৬

وَعَلَی الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا حَرَّمۡنَا کُلَّ ذِیۡ ظُفُرٍ ۚ وَمِنَ الۡبَقَرِ وَالۡغَنَمِ حَرَّمۡنَا عَلَیۡہِمۡ شُحُوۡمَہُمَاۤ اِلَّا مَا حَمَلَتۡ ظُہُوۡرُہُمَاۤ اَوِ الۡحَوَایَاۤ اَوۡ مَا اخۡتَلَطَ بِعَظۡمٍ ؕ ذٰلِکَ جَزَیۡنٰہُمۡ بِبَغۡیِہِمۡ ۫ۖ وَاِنَّا لَصٰدِقُوۡنَ ١٤٦

ওয়া ‘আলাল্লাযীনা হা-দূ হাররামনা-কুল্লাযী জুফুরিওঁ ওয়া মিনাল বাকারি ওয়াল গানামি হাররামনা-‘আলাইহিম শুহূমাহুমাইলা-মা-হামালাত জুহূরুহুমা-আবিল হাওয়া-ইয়াআও মাখতালাতা বি‘আজমিন যা-লিকা জাঝাইনা-হুম ব্বিাগইহিম ওয়া ইন্না-লাসা-দিকূন।

আমি ইয়াহুদীদের জন্য নখরবিশিষ্ট সকল জন্তু হারাম করেছিলাম এবং গরু ও ছাগল থেকে তাদের জন্য হারাম করেছিলাম তাদের চর্বি, তবে যে চর্বি তাদের পিঠ বা অন্ত্রে লেগে থাকে বা যা কোন অস্থিতে থাকে (তা ব্যতিক্রম ছিল)। এই শাস্তি আমি তাদেরকে দিয়েছিলাম তাদের অবাধ্যতার কারণে। নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী।
১৪৭

فَاِنۡ کَذَّبُوۡکَ فَقُلۡ رَّبُّکُمۡ ذُوۡ رَحۡمَۃٍ وَّاسِعَۃٍ ۚ وَلَا یُرَدُّ بَاۡسُہٗ عَنِ الۡقَوۡمِ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ١٤٧

ফাইন কাযযাবূকা ফাকুর রাব্বুকুম যূরাহমাতিওঁ ওয়া-ছি‘আতিওঁ ওয়ালা-ইউরাদ্দুবা’ছুহূ ‘আনিল কাওমিল মুজ রিমীন।

তারপরও যদি তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) তোমাকে অস্বীকার করে, তবে বলে দাও, তোমাদের প্রতিপালক সর্বব্যাপী দয়ার মালিক এবং অপরাধীদের থেকে তার শাস্তি টলানো যায় না। ৮৯

তাফসীরঃ

৮৯. অস্বীকারকারী বলে এখানে সরাসরিভাবে ইয়াহুদীদেরকে বোঝানো হয়েছে। কেননা উপরে বর্ণিত জিনিসসমূহকে যে তাদের প্রতি তাদের অবাধ্যতার কারণে হারাম করা হয়েছিল, তারা এটা অস্বীকার করত। অবশ্য আরব মুশরিকগণও এর অন্তর্ভুক্ত। তারা কুরআন মাজীদের সব কথাই অস্বীকার করত, এটাও তার একটা। উভয় সম্প্রদায়কে বলা হচ্ছে, কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও যে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না, উপরন্তু তাদের পার্থিব সুখণ্ডসাচ্ছন্দ্য লাভ হচ্ছে, এটা এ কারণে নয় যে, আল্লাহ তাআলা তাদের কাজে খুশী। আসল কথা হচ্ছে, দুনিয়ায় আল্লাহ তাআলার দয়া সর্বব্যাপী। এখানে তিনি তাঁর বিদ্রোহীদেরকেও জীবিকার সম্পন্নতা দান করেন। তবে এটা নিশ্চিত যে, এ অপরাধীদেরকে একদিন না একদিন অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং তা কেউ টলাতে পারবে না।
১৪৮

سَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ مَاۤ اَشۡرَکۡنَا وَلَاۤ اٰبَآؤُنَا وَلَا حَرَّمۡنَا مِنۡ شَیۡءٍ ؕ کَذٰلِکَ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ حَتّٰی ذَاقُوۡا بَاۡسَنَا ؕ قُلۡ ہَلۡ عِنۡدَکُمۡ مِّنۡ عِلۡمٍ فَتُخۡرِجُوۡہُ لَنَا ؕ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا الظَّنَّ وَاِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا تَخۡرُصُوۡنَ ١٤٨

ছাইয়াকূলুল্লাযীনা আশরাকূলাও শাআলা-হু মাআশরাকনা-ওয়ালাআ-বাউনাওয়ালা-হাররামনা-মিন শাইয়িন কাযা-লিকা কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম হাত্তা-যা-কূবা’ছানা- কুল হাল ‘ইনদাকুম মিন ‘ইলমিন ফাতুখরিজূহু লানা- ইন তাত্তাবি‘ঊনা ইল্লাজ্জান্না ওয়া ইন আনতুম ইল্লা-তাখরুসূন।

যারা শিরক অবলম্বন করেছে, তারা বলবে, আল্লাহ চাইলে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের বাপ-দাদারাও না; আর না আমরা কোনও বস্তুকে হারাম সাব্যস্ত করতাম। ৯০ তাদের পূর্ববর্তী লোকেও (রাসূলগণকে) এভাবেই অস্বীকার করেছিল, পরিশেষে তারা আমার শাস্তি ভোগ করেছিল। তুমি (তাদেরকে) বল, তোমাদের কাছে কি এমন কোনও জ্ঞান আছে, যা আমার সামনে বের করতে পার? তোমরা কেবল কল্পনারই অনুসরণ কর এবং শুধু আনুমানিক কথাই বল।

তাফসীরঃ

৯০. এটা তাদের সেই একই অসার যুক্তি, যার উত্তর একাধিকবার দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ যদি শিরককে অপছন্দই করেন, তবে আমাদেরকে শিরক করার ক্ষমতা দেন কেন? উত্তর দেওয়া হয়েছে এই যে, আল্লাহ যদি দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জোরপূর্বক ঈমান আনতে বাধ্য করেন, তবে পরীক্ষা হল কোথায়? অথচ দুনিয়াকে সৃষ্টিই করা হয়েছে এই পরীক্ষার জন্য যে, কে নিজ বুদ্ধি খাঁটিয়ে স্বেচ্ছায় সরল-সঠিক পথ অবলম্বন করে, যা আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবের ভেতরও নিহিত রেখেছেন এবং যার পথ-নির্দেশ করার জন্য তিনি নবী-রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন; আর কে ভ্রান্তপথ বেছে নেয়।
১৪৯

قُلۡ فَلِلّٰہِ الۡحُجَّۃُ الۡبَالِغَۃُ ۚ فَلَوۡ شَآءَ لَہَدٰىکُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ١٤٩

কুল ফালিল্লা-হিল হুজ্জাতুল বা-লিগাতু ফালাও শাআ লাহাদা-কুম আজমা‘ঈন।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই আছে, সুতরাং তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে (জোরপূর্বক) হিদায়াতের উপর নিয়ে আসতেন। ৯১

তাফসীরঃ

৯১. অর্থাৎ তোমরা তো কাল্পনিক প্রমাণ পেশ করছ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে নিজ প্রমাণ চূড়ান্ত করে দিয়েছেন এবং তাঁদের বর্ণিত সে সকল প্রমাণ এমনই বস্তুনিষ্ট, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা আল্লাহ তাআলার আযাবে নিপতিত হয়েছে। এটা সে সকল প্রমাণের সত্যতারই সাক্ষ্য বহন করে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা চাইলে সকলকে জোরপূর্বক হিদায়াত দিতে পারতেন নিশ্চয়ই, কিন্তু তাতে নবীগণআনীত অনস্বীকার্য প্রমাণসমূহকে গ্রহণ করে নিয়ে স্বেচ্ছায় ঈমান আনার যে দায়িত্ব তোমাদের উপর রয়েছে, তা আদায় হত না।
১৫০

قُلۡ ہَلُمَّ شُہَدَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ یَشۡہَدُوۡنَ اَنَّ اللّٰہَ حَرَّمَ ہٰذَا ۚ  فَاِنۡ شَہِدُوۡا فَلَا تَشۡہَدۡ مَعَہُمۡ ۚ  وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ وَہُمۡ بِرَبِّہِمۡ یَعۡدِلُوۡنَ ٪ ١٥۰

কুল হালুম্মা শুহাদাআ কুমুলাযীনা ইয়াশহাদূ না আন্নাল্লা-হা হাররামা হা-যা- ফাইন শাহিদূফালা-তাশহাদ মা‘আহুম ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআল্লাযীনা কাযযাবূবিআয়া-তিনা-ওয়াল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি ওয়াহুম বিরাব্বিহিম ইয়া‘দিলূন।

(তাদেরকে) বল, তোমরা তোমাদের সেই সকল সাক্ষীকে উপস্থিত কর, যারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ এসব হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়ও, তবুও তুমি তাদের সঙ্গে সাক্ষ্য দিয়ো না। আর তুমি সেই সকল লোকের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, যারা আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা আখিরাতের উপর ঈমান রাখে না এবং যারা (অন্যদেরকে) তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করে।
১৫১

قُلۡ تَعَالَوۡا اَتۡلُ مَا حَرَّمَ رَبُّکُمۡ عَلَیۡکُمۡ اَلَّا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ۚ وَلَا تَقۡتُلُوۡۤا اَوۡلَادَکُمۡ مِّنۡ اِمۡلَاقٍ ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُکُمۡ وَاِیَّاہُمۡ ۚ وَلَا تَقۡرَبُوا الۡفَوَاحِشَ مَا ظَہَرَ مِنۡہَا وَمَا بَطَنَ ۚ وَلَا تَقۡتُلُوا النَّفۡسَ الَّتِیۡ حَرَّمَ اللّٰہُ اِلَّا بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ١٥١

কুল তা‘আ-লাও আতলুমা-হাররামা রাব্বুকুম ‘আলাইকুম আল্লা-তুশরিকূবিহী শাইআওঁ ওয়া বিলওয়া-লিদাইনি ইহছা-নাওঁ ওয়ালা-তাকতুলূআওলা-দাকুম মিন ইমলা-কিন নাহনুনারঝুকুকুম ওয়া ইয়্যা-হুম ওয়ালা-তাকরাবুল ফাওয়া-হিশা মা-জাহারা মিনহা-ওয়ামা-বাতানা ওয়ালা-তাকতুলুন্নাফছাল্লাতী হাররামালা-হু ইল্লা-বিলহাক্কি যা-লিকুম ওয়াসসা-কুম বিহী লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।

(তাদেরকে) বল, এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি যা-কিছু হারাম করেছেন, আমি তা (তোমাদেরকে) পড়ে শোনাই। তা এই যে, তোমরা তার সঙ্গে কাউকে শরীক করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো, দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকেও রিযক দেই এবং তাদেরকেও। আর তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন কোনও রকম অশ্লীল কাজের নিকটেও যেয়ো না ৯২ আর আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন, তাকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করো না। এই সব বিষয়ে, আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা উপলব্ধি কর।

তাফসীরঃ

৯২. অর্থাৎ অশ্লীল কাজ যেমন প্রকাশ্যে করা নিষেধ, তেমনি লুকাছাপা করেও নিষেধ।
১৫২

وَلَا تَقۡرَبُوۡا مَالَ الۡیَتِیۡمِ اِلَّا بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ حَتّٰی یَبۡلُغَ اَشُدَّہٗ ۚ  وَاَوۡفُوا الۡکَیۡلَ وَالۡمِیۡزَانَ بِالۡقِسۡطِ ۚ  لَا نُکَلِّفُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَا ۚ  وَاِذَا قُلۡتُمۡ فَاعۡدِلُوۡا وَلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ۚ  وَبِعَہۡدِ اللّٰہِ اَوۡفُوۡا ؕ  ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَذَکَّرُوۡنَ ۙ ١٥٢

ওয়ালা- তাকরাবূমা-লাল ইয়াতীমি ইলা-বিল্লাতী হিয়া আহছানুহাত্তা-ইয়াবলুগা আশুদ্দাহুূ ওয়া আওফুল কাইলা ওয়াল মীঝা-না বিলকিছতি লা-নুকালিলফুনাফছান ইল্লাউছ‘আহা- ওয়া ইযা-কুলতুম ফা‘দিলূওয়া লাও কা-না যা-কুরবা- ওয়া বি‘আহদিল্লা-হি আওফূ যা-লিকুম ওয়াসসা-কুম বিহী লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।

ইয়াতীম পরিপক্ক বয়সে না পৌঁছা পর্যন্ত তার সম্পদের নিকটেও যেয়ো না, তবে এমন পন্থায় (যাবে, তার পক্ষে) যা উত্তম হয় এবং পরিমাপ ও ওজন ন্যায়ানুগভাবে পরিপূর্ণ করবে। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত কষ্ট দেই না। ৯৩ এবং যখন (কোনও কথা) বলবে, তখন ন্যায্য বলবে, যদিও নিকটাত্মীয়ের বিষয়ে হয়। আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবে। ৯৪ আল্লাহ এসব বিষয়ে তোমাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

তাফসীরঃ

৯৩. বেচা-কেনার সময় পরিমাপ ও ওজন যাতে ঠিক ঠিক হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা অবশ্য কর্তব্য, তবে আল্লাহ তাআলা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এ ব্যাপারে সাধ্যের বাইরে কিছু করার প্রয়োজন নেই। কেননা তিনি বান্দার পক্ষে যা রক্ষা করা সম্ভব নয়, সে রকম কোন হুকুম দিয়ে বান্দাকে কষ্টে ফেলেন না। বান্দার যতটুকু করার সাধ্য আছে, ততটুকু পরিমাণ আদেশই তিনি তাকে করেছেন। কাজেই চেষ্টা থাকা চাই যাতে মাপ ঠিক-ঠাক হয়, কিন্তু চেষ্টা সত্ত্বেও সামান্য কিছু হেরফের থেকে গেলে তাতে দোষ নেই। কেননা তা থেকে বাঁচা অতি কঠিন।
১৫৩

وَاَنَّ ہٰذَا صِرَاطِیۡ مُسۡتَقِیۡمًا فَاتَّبِعُوۡہُ ۚ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِکُمۡ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ ذٰلِکُمۡ وَصّٰکُمۡ بِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ١٥٣

ওয়া আন্না হা-যা-সিরা-তী মুছতাকীমান ফাত্তাবি‘ঊহু ওয়ালা-তাত্তাবি‘উছ ছুবুলা ফাতাফাররাকা বিকুম ‘আন ছাবীলিহী যা-লিকুম ওয়াসসা-কুম বিহী লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন।

(হে নবী! তাদেরকে) আরও বল, এটা আমার সরল-সঠিক পথ। সুতরাং এর অনুসরণ কর, অন্য কোনও পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ৯৫ এসব বিষয়ে আল্লাহ তোমাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার।

তাফসীরঃ

৯৫. অর্থাৎ উপরিউক্ত বিধানসমূহ পালন করা এবং বিশ্বাস ও কর্মে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হল ‘সিরাতে মুসতাকীম’ (সরল পথ) এবং এরই নাম ইসলাম। এ পথের কোন বিকল্প নেই। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর। এ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম অবলম্বন করলে অন্য কোন পথে চললে, সরল পথ হতে বিচ্যুত হয়ে যাবে এবং আল্লাহর পথ হারিয়ে শয়তানের পথে চলে যাবে। হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সরল রেখা টেনে বললেন, (মনে কর) এটি আল্লাহর পথ। তারপর সে রেখার ডানে-বামে আরও অনেকগুলো রেখা টানলেন। তারপর বললেন, এগুলো অন্যপথ। এর প্রত্যেকটির মুখে একেকজন শয়তান দাঁড়ানো আছে, যে সেদিকে চলার জন্য মানুষকে ডাকছে। তারপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন। -অনুবাদক
১৫৪

ثُمَّ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ تَمَامًا عَلَی الَّذِیۡۤ اَحۡسَنَ وَتَفۡصِیۡلًا لِّکُلِّ شَیۡءٍ وَّہُدًی وَّرَحۡمَۃً لَّعَلَّہُمۡ بِلِقَآءِ رَبِّہِمۡ یُؤۡمِنُوۡنَ ٪ ١٥٤

ছু ম্মা আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা তামা-মান ‘আলাল্লাযী-আহছানা ওয়া তাফসীলাল লিকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতাল লা‘আল্লাহুম বিলিকাই রাব্বিহিম ইউ’মিনূন।

এবং মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম সৎকর্মশীলদের প্রতি (আল্লাহ নি‘আমতের) পূর্ণতা, সব কিছুর বিশদ বিবরণ, (মানুষের জন্য) পথ নির্দেশ ও রহমতস্বরূপ, যাতে তারা (আখিরাতে) তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত সম্পর্কে ঈমান আনে।
১৫৫

وَہٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ مُبٰرَکٌ فَاتَّبِعُوۡہُ وَاتَّقُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ۙ ١٥٥

ওয়া হা-যা-কিতা-বুন আনঝালনা-হুমুবা-রাকুন ফাত্তাবি‘ঊহু ওয়াত্তাকূ লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

(এমনিভাবে) এটা এক বরকতপূর্ণ কিতাব, যা আমি নাযিল করছি। সুতরাং এর অনুসরণ কর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ হয়।
১৫৬

اَنۡ تَقُوۡلُوۡۤا اِنَّمَاۤ اُنۡزِلَ الۡکِتٰبُ عَلٰی طَآئِفَتَیۡنِ مِنۡ قَبۡلِنَا ۪  وَاِنۡ کُنَّا عَنۡ دِرَاسَتِہِمۡ لَغٰفِلِیۡنَ ۙ ١٥٦

আন তাকূলূইন্নামা-উনঝিলাল কিতা-বু‘আলা-তাইফাতাইনি মিন কাবলিনা- ওয়া ইন কুন্না-‘আন দিরা-ছাতিহিম লাগা-ফিলীন।

(আমি এ কিতাব নাযিল করেছি এজন্য যে,) পাছে তোমরা কখনও বল, কিতাব তো নাযিল করা হয়েছিল আমাদের পূর্বের দু’টি সম্প্রদায় (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)-এর প্রতি। আমরা তার পাঠ সম্পর্কে বিলকুল অজ্ঞাত ছিলাম।
১৫৭

اَوۡ تَقُوۡلُوۡا لَوۡ اَنَّاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا الۡکِتٰبُ لَکُنَّاۤ اَہۡدٰی مِنۡہُمۡ ۚ فَقَدۡ جَآءَکُمۡ بَیِّنَۃٌ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ ۚ فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ کَذَّبَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَصَدَفَ عَنۡہَا ؕ سَنَجۡزِی الَّذِیۡنَ یَصۡدِفُوۡنَ عَنۡ اٰیٰتِنَا سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ بِمَا کَانُوۡا یَصۡدِفُوۡنَ ١٥٧

আও তাকূলূলাও আন্নাউনঝিলা ‘আলাইনাল কিতা-বুলাকুন্নাআহদা-মিনহুম ফাকাদ-জাআকুম বাইয়িনাতুম মির রাব্বিকুম ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতুন ফামান আজলামু মিম্মান কাযযাবা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া সাদাফা ‘আনহা- ছানাজঝিল্লাযীনা ইয়াসদিফূনা ‘আন আ-য়া-তিনা-ছূআল ‘আযা-বি বিমা-কা-নূইয়াসদিফূন।

কিংবা তোমরা বল, আমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করা হলে আমরা অবশ্যই তাদের (অর্থাৎ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের) চেয়ে বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম। কাজেই তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক উজ্জ্বল প্রমাণ এবং হিদায়াত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর যে-কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করবে ও তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে? যারা আমার আয়াতসমূহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, আমি তাদেরকে তাদের সত্যবিমুখতার কারণে নিকৃষ্ট শাস্তি দেব।
১৫৮

ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَوۡ یَاۡتِیَ رَبُّکَ اَوۡ یَاۡتِیَ بَعۡضُ اٰیٰتِ رَبِّکَ ؕ یَوۡمَ یَاۡتِیۡ بَعۡضُ اٰیٰتِ رَبِّکَ لَا یَنۡفَعُ نَفۡسًا اِیۡمَانُہَا لَمۡ تَکُنۡ اٰمَنَتۡ مِنۡ قَبۡلُ اَوۡ کَسَبَتۡ فِیۡۤ اِیۡمَانِہَا خَیۡرًا ؕ قُلِ انۡتَظِرُوۡۤا اِنَّا مُنۡتَظِرُوۡنَ ١٥٨

হাল ইয়ানজুরূনা ইল্লাআন তা’তিয়াহুমুল মালাইকাতুআও ইয়া’তিয়া রাব্বুকা আও ইয়া’তিয়া বা‘দুআ-য়া-তি রাব্বিকা ইয়াওমা ইয়া’তী বা‘দুআ-য়া-তি রাব্বিকা লা-ইয়ানফা‘উ নাফছান ঈমা-নুহা-লাম তাকুন আ-মানাত মিন কাবলুআও কাছাবাত ফী ঈমা-নিহা-খাইরান কুলিনতাজিরূইন্না-মুনতাজিরূন।

তারা কি (ঈমান আনার জন্য) কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফিরিশতা আসবে বা তোমার প্রতিপালক নিজে আসবেন অথবা তোমার প্রতিপালকের কিছু নিদর্শন আসবে? ৯৬ (অথচ) যে দিন তোমার প্রতিপালকের কোনও নিদর্শন এসে যাবে, সে দিন এমন ব্যক্তির ঈমান তার কোন কাজে আসবে না, যে ব্যক্তি পূর্বে ঈমান আনেনি কিংবা নিজ ঈমানের সাথে কোন সৎকর্ম অর্জন করেনি। ৯৭ (সুতরাং তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষায় আছি।

তাফসীরঃ

৯৬. অর্থাৎ সর্বশেষ নবী ও সর্বশেষ কিতাব এসে গেছে, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বোঝানো-সমঝানো ও পথনির্দেশ করার চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন আর ঈমান না আনার পক্ষে কোন অজুহাত বাকি নেই। তা সত্ত্বেও যারা ঈমান আনছে না তারা হয়ত তিনটি বিষয়ের কোনও একটির অপেক্ষায় আছে, যা ঘটার পর তারা ঈমান আনবে। (ক) হয়ত তাদের প্রাণসংহার ও শাস্তিদান করার জন্য ফিরিশতা এসে যাবে। (খ) কিয়ামতের ময়দানে বিচারের জন্য আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং হাজির হয়ে যাবেন অথবা দুনিয়ায় তাদেরকে শাস্তিদানের জন্য তার হুকুম এসে যাবে এবং (গ) কিয়ামতের বড় আলামত প্রকাশ পাবে অর্থাৎ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হবে। কুরআন-হাদীসের ঘোষণা অনুযায়ী এ সকল অবস্থায় ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। যেমন পরের বাক্যে বলা হয়েছে, যেদিন কিয়ামতের বড় আলামত প্রকাশ পাবে, সেদিন কারও ঈমান আনয়ন কোন কাজে আসবে না। -অনুবাদক
১৫৯

اِنَّ الَّذِیۡنَ فَرَّقُوۡا دِیۡنَہُمۡ وَکَانُوۡا شِیَعًا لَّسۡتَ مِنۡہُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ ؕ اِنَّمَاۤ اَمۡرُہُمۡ اِلَی اللّٰہِ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ١٥٩

ইন্নালাযীনা ফাররাকূদীনাহুম ওয়া কা-নূশিয়া‘আল্লাছতা মিনহুম ফী শাইয়িন ইন্নামাআমরুহুম ইলাল্লা-হি ছুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা-কা-নূইয়াফ‘আলূন।

(হে নবী!) নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই। ৯৮ তাদের বিষয় তো আল্লাহরই উপর ন্যস্ত। অতঃপর তারা যা-কিছু করছে, তিনি তাদেরকে তা জানাবেন।

তাফসীরঃ

৯৮. এ আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যে মতভেদ দ্বারা উম্মতের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন দল-উপদলের সৃষ্টি হয়ে পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদের সূত্রপাত ঘটে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিন্দনীয়। ‘আকীদা-বিশ্বাস সংক্রান্ত মতভেদ এ পর্যায়ে পড়ে। ইয়াহূদী-খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এরূপ মতভেদে লিপ্ত হয়েছিল বলে এ আয়াতে তাদের নিন্দা করা হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তথা তাঁর উম্মতকে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা হয়েছে, পাছে সে জাতীয় মতভেদ এ উম্মতের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। কিন্তু উম্মতের কিছু লোক বিভিন্ন সময়ে এ হুকুম পালনে ব্যর্থ হয়েছে ফলে বিজাতীয় সে মতভেদের ব্যাধি দ্বারা তারাও আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এ উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন ফির্কার উৎপত্তি সেই হুকুম অমান্য করারই কুফল। উল্লেখ্য, ফুরূঈ মাসাইল তথা ফিকহী মাযহাবসমূহের মতভেদ নিন্দনীয় মতভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কুরআন-হাদীস দ্বারা এর বৈধতা প্রমাণিত। -অনুবাদক
১৬০

مَنۡ جَآءَ بِالۡحَسَنَۃِ فَلَہٗ عَشۡرُ اَمۡثَالِہَا ۚ وَمَنۡ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَلَا یُجۡزٰۤی اِلَّا مِثۡلَہَا وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ١٦۰

মান জাআ বিল হাছানাতি ফালাহূ‘আশরু আমছা-লিহা- ওয়ামান জাআ বিছছাইয়িআতি ফালা-ইউজঝা ইল্লা-মিছলাহা-ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

যে ব্যক্তি কোনও পুণ্য নিয়ে আসবে, তার জন্য অনুরূপ তার দশগুণ (সওয়াব) রয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোনও অসৎকর্ম নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তারই সমান প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তাদের প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।
১৬১

قُلۡ اِنَّنِیۡ ہَدٰىنِیۡ رَبِّیۡۤ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ۬ۚ دِیۡنًا قِیَمًا مِّلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ۚ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ١٦١

কুল ইন্নানী হাদা-নী রাববীইলা-সিরা-তিম মুছতাকীমিন দীনান কিয়ামাম মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাওঁ ওয়া মা-কা-না মিনাল মুশরিকীন।

(হে নবী!) বলে দাও, আমার প্রতিপালক আমাকে একটি সরল পথে পরিচালিত করেছেন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত দীন; ইবরাহীমের মিল্লাত, যে একনিষ্ঠভাবে নিজেকে আল্লাহঅভিমুখী করে রেখেছিল; আর সে ছিল না শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৬২

قُلۡ اِنَّ صَلَاتِیۡ وَنُسُکِیۡ وَمَحۡیَایَ وَمَمَاتِیۡ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ١٦٢

কু'ল ইন্না সালা-তী ওয়া নুছুকী ওয়া মাহ'ইয়া ~ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা -হি রাব্বিল 'আ-লামীন ।

বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার ইবাদত ও আমার জীবন-মরণ সবই আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
১৬৩

لَا شَرِیۡکَ لَہٗ ۚ وَبِذٰلِکَ اُمِرۡتُ وَاَنَا اَوَّلُ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ١٦٣

লা-শারীকা লাহু ওয়া বিযা-লিকা উমিরতুওয়া আনা আওওয়ালুল মুসলিমীন।

তাঁর কোনও শরীক নেই। আমাকে এরই হুকুম দেওয়া হয়েছে এবং আনুগত্য স্বীকারকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম। ৯৯

তাফসীরঃ

৯৯. তিনি প্রথম মুসলিম, প্রথম আনুগত্য স্বীকারকারী এ হিসেবে যে, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে যে দীনে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, তাঁর প্রতি সর্বপ্রথম আনুগত্য তিনিই স্বীকার করেছিলেন। বস্তুত সকল নবীই তাঁর কালের প্রথম মুসলিম হয়ে থাকেন। আবার ‘প্রথম’ অর্থ শ্রেষ্ঠও হতে পারে। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ইসলাম ও আনুগত্য প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আমি অধিষ্ঠিত, আমিই শ্রেষ্ঠতম মুসলিম। -অনুবাদক
১৬৪

قُلۡ اَغَیۡرَ اللّٰہِ اَبۡغِیۡ رَبًّا وَّہُوَ رَبُّ کُلِّ شَیۡءٍ ؕ وَلَا تَکۡسِبُ کُلُّ نَفۡسٍ اِلَّا عَلَیۡہَا ۚ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ۚ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ١٦٤

কুল আগাইরাল্লা-হি আবগী রাব্বাওঁ ওয়া হুয়া রাব্বুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া লা-তাকছিবুকুল্লু নাফছিন ইল্লা-‘আলাইহা- ওয়া লা- তাঝিরু ওয়াঝিরাতুওঁবিঝরা উখরা- ছু ম্মা ইলা-রাব্বিকুম মারিজ‘উকুম ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন।

বলে দাও, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও প্রতিপালক সন্ধান করব, অথচ তিনি প্রতিটি জিনিসের মালিক? প্রত্যেক ব্যক্তি যা-কিছু করে, তার লাভ-ক্ষতি অন্য কারও উপর নয়, স্বয়ং তার উপরই বর্তায় এবং কোনও ভার-বহনকারী অন্য কারও ভার বহন করবে না। ১০০ পরিশেষে তোমার প্রতিপালকের কাছেই তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। তোমরা যে সব বিষয়ে মতভেদ করতে, তখন তিনি সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবেন।

তাফসীরঃ

১০০. কাফেরগণ কখনও কখনও মুসলিমদেরকে বলত, তোমরা আমাদের ধর্ম গ্রহণ করে নাও। তাতে যদি কোনও শাস্তি হয়, তবে তোমাদের শাস্তিও আমরা মাথা পেতে নেব, যেমন সূরা আনকাবূতে (২৯ : ১২) তাদের সে কথা বর্ণিত হয়েছে। এ আয়াত তাদের সে কথার উত্তরেই নাযিল হয়েছে। এর ভেতর এই মহা মূল্যবান শিক্ষা রয়েছে যে, প্রত্যেকের উচিত নিজের পরিণাম চিন্তা করা। অন্য কেউ তাকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। এই একই বিষয় সূরা বনী ইসরাঈল (১৭ : ১৫), সূরা ফাতির (৩৫ : ১৮), সূরা যুমার (৩৯ : ১৭) ও সূরা নাজম (৫৩ : ৩৮)-এও বর্ণিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সূরা নাজমে এটা আরও বিস্তারিতভাবে আসবে।
১৬৫

وَہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَکُمۡ خَلٰٓئِفَ الۡاَرۡضِ وَرَفَعَ بَعۡضَکُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَبۡلُوَکُمۡ فِیۡ مَاۤ اٰتٰکُمۡ ؕ  اِنَّ رَبَّکَ سَرِیۡعُ الۡعِقَابِ ۫ۖ  وَاِنَّہٗ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١٦٥

ওয়া হুওয়াল্লাযী জা‘আলাকুম খালাইফাল আরদিওয়ারাফা‘আ বা‘দাকুম ফাওকা বা‘দিন দারাজা-তিল লিইয়াবলুওয়াকুম ফী মাআ-তাকুম ইন্না রাব্বাকা ছারী‘উল ‘ইকা-বি ওয়া ইন্নাহূলাগাফূরুর রাহীম।

এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি পৃথিবীতে তোমাদের কতককে কতকের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং কতককে কতকের উপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয়, তোমার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তিদাতা এবং নিশ্চয়ই, তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।