সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আয্‌-যুখরুফ (الزخرف) | সোনাদানা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮৯

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚۛ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

وَالۡکِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ۙۛ ٢

ওয়াল কিতা-বিল মুবীন।

শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।

اِنَّا جَعَلۡنٰہُ قُرۡءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ۚ ٣

ইন্না-জা‘আলনা-হু কুরআ-নান ‘আরাবিইইয়াল লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।

আমি একে বানিয়েছি আরবী কুরআন, যাতে তোমরা বুঝতে পার।

وَاِنَّہٗ فِیۡۤ اُمِّ الۡکِتٰبِ لَدَیۡنَا لَعَلِیٌّ حَکِیۡمٌ ؕ ٤

ওয়া ইন্নাহূফীউম্মিল কিতা-বি লাদাইনা-লা‘আলিইয়ুন হাকীম।

প্রকৃতপক্ষে এটা আমার নিকট মূল গ্রন্থে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, হেকমত- পূর্ণ কিতাব।

তাফসীরঃ

১. উম্মুল-কিতাব বা মূলগ্রন্থ হল লাওহে মাহফুজ (সুরক্ষিত ফলক)। কুরআন মাজীদসহ সমস্ত আসমানী কিতাব দুনিয়ায় নাযিল হওয়ার আগে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল। তাই তাকে উম্মুল-কিতাব বলা হয়ে থাকে। -অনুবাদক

اَفَنَضۡرِبُ عَنۡکُمُ الذِّکۡرَ صَفۡحًا اَنۡ کُنۡتُمۡ قَوۡمًا مُّسۡرِفِیۡنَ ٥

আফানাদরিবু‘আনকুমুযযিকরা সাফহান আন কুনতুম কাওমাম মুছরিফীন।

আমি কি বিমুখ হয়ে তোমাদের থেকে এ কিতাব প্রত্যাহার করে নেব এ কারণে যে, তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?

তাফসীরঃ

৩. এটা আল্লাহ তাআলার অপার রহমতের দাবি যে, যারা অবাধ্যতায় সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে তাদেরকেও হেদায়াতের পথ দেখানো হবে। বোঝানো হচ্ছে, তোমরা পছন্দ কর বা নাই কর, আমি তোমাদেরকে হেদায়াতের পথ জানানো ও উপদেশ দান থেকে বিরত হব না।

وَکَمۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ نَّبِیٍّ فِی الۡاَوَّلِیۡنَ ٦

ওয়া কাম আরছালনা-মিন নাবিইয়িন ফিল আওওয়ালীন।

আমি তো পূর্ববর্তীদের মাঝেও কত নবী পাঠিয়েছি!

وَمَا یَاۡتِیۡہِمۡ مِّنۡ نَّبِیٍّ اِلَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٧

ওয়ামা-ইয়া’তীহিম মিন নাবিইয়িন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝি’ঊন।

তাদের কাছে এমন কোন নবী আসেনি, যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত না।

فَاَہۡلَکۡنَاۤ اَشَدَّ مِنۡہُمۡ بَطۡشًا وَّمَضٰی مَثَلُ الۡاَوَّلِیۡنَ ٨

ফাআহলাকনাআশাদ্দা মিনহুম বাতশাওঁ ওয়া মাদা-মাছালুল আওওয়ালীন।

অতঃপর যারা এদের (অর্থাৎ মক্কাবাসীদের) অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী ছিল। তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি। আর সেই পূর্ববর্তীদের অবস্থা তো গত হয়েছে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ পূর্ববর্তী কত অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের ধ্বংসের দৃষ্টান্ত গত হয়েছে এবং পূর্বে বলা হয়েছে, তারা শক্তিমত্তায় তোমাদের চেয়ে উপরে ছিল। তোমরা তা দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পার যে, আল্লাহর ধরা থেকে যখন তারাই বাঁচতে পারেনি, তখন তোমরাও বাঁচতে পারবে না? (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী থেকে।)

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ خَلَقَہُنَّ الۡعَزِیۡزُ الۡعَلِیۡمُ ۙ ٩

ওয়া লাইন ছাআলতাহুম মান খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদালাইয়াকূলুন্না খালাকাহুন্নাল ‘আঝীঝুল ‘আলীম।

তুমি যদি তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) জিজ্ঞেস কর, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন সেই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)।
১০

الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ مَہۡدًا وَّجَعَلَ لَکُمۡ فِیۡہَا سُبُلًا لَّعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ۚ ١۰

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ফীহা-ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বানিয়েছেন বিছানা এবং তোমাদের জন্য তাতে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।
১১

وَالَّذِیۡ نَزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ ۚ فَاَنۡشَرۡنَا بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا ۚ کَذٰلِکَ تُخۡرَجُوۡنَ ١١

ওয়াল্লাযী নাঝঝালা মিনাছ ছামাই মাআম বিকাদারিন ফাআনশারনা-বিহী বালদাতাম মাইতান কাযা-লিকা তুখরাজুন।

যিনি আসমান থেকে বারি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে। তারপর আমি তার মাধ্যমে এক মৃত অঞ্চলকে নতুন জীবন দান করি। এভাবেই তোমাদেরকে (কবর থেকে) বের করে নতুন জীবন দান) করা হবে।
১২

وَالَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَزۡوَاجَ کُلَّہَا وَجَعَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡفُلۡکِ وَالۡاَنۡعَامِ مَا تَرۡکَبُوۡنَ ۙ ١٢

ওয়াল্লাযী খালাকাল আঝওয়া-জা কুল্লাহা- ওয়াজা‘আলা লাকুম মিনাল ফুলকি ওয়াল আন‘আমি মাতারকাবূন।

এবং যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহন করে থাক।

তাফসীরঃ

৫. মানুষ যেসব বাহনে আরোহণ করে তা দু’রকম। (এক) এমন সব বাহন, যার নির্মাণে মানুষের কোনও না কোনও রকমের ভূমিকা থাকে। নৌযান দ্বারা এ জাতীয় বাহনের দিকে ইশারা করা হয়েছে। (দুই) দ্বিতীয় প্রকারের বাহন এমন, যার তৈরিতে মানুষের কোনও রকম ভূমিকা থাকে না, যেমন ঘোড়া, উট ও সওয়ারীর অন্যান্য জন্তু। চতুষ্পদ জন্তু বলে এ জাতীয় বাহনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আয়াতে বোঝানো উদ্দেশ্য যে, উভয় প্রকারের যানবাহন মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নি‘আমত। মানুষ যেসব পশুতে আরোহণ করে, তা মানুষ অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে মানুষের এমন বশীভূত করে দিয়েছেন যে, একটি শিশুও লাগাম ধরে তাদেরকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারে। যে সকল যানবাহন তৈরিতে মানুষের কিছুটা ভূমিকা থাকে, যেমন নৌকা, জাহাজ, রেলগাড়ি প্রভৃতি, তার কাঁচামালও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে এমন যোগ্যতা ও ক্ষমতা দান করেছেন, যার বলে সে তা দ্বারা এসব যানবাহন তৈরি করতে পারছে।
১৩

لِتَسۡتَوٗا عَلٰی ظُہُوۡرِہٖ ثُمَّ تَذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ رَبِّکُمۡ اِذَا اسۡتَوَیۡتُمۡ عَلَیۡہِ وَتَقُوۡلُوۡا سُبۡحٰنَ الَّذِیۡ سَخَّرَ لَنَا ہٰذَا وَمَا کُنَّا لَہٗ مُقۡرِنِیۡنَ ۙ ١٣

লিতাছতায়ূ‘আলা-জু হূরিহী ছু ম্মা তাযকুরূনি‘মাতা রাব্বিকুম ইযাছতাওয়াইতুম ‘আলাইহি ওয়া তাকূলূছুবহা-নাল্লাযী ছাখখারা লানা-হাযা-ওয়ামা-কুন্না-লাহূমুকরিনীন।

যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার, তারপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের নি‘আমত স্মরণ কর এবং বল, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না।
১৪

وَاِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنۡقَلِبُوۡنَ ١٤

ওয়া ইন্নাইলা-রাব্বিনা লামুনকালিবূন।

নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।

তাফসীরঃ

৬. এটা যানবাহনে চড়ার দুআ। চড়ার সময় এ দুআ পড়তে হয়। এতে প্রথমত স্বীকার করা হয়েছে যে, যানবাহন আল্লাহ তাআলার নেয়ামত। তিনি এ নি‘আমত দান না করলে মানুষের পক্ষে একে আয়ত্ত করা সম্ভব ছিল না আর সেক্ষেত্রে মানুষকে অশেষ কষ্টের সম্মুখীন হতে হত। দ্বিতীয়ত দুআর শেষ বাক্যে এ দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, যে-কোনও সফরকালে তাকে মনে রাখতে হবে, তার একটি আখেরী সফরও আছে, যখন তাকে এ দুনিয়া ছেড়ে নিজ প্রতিপালকের কাছে চলে যেতে হবে। তখন তাঁর কাছে নিজের সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে। কাজেই এখানে থাকা অবস্থায় এমন কোন কাজ করা উচিত হবে না, যদ্দরুন সেখানে লজ্জিত হতে হয়।
১৫

وَجَعَلُوۡا لَہٗ مِنۡ عِبَادِہٖ جُزۡءًا ؕ  اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَکَفُوۡرٌ مُّبِیۡنٌ ؕ٪ ١٥

ওয়া জা‘আলূলাহূমিন ‘ইবা-দিহী জুঝআন ইন্নাল ইনছা-না লাকাফূরুম মুবীন।

এবং তারা (অর্থাৎ মুশরিকগণ) তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে তাঁর অংশ (অর্থাৎ সন্তান) স্থির করে নিয়েছে। নিশ্চয়ই মানুষ প্রকাশ্য অকৃতজ্ঞ।

তাফসীরঃ

৭. আরবের মুশরিকরা বিশ্বাস করত ফেরেশতাগণ আল্লাহ তাআলার কন্যা। এখান থেকে তাদের সেই বিশ্বাস খণ্ডন করা হচ্ছে। তাদের এ বিশ্বাস যে ভ্রান্ত, সামনের আয়াতসমূহে (২১নং আয়াত পর্যন্ত) সে সম্পর্কে চারটি দলীল পেশ করা হয়েছে। (এক) আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সম্ভব নয়। কেননা সন্তান পিতা-মাতার অংশ হয়ে থাকে। কারণ সন্তান তাদের শুক্র ও ডিম্বানু দ্বারা সৃষ্টি হয়। কাজেই আল্লাহ তাআলার কোন অংশ থাকতে পারে না। তিনি সর্বপ্রকার অংশত্ব হতে পবিত্র। সুতরাং তার কোন সন্তান থাকা অসম্ভব। (দুই) মুশরিকদের নিজেদের অবস্থা হল, তারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানের জন্মকে লজ্জার ব্যাপার গণ্য করে। কারও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে সে যারপরনাই দুঃখিত হয়। আজব ব্যাপার হল, যারা নিজেদের জন্য কন্যা সন্তানকে গ্লানিকর মনে করে, তারাই আবার আল্লাহ সম্পর্কে বিশ্বাস পোষণ করে যে, তার কন্যা সন্তান আছে। (তিন) তাদের এই বিশ্বাস অনুযায়ী ফেরেশতাগণ নারী সাব্যস্ত হয়। অথচ তারা নারী নয়। (চার) যদিও প্রকৃতপক্ষে নারী হওয়াটা লজ্জার কোন বিষয় নয়। কিন্তু সাধারণত পুরুষ অপেক্ষা নারীর যোগ্যতা কম হয়ে থাকে। তাদের দৃষ্টি থাকে বেশ-ভূষা ও অলংকারাদির দিকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা নিজের কথাটাও ভালোভাবে স্পষ্ট করতে পারে না। সুতরাং কথার কথা যদি আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান গ্রহণের ইচ্ছা থাকতও, তবে নারীকে কেন বেছে নেবেন?
১৬

اَمِ اتَّخَذَ مِمَّا یَخۡلُقُ بَنٰتٍ وَّاَصۡفٰکُمۡ بِالۡبَنِیۡنَ ١٦

আমিত্তাখাযা মিম্মা-ইয়াখলুকুবানাতিওঁ ওয়া আসফা-কুম বিলবানীন।

তবে কি আল্লাহ আপন মাখলুকের মধ্য হতে নিজের জন্য কন্যা বেছে নিয়েছেন আর তোমাদের জন্য পছন্দ করেছেন পুত্র?
১৭

وَاِذَا بُشِّرَ اَحَدُہُمۡ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحۡمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجۡہُہٗ مُسۡوَدًّا وَّہُوَ کَظِیۡمٌ ١٧

ওয়া ইযা-বুশশিরা আহাদুহুম বিমা-দারাবা লিররাহমা-নি মাছালান জাল্লা ওয়াজহুহূ মুছওয়াদ্দাওঁ ওয়া হুওয়া কাজীম।

অথচ তাদের কাউকে যখন তার (অর্থাৎ কন্যা জন্মের) সুসংবাদ দেওয়া হয়, যাকে তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে রেখেছে, তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে মনে মনে তাপিত হতে থাকে।

তাফসীরঃ

৮. আক্ষরিক অর্থ হবে ‘যাকে তারা দয়াময় আল্লাহর অনুরূপ সাব্যস্ত করেছে’। অর্থাৎ তারা ফিরিশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলে তাদেরকে তাঁর সদৃশ বানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু সন্তান পিতা সদৃশ হয়ে থাকে, সেই সন্তান অর্থাৎ কন্যা সন্তানেরই জন্মের সুসংবাদ তাদেরকে দেওয়া হলে তাদের মুখ কালো হয়ে যায়। -অনুবাদক
১৮

اَوَمَنۡ یُّنَشَّؤُا فِی الۡحِلۡیَۃِ وَہُوَ فِی الۡخِصَامِ غَیۡرُ مُبِیۡنٍ ١٨

আওয়া মাইঁ ইউনাশশাউ ফিল হিলয়াতি ওয়া হুওয়া ফিল খিসা-মি গাইরু মুবীন।

তাছাড়া (আল্লাহ কি এমন সন্তান পছন্দ করেছেন) যে অলংকারের ভেতর লালিত-পালিত হয় এবং যে তর্ক-বিতর্কে নিজের কথা খুলে বলতে পারে না?
১৯

وَجَعَلُوا الۡمَلٰٓئِکَۃَ الَّذِیۡنَ ہُمۡ عِبٰدُ الرَّحۡمٰنِ اِنَاثًا ؕ اَشَہِدُوۡا خَلۡقَہُمۡ ؕ سَتُکۡتَبُ شَہَادَتُہُمۡ وَیُسۡـَٔلُوۡنَ ١٩

ওয়াজা‘আলুল মালাইকাতাল্লাযীনা হুম ‘ইবা-দুররাহমা-নি ইনা-ছান আশাহিদূ খালকাহুম ছাতুকতাবুশাহা-দাতুহুম ওয়া ইউছআলূন।

অধিকন্তু তারা ফেরেশতাদেরকে, যারা কিনা আল্লাহর বান্দা, নারী গণ্য করেছে। তবে কি তাদের সৃজনকালে তারা উপস্থিত ছিল? তাদের এ দাবি লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২০

وَقَالُوۡا لَوۡ شَآءَ الرَّحۡمٰنُ مَا عَبَدۡنٰہُمۡ ؕ  مَا لَہُمۡ بِذٰلِکَ مِنۡ عِلۡمٍ ٭  اِنۡ ہُمۡ اِلَّا یَخۡرُصُوۡنَ ؕ ٢۰

ওয়া কা-লূলাও শাআররাহমা-নুমা-‘আবাদনা-হুম মা-লাহুম বিযা-লিকা মিন ‘ইলমিন ইন হুম ইল্লা-ইয়াখরুসূন।

এবং তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ চাইলে আমরা তাদের (ফেরেশতাদের) ইবাদত করতাম না। তাদের এ সম্পর্কে কোন জ্ঞানই নেই। তাদের কাজ কেবল অনুমানে ঢিল ছোঁড়া।
২১

اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا مِّنۡ قَبۡلِہٖ فَہُمۡ بِہٖ مُسۡتَمۡسِکُوۡنَ ٢١

আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বাম মিন কাবলিহী ফাহুম বিহী মুছতামছিকূন।

আমি কি এর আগে তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছিলাম, যা তারা আঁকড়ে ধরে আছে?

তাফসীরঃ

৯. আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে কোন আকীদা-বিশ্বাস পোষণের ভিত্তি হতে পারে দুটি (এক) বিষয়টি এমন সুস্পষ্ট ও সর্বজন বোধগম্য হওয়া যে, বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই তার বাস্তবতা স্বীকার করতে বাধ্য থাকে; (দুই) বিষয়টি সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কোন আসমানী কিতাবের মাধ্যমে সুস্পষ্ট বিবৃতি থাকা। মুশরিকরা যেসব আকীদা-বিশ্বাস পোষণ করত, তার এ রকম কোন ভিত্তি ছিল না। বরং তা ছিল সম্পূর্ণ যুক্তি-বিরুদ্ধ। তাদের কোন আসমানী কিতাবও ছিল না, যার ভেতর সেসব আকীদার বিবরণ থাকবে।
২২

بَلۡ قَالُوۡۤا اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٢٢

বাল কা-লূইন্না-ওয়াজাদনাআ-বাআনা ‘আলাউম্মাতিওঁ ওয়া ইন্না-‘আলাআছা-রিহিম মুহতাদূন।

না, বরং তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদের পদছাপ ধরে সঠিক পথেই চলছি।
২৩

وَکَذٰلِکَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ فِیۡ قَرۡیَۃٍ مِّنۡ نَّذِیۡرٍ اِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوۡہَاۤ ۙ اِنَّا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا عَلٰۤی اُمَّۃٍ وَّاِنَّا عَلٰۤی اٰثٰرِہِمۡ مُّقۡتَدُوۡنَ ٢٣

ওয়া কাযা-লিকা মাআরছালনা-মিন কাবলিকা ফী কারইয়াতিম মিন নাযীরিন ইল্লা-কালা মুতরাফূহা ইন্না-ওয়াজাদনাআ-বাআনা ‘আলাউম্মাতিওঁ ওয়া ইন্না-‘আলা আ-ছা-রিহিম মুকতাদূ ন।

এবং (হে রাসূল!) আমি তোমার পূর্বে যখনই কোন জনপদে কোন সতর্ককারী (রাসূল) পাঠিয়েছি, তখন সেখানকার বিত্তবানেরা একথাই বলেছে যে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে একটা মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি। আমরা তাদেরই পদছাপ অনুসরণ করে চলছি।
২৪

قٰلَ اَوَلَوۡ جِئۡتُکُمۡ بِاَہۡدٰی مِمَّا وَجَدۡتُّمۡ عَلَیۡہِ اٰبَآءَکُمۡ ؕ قَالُوۡۤا اِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ٢٤

কা-লা আওয়ালাও জি’তুকুম বিআহ দা-মিম্মা-ওয়াজাত্তুম ‘আলাইহি আ-বাআকুম কালূইন্না-বিমাউরছিলতুম বিহী কা-ফিরূন।

নবী বলল, তোমরা তোমাদের বাপ- দাদাদেরকে যে মতাদর্শের উপর পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট হেদায়াতের বাণী নিয়ে আসি (তবুও কি তোমরা সেই মতাদর্শই অনুসরণ করবে)? তারা উত্তর দিল, তোমাদেরকে যে বাণীসহ পাঠানো হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করি।
২৫

فَانۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَانۡظُرۡ کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ٪ ٢٥

ফানতাকামনা-মিনহুম ফানজুর কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকাযযিবীন।

ফলে আমি তাদেরকে শাস্তি দান করলাম। সুতরাং দেখে নাও, অবিশ্বাসীদের পরিণাম কেমন হয়েছে?
২৬

وَاِذۡ قَالَ اِبۡرٰہِیۡمُ لِاَبِیۡہِ وَقَوۡمِہٖۤ اِنَّنِیۡ بَرَآءٌ مِّمَّا تَعۡبُدُوۡنَ ۙ ٢٦

ওয়া ইযকা-লা ইবরাহীমুলিআবীহি ওয়া কাওমিহীইন্নানী বারাউম মিম্মা-তা‘বুদূন।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যাদের ইবাদত কর, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই,
২৭

اِلَّا الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ فَاِنَّہٗ سَیَہۡدِیۡنِ ٢٧

ইল্লাল্লাযী ফাতারানী ফাইন্নাহূছাইয়াহদীন।

সেই সত্তা ব্যতিরেকে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে পথ দেখান।
২৮

وَجَعَلَہَا کَلِمَۃًۢ بَاقِیَۃً فِیۡ عَقِبِہٖ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٢٨

ওয়া জা‘আলাহা-কালিমাতাম বা-কিয়াতান ফী ‘আকিবিহী লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

ইবরাহীম এ বিশ্বাসকে এমনই এক বাণী বানিয়ে দিল, যা তার আওলাদের মধ্যে স্থায়ী হয়ে থাকল, ১০ যাতে মানুষ (শিরক থেকে) ফিরে আসে।

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ তাওহীদের বিশ্বাস ও لَا اِلٰهَ اِلَّا الله এর বাণীকে জোরদার প্রচার ও ওসিয়তের মাধ্যমে নিজ বংশধরদের মধ্যে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন যে, কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আওলাদের মধ্যে একদল না একদল দৃঢ়ভাবে এ বাণীকে আঁকড়ে ধরে রাখবে। সুতরাং বিশেষভাবে তার পুত্র হযরত ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালামের মহান বংশধর শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বব্যাপী এ বাণীর এমনই জয়ডঙ্কা বাজিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বাসে, উচ্চারণে ও কর্মে কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এর পরাক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। -অনুবাদক
২৯

بَلۡ مَتَّعۡتُ ہٰۤؤُلَآءِ وَاٰبَآءَہُمۡ حَتّٰی جَآءَہُمُ الۡحَقُّ وَرَسُوۡلٌ مُّبِیۡنٌ ٢٩

বাল মাত্তা‘তুহাউলাইওয়াআ-বাআহুম হাত্তা-জাআহুমুল হাক্কু ওয়া রাছুলুম মুবীন।

(তা সত্ত্বেও বহু লোক ফিরে আসল না) তথাপি আমি তাদেরকে ও তাদের বাপ-দাদাদেরকে জীবন ভোগ করতে দেই। পরিশেষে তাদের কাছে আসল সত্য এবং সুস্পষ্ট হেদায়াত দানকারী রাসূল।
৩০

وَلَمَّا جَآءَہُمُ الۡحَقُّ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ وَّاِنَّا بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ٣۰

ওয়া লাম্মা-জাআহুমুল হাক্কুকা-লূহা-যা-ছিহরুওঁ ওয়া ইন্না-বিহী কা-ফিরূন।

যখন সে সত্য তাদের কাছে আসল, তখন তারা বলল, এটা তো যাদু। আমরা এটা অস্বীকার করি।
৩১

وَقَالُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنُ عَلٰی رَجُلٍ مِّنَ الۡقَرۡیَتَیۡنِ عَظِیۡمٍ ٣١

ওয়া কা-লূলাওলা-নুঝঝিলা হা-যাল কুরআন-নু‘আলা-রাজুলিম মিনাল কারইয়াতাইনি ‘আজীম।

এবং বলল, এ কুরআন দুই জনপদের কোন বড় ব্যক্তির উপর নাযিল করা হল না কেন? ১১

তাফসীরঃ

১১. ‘দুই জনপদ’ দ্বারা ‘মক্কা মুকাররমা’ ও ‘তায়েফ’ বোঝানো হয়েছে। এতদঞ্চলে এ দু’টিই ছিল বড় শহর। তাই মুশরিকরা বলল, এ দুই শহরের কোন বিত্তবান সর্দারের উপরই কুরআন নাযিল হওয়া উচিত ছিল।
৩২

اَہُمۡ یَقۡسِمُوۡنَ رَحۡمَتَ رَبِّکَ ؕ نَحۡنُ قَسَمۡنَا بَیۡنَہُمۡ مَّعِیۡشَتَہُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَرَفَعۡنَا بَعۡضَہُمۡ فَوۡقَ بَعۡضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا سُخۡرِیًّا ؕ وَرَحۡمَتُ رَبِّکَ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ ٣٢

আহুম ইয়াকছিমূনা রাহমাতা রাব্বিকা নাহনুকাছামনা-বাইনাহুম মা‘ঈশাতাহুম ফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-ওয়া রাফা‘না-বা‘দাহুম ফাওকা বা‘দিন দারাজা-তিল লিইয়াত্তাখিযা বা‘দুহুম বা‘দান ছুখরিইইয়াওঁ ওয়া রাহমাতুরাব্বিকা খাইরুম মিম্মা-ইয়াজমা‘ঊন।

তবে কি তারাই তোমার প্রতিপালকের রহমত বণ্টন করবে? ১২ পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকাও তো আমিই বণ্টন করেছি এবং আমিই তাদের একজনকে অপরজনের উপর মর্যাদায় উন্নত করেছি, যাতে তাদের একে অন্যের দ্বারা কাজ নিতে পারে। তোমার প্রতিপালকের রহমত তো তারা যা (অর্থ-সম্পদ) সঞ্চয় করে, তা অপেক্ষা অনেক শ্রেয়। ১৩

তাফসীরঃ

১২. এখানে রহমত দ্বারা নবুওয়াত বোঝানো উদ্দেশ্য। বলা হচ্ছে যে, তারা যে বলছে, কুরআন নাযিল হওয়া উচিত ছিল মক্কা বা তায়েফের কোন বড় ব্যক্তির উপর, তার অর্থ দাঁড়ায়, তারা যেন বলতে চাচ্ছে, নবুওয়াত কাকে দান করা হবে আর কাকে দান করা হবে না, এর ফায়সালা করার অধিকার তাদেরই।
৩৩

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ یَّکُوۡنَ النَّاسُ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً لَّجَعَلۡنَا لِمَنۡ یَّکۡفُرُ بِالرَّحۡمٰنِ لِبُیُوۡتِہِمۡ سُقُفًا مِّنۡ فِضَّۃٍ وَّمَعَارِجَ عَلَیۡہَا یَظۡہَرُوۡنَ ۙ ٣٣

ওয়া লাওলাআইঁ ইয়াকূনান্না-ছুউম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাল লাজা‘আলনা-লিমাইঁ ইয়াকফুরু বিররাহমা-নি লিবুইঊতিহিম ছুকু ফাম মিন ফিদ্দাতিওঁ ওয়া মা‘আ-রিজা ‘আলাইহাইয়াজহারূন।

সমস্ত মানুষ একই মতাবলম্বী (অর্থাৎ কাফের) হয়ে যাবে এই আশঙ্কা না থাকলে, যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদের ঘরের ছাদও করে দিতাম রুপার এবং তারা যে সিঁড়ি দিয়ে চড়ে তাও।
৩৪

وَلِبُیُوۡتِہِمۡ اَبۡوَابًا وَّسُرُرًا عَلَیۡہَا یَتَّکِـُٔوۡنَ ۙ ٣٤

ওয়া লিবুইউতিহিম আবওয়া-বাওঁ ওয়া ছুরুরান ‘আলাইহা-ইয়াত্তাকিঊন।

আর তাদের ঘরের দরজাগুলি এবং সেই পালঙ্কগুলিও, যাতে তারা হেলান দিয়ে বসে।
৩৫

وَزُخۡرُفًا ؕ  وَاِنۡ کُلُّ ذٰلِکَ لَمَّا مَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ  وَالۡاٰخِرَۃُ عِنۡدَ رَبِّکَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ٪ ٣٥

ওয়া যুখরুফাওঁ ওয়া ইন কুল্লুযা-লিকা লাম্মা-মাতা‘উল হায়াতিদ্দুনইয়া- ওয়াল আ-খিরাতু‘ইনদা রাব্বিকা লিলমুত্তাকীন।

বরং করতেন সোনার তৈরি। প্রকৃতপক্ষে এসব পার্থিব জীবনের সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়। ১৪ আর তোমার প্রতিপালকের নিকট মুত্তাকীদের জন্য আছে আখেরাত।

তাফসীরঃ

১৪. বোঝানো উদ্দেশ্য, দুনিয়ার ধন-দৌলত আল্লাহ তাআলার কাছে অতি তুচ্ছ জিনিস। তা এতই মূল্যহীন যে, কাফেরদের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি সোনা-রুপা দিয়ে তাদের আঙিনা ভরে দিতে পারেন। মানুষ সোনা-রুপার হীনতা বুঝতে না পেরে কাফেরদের ধন-সম্পদ দেখে নিজেরাও কাফের হয়ে যাবে এই আশঙ্কা না থাকলে আল্লাহ তাআলা কাফেরদের ঘর-বাড়ি ও সমস্ত আসবাবপত্র সোনা-রুপার বানিয়ে দিতেন। কেননা তা তো ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার বস্তু। প্রকৃত সম্পদ হল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও আখেরাতের স্থায়ী জীবনের সুখণ্ডশান্তি আর তা কেবল মুত্তাকীগণই লাভ করবে। সুতরাং কুরআন কোন বিত্তবান ব্যক্তির উপর নাযিল হোক এটা বিলকুল অসার দাবি।
৩৬

وَمَنۡ یَّعۡشُ عَنۡ ذِکۡرِ الرَّحۡمٰنِ نُقَیِّضۡ لَہٗ شَیۡطٰنًا فَہُوَ لَہٗ قَرِیۡنٌ ٣٦

ওয়া মাইঁ ইয়া‘শু ‘আন যিকরির রাহমা-নি নুকাইয়িদ লাহূশাইতা-নান ফাহুওয়া লাহূ কারীন।

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর যিকির থেকে অন্ধ হয়ে যাবে, তার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, যে তার সঙ্গী হয়ে যায়। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. এর দ্বারা জানা গেল নিশ্চিন্তে পাপ করতে থাকা ও সেজন্য অনুতপ্ত না হওয়া অতি গুরুতর ব্যাপার। তার একটা কুফল এই যে, শয়তান তার উপর চড়াও হয় এবং তাকে পুণ্যের কাজে আসতে না দিয়ে সর্বদা পাপ-কর্মে মগ্ন রাখে। এভাবে সে একজন পাপিষ্ঠরূপে জীবন যাপন করতে থাকে আল্লাহ তাআলা আমাদের রক্ষা করুন।
৩৭

وَاِنَّہُمۡ لَیَصُدُّوۡنَہُمۡ عَنِ السَّبِیۡلِ وَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ مُّہۡتَدُوۡنَ ٣٧

ওয়া ইন্নাহুম লাইয়াসুদ্দূনাহুম ‘আনিছছাবীলি ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম মুহতাদূন।

তারা (অর্থাৎ শয়তানেরা) তাদেরকে সৎপথ থেকে বিরত রাখে আর তারা মনে করে আমরা সঠিক পথেই আছি।
৩৮

حَتّٰۤی اِذَا جَآءَنَا قَالَ یٰلَیۡتَ بَیۡنِیۡ وَبَیۡنَکَ بُعۡدَ الۡمَشۡرِقَیۡنِ فَبِئۡسَ الۡقَرِیۡنُ ٣٨

হাত্তাইযা-জাআনা কা-লা ইয়া-লাইতা বাইনী ওয়া বাইনাকা বু‘দাল মাশরিকাইনি ফাবি‘ছাল কারীন।

পরিশেষে এরূপ ব্যক্তি যখন আমার কাছে আসবে তখন (সে তার সঙ্গী শয়তানকে) বলবে, আহা! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত। কেননা তুমি বড় মন্দ সঙ্গী ছিলে।
৩৯

وَلَنۡ یَّنۡفَعَکُمُ الۡیَوۡمَ اِذۡ ظَّلَمۡتُمۡ اَنَّکُمۡ فِی الۡعَذَابِ مُشۡتَرِکُوۡنَ ٣٩

ওয়া লাইঁ ইয়ানফা‘আকুমুল ইয়াওমা ইযজালামতুম আন্নাকুম ফিল ‘আযা-বি মুশতারিকূন।

আজ একথা কিছুতেই তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা সীমালংঘন করেছিলে। তোমরা শাস্তিতে একে অন্যের অংশীদার। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. দুনিয়ার নিয়ম হল একই কষ্ট একত্রে একাধিক ব্যক্তি ভোগ করলে তাতে প্রত্যেকের মনে কষ্টের অনুভূতি একটু লাঘব হয়। এই ভেবে প্রত্যেকে একটু সান্তনা বোধ করে যে, কষ্ট আমি একা পাচ্ছি না, অন্যেও আমার সঙ্গে শরীক আছে। কিন্তু জাহান্নামের ব্যাপার এর বিপরীত। সেখানে প্রত্যেকের কষ্ট এত বেশি হবে যে, সেই শাস্তিতে অন্যকে লিপ্ত দেখলেও কষ্টবোধ বিন্দুমাত্র লাঘব হবে না।
৪০

اَفَاَنۡتَ تُسۡمِعُ الصُّمَّ اَوۡ تَہۡدِی الۡعُمۡیَ وَمَنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٤۰

আফাআনতা তুছমি‘উস সুম্মা আও তাহ দিল ‘উমইয়া ওয়া মান কা-না ফী দালা-লিম মুবীন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি কি বধিরকে শোনাতে পারবে কিংবা অন্ধ এবং যারা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত তাদেরকে সুপথে আনতে পারবে?
৪১

فَاِمَّا نَذۡہَبَنَّ بِکَ فَاِنَّا مِنۡہُمۡ مُّنۡتَقِمُوۡنَ ۙ ٤١

ফাইম্মা-নাযহাবান্না বিকা ফাইন্না-মিনহুম মুনতাকিমূন।

সুতরাং আমি হয়ত তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেব, তারপর তাদেরকে শাস্তিদান করব
৪২

اَوۡ نُرِیَنَّکَ الَّذِیۡ وَعَدۡنٰہُمۡ فَاِنَّا عَلَیۡہِمۡ مُّقۡتَدِرُوۡنَ ٤٢

আও নুরিইয়ান্নাকাল্লাযী ওয়া ‘আদনা-হুম ফাইন্না ‘আলাইহিম মুকতাদিরূন।

কিংবা তোমাকেও তা (অর্থাৎ সেই শাস্তি) দেখিয়ে দেব, যার ওয়াদা আমি তাদের সাথে করেছি। তাদের উপর তো আমার (দু’টির যে-কোনটি করার) পূর্ণ ক্ষমতা আছে।
৪৩

فَاسۡتَمۡسِکۡ بِالَّذِیۡۤ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ ۚ اِنَّکَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٤٣

ফাছতামছিক বিল্লাযীঊহিয়া ইলাইকা ইন্নাকা ‘আলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

সুতরাং তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ। নিশ্চয়ই তুমি সরল পথে আছ।
৪৪

وَاِنَّہٗ لَذِکۡرٌ لَّکَ وَلِقَوۡمِکَ ۚ وَسَوۡفَ تُسۡـَٔلُوۡنَ ٤٤

ওয়া ইন্নাহূলাযিকরুল্লাকা ওয়া লিকাওমিকা ওয়া ছাওফা তুছআলূন।

বস্তুত এ ওহী তোমার ও তোমার কওমের জন্য সুখ্যাতির উপায়। তোমাদের সকলকে জিজ্ঞেস করা হবে (তোমরা এর কী হক আদায় করেছ?)।
৪৫

وَسۡـَٔلۡ مَنۡ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رُّسُلِنَاۤ اَجَعَلۡنَا مِنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ اٰلِـہَۃً یُّعۡبَدُوۡنَ ٪ ٤٥

ওয়াছআল মান আরছালনা-মিন কাবলিকা মিররুছুলিনাআজা‘আলনা-মিন দূনিররাহমা-নি আ-লিহাতাইঁ ইউ‘বাদূন।

তোমার আগে আমি যে রাসূলগণকে পাঠিয়েছি, তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, ১৭ আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া আরও কোন মাবুদ স্থির করেছিলাম, যাদের ইবাদত করা যায়?

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ তোমার পূর্ববর্তী নবীগণের উপর যে কিতাব নাযিল হয়েছিল, তা দেখে নাও যে, তাদেরকে কী শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল? (নিঃসন্দেহে তোমার মত তাদেরকেও তাওহীদেরই শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। কোন নবীর শিক্ষায় শিরকের কোন স্থান নেই। -অনুবাদক)
৪৬

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَمَلَا۠ئِہٖ فَقَالَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٤٦

ওয়া লাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-য়া-তিনাইলা-ফিরআ‘ওনা ওয়া মালাইহী ফাকা-লা ইন্নী রাছূলুরাব্বিল ‘আ-লামীন।

আমি মূসাকে আমার নিদর্শনাবলীসহ ফির‘আউন ও তার অমাত্যবর্গের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদেরকে বলেছিল, আমি রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল।
৪৭

فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِاٰیٰتِنَاۤ اِذَا ہُمۡ مِّنۡہَا یَضۡحَکُوۡنَ ٤٧

ফালাম্মা-জাআহুম বিআ-য়া-তিনাইযা হুম মিনহা-ইয়াদহাকূন।

অনন্তর সে যখন তাদের সামনে আমার নিদর্শনসমূহ পেশ করল, অমনি তারা তা নিয়ে ঠাট্টা করতে লাগল।
৪৮

وَمَا نُرِیۡہِمۡ مِّنۡ اٰیَۃٍ اِلَّا ہِیَ اَکۡبَرُ مِنۡ اُخۡتِہَا ۫ وَاَخَذۡنٰہُمۡ بِالۡعَذَابِ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ٤٨

ওয়ামা-নূরীহিম মিন আ-য়া-তিন ইল্লা-হিয়া আকবারু মিন উখতিহা- ওয়া আখাযনা-হুম বিল ‘আযা-বি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তা তার আগের নিদর্শন অপেক্ষা বড় হত। আমি তাদেরকে শাস্তিও দিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. মিসরবাসীকে উপর্যুপরি বিভিন্ন বালা-মুসিবতে আক্রান্ত করা হয়েছিল। আয়াতের ইশারা তারই দিকে। সূরা আরাফে (৭ : ১৩৩-১৩৫) তা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
৪৯

وَقَالُوۡا یٰۤاَیُّہَ السّٰحِرُ ادۡعُ لَنَا رَبَّکَ بِمَا عَہِدَ عِنۡدَکَ ۚ اِنَّنَا لَمُہۡتَدُوۡنَ ٤٩

ওয়াকা-লূইয়াআইয়ুহাছছা-হিরুদ‘উলানা-রাব্বাকা বিমা-‘আহিদা ‘ইনদাকা ইন্নানালামুহতাদূ ন।

তারা বলতে লাগল, হে যাদুকর! তোমার প্রতিপালক তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার অছিলা দিয়ে তাঁর কাছে আমাদের জন্য দুআ কর। নিশ্চয়ই আমরা সুপথে চলে আসব।
৫০

فَلَمَّا کَشَفۡنَا عَنۡہُمُ الۡعَذَابَ اِذَا ہُمۡ یَنۡکُثُوۡنَ ٥۰

ফালাম্মা-কাশাফনা-‘আনহুমুল ‘আযা-বা ইযা-হুম ইয়ানকুছূ ন।

অতঃপর আমি যখন তাদের থেকে শাস্তি অপসারিত করতাম, অমনি তারা ওয়াদা ভঙ্গ করত।
৫১

وَنَادٰی فِرۡعَوۡنُ فِیۡ قَوۡمِہٖ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَیۡسَ لِیۡ مُلۡکُ مِصۡرَ وَہٰذِہِ الۡاَنۡہٰرُ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِیۡ ۚ  اَفَلَا تُبۡصِرُوۡنَ ؕ ٥١

ওয়ানা-দা-ফির‘আওনুফী কাওমিহী কা-লা ইয়া-কাওমি আলাইছা লী মুলকুমিসরা ওয়া হাযিহিল আনহা-রু তাজরী মিন তাহতী আফালা-তুবসিরূন।

ফির‘আউন তার সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বলে ঘোষণা করল, হে আমার কওম! মিসরের রাজত্ব কি আমার হাতে নয়? এবং (দেখ) এইসব নদ-নদী আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না? ১৯

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ তোমরা কি দেখছ না কত বড় আমার রাজত্ব ও ঐশ্বর্য এবং কী বিপুল আমার ক্ষমতা আর আমার বিপরীতে কত ক্ষুদ্র এই মূসা? এবার তোমরাই বল, তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ কী আমার মতো সম্রাটের পক্ষে শোভা পায় এবং এটা কি কোনো যুক্তির কথা? বস্তুত ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের মোহ এভাবেই মানুষের অন্তর্দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। ফলে সত্যগ্রহণের নসীব তার হয় না। -অনুবাদক
৫২

اَمۡ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ ہُوَ مَہِیۡنٌ ۬ۙ وَّلَا یَکَادُ یُبِیۡنُ ٥٢

আম আনা খাইরুম মিন হা-যাল্লাযী হুওয়া মাহীনুওঁ ওয়ালা-ইয়াকা-দুইউবীন।

বরং আমিই ওই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যে অতি হীন এবং পরিষ্কার করে কথা বলাও যার পক্ষে কঠিন।
৫৩

فَلَوۡلَاۤ اُلۡقِیَ عَلَیۡہِ اَسۡوِرَۃٌ مِّنۡ ذَہَبٍ اَوۡ جَآءَ مَعَہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ مُقۡتَرِنِیۡنَ ٥٣

ফালাওলাউলকিয়া ‘আলাইহি আছবিরাতুমমিনযাহাবিন আও জাআ মা‘আহুল মালাইকাতুমুকতারিনীন।

আচ্ছা, (সে যদি নবী হয়, তবে) তাকে কেন সোনার কাঁকন দেওয়া হল না। কিংবা তার সাথে দলবদ্ধভাবে ফেরেশতা আসল না কেন?
৫৪

فَاسۡتَخَفَّ قَوۡمَہٗ فَاَطَاعُوۡہُ ؕ اِنَّہُمۡ کَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ ٥٤

ফাছতাখাফফা কাওমাহূফাআতা-‘ঊহু ইন্নাহুম কা-নূকাওমান ফা-ছিকীন।

এভাবেই সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানাল এবং তারাও তার কথা মেনে নিল। প্রকৃতপক্ষে তারা সকলে ছিল পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়। ২০

তাফসীরঃ

২০. এ আয়াতে যেমন ফির‘আউনকে, তেমনি তার কওমকেও গুনাহগার বলা হয়েছে। ফির‘আউনকে গুনাহগার বলার কারণ, সে তার রাজত্বকে ঈশ্বরত্বের নিদর্শন সাব্যস্ত করে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেছিল এবং এভাবে সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানিয়েছিল। তার সম্প্রদায়কে গুনাহগার বলা হয়েছে এ কারণে যে, তারা এরূপ চরম বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে নিজেদের রাজা মেনেনিয়েছিল এবং যাবতীয় গোমরাহী কাজে তার অনুসরণ করেছিল। এর দ্বারা জানা গেল, কোন পথভ্রষ্ট লোক যদি কোন জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে আর তারা তার পতন ঘটানোর চেষ্টা করার পরিবর্তে তার প্রতিটি অন্যায় কাজে তার আনুগত্য করে যায়, তবে তার মত তারাও সমান অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
৫৫

فَلَمَّاۤ اٰسَفُوۡنَا انۡتَقَمۡنَا مِنۡہُمۡ فَاَغۡرَقۡنٰہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٥٥

ফালাম্মাআ-ছাফূনানতাকামনা-মিনহুম ফাআগরাকনা-হুম আজমা‘ঈন।

তারা যখন আমাকে অসন্তুষ্ট করল আমি তাদেরকে শাস্তি দিলাম এবং তাদেরকে করলাম নিমজ্জিত।
৫৬

فَجَعَلۡنٰہُمۡ سَلَفًا وَّمَثَلًا لِّلۡاٰخِرِیۡنَ ٪ ٥٦

ফাজা‘আলনা-হুম ছালাফাওঁ ওয়া মাছালালিলল আ-খিরীন।

এবং তাদেরকে বানিয়ে দিলাম এক বিগত জাতি এবং অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত।
৫৭

وَلَمَّا ضُرِبَ ابۡنُ مَرۡیَمَ مَثَلًا اِذَا قَوۡمُکَ مِنۡہُ یَصِدُّوۡنَ ٥٧

ওয়ালাম্মা-দুরিবাবনুমারইয়ামা মাছালান ইযা-কাওমুকা মিনহু ইয়াসিদ্দূন।

যখন (ঈসা) ইবনে মারয়ামের উদাহরণ দেওয়া হল, অমনি তোমার সম্প্রদায় তা নিয়ে হৈ-চৈ শুরু করে দিল। ২১

তাফসীরঃ

২১. মূর্তিপূজকদেরকে লক্ষ করে যখন সূরা আম্বিয়ার এক আয়াতে বলা হল, ‘নিশ্চিতভাবে জেনে রেখ, তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে যে উপাস্যদের পূজা তোমরা কর, সকলেই জাহান্নামের ইন্ধন (২১ : ৯৮), তখন এক কাফের তার উপর প্রশ্ন তুলল, বহু লোক হযরত ঈসা আলাইহিস সালামেরও উপাসনা করে। এ আয়াতের দাবি অনুযায়ী তিনিও কি তবে জাহান্নামের ইন্ধন? অথচ মুসলিমদের বিশ্বাস তিনি আল্লাহ তাআলার একজন মনোনীত নবী ছিলেন। তার এ কথা শুনে অন্যান্য কাফেরগণ আনন্দে হল্লা করে উঠল যে, এই ব্যক্তি বড় খাসা প্রশ্ন করেছে। অথচ তার প্রশ্নটি ছিল একেবারেই অবান্তর। কেননা আয়াতের সম্বোধন ছিল মূর্তিপূজকদের প্রতি, খ্রিস্টানদের প্রতি নয় এবং তাতে মূর্তি ছাড়া এমন লোকও আয়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা মানুষকে নিজেদের উপাসনা করতে বলত। সুতরাং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কথা এর মধ্যে আসেই না। সে ঘটনার পটভূমিতেই আলোচ্য আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছিল। এর শানে নুযুল সম্পর্কে অন্য রকম বর্ণনাও আছে। যেমন, এক কাফের বলেছিল, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে যেমন আল্লাহর পুত্র সাব্যস্ত করা হয়েছে, তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একদিন নিজেকে আল্লাহর পুত্র বলে ঘোষণা করবেন। তার সে মন্তব্যেও অন্যান্য কাফেরগণ খুশীতে চিৎকার করে উঠেছিল। তার জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়। তবে উভয় বর্ণনার মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। অসম্ভব নয় যে, উভয় ঘটনাই ঘটেছিল এবং আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মাধ্যমে একত্রে উভয়েরই জবাব দিয়েছেন।
৫৮

وَقَالُوۡۤاءَ اٰلِہَتُنَا خَیۡرٌ اَمۡ ہُوَ ؕ مَا ضَرَبُوۡہُ لَکَ اِلَّا جَدَلًا ؕ بَلۡ ہُمۡ قَوۡمٌ خَصِمُوۡنَ ٥٨

ওয়া কা-লূআ আ-লিহাতুনা-খাইরুন আম হুওয়া মা-দারাবূহু লাকা ইল্লা-জাদালান বাল হুম কাওমুন খাসিমূন।

তারা বলল, আমাদের উপাস্যগণ শ্রেষ্ঠ, না সে? তারা কেবল কূটতর্কের জন্যই এ দৃষ্টান্ত তোমার সামনে পেশ করে। প্রকৃতপক্ষে তারা কলহপ্রিয় লোক।
৫৯

اِنۡ ہُوَ اِلَّا عَبۡدٌ اَنۡعَمۡنَا عَلَیۡہِ وَجَعَلۡنٰہُ مَثَلًا لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ؕ ٥٩

ইন হুওয়া ইল্লা- ‘আবদুন আন‘আমনা- ‘আলাইহি ওয়া জা‘আলনা-হুমাছালাল লিবানীইছরাঈল।

সে (অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম) তো আমার এক বান্দাই ছিল, যার প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে বানিয়েছিলাম এক দৃষ্টান্ত।
৬০

وَلَوۡ نَشَآءُ لَجَعَلۡنَا مِنۡکُمۡ مَّلٰٓئِکَۃً فِی الۡاَرۡضِ یَخۡلُفُوۡنَ ٦۰

ওয়া লাও নাশাউ লাজা‘আলনা-মিনকুম মালাইকাতান ফিল আরদিইয়াখলুফূন।

আমি চাইলে তোমাদের মধ্য হতে ফেরেশতা সৃষ্টি করতে পারতাম, যারা পৃথিবীতে একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকত। ২২

তাফসীরঃ

২২. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গ আসলে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিলেন যে, তিনি কখনও নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেননি এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজ পুত্রও সাব্যস্ত করেননি; বরং তিনি তাকে নিজ কুদরতের এক নিদর্শনরূপে পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন বিনা পিতায়। খ্রিস্টান সম্প্রদায় এ কারণেই তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে থাকে, অথচ বিনা পিতায় জন্ম নেওয়া ঈশ্বরত্বের প্রমাণ নয়। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তো পিতা ও মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছিলেন। তাঁকে তো কেউ খোদা বলে না। প্রকৃতপক্ষে তাঁর জন্ম ছিল আল্লাহ তাআলার কুদরতের প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা চাইলে এর চেয়েও আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটাতে পারেন। তিনি মানুষ থেকে ফেরেশতার জন্ম দিতে পারেন, যারা মানুষেরই মত একে অন্যের স্থলাভিষিক্ত হবে।
৬১

وَاِنَّہٗ لَعِلۡمٌ لِّلسَّاعَۃِ فَلَا تَمۡتَرُنَّ بِہَا وَاتَّبِعُوۡنِ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٦١

ওয়া ইন্নাহূলা‘ইলমুল লিছছা-‘আতি ফালা-তামতারুন্না বিহা-ওয়াত্তাবি‘ঊনি হা-যাসিরাতুম মুছতাকীম।

নিশ্চয়ই সে (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম) কিয়ামতের এক আলামত। ২৩ সুতরাং তোমরা সে সম্বন্ধে সন্দেহ করো না এবং আমার অনুসরণ কর। এটাই সরল পথ।

তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ বিনা পিতায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্ম নেওয়াটা কিয়ামতে মানুষের পুনরায় জীবিত হওয়ারও একটা দলীল। কেননা পুনরায় জীবিত হওয়াকে কাফেরগণ কেবল এ কারণেই অস্বীকার করত যে, এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার। তো হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম যে বিনা পিতায় জন্মগ্রহণ করেছেন এটাও একটা বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কুদরতে এটা ঘটেছে। এভাবেই আল্লাহ তাআলার কুদরতে মৃতগণ পুনরায় জীবিত হয়ে উঠবে। এটা আয়াতের এক ব্যাখ্যা। হযরত হাকীমুল উম্মত থানবী (রহ.) ‘বয়ানুল কুরআন’ গ্রন্থে এ ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন। অনেক মুফাসসির আয়াতটির ব্যাখ্যা করেছেন এ রকম যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিয়ামতের অন্যতম আলামত। অর্থাৎ তিনি কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে আসমান থেকে পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসবেন। তাঁর পুনরায় আগমন দ্বারা বোঝা যাবে কিয়ামত খুব কাছে এসে গেছে।
৬২

وَلَا یَصُدَّنَّکُمُ الشَّیۡطٰنُ ۚ اِنَّہٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ٦٢

ওয়ালা-ইয়াসুদ্দান্নাকুমুশ শাইতা-নু ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।

শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
৬৩

وَلَمَّا جَآءَ عِیۡسٰی بِالۡبَیِّنٰتِ قَالَ قَدۡ جِئۡتُکُمۡ بِالۡحِکۡمَۃِ وَلِاُبَیِّنَ لَکُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ تَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡہِ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ٦٣

ওয়া লাম্মা-জাআ ‘ঈছা-বিলবাইয়িনা-তি কা-লা কাদ জি’তুকুম বিলহিকমাতি ওয়া লিউবাইয়িনা লাকুম বা‘দাল্লাযী তাখতালিফূনা ফীহি ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়াআতী‘ঊন।

যখন ঈসা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখন সে (মানুষকে) বলল, আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি জ্ঞানের কথা এবং এসেছি তোমরা যেসব বিষয়ে মতভেদ কর, তা তোমাদের কাছে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
৬৪

اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٦٤

ইন্নাল্লা-হা হুওয়া রাববী ওয়া রাব্বুকুম ফা‘বুদূ হু হা-যা-সিরাতুম মুছতাকীম।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব। সুতরাং তাঁরই ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।
৬৫

فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَیۡنِہِمۡ ۚ فَوَیۡلٌ لِّلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ عَذَابِ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ ٦٥

ফাখতালাফাল আহঝা-বুমিম বাইনিহিম ফাওয়াইলুলিলল্লাযীনা জালামূমিন ‘আযা-বি ইয়াওমিন আলীম।

তারপরও তাদের মধ্যে কয়েকটি দল মতভেদ সৃষ্টি করল। সুতরাং সে জালেমদের জন্য আছে দুর্ভোগ যন্ত্রণাময় দিবসের শাস্তির।
৬৬

ہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا السَّاعَۃَ اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً وَّہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ٦٦

হাল ইয়ানজুরূনা ইল্লাছছা-‘আতা আন তা’তিয়াহুম বাগতাতাওঁ ওয়া হুম লা-ইয়াশ‘উরূন।

তারা কেবল কিয়ামতের অপেক্ষা করছে যা এমন অকস্মাৎ তাদের সামনে এসে যাবে যে, তারা টেরও পাবে না।
৬৭

اَلۡاَخِلَّآءُ یَوۡمَئِذٍۭ بَعۡضُہُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ اِلَّا الۡمُتَّقِیۡنَ ؕ٪ ٦٧

আলআখিল্লাউ ইয়াওমাইযিম বা‘দুহুম লিবা‘দিন ‘আদুওউন ইল্লাল মুত্তাকীন।

সে দিন বন্ধুবর্গ একে অন্যের শত্রু হয়ে যাবে। কেবল মুত্তাকীগণ ছাড়া
৬৮

یٰعِبَادِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡکُمُ الۡیَوۡمَ وَلَاۤ اَنۡتُمۡ تَحۡزَنُوۡنَ ۚ ٦٨

ইয়া-‘ইবাদি লা-খাওফুন ‘আলাইকুমুল ইয়াওমা ওয়ালাআনতুম তাহঝানূন।

(যাদেরকে লক্ষ করে বলা হবে) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা হবে না দুঃখিতও।
৬৯

اَلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَکَانُوۡا مُسۡلِمِیۡنَ ۚ ٦٩

আল্লাযীনা আ-মানূবিআ-য়া-তিনা-ওয়া কা-নূমুছলিমীন।

(আমার সেই বান্দাগণ,) যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান এনেছিল এবং ছিল অনুগত!
৭০

اُدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ اَنۡتُمۡ وَاَزۡوَاجُکُمۡ تُحۡبَرُوۡنَ ٧۰

উদখুলুল জান্নাতা আনতুম ওয়া আঝওয়া-জুকুম তুহবারূন।

তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর এবং তোমাদের স্ত্রীগণও আনন্দোজ্জ্বল চেহারায়।
৭১

یُطَافُ عَلَیۡہِمۡ بِصِحَافٍ مِّنۡ ذَہَبٍ وَّاَکۡوَابٍ ۚ  وَفِیۡہَا مَا تَشۡتَہِیۡہِ الۡاَنۡفُسُ وَتَلَذُّ الۡاَعۡیُنُ ۚ  وَاَنۡتُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ۚ ٧١

ইউতা-ফু‘আলাইহিম বিসিহা-ফিম মিন যাহাবিওঁ ওয়া আকওয়া-বিওঁ ওয়া ফীহা-মাতাশতাহীহিল আনফুছুওয়া তালাযযুল আ‘ইউনু ওয়া আনতুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

সোনার পেয়ালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদের সামনে ঘোরাঘুরি করা হবে এবং সে জান্নাতে তাদের জন্য এমন সব কিছুই থাকবে, যার চাহিদা মনে জাগবে এবং যা দ্বারা চোখ প্রীতি লাভ করবে। আর এই জান্নাতে তোমরা সর্বদা থাকবে।
৭২

وَتِلۡکَ الۡجَنَّۃُ الَّتِیۡۤ اُوۡرِثۡتُمُوۡہَا بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ٧٢

ওয়া তিলকাল জান্নাতুল্লাতীঊরিছতুমূহা-বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

এটাই সেই জান্নাত তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মের বিনিময়ে।
৭৩

لَکُمۡ فِیۡہَا فَاکِہَۃٌ کَثِیۡرَۃٌ مِّنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ٧٣

লাকুম ফীহা-ফা-কিহাতুন কাছীরাতুম মিনহা-তা’কুলূন।

এখানে রয়েছে তোমাদের জন্য পর্যাপ্ত ফল, যা থেকে তোমরা খাবে।
৭৪

اِنَّ الۡمُجۡرِمِیۡنَ فِیۡ عَذَابِ جَہَنَّمَ خٰلِدُوۡنَ ۚۖ ٧٤

ইন্নাল মুজরিমীনা ফী ‘আযা-বি জাহান্নামা খা-লিদূন।

তবে অপরাধীগণ স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।
৭৫

لَا یُفَتَّرُ عَنۡہُمۡ وَہُمۡ فِیۡہِ مُبۡلِسُوۡنَ ۚ ٧٥

লা-ইউফাত্তারু ‘আনহুম ওয়া হুম ফীহি মুবলিছূন।

সে শাস্তি তাদের জন্য লাঘব করা হবে না এবং তারা সেখানে হতাশ হয়ে পড়বে।
৭৬

وَمَا ظَلَمۡنٰہُمۡ وَلٰکِنۡ کَانُوۡا ہُمُ الظّٰلِمِیۡنَ ٧٦

ওয়ামা-জালামনা-হুম ওয়ালা-কিন কা-নূহুমুজ্জা-লিমীন।

আমি তাদের উপর জুলুম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল জালেম।
৭৭

وَنَادَوۡا یٰمٰلِکُ لِیَقۡضِ عَلَیۡنَا رَبُّکَ ؕ قَالَ اِنَّکُمۡ مّٰکِثُوۡنَ ٧٧

ওয়ানা-দাও ইয়া-মা-লিকুলিইয়াকদি ‘আলাইনা-রাব্বুকা কা-লা ইন্নাকুম মা-কিছূন।

তারা (জাহান্নামের প্রধান ফেরেশতাকে) ডেকে বলবে, হে মালেক! তোমার প্রতিপালক আমাদের জীবন সাঙ্গ করে দিন। ২৪ সে বলবে, তোমাদেরকে এ অবস্থায়ই থাকতে হবে।

তাফসীরঃ

২৪. জাহান্নামের তত্ত্বাবধান কার্যে যে ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তার নাম মালেক। জাহান্নামবাসীগণ শাস্তি সইতে না পেরে মালেককে বলবে, আপনি আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য আবেদন করুন, যেন তিনি আমাদের মৃত্যু দিয়ে দেন। আমরা এ আযাব সইতে পারছি না। উত্তরে মালেক বলবে, তোমাদেরকে এরূপ শাস্তি ভোগরত অবস্থায়ই জাহান্নামে জীবিত থাকতে হবে।
৭৮

لَقَدۡ جِئۡنٰکُمۡ بِالۡحَقِّ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَکُمۡ لِلۡحَقِّ کٰرِہُوۡنَ ٧٨

লাকাদ জি’না-কুম বিল হাক্কিওয়ালা-কিন্না আকছারাকুম লিলহাক্কিকা-রিহূন।

আমি তো তোমাদের কাছে সত্য উপস্থিত করেছিলাম। কিন্তু তোমাদের অধিকাংশেই সত্য অপছন্দ করে।
৭৯

اَمۡ اَبۡرَمُوۡۤا اَمۡرًا فَاِنَّا مُبۡرِمُوۡنَ ۚ ٧٩

আম আবরামূআমরান ফাইন্না মুবরিমুন।

তবে কি তারা কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে? তাহলে আমিও কিছু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করে ফেলবো। ২৫

তাফসীরঃ

২৫. মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ গোপনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল। কখনও পরিকল্পনা করছিল তাঁকে গ্রেফতার করবে, কখনও ফন্দি আঁটছিল যে, তাকে হত্যা করবে, যেমন সূরা আনফালে (৮ : ৩০) বর্ণিত হয়েছে। এ রকমই কোন ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছিল। এতে জানানো হয়েছে, তারা যদি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে কিছু করার ষড়যন্ত্র করে থাকে, তবে আল্লাহ তাআলারও সিদ্ধান্ত রয়েছে, সে ষড়যন্ত্র বুমেরাং হয়ে তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে।
৮০

اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّہُمۡ وَنَجۡوٰىہُمۡ ؕ بَلٰی وَرُسُلُنَا لَدَیۡہِمۡ یَکۡتُبُوۡنَ ٨۰

আম ইয়াহছাবূনা আন্না-লা-নাছমা‘উ ছির রাহুম ওয়া নাজওয়া-হুম বালা-ওয়া রুছুলুনালাদাইহিম ইয়াকতুবূন।

তারা কি মনে করেছে আমি তাদের গোপন কথাবার্তা ও তাদের কানাকানি শুনতে পাই না? অবশ্যই পাই? তাছাড়া আমার ফেরেশতাগণ তাদের কাছেই রয়েছে, যারা (সবকিছু) লিপিবদ্ধ করছে।
৮১

قُلۡ اِنۡ کَانَ لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدٌ ٭ۖ فَاَنَا اَوَّلُ الۡعٰبِدِیۡنَ ٨١

কুল ইন কা-না লিররাহমা-নি ওয়ালাদুন ফাআনা-আওওয়ালুল ‘আ-বিদীন।

(হে রাসূল!) বলে দাও, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই সর্বপ্রথম ইবাদতকারী হতাম। ২৬

তাফসীরঃ

২৬. এর মানে এ নয় যে, আল্লাহ তাআলার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং এটা একটা কথার কথা হিসেবে বলা হয়েছে (যদিও বাস্তবে তা অসম্ভব)। এর মানে হচ্ছে, তোমাদের আকীদা-বিশ্বাসকে অস্বীকার করছি দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে; হঠকারিতা ও জিদের বশে নয়। কাজেই যদি দলীল-প্রমাণ দ্বারা আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সাব্যস্ত হত, তবে আমি কখনওই তা অস্বীকার করতাম না। বরং আমিই সর্বপ্রথম সেই সন্তানের প্রতি বিশ্বাসী ও তার ইবাদতকারী হতাম।
৮২

سُبۡحٰنَ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ رَبِّ الۡعَرۡشِ عَمَّا یَصِفُوۡنَ ٨٢

ছুবহা-না রাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিরাব্বিল ‘আরশি ‘আম্মা-ইয়াসিফূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিক এবং আরশের মালিক তারা যা-কিছু বলছে তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
৮৩

فَذَرۡہُمۡ یَخُوۡضُوۡا وَیَلۡعَبُوۡا حَتّٰی یُلٰقُوۡا یَوۡمَہُمُ الَّذِیۡ یُوۡعَدُوۡنَ ٨٣

ফাযারহুম ইয়াখূদূওয়া ইয়াল‘আবূহাত্তা-ইউলা-কূইয়াওমা হুমুল্লাযী ইঊ‘আদূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তাদেরকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও, তারা ওই সব কথায় মেতে থাকুক ও হাসি-তামাশা করতে থাকুক, যতক্ষণ না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যে দিনের প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে।
৮৪

وَہُوَ الَّذِیۡ فِی السَّمَآءِ اِلٰہٌ وَّفِی الۡاَرۡضِ اِلٰہٌ ؕ وَہُوَ الۡحَکِیۡمُ الۡعَلِیۡمُ ٨٤

ওয়া হুওয়াল্লাযী ফিছ ছামাই ইলা-হুওঁ ওয়া ফিল আরদিইলা-হুওঁ ওয়া হুওয়াল হাকীমুল ‘আলীম।

তিনিই (অর্থাৎ আল্লাহই) আসমানেও মাবুদ এবং যমীনেও মাবুদ এবং তিনিই হেকমতের মালিক, জ্ঞানেরও মালিক।
৮৫

وَتَبٰرَکَ الَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۚ وَعِنۡدَہٗ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ۚ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٨٥

ওয়া তাবা-রাকাল্লাযী লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ওয়া ‘ইনদাহূ‘ইল মুছ ছা-‘আতি ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।

মহিমান্বিত তিনি, যার হাতে আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এ দু’য়ের অন্তর্গত সবকিছুর রাজত্ব। তাঁরই কাছে আছে কিয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
৮৬

وَلَا یَمۡلِکُ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہِ الشَّفَاعَۃَ اِلَّا مَنۡ شَہِدَ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ ٨٦

ওয়ালা-ইয়ামলিকুল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহিশশাফা-‘আতা ইল্লা-মান শাহিদা বিলহাক্কি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।

তারা তাঁকে ছেড়ে যেসব উপাস্যকে ডাকে তাদের সুপারিশ করার কোন এখতিয়ার থাকবে না, তবে যারা জেনেশুনে সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে, তারা ব্যতীত। ২৭

তাফসীরঃ

২৭. অর্থাৎ ‘আল্লাহ তাআলার দরবারে তারা সুপারিশ করবে’ এই বিশ্বাসে যারা প্রতিমাদেরকে আল্লাহ তাআলার প্রভুত্বের অংশীদার বানিয়েছে, তাদের জেনে রাখা উচিত, প্রকৃতপক্ষে ওদের সুপারিশ করার কোন এখতিয়ার নেই। হাঁ যে ব্যক্তি কারও সম্পর্কে সত্য সাক্ষ্য দেবে এবং পরিপূর্ণভাবে জেনেশুনে বলবে যে, সে বাস্তবিকই মুমিন ছিল, তার সাক্ষ্য অবশ্যই গৃহীত হবে। এ আয়াতের আরেক ব্যাখ্যা এ রকম, ‘যারা সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে’, অর্থাৎ যারা ঈমান এনে আল্লাহ তাআলার একত্ব ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। এরূপ লোকদেরকে আল্লাহ তাআলা সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন এবং তাদের সুপারিশ কবুল হবে।
৮৭

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَہُمۡ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ فَاَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ۙ ٨٧

ওয়া লায়িন ছাআলতাহুম মান খালাকাহুম লা ইয়াকূলুন্নাল্লা-হু ফাআন্না-ইউ’ফাকূন।

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে কে সৃষ্টি করেছে, তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! এতদসত্ত্বেও কে কোথা হতে তাদেরকে উল্টো দিকে চালাচ্ছে?
৮৮

وَقِیۡلِہٖ یٰرَبِّ اِنَّ ہٰۤؤُلَآءِ قَوۡمٌ لَّا یُؤۡمِنُوۡنَ ۘ ٨٨

ওয়া কীলিহী ইয়া-রাব্বি ইন্না হাউলাই কাওমুল লা-ইউ’মিনূন।

(আল্লাহ রাসূলের) একথা সম্পর্কেও অবগত যে, হে আমার রব্ব! এরা এমন সম্প্রদায়, যারা ঈমান আনবে না। ২৮

তাফসীরঃ

২৮. এ আয়াতটির দ্বারা স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, কাফেরদের উপর আল্লাহ তাআলার গযব নাযিল হওয়ার পক্ষে বড় বড় কারণ বর্তমান রয়েছে। একদিকে তো তাদের কঠিন-কঠিন অপরাধ, শাস্তি নাযিলের জন্য যার যে-কোন একটাই যথেষ্ট। অন্যদিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এহেন অভিযোগ। যিনি রহমাতুল লিল আলামীন ও শাফিউল মুযনিবীন হয়ে জগতে এসেছেন, তিনিই যখন সুপারিশের বদলে অভিযোগ করছেন, তখন বোঝাই যাচ্ছে, তারা তাঁকে কী পরিমাণ দুঃখ-কষ্ট দিয়ে থাকবে। অন্যথায় দয়ার নবী কিছুতেই এমন ব্যথাতুর অভিযোগ করতেন না।
৮৯

فَاصۡفَحۡ عَنۡہُمۡ وَقُلۡ سَلٰمٌ ؕ  فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٨٩

ফাসফাহ‘আনহুম ওয়া কুল ছালা-মুন ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে অগ্রাহ্য করো এবং বলে দাও, ‘সালাম’। ২৯ কেননা অচিরেই তারা সব জানতে পারবে।

তাফসীরঃ

২৯. এস্থলে ‘সালাম’ বলার দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য, তাদের সাথে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্ক ছিন্ন করা চাই। অর্থাৎ তোমাদের এরূপ কূট-তর্ক ও হঠকারিতার পর তোমাদের সাথে বাড়তি আলোচনার কোন অর্থ নেই। সুতরাং সৌজন্যের সাথে তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি।