সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হুজুরাত (الحُـجُـرات) | বাসগৃহসমুহ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُقَدِّمُوۡا بَیۡنَ یَدَیِ اللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাইল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উন ‘আলীম।

হে মুমিনগণ! (কোনও বিষয়ে) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের থেকে আগ বেড়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।

তাফসীরঃ

১. সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াত এক বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরবের বিভিন্ন গোত্র থেকে প্রতিনিধি দল আসত। তিনি প্রতিটি প্রতিনিধি দলের একজনকে ভবিষ্যতের জন্য তাদের গোত্রের আমীর বানিয়ে দিতেন। একবার তাঁর কাছে তামীম গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল আসল। তাদের মধ্যে কাকে গোত্রের আমীর বানানো হবে সে সম্পর্কে কোন কথা শুরু না হতেই বা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সম্বন্ধে পরামর্শ চাওয়ার আগেই হযরত আবু বকর সিদ্দীক ও হযরত উমর (রাযি.) নিজেদের পক্ষ হতে প্রস্তাবনা শুরু করে দিলেন। হযরত আবু বকর (রাযি.) এক ব্যক্তির নাম নিয়ে বললেন, তাকে আমীর বানানো হবে আর হযরত উমর (রাযি.) অন্য এক ব্যক্তির পক্ষে রায় দিলেন। তারপর উভয়ে আপন-আপন প্রস্তাবের সপক্ষে এভাবে যুক্তি-তর্ক শুরু করে দিলেন যে, তা কিছুটা বাক-বিতণ্ডার রূপ নিয়ে নিল এবং তাতে উভয়ের আওয়াজও চড়া হয়ে গেল। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম তিন আয়াত নাযিল হয়। প্রথম আয়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, যেসব বিষয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই কোন সিদ্ধান্ত নেবেন, সেসব বিষয়ে তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত পরামর্শ না চান, ততক্ষণ পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন জরুরী। যদি নিজেরা আগে বেড়ে কোন রায় স্থির করে নেওয়া হয় এবং তার পক্ষে যুক্তি-তর্কের অবতারণা বা তা মানানোর জন্য পীড়াপীড়ি করা হয়, তবে তা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আদবের খেলাফ কাজ হবে। যদিও প্রথম আয়াতটি এই বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এতে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ, যাতে এটা সকলের জন্য একটা মূলনীতি হয়ে যায়। মূলনীতিটির সারকথা হল, কোনও বিষয়েই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগে বেড়ে যাওয়া কোন মুসলিমের জন্য জায়েয নয়। এমনকি তার সঙ্গে যখন একত্রে চলাফেরা করা হবে, তখনও তার সামনে সামনে হাঁটা যাবে না। তাছাড়া জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি যে সীমারেখা স্থির করে দিয়েছেন তা অতিক্রম করার চেষ্টাও তার সঙ্গে বেয়াদবীর শামিল। কাজেই তা থেকেও বিরত থাকতে হবে। অতঃপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা থাকাকালে নিজ কণ্ঠস্বরকে তাঁর কণ্ঠস্বর অপেক্ষা উঁচু করা উচিত নয় এবং তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলতে হলে তাও উঁচু আওয়াজে বলা ঠিক নয়; বরং তাঁর মজলিসে নিজ কণ্ঠস্বর নিচু রাখার চেষ্টা করতে হবে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَرۡفَعُوۡۤا اَصۡوَاتَکُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ النَّبِیِّ وَلَا تَجۡہَرُوۡا لَہٗ بِالۡقَوۡلِ کَجَہۡرِ بَعۡضِکُمۡ لِبَعۡضٍ اَنۡ تَحۡبَطَ اَعۡمَالُکُمۡ وَاَنۡتُمۡ لَا تَشۡعُرُوۡنَ ٢

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা তারফা‘ঊআসওয়া-তাকুম ফাওকা সাওতিন্নাবিইয়ি ওয়ালা-তাজহারূলাহূবিলকাওলি কাজাহরি বা‘দিকুম লিবা‘দিন আন তাহবাতাআ‘মালুকুম ওয়া আনতুম লা-তাশ‘ঊরূন।

হে মুমিনগণ! নিজের আওয়াজকে নবীর আওয়াজ থেকে উঁচু করো না এবং তার সাথে কথা বলতে গিয়ে এমন জোরে বলো না, যেমন তোমরা একে অন্যের সাথে জোরে বলে থাক, পাছে তোমাদের কর্ম বাতিল হয়ে যায়, তোমাদের অজ্ঞাতসারে।

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَغُضُّوۡنَ اَصۡوَاتَہُمۡ عِنۡدَ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ امۡتَحَنَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ لِلتَّقۡوٰی ؕ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ٣

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াগুদ্দূনা আসওয়া-তাহুম ‘ইনদা রাছূলিল্লা-হি উলাইকাল্লাযীনাম তাহানাল্লাহু কুলূবাহুম লিত্তাকওয়া- লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন ‘আজীম।

জেনে রেখ, যারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখে, তারাই এমন লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ ভালোভাবে যাচাই করে তাকওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও মহা পুরস্কার।

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُنَادُوۡنَکَ مِنۡ وَّرَآءِ الۡحُجُرٰتِ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ ٤

ইন্নাল্লাযীনা ইউনা-দূনাকা মিওঁ ওরাইল হুজূরা-তি আকছারুহুম লা-ইয়া‘কিলূন।

(হে রাসূল!) তোমাকে যারা হুজরার বাইরে থেকে ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই বুদ্ধি নেই।

তাফসীরঃ

২. উপরে তামীম গোত্রের যে প্রতিনিধি দলের কথা বলা হল, তারা মদীনা মুনাওয়ারায় পৌঁছে ছিল দুপুর বেলা, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্রাম করছিলেন। তারা তাঁর সঙ্গে আচার-আচরণের আদব-কায়দা সম্পর্কে অবগত ছিল না। ফলে তাদের মধ্যে কিছু লোক ঘরের বাইরে থেকে তাঁকে ডাকতে শুরু করে দিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয় এবং এতে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, এভাবে ডাক দেওয়া আদবের পরিপন্থী।

وَلَوۡ اَنَّہُمۡ صَبَرُوۡا حَتّٰی تَخۡرُجَ اِلَیۡہِمۡ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٥

ওয়ালাও আন্নাহুম সাবারূহাত্তা-তাখরুজা ইলাইহিম লাকা-না খাইরাল্লাহুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।

তুমি নিজেই বাইরে বের হয়ে তাদের কাছে আসা পর্যন্ত যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত, সেটাই তাদের জন্য শ্রেয় হত। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ جَآءَکُمۡ فَاسِقٌۢ بِنَبَاٍ فَتَبَیَّنُوۡۤا اَنۡ تُصِیۡبُوۡا قَوۡمًۢا بِجَہَالَۃٍ فَتُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَا فَعَلۡتُمۡ نٰدِمِیۡنَ ٦

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইন জাআকুম ফা-ছিকু ম বিনাবাইন ফাতাবাইয়ানূআন তুসীবূকাওমাম বিজাহা-লাতিন ফাতুসবিহূ‘আলা-মা-ফা‘আলতুম না-দিমীন।

হে মুমিনগণ! কোন ফাসেক যদি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ নিয়ে আসে, তবে ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বস। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হয়।

তাফসীরঃ

৩. এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) ও অন্যান্য মুফাসসিরগণ একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটির সারমর্ম নিম্নরূপ, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাযি.)কে আরবের বিখ্যাত গোত্র বনু মুস্তালিকের কাছে যাকাত উসুল করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন তাদের কাছাকাছি পৌঁছলেন, দেখতে পেলেন লোকালয়ের বাইরে তাদের বহু লোক জড়ো হয়ে আছে। আসলে তারা এসেছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত দূত হিসেবে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। কিন্তু ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাযি.) মনে করলেন, তারা হামলা করার জন্য বের হয়ে এসেছে। কোন কোন বর্ণনায় আছে, তাঁর ও বনু মুস্তালিকের মধ্যে জাহেলী যুগে কিছুটা শত্রুতাও ছিল। তাই হযরত ওয়ালীদ (রাযি.)-এর ভয় হল তারা সেই পুরানো শত্রুতার জের ধরে তাকে আক্রমণ করবে। সুতরাং তিনি মহল্লায় প্রবেশ না করে সেখান থেকেই মদীনা মুনাওয়ারায় ফিরে আসলেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন, বনু মুস্তালিক যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খালেদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাযি.)কে ঘটনা তদন্ত করে দেখতে বললেন এবং নির্দেশ দিলেন, যদি প্রমাণিত হয় সত্যিই তারা অবাধ্যতা করেছে, তবে তাদের সাথে জিহাদ করবে। তদন্ত করে দেখা গেল, আসলে তারা অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হয়েছিল। যাকাত দিতে তারা আদৌ অস্বীকার করেনি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। উপরিউক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে কেউ কেউ বলেন, আয়াতে যে ফাসেক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, তার দ্বারা ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাযি.)কে বোঝানো হয়েছে। প্রশ্ন ওঠে যে, একজন সাহাবীকে ‘ফাসেক’ সাব্যস্ত করলে তা দ্বারা তো সাহাবায়ে কেরামের ‘আদালত’ (বিশ্বস্ততা)-এর বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, কোন কোন সাহাবীর দ্বারা কদাচিৎ গুনাহ হয়ে গেলেও তাদেরকে তাওবার তাওফীক দেওয়া হয়েছে। কাজেই তা দ্বারা সমষ্টিগতভাবে তাদের আদালত নষ্ট হয়ে যায় না। তবে বাস্তব কথা হল, এ ঘটনা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, প্রথমত তা সনদের দিক থেকে শক্তিশালী নয়, তাও আবার একেক বর্ণনা একেক রকমের। দ্বিতীয়ত এ ঘটনার ভিত্তিতে হযরত ওয়ালীদ (রাযি.)কে ফাসেক সাব্যস্ত করার যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ নেই। কেননা এ ঘটনায় তিনি বুঝে শুনে কোন মিথ্যা বলেননি। তিনি যা করেছিলেন তা কেবলই ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপারে আর এ রকম কাউকে ফাসেক বলা যেতে পারে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ব্যাপারটা হয়ত এ রকম হয়েছিল যে, হযরত ওয়ালীদ (রাযি.) যখন বনু মুস্তালিকের এলাকায় পৌঁছলেন আর ওদিকে গোত্রের বহু লোক সেখানে জড়ো হচ্ছিল, তখন কোন দুষ্ট লোক তাকে বলে থাকবে, এরা আপনার সাথে লড়বার জন্য জড়ো হয়েছে। আয়াতে সেই দুষ্ট লোকটাকেই ফাসেক বলা হয়েছে। আর হযরত ওয়ালীদ (রাযি.)কে সতর্ক করা হয়েছে যে, একা সেই দুষ্ট লোকটার দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ তাঁর ঠিক হয়নি। উচিত ছিল তার আগে বিষয়টা যাচাই করে নেওয়া। একটি রেওয়ায়াত দ্বারাও এ ব্যাখ্যার পক্ষে সমর্থন মেলে। হাফেজ ইবনে জারীর (রহ.) রেওয়ায়াতটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তাতে আছে, فحدثه الشيطان انهم يريدون قتله ‘শয়তান তাকে জানালো যে, তারা তাকে হত্যা করতে চায়’ (তাফসীরে ইবনে জারীর, ২২ খণ্ড, ২৮৬ পৃ.)। বোঝা যাচ্ছে, শয়তান কোন মানুষের বেশে এসে তাকে এই মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। কাজেই আয়াতের ‘ফাসেক’ শব্দটিকে অযথা একজন সাহাবীর উপর খাটানোর কী দরকার, যখন তিনি যা করেছিলেন সেটা কেবলই তার বুঝের ভুল ছিল? বরং শব্দটিকে যে সংবাদদাতা হযরত ওয়ালীদ (রাযি.)কে মিথ্যা সংবাদ দিয়েছিল তার উপর খাটানোই বেশি যুক্তিযুক্ত। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, কুরআন মাজীদের রীতি হল, আয়াতের শানে নুযুলে বিশেষ কোন ঘটনা থাকলেও তাতে ব্যবহৃত শব্দাবলী হয়ে থাকে সাধারণ, যাতে তা দ্বারা মূলনীতিরূপে কোন বিধান জানা যায়। এ আয়াতের সে সাধারণ বিধান হল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোন ফাসেক ব্যক্তির দেওয়া সংবাদের উপর আস্থা রাখা উচিত নয়, বিশেষত সে সংবাদের ফলে যদি কারও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ فِیۡکُمۡ رَسُوۡلَ اللّٰہِ ؕ  لَوۡ یُطِیۡعُکُمۡ فِیۡ کَثِیۡرٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ حَبَّبَ اِلَیۡکُمُ الۡاِیۡمَانَ وَزَیَّنَہٗ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ وَکَرَّہَ اِلَیۡکُمُ الۡکُفۡرَ وَالۡفُسُوۡقَ وَالۡعِصۡیَانَ ؕ  اُولٰٓئِکَ ہُمُ الرّٰشِدُوۡنَ ۙ ٧

ওয়া‘লামূআন্না ফীকুম রাছূলল্লা-হি লাও ইউতী‘উকুম ফী কাছীরিম মিনাল আমরি লা‘আনিত্তুম ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা হাব্বাবা ইলাইকুমুল ঈমা-না ওয়া ঝাইয়ানাহূফী কুলূবিকুম ওয়া কাররাহা ইলাইকুমুল কুফরা ওয়ালফুছূকা ওয়াল ‘ইসইয়া-না উলাইকা হুমুররাশিদূ ন।

ভালোভাবে জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল আছেন আর বহু বিষয়ে সে যদি তোমাদের কথা মেনে নেয়, তবে তোমরা নিজেরাই সঙ্কটে পড়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করেছেন এবং তাকে তোমাদের অন্তরে করে দিয়েছেন আকর্ষণীয়। আর তোমাদের কাছে কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে ঘৃণ্য বানিয়ে দিয়েছেন। এরূপ লোকেরাই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়েছে

তাফসীরঃ

৪. সূরার শুরুতে যে বিধান দেওয়া হয়েছিল এবং যার ব্যাখ্যা ১নং টীকায় গত হয়েছে, তার অর্থ এ নয় যে, সাহাবায়ে কেরাম কখনও কোনও বিষয়ে মত প্রকাশ করতে পারবেন না। বরং তাতে মত প্রকাশের পর তা মানার জন্য পীড়াপীড়ি করতেই নিষেধ করা হয়েছিল। এবার বলা হচ্ছে, প্রয়োজনস্থলে মতামত প্রকাশ দূষণীয় নয়। শুধু মনে রাখতে হবে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কারও মত অনুযায়ী কাজ করা জরুরি নয়। বরং তিনি বিচার-বিবেচনা করে যা ভালো মনে হয় সেই সিদ্ধান্ত দান করবেন। সে সিদ্ধান্ত তোমাদের মতামতের বিপরীত হলেও তোমাদের কর্তব্য তা খুশী মনে মেনে নেওয়া। কেননা তোমাদের প্রতিটি কথা গ্রহণ করে নিলে তাতে তোমাদের নিজেদেরই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যেমন হযরত ওয়ালীদ ইবনে উকবা (রাযি.)-এর ঘটনায় হয়েছে। তিনি তো মনে করেছিলেন বনু মুস্তালিক যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে গেছে, তাই তাঁর মত তো তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার পক্ষেই থাকবে, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মত অনুযায়ী কাজ করলে মুসলিমদের কত বড়ই না ক্ষতি হয়ে যেত। সুতরাং এর পরেই আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের প্রশংসা করে বলছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সঞ্চার করেছেন। তাই তারা আনুগত্যের এ নীতিই অনুসরণ করে থাকে।

فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَنِعۡمَۃً ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ٨

ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়া নি‘মাতাওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

আল্লাহর পক্ষ হতে দান ও অনুগ্রহস্বরূপ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

وَاِنۡ طَآئِفَتٰنِ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اقۡتَتَلُوۡا فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَہُمَا ۚ فَاِنۡۢ بَغَتۡ اِحۡدٰىہُمَا عَلَی الۡاُخۡرٰی فَقَاتِلُوا الَّتِیۡ تَبۡغِیۡ حَتّٰی تَفِیۡٓءَ اِلٰۤی اَمۡرِ اللّٰہِ ۚ فَاِنۡ فَآءَتۡ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَہُمَا بِالۡعَدۡلِ وَاَقۡسِطُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ ٩

ওয়া ইন তাইফাতা-নি মিনাল মু‘মিনীনাকতাতালূফাআসলিহূ বাইনাহুমা- ফাইম বাগাত ‘ইহদা-হুমা-‘আলাল উখরা-ফাকা-তিলুল্লাতী তাবগী হাত্তা তাফীআ ইলা আমরিল্লা-হি ফাইন ফাআত ফাআসলিহূবাইনাহুমা-বিল ‘আদলি ওয়া আকছিতূ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুকছিতীন।

মুসলিমদের দু’টি দল আত্মকলহে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিও। অতঃপর তাদের একটি দল যদি অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে, তবে যে দল বাড়াবাড়ি করছে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যাবত না সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। সুতরাং যদি ফিরে আসে তবে তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে মীমাংসা করে দিও এবং (প্রতিটি বিষয়ে) ইনসাফ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।
১০

اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِخۡوَۃٌ فَاَصۡلِحُوۡا بَیۡنَ اَخَوَیۡکُمۡ وَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ٪ ١۰

ইন্নামাল মু’মিনূনা ইখওয়াতুন ফাআসলিহূবাইনা আখাওয়াইকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

প্রকৃতপক্ষে সমস্ত মুসলিম ভাই-ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের দু’ ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।
১১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا یَسۡخَرۡ قَوۡمٌ مِّنۡ قَوۡمٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا خَیۡرًا مِّنۡہُمۡ وَلَا نِسَآءٌ مِّنۡ نِّسَآءٍ عَسٰۤی اَنۡ یَّکُنَّ خَیۡرًا مِّنۡہُنَّ ۚ وَلَا تَلۡمِزُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ وَلَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ؕ بِئۡسَ الِاسۡمُ الۡفُسُوۡقُ بَعۡدَ الۡاِیۡمَانِ ۚ وَمَنۡ لَّمۡ یَتُبۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ١١

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা ইয়াছখার কাওমুম মিন কাওমিন ‘আছাআইঁ ইয়াকূনূ খাইরামমিনহুম ওয়ালা-নিছাউম মিননিছাইন ‘আছাআইঁ ইয়াকুন্না খাইরাম মিনহুন্না ওয়ালা-তালমিঝূআনফুছাকুম ওয়ালা-তানা-বাঝূবিলআলকা-ব বি’ছাল ইছমুল ফুছূকুবা‘দাল ঈমা-নি ওয়া মাল্লাম ইয়াতুব ফাউলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।

হে মুমিনগণ! পুরুষগণ যেন অপর পুরুষদেরকে উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীগণও যেন অপর নারীদেরকে উপহাস না করে। তারা (অর্থাৎ যে নারীদেরকে উপহাস করা হচ্ছে) তাদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করো না এবং একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেক না। ঈমানের পর গুনাহের নাম যুক্ত হওয়া বড় খারাপ কথা। যারা এসব থেকে বিরত না হবে তারাই জালেম।

তাফসীরঃ

৫. যেসব কারণে সমাজে ঝগড়া-বিবাদ দেখা দেয়, এ আয়াতসমূহে সেগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল কাউকে কোন খারাপ নাম দিয়ে দেওয়া, যা তার জন্য পীড়াদায়ক হয়। আল্লাহ তাআলা বলছেন, এরূপ করা গুনাহ আর এটা যে করবে সে নিজে গুনাহগার (ফাসেক) হয়ে যাবে। তার নাম পড়ে যাবে যে, সে একজন ফাসেক (গুনাহগার)। ঈমান আনার পর কোন মুসলিমের ফাসেক নামে অভিহিত হওয়াটা খুবই খারাপ কথা। এর ফল দাড়াবে এই যে, তুমি তো অন্যকে মন্দ নাম দিচ্ছিলে অথচ নিজেই একটা মন্দ নামে অভিহিত হয়ে গেলে।
১২

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اجۡتَنِبُوۡا کَثِیۡرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعۡضَ الظَّنِّ اِثۡمٌ وَّلَا تَجَسَّسُوۡا وَلَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُکُمۡ بَعۡضًا ؕ اَیُحِبُّ اَحَدُکُمۡ اَنۡ یَّاۡکُلَ لَحۡمَ اَخِیۡہِ مَیۡتًا فَکَرِہۡتُمُوۡہُ ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ تَوَّابٌ رَّحِیۡمٌ ١٢

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুজতানিবূ কাছীরাম মিনাজ্জান্নি ইন্না বা‘দাজ্জান্নি ইছমুওঁ ওয়ালা-তাজাছছাছূওয়ালা-ইয়াছতাব বা‘দুকুম বা‘দান আইউহিব্বু আহাদুকুম আইঁ ইয়া’কুলা লাহমা আখীহি মাইতান ফাকারিহতুমূহু ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা তাওওয়া-বুর রাহীম।

হে মুমিনগণ! অনেক রকম অনুমান থেকে বেঁচে থাক। কোন কোন অনুমান গুনাহ। তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং তোমাদের একে অন্যের গীবত করবে না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? এটাকে তো তোমরা ঘৃণা করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কারও সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা গুনাহ।
১৩

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ وَّاُنۡثٰی وَجَعَلۡنٰکُمۡ شُعُوۡبًا وَّقَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوۡا ؕ اِنَّ اَکۡرَمَکُمۡ عِنۡدَ اللّٰہِ اَتۡقٰکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌ خَبِیۡرٌ ١٣

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন্না-খালাকনা-কুম মিন যাকারিওঁ ওয়া উনছা-ওয়া জা‘আলনা-কুম শু‘ঊবাওঁ ওয়া কাবাইলা লিতা‘আ-রাফূ ইন্না আকরামাকুম ‘ইনদাল্লা-হি আতকা-কুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুন খাবীর।

হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলকে এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অন্যকে চিনতে পার। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছু সম্পর্কে অবহিত।

তাফসীরঃ

৯. এ আয়াত সাম্যের এক মহা মূলনীতি বর্ণনা করেছে। বলা হয়েছে, কারও মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি তার জাতি, বংশ বা দেশ নয়; বরং এর একমাত্র মাপকাঠি হল তাকওয়া। সমস্ত মানুষ একই পুরুষ ও নারী অর্থাৎ হযরত আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা যে বিভিন্ন জাতি ও বংশ বানিয়ে দিয়েছেন তা এজন্য নয় যে, এর ভিত্তিতে একজন অন্যজনের উপর বড়াই করবে; বরং এর উদ্দেশ্য কেবলই পরিচয়কে সহজ করা, যাতে অসংখ্য মানুষের ভেতর জাতি-বংশের উল্লেখ দ্বারা পরস্পরে সহজে পরিচিত হতে পারে।
১৪

قَالَتِ الۡاَعۡرَابُ اٰمَنَّا ؕ قُلۡ لَّمۡ تُؤۡمِنُوۡا وَلٰکِنۡ قُوۡلُوۡۤا اَسۡلَمۡنَا وَلَمَّا یَدۡخُلِ الۡاِیۡمَانُ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ ؕ وَاِنۡ تُطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ لَا یَلِتۡکُمۡ مِّنۡ اَعۡمَالِکُمۡ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٤

কা-লাতিল আ‘রা-বুআ-মান্না- কুল লাম তু’মিনূওয়ালা-কিন কু লূআছলামনাওয়ালাম্মা-ইয়াদখুলিল ঈমা-নুফী কুলূবিকুম ওয়াইন তুতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূলাইয়ালিতকুম মিন আ‘মা-লিকুম শাইয়ান ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

দেহাতীরা বলে আমরা ঈমান এনেছি। তাদেরকে বল, তোমরা ঈমান আননি। তবে এই বল যে, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি। ১০ ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। তোমরা যদি সত্যিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, তবে আল্লাহ তোমাদের কর্মের (সওয়াবের) ভেতর কিছুমাত্র কম করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু

তাফসীরঃ

১০. দেহাতের কিছু লোক মৌখিকভাবে কালেমা পড়েই নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করছিল, অথচ তারা আন্তরিকভাবে ঈমান আনেনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল মুসলিমদের মত অধিকার লাভ করা। মদীনা মুনাওয়ারায় এসে তারা রাস্তাঘাটও নষ্ট করে ফেলেছিল। এ আয়াতসমূহে তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সাচ্চা মুসলিম হওয়ার জন্য কেবল মুখে কালেমা পড়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। বরং মনে প্রাণে ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসসমূহ স্বীকার করে নেওয়া এবং নিজেকে ইসলামী বিধানাবলীর অধীন বানিয়ে নেওয়া জরুরি।
১৫

اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ثُمَّ لَمۡ یَرۡتَابُوۡا وَجٰہَدُوۡا بِاَمۡوَالِہِمۡ وَاَنۡفُسِہِمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الصّٰدِقُوۡنَ ١٥

ইন্নামাল মু’মিনূনাল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ছুম্মা লাম ইয়ারতা-বূওয়া জাহাদূবিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুছিহিম ফী ছাবিলিল্লা-হি উলাইকা হুমুসসা-দিকূন।

মুমিন তো তারা, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অন্তর দিয়ে স্বীকার করেছে, তারপর কোনও সন্দেহে পড়েনি এবং তাদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই তো সত্যবাদী।
১৬

قُلۡ اَتُعَلِّمُوۡنَ اللّٰہَ بِدِیۡنِکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَاللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ١٦

কুল আতু‘আলিল মূনাল্লা-হা বিদীনিকুম ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামাফিল আরদি ওয়াল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

(হে রাসূল! ওই দেহাতীদেরকে) বল, তোমরা কি আল্লাহকে নিজেদের দীন সম্পর্কে অবহিত করছ? অথচ আল্লাহ যা-কিছু আকাশমণ্ডলীতে ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে, সবই জানেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
১৭

یَمُنُّوۡنَ عَلَیۡکَ اَنۡ اَسۡلَمُوۡا ؕ قُلۡ لَّا تَمُنُّوۡا عَلَیَّ اِسۡلَامَکُمۡ ۚ بَلِ اللّٰہُ یَمُنُّ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ ہَدٰىکُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ١٧

ইয়ামুন্নুনা ‘আলাইকা আন আছলামূ কুল লা-তামুন্নূ‘আলাইইয়া ইছলা-মাকুম বালিল্লাহু ইয়ামুন্নু‘আলাইকুম আন হাদা-কুম লিলঈমা-নি ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমার উপকার করেছে বলে মনে করে। তাদেরকে বলে দাও, তোমরা তোমাদের ইসলাম দ্বারা আমাকে উপকৃত করেছ বলে মনে করো না; বরং তোমরা যদি বাস্তবিকই (নিজেদের দাবিতে) সত্যবাদী হও, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তোমাদেরকে ঈমানের হেদায়াত দান করেছেন।
১৮

اِنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ غَیۡبَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ١٨

ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুগাইবাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমাতা‘মালূন।

বস্তুত আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর যাবতীয় গুপ্ত বিষয় জানেন। আর তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ তা ভালোভাবে দেখছেন।
সূরা আল হুজুরাত | মুসলিম বাংলা