সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল ফাত্‌হ (الفتح) | বিজয়, মক্কা বিজয়

মাদানী

মোট আয়াতঃ ২৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِنَّا فَتَحۡنَا لَکَ فَتۡحًا مُّبِیۡنًا ۙ ١

ইন্না-ফাতাহনা-লাকা ফাতহাম মুবীনা-।

(হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমি তোমাকে প্রকাশ্য বিজয় দান করেছি,

তাফসীরঃ

১. সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী এ আয়াত হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নাযিল হয়েছে। সূরার পরিচিতিতে ঘটনাটি সংক্ষেপে গত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সন্ধির শর্তসমূহ এমন ছিল না, যাকে প্রকাশ্য বিজয় বলা যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেই পরিস্থিতিতে এ সন্ধি সম্পাদিত হয়েছিল, তার প্রতি লক্ষ্য করলে নিঃসন্দেহে এটি এক সুস্পষ্ট ও মহা বিজয়ের পটভূমি এবং শেষ পর্যন্ত এরই ফলশ্রুতিতে মক্কা মুকাররমা বিজিত হবে।

لِّیَغۡفِرَ لَکَ اللّٰہُ مَا تَقَدَّمَ مِنۡ ذَنۡۢبِکَ وَمَا تَاَخَّرَ وَیُتِمَّ نِعۡمَتَہٗ عَلَیۡکَ وَیَہۡدِیَکَ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ۙ ٢

লিয়াগফিরা লাকাল্লা-হুমা- তাকাদ্দামা মিন যামবিকা ওয়ামা- তাআখখারা ওয়াইউতিম্মা নি‘মাতাহূ‘আলাইকা ওয়া ইয়াহদিয়াকা সিরা-তামমুছতাকীমা-।

যাতে আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত ত্রুটি ক্ষমা করেন, তোমার প্রতি তাঁর নি‘আমত পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

তাফসীরঃ

২. পূর্বে সূরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ১৯ নং আয়াতের টীকায় বলা হয়েছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষ্পাপ ছিলেন। তাঁর দ্বারা কোনও রকম গুনাহ সংঘটিত হতে পারত না। তা সত্ত্বেও মামুলি কিসিমের ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলেও তিনি তাকে নিজের অপরাধ গণ্য করতেন এবং সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এখানে সে রকম ভুল-ত্রুটিই বোঝানো উদ্দেশ্য।

وَّیَنۡصُرَکَ اللّٰہُ نَصۡرًا عَزِیۡزًا ٣

ওয়া ইয়ানসুরাকাল্লা-হু নাসরান ‘আঝীঝা-।

এবং (যাতে আল্লাহ) তোমাকে সাহায্য করেন, বলিষ্ঠ সাহায্য।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ السَّکِیۡنَۃَ فِیۡ قُلُوۡبِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ لِیَزۡدَادُوۡۤا اِیۡمَانًا مَّعَ اِیۡمَانِہِمۡ ؕ  وَلِلّٰہِ جُنُوۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ۙ ٤

হুওয়াল্লাযীআনঝালাছ ছাকীনাতা ফী কুলূবিল মু’মিনীনা লিইয়াঝদা-দূ ঈমা-নাম মা‘আ ঈমা-নিহিম ওয়া লিল্লা-হি জনূদুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলীমান হাকীমা-।

তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তাদের ঈমানে অধিকতর ঈমান যুক্ত হয়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৪. সূরার পরিচিতিতে বলা হয়েছে, হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে কাফেরদের আচরণে মুমিনগণ যারপরনাই ক্ষুব্ধ ছিলেন, যে কারণে তারা জিহাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন এবং সন্ধির শর্তাবলী কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না, কিন্তু সন্ধি স্থাপিত করাই যেহেতু তখন আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায় ছিল, তাই তিনি তাঁদের অন্তরে সাকীনাহ ও প্রশান্তি সৃষ্টি করে দিলেন। ফলে তারা সর্বান্তকরণে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা মেনে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে শিরোধার্য করে নিলেন।

لِّیُدۡخِلَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا وَیُکَفِّرَ عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ ؕ  وَکَانَ ذٰلِکَ عِنۡدَ اللّٰہِ فَوۡزًا عَظِیۡمًا ۙ ٥

লিইউদখিলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খালিদীনা ফীহা-ওয়া ইউকাফফিরা ‘আনহুম ছাইয়িআ-তিহিম ওয়া কা-না যা-লিকা ‘ইনদাল্লা-হি ফাওঝান ‘আজীমা-।

যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দাখিল করেন এমন উদ্যানে, যার তলদেশে প্রবহমান রয়েছে নহর, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে এবং যাতে তাদের থেকে মিটিয়ে দেন তাদের মন্দসমূহ। আল্লাহর কাছে এটাই মহাসাফল্য।

وَّیُعَذِّبَ الۡمُنٰفِقِیۡنَ وَالۡمُنٰفِقٰتِ وَالۡمُشۡرِکِیۡنَ وَالۡمُشۡرِکٰتِ الظَّآنِّیۡنَ بِاللّٰہِ ظَنَّ السَّوۡءِ ؕ عَلَیۡہِمۡ دَآئِرَۃُ السَّوۡءِ ۚ وَغَضِبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ وَلَعَنَہُمۡ وَاَعَدَّ لَہُمۡ جَہَنَّمَ ؕ وَسَآءَتۡ مَصِیۡرًا ٦

ওয়া ইউ‘আযযিবাল মুনা-ফিকীনা ওয়াল মুনা-ফিকা-তি ওয়াল মুশরিকীনা ওয়াল মুশরিকা-তিজ্জান্নীনা বিল্লা-হি জান্নাছছাওই ‘আলাইহিম দাইরাতুছ ছাওই ওয়া গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া লা‘আনাহুম ওয়া আ‘আদ্দালাহুম জাহান্নামা ওয়া ছাআত মাসীরা-।

আর যাতে সেই মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দান করেন, যারা আল্লাহ সম্পর্কে কু-ধারণা পোষণ করে। মন্দের ফের তাদেরই উপর নিপতিত এবং আল্লাহ তাদের প্রতি রুষ্ট, তিনি তাদেরকে নিজ রহমত থেকে বিতাড়িত করেছেন এবং তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছেন আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা রকম নিকৃষ্ট পরিকল্পনা করছে, কিন্তু জানে না যে, সে সব নিকৃষ্ট পরিকল্পনার ফেরে তারা নিজেরাই পড়ে রয়েছে। কেননা এক দিকে তাদের সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে, অন্যদিকে এর পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

وَلِلّٰہِ جُنُوۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ٧

ওয়া লিল্লা-হি জুনূদুছ ছা-মা-ওয়াতি ওয়াল আর দি ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আঝীঝান হাকীমা-।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ شَاہِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِیۡرًا ۙ ٨

ইন্নাআরছালনা-কা শা-হিদাওঁ ওয়া মুবাশশিরাওঁ ওয়া নাযীরা-।

(হে রাসূল!) আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদাদাতা ও সতর্ককারীরূপে।

لِّتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَتُعَزِّرُوۡہُ وَتُوَقِّرُوۡہُ ؕ وَتُسَبِّحُوۡہُ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا ٩

লিতু’মিনূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তু‘আঝাঝিরূহু ওয়া তুওয়াক্কিরূহু ওয়া তুছাববিহূহু বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা-।

যাতে (হে মানুষ!) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং তাঁকে সাহায্য কর ও তাঁকে সম্মান কর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।
১০

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُبَایِعُوۡنَکَ اِنَّمَا یُبَایِعُوۡنَ اللّٰہَ ؕ  یَدُ اللّٰہِ فَوۡقَ اَیۡدِیۡہِمۡ ۚ  فَمَنۡ نَّکَثَ فَاِنَّمَا یَنۡکُثُ عَلٰی نَفۡسِہٖ ۚ  وَمَنۡ اَوۡفٰی بِمَا عٰہَدَ عَلَیۡہُ اللّٰہَ فَسَیُؤۡتِیۡہِ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ٪ ١۰

ইন্নাল্লাযীনা ইউবা-ই‘ঊনাকা ইন্নামা-ইউবা-ই‘ঊনাল্লা-হা ইয়াদুল্লা-হি ফাওকা আইদীহিম ফামান্নাকাছা ফাইন্নামা-ইয়ানকুছু ‘আলা-নাফছিহী ওয়া মান আওফাবিমা-‘আ-হাদা ‘আলাইহুল্লা-হা ফাছাইউ’তীহি আজরান ‘আজীমা-।

(হে রাসূল!) যারা তোমার কাছে বায়আত গ্রহণ করছে প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর কাছে বায়আত গ্রহণ করছে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। এরপর যে-কেউ অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, তার অঙ্গীকার ভঙ্গের পরিণাম তাকেই ভোগ করতে হবে। আর যে-কেউ পূরণ করবে, সেই অঙ্গীকার যা সে আল্লাহর সঙ্গে করছে, আল্লাহ তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।

তাফসীরঃ

৬. ইশারা বায়আতে রিযওয়ানের প্রতি, যা হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়েছিলেন। সূরার পরিচিতিতে সে ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।
১১

سَیَقُوۡلُ لَکَ الۡمُخَلَّفُوۡنَ مِنَ الۡاَعۡرَابِ شَغَلَتۡنَاۤ اَمۡوَالُنَا وَاَہۡلُوۡنَا فَاسۡتَغۡفِرۡ لَنَا ۚ یَقُوۡلُوۡنَ بِاَلۡسِنَتِہِمۡ مَّا لَیۡسَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ ؕ قُلۡ فَمَنۡ یَّمۡلِکُ لَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ شَیۡئًا اِنۡ اَرَادَ بِکُمۡ ضَرًّا اَوۡ اَرَادَ بِکُمۡ نَفۡعًا ؕ بَلۡ کَانَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرًا ١١

ছাইয়াকূলুলাকাল মুখাল্লাফূনা মিনাল আ‘রা-বি শাগালাতনাআমওয়া-লুনা-ওয়া আহ লূনাফাছতাগফিরলানা- ইয়াকূলূনা বিআলছিনাতিহিম মা-লাইছা ফী কুলূবিহিম কুল ফামাইঁ ইয়ামলিকুলাকুম মিনাল্লা-হি শাইয়ান ইন আরা-দাবিকুম দাররান আও আরা-দাবিকুম নাফ‘আন বাল কা-নাল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা খাবীরা-।

যেসব দেহাতী (হুদায়বিয়ার সফরে) পেছনে থেকে গিয়েছিল, তারা শীঘ্রই তোমাকে বলবে, আমাদের অর্থ-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছিল। তাই আমাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করুন। তারা তাদের মুখে এমন কথা বলে, যা তাদের অন্তরে নেই। (তাদেরকে) বল, আল্লাহ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান বা তোমাদের কোন উপকার করতে চান, তবে কে তোমাদের বিষয়ে আল্লাহর সামনে কিছু করার ক্ষমতা রাখে? বরং তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।

তাফসীরঃ

৭. হুদায়বিয়ার সফরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে নিষ্ঠাবান সকল সাহাবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আশঙ্কা ছিল কুরাইশী কাফেরগণ পথে বাধা সৃষ্টি করবে, ফলে যুদ্ধও লেগে যেতে পারে। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বড়-সড় দল সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে মদীনা মুনাওয়ারার আশপাশের দেহাতগুলোতেও ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে, তারাও যেন এতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে যারা অকৃত্রিম মুমিন ছিলেন, তারা তো তাঁর সঙ্গে এসে যোগদান করলেন, কিন্তু দেহাতীদের মধ্যে অনেক মুনাফেকও ছিল। তারা চিন্তা করল, যুদ্ধ লেগে গেলে তো আমাদেরও তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাই তারা নানা অজুহাতে পাশ কাটাল। ‘যেসব দেহাতী পেছনে থেকে গিয়েছিল’ বলে এই মুনাফেকদের প্রতিই ইশারা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনা মুনাওয়ারায় ফিরে আসবেন, তখন তারা এসে অজুহাত দেখাবে যে, আমরা ঘর-বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আপনার সঙ্গে যেতে পারিনি।
১২

بَلۡ ظَنَنۡتُمۡ اَنۡ لَّنۡ یَّنۡقَلِبَ الرَّسُوۡلُ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ اِلٰۤی اَہۡلِیۡہِمۡ اَبَدًا وَّزُیِّنَ ذٰلِکَ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ وَظَنَنۡتُمۡ ظَنَّ السَّوۡءِ ۚۖ وَکُنۡتُمۡ قَوۡمًۢا بُوۡرًا ١٢

বাল জানানতুম আল্লাইঁ ইয়ানকালিবার রাছূলুওয়ালমু’মিনূনা ইলাআহলীহিম আবাদাওঁ ওয়া ঝুইঁনিয়া যা-লিকা ফী কুলূবিকুম ওয়া জানানতুন জান্নাছছাওই ওয়া কুনতুম কাওমাম বূরা-।

বস্তুত তোমরা মনে করেছিলে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অন্যান্য মুসলিমগণ কখনও তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে আসতে পারবে না। আর এ কথাই তোমাদের অন্তরে প্রীতিকর মনে হয়েছিল এবং তোমরা নানা রকম কু-ধারণা করেছিলে। বস্তুত তোমরা ছিলে এক ধ্বংসমুখী সম্প্রদায়।

তাফসীরঃ

৯. মুনাফেকদের ধারণা ছিল মুসলিমগণ উমরা পালনের উদ্দেশ্যে গেলেও, কুরাইশের লোকজন তাদেরকে বাধা না দিয়ে ছাড়বে না। ফলে যুদ্ধ অবধারিত। আর যুদ্ধ যদি হয়ই, তবে কুরাইশ বাহিনীর শক্তি এমন অমিত যে, মুসলিমগণ তাদের সামনে টিকবে না। তারা বেঘোরে প্রাণ হারাবে। কেউ জান নিয়ে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারবে না।
১৩

وَمَنۡ لَّمۡ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ فَاِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ سَعِیۡرًا ١٣

ওয়া মাল্লাম ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ফাইন্নাআ‘তাদনা-লিলকা-ফিরীনা ছা‘ঈরা-।

কেউ আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান না আনলে (সে জেনে রাখুক), আমি কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।
১৪

وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یَغۡفِرُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ١٤

ওয়ালিল্লা-হি মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইয়াগফিরু লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়াইউ‘আযযিবুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা-।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গোটা রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে চান শাস্তি দেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৫

سَیَقُوۡلُ الۡمُخَلَّفُوۡنَ اِذَا انۡطَلَقۡتُمۡ اِلٰی مَغَانِمَ لِتَاۡخُذُوۡہَا ذَرُوۡنَا نَتَّبِعۡکُمۡ ۚ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّبَدِّلُوۡا کَلٰمَ اللّٰہِ ؕ قُلۡ لَّنۡ تَتَّبِعُوۡنَا کَذٰلِکُمۡ قَالَ اللّٰہُ مِنۡ قَبۡلُ ۚ فَسَیَقُوۡلُوۡنَ بَلۡ تَحۡسُدُوۡنَنَا ؕ بَلۡ کَانُوۡا لَا یَفۡقَہُوۡنَ اِلَّا قَلِیۡلًا ١٥

ছাইয়াকূলুল মুখাল্লাফূনা ইযানতালাকতুমইলা-মাগা-নিমা লিতা’খুযূহা-যারূনানাত্তাবি‘কুম ইউরীদূ না আইঁ ইউবাদ্দিলূকালা-মাল্লা-হি কুল্লান তাত্তাবি‘ঊনা-কাযালিকুম কা-লাল্লা-হু মিন কাবলু ফাছাইয়াকূলূনা বাল তাহছু দূ নানা- বাল কা-না লাইয়াফকাহূনা ইল্লা-কালীলা-।

(হে মুসলিমগণ!) তোমরা যখন গণীমতের মাল সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন (হুদায়বিয়ার সফর থেকে) যারা পেছনে থেকে গিয়েছিল তারা বলবে, তোমরা আমাদেরকেও তোমাদের সাথে যেতে দাও। ১০ তারা আল্লাহর কথা পাল্টে দিতে চাবে। ১১ বলে দিও, তোমরা কিছুতেই আমাদের সাথে যাবে না। আল্লাহ আগেই এ রকম বলে রেখেছেন। ১২ তখন তারা বলবে, প্রকৃতপক্ষে তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ কর। ১৩ না; বরং তারা বড় অল্পই বোঝে।

তাফসীরঃ

১০. হুদায়বিয়ার সফরে সাহাবায়ে কেরাম যে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন, তার পুরস্কার স্বরূপ আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছিলেন, মক্কা বিজয়ের আগে তাদের আরও একটি বিজয় অর্জিত হবে এবং সে বিজয়ে তাদের প্রচুর গনীমত লাভ হবে। তার দ্বারা ইশারা ছিল খায়বার বিজয়ের প্রতি। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ৭ম হিজরীতে খায়বার অভিযানের জন্য রওয়ানা হচ্ছিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরামের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আল্লাহ তাআলার ওয়াদা অনুসারে খায়বার অবশ্যই বিজিত হবে এবং তাতে প্রচুর গনীমতও লাভ হবে। আল্লাহ তাআলা বলছেন, সেই সময় যখন আসবে, হুদায়বিয়ার সফরে যেসব মুনাফেক নানান ছল-ছুতায় ঘরে থেকে গিয়েছিল, তারাও কিন্তু তখন সঙ্গে যেতে চাইবে। কেননা তোমাদের মত তাদেরও বিশ্বাস থাকবে যে, খায়বার অবশ্যই বিজিত হবে এবং তাতে প্রচুর গনীমত অর্জিত হবে। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, তাদের এ খাহেশ পূরণ করবেন না এবং তাদেরকে আপনার সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দেবেন না।
১৬

قُلۡ لِّلۡمُخَلَّفِیۡنَ مِنَ الۡاَعۡرَابِ سَتُدۡعَوۡنَ اِلٰی قَوۡمٍ اُولِیۡ بَاۡسٍ شَدِیۡدٍ تُقَاتِلُوۡنَہُمۡ اَوۡ یُسۡلِمُوۡنَ ۚ فَاِنۡ تُطِیۡعُوۡا یُؤۡتِکُمُ اللّٰہُ اَجۡرًا حَسَنًا ۚ وَاِنۡ تَتَوَلَّوۡا کَمَا تَوَلَّیۡتُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ یُعَذِّبۡکُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ١٦

কুল লিলমুখাল্লাফীনা মিনাল আ‘রা-বি ছাতুদ‘আওনা ইলা-কাওমিন ঊলী বা’ছিন শাদীদিন তুকা-তিলূনাহুম আও ইউছলিমূনা ফাইন তুতী‘ঊ ইউ’তিকুমুল্লা-হু আজরান হাছানাওঁ ওয়া ইন তাতাওয়াল্লাও কামা-তাওয়াল্লাইতুম মিন কাবলুইউ‘আযযি বকুম ‘আযা-বান আলীমা-।

যে সকল দেহাতী পেছনে থেকে গিয়েছিল, তাদেরকে বলে দিও, অচিরেই তোমাদেরকে এমন এক সম্প্রদায়ের দিকে (যুদ্ধের জন্য) ডাকা হবে, যারা অত্যন্ত কঠিন লড়াকু হবে। হয় তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আনুগত্য স্বীকার করবে। ১৪ তখন তোমরা (জিহাদের এ নির্দেশের সামনে) আনুগত্য করলে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দান করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, যেমন পূর্বে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দান করবেন।

তাফসীরঃ

১৪. যে সকল দেহাতী হুদায়বিয়ার সফরে শরীক হয়নি, তাদেরকে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তোমাদের জন্য খায়বারে অভিযানে যোগদানের তো অনুমতি নেই, তবে এর পরে আরেকটা সময় আসছে, যখন তোমাদেরকে এক কঠিন লড়াকু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ডাকা হবে। তখন যদি তোমরা সাচ্চা মুমিন হয়ে ধৈর্য-স্থৈর্যের পরিচয় দিতে পার, তবে তোমাদের এখনকার এ গুনাহ ধুয়ে যাবে এবং আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে প্রভূত সওয়াব দান করবেন। এ আয়াতে যে লড়াকু গোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, এর দ্বারা বিশেষ কোন গোষ্ঠীকে বোঝানো উদ্দেশ্য নয়; বরং পরবর্তীকালে মুসলিমগণ যে সকল বড়-বড় শক্তির সাথে মুকাবেলা করেছে এবং তাতে অংশগ্রহণের জন্য দেহাতীদেরকে ডাকা হয়েছে, এ রকম প্রতিটি যুদ্ধই এর অন্তর্ভুক্ত। সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত সিদ্দীকে আকবর ও ফারূকে আযম (রাযি.)-এর যুগে মুসায়লিমা কাযযাব, কায়সার ও কিসরার বিরুদ্ধে যেসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে অংশগ্রহণের জন্য দেহাতী লোকদেরকে ডাকা হয়েছিল এবং কোন কোন দেহাতী তাওবা করে তাতে অংশগ্রহণও করেছিল।
১৭

لَیۡسَ عَلَی الۡاَعۡمٰی حَرَجٌ وَّلَا عَلَی الۡاَعۡرَجِ حَرَجٌ وَّلَا عَلَی الۡمَرِیۡضِ حَرَجٌ ؕ  وَمَنۡ یُّطِعِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ یُدۡخِلۡہُ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۚ  وَمَنۡ یَّتَوَلَّ یُعَذِّبۡہُ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٪ ١٧

লাইছা ‘আলাল ‘আমা-হারাজূওঁ ওয়ালা-‘আলাল আ‘রাজি হারাজূওঁ ওয়ালা-‘আলাল মারীদিহারাজূও ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা ইউ’আযযিবহু ‘আযা-বান আলীমা-।

(যুদ্ধ না করাতে) অন্ধের জন্য কোন গুনাহ নেই, খোঁড়া ব্যক্তির জন্য কোন গুনাহ নেই এবং রুগ্ণ ব্যক্তির জন্যও কোন গুনাহ নেই। যে-কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবহমান থাকবে নহর। আর যে-কেউ মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দেবেন।
১৮

لَقَدۡ رَضِیَ اللّٰہُ عَنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ یُبَایِعُوۡنَکَ تَحۡتَ الشَّجَرَۃِ فَعَلِمَ مَا فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ فَاَنۡزَلَ السَّکِیۡنَۃَ عَلَیۡہِمۡ وَاَثَابَہُمۡ فَتۡحًا قَرِیۡبًا ۙ ١٨

লাকাদ রাদিয়াল্লা-হু ‘আনিল মু’মিনীনা ইযইউবা-ই‘ঊনাকা তাহতাশশাজারাতি ফা‘আলিমা মা-ফী কুলূবিহিম ফাআনঝালাছ ছাকীনাতা ‘আলাইহিম ওয়া আছা-বাহুম ফাতহান কারীবা-।

নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি খুশী হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে তোমার কাছে বায়আত গ্রহণ করছিল। তাদের অন্তরে যা-কিছু ছিল সে সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন। ১৫ তাই তিনি তাদের উপরে অবতীর্ণ করলেন প্রশান্তি এবং পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দান করলেন আসন্ন বিজয়। ১৬

তাফসীরঃ

১৫. এ আয়াতের ইশারা বায়আতে রিযওয়ানের প্রতি, যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় অবস্থানকালে সাহাবায়ে কেরাম থেকে গ্রহণ করেছিলেন এবং সূরাটির পরিচিতিতে যা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলছেন, তারা সে বায়আত আন্তরিকভাবে দৃঢ় সংকল্পের সাথে করেছিলেন। তারা মুনাফেকদের মত মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দাতা ছিলেন না।
১৯

وَّمَغَانِمَ کَثِیۡرَۃً یَّاۡخُذُوۡنَہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ١٩

ওয়া মাগা-নিমা কাছীরাতাইঁ ইয়া’খুযূনাহা- ওয়া কা-নাল্লা-হু ‘আঝীঝান হাকীমা-।

এবং বিপুল পরিমাণ গনীমতের মালও, যা তারা হস্তগত করবে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
২০

وَعَدَکُمُ اللّٰہُ مَغَانِمَ کَثِیۡرَۃً تَاۡخُذُوۡنَہَا فَعَجَّلَ لَکُمۡ ہٰذِہٖ وَکَفَّ اَیۡدِیَ النَّاسِ عَنۡکُمۡ ۚ  وَلِتَکُوۡنَ اٰیَۃً لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَیَہۡدِیَکُمۡ صِرَاطًا مُّسۡتَقِیۡمًا ۙ ٢۰

ওয়া ‘আদাকুমুল্লা-হুমাগা-নিমা কাছীরাতান তা’খুযূনাহা-ফা‘আজ্জালা লাকুম হা-যিহী ওয়া কাফফা আইদিয়ান্না-ছি ‘আনকুম ওয়া লিতাকূনা আ-ইয়াতালিললমু’মিনীনা ওয়া ইয়াহদিইয়াকুম সিরা-তাম মুছতাকীমা-।

আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রচুর গনীমতের, যা তোমরা হস্তগত করবে। ১৭ তিনি তোমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিজয় দান করেছেন এবং মানুষের হাতকে তোমাদের থেকে নিবারিত করেছেন, ১৮ যাতে এটা মুমিনদের জন্য হয় এক নিদর্শন এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে পরিচালিত করেন সরল পথে।

তাফসীরঃ

১৭. এর দ্বারা খায়বার ছাড়া অন্যান্য বিজয়সমূহের দিকে ইশারা করা হয়েছে।
২১

وَّاُخۡرٰی لَمۡ تَقۡدِرُوۡا عَلَیۡہَا قَدۡ اَحَاطَ اللّٰہُ بِہَا ؕ وَکَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرًا ٢١

ওয়া উখরা-লাম তাকদিরূ‘আলাইহা-কাদ আহা-তাল্লা-হু বিহা- ওয়াকা-নাল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীরা-।

আছে আরও একটি বিজয়। যাতে তোমরা এখনও পর্যন্ত সক্ষম হওনি, আল্লাহ তা নিজ আয়ত্তাধীন রেখে দিয়েছেন। ১৯ আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

তাফসীরঃ

১৯. এর দ্বারা মক্কা বিজয় এবং তার পরবর্তী হুনায়ন ও অন্যান্য স্থানের বিজয়সমূহ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা জ্ঞাত রয়েছেন যে, মুসলিমগণ যদিও এখন মক্কা মুকাররমা জয় করার মত অবস্থায় নেই, কিন্তু সেদিন দূরে নয়, যখন কুরাইশ কাফেরগণ নিজেরাই হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করে মুসলিমদের জন্য মক্কা বিজয়ের পথ খুলে দেবে। তারপর হুনায়ন প্রভৃতিও জয় হয়ে যাবে।
২২

وَلَوۡ قٰتَلَکُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوَلَّوُا الۡاَدۡبَارَ ثُمَّ لَا یَجِدُوۡنَ وَلِیًّا وَّلَا نَصِیۡرًا ٢٢

ওয়া লাও কা-তালাকুমুল্লাযীনা কাফারূলাওয়াল্লাউল আদবা-রা ছু ম্মা লা-ইয়াজিদূনা ওয়ালিয়াওঁ ওয়ালা-নাসীরা-।

কাফেরগণ যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত, তবে অবশ্যই তারা পেছন ফিরে পালাত। অতঃপর তারা কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী পেত না ২০

তাফসীরঃ

২০. অর্থাৎ হুদায়বিয়ায় যে কাফেরদের সাথে সন্ধি স্থাপিত করানো হয়েছে, তার কারণ মুসলিমদের দুর্বলতা নয়। বিষয়টা এমন নয় যে, যুদ্ধ হলে মুসলিমদেরকে পরাজয় বরণ করতে হত। বরং যুদ্ধ হলে কাফেরগণই পরাস্ত হত এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালাত। আসল ব্যাপার হচ্ছে, সন্ধির ভেতর বহুবিধ মঙ্গল নিহিত ছিল, যা আল্লাহ তাআলা জানতেন আর সে কারণেই তিনি যুদ্ধ আটকে দিয়ে সন্ধি স্থাপিত করিয়েছেন। সামনে ২৫ নং আয়াতে সন্ধি স্থাপনের একটা ফায়দা বর্ণিত হবে।
২৩

سُنَّۃَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلُ ۚۖ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّۃِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ٢٣

ছুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী কাদ খালাত মিন কাবলু ওয়া লান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলা-।

এটাই আল্লাহর নিয়ম, যা পূর্ব হতে চলে আসছে। তুমি আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না। ২১

তাফসীরঃ

২১. প্রাচীন কাল থেকে আল্লাহ তাআলার এই নিয়ম চলে আসছে যে, যারা সত্যের উপর থাকে এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে সাহায্যপ্রাপ্তির শর্তাবলী পূরণ করে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বাতিলপন্থীদের উপর বিজয় দান করেন। কোথাও যদি বাতিলপন্থীদেরকে বিজয়ী হতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে, সত্যপন্থীদের বিশেষ কোন ত্রুটি ছিল, যার পরিণামে তারা আল্লাহ তাআলার সাহায্য থেকে বঞ্চিত থেকেছে।
২৪

وَہُوَ الَّذِیۡ کَفَّ اَیۡدِیَہُمۡ عَنۡکُمۡ وَاَیۡدِیَکُمۡ عَنۡہُمۡ بِبَطۡنِ مَکَّۃَ مِنۡۢ بَعۡدِ اَنۡ اَظۡفَرَکُمۡ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَکَانَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرًا ٢٤

ওয়াহুওয়াল্লাযী কাফফা আইদিয়াহুম ‘আনকুম ওয়াআইদিয়াকুম ‘আনহুম ব্বিাতনি মাক্কাতা মিম বা‘দি আন আজফারাকুম ‘আলাইহিম ওয়া কা-নাল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা বাসীরা-।

আল্লাহই মক্কা উপত্যকায় তাদের হাতকে তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছা হতে এবং তোমাদের হাতকে তাদের পর্যন্ত পৌঁছা হতে নিবৃত্ত রেখেছেন, তাদের উপর তোমাদেরকে ক্ষমতা দান করার পর। ২২ তোমরা যা-কিছু করছিলে আল্লাহ তা দেখছিলেন।

তাফসীরঃ

২২. হযরত উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন মক্কা মুকাররমায় গিয়ে কুরাইশদেরকে সন্ধির প্রস্তাব দিচ্ছিলেন, তখন মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ একটি দূরভিসন্ধি এঁটেছিল। তারা গোপনে তাদের পঞ্চাশজন লোককে এই মতলবে পাঠিয়েছিল যে, তারা গুপ্ত আক্রমণ চালিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শহীদ করে ফেলবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সে দূরভিসন্ধি নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। তিনি সে দলটিকে মুসলিমদের হাতে গ্রেফতার করিয়ে দেন। কুরাইশরা যখন তাদের গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার খবর শুনল, তারা হযরত উসমান (রাযি.) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে মক্কায় আটকে ফেলল। মুসলিমগণ তখন সেই পঞ্চাশজনকে হত্যা করলে পাল্টা জবাবে কুরাইশগণও হযরত উসমান (রাযি.) ও তার সঙ্গীদেরকে হত্যা করত। আর তার ফল হত অনিবার্য যুদ্ধ। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের মনোভাবকে বন্দী হত্যা না করার অনুকূল করে দিলেন এবং তাদের হাতকে বন্দীদের হত্যা করা হতে নিবৃত্ত রাখলেন। অথচ বন্দীগণ তাদের আয়ত্তাধীন ছিল এবং মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করতে পরিপূর্ণ সক্ষম ছিল। অপর দিকে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করা হতে কুরাইশদের হাতকে আল্লাহ তাআলা এভাবে রুখে দিলেন যে, তিনি তাদের অন্তরে মুসলিমদের প্রতি ভীতি সঞ্চার করলেন। ফলে তারা যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধিতেই রাজি হয়ে গেল, অথচ তারা হযরত উসমান (রাযি.)কে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, কিছুতেই সন্ধি করবে না।
২৫

ہُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ وَالۡہَدۡیَ مَعۡکُوۡفًا اَنۡ یَّبۡلُغَ مَحِلَّہٗ ؕ وَلَوۡلَا رِجَالٌ مُّؤۡمِنُوۡنَ وَنِسَآءٌ مُّؤۡمِنٰتٌ لَّمۡ تَعۡلَمُوۡہُمۡ اَنۡ تَطَـُٔوۡہُمۡ فَتُصِیۡبَکُمۡ مِّنۡہُمۡ مَّعَرَّۃٌۢ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ۚ لِیُدۡخِلَ اللّٰہُ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ لَوۡ تَزَیَّلُوۡا لَعَذَّبۡنَا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡہُمۡ عَذَابًا اَلِیۡمًا ٢٥

হুমুল্লাযীনা কাফারূওয়া সাদ্দূকুম ‘আনিল মাছজিদিল হারা-মি ওয়াল হাদইয়া মা‘কূফান আইঁ ইয়াবলুগা মাহিল্লাহূ ওয়ালাও লা-রিজা-লুম মু’মিনূনা ওয়া নিছাউম মু’মিনা-তুল্লাম তা‘লামূহুম আন তাতাঊহুম ফাতুসীবাকুম মিনহুম মা‘আররাতুম বিগাইরি ‘ইলমিন লিইউদখিলাল্লা-হু ফী রাহমাতিহী মাইঁ ইয়াশাউ লাও তাঝাইয়ালূলা‘আযযাবনাল্লাযীনা কাফারূমিনহুম ‘আযা-বান আলীমা-।

এরাই তো তারা, যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তোমাদেরকে মসজিদুল হারাম থেকে নিবৃত্ত করেছে এবং আবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়ানো কুরবানীর পশুগুলিকেও যথাস্থানে পৌঁছতে বাধা দিয়েছে। ২৩ যদি (মক্কায়) কিছু মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী না থাকত, যাদের সম্পর্কে তোমরা জান না যে, তোমরা তাদেরকে পিষে ফেলতে, ফলে তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে ২৪ (তবে আমি ওই কাফেরদের সাথে সন্ধির পরিবর্তে তোমাদেরকে যুদ্ধে লিপ্ত করতাম। কিন্তু আমি যুদ্ধ রোধ করেছি) এজন্য যে, আল্লাহ যাকে চান নিজ রহমতের ভেতর দাখিল করেন। ২৫ (অবশ্য) সেই মুসলিমগণ যদি সেখান থেকে সরে যেত তবে আমি তাদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দিতাম। ২৬

তাফসীরঃ

২৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম যেহেতু উমরা আদায়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তাই কুরবানী করার উদ্দেশ্যে সাথে পশুও নিয়েছিলেন, যেগুলোকে হরমে পৌঁছে কুরবানী করা বিধেয় ছিল। কাফেরদের বাধার কারণে সেগুলোকে হুদায়বিয়াতেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। যে স্থানে নিয়ে কুরবানী করার কথা, সেখানে সেগুলোকে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
২৬

اِذۡ جَعَلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الۡحَمِیَّۃَ حَمِیَّۃَ الۡجَاہِلِیَّۃِ فَاَنۡزَلَ اللّٰہُ سَکِیۡنَتَہٗ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَعَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَاَلۡزَمَہُمۡ کَلِمَۃَ التَّقۡوٰی وَکَانُوۡۤا اَحَقَّ بِہَا وَاَہۡلَہَا ؕ  وَکَانَ اللّٰہُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ٪ ٢٦

ইযজা‘আলাল্লাযীনা কাফারূফী কুলূবিহিমুল হামিইইয়াতা হামিইয়াতালজা-হিলিইইয়াতি ফাআনঝালাল্লা-হু ছাকীনাতাহূ‘আলা-রাছূলিহী ওয়া আলাল মু’মিনীনা ওয়া আলঝামাহুম কালিমাতাততাকওয়া-ওয়া কা-নূআহাক্কা বিহা-ওয়া আহ লাহা- ওয়া কা-নাল্লা-হু বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীমা-।

কাফেরগণ যখন তাদের অন্তরে অহমিকাকে স্থান দিল যা ছিল জাহেলী যুগের অহমিকা, তখন আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মুসলিমদের উপর নিজ প্রশান্তি বর্ষণ করলেন ২৭ এবং তাদেরকে তাকওয়ার বিষয়ে স্থিত করে রাখলেন ২৮ আর তারা তো এরই বেশি হকদার ও এর উপযুক্ত ছিল। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

২৭. কুরাইশ পক্ষ যদিও শেষ পর্যন্ত সন্ধি স্থাপনে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু যখন সন্ধিপত্র লেখার সময় আসল, তখন তারা কেবল জাহেলী অহমিকা ও আত্মম্ভরিতার কারণে এমন কিছু বিষয়ে বাড়াবাড়ি করছিল, যা সাহাবায়ে কেরামের পক্ষে চরম অপ্রীতিকর ছিল। যেমন সন্ধিপত্রের শুরুতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামبِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ লিখিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তাতে আপত্তি করল এবং গোঁ ধরে বসল যে, بِاسْمِكَ اللّٰهُمَّ লিখতে হবে। এমনিভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে رسول الله লেখা হয়েছিল। তারা তা মোছানোর জন্য জোরাজুরি করল। এসব কারণে সাহাবায়ে কেরাম খুবই ক্ষুব্ধ ছিলেন, কিন্তু সন্ধি স্থাপিত করাই যেহেতু ছিল আল্লাহ তাআলার অভিপ্রেত, তাই আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে বাড়তি সহিষ্ণুতা সঞ্চার করলেন। সেই সহিষ্ণুতাকেই এখানে ‘সাকীনা’ (প্রশান্তি) শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে।
২৭

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰہُ رَسُوۡلَہُ الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ ۚ لَتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰہُ اٰمِنِیۡنَ ۙ مُحَلِّقِیۡنَ رُءُوۡسَکُمۡ وَمُقَصِّرِیۡنَ ۙ لَا تَخَافُوۡنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا ٢٧

লাকাদ সাদাকাল্লা-হু রাছূলাহুর রু’ইয়া-বিলহাক্কি লাতাদখুলুন্নাল মাছজিদাল হারা-মা ইন শাআল্লা-হু আ-মিনীনা মুহালিলকীনা রুঊ’ছাকুম ওয়া মুকাসসিরীনা লা-তাখাফূনা ফা‘আলিমা মা-লাম তা‘লামূফাজা‘আলা মিন দূ নি যা-লিকা ফাতহান কারীবা-।

বস্তুত আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। আল্লাহ চান তো তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে নিরাপদে প্রবেশ করবে, এমন অবস্থায় যে, তোমরা (কিছু সংখ্যক) মাথা কামানো থাকবে এবং (কিছু সংখ্যক) থাকবে চুল ছাঁটা। ২৯ তোমাদের কোনো ভয় থাকবে না, আল্লাহ এমন সব বিষয় জানেন, যা তোমরা জান না। সুতরাং সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগে স্থির করে দিলেন এক আসন্ন বিজয়। ৩০

তাফসীরঃ

২৯. সূরার পরিচিতিতে বলা হয়েছে যে, হুদায়বিয়ার সফরের আগে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে দেখেছিলেন, তিনি উমরার উদ্দেশ্যে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেছেন। এ স্বপ্নের পরেই তিনি সমস্ত সাহাবীকে উমরার জন্য রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু হুদায়বিয়ায় পৌঁছার পর যখন সন্ধি স্থাপিত হল এবং উমরা আদায় ছাড়াই সকলকে ইহরাম খুলতে হল, তখন কারও কারও মনে খটকা লাগল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন তো ওহী হয়ে থাকে, কিন্তু এখন উমরা আদায় ব্যতিরেকে ফিরে যাওয়ার সাথে সেই স্বপ্নের মিল কোথায়? এ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে যে, সে স্বপ্ন নিঃসন্দেহে সত্য ছিল। কিন্তু তাতে মসজিদুল হারামে প্রবেশের কোন সময় নির্দিষ্ট করা হয়নি। এখনও সে স্বপ্ন সত্যই আছে। এ সফরে যদিও উমরা পালন করা যায়নি, কিন্তু ইনশাআল্লাহু তাআলা সে স্বপ্ন পূরণ হবেই। সুতরাং পরবর্তী বছর তা পূরণ হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণ নির্বিঘ্নে, নিরাপদে উমরা পালন করেছিলেন।
২৮

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ ؕ  وَکَفٰی بِاللّٰہِ شَہِیۡدًا ؕ ٢٨

হুওল্লাযীআরছালা রাছূলাহূবিলহুদা-ওয়া দীনিল হাক্কিলিইউজহিরাহূ‘আলাদ্দীনি কুল্লিহী ওয়া কাফা-বিল্লা-হি শাহীদা-।

তিনিই নিজ রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, অন্য সমস্ত দীনের উপর তাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আর (এর) সাক্ষ্য দানের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
২৯

مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰہِ ؕ  وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الۡکُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیۡنَہُمۡ تَرٰىہُمۡ رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانًا ۫  سِیۡمَاہُمۡ فِیۡ وُجُوۡہِہِمۡ مِّنۡ اَثَرِ السُّجُوۡدِ ؕ  ذٰلِکَ مَثَلُہُمۡ فِی التَّوۡرٰىۃِ ۚۖۛ  وَمَثَلُہُمۡ فِی الۡاِنۡجِیۡلِ ۚ۟ۛ  کَزَرۡعٍ اَخۡرَجَ شَطۡـَٔہٗ فَاٰزَرَہٗ فَاسۡتَغۡلَظَ فَاسۡتَوٰی عَلٰی سُوۡقِہٖ یُعۡجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیۡظَ بِہِمُ الۡکُفَّارَ ؕ  وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡہُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّاَجۡرًا عَظِیۡمًا ٪ ٢٩

মুহাম্মাদুর রাছূলুল্লা-হি ওয়াল্লাযীনা মা‘আহূআশিদ্দাউ ‘আলাল কুফফা-রি রুহামাউ বাইনাহুম তারা-হুম রুক্কা‘আন ছুজ্জাদাইঁ ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়া রিদওয়ানান ছীমা-হুম ফী উজূহিহিম মিন আছারিছছু জূদ যা-লিকা মাছালুহুম ফিততাওরা-তি ওয়া মাছালুহুম ফিল ইনজিলি কাঝার ‘ইন আখরাজা শাতআহূ ফাআ-ঝারাহূফাছতাগলাজা ফাছতাওয়া-‘আলা-ছূকিহী ইউ’জিবুঝঝুররা-‘আ লিইয়াগীজা বিহিমুল কুফফা-রা ওয়া ‘আদাল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি মিনহুম মাগফিরাতাওঁ ওয়া আজরান ‘আজীমা-।

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। ৩১ তাঁর সঙ্গে যারা আছে, তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং আপসের মধ্যে একে অন্যের প্রতি দয়ার্দ্র। তুমি তাদেরকে দেখবে (কখনও) রুকুতে, (কখনও) সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত। তাদের আলামত তাদের চেহারায় পরিস্ফুট, সিজদার ফলে। এই হল তাদের সেই গুণাবলী, যা তাওরাতে বর্ণিত আছে। ৩২ আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত এই, যেন এক শস্যক্ষেত্র, যা তার কুঁড়ি বের করল, তারপর তাকে শক্ত করল। তারপর তা পুষ্ট হল। তারপর তা নিজ কাণ্ডের উপর এভাবে সোজা দাঁড়িয়ে গেল যে, তা কৃষকদেরকে মুগ্ধ করে ফেলে। ৩৩ এটা এইজন্য যে, আল্লাহ তাদের (উন্নতি) দ্বারা কাফেরদের অন্তর্দাহ সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে মাগফিরাত ও মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তাফসীরঃ

৩১. পূর্বে ২৭ নং টীকায় বলা হয়েছে যে, সন্ধিপত্র লিপিবদ্ধ করার সময় কাফেরগণ আপত্তি করেছিল যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ লেখা যাবে না। শেষ পর্যন্ত লিখতে হয়েছিল ‘মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ। আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে ইশারা করেছেন যে, কাফেরগণ স্বীকার করুক আর নাই করুক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূলই। এটা বাস্তব সত্য। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে এ সত্যের উপর কিয়ামত পর্যন্তের জন্য সীলমোহর করে দিয়েছেন।