সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল জাছিয়াহ (الجاثية) | নতজানু

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩৭

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ٢

তানঝীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আঝীঝিল হাকীম।

এ কিতাব নাযিল করা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

اِنَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ لَاٰیٰتٍ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ؕ ٣

ইন্না ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিলাআ-য়া-তিল লিলমু’মিনীন।

প্রকৃতপক্ষে বিশ্বাসীদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে বহু নিদর্শন আছে।

وَفِیۡ خَلۡقِکُمۡ وَمَا یَبُثُّ مِنۡ دَآبَّۃٍ اٰیٰتٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ۙ ٤

ওয়াফী খালকিকুম ওয়ামা-ইয়াবুছছু মিন দাব্বাতিন আ-য়া-তুল লিকাওমিইঁ ইউকিনূন।

এবং খোদ তোমাদের সৃজন ও সেইসব জীবের মধ্যেও, যা তিনি (পৃথিবীতে) ছড়িয়ে দিয়েছেন, যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে সেইসব লোকের জন্য আছে বহু নিদর্শন।

وَاخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ مِنَ السَّمَآءِ مِنۡ رِّزۡقٍ فَاَحۡیَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا وَتَصۡرِیۡفِ الرِّیٰحِ اٰیٰتٌ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ٥

ওয়াখতিলা-ফিল্লাইলি ওয়া ন্নাহা-রি ওয়ামাআনঝালাল্লা-হু মিনাছ ছামাই মির রিঝকিন ফাআহইয়া- বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- ওয়া তাসরীফির রিয়া-হি আ-য়া-তুল লিকাওমিইঁ ইয়া‘কিলূন।

(তাছাড়া) রাত-দিনের পরিবর্তনের মধ্যে, আল্লাহ আকাশ থেকে জীবিকার যে মাধ্যম অবতীর্ণ করেছেন, তারপর তা দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর নতুন জীবন দান করেছেন, তার মধ্যে এবং বায়ুর পরিবর্তনের মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেইসব লোকের জন্য যারা বোধশক্তিকে কাজে লাগায়।

تِلۡکَ اٰیٰتُ اللّٰہِ نَتۡلُوۡہَا عَلَیۡکَ بِالۡحَقِّ ۚ فَبِاَیِّ حَدِیۡثٍۭ بَعۡدَ اللّٰہِ وَاٰیٰتِہٖ یُؤۡمِنُوۡنَ ٦

তিলকা আ-য়া-তুল্লা-হি নাতলূহা-‘আলাইকা বিলহাক্কিফাবিআইয়ি হাদীছিম বা‘দাল্লা-হি ওয়া আ-য়া-তিহী ইউ’মিনূন।

এসব আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমাকে যথাযথভাবে পড়ে শোনাচ্ছি। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পর এমন কোন জিনিস আছে, যার উপর তারা ঈমান আনবে?

وَیۡلٌ لِّکُلِّ اَفَّاکٍ اَثِیۡمٍ ۙ ٧

ওয়াইলুলিল কুল্লি আফফা-কিন আছীম।

দুর্গতি হোক প্রত্যেক এমন মিথ্যুক পাপিষ্ঠের

یَّسۡمَعُ اٰیٰتِ اللّٰہِ تُتۡلٰی عَلَیۡہِ ثُمَّ یُصِرُّ مُسۡتَکۡبِرًا کَاَنۡ لَّمۡ یَسۡمَعۡہَا ۚ فَبَشِّرۡہُ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٨

ইয়াছমা‘উ আ-য়া-তিল্লা-হি তুতলা-‘আলাইহি ছুম্মা ইউসিররু মুছতাকবিরান কাআল্লাম ইয়াছমা‘হা- ফাবাশশিরহু বি‘আযা-বিন আলীম।

যে আল্লাহর আয়াতসমূহ শোনে, যখন তাকে পড়ে শোনানো হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও সে ঔদ্ধত্যের সাথে এমনভাবে (কুফরের উপর) অটল থাকে, যেন আয়াতসমূহ শোনেইনি। সুতরাং এমন ব্যক্তিকে যন্ত্রণাময় শাস্তির সুসংবাদ (?) শোনাও।

وَاِذَا عَلِمَ مِنۡ اٰیٰتِنَا شَیۡئَۨا اتَّخَذَہَا ہُزُوًا ؕ  اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ؕ ٩

ওয়া ইযা-‘আলিমা মিন আ-য়া-তিনা-শাইআনিত্তাখাযাহা-হুঝুওয়া- উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।

যখন আমার আয়াতসমূহের মধ্য হতে কোন আয়াত তার জ্ঞানগোচর হয়, তখন সে তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। এরূপ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
১০

مِنۡ وَّرَآئِہِمۡ جَہَنَّمُ ۚ  وَلَا یُغۡنِیۡ عَنۡہُمۡ مَّا کَسَبُوۡا شَیۡئًا وَّلَا مَا اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اَوۡلِیَآءَ ۚ  وَلَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ؕ ١۰

মিওঁ ওয়ারাইহিম জাহান্নামু ওয়ালা-ইউগনী ‘আনহুম মা-কাছাবূশাইআওঁ ওয়ালামাত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি আওলিয়াআ ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

তাদের সামনে আছে জাহান্নাম। তারা যা-কিছু অর্জন করেছে তা তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে নিজেদের অভিভাবক বানিয়েছে তারাও না। তাদের জন্য আছে এক মহাশাস্তি।
১১

ہٰذَا ہُدًی ۚ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّہِمۡ لَہُمۡ عَذَابٌ مِّنۡ رِّجۡزٍ اَلِیۡمٌ ٪ ١١

হা-যা-হুদাওঁ ওয়াল্লাযীনা কাফারূবিআ-য়া-তি রাব্বিহিম লাহুম ‘আযা-বুম মির রিজঝিন আলীম।

এটা (অর্থাৎ কুরআন আদ্যোপান্ত) হেদায়াত। যারা নিজ প্রতিপালকের আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে তাদের জন্য আছে মহা মুসিবতের মর্মন্তুদ শাস্তি।
১২

اَللّٰہُ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَکُمُ الۡبَحۡرَ لِتَجۡرِیَ الۡفُلۡکُ فِیۡہِ بِاَمۡرِہٖ وَلِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ۚ ١٢

আল্লা-হুল্লাযী ছাখখারা লাকুমুল বাহরা লিতাজরিয়াল ফুলকুফীহি বিআমরিহী ওয়ালিতাবতাগূ মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি সাগরকে তোমাদের কাজে নিযুক্ত করেছেন, যাতে তাঁর নির্দেশে তাতে চলে জলযান এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা তাঁর শোকর আদায় কর।

তাফসীরঃ

১. পূর্বে বহু জায়গায় বলা হয়েছে, কুরআন মাজীদের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার ‘অনুগ্রহ সন্ধান’-এর অর্থ জীবিকা সন্ধান ও আয়-রোজগারে লিপ্ত হওয়া। এখানে ব্যবসা উপলক্ষে সামুদ্রিক সফর বোঝানো হয়েছে।
১৩

وَسَخَّرَ لَکُمۡ مَّا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا مِّنۡہُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ١٣

ওয়া ছাখখারা লাকুম মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিজামী‘আম মিনহু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিলিলকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা সবই তিনি নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

তাফসীরঃ

২. منه ‘নিজের পক্ষ থেকে’ অর্থাৎ নিজ অনুগ্রহেই তিনি এসব করেছেন এবং তিনি একাই করেছেন। এতে অন্য কেউ তার শরীক নেই। -অনুবাদক
১৪

قُلۡ لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا یَغۡفِرُوۡا لِلَّذِیۡنَ لَا یَرۡجُوۡنَ اَیَّامَ اللّٰہِ لِیَجۡزِیَ قَوۡمًۢا بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ١٤

কুল লিল্লাযীনা আ-মানূইয়াগফিরূলিল্লাযীনা লা-ইয়ারজূনা আইয়া-মাল্লা-হি লিইয়াজঝিয়া কাওমাম বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।

(হে রাসূল!) যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বল, যারা আল্লাহর দিনসমূহের ভয় রাখে না, তাদেরকে যেন ক্ষমা করে। এইজন্য যে, আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দান করবেন।

তাফসীরঃ

৩. ‘আল্লাহর দিনসমূহ’ দ্বারা আল্লাহ তাআলা যেসব দিনে মানুষকে তাদের কর্মের পুরস্কার বা শাস্তি দেন, সেইগুলোকে বোঝানো হয়েছে, তা দুনিয়ায় হোক বা আখেরাতে। বলা হচ্ছে যে, যারা এরূপ দিন সম্বন্ধে সম্পূর্ণ চিন্তাহীন; বরং এরূপ দিনের আগমনকে অস্বীকার করে তাদেরকে ক্ষমা কর।
১৫

مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفۡسِہٖ ۚ وَمَنۡ اَسَآءَ فَعَلَیۡہَا ۫ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ تُرۡجَعُوۡنَ ١٥

মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিনাফছিহী ওয়ামান আছাআ ফা‘আলাইহা- ছু ম্মা ইলা-রাব্বিকুম তুর জা‘ঊন।

যে ব্যক্তিই সৎকর্ম করে সে তা করে নিজের কল্যাণার্থে আর যে-কেউ মন্দ কর্ম করে, সে নিজেরই ক্ষতি করে। অবশেষে তোমাদের সকলকে তোমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
১৬

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡکِتٰبَ وَالۡحُکۡمَ وَالنُّبُوَّۃَ وَرَزَقۡنٰہُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ وَفَضَّلۡنٰہُمۡ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ ١٦

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-বানীইছরাঈলাল কিতা-বা ওয়াল হুকমা ওয়ান নুবুওওয়াতা ওয়া রাঝাকনা-হুম মিনাত্তাইয়িবা-তি ওয়া ফাদ্দালনা-হুম ‘আলাল ‘আ-লামীন।

আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নবুওয়াত দান করেছিলাম, তাদেরকে উৎকৃষ্ট বস্তু সমূহের রিযক দিয়েছিলাম এবং জগদ্বাসীর উপর তাদেরকে দিয়েছিলাম শ্রেষ্ঠত্ব।
১৭

وَاٰتَیۡنٰہُمۡ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ ۚ فَمَا اخۡتَلَفُوۡۤا اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡعِلۡمُ ۙ بَغۡیًۢا بَیۡنَہُمۡ ؕ اِنَّ رَبَّکَ یَقۡضِیۡ بَیۡنَہُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ١٧

ওয়া আ-তাইনা-হুম বাইয়িনা-তিম মিনাল আমরি ফামাখ তালাফূইল্লা-মিম বা‘দি মাজাআহুমুল ‘ইলমু বাগইয়াম বাইনাহুম ইন্না রাব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।

আর তাদেরকে দিয়েছিলাম দীনের সুস্পষ্ট বিধানাবলী। অতঃপর তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছিল তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরই, কেবল তাদের পারস্পরিক বিদ্বেষবশত। তারা যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করে, তোমার প্রতিপালক নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তার মধ্যে ফায়সালা করে দিবেন।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ বনী ইসরাঈলকে তাওরাতের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা একে অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং তার ফলে তাদের আপসের মধ্যে অনৈক্য ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়ে যায়।
১৮

ثُمَّ جَعَلۡنٰکَ عَلٰی شَرِیۡعَۃٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ فَاتَّبِعۡہَا وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَ الَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ١٨

ছু ম্মা জা‘আল না-কা ‘আলা- শারী‘আতিম মিনাল আমরি ফাত্তাবি‘হা- ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।

(হে রাসূল!) আমি তোমাকে দীনের এক বিশেষ শরীয়তের উপর রেখেছি। সুতরাং তুমি তারই অনুসরণ কর এবং যারা প্রকৃত জ্ঞান রাখে না, তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না।
১৯

اِنَّہُمۡ لَنۡ یُّغۡنُوۡا عَنۡکَ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ وَاِنَّ الظّٰلِمِیۡنَ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ۚ وَاللّٰہُ وَلِیُّ الۡمُتَّقِیۡنَ ١٩

ইন্নাহুম লাইঁ ইউগনূ‘আনকা মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া ইন্নাজ্জা-লিমীনা বা‘দুহুম আওলিয়াউ বা‘দিওঁ ওয়াল্লা-হু ওয়ালিইয়ুল মুত্তাকীন।

আল্লাহর বিপরীতে তারা তোমার কিছুমাত্র কাজে আসবে না। বস্তুত জালেমগণ একে অন্যের বন্ধু আর আল্লাহ বন্ধু মুত্তাকীদের।
২০

ہٰذَا بَصَآئِرُ لِلنَّاسِ وَہُدًی وَّرَحۡمَۃٌ لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ٢۰

হা-যা-বাসাইরু লিন্না-ছি ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতুল লিকাওমিইঁ ইউকিনূন।

এটা (কুরআন) সমস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত জ্ঞানের সমষ্টি এবং যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।
২১

اَمۡ حَسِبَ الَّذِیۡنَ اجۡتَرَحُوا السَّیِّاٰتِ اَنۡ نَّجۡعَلَہُمۡ کَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ  سَوَآءً مَّحۡیَاہُمۡ وَمَمَاتُہُمۡ ؕ  سَآءَ مَا یَحۡکُمُوۡنَ ٪ ٢١

আম হাছিবাল্লাযীনাজ তারাহুছ ছাইয়িআ-তি আন নাজ‘আলাহুম কাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছাওয়াআম মাহইয়া-হুম ওয়া মামা-তুহুম ছাআমাইয়াহকুমূন।

যারা অসৎ কার্যাবলীতে লিপ্ত হয়েছে, তারা কি ভেবেছে আমি তাদেরকে সেই সকল লোকের সম গণ্য করব, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, ফলে তাদের জীবন ও মরণ একই রকম হয়ে যাবে? তারা যা সিদ্ধান্ত করে রেখেছে তা কতই না মন্দ!

তাফসীরঃ

৭. এর দ্বারা আখেরাতের জীবনের অপরিহার্যতা বর্ণনা করা হচ্ছে। আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়টা না থাকলে ভালো-মন্দ সকল মানুষ সমান হয়ে যায় এবং যারা দুনিয়ায় শরীয়ত অনুযায়ী চলতে গিয়ে অনেক শ্রম-সাধনা করেছে ও বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ হতে নানা রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে, মৃত্যুর পর তারা এ ত্যাগের বিনিময়ে কোন পুরস্কার না পাওয়ার কারণে তাদের জীবন ও মরণ বিলকুল সমান হয়ে যায়। বলাবাহুল্য এরূপ বে-ইনসাফী আল্লাহ তাআলা করতে পারেন না। সুতরাং পরের আয়াতে বলা হয়েছে, আমি এ বিশ্ব-জগতকে এই ন্যায়ানুগ উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি যে, প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের বদলা দেওয়া হবে।
২২

وَخَلَقَ اللّٰہُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ وَلِتُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٢٢

ওয়া খালাকাল্লা-হুছ ছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদাবিলহাক্কি ওয়া লিতুজঝা-কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।

আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী যথাযথ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন এবং তা করেছেন এজন্য যে, প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে যখন তাদের প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।

তাফসীরঃ

৮. আয়াতে وَهُمْ لَايُظْلَمُوْنَ বাক্যটিকে تُجْزٰى كُـلُّ نَفْسٍ -এর حال (অবস্থাজ্ঞাপক) ধরে সে অনুযায়ীই তরজমা করা হয়েছে।
২৩

اَفَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـہَہٗ ہَوٰىہُ وَاَضَلَّہُ اللّٰہُ عَلٰی عِلۡمٍ وَّخَتَمَ عَلٰی سَمۡعِہٖ وَقَلۡبِہٖ وَجَعَلَ عَلٰی بَصَرِہٖ غِشٰوَۃً ؕ فَمَنۡ یَّہۡدِیۡہِ مِنۡۢ بَعۡدِ اللّٰہِ ؕ اَفَلَا تَذَکَّرُوۡنَ ٢٣

আফারাআইতা মানিত্তাখাযা ইলা-হাহূহাওয়া-হু ওয়া আদাল্লাহুল্লা-হু ‘আলা-‘ইলমিওঁ ওয়াখাতামা ‘আলা-ছাম‘ইহী ওয়া কালবিহী ওয়া জা‘আলা ‘আলা-বাসারিহী গিশা-ওয়াতান ফামাইঁ ইয়াহদীহি মিম বা‘দিল্লা-হি আফালা-তাযাক্কারূন।

তুমি কি দেখেছ তাকে, যে তার খেয়াল-খুশীকে নিজ মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে এবং জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেছেন এবং তার কান ও অন্তরে মোহর করে দিয়েছেন আর তার চোখের উপর পর্দা ফেলে দিয়েছেন? অতএব, আল্লাহর পর এমন কে আছে, যে তাকে সুপথে নিয়ে আসবে? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ সত্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা সত্ত্বেও সে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং উপর্যুপরি তার বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত থেকেছে, ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার বিপথগামিতার মধ্যেই ফেলে রেখেছেন। -অনুবাদক
২৪

وَقَالُوۡا مَا ہِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا نَمُوۡتُ وَنَحۡیَا وَمَا یُہۡلِکُنَاۤ اِلَّا الدَّہۡرُ ۚ وَمَا لَہُمۡ بِذٰلِکَ مِنۡ عِلۡمٍ ۚ اِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَظُنُّوۡنَ ٢٤

ওয়া কা-লূমা-হিয়া ইল্লা-হায়া-তুনাদ্দুনইয়া-নামূতুওয়া নাহইয়া-ওয়ামা-ইউহলিকুনা ইল্লাদ্দাহরু ওয়ামা-লাহুম বিযা-লিকা মিন ‘ইলমিন ইনহুম ইল্লা-ইয়াজু ন্নূন।

তারা বলে, জীবন বলতে যা-কিছু তা ব্যস আমাদের এই পার্থিব জীবনই। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি, আর আমাদেরকে কেবল কালই ধ্বংস করে, অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনই জ্ঞান নেই। তারা কেবল ধারণাই করে।
২৫

وَاِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتُنَا بَیِّنٰتٍ مَّا کَانَ حُجَّتَہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوا ائۡتُوۡا بِاٰبَآئِنَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٢٥

ওয়া ইযা-তুতলা ‘আলাইহিম আ-য়া-তুনা-বাইয়িনা-তিম মা-কা-না হুজ্জাতাহুম ইল্লা আন কা-লু’তূবিআ-বাইনাইন কুনতুম সা-দিকীন।

যখন আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে তাদেরকে পড়ে শোনানো হয়, তখন তাদের কোন যুক্তি থাকে না এই কথা বলা ছাড়া যে, তোমরা সত্যবাদী হলে আমাদের বাপ-দাদাদেরকে (জীবিত করে) নিয়ে এসো।
২৬

قُلِ اللّٰہُ یُحۡیِیۡکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یَجۡمَعُکُمۡ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَا رَیۡبَ فِیۡہِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٢٦

কুল্লিলা-হু ইউহঈকুম ছু ম্মা ইয়াজমা‘উকুম ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি লা-রাইবা ফীহি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

বলে দাও, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন তারপর কিয়ামতের দিন তোমাদের সকলকে সমবেত করবেন, ১০ যে বিষয়ে কোন রকম সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোকে বোঝে না।

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ আখেরাতে বিশ্বাসের মানে হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষকে একত্র করবেন। এমন নয় যে, তিনি এ দুনিয়াতেই মৃতদেরকে জীবিত করবেন। সুতরাং আখেরাতের আকীদার বিপরীতে তোমাদের এই দাবি বিলকুল অবান্তর যে, ‘আমাদের বাপ-দাদাদেরকে জীবিত করে আন। বাকি এই প্রশ্ন যে, মৃতদের পুনরায় জীবিত হওয়া তো অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার, এর উত্তর হল, যেই আল্লাহ তোমাদেরকে প্রথমবার সম্পূর্ণ নাস্তি হতে সৃষ্টি করেছেন, তার পক্ষে তোমাদের জান কবয করার পর পুনরায় সৃষ্টি করা কঠিন হবে কেন? বিশেষত যখন এই মহা বিশ্বের রাজত্ব কেবল তারই হাতে?
২৭

وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ یَوۡمَئِذٍ یَّخۡسَرُ الۡمُبۡطِلُوۡنَ ٢٧

ওয়া লিল্লা-হি মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছছা-‘আতু ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াখছারুল মুবতিলূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন বাতিলপন্থীগণ কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২৮

وَتَرٰی کُلَّ اُمَّۃٍ جَاثِیَۃً ۟ کُلُّ اُمَّۃٍ تُدۡعٰۤی اِلٰی کِتٰبِہَا ؕ اَلۡیَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٢٨

ওয়া তারা-কুল্লা উম্মাতিন জা-ছিয়াতান কুল্লুউম্মাতিন তুদ ‘আইলা-কিতা-বিহা- আলইয়াওমা তুজঝাওনা মা-কুন তুম তা‘লামূন।

আর তুমি প্রত্যেক দলকে দেখবে হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে আছে ১১ এবং প্রত্যেক দলকে তাদের আমলনামার দিকে ডাকা হবে (এবং বলা হবে,) আজ তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মের বদলা দেওয়া হবে।

তাফসীরঃ

১১. কিয়ামতের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে একটা ধাপ এমনও আসবে যে, তার বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখে মানুষ অবচেতনভাবে হাঁটু ভেঙ্গে পড়ে যাবে বা বসে পড়বে।
২৯

ہٰذَا کِتٰبُنَا یَنۡطِقُ عَلَیۡکُمۡ بِالۡحَقِّ ؕ اِنَّا کُنَّا نَسۡتَنۡسِخُ مَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٢٩

হা-যা-কিতা-বুনা-ইয়ানতিকু‘আলাইকুম বিলহাক্কি ইন্না-কুন্না-নাছতানছিখুমাকুনতুম তা‘মালূন।

এটা আমার (লিপিবদ্ধ করানো) দফতর, যা তোমাদের সম্পর্কে সত্য বলছে। তোমরা যা-কিছু করতে আমি তা সবই লিপিবদ্ধ করাতাম।
৩০

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُدۡخِلُہُمۡ رَبُّہُمۡ فِیۡ رَحۡمَتِہٖ ؕ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡمُبِیۡنُ ٣۰

ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাইউদখিলুহুম রাব্বুহুম ফী রাহমাতিহী যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল মুবীন।

সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তো তাদের প্রতিপালক নিজ রহমতের ভেতর দাখিল করবেন। এটাই সুস্পষ্ট সফলতা।
৩১

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ۟ اَفَلَمۡ تَکُنۡ اٰیٰتِیۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ فَاسۡتَکۡبَرۡتُمۡ وَکُنۡتُمۡ قَوۡمًا مُّجۡرِمِیۡنَ ٣١

ওয়া আম্মাল্লাযীনা কাফারূ আফালাম তাকুন আ-য়া-তী তুতলা-‘আলাইকুম ফাছতাকবারতুম ওয়া কুনতুম কাওমাম মুজরিমীন।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছিল, (তাদেরকে বলা হবে) তোমাদের সামনে কি আমার আয়াতসমূহ পড়া হত না? তা সত্ত্বেও তোমরা অহংকার করেছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।
৩২

وَاِذَا قِیۡلَ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّالسَّاعَۃُ لَا رَیۡبَ فِیۡہَا قُلۡتُمۡ مَّا نَدۡرِیۡ مَا السَّاعَۃُ ۙ اِنۡ نَّظُنُّ اِلَّا ظَنًّا وَّمَا نَحۡنُ بِمُسۡتَیۡقِنِیۡنَ ٣٢

ওয়া ইযা-কীলা ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়াছছা-‘আতুলা-রাইবা ফীহা-কুলতুম মানাদরী মাছ ছা-‘আতু ইন নাজুন্নুইল্লা-জান্নাওঁ ওয়ামা-নাহনুবিমুছতাইকিনীন।

এবং যখন তোমাদেরকে বলা হত, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামত এমন এক বাস্তবতা, যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে, আমরা জানি না কিয়ামত কী? এ সম্পর্কে আমরা মনে করি এটা একটা ধারণা মাত্র। এ সম্পর্কে আমরা বিলকুল বিশ্বাসী নই।
৩৩

وَبَدَا لَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٣٣

ওয়া বাদা- লাহুম ছাইয়িআ-তু মা-‘আমিলূ ওয়া হা-কাবিহিমমা-কা-নূ বিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

এবং তারা যা কিছু করেছিল (তখন) তার মন্দত্ব তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে। আর তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা তাদেরকে বেষ্টন করে ফেলবে। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ কাফেরগণ জাহান্নামের যে আযাব নিয়ে হাসি-তামাশা করত, সেই আযাবই তাদেরকে বেষ্টন করে ফেলবে।
৩৪

وَقِیۡلَ الۡیَوۡمَ نَنۡسٰکُمۡ کَمَا نَسِیۡتُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا وَمَاۡوٰىکُمُ النَّارُ وَمَا لَکُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٣٤

ওয়া কীলাল ইয়াওমা নানছা-কুম কামা-নাছীতুম লিকাআ ইয়াওমিকুম হা-যা-ওয়ামা’ ওয়া-কুমুন্না-রু ওয়া মা-লাকুম মিন না-সিরীন।

তাদেরকে বলা হবে, আজ আমি সেইভাবেই তোমাদেরকে বিস্মৃত হব, যেমন তোমরা তোমাদের এই দিবসের সম্মুখীন হওয়াকে বিস্মৃত হয়েছিলে। তোমাদের ঠিকানা আগুন এবং তোমাদের কোন রকমের সাহায্যকারী থাকবে না।
৩৫

ذٰلِکُمۡ بِاَنَّکُمُ اتَّخَذۡتُمۡ اٰیٰتِ اللّٰہِ ہُزُوًا وَّغَرَّتۡکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ۚ فَالۡیَوۡمَ لَا یُخۡرَجُوۡنَ مِنۡہَا وَلَا ہُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ ٣٥

যা-লিকুম বিআন্নাকুমুত্তাখাযতুম আ-য়া-তিল্লা-হি হুঝুওয়াওঁ ওয়াগাররাতকুমুল হা-য়াতুদ্দুনইয়া- ফালইয়াওমা লা-ইউখরাজূনা মিনহা-ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।

তা এ কারণে যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বস্তু বানিয়েছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। সুতরাং আজ এরূপ লোকদেরকে তা থেকে বের করা হবে না এবং তাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করতেও বলা হবে না। ১৩

তাফসীরঃ

১৩. মৃত্যু পর্যন্ত সারা জীবন মানুষের তাওবার দুয়ার খোলা থাকে ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে। কিন্তু মৃত্যুর পর এ দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। তখন ক্ষমা প্রার্থনার কোন ফায়দা থাকে না। তাই আখেরাতে কাউকে বলা হবে না যে, ক্ষমা চেয়ে নাও। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সে পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন।
৩৬

فَلِلّٰہِ الۡحَمۡدُ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَرَبِّ الۡاَرۡضِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٣٦

ফালিল্লা-হিল হামদুরাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়া রাব্বিল আরদিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

মোদ্দাকথা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলীর মালিক, পৃথিবীর মালিক, জগতসমূহেরও মালিক।
৩৭

وَلَہُ الۡکِبۡرِیَآءُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۪  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ٣٧

ওয়ালাহুল কিবরিয়াউ ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

এবং সমস্ত গৌরব তাঁরই, আকাশমণ্ডলীতেও এবং পৃথিবীতেও। এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।