সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ক্বামার (الـقمـر) | চন্দ্র

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِقۡتَرَبَتِ السَّاعَۃُ وَانۡشَقَّ الۡقَمَرُ ١

ইকতারাবাতিছছা-‘আতুওয়ানশাক্কাল কামার।

কিয়ামত কাছে এসে গেছে এবং চাঁদ ফেটে গেছে।

তাফসীরঃ

১. কিয়ামতের অন্যতম একটি আলামত হল চাঁদের দু’ টুকরো হওয়া। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এ মুজিযার প্রকাশ ঘটেছিল। ঘটনার বিবরণ এই যে, এক চাঁদনি রাতে মক্কা মুকাররমার একদল কাফের মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি মুজিযা দাবি করল। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে এই মহা বিস্ময়কর মুজিযা প্রকাশ করলেন যে, চাঁদ দু’টুকরো হয়ে গেল। এক টুকরো চলে গেল পশ্চিম দিকে, অন্য টুকরো পূর্ব দিকে। উভয়ের মাঝখানে পাহাড়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, ‘দেখে নাও’। উপস্থিত সকলে খোলা চোখে এ বিস্ময়কর দৃশ্য দেখে নিল। তারপর আবার উভয় টুকরো আপন স্থানে এসে মিলে গেল। উপস্থিত কাফেরগণের পক্ষে তো চাক্ষুষ দেখা এ বিষয়টাকে অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না, কিন্তু তারা এই বলে মুখ ফিরিয়ে নিল যে, এটা একটা যাদু। পরবর্তীতে বাহির থেকে যেসব কাফেলা মক্কা মুকাররমায় এসেছে, তারাও সাক্ষ্য দিয়েছে যে, তারা চাঁদকে দু’টুকরো হতে দেখেছে। ভারতের ‘তারীখণ্ডই-ফিরিশতা’ নামক গ্রন্থেও আছে যে, ‘গোয়ালিয়র’-এর রাজা নিজে চাঁদের দু’টুকরো হওয়ার ব্যাপারটা দেখেছিলেন।

وَاِنۡ یَّرَوۡا اٰیَۃً یُّعۡرِضُوۡا وَیَقُوۡلُوۡا سِحۡرٌ مُّسۡتَمِرٌّ ٢

ওয়া ইয়ঁইয়ারাও আ-য়াতাইঁ ইউ‘রিদূ ওয়া ইয়াকূলূছিহরুম মুছতামির।

(তাদের অবস্থা হল), তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো এক চলমান যাদু।

তাফসীরঃ

২. এর এক অর্থ হতে পারে এই যে, এ রকমের যাদু বহুকাল চালু আছে। দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, এটা এমন এক যাদু, যার প্রভাব শীঘ্রই খতম হয়ে যাবে।

وَکَذَّبُوۡا وَاتَّبَعُوۡۤا اَہۡوَآءَہُمۡ وَکُلُّ اَمۡرٍ مُّسۡتَقِرٌّ ٣

ওয়াকাযযাবূওয়াত্তাবা‘ঊআহওয়াআহুম ওয়াকুল্লুআমরিম মুছতাকির।

তারা প্রত্যাখ্যান করল এবং নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুগামী হল। প্রতিটি বিষয় শেষ পর্যন্ত এক পরিণতিতে পৌঁছবেই।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ প্রতিটি কাজেরই একটা পরিণাম থাকে। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা-কিছু বলছেন এবং যা-কিছু বলছে কাফেরগণ, তার পরিণাম শীঘ্রই জানা যাবে।

وَلَقَدۡ جَآءَہُمۡ مِّنَ الۡاَنۡۢبَآءِ مَا فِیۡہِ مُزۡدَجَرٌ ۙ ٤

ওয়া লাকাদ জাআহুম মিনাল আমবাই মা-ফীহি মুঝদাজার।

এবং তাদের (অর্থাৎ অতীত জাতিসমূহের) কাছে এমন সব সংবাদ পৌঁছেছিল, যার ভেতর সতর্কবাণী ছিল

حِکۡمَۃٌۢ بَالِغَۃٌ فَمَا تُغۡنِ النُّذُرُ ۙ ٥

হিকমাতুম বা-লিগাতুন ফামা-তুগনিন নুযুর।

এমন জ্ঞানগর্ভ কথা, যা হৃদয়ে পৌঁছে যায়। তা সত্ত্বেও সতর্কবাণীসমূহ তাদের কোন কাজে আসেনি।

فَتَوَلَّ عَنۡہُمۡ ۘ  یَوۡمَ یَدۡعُ الدَّاعِ اِلٰی شَیۡءٍ نُّکُرٍ ۙ ٦

ফাতাওয়াল্লা ‘আনহুম । ইয়াওমা ইয়াদ‘উদ্দা-‘ই ইলা-শাইয়িন নুকুর।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমিও তাদেরকে অগ্রাহ্য কর। যে দিন আহ্বানকারী আহ্বান করবে এক অপ্রীতিকর জিনিসের দিকে,

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ আপনি যেহেতু তাবলীগের দায়িত্ব পালন করছেন, তাই তাদের আচার-আচরণে বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হবেন না।

خُشَّعًا اَبۡصَارُہُمۡ یَخۡرُجُوۡنَ مِنَ الۡاَجۡدَاثِ کَاَنَّہُمۡ جَرَادٌ مُّنۡتَشِرٌ ۙ ٧

খুশশা‘আন আবসা-রুহুম ইয়াখরুজূনা মিনাল আজদা-ছিকাআন্নাহুম জারা-দুম মুনতাশির।

সে দিন তারা অবনমিত চোখে কবর থেকে এভাবে বের হয়ে আসবে, যেন চারদিকে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল

مُّہۡطِعِیۡنَ اِلَی الدَّاعِ ؕ یَقُوۡلُ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا یَوۡمٌ عَسِرٌ ٨

মুহতি‘ঈনা ইলাদ্দা-‘ই ইয়াকূলুল কা-ফিরূনা হা-যা-ইয়াওমুন ‘আছির।

ধাবমান থাকবে সেই আহ্বানকারীর দিকে। এই কাফেরগণই (যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করত) বলবে, এটা তো অতি কঠিন দিন।

کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ فَکَذَّبُوۡا عَبۡدَنَا وَقَالُوۡا مَجۡنُوۡنٌ وَّازۡدُجِرَ ٩

কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমু নূহিন ফাকাযযাবূ ‘আবদানা-ওয়াকা-লূ মাজনূনুওঁ ওয়াঝদুজির।

তাদের আগে নূহের সম্প্রদায়ও অবিশ্বাস করেছিল। তারা আমার বান্দাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল এবং বলল, সে একজন উন্মাদ এবং তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছিল।
১০

فَدَعَا رَبَّہٗۤ اَنِّیۡ مَغۡلُوۡبٌ فَانۡتَصِرۡ ١۰

ফাদা‘আ-রাব্বাহূআন্নী মাগলূবুন ফানতাসির ।

ফলে সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলল, আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। এবার আপনিই ব্যবস্থা নিন।
১১

فَفَتَحۡنَاۤ اَبۡوَابَ السَّمَآءِ بِمَآءٍ مُّنۡہَمِرٍ ۫ۖ ١١

ফাফাতাহনাআবওয়া-বাছ ছামাই বিমাইম মুনহামির।

সুতরাং আমি ভেঙ্গে নামা পানি দ্বারা আকাশের দুয়ার খুলে দিলাম।
১২

وَّفَجَّرۡنَا الۡاَرۡضَ عُیُوۡنًا فَالۡتَقَی الۡمَآءُ عَلٰۤی اَمۡرٍ قَدۡ قُدِرَ ۚ ١٢

ওয়া ফাজ্জারনাল আরদা ‘উইঊনান ফালতাকাল মাউ ‘আলাআমরিন কাদ কুদির।

এবং ভূমিকে ফাটিয়ে প্রস্রবণে পরিণত করলাম আর এভাবে (উভয় প্রকারের) সমুদয় পানি মিলে গেল এক স্থিরীকৃত কাজের জন্য।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ আকাশ থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি নামল এবং ভূমি ফেটেও পানি উৎসারিত হল। এভাবে উভয় রকমের পানি মিলে মহা প্লাবনের সৃষ্টি হল, যা দ্বারা সে সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত স্থিরীকৃত ছিল। তাদের বিস্তারিত বৃত্তান্তের জন্য দেখুন সূরা হুদ (১১ : ৪০) ও সূরা মুমিনূন (২৩ : ২৭)।
১৩

وَحَمَلۡنٰہُ عَلٰی ذَاتِ اَلۡوَاحٍ وَّدُسُرٍ ۙ ١٣

ওয়া হামালনা-হু ‘আলা-যা-তি আলওয়া-হিওঁ ওয়াদুছুর।

এবং আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক তক্তা ও কীলক-নির্মিত নৌকায়,
১৪

تَجۡرِیۡ بِاَعۡیُنِنَا ۚ جَزَآءً لِّمَنۡ کَانَ کُفِرَ ١٤

তাজরী বিআ‘ইউনিনা- জাঝাআল লিমান কা-না কুফির।

যা চলছিল আমার তত্ত্বাবধানে, যার অকৃতজ্ঞতা করা হয়েছিল তার (অর্থাৎ সেই রাসূলের) পক্ষে বদলা গ্রহণের জন্য।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ হযরত নূহ (আ.) ছিলেন তাঁর কওমের জন্য আল্লাহ তাআলার এক মহা নিয়ামত। কিন্তু তারা এ নি‘আমতের কদর করেনি। তাকে প্রত্যাখ্যান করে, তাঁর দাওয়াতকে অগ্রাহ্য করে তারা চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছিল, তারই বদলা নেওয়ার জন্য তাদেরকে মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত করা হয়েছিল। -অনুবাদক
১৫

وَلَقَدۡ تَّرَکۡنٰہَاۤ اٰیَۃً فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ١٥

ওয়া লাকাদ তারাকনা-হাআ-য়াতান ফাহাল মিম মুদ্দাকির।

আমি একে বানিয়ে দিয়েছি এক নিদর্শন। আছে কি কেউ যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
১৬

فَکَیۡفَ کَانَ عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ١٦

ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়া নুযুর।

সুতরাং চিন্তা করে দেখ, কেমন ছিল আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণী।
১৭

وَلَقَدۡ یَسَّرۡنَا الۡقُرۡاٰنَ لِلذِّکۡرِ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ١٧

ওয়ালাকাদ ইয়াছছারনাল কুরআ-না লিযযি করি ফাহাল মিম মুদ্দাকির।

বস্তুত আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কি কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
১৮

کَذَّبَتۡ عَادٌ فَکَیۡفَ کَانَ عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ١٨

কাযযাবাত ‘আ-দুন ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়া নুযুর।

আদ জাতিও অবিশ্বাস করেছিল। সুতরাং দেখে নাও, কেমন ছিল আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণী।
১৯

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ رِیۡحًا صَرۡصَرًا فِیۡ یَوۡمِ نَحۡسٍ مُّسۡتَمِرٍّ ۙ ١٩

ইন্নাআরছালনা-‘আলাইহিম রীহান সারসারান ফী ইয়াওমি নাহছিম মুছতামির।

আমি তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া একটানা অশুভ দিনে।

তাফসীরঃ

৭. বিস্তারিত জ্ঞাতার্থে দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৬৫)।
২০

تَنۡزِعُ النَّاسَ ۙ کَاَنَّہُمۡ اَعۡجَازُ نَخۡلٍ مُّنۡقَعِرٍ ٢۰

তানঝি‘উন্না-ছা কাআন্নাহুম আ‘জা-ঝুনাখলিম মুনকা‘ইর।

যা মানুষকে উপড়ে ফেলে দিচ্ছিল উৎপাটিত খেজুর কাণ্ডের মত।
২১

فَکَیۡفَ کَانَ عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ٢١

ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়া নুযুর।

চিন্তা করে দেখ, কেমন ছিল আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণী।
২২

وَلَقَدۡ یَسَّرۡنَا الۡقُرۡاٰنَ لِلذِّکۡرِ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ٪ ٢٢

ওয়া লাকাদ ইয়াছছারনাল কুরআ-না লিযযি করি ফাহাল মিম মুদ্দাকির।

বস্তুত আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কি কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
২৩

کَذَّبَتۡ ثَمُوۡدُ بِالنُّذُرِ ٢٣

কাযযাবাত ছামূদুবিন্নুযুর।

ছামুদ জাতিও সতর্ককারীদেরকে অবিশ্বাস করেছিল।
২৪

فَقَالُوۡۤا اَبَشَرًا مِّنَّا وَاحِدًا نَّتَّبِعُہٗۤ ۙ اِنَّاۤ اِذًا لَّفِیۡ ضَلٰلٍ وَّسُعُرٍ ٢٤

ফাকা-লূআবাশারাম মিন্না-ওয়া-হিদান নাত্তাবি‘উহূ ইন্নাইযাল্লাফী দালা-লিওঁ ওয়াছু‘উর।

সুতরাং তারা বলতে লাগল, আমরা কি আমাদেরই মধ্যকার একা এক ব্যক্তির অনুগামী হব? এরূপ করলে নিঃসন্দেহে আমরা ঘোর বিভ্রান্তি ও উন্মাদগ্রস্ততায় নিপতিত হব।
২৫

ءَاُلۡقِیَ الذِّکۡرُ عَلَیۡہِ مِنۡۢ بَیۡنِنَا بَلۡ ہُوَ کَذَّابٌ اَشِرٌ ٢٥

আ উলকিয়াযযিকরু ‘আলাইহি মিম বাইনিনা-বাল হুওয়া কাযযা-বুন আশির।

আমাদের এত লোকের মধ্যে কি কেবল তার উপর উপদেশবাণী নাযিল করা হল? না; বরং সে একজন চরম মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।
২৬

سَیَعۡلَمُوۡنَ غَدًا مَّنِ الۡکَذَّابُ الۡاَشِرُ ٢٦

ছাইয়া‘লামূনা গাদাম মানিল কাযযা-বুল আশির।

(আমি নবী সালেহ আলাইহিস সালামকে বললাম,) আগামীকালই তারা জানতে পারবে, কে চরম মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।
২৭

اِنَّا مُرۡسِلُوا النَّاقَۃِ فِتۡنَۃً لَّہُمۡ فَارۡتَقِبۡہُمۡ وَاصۡطَبِرۡ ۫ ٢٧

ইন্না-মুরছিলুন্না-কাতি ফিতনাতাল্লাহুম ফারতাকিবহুম ওয়াসতাবির।

আমি তাদের পরীক্ষার্থে তাদের কাছে একটি উট পাঠাচ্ছি। সুতরাং তুমি তাদেরকে দেখতে থাক এবং সবর অবলম্বন কর।
২৮

وَنَبِّئۡہُمۡ اَنَّ الۡمَآءَ قِسۡمَۃٌۢ بَیۡنَہُمۡ ۚ کُلُّ شِرۡبٍ مُّحۡتَضَرٌ ٢٨

ওয়া নাব্বি’হুম আন্নাল মাআ কিছমাতুম বাইনাহুম কুল্লুশিরবিম মুহতাদার।

এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, (কুয়ার) পানি তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। পানির প্রতি পালায় উপস্থিত হবে তার হকদার।

তাফসীরঃ

৮. এ উটনীটি সৃষ্টি করা হয়েছিল তাদেরই দাবি অনুযায়ী। অতঃপর তাদেরকে বলা হয়েছিল, মহল্লার কুয়া থেকে একদিন উটনীটি পানি পান করবে এবং একদিন মহল্লাবাসী। এভাবে পালা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে কুয়া থেকে একের পালায় অন্যে পানি পান না করে। কিন্তু ছামুদ জাতি এ নিয়ম রক্ষা করেনি। বিস্তারিত দেখুন সূরা আরাফ (৭ : ৭৩) ও তার টীকা।
২৯

فَنَادَوۡا صَاحِبَہُمۡ فَتَعَاطٰی فَعَقَرَ ٢٩

ফানা-দাও সা-হিবাহুম ফাত‘আ-তা-ফা‘আকার।

অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে ডাকল। সুতরাং সে হাত বাড়াল এবং (উটনীটিকে) হত্যা করল।

তাফসীরঃ

৯. বর্ণিত হয়েছে, লোকটির নাম ছিল কুদার। সে-ই উটনীটি হত্যা করেছিল।
৩০

فَکَیۡفَ کَانَ عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ٣۰

ফাকাইফা কা-না ‘আযা-বী ওয়ানুযুর।

চিন্তা করে দেখ, কেমন ছিল আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণী।
৩১

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَکَانُوۡا کَہَشِیۡمِ الۡمُحۡتَظِرِ ٣١

ইন্নাআরছালনা-‘আলাইহিম সাইহাতাওঁ ওয়া হিদাতান ফাকা-নূকাহাশীমিল মুহতাজির।

আমি তাদের উপর পাঠালাম একটি মাত্র মহানাদ। ফলে তারা হয়ে গেল খোয়াড় প্রস্তুতকারীর শুষ্ক বিচূর্ণ কাঁটার মতো। ১০

তাফসীরঃ

১০. المحتظر যে ব্যক্তি খোয়াড় তৈরি করে। আরববাসী ছাগলের সুরক্ষার জন্য কাঁটাদার গাছের ডালপালা দিয়ে খোয়াড় তৈরি করত, যাতে হিংস্র পশু তা শিকার করে না নিয়ে যায়। সেই ডালপালা থেকে যা শুকিয়ে নিচে পড়ত এবং ছাগলের পায়ে দলিত হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত هشيم বলে তাকেই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহর আযাবে ছামূদ জাতি দলিত-মথিত হয়ে এরকমই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। -অনুবাদক
৩২

وَلَقَدۡ یَسَّرۡنَا الۡقُرۡاٰنَ لِلذِّکۡرِ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ٣٢

ওয়া লাকাদ ইয়াছছারনাল কুরআ-না লিযযি করি ফাহাল মিম মুদ্দাকির।

বস্তুত আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কি কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
৩৩

کَذَّبَتۡ قَوۡمُ لُوۡطٍۭ بِالنُّذُرِ ٣٣

কাযযাবাত কাওমুলূতিম বিননুযুর।

লূতের সম্প্রদায়(ও) সতর্ককারীদেরকে অস্বীকার করল।
৩৪

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ حَاصِبًا اِلَّاۤ اٰلَ لُوۡطٍ ؕ  نَجَّیۡنٰہُمۡ بِسَحَرٍ ۙ ٣٤

ইন্নাআরছালনা-‘আলাইহিম হা-সিবান ইল্লাআ-লা লূতিন নাজ্জাইনা-হুম বিছাহার।

আমি তাদের উপর বর্ষণ করলাম পাথরের বৃষ্টি, লূতের পরিবারবর্গ ছাড়া, যাদেরকে আমি সাহরীর সময় রক্ষা করেছিলাম।
৩৫

نِّعۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِنَا ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ مَنۡ شَکَرَ ٣٥

নি‘মাতাম মিন ‘ইনদিনা- কাযা-লিকা নাজঝী মান শাকার।

এটা ছিল আমার পক্ষ থেকে এক নি‘আমত। যারা কৃতজ্ঞতা অবলম্বন করে আমি তাদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করি।
৩৬

وَلَقَدۡ اَنۡذَرَہُمۡ بَطۡشَتَنَا فَتَمَارَوۡا بِالنُّذُرِ ٣٦

ওয়ালা-কাদ আনযারাহুম বাতশাতানা-ফাতামা-রাও বিননুযুর।

লূত তাদেরকে আমার শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল, কিন্তু তারা সব রকম সতর্কবাণী নিয়ে বিতণ্ডা করতে থাকল,
৩৭

وَلَقَدۡ رَاوَدُوۡہُ عَنۡ ضَیۡفِہٖ فَطَمَسۡنَاۤ اَعۡیُنَہُمۡ فَذُوۡقُوۡا عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ٣٧

ওয়া লাকাদ রা-ওয়াদূহু‘আনদাইফিহী ফাতামাছনাআ‘ইউনাহুম ফাযূকূ‘আযা-বী ওয়া নুযুর।

তারা লূতকে তার অতিথিদের ব্যাপারে ফুসলানোর চেষ্টা করল। ১১ ফলে আমি তাদের চোখ অন্ধ করে দিলাম। ‘আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণীর স্বাদ গ্রহণ কর।’

তাফসীরঃ

১১. এটা বিস্তারিতভাবে সূরা হুদে (১১ : ৭৮) গত হয়েছে। হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে কয়েকজন ফেরেশতা এসেছিলেন সুদর্শন কিশোর বেশে। তাঁর সম্প্রদায় সমকামের ব্যাধিতে লিপ্ত ছিল। তাই তারা হযরত লূত আলাইহিস সালামের কাছে দাবি করল, তিনি যেন অতিথিদেরকে তাদের হাতে ছেড়ে দেন, যাতে তারা তাদের বদ চাহিদা পূরণ করতে পারে। এখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাদের চোখে পর্দা ফেলে দিয়েছিলেন। ফলে তারা অতিথিদের পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি (আদ-দুররুল মানছুর)।
৩৮

وَلَقَدۡ صَبَّحَہُمۡ بُکۡرَۃً عَذَابٌ مُّسۡتَقِرٌّ ۚ ٣٨

ওয়া লাকাদ সাব্বাহাহুম বুকরাতান ‘আযা-বুমমুছতাকির।

ভোরবেলা তাদেরকে আঘাত করল, (একটানা) স্থায়ী শাস্তি।
৩৯

فَذُوۡقُوۡا عَذَابِیۡ وَنُذُرِ ٣٩

ফাযূকূ‘আযা-বী ওয়ানুযুর।

ভোগ কর আমার শাস্তি ও আমার সতর্কবাণীর মজা।
৪০

وَلَقَدۡ یَسَّرۡنَا الۡقُرۡاٰنَ لِلذِّکۡرِ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ٪ ٤۰

ওয়ালাকাদ ইয়াছছারনাল কুরআ-না লিযযি করি ফাহাল মিমমুদ্দাকির।

বস্তুত আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং আছে কি এমন কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
৪১

وَلَقَدۡ جَآءَ اٰلَ فِرۡعَوۡنَ النُّذُرُ ۚ ٤١

ওয়া লাকাদ জাআ আ-লা ফির‘আওনাননুযুর।

ফির‘আউনের খান্দানের কাছেও সতর্কবাণী এসেছিল।
৪২

کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا کُلِّہَا فَاَخَذۡنٰہُمۡ اَخۡذَ عَزِیۡزٍ مُّقۡتَدِرٍ ٤٢

কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-কুল্লিহা-ফাআখযনা -হুম আখযা ‘আঝীঝিমমুকতাদির।

তারা আমার সমস্ত নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করল। ফলে আমি তাদেরকে ধরলাম, যেমনটা হয়ে থাকে এক প্রচণ্ড শক্তিমানের ধরা। ১২

তাফসীরঃ

১২. সূরা হুদে বলা হয়েছে, তাদের গোটা জনপদকে উল্টিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
৪৩

اَکُفَّارُکُمۡ خَیۡرٌ مِّنۡ اُولٰٓئِکُمۡ اَمۡ لَکُمۡ بَرَآءَۃٌ فِی الزُّبُرِ ۚ ٤٣

আকুফফা-রুকুম খাইরুম মিন উলাইকুম আম লাকুম বারাআতুন ফিঝঝুবুর।

তোমাদের মধ্যকার কাফেরগণ কি তাদের চেয়ে উত্তম, নাকি তোমাদের জন্য (আল্লাহর) কিতাবসমূহে কোন ছাড়পত্র লেখা আছে? ১৩

তাফসীরঃ

১৩. অতীত জাতিসমূহের বৃত্তান্ত উল্লেখ করার পর মক্কাবাসী কাফেরদেরকে বলা হচ্ছে, যেসব জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে, তোমাদের মধ্যে তাদের চেয়ে ভালো কোন দিক আছে, যার প্রতি লক্ষ করে তোমাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করা হবে? নাকি তোমাদের সম্পর্কে কোন আসমানী কিতাবে ছাড়পত্র লিখে দেওয়া হয়েছে কিংবা ওয়াদা করা হয়েছে যে, তোমাদের কোন কাজকে অপরাধ গণ্য করা হবে না?
৪৪

اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ نَحۡنُ جَمِیۡعٌ مُّنۡتَصِرٌ ٤٤

আম ইয়াকূলূনা নাহনুজামী‘উমমুনতাসির।

নাকি তারা বলে, আমরা আত্মরক্ষায় সমর্থ এক সংঘবদ্ধ দল? ১৪

তাফসীরঃ

১৪. মক্কা মুকাররমার কাফেরদেরকে যখন আল্লাহ তাআলার আযাব সম্পর্কে ভয় দেখানো হত, তখন তারা বলত, আমাদের দল বড় শক্তিশালী। কেউ আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
৪৫

سَیُہۡزَمُ الۡجَمۡعُ وَیُوَلُّوۡنَ الدُّبُرَ ٤٥

ছাইউহঝামুল জাম‘উ ওয়া ইউওয়াললূনাদ্দুবুর।

(সত্য কথা এই যে,) এই দল অচিরেই পরাস্ত হবে এবং তারা পিছন ফিরে পালাবে। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. এ ভবিষ্যদ্বাণীটি এমন এক সময় করা হয়েছিল, যখন কাফেরদের বিপরীতে মুমিনগণ খুবই কমজোর ছিল। এমনকি নিজেরা কাফেরদের অত্যাচার থেকে আত্মরক্ষা পর্যন্ত করতে পারত না, কিন্তু জগত দেখতে পেয়েছে, কিভাবে আল্লাহ তাআলার এ ভবিষ্যদ্বাণী বদরের রণাঙ্গনে অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে। এ সময় মক্কা মুকাররমার বড়-বড় কাফের ও কাফেরদের সর্দারগণ মুমিনদের হাতে কতল হয়েছে, তাদের সত্তরজন গ্রেফতার হয়েছে এবং বাকিরা জান নিয়ে পালিয়েছে।
৪৬

بَلِ السَّاعَۃُ مَوۡعِدُہُمۡ وَالسَّاعَۃُ اَدۡہٰی وَاَمَرُّ ٤٦

বালিছ ছা-‘আতুমাও‘ইদুহুম ওয়াছছা-‘আতুআদহা-ওয়া আমার।

(এতটুকুই নয়); বরং তাদের প্রকৃত প্রতিশ্রুত কাল তো কিয়ামত। কিয়ামত তো আরও বেশি কঠিন, অনেক বেশি তিক্ত।
৪৭

اِنَّ الۡمُجۡرِمِیۡنَ فِیۡ ضَلٰلٍ وَّسُعُرٍ ۘ ٤٧

ইন্নাল মুজরিমীনা ফী দালা-লিওঁ ওয়াছু‘উর।

বস্তুত এসব অপরাধী বিভ্রান্তি ও বিকারগ্রস্ততায় ১৬ পতিত রয়েছে।

তাফসীরঃ

১৬. পূর্বে ২৪ নং আয়াতে ছামূদ জাতির যে কথা উদ্ধৃত হয়েছে, এটা তার উত্তর। মক্কা মুকাররমার কাফেরগণও তাদের মত কথা বলত। তাই তাদের সম্পর্কে একথা ইরশাদ হয়েছে।
৪৮

یَوۡمَ یُسۡحَبُوۡنَ فِی النَّارِ عَلٰی وُجُوۡہِہِمۡ ؕ ذُوۡقُوۡا مَسَّ سَقَرَ ٤٨

ইয়াওমা ইউছহাবূনা ফিন্না-রি ‘আলা-উজূহিহিম যূকূমাছছা ছাকার।

যে দিন তাদেরকে উপুড় করে আগুনের দিকে টেনে নেওয়া হবে (সে দিন তাদের চৈতন্য হবে এবং তাদেরকে বলা হবে), জাহান্নামের স্পর্শ-স্বাদ ভোগ কর।
৪৯

اِنَّا کُلَّ شَیۡءٍ خَلَقۡنٰہُ بِقَدَرٍ ٤٩

ইন্না-কুল্লা শাইয়িন খালাকনা-হু বিকাদার।

আমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছি মাপজোপের সাথে। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের পরিমাপ ও প্রতিটি কাজের একটা সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। সুতরাং কিয়ামতও তার জন্য স্থিরীকৃত সময়েই আসবে।
৫০

وَمَاۤ اَمۡرُنَاۤ اِلَّا وَاحِدَۃٌ کَلَمۡحٍۭ بِالۡبَصَرِ ٥۰

ওয়ামাআমরুনাইল্লা-ওয়া-হিদাতুন কালাম হিম বিলবাসার।

আমার আদেশ একবার মাত্র চোখের পাতা ফেলার মত (মুহূর্তের মধ্যে পূর্ণ) হয়ে যায়।
৫১

وَلَقَدۡ اَہۡلَکۡنَاۤ اَشۡیَاعَکُمۡ فَہَلۡ مِنۡ مُّدَّکِرٍ ٥١

ওয়া লাকাদ আহলাকনাআশইয়া-‘আকুম ফাহাল মিমমুদ্দাকির।

তোমাদের সহমত পোষণকারীদের আমি আগেই ধ্বংস করেছি। সুতরাং আছে কি কেউ, যে উপদেশ গ্রহণ করবে?
৫২

وَکُلُّ شَیۡءٍ فَعَلُوۡہُ فِی الزُّبُرِ ٥٢

ওয়া কুল্লুশাইয়িন ফা‘আলূহু ফিঝ ঝুবুর।

তারা যা-কিছু করেছে, সবই আমলনামায় আছে।
৫৩

وَکُلُّ صَغِیۡرٍ وَّکَبِیۡرٍ مُّسۡتَطَرٌ ٥٣

ওয়া কুল্লুসাগীরিওঁ ওয়া কাবীরিমমুছতাতার।

এবং প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয় লিপিবদ্ধ আছে।
৫৪

اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّنَہَرٍ ۙ ٥٤

ইন্নাল মুত্তাকীনা ফী জান্না-তিওঁ ওয়া নাহার।

তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তারা থাকবে উদ্যানরাজি ও নহরে
৫৫

فِیۡ مَقۡعَدِ صِدۡقٍ عِنۡدَ مَلِیۡکٍ مُّقۡتَدِرٍ ٪ ٥٥

ফী মাক‘আদি সিদকিন ‘ইনদা মালীকিমমুকতাদির।

সত্যিকারের মর্যাদাপূর্ণ আসনে, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহা সম্রাটের সান্নিধ্যে।
সূরা আল ক্বামার | মুসলিম বাংলা