সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল জুমুআহ (الـجـمـعـة) | সম্মেলন/শুক্রবার

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یُسَبِّحُ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ الۡمَلِکِ الۡقُدُّوۡسِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ١

ইউছাব্বিহু লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিলমালিকিলকুদ্দূছিল ‘আঝঝিল হাকীম।

যা কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যিনি বাদশাহ, পবিত্রতার অধিকারী, পরাক্রমশালী; প্রজ্ঞাময়।

ہُوَ الَّذِیۡ بَعَثَ فِی الۡاُمِّیّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡہُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَیُزَکِّیۡہِمۡ وَیُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ ٭  وَاِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ٢

হুওয়াল্লাযী বা‘আছা ফিল উম্মিইয়ীনা রাছূলাম মিনহুম ইয়াতলূ‘আলাইহিম আ-য়া-তিহী ওয়া ইউঝাক্কীহিম ওয়া ইউ‘আলিলমুহুমুল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া ইন কা-নূমিন কাবলু লাফী দালা-লিম্মুবীন।

তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমতের শিক্ষা দেবে, যদিও তারা এর আগে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত ছিল।

তাফসীরঃ

১. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠানোর যে চারটি উদ্দেশ্য এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, এগুলিই পূর্বে সূরা বাকারা (২ : ১২৯) ও সূরা আলে ইমরানেও (৩ : ১৬৩) উল্লেখ করা হয়েছে।

وَّاٰخَرِیۡنَ مِنۡہُمۡ لَمَّا یَلۡحَقُوۡا بِہِمۡ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٣

ওয়া আ-খারীনা মিনহুম লাম্মা-ইয়ালহাকূবিহিম ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

এবং (এ রাসূলকে যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে) তাদের মধ্যে আরও কিছু লোক আছে, যারা এখনও তাদের সাথে এসে যোগ দেয়নি এবং তিনি অতি ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

২. এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেবল সেই আরববাসীর জন্যই রাসূল করে পাঠানো হয়নি, যারা তাঁর আমলে বর্তমান ছিল: বরং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সারা বিশ্বের সমস্ত মানুষের জন্য রাসূল হয়ে এসেছেন।

ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ٤

যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশূউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।

এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা এটা দান করেন। তিনি মহা অনুগ্রহশীল।

তাফসীরঃ

৩. ইয়াহুদীদের কামনা ছিল শেষ নবী যেন তাদেরই মধ্যে অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের মধ্যে আসেন আর আরবের মূর্তিপূজারীরা বলত, আল্লাহ তাআলার যদি কোন নবী পাঠানোর দরকার হত, তবে আমাদের বড়-বড় নেতাদের মধ্য হতেই কাউকে বেছে নিলেন না কেন? (দেখুন সূরা যুখরুফ, ৪৩ : ৩১)। আল্লাহ তাআলা বলছেন, নবুওয়াত ও রিসালাত আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকেই দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে অন্য কারও কোনও রকম হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

مَثَلُ الَّذِیۡنَ حُمِّلُوا التَّوۡرٰىۃَ ثُمَّ لَمۡ یَحۡمِلُوۡہَا کَمَثَلِ الۡحِمَارِ یَحۡمِلُ اَسۡفَارًا ؕ بِئۡسَ مَثَلُ الۡقَوۡمِ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٥

মাছালুল্লাযীনা হুম্মিলুত্তাওরা-তা ছুম্মা লাম ইয়াহমিলূহা-কামাছালিল হিমা-রি ইয়াহমিলুআছফা-রান বি’ছা মাছালুল কাওমিল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

যাদের উপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা সে ভার বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধা, যে বহু কিতাব বয়ে রেখেছে। যারা আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করে তাদের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ! আল্লাহ এরূপ জালেম লোকদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ তাওরাতের বিধানাবলী পালন করার যে দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল, তারা তা আদায় করেনি। শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনার হুকুমও তার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তারা তাঁর উপর ঈমান আনেনি।

قُلۡ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ ہَادُوۡۤا اِنۡ زَعَمۡتُمۡ اَنَّکُمۡ اَوۡلِیَآءُ لِلّٰہِ مِنۡ دُوۡنِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الۡمَوۡتَ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٦

কুল ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা হা-দূ ইন ঝা‘আমতুম আন্নাকুম আওলিয়াউ লিল্লা-হি মিন দূনিন্না-ছি ফাতামান্নাউল মাওতা ইন কুনতুম সা-দিকীন।

(হে রাসূল!) বল হে ইয়াহূদীগণ, যদি তোমাদের দাবি এই হয় যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানুষ নয়। তবে মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

তাফসীরঃ

৫. এই একই কথা সূরা বাকারায়ও বলা হয়েছে (২ : ৯৫)। ইয়াহুদীদের জন্য এটা খুবই সহজ চ্যালেঞ্জ ছিল। তাদের পক্ষে সামনে এসে একথা বলে দেওয়া কিছু কঠিন ছিল না যে, ‘আমরা মৃত্যু কামনা করছি’। কিন্তু তাদের কেউ একথা বলার জন্য সামনে আসল না। কারণ তারা জানত, এ চ্যালেঞ্জ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে। কাজেই মৃত্যু কামনা করলে তা পূরণে দেরি হবে না, সঙ্গে-সঙ্গেই তাদের মরতে হবে।

وَلَا یَتَمَنَّوۡنَہٗۤ اَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِالظّٰلِمِیۡنَ ٧

ওয়ালা-ইয়াতামান্নাওনাহূ আবাদাম বিমা-কাদ্দামাত আইদীহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিজ্জা-লিমীন।

কিন্তু তারা নিজ হাতে যা সামনে পাঠিয়েছে, তার কারণে তারা কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ ওই জালেমদেরকে ভালোভাবেই জানেন।

قُلۡ اِنَّ الۡمَوۡتَ الَّذِیۡ تَفِرُّوۡنَ مِنۡہُ فَاِنَّہٗ مُلٰقِیۡکُمۡ ثُمَّ تُرَدُّوۡنَ اِلٰی عٰلِمِ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ٨

কুল ইন্নাল মাওতাল্লাযী তাফিররূনা মিনহু ফাইন্নাহূমুলা-কীকুম ছু ম্মা তুরাদ্দূনা ইলা-‘আলিমিল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

বল, তোমরা যে মৃত্যু হতে পালাচ্ছ, তা তোমাদের সাথে সাক্ষাত করবেই। অতঃপর তোমাদেরকে তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার) কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যিনি সমস্ত গুপ্ত ও প্রকাশ্য সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞাত। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা-কিছু তোমরা করতে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰہِ وَذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٩

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-নূদিয়া লিসসালা-তি মিইঁ ইয়াওমিল জুমু‘আতি ফাছ‘আও ইলা-যিকরিল্লা-হি ওয়া যারুল বাই‘আ যা-লিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন।

হে মুমিনগণ! জুম‘আর দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

তাফসীরঃ

৬. জুমু‘আর প্রথম আযানের পর জুমু‘আর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া অন্য কোন কাজ জায়েয নেই। এমনিভাবে জুমু‘আর নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেচাকেনা করাও জায়েয নয়। আল্লাহর যিকির দ্বারা খুতবা ও নামায বোঝানো হয়েছে।
১০

فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانۡتَشِرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَابۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ وَاذۡکُرُوا اللّٰہَ کَثِیۡرًا لَّعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ١۰

ফাইযা- কুদিয়াতিসসালা-তুফানতাশিরূ ফিল আরদি ওয়াবতাগূমিন ফাদলিল্লা -হি ওয়াযকুরুল্লা-হা কাছীরাল লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

অতঃপর নামায শেষ হয়ে গেলে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর, এবং আল্লাহকে স্মরণ কর বেশি বেশি যাতে তোমরা সফলকাম হও।

তাফসীরঃ

৭. পেছনে বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে, কুরআন মাজীদের পরিভাষায় আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান দ্বারা ব্যবসা বা অন্য কোন উপায়ে জীবিকা উপার্জনকে বোঝানো হয়। সুতরাং আয়াতের অর্থ হল, আযানের পর বেচাকেনার উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল জুমুআর নামায শেষ হলে তা তুলে নেওয়া হয়। ফলে বেচাকেনা জায়েয হয়ে যায়।
১১

وَاِذَا رَاَوۡا تِجَارَۃً اَوۡ لَہۡوَۨا انۡفَضُّوۡۤا اِلَیۡہَا وَتَرَکُوۡکَ قَآئِمًا ؕ  قُلۡ مَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ مِّنَ اللَّہۡوِ وَمِنَ التِّجَارَۃِ ؕ  وَاللّٰہُ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ٪ ١١

ওয়া ইযা-রাআও তিজা-রাতান আও লাহওয়ানিনফাদ্দূ ইলাইহা-ওয়া তারাকূকাকাইমা- কুল মা-‘ইনদাল্লা-হি খাইরুম মিনাল্লাহবিওয়া মিনাত্তিজা-রাতি ওয়াল্লা-হু খাইরুর রা-ঝিকীন।

কতক লোক যখন ব্যবসায় অথবা কোন খেলা দেখল, তখন তোমাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সে দিকে ছুটে গেল। বলে দাও, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ব্যবসা ও খেলা অপেক্ষা অনেক শ্রেয়। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।

তাফসীরঃ

৮. এটা তো ছিল সাহাবায়ে কিরামের কারও কারও প্রথমদিকের কথা। কিন্তু এই সতর্কীকরণের পর তাদের জীবনে যে পরিবর্তন এসেছিল, সে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার সাক্ষ্য হল لَّا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَّلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَإِقَامِ الصَّلٰوةِ وَإِيْتَآءِ الزَّكٰوةِ ـ ‘তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় হতে বিরত রাখে না। (সূরা নূর ২৪ : ৩৭) -অনুবাদক